writings

সে ফিরে আসেনি

নভেম্বর ৪, ২০২৬
সে ফিরে আসেনি
সে ফিরে আসেনি
অকারণে মনে হয়, এই বুঝি তুমি! কত অদ্ভুত, তাই না? যে মানুষটিকে চোখের সামনে আর কোনো দিন পাব না, তাকেই চোখের ভুলে প্রতিদিন খুঁজে ফিরি। তোমার জন্য রাখা চিঠিগুলো এখন আর চিঠি নয়—

Prothomalo

View more
কোয়ান্টাম জগৎ:  মহাবিশ্ব কীসের তৈরি, কণা নাকি তরঙ্গ
কোয়ান্টাম জগৎ: মহাবিশ্ব কীসের তৈরি, কণা নাকি তরঙ্গ

<a href="https://www.bigganchinta.com/physics/acelgly87r" target="_blank" rel=""><span>আগের পর্ব</span></a><p>চিরায়ত কণারা প্রকৃতির নিয়ম মেনেই আমাদের চেনা কণার মতো আচরণ করে। ব্যাপারটা বোঝার জন্য সমুদ্রসৈকত থেকে কিছু চিরায়ত কণা হাতে তুলে নেওয়ার কথা ভাবো। অবশ্য এখানে সেই ‘কণা’ বলতে আসলে বালুকণাই বোঝাচ্ছি। এবার একটি কাঠের পাটাতনে পাশাপাশি দুটি সরু ছিদ্র কেটে নাও। সেই দুটি ছিদ্রের ওপর দিয়ে বালুকণাগুলো ছিটিয়ে দাও। প্রতিটি বালুকণা দুটি ছিদ্রেরযেকোনো একটির মধ্য দিয়ে যাবে। তারপর ছিদ্রদুটির নিচে তৈরি হবে বালুর দুটি আলাদা স্তূপ। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।</p><p>কিন্তু এবার যদি বালুর বদলে দুটি ছিদ্রের দিকে ইলেকট্রনের মতো খুদে কোয়ান্টাম কণা ছিটিয়ে দিই, তাহলে কী হবে? তখন কিন্তু বালুর মতো দুটি স্তূপ তৈরি হবে না। তার বদলে চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের প্রায় সব ধারণার বিপরীত এবং আমাদের সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান বিরোধী এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটবে। দুটি ফাঁক দিয়ে ইলেকট্রন যাওয়ার পর পর্দায় তৈরি হবে ব্যতিচার বা ইন্টারফেয়ারেন্স প্যাটার্ন। সেখানে একের পর এক উজ্জ্বল ও অনুজ্জ্বল দাগ বা ফ্রিঞ্জ দেখা যাবে।</p><p>বালুর ক্ষেত্রে যেখানে দুটি ছিদ্রের নিচে কণাগুলো বেশি জমা হওয়ার কথা, ইলেকট্রনের ক্ষেত্রে ঘটে ঠিক তার উল্টো ঘটনা। একটি ইলেকট্রন ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসার পর দুটি ছিদ্রের ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় তা সবচেয়ে বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমন নকশা তৈরি করতে হলে ইলেকট্রনগুলোকে অবশ্যই কণার বদলে তরঙ্গের মতো আচরণ করতে হবে। আর সেই তরঙ্গগুলোর নিজেদের মধ্যে ব্যতিচার ঘটাতে হবে। এখানেই আসে আরও অবাক করা ব্যাপার।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/qfw27qjg4u">কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অদ্ভুত জগৎ</a></aside><blockquote>দুটি ফাঁক দিয়ে ইলেকট্রন যাওয়ার পর পর্দায় তৈরি হবে ব্যতিচার বা ইন্টারফেয়ারেন্স প্যাটার্ন। সেখানে একের পর এক উজ্জ্বল ও অনুজ্জ্বল দাগ বা ফ্রিঞ্জ দেখা যাবে।</blockquote><p>একই পরীক্ষা আবারও করা যাক। তবে এবার একসঙ্গে অনেক ইলেকট্রন না ছুড়ে, একবারে মাত্র একটি করে ইলেকট্রন দুটি ছিদ্রের দিকে পাঠানো হলো। প্রতিটি ইলেকট্রন কোথায় গিয়ে পৌঁছায়, সেটাও মেপে রাখো। প্রথমে হয়তো পর্দায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু বিন্দু দেখা যাবে। কিন্তু একের পর এক ইলেকট্রন পাঠাতে থাকলে, শেষ পর্যন্ত ঠিক আগের মতোই সেই একই ব্যতিচার নকশা ফুটে উঠবে। এর মানে কী?</p><p>এ ঘটনার একমাত্র ব্যাখ্যা হলো, প্রতিটি ইলেকট্রন নিজের সঙ্গেই ব্যতিচার ঘটিয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি ইলেকট্রনকে একই সময়ে দুটি ছিদ্র দিয়েই বেরিয়ে গেছে! এই পরীক্ষাকে বলা হয় দ্বিচির পরীক্ষা বা ডাবল-স্লিট এক্সপেরিমেন্ট। আর এর মাধ্যমে নিঃসন্দেহে প্রমাণ করা সম্ভব যে কোয়ান্টাম কণারা কখনো কখনো তরঙ্গের মতোও আচরণ করতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/xjg0yhl7/12.jpg"><figcaption>ছবি ১২: ইলেকট্রনের দ্বিচির পরীক্ষা বা ডাবল স্লিট এক্সপেরিমেন্ট। ইলেকট্রন দুটি সরু ছিদ্র পেরিয়ে পর্দায় তৈরি করছে আলোর উজ্জ্বল ডোরা। কোয়ান্টাম জগতে কণা কখনো কণার মতো, কখনো তরঙ্গের মতো আচরণ করে। এই দ্বৈত স্বভাবই পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে বিস্ময়কর রহস্যগুলোর একটি</figcaption></figure><p>একসময় মনে করা হতো, আলো শুধু একটি তরঙ্গ। কারণ আলো কোনো কোণের চারপাশ দিয়ে বেঁকে যেতে পারে (অপবর্তন) এবং অন্য আলোকরশ্মির সঙ্গে ব্যতিচার ঘটাতে পারে। কিন্তু ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক এবং আইনস্টাইনের গবেষণা থেকে আমরা এখন জানি, আলো আসলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট দিয়ে তৈরি। এই প্যাকেটগুলোকেই বলা হয় কোয়ান্টা। আলোর এই কোয়ান্টাগুলোর নামই ফোটন।</p><p>ফোটন এমন এক ধরনের কোয়ান্টাম কণা, যা একই সঙ্গে কণা এবং তরঙ্গ—দুইয়ের মতোই আচরণ করতে পারে। আলোর কণা-ধর্ম আবিষ্কার করেছিলেন মেধাবী বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৯০৫ সালে আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া বা ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট নিয়ে ভাবতে গিয়ে এই ধারণায় পৌঁছান। সরাসরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে আইনস্টাইন খুব একটা দক্ষ ছিলেন না। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল ব্যাখ্যা করার জন্য তাত্ত্বিক মডেল দাঁড় করাতে তিনি ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/tb94bwacdh">কোয়ান্টাম জগৎ কি আসলেই অদৃশ্য</a></aside><blockquote>ফোটন এমন এক ধরনের কোয়ান্টাম কণা, যা একই সঙ্গে কণা এবং তরঙ্গ—দুইয়ের মতোই আচরণ করতে পারে। আলোর কণা-ধর্ম আবিষ্কার করেছিলেন মেধাবী বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন।</blockquote><p>আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সেই পরীক্ষিত কৌশলই কাজে লাগালেন। ১৮৮৭ সালে জার্মান পদার্থবিদ হাইনরিখ হার্টজ প্রথম যে পরীক্ষাটি করেছিলেন, তার ফলাফল ব্যাখ্যা করতেই আইনস্টাইন এই সুপরীক্ষিত কৌশল প্রয়োগ করেন। আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ায় দেখা যায়, কোনো ধাতুর ওপর আলো ফেললে ধাতুটি ইলেকট্রন নির্গত করে। কিন্তু আলো যদি চিরায়ত বিদ্যুৎচুম্বকত্বের ধারণা অনুযায়ী কোনো অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গ হতো, তাহলে ঘটনাটি ঘটার কথা অন্যভাবে। সে ক্ষেত্রে আলো ধাতুর ইলেকট্রনগুলোর কাছে ধীরে ধীরে শক্তি জোগাত। কিছু সময় পর ইলেকট্রনগুলো পর্যাপ্ত শক্তি অর্জন করলে ধাতুর পৃষ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসতে পারত। এমনকি আলোর তরঙ্গের শক্তি যদি খুব কমও হতো (যা এর কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক), তবুও দীর্ঘদিন বা যথেষ্ট সময় ধরে আলো ফেললে সেখান থেকে ইলেকট্রন নির্গত হওয়া উচিত ছিল।</p><p>চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আরও একটি বিষয় প্রত্যাশিত ছিল। সেটা হলো, আলোর তীব্রতা বাড়ালে, অর্থাৎ প্রতি একক ক্ষেত্রফলে আলোর মাধ্যমে সরবরাহ করা শক্তি বাড়ালে, নির্গত ইলেকট্রনগুলোর গতিশক্তিও বাড়ার কথা। ফলে বেশি তীব্র আলো ফেললে ইলেকট্রনগুলো ধাতুর পৃষ্ঠ থেকে আরও বেশি গতিতে বেরিয়ে আসবে—এটাই ছিল চিরায়ত ধারণা।</p><p>কিন্তু আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা যা দেখলেন, তা ছিল একেবারেই ভিন্ন। আলো থেকে পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়ার জন্য ইলেকট্রনগুলোকে অপেক্ষা করতে হয়নি। আলোতে যথেষ্ট শক্তি বা কম্পাঙ্ক থাকলেই ইলেকট্রন সঙ্গে সঙ্গে ধাতু থেকে বেরিয়ে আসত।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/4dm0codddv">কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি কেন প্রয়োজন</a></aside><blockquote>১৮৮৭ সালে জার্মান পদার্থবিদ হাইনরিখ হার্টজ প্রথম যে পরীক্ষাটি করেছিলেন, তার ফলাফল ব্যাখ্যা করতেই আইনস্টাইন এই সুপরীক্ষিত কৌশল প্রয়োগ করেন।</blockquote><p>আরও একটি অদ্ভুত ব্যাপার দেখা গেল। একটি নির্দিষ্ট ধাতু থেকে ইলেকট্রন বের করে আনার জন্য আলোর একটি ন্যূনতম শক্তি সীমা বা থ্রেশহোল্ড ছিল। সেই সীমার নিচে আলো যতক্ষণই কোনো নির্দিষ্ট ধাতুর ওপর ফেলা হোক না কেন, কোনো ইলেকট্রন বের হবে না। ইলেকট্রনগুলো যেন জেদ করে একগুঁয়ের মতো ধাতুর গায়ে আটকে থাকবে! শুধু তা-ই নয়, আলোর তীব্রতা বাড়ালেও বেরিয়ে আসা ইলেকট্রনগুলোর গতিশক্তি বাড়ল না। বরং বেড়ে গেল নির্গত ইলেকট্রনের সংখ্যা।</p><p>আইনস্টাইনের অসাধারণ কৃতিত্ব ছিল, তিনি বুঝতে পারলেন—এই আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ফলাফলগুলো আসলে দেখাচ্ছে যে আলো শুধু তরঙ্গ নয়। আলো ধাতুর ওপর আসছে একেকটি আলাদা শক্তির প্যাকেট বা ফোটন হিসেবে। প্রতিটি ফোটনের শক্তি আলোর কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক। একটি ফোটনের শক্তি যথেষ্ট হলে সেটি ধাতু শোষণ করে নেবে এবং একটি ইলেকট্রনকে সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বের করে দেবে। সেই ইলেকট্রনের শক্তিও হবে আলোর কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক। অন্যদিকে, আলোর তীব্রতা বাড়ালে প্রতি সেকেন্ডে ধাতুর ওপর এসে পড়া ফোটনের সংখ্যা বেড়ে যাবে। ফলে সেই সঙ্গে বেড়ে যাবে ধাতু থেকে বেরিয়ে আসা ইলেকট্রনের সংখ্যাও। তবে প্রতিটি ইলেকট্রনের গতিশক্তি থাকবে একই।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/4wmywedo44">কোয়ান্টাম কণাদের পথ পাড়ি দিতে কি সময় লাগে না</a></aside><blockquote>একটি ফোটনের শক্তি যথেষ্ট হলে সেটি ধাতু শোষণ করে নেবে এবং একটি ইলেকট্রনকে সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বের করে দেবে। সেই ইলেকট্রনের শক্তিও হবে আলোর কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক।</blockquote><p>আলোর প্রকৃতি নিয়ে কয়েক শতাব্দীর পুরোনো ধারণাই যেন এক ধাক্কায় বদলে দেন আইনস্টাইন। তিনি দেখালেন, আলো শুধু তরঙ্গ নয়, বরং এটি আসলে কণার স্রোতও বটে। একই বছর, ১৯০৫ সালে, আইনস্টাইন আরও বেশ কিছু অসাধারণ কাজ করেন। পানিতে ভাসতে থাকা পরাগরেণুর ব্রাউনিয়ান গতি ব্যাখ্যা করে পরমাণুর অস্তিত্বের পক্ষে প্রমাণ দেন তিনি। এছাড়া প্রস্তাব করেন বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব বা থিওরি অব রিলেটিভিটি। এই তত্ত্বে দেখানো হয় যে আলোর বেগ একটি ধ্রুবক—c। কোনো পর্যবেক্ষক যত দ্রুতই চলুক না কেন, তার কাছে আলোর বেগ সবসময় একই থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ভর ও শক্তির সমতুল্যতার বিখ্যাত সমীকরণও খুঁজে পান। সেটিই পদার্থবিজ্ঞানের বিখ্যাত সমীকরণ E = mc<sup>2</sup>। তাই ১৯০৫ সাল আইনস্টাইনের মিরাকল ইয়ার বা অলৌকিক বছর নামে পরিচিতি পায়। বার্ন শহরের এক পেটেন্ট অফিসের সামান্য একজন কেরানির জন্য বছরটা মন্দ ছিল না! এর কিছুদিন আগেই পদোন্নতির আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হন তিনি।</p><p>কোয়ান্টাম কণার তরঙ্গ-কণা দ্বৈততার আবিষ্কারের আরেকটি মজার উদাহরণ পাওয়া যায় ইলেকট্রনের ক্ষেত্রে। ১৮৯৭ সালে ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন ব্রিটিশ পদার্থবিদ জে. জে. টমসন। ক্যাথোড রশ্মি হলো ঋণাত্মক চার্জযুক্ত একটি ইলেকট্রোড বা ক্যাথোড থেকে বেরিয়ে আসা ইলেকট্রনের স্রোত।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/ss975jwam6">কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় সবকিছুই কি অনিশ্চিত</a></aside><blockquote>১৯০৫ সাল আইনস্টাইনের মিরাকল ইয়ার বা অলৌকিক বছর নামে পরিচিতি পায়। বার্ন শহরের এক পেটেন্ট অফিসের সামান্য একজন কেরানির জন্য বছরটা মন্দ ছিল না!</blockquote><p>সে সময়ে ক্যাথোড-রে টিউব নিত্যনতুন উদ্ভাবিত হচ্ছিল। নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চলছিল ওই যন্ত্রটা নিয়ে। বলা যায়, সে যুগে বিজ্ঞানীদের ফ্যাশনের পরিণত হয়েছিল ক্যাথোড রে টিউব। ঘটনাটি ঘটেছিল মোটামুটি সেই সময়েই। এই টিউবে একটি ক্যাথোড থেকে ইলেকট্রনের স্রোত বের করে বায়ুশূন্য কাচের নলের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত সেই ইলেকট্রন একটি ফস্ফরেসেন্ট পর্দায় ছুড়ে মারা হতো। সেটা সেখানে ছবি তৈরি করত।</p><p>তখনও কেউ জানত না, ক্যাথোড রশ্মি আসলে কী দিয়ে তৈরি। পদার্থবিদ টমসন দেখলেন, বাতাসের গ্যাস অণুর মধ্য দিয়ে ক্যাথোড রশ্মি যতটা দূর যাওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি দূর পর্যন্ত যেতে পারে। এত ছোট কণার ক্ষেত্রে এমনটা হওয়ার কথা নয়। এই অপ্রত্যাশিত ফল থেকেই তিনি আবিষ্কার করে ফেললেন পরমাণুর প্রথম উপ-পরমাণবিক কণা (ভুলভাবে অনেকে একে বলেন অতিপারমাণবিক কণা)।</p><p>টমসন দেখলেন, ক্যাথোড রশ্মিতে প্রবাহিত বিদ্যুৎ আসলে চার্জযুক্ত কণার একটি স্রোত। সেই কণাগুলো পরমাণুর চেয়ে এক হাজার ভাগেরও বেশি ছোট। টমসন এই ঋণাত্মক আধানযুক্ত উপ-পরমাণবিক কণাগুলোর নাম দেন করপাসল। কয়েক বছর পরে এই কণাগুলোই ইলেকট্রন নামে পরিচিত হয়। ইলেকট্রন যে আসলে এক ধরনের কণা—এটি আবিষ্কারের জন্য ১৯০৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান জে. জে. টমসন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/rrs02oirc9">কোয়ান্টাম মেকানিকস কেউ বোঝে না, বিজ্ঞানীরাও নয়!</a></aside><blockquote>পদার্থবিদ টমসন দেখলেন, বাতাসের গ্যাস অণুর মধ্য দিয়ে ক্যাথোড রশ্মি যতটা দূর যাওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি দূর পর্যন্ত যেতে পারে। এত ছোট কণার ক্ষেত্রে এমনটা হওয়ার কথা নয়।</blockquote><p>বিষয়টির মধ্যে এক অদ্ভুত পরিহাস রয়েছে! কারণ ১৯৩৭ সালে টমসনের ছেলে জর্জ পেজেট টমসন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁর পুরস্কার পাওয়ার কারণ ছিল—ইলেকট্রন আসলে তরঙ্গের মতোও আচরণ করে, তা আবিষ্কার করা। অর্থাৎ বাবার আবিষ্কারের ঠিক উল্টো কথাই প্রমাণ করে ছেলে নোবেল পুরস্কার পেলেন!</p><p>১৯২৭ সালে জর্জ দেখলেন, অ্যালুমিনিয়াম, সোনা ও প্লাটিনামের ধাতব পাতলা ফিল্মের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন পাঠালে তারা অন্য রকম আচরণ করে। এই ধাতুগুলোর পরমাণু ক্রিস্টালের মধ্যে একটি নিয়মিত পুনরাবৃত্ত বিন্যাসে সাজানো থাকে। সেই পাতলা স্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ইলেকট্রনগুলো ঠিক তরঙ্গের মতো বিচ্ছুরিত বা বেঁকে ছড়িয়ে পড়ে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/6d299vc8tn">কোয়ান্টাম মেকানিকস কেন বলে অতীত সত্যি নয়</a></aside><blockquote>১৯২৭ সালে জর্জ দেখলেন, অ্যালুমিনিয়াম, সোনা ও প্লাটিনামের ধাতব পাতলা ফিল্মের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন পাঠালে তারা অন্য রকম আচরণ করে।</blockquote><p>আসলে বাবা ও ছেলে—দুজনেই সঠিক ছিলেন! কারণ এখন আমরা জানি, ইলেকট্রন একই সঙ্গে কণা এবং তরঙ্গ। তাঁরা শুধু ইলেকট্রনের স্বভাবের দুটি ভিন্ন দিক দেখেছিলেন। ভিন্ন ভৌত পরিস্থিতিতে কোয়ান্টাম বস্তু কণা বা তরঙ্গ—দুই রকম আচরণের যেকোনো একটি দেখায়। একদিকে তাদের কণার মতো স্বভাব আছে। তখন তারা আলাদা আলাদা শক্তির প্যাকেট হিসেবে শোষিত বা নির্গত হয়। অন্যদিকে তাদের তরঙ্গের মতো স্বভাবও আছে। তখন তারা কোনো বাধার চারপাশে বেঁকে ছড়িয়ে পড়তে পারে, কিংবা নিজের সঙ্গেই অথবা অন্য তরঙ্গের সঙ্গে ব্যতিচার ঘটাতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/deord8mh/13.jpg"><figcaption>ছবি ১৩: কোয়ান্টাম জগতের অদ্ভুত সৌন্দর্য এখানেই—ইলেকট্রন কিংবা আলোককণার মতো ক্ষুদ্র বস্তু কখনো কণার মতো আচরণ করে, কখনো আবার প্রকাশ করে তরঙ্গের ধর্ম। অর্থাৎ, কোয়ান্টাম জগতে তরঙ্গ আর কণা আলাদা সত্তা নয়; একই বস্তুর মধ্যে লুকিয়ে আছে দুয়েরই বৈশিষ্ট্য</figcaption></figure><p>জর্জের পরীক্ষাগুলো ফরাসি পদার্থবিদ লুই দ্য ব্রগলির একটি ধারণাকেও সমর্থন করেছিল। দ্য ব্রগলি বলেছিলেন, সব পদার্থেরই তরঙ্গের মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ১৯২৪ সালে নিজের পিএইচডি থিসিসে এই ওয়েভ-পার্টিকেল ডুয়ালিটি বা তরঙ্গ-কণা দ্বৈততার ধারণা প্রস্তাব করেন দ্য ব্রগলি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল একটি অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা—বোরের পরমাণুর মডেলে ইলেকট্রন কেন শুধু নির্দিষ্ট কিছু কক্ষপথেই থাকতে পারে? এর ব্যাখ্যায় দ্য ব্রগলি কল্পনা করলেন, পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ইলেকট্রন আসলে তরঙ্গের মতো কম্পিত হয়। অনেকটা টেনে ছেড়ে দেওয়া গিটারের তারের কম্পনের মতো।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/quantum-tunneling">কোয়ান্টাম টানেলিং কীভাবে হয়?</a></aside><blockquote>দ্য ব্রগলি বলেছিলেন, সব পদার্থেরই তরঙ্গের মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ১৯২৪ সালে নিজের পিএইচডি থিসিসে এই ওয়েভ-পার্টিকেল ডুয়ালিটি বা তরঙ্গ-কণা দ্বৈততার ধারণা প্রস্তাব করেন দ্য ব্রগলি।</blockquote><p>এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে। ইলেকট্রন যে কক্ষপথে ঘুরছে, সেই কক্ষপথের পরিধি ইলেকট্রনের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পূর্ণসংখ্যক গুণিতক হতে হবে। তাহলেই ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে প্রতিটি চক্কর দেওয়ার সময় তার তরঙ্গটি আগেরবারের চক্করের তরঙ্গের সঙ্গে মিলে যাবে নিখুঁতভাবে। অর্থাৎ দুই তরঙ্গ একে অন্যকে শক্তিশালী করবে। একে বলা হয় গঠনমূলক ব্যতিচার। ফলে ইলেকট্রনের তরঙ্গ টিকে থাকতে পারবে। একে অপরকে বাতিল করে দিয়ে অদৃশ্য হয়ে যাবে না।</p><p>এই ধারণাটাই ব্যাখ্যা করে, কেন একটি ইলেকট্রনের বোরের কক্ষপথ যেকোনো মানের হতে পারে না। কক্ষপথের পরিধির মধ্যে ইলেকট্রনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অবশ্যই পূর্ণসংখ্যক বার ঠিকমতো বসতে হবে। তাই ইলেকট্রন কেবল নির্দিষ্ট কিছু কক্ষপথেই থাকতে পারে।</p><h4>সূত্র: ড্যানি হোমসের <em>ওয়ান্ডার অব কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ডস</em> অবলম্বনে</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/7h579bn9yo">কোয়ান্টাম ডিকোহেরেন্স : নিশ্চয়তা আর অনিশ্চয়তার দ্বন্দ্ব</a></aside>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
বাংলাদেশে গাড়ির দাম এত বেশি কেন, রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কি কমছে
বাংলাদেশে গাড়ির দাম এত বেশি কেন, রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কি কমছে

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/bangladese-garir-dam-et-besi-ken-rikndisnd-garir-dam-ki-kmche</figure>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
সাভারে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ
সাভারে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল ও কাঁদানেগ্যাসের শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

নভেম্বর ৪, ২০২৬
ফতুল্লায় শ্রমিক-পুলিশ পাল্টা–পাল্টি ধাওয়া, টিয়ার শেল নিক্ষেপ
ফতুল্লায় শ্রমিক-পুলিশ পাল্টা–পাল্টি ধাওয়া, টিয়ার শেল নিক্ষেপ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকালে সদর উপজেলার কাঠেরপুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নভেম্বর ৪, ২০২৬
জীবনানন্দ দাশের সঙ্গে বাসারের মিল-অমিল
জীবনানন্দ দাশের সঙ্গে বাসারের মিল-অমিল

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/jeebnannd-daser-sngoe-basarer-mil-omil</figure>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
সে ফিরে আসেনি
সে ফিরে আসেনি

অকারণে মনে হয়, এই বুঝি তুমি! কত অদ্ভুত, তাই না? যে মানুষটিকে চোখের সামনে আর কোনো দিন পাব না, তাকেই চোখের ভুলে প্রতিদিন খুঁজে ফিরি। তোমার জন্য রাখা চিঠিগুলো এখন আর চিঠি নয়—

নভেম্বর ৪, ২০২৬
ভালো পরিচালকেরা কাজ শেষেই পারিশ্রমিক দিয়ে দেন
ভালো পরিচালকেরা কাজ শেষেই পারিশ্রমিক দিয়ে দেন

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/valo-pricalkera-kaj-seshei-parisrmik-diye-den</figure>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি ডিসেম্বরে, বোর্ডের প্রথম সভা শেষে জানালেন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা
পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি ডিসেম্বরে, বোর্ডের প্রথম সভা শেষে জানালেন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা

<p>তৈরি পোশাকশিল্পে আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হবে। আর জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বাড়তি বেতন হাতে পাবেন । </p><p>নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবিএম শামসুদ্দিন ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার এমনটাই জানিয়েছেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মজুরি বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী।</p><p>সভা শেষে সৈয়দ আজাদ সুবহানী সাংবাদিকদের বলেন, মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষ তাদের মজুরি প্রস্তাব পৃথকভাবে জমা দেবেন। একইসঙ্গে নিরপেক্ষ সদস্যও একটি মজুরি প্রস্তাব দেবেন। তারপর সেই মজুরি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।</p><p>গত রোববার শ্রম মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে। বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং মালিক ও শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য হিসেবে যথাক্রমে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে নিয়োগ করা হয়।</p> <p>ওই দিনই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ করা হয়।</p><p>গতকাল পর্যন্ত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ আশফাকুর রহমান। আজকে সকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদে বদলি করা হয়। একই আদেশে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে। তবে আশফাকুর রহমানকে সরানোর কোনো কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।</p><p>একাধিক সূত্র জানায়, পোশাক শিল্পের মতো স্পর্শকাতর খাতের মজুরি নির্ধারণে সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যানের ওপর ভরসা করা যাচ্ছিল না। সেজন্য গত দুই তিন দিনে তাঁকে বদলির প্রক্রিয়া চলে।</p><p>পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরপর তিনি দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।</p><p>প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসে দেশের কয়েকটি পত্রিকা সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএর সভাপতি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুতই সরকার গঠিত মজুরির বোর্ডের সভা বসবে। হতে পারে সেটি কালই (আজ বুধবার)। সভা থেকে মজুরি পুনর্নির্ধারণের একটি সময়সীমা ঘোষিত হলে সাধারণ পোশাকশ্রমিকেরা আশ্বস্ত হবেন বলে মনে করেন তিনি।</p>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
অতিরিক্ত গরমের কারণে ঝুঁকিতে পড়ছেন মা ও অনাগত শিশু, জানালেন গবেষকেরা
অতিরিক্ত গরমের কারণে ঝুঁকিতে পড়ছেন মা ও অনাগত শিশু, জানালেন গবেষকেরা

<p>বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারী। অতিরিক্ত গরমের কারণে জন্মগত ত্রুটি, অকাল গর্ভপাত এবং মৃত সন্তান জন্মের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে জানালেন গবেষকেরা।</p><p>তাপপ্রবাহের ভয়াবহ প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। এবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিস্তৃত বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, তাপপ্রবাহ কীভাবে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁদের গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। </p><p>এ লেখা যখন লিখছি, তখন ঢাকার তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে এ শহরের পথেঘাটে বা কোনো খোলা জায়গায় থাকা মানুষগুলোর মনে হচ্ছে, তাপমাত্রা আরও বেশি। তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি হলেও তাঁরা অনুভব করছেন ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস!</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/opnx7rjik3">মুরগির হাড় চিবানো আসলেই কি ভালো</a></aside><h3>ভুগছেন মা, ভুগছে শিশু</h3><p>গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে মায়ের অসুস্থতা, শিশুর দুর্বলতা এবং অপরিণত অবস্থায় শিশুর জন্মের সম্পর্ক থাকতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মেক্সিকোর আট মিলিয়নের বেশি শিশুর জন্মসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। </p><p>১৮ বছর ধরে সংগ্রহ করা এসব তথ্য থেকে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ ফলাফল। জানা গেছে, মায়ের গর্ভকালের শেষ মাসে যদি তাপমাত্রা বাড়তি থাকে, তাহলে অপরিণত অবস্থায় শিশুর জন্মের ঘটনা ১৮ শতাংশ বেড়ে যায়।</p><p>অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশু জন্মের পর মৃত্যুঝুঁকিতেও পড়তে পারে। বেঁচে থাকলেও বহু বছর ধরেই নানা জটিলতায় ভুগতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বিপজ্জনক মাত্রায় উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে পারেন অন্তঃসত্ত্বা নারীও। শিশুর জন্মগত ত্রুটি, অকাল গর্ভপাত এবং মৃত সন্তান জন্মের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বাড়তি তাপমাত্রার প্রভাবে।</p><h3>‘মাত্র’ তো ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস!</h3><p>কোনো অঞ্চলে সাধারণভাবে জলবায়ুর যে ধরন, সেখানকার অধিবাসীরা স্বাভাবিকভাবেই তাতে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন। বছরজুড়ে সেখানকার তাপমাত্রার স্বাভাবিক ওঠানামার সঙ্গে অভ্যস্ত থাকে তাঁদের শরীর। </p><p>কিন্তু অভ্যস্ততার চেয়ে মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রায় থাকতে হলেই ঝুঁকিতে পড়তে পারেন অন্তঃসত্ত্বা নারী। ‘মাত্র’ এই ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পার্থক্যের জন্যই একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।</p><p>বিভিন্ন ধরনের জলবায়ুতে অভ্যস্ত নারীদের ওপর এই একই ধরনের প্রভাব লক্ষ করা গেছে। উত্তপ্ত মরুভূমি, আর্দ্র বনভূমি, নাতিশীতোষ্ণ পাহাড়ি মালভূমি—যেকোনো জায়গার নারীর ওপরেই তাপমাত্রা বৃদ্ধির একই ধরনের প্রভাব দেখা গেছে।</p><p>অর্থাৎ জায়গাটা যেমনই হোক, সেখানকার স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তি তাপমাত্রাই হয়ে উঠতে পারে ক্ষতির কারণ। বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা গেছে, মেক্সিকো, চীন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রেও বাড়তি তাপমাত্রার কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা নানাবিধ ঝুঁকিতে পড়ছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/0eqlco07zr">৭ মাসে ৩৭ কেজি ওজন কমিয়ে র‍্যাম্পে ফিরেছেন মডেল মাশিয়াত, কীভাবে সম্ভব করলেন</a></aside><h3>কারণটা অস্পষ্ট, চাই সতর্কতা</h3><p>ঠিক কী কারণে তাপমাত্রার এমন ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ওপর, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন গবেষকেরা। হয়তো কারণটা খুঁজে পেতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে তাঁদের। তবে কারণ যেটাই হোক, মায়েদের এবং তাঁদের অনাগত সন্তানদের এই বিপদ থেকে বাঁচাতে হবে।</p><p>কীভাবে ঝুঁকি কমানো সম্ভব, তা নিয়েও গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু যত দিনে সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর মিলবে, তত দিন পর্যন্ত ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা তো থেমে থাকবে না। নানা দেশে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা চালু হচ্ছে এখনই। চওড়া হ্যাট ব্যবহার করা এবং ছাদে সাদা রং করা এই সতর্কতারই অংশ। </p><p>তাঁদের এই উদ্যোগ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারি আমরাও। তাপমাত্রার প্রভাব থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে বাঁচাতে এমন কিছু ব্যবস্থা করা যেতে পারে আমাদের দেশেও। পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিসরে নানাভাবেই অন্তঃসত্ত্বা নারীর প্রতি যত্নশীল হওয়ার সুযোগ আছে।</p><p><sup>সূত্র: রয়টার্স</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/0exzxrnu6l">যে ৫ কারণে জাপানিরা মোটা হয় না</a></aside>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।