কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশকে আটক করে নিয়ে গেছে বিএসএফ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় সীমান্ত দিয়ে মাদক উদ্ধার অভিযানে যাওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ)। 

সারা দেশ

View more
রংপুরের পীরগঞ্জে পৌরভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত
রংপুরের পীরগঞ্জে পৌরভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে

Video news
Readysell
Readysell

https://www.youtube.com/watch?v=8tpROnMtdbk

সারা বিশ্ব
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?

হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।

ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ
ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ

সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে
বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে

ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা) এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার জানিয়েছেন, দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অভিজ্ঞতা নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া: মার্কিন জেনারেল
ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অভিজ্ঞতা নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া: মার্কিন জেনারেল

উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধ অংশ নিয়ে সেনা মোতায়েনের দক্ষতা অর্জন করেছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ফোর্সেস কোরিয়ার কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রুনসন।

ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’
‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার
মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১
চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের চাকার ভেতর থেকে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

পাবনায় মাদকাসক্ত যুবককে কুপিয়ে হত্যা
পাবনায় মাদকাসক্ত যুবককে কুপিয়ে হত্যা

পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে সুমন হোসেন (৩২) নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল। 

গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার
গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

শেরপুরে নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর নদী থেকে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সম্পর্ক মজবুত করে যেভাবে
সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সম্পর্ক মজবুত করে যেভাবে

একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।

স্বর্ণের দামে পতন, ভরিতে কমল ৩২৬৬ টাকা
স্বর্ণের দামে পতন, ভরিতে কমল ৩২৬৬ টাকা

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।

তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল
তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে
বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে

প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা।   ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন।   শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।”   কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে।   বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।

শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?

শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব? শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি? গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে। কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে। অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে। শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।

Follow us

Top week

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’
জাতীয়

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

News অক্টোবর ১১, ২০২৬ 0

Rss feed news

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সমর্থন বাড়াচ্ছেন বলসোনারো
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সমর্থন বাড়াচ্ছেন বলসোনারো

দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে নতুন সমর্থন টানতে হিমশিম খাচ্ছেন লুলা। যেসব ব্রাজিলীয় ভোট দেননি, তাঁদের কাছে পৌঁছাতে লুলা তাঁর নির্বাচনী প্রচার–কৌশল তড়িঘড়ি করে ঢেলে সাজাচ্ছেন।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
প্রতিমা গড়ার কাজে অভাব ঘুচেছে শ্রীকান্তের, শেখাচ্ছেন অন্যদেরও
প্রতিমা গড়ার কাজে অভাব ঘুচেছে শ্রীকান্তের, শেখাচ্ছেন অন্যদেরও

<p> বাঁশের কাঠামোয় খড় জড়িয়ে গড়ে ওঠে অবয়ব। তার ওপর মাটির প্রলেপ। এরপর হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় ফোটে চোখ-মুখের আদল। সবশেষে রংতুলির আঁচড়ে যেন প্রাণ পান দেব–দেবী। প্রতিটি ধাপে লাগে দক্ষতা, ধৈর্য আর গভীর মনোযোগ। প্রতিমা তৈরির এই কাজই বদলে দিয়েছে বগুড়ার শেরপুর শহরের দক্ষিণ সাহাপাড়ার শ্রীকান্ত সরকারের (৩৭) জীবন।</p><p> গত শনিবার সকালে দক্ষিণ সাহাপাড়ার ষোলআনা মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গা প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে শিল্পীদের ব্যস্ততা। কেউ মাটির কাজ করছেন, কেউ অবয়ব ঠিক করছেন, কেউ রংতুলিতে ব্যস্ত। মাঝখানে শ্রীকান্ত। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে প্রতিমাগুলো।</p><p> একসময় অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে শ্রীকান্ত যে কাজ শিখতে শুরু করেছিলেন, সেটিই এখন তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম আর একাগ্রতায় তিনি দক্ষ প্রতিমাশিল্পী। তাঁর তৈরি প্রতিমার সুনাম ছড়িয়ে আছে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলায়। প্রায় এক দশক ধরে নিজে প্রতিমা বানাচ্ছেন। খরচ বাদ দিয়ে বছরে আয় সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা। এই আয়ে সংসার চলছে, করছেন সঞ্চয়। সম্প্রতি জমি কিনে এক ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি তৈরির কাজও শুরু করেছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/j7tf04wx/SherpurDurga-2.JPG"><figcaption>মাটিতে বসে রং তৈরির কাজ করছেন শ্রীকান্তের সহকারী লিটন দাস। গত শনিবার বিকেলে শেরপুর শহরের দক্ষিণ সাহাপাড়ার ষোলআনা মণ্ডপে</figcaption></figure><p><strong>অভাবই দেখিয়েছিল পথ</strong></p><p>ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট শ্রীকান্ত। বাবা সিপেন সরকার। ছোটবেলার তাঁর স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে চাকরি করবেন। কিন্তু বাবার অসুস্থতা আর পরিবারের অসচ্ছলতায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। অল্প বয়সেই উপার্জনের পথ খুঁজতে হয়েছে তাঁকে।</p><p>শ্রীকান্ত জানান, বাবার ইচ্ছায় একসময় প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত হন। কাজ শিখতে যান সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। সেখানে এক প্রতিমাশিল্পীর সহকারী হয়ে কাটিয়েছেন টানা ১২ বছর। বাঁশের কাঠামো, খড়ের অবয়ব, মাটির প্রলেপ, মুখাবয়ব, রং—সবই শিখেছেন হাতে-কলমে। দীর্ঘ অনুশীলনে আত্মবিশ্বাস এলে নিজেই কাজ শুরু করেন। তাঁর নিজের কাজের এক দশক পেরিয়ে গেছে।</p><aside><cite>শ্রীকান্ত সরকার, প্রতিমাশিল্পী</cite>পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে প্রতিমা তৈরির কাজ শিখেছিলাম। প্রথমে অন্যের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছি। এখন নিজেই প্রতিমা তৈরি করি। এই কাজ করেই সংসার ভালোভাবে চালাতে পারছি।</aside><p>শ্রীকান্ত বলেন, ‘পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে প্রতিমা তৈরির কাজ শিখেছিলাম। প্রথমে অন্যের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছি। এখন নিজেই প্রতিমা তৈরি করি। এই কাজ করেই সংসার ভালোভাবে চালাতে পারছি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/z4fukbbu/SherpurDurga-3.jfif"><figcaption>প্রতিমায় মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন কারিগর শ্রাবণ শীল। গত শনিবার বিকেলে শেরপুর শহরের বারোদুয়ারি হাটখোলার পাশে</figcaption></figure><p><strong>সারা বছরই কাজ</strong></p><p>শ্রীকান্তের ব্যস্ততা শুধু দুর্গাপূজায় সীমাবদ্ধ নয়। লক্ষ্মী, কালী, সরস্বতী, গণেশ, বিশ্বকর্মা ও মহাদেবের প্রতিমাও বানান তিনি। সারা বছর নানা পূজায় কাজ থাকে, তবে দুর্গাপূজার আগে চাপ বাড়ে কয়েক গুণ। গত বছর ২০টি দুর্গা প্রতিমা বানিয়েছিলেন। এবারও নিয়েছেন একইসংখ্যক কাজ। আকার, নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিমার দাম ৩০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকার বেশি। শ্রীকান্তের ভাষ্য, উপকরণের দাম বাড়লেও সে তুলনায় প্রতিমার দাম তেমন বাড়েনি।</p><p>একার পক্ষে এত কাজ সামলানো কঠিন। শ্রীকান্তের তাই আটজন সহকারী আছেন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও অভিজ্ঞ শ্রমিক দুই-ই আছেন। কাজের ধরন অনুযায়ী তাঁদের দৈনিক পারিশ্রমিক ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা।</p><p>সহকারীদের একজন এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৈকত সরকার (১৯)। তিনি দক্ষিণ সাহাপাড়ার বাসিন্দা। এই কাজ করে দিনে পান ৩০০ টাকা। তিনি বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির কাজ করে যে টাকা পাই, তা আমার লেখাপড়ার খরচ চালাতে অনেক উপকারে আসে।’</p><blockquote>শ্রীকান্তের কাছে প্রতিমা তৈরি শুধু জীবিকা নয়, নিজের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা প্রকাশের জায়গাও। প্রতিটি প্রতিমা সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে তাঁকে সময় দিতে হয়, নজর রাখতে হয় খুঁটিনাটি বিষয়ে।</blockquote><p>উত্তর সাহাপাড়ার লিটন দাস (৩২) ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বেলতা গ্রামের পলাশ সরকার (৩৫) দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন। এই আয়ে তাঁদের সংসারের খরচ মেটে। দুর্গাপূজার পাশাপাশি অন্য পূজার প্রতিমা বানিয়েও তাঁরা রোজগার করেন।</p><p><strong>গড়ে তুলেছেন চার কারিগর</strong></p><p>শ্রীকান্তের গল্প শুধু নিজের সচ্ছলতায় থেমে নেই। তাঁর কাছে কাজ শিখে আরও চারজন কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন দক্ষিণ সাহাপাড়ার শ্রাবণ শীল (২০), শহরের সকাল বাজার এলাকার শোভন ঘোষ (২০), নন্দীগ্রাম উপজেলার সজীব সরকার (২২) এবং জামালপুরের মাদারগঞ্জের রাজিব দাস (৪০)। একসময় শ্রীকান্তের সহকারী ছিলেন সবাই। প্রায় দুই বছর ধরে তাঁরা নিজেরাই প্রতিমা বানাচ্ছেন।</p><p>শেরপুর শহরের বারোদুয়ারি হাটখোলার পাশে প্রতিমা তৈরি করেন শ্রাবণ শীল। তিনি জানান, ২০২৫ সালের শারদীয় দুর্গোৎসবে তিনি আটটি প্রতিমা বানিয়েছিলেন। এবারও নিয়েছেন আটটি প্রতিমা তৈরির কাজ। সব খরচ বাদ দিয়ে এবার দুর্গাপূজায় দেড় লাখ টাকার মতো আয়ের আশা করছেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/pef9pxnv/SherpurDurga-4.JPG"><figcaption>কাজে মগ্ন শ্রীকান্ত সরকার। গত শনিবার বিকেলে শেরপুর শহরের দক্ষিণ সাহাপাড়ার ষোলআনা মণ্ডপে</figcaption></figure><p><strong>শুধু জীবিকা নয়, শিল্পের টান</strong></p><p>শ্রীকান্তের কাছে প্রতিমা তৈরি এখন শুধু জীবিকা নয়, নিজের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা প্রকাশের জায়গাও। প্রতিটি প্রতিমা সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে তাঁকে সময় দিতে হয়, নজর রাখতে হয় খুঁটিনাটি বিষয়ে। দুর্গাপূজার আগে নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা পৌঁছে দিতে তাঁকে ও সহকারীদের দিনরাত খাটতে হয়।</p><p>বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের শেরপুর উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব বাঁধন কুমার কৃষ্ণ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের উপজেলা কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ সরকার এবং উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক জয়কিশোর মুন্সী জানান, শেরপুরে এবার ৯৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এসব মণ্ডপের প্রতিমা গড়তে লাগে শ্রীকান্তের মতো কারিগরদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। প্রতিমা তৈরিতে শ্রীকান্ত সরকারের দক্ষতা আছে। নিজের শেখা বিদ্যা ছড়িয়ে দিয়ে অন্যদের জন্যও তিনি তৈরি করেছেন কর্মসংস্থান।</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও স্কুলে গুলি, তিন শিশু ও শিক্ষক নিহত
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও স্কুলে গুলি, তিন শিশু ও শিক্ষক নিহত

পুলিশ বলছে, হামলাকারীর বয়স ১৬ বছর। সশস্ত্র এক ব্যক্তি তাকে পরে হত্যা করেন। এ ঘটনায় আরও এক শিশু ও শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
প্রাচীন সাহিত্যে নিবেদিতপ্রাণ এক কবি-সাধকের নোবেল–যাত্রা: অ্যান কারসন ও তাঁর লাল ডানার কথকতা
প্রাচীন সাহিত্যে নিবেদিতপ্রাণ এক কবি-সাধকের নোবেল–যাত্রা: অ্যান কারসন ও তাঁর লাল ডানার কথকতা

<p>প্রাচীন গ্রিক পুরাণের এক দানবকে যিনি আধুনিক মানুষের প্রেম, নিঃসঙ্গতা ও আত্মপরিচয়ের প্রতীকে রূপ দিয়েছেন, সেই অ্যান কারসনের সাহিত্যভুবন স্বতন্ত্র ও বিস্ময়কর। প্রাচীন সাহিত্যের নিবিড় পাঠ, অনুবাদ ও নিরীক্ষাধর্মী সৃজনে তিনি নির্মাণ করেছেন অতীত ও বর্তমানের এক অনন্য সেতু।</p><p>সকাল নয়টা বাজবে বাজবে করছে। বাইরে আইসল্যান্ডের চিরচেনা অবাধ্য আবহাওয়া। ঘরের জানালায় আছড়ে পড়ছে উত্তর মেরু থেকে ছুটে আসা হিমশীতল বাতাসের একটানা শব্দোচ্ছ্বাস। থার্মোমিটারের কাঁটায় তাপমাত্রা যতটুকু দেখাচ্ছে, বাত্যাপ্রবাহের কারণে ঠান্ডাটা তার চেয়ে বেশি। ঘরের ভেতরের জগৎটা স্বাভাবিক, দিনানুদৈনিক, নিরুদ্বেগ। রান্নাঘরের গোল টেবিলে বসে অ্যান কারসন চা আর বিস্কুট খাচ্ছিলেন। অলস চোখে তাকিয়ে দেখলেন, মেঝেটা একটু অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে—কিছু ধুলাবালু, বিস্কুটের কিছু গুঁড়া ছিটকে পড়েছে। ভাবলেন, একটু ঝাঁট দিতে হবে।</p><p>ঠিক তখনই শব্দ করে বেজে উঠল ফোনটা। তিনি ফোনের দিকে তাকালেন, ধরলেন না। তিনবার বেজে ফোন থেমে গেল। বব কারি পাশেই ছিলেন। তাঁর তিন যুগের জীবনসঙ্গী। যে নম্বর থেকে ফোনকলটা এসেছিল, সেটি তাঁর চোখে পড়েছে। তিনি সেই নম্বরে কল ব্যাক করে যাঁকে পেলেন তিনি সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব ইনগ্রিদ কার্লবার্গ। তারপর ফোনটি অ্যানের হাতে দিয়ে বললেন, ‘নাও, তোমাকেই খুঁজছে।’</p><p>ইনগ্রিদ কার্লবার্গ অ্যান কারসনকে জানালেন, ২০২৬ সালের সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার তাঁকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর দুই ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলনে তা প্রচার করা হবে। অ্যান কারসন অবাক হলেন। তাঁর মনে হলো পুরো ব্যাপারটাই অবাস্তব। তিনি শান্ত গলায় বললেন, ‘আমি এখন আইসল্যান্ডে আছি। বাতাসের অবিরাম শিস শুনছি।’</p><p>আইসল্যান্ডের রাজধানী শহর রেইক্যাভিকে নিজের বাড়ি আছে কানাডার প্রবীণ কবি, গবেষক ও অনুবাদক অ্যান কারসনের। সাগরের মধ্যে আগ্নেয়গিরিপ্রসূত আর সাগরে বহমান গ্ল্যাসিয়ারে পরিবৃত এই ছোট নিরুপদ্রব দেশটিতে থাকতে তাঁর ভালো লাগে। রেইক্যাভিকের ‘এগিসসিডা’ নামীয় উপকূলবর্তী এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই দম্পতি বছরের একটা দীর্ঘ সময় কাটিয়ে থাকেন। বসার ঘরের মেটে রঙের দেয়ালের জানালায় দাঁড়ালে আইসল্যান্ডের ধূসর পটভূমি ও আটলান্টিক মহাসাগর নজরে আসে। অ্যান কারসন ইতিমধ্যে আইসল্যান্ডের নাগরিকত্বও নিয়েছেন, যাকে বলে দ্বৈত নাগরিকত্ব।</p><p>তাঁর জন্ম জুন মাসের ২১ তারিখে। মিথুন আর কর্কট রাশির যৌথ প্রভাবে তিনি একদিকে অন্তর্মুখী, অন্যদিকে স্পষ্টভাষী। রসিকতাও করেন সুযোগ পেলে। একবার তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘কীভাবে একটি কবিতা লেখা শুরু করেন?’ তাঁর সোজা উত্তর, ‘আমি না, কবিতাই আমাকে লেখা শুরু করে।’</p><p>কে এই অ্যান কারসন? তাঁর নিজের উত্তর: ‘আমি প্রাচীন গ্রিক পড়িয়ে পেট চালাই।’ বস্তুত অ্যান কারসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাঁদরেল অধ্যাপক। চার দশক পড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি, মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও বার্ড কলেজের মতো বড় বড় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৩১। নতুন প্রবন্ধের বই বিঅ্যাওয়্যার দ্য ম্যান হুজ হ্যান্ডরাইটিং সয়েজ লাইক আ রিড ইন দ্য উইন্ড (যে মানুষটির হাতের লেখা বাতাসে হোগলাগাছের মতো দোলে তার বিষয়ে হুঁশিয়ার) আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হবে। কাছাকাছি সময়ে প্রকাশিত হবে তাঁর কবিতার বই হাইলাইটস অব কলোনিয়ালিজম (উপনিবেশবাদের সারকথা)। প্রথম কয়েকটি বাদ দিলে, তাঁর প্রায় সব বইয়ের পেছনে লেখক পরিচিতি হিসেবে স্রেফ একটি বাক্য থাকে—‘অ্যান কারসন কানাডায় জন্মেছেন এবং প্রাচীন গ্রিক ভাষা পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।’ মনে হবে, তাঁর লেখার টেবিল প্রাচীন গ্রিক পুরাণ আর আধুনিক মানুষের ভগ্নহৃদয়ের এক অদ্ভুত জাদুঘর।</p><blockquote>ইনগ্রিদ কার্লবার্গ অ্যান কারসনকে জানালেন, ২০২৬ সালের সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার তাঁকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর দুই ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলনে তা প্রচার করা হবে। অ্যান কারসন অবাক হলেন। তাঁর মনে হলো পুরো ব্যাপারটাই অবাস্তব। তিনি শান্ত গলায় বললেন, ‘আমি এখন আইসল্যান্ডে আছি। বাতাসের অবিরাম শিস শুনছি।’</blockquote><p>এ কথা অতিরঞ্জন কিছু নয়। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের অনবদ্য ও নিরীক্ষাধর্মী অনুবাদের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাত। প্রাচীন গ্রিসের চারজন মহান কবি ও নাট্যকারের সৃষ্টি এবং লাতিন সাহিত্যের এক কবির রচনা তিনি অনুবাদ করেছেন পরম অধ্যবসায়ে। প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত গীতিকবি সাফোর টিকে থাকা সব কবিতা ও অন্যান্য কাব্যাংশের অনুবাদ নিয়ে তিনি ২০০০ সালে চমৎকার একটি বই প্রকাশ করেছিলেন। যার নাম ইফ নট, উইন্টার: ফ্র্যাগমেন্টস অব সাফো। অ্যান কারসন মাত্র ১৬ বছর বয়সে একটি বইয়ের দোকানে সাফোর কবিতার একটি গ্রিক-ইংরেজি দ্বিভাষিক সংস্করণ খুঁজে পেয়েছিলেন; গ্রিক হরফের সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছিল; সাফোর খণ্ডিত কাব্যের ধ্বাংসাবশেষে অন্তর্লীন তীব্র কামনা তাঁকে অভিভূত করেছিল। তিনি ভালোভাবে গ্রিক ভাষা শিখে একসময় অনুবাদ করতে শুরু করেছিলেন।</p><p>মনে হয় গ্রিক ট্র্যাজেডির উরিপিদিসের নাটকগুলো অ্যান কারসনকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর অনূদিত গ্রন্থগুলোর নাম: গ্রিফ লেসনস (যার মধ্যে রয়েছে উরিপিদিসের হেরাক্লেস, হেকুবা, হিপোলিটাস ও অ্যালসেস্টিস), বাকখাই, ইফিজেনিয়া অ্যামাং দ্য টরিয়ানস এবং দ্য ট্রোজান উইমেন: আ কমিক।</p><p>সোফোক্লেসের বিখ্যাত দুটি নাটক ইলেকট্রো ও অ্যান্টিগোনে অনুবাদ করেছেন কারসন। অধিকন্তু অ্যান্টিগোনে নাটকটির একটি নিরীক্ষাধর্মী রূপান্তর অ্যান্টিগনিক প্রকাশ করেছেন। অনুবাদ করেছেন এসকাইলাসের আগামেনন, স্তেসিকোরুসের কাব্যাংশ এবং প্রাচীন রোমান কবি গাইয়ুস ভালেরিউস কাতুলুসের একটি শোকগাথা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/pg2blyuo/1-32-6ac7705550d4e-scaled.webp"><figcaption>২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কারসন</figcaption></figure><p>২.</p><p>অ্যান কারসনের অন্যতম বিখ্যাত বই অটোবায়োগ্রাফি অব রেড একটি কাব্যোপন্নাস। একটি গ্রিক দানবের গল্পকে তিনি আধুনিক যুগের এক কিশোরের সমকামমূলক প্রেম ও একাকিত্বের গল্পে পরিণত করেছেন। কারসন স্তেসিকোরুসের একটি হারানো কাব্যের টুকরো অংশ থেকে এ কাহিনি রচনার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বলে কথিত। গ্রিক পুরাণে গেরিয়ন ছিল লাল ডানাওয়ালা এক দানব, যাকে বীরপ্রবর হারকিউলিস হত্যা করে এবং তার গবাদিপশুগুলো চুরি করে। পুরাণে গেরিয়ন কেবলই এক ভিলেন। কিন্তু কারসন ভাবলেন: দানবটার নিজের গল্পটা কী ছিল? তারও তো একটা হৃদয় ছিল!</p><p>কারসনের উদ্দেশ্য ছিল সমাজের চোখে যারা ‘দানব’, ‘অদ্ভুতুড়ে’ বা ‘অচ্ছুত’ বলে পরিগণিত, তাদের হৃদয়াভ্যন্তরে বিরাজমান তীব্র মানবিক আবেগানুভূতি তুলে ধরা। কাহিনির শুরুতে কারসন পুরাণের ডানাওয়ালা লাল দানব গেরিয়নকে আধুনিক এক কিশোররূপে পাঠকের সামনে হাজির করেন:</p><p>গেরিয়ন ছিল এক ছোট্ট লাল দানব। সে তার মায়ের সঙ্গে থাকত এবং তার একটি বড় ভাই ছিল যে তাকে অন্ধকার ঘরে আটকে রাখত। কিন্তু গেরিয়নের নিজস্ব একটা জগৎ ছিল। সে যখন প্রথম স্কুলে যেতে শুরু করল, তখন বুঝতে পারল সে অন্য সবার চেয়ে আলাদা। তার পিঠে একজোড়া অদৃশ্য কিন্তু ভারী লাল ডানা রয়েছে, যা সে জ্যাকেটের নিচে লুকিয়ে রাখে। সে কথা কম বলত, কিন্তু তার ভেতরের চোখ দিয়ে সে পৃথিবীর সব রঙের তীব্রতা টের পেত। চারপাশের মানুষ যখন তাকে সাধারণ একটি ছেলে হিসেবে দেখছিল, গেরিয়ন তখন তার ডানা দুটির ওজনের ভারে কুব্জ হয়ে এক চিরন্তন একাকিত্বের পরিমাপ করছিল।</p><blockquote>মনে হয় গ্রিক ট্র্যাজেডির উরিপিদিসের নাটকগুলো অ্যান কারসনকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর অনূদিত গ্রন্থগুলোর নাম: গ্রিফ লেসনস (যার মধ্যে রয়েছে উরিপিদিসের হেরাক্লেস, হেকুবা, হিপোলিটাস ও অ্যালসেস্টিস), বাকখাই, ইফিজেনিয়া অ্যামাং দ্য টরিয়ানস এবং দ্য ট্রোজান উইমেন: আ কমিক।</blockquote><p>এই উদ্ধৃতি থেকে অ্যান কারসনের বর্ণনাশৈলী ও মনস্তত্বের অভিমুখ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গেরিয়নের ডানা দুটো আসলে তার ‘অন্য রকম’ হওয়া এবং উদ্ভিন্ন সমকামিতার অবদমিত রূপক। গেরিয়ন তাঁর ভিন্নতা, যৌনাভিমুখ এবং লাল ডানার কারণে প্রচণ্ড অপরাধবোধ ও বিচ্ছিন্নতায় আক্রান্ত। কারসন লিখেছেন: ‘ইনসাইড দ্য কোট, গেরিয়ন’স উইংস স্ট্রেইন্ড অ্যাগেইনস্ট দ্য উল...হি ওয়াজ আ মনস্টার। হি মাস্ট হ্যাভ নোন ইট।’ কিশোর গেরিয়ন তার মাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিল, সে জ্যাকেটের নিচে তার লাল ডানাজোড়া কীভাবে লুকিয়ে রাখবে?</p><p>গেরিয়ন ভাবে, এই বিশাল পৃথিবীতে সে একদম একা ও একাকী। এই একাকিত্ব থেকে পরিত্রাণের সন্ধানে সে ফটোগ্রাফির দিকে ঝুঁকে পড়ে। ক্যামেরার লেন্স দিয়ে সে পৃথিবীকে নিজের মতো করে দেখতে চায়।</p><p>একদিন বাসস্টপে হারকিউলিসের সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। গেরিয়ন ১৪, হারকিউলিস ১৬। গেরিয়ন হারকিউলিসের প্রেমে পড়ে নিজের শরীর ও সত্তার আসল রূপটি আবিষ্কার করে। তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দৈহিক মিলন বাদ থাকে না। কিন্তু বছর দেড়েকের মধ্যে হারকিউলিস অন্য একটি ছেলেকে বেছে নেয়। সে গেরিয়নকে পরিত্যাগ করে। হারকিউলিসের নির্মম প্রত্যাখ্যানে আহত হয় গেরিয়ন। অ্যান কারসনের ভাষায়:</p><p>হারকিউলিস যখন চলে গেল, গেরিয়নের মনে হলো তার লাল ডানা দুটো কেউ জ্যান্ত শরীর থেকে টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছে। সে আয়নার সামনে দাঁড়াল। তার নিজের শরীরের এই ভিন্নতা, এই পুরুষালি আকাঙ্ক্ষা যা সমাজ ‘দানবী’ বলে দাগিয়ে দেয়—তা তাকে তীব্র ক্ষোভে কাঁপিয়ে তুলল। সে চিৎকার করে বলতে চাইল, তার এই ভালোবাসা কোনো অপরাধ নয়, কোনো অসুখ নয়। কিন্তু চারপাশের পৃথিবীটা ছিল এক নিরেট দেয়াল। হারকিউলিসের প্রত্যাখ্যান শুধু একটা প্রেমের বিচ্ছেদ ছিল না, তা ছিল নিজের অস্তিত্বের ওপর এক তীক্ষ্ণ আঘাত। গেরিয়ন তার ক্যামেরার লেন্স দিয়ে সেই শূন্যতাকে ধরে রাখতে চাইল, যেখানে ক্ষোভ আর অপমান একাকার হয়ে তার বুকের ভেতর লাল ডানার মতো ছটফট করছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/vdqgpi81/Ann-Carson.jpg"><figcaption>কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ধ্রুপদি সাহিত্যের পণ্ডিত অ্যান কারসন</figcaption></figure><p>কাহিনির শেষটা এ রকম: সাত-আট বছর পর হারকিলিসের সঙ্গে গেরিয়নের আবার দেখা হয় আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে। গেরিয়ন হারকিউলিসের সঙ্গে শারীরিকভাবে মিলিত হয়। জৈবিক ক্ষুধা ছিল, কিন্তু এটি ছিল মূলত নিজের প্রকৃত অস্তিত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার আকুলতা। সে এমন একজনকে খুঁজছিল যে তার ভেতরের লুকানো লাল ডানা দুটিকে ঘৃণার পরিবর্তে নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করে নেবে।</p><p>এ উপন্যাসের শেষ দিকের পটভূমি পেরু। হারকিউলিসের নতুন প্রেমিক আনকাশ যখন গেরিয়নের ডানা দুটি প্রথম দেখে এবং পরম মমতায় গ্রহণ করে, তখনই গেরিয়ন বুঝতে পারে যে হারকিউলিসের পেছনে এত দিন ছোটা ছিল ভুল মানুষের পায়ে মাথা কোটা। শেষ পর্যন্ত পেরুর জুকু আগ্নেয়গিরির ওপর দিয়ে ডানা মেলে উড়ে গিয়ে গেরিয়ন তার সব অবদমন ও ক্ষত থেকে চিরতরে মুক্তি লাভ করে। উপন্যাসজুড়ে গেরিয়ন সমাজ, তার নিজের ভাই এবং হারকিউলিসের কাছ থেকে নিজের লাল ডানা এবং তার দানবীয় পরিচয় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। লজ্জায় ও ভয়ে কুঁকড়ে থাকত সে সব সময়। কিন্তু আগ্নেয়গিরির আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে তার মনে হয়, সে কোনো কুৎসিত দানব নয়; সে আসলে আগুনের মতো তীব্র, সুন্দর এবং অনন্য। আগ্নেয়গিরির ওপর দিয়ে লাল ডানা মেলে ওড়ার মধ্য দিয়ে সে নিজেকে সমাজ এবং হারকিউলিসের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে।</p><p>৩.</p><p>নোবেলজয়ী অ্যান কারসনের জীবনের ক্যানভাসটা অবশ্য এখন আর কেবলই শব্দের নয়, তা এখন পেশি আর স্নায়ুর লড়াইয়েরও। আশির কোঠায় দাঁড়িয়ে পারকিনসন্সের সঙ্গে তাঁকে প্রতিদিন বোঝাপড়া করে চলতে হয়। যে আঙুলগুলো একসময় গ্রিক পুরাণের অক্ষরগুলোর নিখুঁত অনুবাদ করত, আজ তারা অবাধ্য। কাগজের পিঠে কলম ধরলে সোজা টানগুলো বেঁকে যায়, অক্ষরগুলো ছিটকে পড়ে এদিক-ওদিক।</p><p>সদ্য পাওয়া নোবেল পুরস্কারের প্রাইজমানি ১২ মিলিয়ন ক্রোনা দিয়ে কী করবেন অ্যান কারসন? তিনি ভাবছেন, এর একাংশ তিনি ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ সংস্থাকে দেবেন। বাকিটা দিয়ে এক বন্ধুকে বাড়ি কিনতে সাহায্য করবেন—ওর তো নিজের কোনো বাড়ি নেই!</p><p>ফয়জুল লতিফ চৌধুরী: অর্থনীতিবিদ, কথাসাহিত্যিক ও গবেষকএই উদ্ধৃতি থেকে অ্যান কারসনের বর্ণনাশৈলী ও মনস্তত্বের অভিমুখ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গেরিয়নের ডানা দুটো আসলে তার ‘অন্য রকম’ হওয়া এবং উদ্ভিন্ন সমকামিতার অবদমিত রূপক। গেরিয়ন তাঁর ভিন্নতা, যৌনাভিমুখ এবং লাল ডানার কারণে প্রচণ্ড অপরাধবোধ ও বিচ্ছিন্নতায় আক্রান্ত। কারসন লিখেছেন: ‘ইনসাইড দ্য কোট, গেরিয়ন’স উইংস স্ট্রেইন্ড অ্যাগেইনস্ট দ্য উল...হি ওয়াজ আ মনস্টার। হি মাস্ট হ্যাভ নোন ইট।’ কিশোর গেরিয়ন তার মাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিল, সে জ্যাকেটের নিচে তার লাল ডানাজোড়া কীভাবে লুকিয়ে রাখবে?</p><blockquote>এই উদ্ধৃতি থেকে অ্যান কারসনের বর্ণনাশৈলী ও মনস্তত্বের অভিমুখ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গেরিয়নের ডানা দুটো আসলে তার ‘অন্য রকম’ হওয়া এবং উদ্ভিন্ন সমকামিতার অবদমিত রূপক। গেরিয়ন তাঁর ভিন্নতা, যৌনাভিমুখ এবং লাল ডানার কারণে প্রচণ্ড অপরাধবোধ ও বিচ্ছিন্নতায় আক্রান্ত। কারসন লিখেছেন: ‘ইনসাইড দ্য কোট, গেরিয়ন’স উইংস স্ট্রেইন্ড অ্যাগেইনস্ট দ্য উল...হি ওয়াজ আ মনস্টার। হি মাস্ট হ্যাভ নোন ইট।’ কিশোর গেরিয়ন তার মাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিল, সে জ্যাকেটের নিচে তার লাল ডানাজোড়া কীভাবে লুকিয়ে রাখবে?</blockquote><p>গেরিয়ন ভাবে, এই বিশাল পৃথিবীতে সে একদম একা ও একাকী। এই একাকিত্ব থেকে পরিত্রাণের সন্ধানে সে ফটোগ্রাফির দিকে ঝুঁকে পড়ে। ক্যামেরার লেন্স দিয়ে সে পৃথিবীকে নিজের মতো করে দেখতে চায়।</p><p>একদিন বাসস্টপে হারকিউলিসের সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। গেরিয়ন ১৪, হারকিউলিস ১৬। গেরিয়ন হারকিউলিসের প্রেমে পড়ে নিজের শরীর ও সত্তার আসল রূপটি আবিষ্কার করে। তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দৈহিক মিলন বাদ থাকে না। কিন্তু বছর দেড়েকের মধ্যে হারকিউলিস অন্য একটি ছেলেকে বেছে নেয়। সে গেরিয়নকে পরিত্যাগ করে। হারকিউলিসের নির্মম প্রত্যাখ্যানে আহত হয় গেরিয়ন। অ্যান কারসনের ভাষায়:</p><p>হারকিউলিস যখন চলে গেল, গেরিয়নের মনে হলো তার লাল ডানা দুটো কেউ জ্যান্ত শরীর থেকে টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছে। সে আয়নার সামনে দাঁড়াল। তার নিজের শরীরের এই ভিন্নতা, এই পুরুষালি আকাঙ্ক্ষা যা সমাজ ‘দানবী’ বলে দাগিয়ে দেয়—তা তাকে তীব্র ক্ষোভে কাঁপিয়ে তুলল। সে চিৎকার করে বলতে চাইল, তার এই ভালোবাসা কোনো অপরাধ নয়, কোনো অসুখ নয়। কিন্তু চারপাশের পৃথিবীটা ছিল এক নিরেট দেয়াল। হারকিউলিসের প্রত্যাখ্যান শুধু একটা প্রেমের বিচ্ছেদ ছিল না, তা ছিল নিজের অস্তিত্বের ওপর এক তীক্ষ্ণ আঘাত। গেরিয়ন তার ক্যামেরার লেন্স দিয়ে সেই শূন্যতাকে ধরে রাখতে চাইল, যেখানে ক্ষোভ আর অপমান একাকার হয়ে তার বুকের ভেতর লাল ডানার মতো ছটফট করছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/3ycrlmxb/carson.webp"><figcaption>অ্যান কার্সন</figcaption></figure><p>কাহিনির শেষটা এ রকম: সাত-আট বছর পর হারকিলিসের সঙ্গে গেরিয়নের আবার দেখা হয় আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে। গেরিয়ন হারকিউলিসের সঙ্গে শারীরিকভাবে মিলিত হয়। জৈবিক ক্ষুধা ছিল, কিন্তু এটি ছিল মূলত নিজের প্রকৃত অস্তিত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার আকুলতা। সে এমন একজনকে খুঁজছিল যে তার ভেতরের লুকানো লাল ডানা দুটিকে ঘৃণার পরিবর্তে নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করে নেবে।</p><p>এ উপন্যাসের শেষ দিকের পটভূমি পেরু। হারকিউলিসের নতুন প্রেমিক আনকাশ যখন গেরিয়নের ডানা দুটি প্রথম দেখে এবং পরম মমতায় গ্রহণ করে, তখনই গেরিয়ন বুঝতে পারে যে হারকিউলিসের পেছনে এত দিন ছোটা ছিল ভুল মানুষের পায়ে মাথা কোটা। শেষ পর্যন্ত পেরুর জুকু আগ্নেয়গিরির ওপর দিয়ে ডানা মেলে উড়ে গিয়ে গেরিয়ন তার সব অবদমন ও ক্ষত থেকে চিরতরে মুক্তি লাভ করে। উপন্যাসজুড়ে গেরিয়ন সমাজ, তার নিজের ভাই এবং হারকিউলিসের কাছ থেকে নিজের লাল ডানা এবং তার দানবীয় পরিচয় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। লজ্জায় ও ভয়ে কুঁকড়ে থাকত সে সব সময়। কিন্তু আগ্নেয়গিরির আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে তার মনে হয়, সে কোনো কুৎসিত দানব নয়; সে আসলে আগুনের মতো তীব্র, সুন্দর এবং অনন্য। আগ্নেয়গিরির ওপর দিয়ে লাল ডানা মেলে ওড়ার মধ্য দিয়ে সে নিজেকে সমাজ এবং হারকিউলিসের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে।</p><p>৩.</p><p>নোবেলজয়ী অ্যান কারসনের জীবনের ক্যানভাসটা অবশ্য এখন আর কেবলই শব্দের নয়, তা এখন পেশি আর স্নায়ুর লড়াইয়েরও। আশির কোঠায় দাঁড়িয়ে পারকিনসন্সের সঙ্গে তাঁকে প্রতিদিন বোঝাপড়া করে চলতে হয়। যে আঙুলগুলো একসময় গ্রিক পুরাণের অক্ষরগুলোর নিখুঁত অনুবাদ করত, আজ তারা অবাধ্য। কাগজের পিঠে কলম ধরলে সোজা টানগুলো বেঁকে যায়, অক্ষরগুলো ছিটকে পড়ে এদিক-ওদিক।</p><p>সদ্য পাওয়া নোবেল পুরস্কারের প্রাইজমানি ১২ মিলিয়ন ক্রোনা দিয়ে কী করবেন অ্যান কারসন? তিনি ভাবছেন, এর একাংশ তিনি ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ সংস্থাকে দেবেন। বাকিটা দিয়ে এক বন্ধুকে বাড়ি কিনতে সাহায্য করবেন—ওর তো নিজের কোনো বাড়ি নেই!</p><p><strong>ফয়জুল লতিফ চৌধুরী:</strong> অর্থনীতিবিদ, কথাসাহিত্যিক ও গবেষক</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
৯—১৫ অক্টোবর সপ্তাহের সেরা ১০ সরকারি চাকরি কোনগুলো
৯—১৫ অক্টোবর সপ্তাহের সেরা ১০ সরকারি চাকরি কোনগুলো

<p>গেল সপ্তাহে (২ থেকে ৮ অক্টোবর ২০২৬) বেশ কয়েকটি সরকারি–বেসরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। বিসিআইসি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, নরসিংদী সিভিল সার্জনের কার্যালয়, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ঢাকা কর অঞ্চল ২৫, পায়রা বন্দর ও পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগসহ বেশ কয়েকটি সরকারি চাকরি আছে। প্রথম আলোর প্রাপ্ত এসব সরকারি চাকরির মধ্য নবম–দশমসহ বিভিন্ন গ্রেডের চাকরির সুযোগ আছে। এই সপ্তাহ, অর্থাৎ ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত যেসব চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সেরা ১০টি একনজরে দেখে নিন</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-news/6foq0v5ztr">১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারির সময়সূচি প্রকাশ, পরীক্ষা তিন কেন্দ্রে</a></aside><p>১. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/8cxfg7lo3l">বিসিআইসিতে ২৭৪ জনের চাকরি, ৯ম ও ১০ম গ্রেডে বড় সুযোগ</a><br>২. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/n1r0ukeq2y">আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বড় নিয়োগ, পদ ২২৮</a><br>৩. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/ttuiyc4tfv">নরসিংদী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে চাকরি, পদ ১১৯</a><br>৪. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/hguya1f1xn">বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী পদে ১০৮ জনের চাকরির সুযোগ<br></a>৫. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/kx6v9z3wta">নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের অধীন চাকরি, পদ ৮৬</a><br>৬. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/rlqi8fvpfg">ঢাকা কর অঞ্চল ২৫–এর অধীন চাকরি, পদ ৬১, বেতন স্কেল ২০০০০ থেকে ২৪০০০ টাকা</a><br>৭. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/qjpz415ydq">পায়রা বন্দরে আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগ, পদ ৫৮</a><br>৮. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/0islbh0o4a">কনস্টেবল নিয়োগ ৬৪ জেলায়, আবেদন ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত</a><br>৯. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/n56jgyjfhq">কোস্টগার্ডে ৩৮ পদে চাকরি, আবেদন শুরু ১১ অক্টোবর</a><br>১০. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/4p3pxk2t2k">কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানিতে নতুন নিয়োগ, বেসিক বেতন ৯১০০০ টাকা<br></a></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/scholarship/3dnnuny0gp">নেদারল্যান্ডস উচ্চশিক্ষায় দিচ্ছে স্কলারশিপ, আবেদন যেভাবে</a></aside><p><strong>গেল সপ্তাহের সেরা কয়েকটি চাকরি<br></strong>১. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/r1gori2x38">আনসার–ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ৬২ পদে চাকরি, বেতন স্কেল ৭১০০০ ও ১১৩০০০ টাকা<br></a>২. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/zeku36rrug">বুয়েট বিভিন্ন পদে চাকরি, আবেদন অনলাইনে, বেতন স্কেল ৮২৫০ থেকে ৩০২৩০ টাকা<br></a>৩. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/5yw1f825zx">আড়ংয়ে সেলস অ্যাসোসিয়েট পদে চাকরি, পদ ১০০</a><br>৪. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/fuslltw0j9">কর অঞ্চল-রংপুরে ৩৬ পদে চাকরি, রংপুর-লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম-নীলফামারী-গাইবান্ধাবাসীর সুযোগ</a><br>৫. <a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/3p0pbqoqvm">মাভাবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত</a><br></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-suggestion/xq8op4yi3l">দুই মাসে ক্যাডার হওয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়</a></aside>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলে কত টাকা পায় ক্লাবগুলো
চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলে কত টাকা পায় ক্লাবগুলো

উয়েফার হিসাবে, এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্ব থেকে অংশ নেওয়া ক্লাবগুলোর মধ্যে বণ্টনের জন্য বরাদ্দ ২৪৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
একমুঠো চাল সঞ্চয় দিয়ে শুরু, অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বী তাঁরা
একমুঠো চাল সঞ্চয় দিয়ে শুরু, অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বী তাঁরা

<p>তাঁদের কোনো পুঁজি ছিল না। ছিল শুধু প্রতিদিনের রান্নার চাল থেকে একমুঠো করে সঞ্চয় করার সামর্থ্য। সেই সঞ্চয় দিয়েই শুরু। ৭০ জন নারী এক মাসে প্রতিবেলায় একমুঠো করে জমিয়ে যে চাল হতো তাই দিয়ে চারজনকে কিনে দেওয়া হতো হাঁস–মুরগি। এভাবে ১৭ মাসের মধ্যে ৭০ জনই পেলেন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাথমিক সম্বল। পরের ধাপে সপ্তাহে ৭০ টাকা করে সঞ্চয় করা শুরু করলেন তাঁরা। মাস শেষে যা দিয়ে গরু–ছাগল কিনে দেওয়া শুরু হয় সদস্যদের।</p><p>রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার পাতাইপাড়া গ্রামে মুঠো মুঠো চাল দিয়ে শুরু হওয়া সেই যাত্রা এখন হস্তশিল্পে পৌঁছেছে। উদ্যোক্তা মারজাহান ইয়াসমিনের নেতৃত্বে পাতাইপাড়া ও আশপাশের গ্রামের প্রায় ৩০০ নারী নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। সব মিলিয়ে দারিদ্র্যের আঁধার কাটিয়ে আলোকিত এক গ্রাম হয়ে উঠেছে পাতাইপাড়া।</p><p>গ্রামের বাসিন্দা ও হারিয়ালকুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আছিমুদ্দীন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, মারজাহানের চেষ্টায় গ্রামটি এখন অভাবমুক্ত। নারীরা বাড়িতে নকশা ও হস্তশিল্পের কাজ করে দারিদ্র্যকে জয় করেছেন। এ গ্রামের নারীদের দেখে পাশের গ্রামের নারীরাও বাড়তি আয় করতে নকশা ও হস্তশিল্পের কাজে ঝুঁকছেন।</p><p><strong>অভাব নাড়া দেয় মারজাহানকে</strong></p><p>তারাগঞ্জ উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামে ১৯৯৪ সালে জন্ম মারজাহানের। সাত ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট মারজাহান ২০১২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। একই বছর তাঁর বিয়ে হয় পাতাইপাড়া গ্রামের শাহাজাহান সরকারের সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে এসে দেখেন গ্রামটির বেশির ভাগ মানুষ দিনমজুর। গ্রামের বাইরে গিয়ে কাজ পেলে খাবার জুটত, কাজ না পেলে অনাহারে।</p><p>২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের কোনো একদিন গ্রামের স্বামীহারা আয়শা বেগম সন্তানের জন্য মারজাহানের কাছে একটু ভাত চাইতে আসেন। তিনি আয়শার হাতে ভাত তুলে দেন। পরদিন স্বামীর কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা নিয়ে আয়শাকে দেন গ্রামে ঘুরে ঘুরে শাড়ি কাপড় বিক্রির ব্যবসার জন্য। এ নিয়ে শাশুড়ি রাহেনা বেগমের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়। অভিমানে চলে যান বাবার বাড়ি। স্কুলশিক্ষক বড় বোন মাহমুদা আক্তার সব শুনে মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য মারজাহানকে উৎসাহ দেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/u5mxi6ps/WhatsApp-Image-2026-10-15-at-10.52.24-PM.jpeg"><figcaption>সদস্যদের কাছে সঞ্চয় নেওয়ার পর এভাবে লটারি করে নারীদের ব্যবসা ও গরু কেনার জন্য টাকা দেন মারজাহান </figcaption></figure><p>এরই মধ্যে জানতে পারেন পাশের পঞ্চায়েতপাড়া গ্রামের আরজিনা খাতুন ৪০ জন নারীকে নিয়ে মুষ্টির চাল জমিয়ে হাঁস-মুরগি, গাভি-ছাগল কিনে ভাগ্যের চাকা বদলে ফেলেছেন। ওই গল্প মারজাহানকে উৎসাহিত করে। আরজিনার কাছে গিয়ে সব কৌশল শিখে আসেন।</p><p>১০ দিন পর মারজাহানকে ফিরিয়ে আনেন স্বামী–শাশুড়ি। তাঁদের তিনি পঞ্চায়েতপাড়া গ্রামের নারীদের ভাগ্যবদলের গল্প শোনান। নিজেও একটি সংগঠন করার ইচ্ছার কথা জানান। প্রথমে তাঁরা রাজি হননি। তবে মারজাহান জেদ ধরলে মানাও করেননি তাঁরা। বাড়ি ফিরে গ্রামের নারীদের বোঝাতে বেরিয়ে পড়েন মারজাহান। তাঁর ডাকে সাড়া দেন নারীরা।</p><p><strong>মুষ্টির চাল দিয়ে শুরু</strong></p><p>২০১৬ সালের ৯ মে ৭০ জন দরিদ্র নারীকে নিয়ে ‘মানবসেবা সংগঠন’ গড়ে তোলেন মারজাহান। স্বামীর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে ৭০ জন নারীকে তিনি ৭০টি মাটির পাতিল কিনে দেন। প্রতিবেলায় রান্না করার জন্য নেওয়া চাল থেকে ওই পাতিলে এক মুষ্টি করে চাল তুলে রাখতে বলেন। এক মাস পর লটারি করে চারজনকে হাঁস–মুরগি কেনার জন্য চাল বিক্রির টাকা দেওয়া হয়। একইভাবে পরের মাসে পান আরও চারজন।</p><p>সংগঠনের প্রাথমিক এই সাফল্য আত্মবিশ্বাসী করে মারজাহানকে। চালের পরিবর্তে সদস্যদের কাজ থেকে সপ্তাহে ৭০ টাকা করে জমা নেন। একইভাবে লটারি করে ছাগল, গাভি কেনার জন্য দেওয়া হয় এ টাকা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/kmxz908r/WhatsApp-Image-2026-10-15-at-10.52.34-PM.jpeg"><figcaption>গ্রামের নারীদের হস্তশিল্পের কাজ শেখাচ্ছেন মারজাহান। সম্প্রতি তারাগঞ্জের পাতাইপাড়া গ্রামে</figcaption></figure><p><strong>ইউটিউবে দেখে হস্তশিল্প</strong></p><p>মারজাহান ভাবতে থাকেন কীভাবে নারীদের কর্মমুখী করা যায়। ২০১৮ সালে তিনি ইউটিউবে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ফরিদা বেগম নামের এক নারীর খোঁজ পান। জানতে পারেন ফরিদার অধীনে নকশা ও হস্তশিল্পের কাজ করে স্থানীয় নারীরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। বিষয়টি মারজাহান তাঁর স্বামীকে জানান। স্বামীর সহযোগিতায় ফরিদার বাড়িতে ১০ দিন থেকে মারজাহান শিখে নেন সেই কাজ। বাড়িতে ফিরে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সবাই তাতে আগ্রহ দেখান।</p><p>একই বছর মারজাহান তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগিয়ে দেন। ফরিদার সহযোগিতায় বিভিন্ন শোরুমে ও অনলাইনে পণ্য বিক্রি শুরু করেন। বিভিন্ন মেলাতেও প্রদর্শনীর আয়োজন করায় এসব পণ্যের বাজার তৈরি হয়।</p><p>নকশা ও হস্তশিল্পের কাজ করে সংগঠনের সদস্যরাও হয়ে ওঠেন স্বাবলম্বী। এতে পাশের গ্রামের নারীদেরও অনুপ্রাণিত করেন। তাঁরাও ভিড়তে থাকেন মারজাহানের কাছে। এখন মাদ্রাসাপাড়া, পাতাইপাড়া, শন্তিপাড়া, মমিনপুর, ঘোনপাড়া, হাজীপাড়া, হাতীবান্ধা, উজিয়াল গ্রামের প্রায় ৩০০ অভাবী নারী যুক্ত এই কাজে। তাঁরা কাপড়ে বিভিন্ন নকশার কাজ ছাড়াও ব্যাগ, শিকা, পাপোশ, ঝুড়ি, ওয়ালম্যাট, রানার, টেবিলম্যাট তৈরির কাজ করেন। সংসারের কাজের ফাঁকে যাঁরা বেশি সময় দেন তাঁরা মাসে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা আয় করেন। যাঁরা কিছুটা কম সময় দেন তাঁরা তিন থেকে চার হাজার টাকা আয় করছেন।</p><p>মারজাহান ইয়াসমিন জানান, একেকটি পাঞ্জাবিতে নকশার কাজে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, ফতুয়ায় ৫০০ টাকা, শাড়িতে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পান নারীরা। এর মধ্যে প্রতিটি পণ্যে ৩০ টাকা কমিশন নেন মারহাজান, যা তাঁর যাতায়াত খরচের পাশাপাশি সংগঠনের কাজে ব্যয় হয়। এ ছাড়া ফরিদপুর থেকে পাট ও বরিশাল থেকে হোগলাপাতা এনে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করেন তাঁরা। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেন তিনি।</p><p>হারিয়ালকুটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘মারজাহান দরিদ্র নারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাঁর কর্মকাণ্ড আমি দুইবার পরিদর্শন করেছি। তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হচ্ছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/byhxfzzk/WhatsApp-Image-2026-10-15-at-10.52.41-PM.jpeg"><figcaption>স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে গ্রামে ঘুরে ঘুরে নারীদের হস্তশিল্পের কাজ শেখান মারজাহান। সম্প্রতি তারাগঞ্জের হাতীবান্ধা মোড় এলাকায়</figcaption></figure><p><strong>পাতাইপাড়া গ্রামে একদিন</strong></p><p>সম্প্রতি এক সকালে রংপুর সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে পাতাইপাড়া গ্রামে ঢুকে চোখে পড়ে নানামুখী উৎপাদন কর্মকাণ্ড। প্রতিটি বাড়ির উঠানের পাশে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মসলাখেত। উঠানে হাঁস–মুরগি ও গরু-ছাগলের বিচরণ। গ্রামের নারীদের অনেকেই নকশা ও পাট দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছেন।</p><p>মারজাহানের বাড়ির উঠানে গিয়ে দেখা যায়, তিনি নারীদের হস্তশিল্পের কাজ দেখিয়ে দিচ্ছেন। সেখানে কাজের ফাঁকে কয়েকজন দিনবদলের গল্পও শোনালেন। তাঁদের বাড়িতে কুঁড়েঘরের বদলে টিনের ঘর উঠেছে, ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে। নিজেদের হাঁস, মুরগি, গাভি, ছাগল আছে।</p><p>ওই গ্রামের সুফিয়া বেগম জানালেন, সাত বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। এরপর অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। তবে তাঁর এখন হাঁস, মুরগি ও দুটি গাভি আছে। অন্যের বাড়িতে কাজ করা ছেড়েছেন অনেক আগেই। এসবই হয়েছে মারজাহানের পরামর্শে হস্তশিল্পের কাজ করে।</p><p>গ্রামের মেয়ে সুইটি বেগমের আট বছর আগে বিয়ে হয় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বাংলাবাজার গ্রামে। দারিদ্র্যের কারণে সেখানে টিকতে না পেরে দিনমজুর স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। মারজাহানের পরামর্শে সমিতির সদস্য হন। শুরু করেন নকশা ও হস্তশিল্পের কাজ। এখন তিনি কাজের পাশাপাশি হাঁস–মুরগি, গরু-ছাগল পালন করে মাসে আয় করছেন ১২ হাজার টাকা।</p><p>সুলতানা বেগমের স্বামী সেকেন্দার আলী দিনমজুরি করতেন। হস্তশিল্পের কাজ করার আগে তাঁদের সংসারে অভাব লেগেই ছিল। এখন তিন বেলা খাবার জুটছে। সুলতানা বলেন, ‘সেই কষ্ট আর নেই। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে। মারজাহান আপার পরামর্শে এত কিছু হইছে।’</p><p>সমিতির হিসাবরক্ষক রাশেদা খাতুন বলেন, সমিতির তহবিলে এক লাখ টাকা জমা আছে। গরিব ঘরের মেয়ের বিয়েতে সমিতি থেকে সহযোগিতা করা হয়। নিরক্ষর গৃহবধূদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, জন্মনিয়ন্ত্রণ, যৌতুক ও বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করা হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/f0lpd76o/WhatsApp-Image-2026-10-15-at-10.52.47-PM.jpeg"><figcaption>নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মারজাহান</figcaption></figure><p><strong>ভুল ভেঙেছে মারজাহানের শাশুড়ির</strong></p><p>মারজাহানের স্বামীর চার একর জমি আছে। চাষাবাদের পাশাপাশি ধান–গমসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করেন তিনি। বড় মেয়ে সিঁথি আক্তার সপ্তম ও ছেলে সিফাত ইসলাম প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। গাছপালাঘেরা পাকা বাড়িতে দুই সন্তান, শাশুড়ি আর স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসার মারজাহানের।</p><p>শুরুতে মারজাহানের কাজে বিরক্ত শাশুড়ি রাহেনা বেগমের এখন ভুল ভেঙেছে। এক নারীকে সাহায্য করায় কথা শোনানোর কারণে মারজাহানের বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মুই পরে বউমাক বাপের বাড়ি থাকি মোর বাড়ি আনছুন। বউমা এলা গ্রামের মানুষের উপকার করোছে। বউমার জন্য এলা গ্রামের সবার মোক সম্মানও করে।’</p><p>স্ত্রীর কাজে গর্বিত স্বামী শাহাজাহান সরকার। তিনি বলেন, ‘হাটবাজারে যখন অপরিচিত লোকজন স্ত্রীর কাজের প্রশংসা করেন, তখন গর্ব হয়, আনন্দে বুক ভরে যায়।’</p><p>অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়ায় মারজাহানের প্রশংসা করলেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাববর হোসেন। তিনি বলেন, ‘মারজাহান একজন সংগ্রামী নারী। তাঁর কর্মকাণ্ড আমি দেখেছি। তাঁর নেতৃত্বে নারীরা হস্তশিল্পের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।’</p><p>মারজাহানের স্বপ্ন, ধীরে ধীরে তিনি আশপাশের গ্রাম হয়ে পুরো উপজেলার দরিদ্র নারীদের নকশা ও হস্তশিল্পের কাজে যুক্ত করবেন। পাশাপাশি তাঁদের হাতের তৈরি পণ্য তিনি সরাসরি বিভিন্ন দেশে পাঠাবেন, যার সুবিধাভোগী হবেন গ্রামের নারীরা।</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
পূজায় যেকোনো দিনই সাজতে পারেন লাল-সাদার সাজে, দেখুন ৮টি ছবি
পূজায় যেকোনো দিনই সাজতে পারেন লাল-সাদার সাজে, দেখুন ৮টি ছবি

<p>পূজার যেকোনো দিনই সাজেই রাখতে পারেন লাল-সাদা পোশাক। কখনো ট্র্যাডিশনাল, আবার কখনো ফিউশন সাজে এই দুটি রঙেই সেজে উঠতে পারেন। লাল-সাদা পোশাকের সঙ্গে কেমন হবে সাজ, দেখুন ৯টি ছবি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/l1swcwiz/_SY_7138.jpg"><figcaption>পূজায় লাল-সাদার আবেদন চিরন্তন</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/mcy8limc/SY7197.jpg"><figcaption>সারা দিনের ঘোরাঘুরিতে আরাম দেবে পালাজ্জো আর টপ</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/y0v1deqc/SY7352.jpg"><figcaption>ষষ্ঠীর সাজে বেছে নিতে পারেন সুতির পোশাক</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/style/jqh5i804e9">পূজার আগে মেরুন ফিটেড গাউনে অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী, দেখুন ১০টি ছবি</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/lf77naco/SY7469.jpg"><figcaption>সপ্তমীর দিন সাজে থাকুক সতেজ ভাব </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/td2tx8vc/SY7603.jpg"><figcaption>পূজার সাজটা মূলত ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে দশমীতে শেষ হয়</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/ieqe4s0n/SY7381.jpg"><figcaption>লম্বা গাউন কাটের এই কামিজ মানিয়ে যাবে পূজার যেকোনো বেলায়</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/5hr1ktl7gt">পূজার পাঁচ দিনের অন্যরকম সাজ দেখুন ১০টি ছবিতে</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/t7nk90kx/SY7170.jpg"><figcaption>অষ্টমীর দিন সাজে শুভ্রতা নিয়ে আসবে লাল স্কার্টের সঙ্গে সাদা টপ</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/mk5q2gzy/SY7499.jpg"><figcaption>দুই রঙের শাড়ি পরার কায়দায় থাকুক ভিন্নতা</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/liv7usc51v">ছুটির দিনে ঘুরে আসুন পুরান ঢাকার এই ১০ ঐতিহাসিক স্থান থেকে</a></aside>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সামরিক মনোবিজ্ঞানী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি লাইভ স্ট্রিম বা অনলাইনে প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে, মদিনার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি জোট, অস্বীকার করেছে হুথিরা।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
পত্রিকা: 'ভোটের আগে ২০৩ এমপির জন্য বিশেষ বরাদ্দ'
পত্রিকা: 'ভোটের আগে ২০৩ এমপির জন্য বিশেষ বরাদ্দ'

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ; দেশে মাধ্যমিকে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষক স্নাতকে অন্য বিষয়ে পড়লেও ক্লাস নিচ্ছেন ইংরেজি ও গণিতে; মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর গুরুত্ব পেয়েছে আজ শুক্রবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশিদের 'টোপ' হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশিদের 'টোপ' হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

"কীভাবে কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যে প্রাণে বেঁচে ফিরছি, সে কথা বলে বোঝানো যাবে না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরে আসা তরুণ রাজন হোসেন।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
অঙ্কিতা ভান্ডারী হত্যা মামলা কী, কেন চার বছর আগের এই ঘটনায় জড়িয়েছিল বিজেপি নেতার নাম?
অঙ্কিতা ভান্ডারী হত্যা মামলা কী, কেন চার বছর আগের এই ঘটনায় জড়িয়েছিল বিজেপি নেতার নাম?

অঙ্কিতা ভান্ডারী হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে দুষ্যন্ত কুমার গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপালের পদে নিয়োগ স্থগিত রাখার দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন অঙ্কিতার বাবা-মা।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
'গরু জবাই' নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যা হচ্ছে
'গরু জবাই' নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যা হচ্ছে

ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দিরের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার শুরু গত ১২ই অক্টোবর। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
শামীমের বিরুদ্ধে করা 'মবে' স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পরিবারের
শামীমের বিরুদ্ধে করা 'মবে' স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পরিবারের

নিহতের পরিবারের দাবি, ‘পরিকল্পিতভাবে’ শামীমকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় 'মব' তৈরির অভিযোগ উঠলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ৩৩ শিশু ও একজন শিক্ষক নিহত
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ৩৩ শিশু ও একজন শিক্ষক নিহত

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
'যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে', 'জামা টেনে তুলে দিয়েছে' - দিল্লিতে আটক বিক্ষোভকারীদের অভিজ্ঞতা
'যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে', 'জামা টেনে তুলে দিয়েছে' - দিল্লিতে আটক বিক্ষোভকারীদের অভিজ্ঞতা

দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের সময় আটক হওয়া একাধিক ছাত্রছাত্রী ও বিক্ষোভকারী পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর, দুর্ব্যবহার এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি
হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংসদীয় কমিটির তাগিদ
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংসদীয় কমিটির তাগিদ

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগে থাকা ৬ হাজার ৬৫৩টি শূন্য পদ দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটিতে জোর
রপ্তানি বাড়াতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটিতে জোর

বাংলাদেশে চিংড়ি চাষের জমির পরিমাণ ভারতের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। তারপরও আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানিতে প্রতিবেশী দেশটির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ, কেন পালিত হয় দিনটি
বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ, কেন পালিত হয় দিনটি

আজ ১৬ অক্টোবর, বিশ্ব খাদ্য দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের উদ্ভাবন আগামী সমৃদ্ধি’।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
মেঘনায় মাছ শিকারের অপরাধে ১০ জেলের কারাদণ্ড
মেঘনায় মাছ শিকারের অপরাধে ১০ জেলের কারাদণ্ড

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার তজুমদ্দিনে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার অপরাধে ১০ জেলেকে আটক করেছে মৎস্য বিভাগ।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
চীনের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেলে ১০০ ছানি অস্ত্রোপচার
চীনের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেলে ১০০ ছানি অস্ত্রোপচার

চীনের ইউনান প্রদেশের চিকিৎসক দলের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন দিনে ১০০টি ছানি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। গত ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এসব অস্ত্রোপচার করা হয়।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু
শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু

মাদারীপুরের শিবচরে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম (৬০) মারা গেছেন। 

অক্টোবর ১৬, ২০২৬