চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।

সারা দেশ

View more
রংপুরের পীরগঞ্জে পৌরভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত
রংপুরের পীরগঞ্জে পৌরভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে

Video news
Readysell
Readysell

https://www.youtube.com/watch?v=8tpROnMtdbk

সারা বিশ্ব
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?

হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।

ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ
ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ

সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে
বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে

ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা) এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার জানিয়েছেন, দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অভিজ্ঞতা নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া: মার্কিন জেনারেল
ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অভিজ্ঞতা নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া: মার্কিন জেনারেল

উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধ অংশ নিয়ে সেনা মোতায়েনের দক্ষতা অর্জন করেছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ফোর্সেস কোরিয়ার কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রুনসন।

ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’
‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার
মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১
চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের চাকার ভেতর থেকে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

পাবনায় মাদকাসক্ত যুবককে কুপিয়ে হত্যা
পাবনায় মাদকাসক্ত যুবককে কুপিয়ে হত্যা

পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে সুমন হোসেন (৩২) নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল। 

গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার
গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

শেরপুরে নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর নদী থেকে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সম্পর্ক মজবুত করে যেভাবে
সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সম্পর্ক মজবুত করে যেভাবে

একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।

স্বর্ণের দামে পতন, ভরিতে কমল ৩২৬৬ টাকা
স্বর্ণের দামে পতন, ভরিতে কমল ৩২৬৬ টাকা

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।

তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল
তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে
বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে

প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা।   ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন।   শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।”   কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে।   বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।

শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?

শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব? শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি? গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে। কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে। অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে। শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।

Follow us

Top week

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’
জাতীয়

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

News অক্টোবর ১১, ২০২৬ 0

Rss feed news

ক্লাউড ড্যান্সার লুকে ধরা দিলেন সিঙ্গেল লেডি সাফা কবির
ক্লাউড ড্যান্সার লুকে ধরা দিলেন সিঙ্গেল লেডি সাফা কবির

প্যানটোনের ২০২৬ সালের ‘কালার অব দ্য ইয়ার’ ক্লাউড ড্যান্সার রঙের সাদা পোশাকে স্নিগ্ধ সাজে ধরা দিলেন অভিনেত্রী সাফা কবির।  তাঁর সাম্প্রতিক ফটোশুটে ফুটে উঠেছে স্বপ্নিল এক আবহ। রইল বিস্তারিত ...।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
অ্যামেলিয়া এয়ারহার্টের নিখোঁজ–রহস্য সমাধানে ৮৯ বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে অভিযান
অ্যামেলিয়া এয়ারহার্টের নিখোঁজ–রহস্য সমাধানে ৮৯ বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে অভিযান

এয়ারহার্টের লক্ষ্য ছিল বিমান চালিয়ে পৃথিবী ঘুরে আসা প্রথম নারী হওয়া। তাঁর লকহিড ১০ই ইলেকট্রা বিমানটি এরই মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিল।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
সেরা দেশ
সেরা দেশ

<p>আপনারা অনেকেই হয়তো ভাবেন, বাংলাদেশ সব দিক দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। আপনারা কিছুই জানেন না, আমাদের দেশ অনেক দিক দিয়েই বড় বড় দেশকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন দিকে আমাদের দেশ সেরা, সেটা নিয়েই ভেবেছেন সাবরিন জাওয়াদ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/is8gdmce/Untitled-1-09.jpg"></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kh0p6d4yon">মুখস্থবিদ্যার পরিণতি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/u0oej7duj6">পাস্ট ইজ পাস্ট</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/tx4yiwxen9">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/88lpnc5wio">রসচিঠি ২০</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bwluvlmmu8">বিবাহিত পুরুষ চেনার সহজ উপায়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/trarpa7245">দুটি কলেজের সংঘর্ষ বন্ধ করার বিভিন্ন পদ্ধতি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kdnfiunl2l">চাঁদাবাজের বর্ণ পরিচয়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/mrplq2ed70">ইলিশ আছে, ইলিশ হ্যাজ!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/1b2pl7u0b9">ভদ্র ছেলেরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hiksaptred">গ্যাঞ্জাম of সায়েন্সল্যাব</a></aside>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের আগে যে প্রস্তুতি জরুরি
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের আগে যে প্রস্তুতি জরুরি

<p>বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পছন্দের দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করেছেন, কিন্তু আবেদনপ্রক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন? স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) কীভাবে লিখবেন, কার কাছে সুপারিশপত্র চাইবেন কিংবা কোন নথি কখন জমা দিতে হবে? আবেদনের আগে এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়াটা অনেক শিক্ষার্থীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। শুধু ভালো একাডেমিক রেজাল্ট থাকলেই হয় না; আবেদনে নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কার্যকরভাবে তুলে ধরাও জরুরি। তাই শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়িয়ে বিদেশযাত্রার আবেদনের শুরু থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।</p><p><strong>স্টেটমেন্ট অব পারপাস ও সুপারিশপত্র</strong></p><p>বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে এসওপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এতে কেন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়তে চান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার আগ্রহ কীভাবে তৈরি হয়েছে, পূর্ববর্তী পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতা কীভাবে আপনাকে প্রস্তুত করেছে এবং ভবিষ্যতে কী করতে চান—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম–ভেদে এসওপির নির্দেশনা আলাদা হতে পারে। তাই একই লেখা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর পরিবর্তে প্রতিটি প্রোগ্রামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি প্রস্তুত করা ভালো।</p><p>অন্যদিকে লেটার অব রিকমেন্ডেশন (এলওআর) বা সুপারিশপত্রের জন্য এমন শিক্ষক কিংবা পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির সহায়তা নেওয়া উচিত, যিনি আপনার দক্ষতা, কাজের মান ও সম্ভাবনা সম্পর্কে নির্দিষ্ট উদাহরণসহ বলতে পারবেন। তবে আগে থেকেই সুপারিশপত্রের প্রয়োজনীয় সংখ্যা, গ্রহণযোগ্য সুপারিশকারীর ধরন ও জমা দেওয়ার পদ্ধতি জেনে নেওয়া জরুরি।</p><p><strong>সিভি, একাডেমিক নথি ও পোর্টফোলিও</strong></p><p>আবেদনের জন্য হালনাগাদ সিভি, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সনদ, ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পোর্টফোলিও প্রস্তুত রাখতে হবে। সিভিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা, গবেষণা, ইন্টার্নশিপ, দক্ষতা ও অর্জন সংক্ষেপে তুলে ধরুন। শিল্পকলা, নকশা, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম কিংবা সৃজনশীল বিষয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পোর্টফোলিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কোন নথি বাধ্যতামূলক, তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা থেকে যাচাই করতে হবে।</p><p><strong>ইনটেক, ডেডলাইন ও আবেদন ব্যবস্থাপনা</strong></p><p>বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভর্তির ইনটেক ও আবেদনের সময়সীমা আলাদা হয়। তাই সম্ভাব্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম, কোর্স, ডেডলাইন, প্রয়োজনীয় নথি ও আবেদন ফি নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করা কার্যকর কৌশল। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে চাইলে প্রতিটির শর্ত আলাদাভাবে অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি পাসপোর্ট, পরীক্ষার ফল, সুপারিশপত্র ও অন্যান্য নথি সংগ্রহে পর্যাপ্ত সময় রাখা জরুরি।</p><p>বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত, নিজের যোগ্যতা কার্যকরভাবে উপস্থাপন এবং আবেদনের সময়সীমা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ফিউচারএড ইংলিশের অপারেশন হেড (স্টাডি অ্যাব্রোড) ইশতিয়াক মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের জন্য শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, পাসপোর্ট, হালনাগাদ সিভি, ভাষাদক্ষতার সনদ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), সুপারিশপত্র এবং প্রাসঙ্গিক কাজ ও প্রশিক্ষণের নথি প্রস্তুত রাখা জরুরি।</p><p>ইশতিয়াক মাহবুব আরও বলেন, ‘এসওপি, সিভি ও সুপারিশপত্রে নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচনের কারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরতে হবে। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে পৃথক চেকলিস্ট ও ফোল্ডার তৈরি, নথির তথ্যের সামঞ্জস্য যাচাই, প্রয়োজনীয় অনুবাদ ও সত্যায়ন, ডেডলাইন অনুসরণ এবং আবেদনপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়মিত সংরক্ষণ করা উচিত।’</p><p><strong>আবেদনে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন</strong></p><p>অসম্পূর্ণ নথি জমা দেওয়া, ভুল তথ্য দেওয়া, নির্দেশনা না পড়ে আবেদন করা কিংবা শেষ দিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে রাখা—এসব ভুল আবেদনের প্রক্রিয়াকে জটিল করতে পারে। জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ও নথি আবার যাচাই করুন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়ে নিন।</p><p>বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদন কেবল ফরম পূরণের বিষয় নয়, এটি নিজের যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার একটি সুযোগ। তাই সময় হাতে রেখে নথি প্রস্তুত, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত যাচাই এবং নিয়মিত ডেডলাইন অনুসরণের মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়াকে আরও গোছানো ও কার্যকর করা সম্ভব।</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু
তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু

<p>তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনে সদস্যদের নাম চেয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের কাছে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি চেয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির জন্য জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।</p><p>বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের দাবির মুখে চলতি মাসের শুরুতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তখন শ্রম মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দেন, অক্টোবরের মধ্যেই ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠিত হতে পারে।</p><p>এদিকে মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে তিন দিন ধরে উত্তরায় সড়ক অবরোধ করছেন কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর সড়কের দুপাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।</p><p>শ্রমিকদের এই আন্দোলনের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য মালিক ও শ্রমিকপক্ষের নাম চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনকে দেওয়া চিঠিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের জন্য একজন নিরপেক্ষ সদস্য, একজন মালিকদের প্রতিনিধি, একজন শ্রমিকদের প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য প্রত্যেক সদস্যের বিপরীতে তিনজন সদস্যের নাম চাওয়া হয়েছে।</p><p>জানতে চাইলে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী সপ্তাহের মধ্যে আমরা নাম চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুরু থেকেই মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক। তারপরও একটি গোষ্ঠী আন্দোলন করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ শ্রমিকের সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।</p><p>সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর নির্ধারণ করেছে। তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। আর কার্যকর হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। আগামী নভেম্বরে মজুরি ঘোষণার তিন বছর পূর্ণ হবে। ২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা হয়। এ ক্ষেত্রে মজুরি বেড়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই মজুরিকাঠামোতে সাতটির বদলে পাঁচটি গ্রেড করা হয়।</p><p>জানতে চাইলে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নাম দেওয়ার বিষয়টি সমন্বয় করবে এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন। আর শ্রমিকদের নামের প্রস্তাবটি সমন্বয় করবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। নাম দেওয়ার জন্য চিঠিতে আমরা কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করলেও দ্রুত দেওয়ার অনুরোধ করেছি। আশা করছি দুর্গাপূজার ছুটির আগেই নাম পাওয়া যাবে।’</p><p>জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং নতুন মজুরিকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। গত বুধবার গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালে ৮ হাজার টাকায় যে পরিমাণ পণ্য ও সেবা কেনা যেত, ২০২৬ সালে তা কিনতে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। অথচ শ্রমিকদের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক শ্রমিককে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। এরপরও তাঁদের পক্ষে পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।</p><p>জানতে চাইলে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা দেখেছি, মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধি শেষ পর্যন্ত একটি পক্ষ হয়েই কাজ করেছেন। তাঁরা মালিকদের স্বার্থই দেখেন। সে জন্য আমরা চাই, মজুরি বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধি দেওয়া হোক। নিরপেক্ষ প্রতিনিধি নির্বাচন যথাযথ হওয়া দরকার, যাতে করে তিনি সত্যিকার অর্থেই নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তাহলেই শ্রমিকদের জীবনমান, খাদ্যদ্রব্যের দাম, মূল্যস্ফীতি, উৎপাদনশীলতা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে জীবনধারণের উপযোগী মজুরি নির্ধারণ সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে।’</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ঢাকার কাছেই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে এই নদীর পাড়, পূজার ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন
ঢাকার কাছেই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে এই নদীর পাড়, পূজার ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন

<p>প্রথম আলোর ‘নকশা’র একটি ফটোশুটের কাজে গত বর্ষায় যাওয়া হয়েছিল কেরানীগঞ্জের ‘জল কাচারি-ধলেশ্বরী’। যাওয়ার সময় ভেবেছিলাম, গতানুগতিক কোনো রিসোর্টই হবে। কিন্তু গিয়ে তো চক্ষু চড়কগাছ! রাজধানী থেকে খুব দূরে না গিয়েও যে নদীর এত কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ আছে, জানা ছিল না। একদম নদী ঘেঁষেই বসে থাকা যায় সারা দিন। চাইলে পাটাতনে পা দোলানো অথবা নৌকায় ঘোরাও যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/w3ywlpdm/IMG20260708122847.jpg.jpeg"><figcaption>নদী, সবুজ আর খোলা আকাশ মিলিয়ে ছুটি কাটানোর এক চমৎকার স্থান ‘জল কাচারি-ধলেশ্বরী’</figcaption></figure><p>ঢাকার কাছেই কেরানীগঞ্জে ধলেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে এই কটেজ। চারপাশে ঘনবসতি বা শহরের কোলাহল নেই। নদী, সবুজ আর খোলা আকাশ মিলিয়ে জায়গাটি হয়ে উঠেছে ছুটি কাটানোর এক চমৎকার স্থান। নদীর ওপর কাঠের ডেক বা পাটাতন থেকে উপভোগ করতে পারবেন ধলেশ্বরীর শান্ত, স্নিগ্ধ সৌন্দর্য। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/jj28dw2gvk">ঘুরে আসুন ঢাকার নতুন বিনোদনকেন্দ্র অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কে, যেখানে আছে মাছ, পাখি ও জলপ্রপাত</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/xo5n2fln/040A2238.jpg"><figcaption>একদম নদীর পাড় ঘেঁষেই গড়ে তোলা পাটাতনে বসে থাকা যায় সারা দিন</figcaption></figure><p>কাঠের পাটাতনের মাঝখানে টিনের ছাউনি দেওয়া বসার জায়গা। যেখানে বসে কিংবা শুয়ে গল্প-আড্ডায় মেতে থাকতে পারবেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, উপভোগ করতে পারবেন নদীর বয়ে চলা আর নিরিবিলি পরিবেশ। </p><p>নদীর পাড় ঘেঁষে এই কটেজের দুই পাশে দুটি সানসেট রুম। এখান থেকে উপভোগ করতে পারবেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। চাইলে দোলনায় দুলতে দুলতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটিয়ে দিতে পারবেন কিছু প্রশান্ত মুহূর্ত।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/bmfqdksi/WhatsApp-Image-2026-10-15-at-5.25.24-PM-1.jpeg"><figcaption>জল কাচারি-ধলেশ্বরীতে আছে রাতে থাকার ব্যবস্থাও</figcaption></figure><p>প্রকৃতির মাঝে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে সারা বছরই এখানে ঘুরতে আসে মানুষ। জল কাচারি-ধলেশ্বরীর প্রতিষ্ঠাতা ইমরুল খান বলেন, করোনা মহামারির পর প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংযোগের বিষয়টি তাঁকে নতুন করে ভাবায়। বিডি সাইক্লিস্টদের সঙ্গে আগে এ এলাকায় সাইকেল চালাতে আসতেন। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ক্যাম্পিংও করতেন। </p><p>২০২৩ সালের শেষ দিকে জায়গাটিকে সবার জন্য উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা করেন। ২০২৪ সালে শুরু হয় নির্মাণকাজ। আগে এখানে তারই পরিচিত একজনের ছোট্ট কুঁড়েঘর ছিল। সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর জায়গাটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/6ck5pk3uzi">দেশে ঘোরার খরচেই বিদেশভ্রমণ করতে এই উপায়গুলো জেনে রাখুন</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/c4b2o45f/040A1705.jpg"><figcaption>দোলনায় দুলতে দুলতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটিয়ে দিতে পারবেন কিছু প্রশান্ত মুহূর্ত</figcaption></figure><p>শুরুতে ইমরুল খানের সাইক্লিস্ট বন্ধু ও পরিচিতজনেরা আসতেন। পরে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ে। এখন বন্ধুদের আড্ডা, পারিবারিক পুনর্মিলনী কিংবা দলীয় আয়োজনের জন্যও অনেকে এখানে আসেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/6has4wxp/WhatsApp-Image-2026-10-15-at-5.24.30-PM.jpeg"><figcaption>এখানে খাবারের পরিবেশনায় আছে নান্দনিকতা</figcaption></figure><p>ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জের জল কাচারি-ধলেশ্বরী দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ অথবা গাবতলী, আমিনবাজার থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্য যানবাহনে ২৫ মিনিটেই যাওয়া যায়। কলাতিয়া বাজারের দেড় কিলোমিটার পরে ঢালিকান্দি গুদারাঘাটের পাশেই জল কাচারি। </p><p>তবে সড়কের অবস্থা ও যানজটের ওপরও যাত্রার সময় নির্ভর করবে। আর যাওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফেসবুকে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/liv7usc51v">ছুটির দিনে ঘুরে আসুন পুরান ঢাকার এই ১০ ঐতিহাসিক স্থান থেকে</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/8k9k6y1t/040A1837.jpg"><figcaption>বন্ধুদের আড্ডা, পারিবারিক পুনর্মিলনী কিংবা দলীয় আয়োজনের জন্যও অনেকে এখানে আসেন</figcaption></figure><p>দিনের পাশাপাশি রাতযাপনের ব্যবস্থাও এখানে রয়েছে। দিনের প্যাকেজ সাধারণত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট বা ৬টা পর্যন্ত। সকালের খাবার, নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাশতার ব্যবস্থা থাকে। নৌকায় ঘোরার সুযোগও রয়েছে। রাতযাপনের প্যাকেজে নাশতা, রাতের খাবার ও পরদিন সকালের খাবার অন্তর্ভুক্ত।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/tcbg5srz/WhatsApp-Image-2026-10-15-at-5.25.24-PM.jpeg"><figcaption>সন্ধ্যায় জল কাচারি-ধলেশ্বরী</figcaption></figure><p>পূজার এই ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার কাছেই ধলেশ্বরী নদীর পাড় থেকে। শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে, নদীর হাওয়া আর প্রকৃতির মায়ায় নিজেকে হারিয়ে দিতে জায়গাটি হতে পারে আপনার অল্প সময়ের ভ্রমণের দারুণ এক গন্তব্য।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/gc3p4fd3f3">ঈদের ছুটিতে ঢাকায় থাকলে আপনার সেরা গন্তব্য হতে পারে উদয়পুর</a></aside>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার: ‘আমি ঢাকার স্মৃতি মনে রেখেছি’
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার: ‘আমি ঢাকার স্মৃতি মনে রেখেছি’

<p>২০০৫ সালের ১৪ অক্টোবর ‘গুন্টার গ্রাসের সঙ্গে আলাপ: আমি ঢাকার স্মৃতি মনে রেখেছি’ নাসির আলী মামুনের নেওয়া এ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায়। আজ গুন্টার গ্রাসের জন্মদিনে সাক্ষাৎকারটি অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।</p><p><strong>নাসির আলী মামুন :</strong> মিস্টার গ্রাস, আপনি ১৮ বছর আগে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। আমাদের প্রত্যাশা ছিল আপনি আবারও ঢাকা ঘুরে যাবেন।</p><p><strong>গুন্টার</strong> <strong>গ্রাস:</strong> ১৮ বছর আগে আমার বয়স আরও কম ছিল। এখন (২০০৫) আমি ৭৮ বছরের বৃদ্ধ। আমার হাতে সময় মাত্র ১০ দিন। এ সময়টাতে আমি কলকাতার প্রতি নিবিড় হতে চাই; কিন্তু আমি বাংলাদেশকে ভুলে যাইনি।</p><p><strong>মামুন:</strong> ধন্যবাদ আপনাকে। দীর্ঘদিন পর আবার কলকাতা কেমন লাগছে?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> এটা অনেকটা আমার কাছে ঘরে ফেরার মতো। কলকাতা আমার দ্বিতীয় আবাস। প্রথমে আধঘণ্টা রাস্তায় হাঁটা খুব কঠিন কাজ; কিন্তু কিছুক্ষণ পর আমি কলকাতার একজন হয়ে যাই। ভুলে যাই আমি অন্য কোনো দেশের। এই সফর আমার জন্য আনন্দের।</p><p><strong>মামুন:</strong> ১৯৮৬ সালের কলকাতা আর ২০০৫ সালের কলকাতার পার্থক্যগুলো কী কী?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ১৮ বছর আগেও কলকাতায় বেশ ভিড় দেখেছিলাম। এখন সেটি আরও তীব্র হয়েছে বুঝতে পারছি। যদিও এখন আমি সারাক্ষণ গাড়িতে চড়ছি। আগের মতো আমি হেঁটে চলছি না। আগের সফরটি ছিল বেশ কঠিন। আমার জন্য একটা নতুন শহর, যেখানে জীবন ও মৃত্যুর সহাবস্থান। তবু এ শহরকে আমি নিজের মতো করে মনে করতে পেরেছি।</p><p>এবার আমি অনেকটা সম্মানজনক অবস্থায় আছি। দরকার হলে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্যকারী জুটে যাচ্ছে। আগের মতো কোথাও হেঁটে যেতে পারছি না। আমি এখন পুরোপুরি বৃদ্ধ। নিয়তির হাতে অনেক আগেই নিজেকে সমর্পণ করেছি। গতবার কলকাতায় অনেকবার গরুর পালের রাস্তা পারাপার দেখেছি। গরু রাস্তা পার হওয়ার সময় কেউ তাদের স্পর্শ করতে পারছে না। গরু নিজেদের নিয়মেই রাস্তা পার হচ্ছে। এটা বেশ উপভোগ্য ছিল আমার কাছে। এখন শহরটি আরও বড় হচ্ছে এবং পরিবর্তিত হচ্ছে। আমি এখনো কলকাতাকে মান্য করি।</p><p><strong>মামুন:</strong> কলকাতা কখন আপনার প্রিয় শহর হলো?</p><p><strong>গ্রাস :</strong> সে অনেক কথা। ১৯৭৫ সালে আমি প্রথম কলকাতায় আসি। একটি প্রতিনিধিদলে থাকায় আমাকে অন্যদের সঙ্গে ব্যস্ত থাকতে হয়। ইচ্ছা থাকলেও বিশেষ কোথাও যেতে পারিনি। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমার স্ত্রীকে নিয়ে আবার এখানে আসব।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2014/12/26/b28ab878fe44bec818ca80cb7ea1a02d-17.jpg"><figcaption>স্ত্রী উটে গ্রাসের সঙ্গে জয়নুল আবেদিনের চিত্রকলা দেখছেন গুন্টার গ্রাস। জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা ১৯৮৬</figcaption></figure><p><strong>মামুন:</strong> ১৯৮৬ সালে এলেন...</p><p><strong>গ্রাস:</strong> হ্যাঁ, এক বছর থাকব ভেবেছিলাম; কিন্তু পাঁচ মাস থাকার পর আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। কলকাতার পানি তার সহ্য হচ্ছিল না। আমাদের সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে যেতে হলো। সে সময় কলকাতা বেশ ঘুরে বেড়ালাম। আমার মনে গেঁথে গেল শহরের জীবনযাত্রা ও মানুষেরা।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার বই ‘জুঙ্গে জাইগেন’ (জিভ কাটো লজ্জায়) পড়েছি। বইটিতে অনেক স্কেচ আছে। আপনার দৃষ্টিতে ঢাকা ও কলকাতার বর্ণনা আছে।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমি একজন লেখক এবং ব্যাকুল দর্শক। কলকাতায় বসেই আমার বইটির স্কেচগুলো এঁকেছি। প্রতিদিন বাইরে থেকে ঘুরে এসে লিখতে বসেছি। জার্মানি গিয়ে শুধু সম্পাদনা করেছি মাত্র। নতুন কোনো গদ্য সংযোজন করিনি।</p><p><strong>মামুন:</strong> এটি কি ভ্রমণকাহিনি?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> বর্ণনামূলক কাহিনি, অনেকটা আত্মজীবনীর মতো রিপোর্টিং। ভ্রমণকাহিনি আমি লিখতে চাইনি।</p><p><strong>মামুন:</strong> বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর ভারতে, বিশেষ করে কলকাতায় আপনার বিরুদ্ধে কথা হয়েছে। বলা হয়েছে আপনি কলকাতাকে বুঝতে পারেননি।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> বইটি না পড়েও অনেকে আমার সমালোচনা করেছেন; আর যাঁরা পাঠ করে আমাকে নিন্দা করেছেন, তাঁরা বুঝতে পারেননি। আমি কলকাতার সমাজজীবন বা ইতিহাস লিখিনি। আমার ব্যক্তিগত প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছি মাত্র।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি কলকাতাকে ‘ঈশ্বরের বিষ্ঠা’ বলেছেন!</p><p><strong>গ্রাস:</strong> বলেছি। এটা এমন নয় যে এ কারণে কলকাতাকে আমি ত্যাগ করব। তা-ই যদি হতো তাহলে ১৮ বছর পর এই বুড়ো বয়সে আবার ফিরে আসতাম না। কলকাতা নিয়ে আমি যা লিখেছি, সেগুলো আমার চোখে দেখা। কলকাতার অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে আমি আমার বক্তব্য লিখতে পেরেছি এবং সত্য কথা লেখার জন্য আমি আনন্দিত। এটা কারও মনঃকষ্টের কারণ হতে পারে। শুনেছি, সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন এবং কয়েকজন বুদ্ধিজীবী আমার কট্টর সমালোচনা করেছেন। আবার কলকাতার অনেকে আমাকে বলেছেন, আমার বইটি পাঠ করে তাঁরা তৃপ্ত। তাঁরা সত্যিকারের কলকাতাকে দেখতে পেয়েছেন আমার লেখায়।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি নেতাজিকে নাকচ করেছেন।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমার মাথায় আসে না, কীভাবে এ লোকটি বাঙালিদের নায়ক হয়ে রইলেন। তিনি ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের তাড়ানোর জন্য জার্মানিতে গিয়েছিলেন হিটলারের সঙ্গে সন্ধি করতে। তোমাদের কি মনে হয়, হিটলার এসে ভারতকে ব্রিটিশদের কবল থেকে মুক্ত করে দিত? হিটলার ছিলেন একনায়ক ও স্বৈরাচার। তাঁকে বন্ধু ভাবা সুভাষচন্দ্রের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি বিস্মিত হই, এখনো পশ্চিমবাংলায় সুভাষচন্দ্র কিংবদন্তি হয়ে আছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2018/04/08/83884df10e64ae9e4468612b6b51f242-5aca56924840f.jpg"><figcaption>গুন্টার গ্রাস</figcaption></figure><p><strong>মামুন:</strong> আপনি কি মনে করেন নেতাজি সম্পর্কে আপনার মন্তব্যে কলকাতাবাসী ক্ষুব্ধ?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ঈশ্বর জানেন, আমি জানি না। কলকাতায় একটা ব্যাপার লক্ষ৵ করেছি, গান্ধীর চেয়ে সুভাষচন্দ্র বসুকে বড় করে দেখা হয়। গান্ধী অনেক উদার এবং বুদ্ধিমান ছিলেন। সুভাষচন্দ্র ছিলেন চরমপন্থী। তাঁর মধ্যে প্রজ্ঞার ঘাটতি ছিল।</p><p><strong>মামুন:</strong> তিনি কৌশলী ছিলেন না?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> একদম না। দয়া করে এ ব্যাপারে আর কোনো প্রশ্ন কোরো না।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি আর কত দিন কলকাতায় থাকবেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ২ তারিখে (ফেব্রুয়ারি) আমি ফিরে যাব জার্মানি। আমার এক মেয়ে কিছুদিন থেকে যাবে কলকাতায়।</p><p><strong>মামুন:</strong> তিনি কী করবেন এখানে?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> সে ড্যান্সার। এখান থেকে কিছু শিখতে চায়।</p><p><strong>মামুন:</strong> এবার আপনার সঙ্গে আপনার দুই মেয়ে আছেন। আপনার স্ত্রী এলেন না কেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমার স্ত্রী অসুস্থ। তিনি এখন শারীরিক কারণে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন না। আমার দুই মেয়ে কলকাতা খুব পছন্দ করেছে। তারা বাইরে যাচ্ছে, রাস্তায় হাঁটছে এবং মার্কেটে যাচ্ছে নিজেরাই। বেশ উপভোগ করছে ওরা।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি ১৯৮৬ সালে ঢাকায় বলেছিলেন, তোমরা চাঁদ দেখতে পাও, কলকাতাবাসী দেখতে পারে না।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> হাহ্ হাহ্ হাঃ হাহ হাঃ। আমার মনে নেই।</p><p><strong>মামুন:</strong> এখন নতুন কিছু বলবেন কলকাতার বর্তমান সম্পর্কে?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমি ভারতের একটা উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখি বিশ্বের পটভূমিতে। ভারত এখন কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থেকেই এগিয়ে যেতে পারছে।</p><p>আমি যখন প্রথম ভারতে এসেছিলাম, তখন ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন, এখন প্রায় এক হাজার মিলিয়ন। এ অঞ্চলের জন্য ভারতের ভূমিকা হওয়া উচিত জাতিসংঘের মতো। এটা আমি আশাও করি। আমাদের মনে রাখতে হবে, বিলি ব্র্যান্ডের মতো রাজনীতিবিদ সারা বিশ্বের কথা ভেবে তার বৈদেশিক নীতির নকশা করতেন। ভারতে গান্ধীকে স্মরণ করা উচিত। এটাও আমি জানি, পশ্চিমবাংলায় গান্ধীর মূল্য কম। এখানে সুভাষচন্দ্র বসু অনেক বড়। গান্ধী ভারতের স্বাধীনতার ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি এখন কী কাজ করেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> অনেক কাজ আমি করি। আমার প্রথম পেশা ছিল ভাস্কর্য করা, গ্রাফিকসের কাজও করেছি। কবিতাও লিখতাম শুরু থেকে এবং সব সময় কবিতার কাছে ফিরে আসতে হয়েছে আমাকে। কারণ, কবিতা এমন একটি শিল্প, যেখানে আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে আবিষ্কার করতে পারি। যখন আমি তিন-চার বছর উপন্যাস লিখেছি, তখন বিষয় পরিবর্তন করে কবিতা লিখতে আরম্ভ করে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি এবং নতুন চিন্তা ও অভিজ্ঞতায় সিক্ত হয়েছি বারবার।</p><p><strong>মামুন:</strong> কবিতা ও উপন্যাস কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমি বলতে পারি না কোনটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু একজন কবি বা লেখক নই। আমি আমার দেশের একজন রাজনীতিসচেতন নাগরিকও। আমার অনেক বক্তব্য, আমার প্রতিবাদ কবিতা ছাড়াও উপন্যাসের মাধ্যমেও উপস্থাপন করি।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার মাই সেঞ্চুরি সম্পর্কে বলুন।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> হোহ্ হোহ্ হাহ্ হাহ্ হা। ১০ কেজি ওজনের বইটি। ‘আমার দেখা এবং আমার জানা ১০০ বছর’ বইটিতে আমার মতো করে বর্ণনা করেছি। অসংখ্য ছবি আছে সেখানে। বইটি আমি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি এখানে। এটা আমার বর্ণনামূলক আত্মজীবনী।</p><p><strong>মামুন:</strong> বইটিতে বাংলাদেশের কথা আছে?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> বাংলাদেশের কথা আছে, ছবি আছে ঢাকার।</p><p><strong>মামুন:</strong> ঢাকার কথা বলুন।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমি নতুন করে আর কী বলব। লিখেছি বাংলাদেশ নিয়ে, সব আছে ‘জুঙ্গে জাইগেন’-এ।</p><p>মামুন : নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে আপনার অনীহা ছিল। ঢাকায় বলেছিলেন, নোবেল নিয়ে আমরা কেন এত মাতামাতি করি!</p><p><strong>গ্রাস:</strong> সময়ে সব বদলে যায়। যদি তুমি সচেতন হও, তোমার দেখা দরকার, কোনো মানুষের বদলে যাওয়া বা আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা মানবজাতি বা ওই ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর বা অকল্যাণকার হচ্ছে কি না, যদি হয় তাহলে বদলে যাওয়ার চক্রটা অন্যায়। আমি এখনো প্রতিবাদ করি, সব সময় করেছি এবং মানুষের পক্ষে কথা বলি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2021-06/4cd1c4c0-c6be-4bcd-95fa-32857d4e400d/Gunter_Gras_52.jpg"><figcaption>১৯৮৬ সালে ঢাকার রাস্তায় গুন্টার গ্রাস ও উটে গ্রাস</figcaption></figure><p><strong>মামুন:</strong> আবার ঢাকায় আসবেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমার বয়স হয়তো আর সমর্থন করবে না স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি এমন কোথাও যেতে। কলকাতায় আসতে ১৮ বছর কেটে গেল। একজন মানুষের জীবনে সবকিছু সফল হয় না।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে এ বইটি (গুন্টার গ্রাসের ঢাকা আবিষ্কার) প্রকাশিত হয়েছে। বইটিতে আপনার একটা অটোগ্রাফ চাচ্ছি।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আগে দেখি কী আছে ওতে। ওয়াও! চমত্কার সব ছবি। বইটির একটি কপি আমাকে দিতেই হবে। এটা আমার চাই। আমার স্ত্রী উটে ছবিগুলো দেখে খুবই খুশি হবেন।</p><p><strong>মামুন:</strong> (বইয়ের পৃষ্ঠা খুলে) এ ছবিটায় আপনি কবি বেলাল চৌধুরীর মেয়ে মৌরীর মুখের ড্রয়িং করছেন। ও তখন ছোট্টটি ছিল। এখন তো বিয়েও হয়ে গেছে।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> একসময় সবার বিয়ে হয়ে যায়।</p><p><strong>মামুন:</strong> এ ছবিতে (তাঁকে দেখিয়ে) বেলাল চৌধুরী, আপনি আর শিল্পী এস এম সুলতান—আমাদের সদরঘাটে তোলা। শিল্পী সুলতান মারা গেছেন। আপনি তার একটি স্কেচ করেছিলেন।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমার মনে পড়ছে তোমার তোলা ছবি দেখে। ঢাকায় গিয়ে বেলালকে আমার শুভেচ্ছা জানাবে। ঢাকার স্মৃতি বেশ মনে আছে উটের। আমার বাড়িতে ঢাকার অনেক আলোকচিত্র আছে। সব সাদা-কালো। উটের ক্যামেরায় তোলা।</p><p><strong>মামুন:</strong> এ ছবিটা (তাঁকে দেখিয়ে) কবি ত্রিদিব দস্তিদার এঁকে আপনাকে দিয়ে স্বাক্ষর করে নিয়েছিল?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ছবিটা আমার আঁকা মনে হচ্ছে।</p><p><strong>মামুন:</strong> না, শুধু স্বাক্ষরটা আপনার। ত্রিদিবও সম্প্রতি মারা গেছেন।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ভেরি স্যাড। আমি শুনেছি, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের স্কুলে আমার পাঠানো অর্থে গোঁড়া ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে ছাত্রদের! তাই গত বছর থেকে আমার নিয়মিত অনুদান বন্ধ করে দিয়েছি।</p><p><strong>মামুন:</strong> কীভাবে খবরটা পেলেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমার কিছু শুভানুধ্যায়ী আমাকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তুমি কিছু জানো?</p><p><strong>মামুন:</strong> আমি যতটুকু জানি, ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে একটি প্রাইমারি স্কুল আছে, সেখানে এ ধরনের কোনো শিক্ষা দেওয়া হয় না।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমাকে তো বিশ্বস্ত লোকেরা বলেছে।</p><p><strong>মামুন:</strong> ঢাকার রিকশার চেহারা আপনার মনে আছে?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ওহ্ আমার ঈশ্বর! অমানবিক কলকাতার টাঙা আর ঢাকার রিকশা একই জিনিস। তোমাদের যানবাহনের চিত্রগুলো আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। উটের ক্যামেরায় ঢাকার রাস্তাঘাটের কিছু আলোকচিত্র আছে, সেখানে বেশির ভাগ যানবাহন রিকশা।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার ‘ওয়ান ন্যাশন টু স্টেটস’ পড়েছি।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> বার্লিন প্রাচীর ভেঙে ফেলা হলেও এখনো অদৃশ্য প্রাচীর রয়ে গেছে। সাবেক পূর্ব জার্মানি এখনো উপেক্ষিত। সেখানে বেকারের সংখ্যা অত্যধিক। তার ফলে বাড়ছে আমাদের করের বোঝা।</p><p><strong>মামুন:</strong> বাংলাদেশে আপনার পাঠক আছে, ভক্ত আছে।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আমাদের সফর ছিল সংক্ষিপ্ত। তারপরও তোমাদের শুভকামনা ও আতিথেয়তার কথা মনে করি। ওই সময় যাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল, তাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাবে। আমি ঢাকার স্মৃতি মনে রেখেছি।</p><p><strong>মামুন:</strong> এখন আপনার শখ কী?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> এই যে পাইপ। এটা আমার শরীরের অংশ হয়ে গেছে। তোমার ছবিতে যে পাইপটি সেটা হারিয়ে গেছে অনেক বছর আগে। তারপর থেকে এটা ব্যবহার করছি।</p><p>সাক্ষাৎকার গ্রহণ: <strong>নাসির আলী মামুন</strong></p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
বিশ্বকাপ–যাত্রায় নামছে বাংলাদেশ
বিশ্বকাপ–যাত্রায় নামছে বাংলাদেশ

সরাসরি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হওয়ার পর এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য বিশ্বকাপের আগে সেরা পাঁচ–ছয়টি দলের মধ্যে থাকা।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সামরিক মনোবিজ্ঞানী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি লাইভ স্ট্রিম বা অনলাইনে প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে, মদিনার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি জোট, অস্বীকার করেছে হুথিরা।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাইমারি স্কুলে ১৬ বছরের কিশোরের গুলি, তিন শিশুসহ নিহত পাঁচ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাইমারি স্কুলে ১৬ বছরের কিশোরের গুলি, তিন শিশুসহ নিহত পাঁচ

ঘটনাস্থল থেকে মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিন শিশু, একজন শিক্ষক এবং সন্দেহভাজন হামলাকারী রয়েছে। হামলাকারী ১৬ বছর বয়সী কিশোর বেন্ড শহরেরই বাসিন্দা।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
পত্রিকা: 'ভোটের আগে ২০৩ এমপির জন্য বিশেষ বরাদ্দ'
পত্রিকা: 'ভোটের আগে ২০৩ এমপির জন্য বিশেষ বরাদ্দ'

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ; দেশে মাধ্যমিকে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষক স্নাতকে অন্য বিষয়ে পড়লেও ক্লাস নিচ্ছেন ইংরেজি ও গণিতে; মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর গুরুত্ব পেয়েছে আজ শুক্রবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশিদের 'টোপ' হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশিদের 'টোপ' হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

"কীভাবে কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যে প্রাণে বেঁচে ফিরছি, সে কথা বলে বোঝানো যাবে না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরে আসা তরুণ রাজন হোসেন।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
অঙ্কিতা ভান্ডারী হত্যা মামলা কী, কেন চার বছর আগের এই ঘটনায় জড়িয়েছিল বিজেপি নেতার নাম?
অঙ্কিতা ভান্ডারী হত্যা মামলা কী, কেন চার বছর আগের এই ঘটনায় জড়িয়েছিল বিজেপি নেতার নাম?

অঙ্কিতা ভান্ডারী হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে দুষ্যন্ত কুমার গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপালের পদে নিয়োগ স্থগিত রাখার দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন অঙ্কিতার বাবা-মা।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
'গরু জবাই' নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যা হচ্ছে
'গরু জবাই' নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যা হচ্ছে

ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দিরের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার শুরু গত ১২ই অক্টোবর। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
শামীমের বিরুদ্ধে করা 'মবে' স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পরিবারের
শামীমের বিরুদ্ধে করা 'মবে' স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পরিবারের

নিহতের পরিবারের দাবি, ‘পরিকল্পিতভাবে’ শামীমকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় 'মব' তৈরির অভিযোগ উঠলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ৩৩ শিশু ও একজন শিক্ষক নিহত
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ৩৩ শিশু ও একজন শিক্ষক নিহত

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
সোনারগাঁয়ে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
সোনারগাঁয়ে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি ভবনে গ্যাসের কম্প্রেসার লাইন বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়ার চারদিন পর স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
চলন্ত কাভার্ডভ্যান থেকে ক্রিকেটারদের লাগেজ চুরি, গ্রেপ্তার ৪
চলন্ত কাভার্ডভ্যান থেকে ক্রিকেটারদের লাগেজ চুরি, গ্রেপ্তার ৪

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিভিশন ক্রিকেট দলের মালামাল চলন্ত কাভার্ডভ্যান থেকে চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু, আজ ষষ্ঠী
শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু, আজ ষষ্ঠী

বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর)। আজ দুর্গাষষ্ঠী।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
মাগুরায় বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ
মাগুরায় বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ

মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি
হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংসদীয় কমিটির তাগিদ
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংসদীয় কমিটির তাগিদ

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগে থাকা ৬ হাজার ৬৫৩টি শূন্য পদ দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটিতে জোর
রপ্তানি বাড়াতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটিতে জোর

বাংলাদেশে চিংড়ি চাষের জমির পরিমাণ ভারতের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। তারপরও আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানিতে প্রতিবেশী দেশটির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬