feature

অ্যামেলিয়া এয়ারহার্টের নিখোঁজ–রহস্য সমাধানে ৮৯ বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে অভিযান

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
অ্যামেলিয়া এয়ারহার্টের নিখোঁজ–রহস্য সমাধানে ৮৯ বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে অভিযান
অ্যামেলিয়া এয়ারহার্টের নিখোঁজ–রহস্য সমাধানে ৮৯ বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে অভিযান
এয়ারহার্টের লক্ষ্য ছিল বিমান চালিয়ে পৃথিবী ঘুরে আসা প্রথম নারী হওয়া। তাঁর লকহিড ১০ই ইলেকট্রা বিমানটি এরই মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিল।

Prothomalo

View more
নামাজ আদায় শেষে রাস্তা পার হচ্ছিলেন, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত
নামাজ আদায় শেষে রাস্তা পার হচ্ছিলেন, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত

মাদারীপুরের শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শহিদুল ইসলাম (৬০) নামের উপজেলা বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে ঢাকায় ২ দিনের মেলা
বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে ঢাকায় ২ দিনের মেলা

মেলায় শিক্ষার্থীরা বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ, আবেদনপ্রক্রিয়া, স্কলারশিপ এবং উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানার সুযোগ পাবেন।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
বিকল্প রুটে সৌদি আরব যাচ্ছেন যাত্রীরা
বিকল্প রুটে সৌদি আরব যাচ্ছেন যাত্রীরা

বিকল্প রুটে সৌদি আরব যাচ্ছেন যাত্রীরা

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ৫, আহত ১৬
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ৫, আহত ১৬

ইয়েমেনি বাহিনীর কমান্ড সেন্টার ও সৌদি জোটের সদর দপ্তর আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন মন্ত্রী।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
নয়াদিল্লিতে সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক ৩২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী
নয়াদিল্লিতে সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক ৩২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী

আজ শুক্রবার এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, রাজধানী নয়াদিল্লির কনট প্লেসে এই কর্মসূচি করার কথা সিজেপির।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার: ‘আমি ঢাকার স্মৃতি মনে রেখেছি’
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার: ‘আমি ঢাকার স্মৃতি মনে রেখেছি’

<p>২০০৫ সালের ১৪ অক্টোবর ‘গুন্টার গ্রাসের সঙ্গে আলাপ: আমি ঢাকার স্মৃতি মনে রেখেছি’ নাসির আলী মামুনের নেওয়া এ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায়। আজ গুন্টার গ্রাসের জন্মদিনে সাক্ষাৎকারটি অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।</p><p><strong>নাসির আলী মামুন :</strong> মিস্টার গ্রাস, আপনি ১৮ বছর আগে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। আমাদের প্রত্যাশা ছিল আপনি আবারও ঢাকা ঘুরে যাবেন।</p><p><strong>গুন্টার</strong> <strong>গ্রাস:</strong> ১৮ বছর আগে আমার বয়স আরও কম ছিল। এখন (২০০৫) আমি ৭৮ বছরের বৃদ্ধ। আমার হাতে সময় মাত্র ১০ দিন। এ সময়টাতে আমি কলকাতার প্রতি নিবিড় হতে চাই; কিন্তু আমি বাংলাদেশকে ভুলে যাইনি।</p><p><strong>মামুন:</strong> ধন্যবাদ আপনাকে। দীর্ঘদিন পর আবার কলকাতা কেমন লাগছে?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> এটা অনেকটা আমার কাছে ঘরে ফেরার মতো। কলকাতা আমার দ্বিতীয় আবাস। প্রথমে আধঘণ্টা রাস্তায় হাঁটা খুব কঠিন কাজ; কিন্তু কিছুক্ষণ পর আমি কলকাতার একজন হয়ে যাই। ভুলে যাই আমি অন্য কোনো দেশের। এই সফর আমার জন্য আনন্দের।</p><p><strong>মামুন:</strong> ১৯৮৬ সালের কলকাতা আর ২০০৫ সালের কলকাতার পার্থক্যগুলো কী কী?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ১৮ বছর আগেও কলকাতায় বেশ ভিড় দেখেছিলাম। এখন সেটি আরও তীব্র হয়েছে বুঝতে পারছি। যদিও এখন আমি সারাক্ষণ গাড়িতে চড়ছি। আগের মতো আমি হেঁটে চলছি না। আগের সফরটি ছিল বেশ কঠিন। আমার জন্য একটা নতুন শহর, যেখানে জীবন ও মৃত্যুর সহাবস্থান। তবু এ শহরকে আমি নিজের মতো করে মনে করতে পেরেছি।</p><p>এবার আমি অনেকটা সম্মানজনক অবস্থায় আছি। দরকার হলে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্যকারী জুটে যাচ্ছে। আগের মতো কোথাও হেঁটে যেতে পারছি না। আমি এখন পুরোপুরি বৃদ্ধ। নিয়তির হাতে অনেক আগেই নিজেকে সমর্পণ করেছি। গতবার কলকাতায় অনেকবার গরুর পালের রাস্তা পারাপার দেখেছি। গরু রাস্তা পার হওয়ার সময় কেউ তাদের স্পর্শ করতে পারছে না। গরু নিজেদের নিয়মেই রাস্তা পার হচ্ছে। এটা বেশ উপভোগ্য ছিল আমার কাছে। এখন শহরটি আরও বড় হচ্ছে এবং পরিবর্তিত হচ্ছে। আমি এখনো কলকাতাকে মান্য করি।</p><p><strong>মামুন:</strong> কলকাতা কখন আপনার প্রিয় শহর হলো?</p><p><strong>গ্রাস :</strong> সে অনেক কথা। ১৯৭৫ সালে আমি প্রথম কলকাতায় আসি। একটি প্রতিনিধিদলে থাকায় আমাকে অন্যদের সঙ্গে ব্যস্ত থাকতে হয়। ইচ্ছা থাকলেও বিশেষ কোথাও যেতে পারিনি। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমার স্ত্রীকে নিয়ে আবার এখানে আসব।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2014/12/26/b28ab878fe44bec818ca80cb7ea1a02d-17.jpg"><figcaption>স্ত্রী উটে গ্রাসের সঙ্গে জয়নুল আবেদিনের চিত্রকলা দেখছেন গুন্টার গ্রাস। জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা ১৯৮৬</figcaption></figure><p><strong>মামুন:</strong> ১৯৮৬ সালে এলেন...</p><p><strong>গ্রাস:</strong> হ্যাঁ, এক বছর থাকব ভেবেছিলাম; কিন্তু পাঁচ মাস থাকার পর আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। কলকাতার পানি তার সহ্য হচ্ছিল না। আমাদের সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে যেতে হলো। সে সময় কলকাতা বেশ ঘুরে বেড়ালাম। আমার মনে গেঁথে গেল শহরের জীবনযাত্রা ও মানুষেরা।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার বই ‘জুঙ্গে জাইগেন’ (জিভ কাটো লজ্জায়) পড়েছি। বইটিতে অনেক স্কেচ আছে। আপনার দৃষ্টিতে ঢাকা ও কলকাতার বর্ণনা আছে।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমি একজন লেখক এবং ব্যাকুল দর্শক। কলকাতায় বসেই আমার বইটির স্কেচগুলো এঁকেছি। প্রতিদিন বাইরে থেকে ঘুরে এসে লিখতে বসেছি। জার্মানি গিয়ে শুধু সম্পাদনা করেছি মাত্র। নতুন কোনো গদ্য সংযোজন করিনি।</p><p><strong>মামুন:</strong> এটি কি ভ্রমণকাহিনি?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> বর্ণনামূলক কাহিনি, অনেকটা আত্মজীবনীর মতো রিপোর্টিং। ভ্রমণকাহিনি আমি লিখতে চাইনি।</p><p><strong>মামুন:</strong> বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর ভারতে, বিশেষ করে কলকাতায় আপনার বিরুদ্ধে কথা হয়েছে। বলা হয়েছে আপনি কলকাতাকে বুঝতে পারেননি।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> বইটি না পড়েও অনেকে আমার সমালোচনা করেছেন; আর যাঁরা পাঠ করে আমাকে নিন্দা করেছেন, তাঁরা বুঝতে পারেননি। আমি কলকাতার সমাজজীবন বা ইতিহাস লিখিনি। আমার ব্যক্তিগত প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছি মাত্র।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি কলকাতাকে ‘ঈশ্বরের বিষ্ঠা’ বলেছেন!</p><p><strong>গ্রাস:</strong> বলেছি। এটা এমন নয় যে এ কারণে কলকাতাকে আমি ত্যাগ করব। তা-ই যদি হতো তাহলে ১৮ বছর পর এই বুড়ো বয়সে আবার ফিরে আসতাম না। কলকাতা নিয়ে আমি যা লিখেছি, সেগুলো আমার চোখে দেখা। কলকাতার অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে আমি আমার বক্তব্য লিখতে পেরেছি এবং সত্য কথা লেখার জন্য আমি আনন্দিত। এটা কারও মনঃকষ্টের কারণ হতে পারে। শুনেছি, সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন এবং কয়েকজন বুদ্ধিজীবী আমার কট্টর সমালোচনা করেছেন। আবার কলকাতার অনেকে আমাকে বলেছেন, আমার বইটি পাঠ করে তাঁরা তৃপ্ত। তাঁরা সত্যিকারের কলকাতাকে দেখতে পেয়েছেন আমার লেখায়।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি নেতাজিকে নাকচ করেছেন।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমার মাথায় আসে না, কীভাবে এ লোকটি বাঙালিদের নায়ক হয়ে রইলেন। তিনি ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের তাড়ানোর জন্য জার্মানিতে গিয়েছিলেন হিটলারের সঙ্গে সন্ধি করতে। তোমাদের কি মনে হয়, হিটলার এসে ভারতকে ব্রিটিশদের কবল থেকে মুক্ত করে দিত? হিটলার ছিলেন একনায়ক ও স্বৈরাচার। তাঁকে বন্ধু ভাবা সুভাষচন্দ্রের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি বিস্মিত হই, এখনো পশ্চিমবাংলায় সুভাষচন্দ্র কিংবদন্তি হয়ে আছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2018/04/08/83884df10e64ae9e4468612b6b51f242-5aca56924840f.jpg"><figcaption>গুন্টার গ্রাস</figcaption></figure><p><strong>মামুন:</strong> আপনি কি মনে করেন নেতাজি সম্পর্কে আপনার মন্তব্যে কলকাতাবাসী ক্ষুব্ধ?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ঈশ্বর জানেন, আমি জানি না। কলকাতায় একটা ব্যাপার লক্ষ৵ করেছি, গান্ধীর চেয়ে সুভাষচন্দ্র বসুকে বড় করে দেখা হয়। গান্ধী অনেক উদার এবং বুদ্ধিমান ছিলেন। সুভাষচন্দ্র ছিলেন চরমপন্থী। তাঁর মধ্যে প্রজ্ঞার ঘাটতি ছিল।</p><p><strong>মামুন:</strong> তিনি কৌশলী ছিলেন না?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> একদম না। দয়া করে এ ব্যাপারে আর কোনো প্রশ্ন কোরো না।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি আর কত দিন কলকাতায় থাকবেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ২ তারিখে (ফেব্রুয়ারি) আমি ফিরে যাব জার্মানি। আমার এক মেয়ে কিছুদিন থেকে যাবে কলকাতায়।</p><p><strong>মামুন:</strong> তিনি কী করবেন এখানে?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> সে ড্যান্সার। এখান থেকে কিছু শিখতে চায়।</p><p><strong>মামুন:</strong> এবার আপনার সঙ্গে আপনার দুই মেয়ে আছেন। আপনার স্ত্রী এলেন না কেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমার স্ত্রী অসুস্থ। তিনি এখন শারীরিক কারণে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন না। আমার দুই মেয়ে কলকাতা খুব পছন্দ করেছে। তারা বাইরে যাচ্ছে, রাস্তায় হাঁটছে এবং মার্কেটে যাচ্ছে নিজেরাই। বেশ উপভোগ করছে ওরা।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি ১৯৮৬ সালে ঢাকায় বলেছিলেন, তোমরা চাঁদ দেখতে পাও, কলকাতাবাসী দেখতে পারে না।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> হাহ্ হাহ্ হাঃ হাহ হাঃ। আমার মনে নেই।</p><p><strong>মামুন:</strong> এখন নতুন কিছু বলবেন কলকাতার বর্তমান সম্পর্কে?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমি ভারতের একটা উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখি বিশ্বের পটভূমিতে। ভারত এখন কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থেকেই এগিয়ে যেতে পারছে।</p><p>আমি যখন প্রথম ভারতে এসেছিলাম, তখন ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন, এখন প্রায় এক হাজার মিলিয়ন। এ অঞ্চলের জন্য ভারতের ভূমিকা হওয়া উচিত জাতিসংঘের মতো। এটা আমি আশাও করি। আমাদের মনে রাখতে হবে, বিলি ব্র্যান্ডের মতো রাজনীতিবিদ সারা বিশ্বের কথা ভেবে তার বৈদেশিক নীতির নকশা করতেন। ভারতে গান্ধীকে স্মরণ করা উচিত। এটাও আমি জানি, পশ্চিমবাংলায় গান্ধীর মূল্য কম। এখানে সুভাষচন্দ্র বসু অনেক বড়। গান্ধী ভারতের স্বাধীনতার ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি এখন কী কাজ করেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> অনেক কাজ আমি করি। আমার প্রথম পেশা ছিল ভাস্কর্য করা, গ্রাফিকসের কাজও করেছি। কবিতাও লিখতাম শুরু থেকে এবং সব সময় কবিতার কাছে ফিরে আসতে হয়েছে আমাকে। কারণ, কবিতা এমন একটি শিল্প, যেখানে আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে আবিষ্কার করতে পারি। যখন আমি তিন-চার বছর উপন্যাস লিখেছি, তখন বিষয় পরিবর্তন করে কবিতা লিখতে আরম্ভ করে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি এবং নতুন চিন্তা ও অভিজ্ঞতায় সিক্ত হয়েছি বারবার।</p><p><strong>মামুন:</strong> কবিতা ও উপন্যাস কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমি বলতে পারি না কোনটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু একজন কবি বা লেখক নই। আমি আমার দেশের একজন রাজনীতিসচেতন নাগরিকও। আমার অনেক বক্তব্য, আমার প্রতিবাদ কবিতা ছাড়াও উপন্যাসের মাধ্যমেও উপস্থাপন করি।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার মাই সেঞ্চুরি সম্পর্কে বলুন।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> হোহ্ হোহ্ হাহ্ হাহ্ হা। ১০ কেজি ওজনের বইটি। ‘আমার দেখা এবং আমার জানা ১০০ বছর’ বইটিতে আমার মতো করে বর্ণনা করেছি। অসংখ্য ছবি আছে সেখানে। বইটি আমি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি এখানে। এটা আমার বর্ণনামূলক আত্মজীবনী।</p><p><strong>মামুন:</strong> বইটিতে বাংলাদেশের কথা আছে?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> বাংলাদেশের কথা আছে, ছবি আছে ঢাকার।</p><p><strong>মামুন:</strong> ঢাকার কথা বলুন।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমি নতুন করে আর কী বলব। লিখেছি বাংলাদেশ নিয়ে, সব আছে ‘জুঙ্গে জাইগেন’-এ।</p><p>মামুন : নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে আপনার অনীহা ছিল। ঢাকায় বলেছিলেন, নোবেল নিয়ে আমরা কেন এত মাতামাতি করি!</p><p><strong>গ্রাস:</strong> সময়ে সব বদলে যায়। যদি তুমি সচেতন হও, তোমার দেখা দরকার, কোনো মানুষের বদলে যাওয়া বা আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা মানবজাতি বা ওই ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর বা অকল্যাণকার হচ্ছে কি না, যদি হয় তাহলে বদলে যাওয়ার চক্রটা অন্যায়। আমি এখনো প্রতিবাদ করি, সব সময় করেছি এবং মানুষের পক্ষে কথা বলি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2021-06/4cd1c4c0-c6be-4bcd-95fa-32857d4e400d/Gunter_Gras_52.jpg"><figcaption>১৯৮৬ সালে ঢাকার রাস্তায় গুন্টার গ্রাস ও উটে গ্রাস</figcaption></figure><p><strong>মামুন:</strong> আবার ঢাকায় আসবেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমার বয়স হয়তো আর সমর্থন করবে না স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি এমন কোথাও যেতে। কলকাতায় আসতে ১৮ বছর কেটে গেল। একজন মানুষের জীবনে সবকিছু সফল হয় না।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে এ বইটি (গুন্টার গ্রাসের ঢাকা আবিষ্কার) প্রকাশিত হয়েছে। বইটিতে আপনার একটা অটোগ্রাফ চাচ্ছি।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আগে দেখি কী আছে ওতে। ওয়াও! চমত্কার সব ছবি। বইটির একটি কপি আমাকে দিতেই হবে। এটা আমার চাই। আমার স্ত্রী উটে ছবিগুলো দেখে খুবই খুশি হবেন।</p><p><strong>মামুন:</strong> (বইয়ের পৃষ্ঠা খুলে) এ ছবিটায় আপনি কবি বেলাল চৌধুরীর মেয়ে মৌরীর মুখের ড্রয়িং করছেন। ও তখন ছোট্টটি ছিল। এখন তো বিয়েও হয়ে গেছে।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> একসময় সবার বিয়ে হয়ে যায়।</p><p><strong>মামুন:</strong> এ ছবিতে (তাঁকে দেখিয়ে) বেলাল চৌধুরী, আপনি আর শিল্পী এস এম সুলতান—আমাদের সদরঘাটে তোলা। শিল্পী সুলতান মারা গেছেন। আপনি তার একটি স্কেচ করেছিলেন।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমার মনে পড়ছে তোমার তোলা ছবি দেখে। ঢাকায় গিয়ে বেলালকে আমার শুভেচ্ছা জানাবে। ঢাকার স্মৃতি বেশ মনে আছে উটের। আমার বাড়িতে ঢাকার অনেক আলোকচিত্র আছে। সব সাদা-কালো। উটের ক্যামেরায় তোলা।</p><p><strong>মামুন:</strong> এ ছবিটা (তাঁকে দেখিয়ে) কবি ত্রিদিব দস্তিদার এঁকে আপনাকে দিয়ে স্বাক্ষর করে নিয়েছিল?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ছবিটা আমার আঁকা মনে হচ্ছে।</p><p><strong>মামুন:</strong> না, শুধু স্বাক্ষরটা আপনার। ত্রিদিবও সম্প্রতি মারা গেছেন।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ভেরি স্যাড। আমি শুনেছি, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের স্কুলে আমার পাঠানো অর্থে গোঁড়া ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে ছাত্রদের! তাই গত বছর থেকে আমার নিয়মিত অনুদান বন্ধ করে দিয়েছি।</p><p><strong>মামুন:</strong> কীভাবে খবরটা পেলেন?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমার কিছু শুভানুধ্যায়ী আমাকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তুমি কিছু জানো?</p><p><strong>মামুন:</strong> আমি যতটুকু জানি, ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে একটি প্রাইমারি স্কুল আছে, সেখানে এ ধরনের কোনো শিক্ষা দেওয়া হয় না।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> আমাকে তো বিশ্বস্ত লোকেরা বলেছে।</p><p><strong>মামুন:</strong> ঢাকার রিকশার চেহারা আপনার মনে আছে?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ওহ্ আমার ঈশ্বর! অমানবিক কলকাতার টাঙা আর ঢাকার রিকশা একই জিনিস। তোমাদের যানবাহনের চিত্রগুলো আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। উটের ক্যামেরায় ঢাকার রাস্তাঘাটের কিছু আলোকচিত্র আছে, সেখানে বেশির ভাগ যানবাহন রিকশা।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার ‘ওয়ান ন্যাশন টু স্টেটস’ পড়েছি।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> বার্লিন প্রাচীর ভেঙে ফেলা হলেও এখনো অদৃশ্য প্রাচীর রয়ে গেছে। সাবেক পূর্ব জার্মানি এখনো উপেক্ষিত। সেখানে বেকারের সংখ্যা অত্যধিক। তার ফলে বাড়ছে আমাদের করের বোঝা।</p><p><strong>মামুন:</strong> বাংলাদেশে আপনার পাঠক আছে, ভক্ত আছে।</p><p><strong>গ্রাস:</strong> ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আমাদের সফর ছিল সংক্ষিপ্ত। তারপরও তোমাদের শুভকামনা ও আতিথেয়তার কথা মনে করি। ওই সময় যাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল, তাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাবে। আমি ঢাকার স্মৃতি মনে রেখেছি।</p><p><strong>মামুন:</strong> এখন আপনার শখ কী?</p><p><strong>গ্রাস:</strong> এই যে পাইপ। এটা আমার শরীরের অংশ হয়ে গেছে। তোমার ছবিতে যে পাইপটি সেটা হারিয়ে গেছে অনেক বছর আগে। তারপর থেকে এটা ব্যবহার করছি।</p><p>সাক্ষাৎকার গ্রহণ: <strong>নাসির আলী মামুন</strong></p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
বিশ্বকাপ–যাত্রায় নামছে বাংলাদেশ
বিশ্বকাপ–যাত্রায় নামছে বাংলাদেশ

সরাসরি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হওয়ার পর এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য বিশ্বকাপের আগে সেরা পাঁচ–ছয়টি দলের মধ্যে থাকা।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
জালঘেরা পুকুরে বকের মাছ শিকার
জালঘেরা পুকুরে বকের মাছ শিকার

<p>গ্রামের পিচঢালা পথের পাশের মাছ চাষের পুকুরটি জাল দিয়ে ঘেরা। তবু ফাঁক গলে ঢুকে পড়ে বক। পানিতে চোখ রেখে মাছ শিকারের অপেক্ষায় থাকে বক পাখিটি। কখনো শিকার ধরে, কখনো ব্যর্থ হয়। গত বুধবার বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার দামারপুকুরে ছবিগুলো তোলা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/x4h0qs9k/1.-Bogra-heron-fishing-bird-nature16102026.jpg"><figcaption>মাছ শিকারের আশায় পানিতে নেমেছে একটি বক</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/0xi8er77/2.-Bogra-heron-fishing-bird-nature16102026.jpg"><figcaption>ঠোঁটে ধরা পড়েছে একটি পাবদা মাছ</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/gau3d9v2/3.-Bogra-heron-fishing-bird-nature16102026.jpg"><figcaption>বড়সড় একটি পাবদা মাছ শিকার করেছে বকটি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/9mdk0555/4.-Bogra-heron-fishing-bird-nature16102026.jpg"><figcaption>পানিতে ঠোঁট ডুবিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছে বক</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/tggkc09t/5.-Bogra-heron-fishing-bird-nature16102026.jpg"><figcaption>জালের ভেতরে চুপিসারে বসে শিকারের অপেক্ষায় বক</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/lctkggmh/6.-Bogra-heron-fishing-bird-nature16102026.jpg"><figcaption>পানির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বকটির</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/j8yuwzhm/7.-Bogra-heron-fishing-bird-nature16102026.jpg"><figcaption>পুকুরের জালের ওপর বসে আছে বক</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/xfg886sz/8.-Bogra-heron-fishing-bird-nature16102026.jpg"><figcaption>জালের সুতা ধরে সাবধানে এগিয়ে চলছে বক</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/o5fek7ja/9.-Bogra-heron-fishing-bird-nature16102026.jpg"><figcaption>পানিতে ঠোঁট ডুবিয়ে শিকার ধরার চেষ্টা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/388lvfe8/10.-Bogra-heron-fishing-bird-nature16102026.jpg"><figcaption>মাছ ধরার অপেক্ষায় বকের দল </figcaption></figure>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
রাঙামাটিতে পড়ে আছে ফল প্রক্রিয়াজাতের যন্ত্রপাতি, নষ্ট হচ্ছে আনারস
রাঙামাটিতে পড়ে আছে ফল প্রক্রিয়াজাতের যন্ত্রপাতি, নষ্ট হচ্ছে আনারস

রাঙামাটিতে পড়ে আছে ফল প্রক্রিয়াজাতের যন্ত্রপাতি, নষ্ট হচ্ছে আনারস

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন