<p>ভূমির নামজারি প্রক্রিয়া পুরোপুরি অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয়) আওতায় আনা এবং ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সুপারিশ করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সাবরেজিস্ট্রারদের দৌরাত্ম্য রোধ এবং হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সুপারিশ করা হয়েছে।</p><p>রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে ভূমি মন্ত্রণালয়কে এই সুপারিশ করা হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমানে জমি নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশনের কাজটি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে হয়ে থাকে।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈষম্য, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দূর করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব ভূমিসেবা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। এ জন্য ভূমিসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, নামজারি প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা এবং সাবরেজিস্ট্রারদের দৌরাত্ম্য রোধে ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।</p><p>জেলাওয়ারি অর্পিত সম্পত্তির পরিমাণ ও সম্ভাব্য মৌজা মূল্য নির্ধারণ এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও সুপারিশ করেছে কমিটি।</p><p>উপজেলা ও পৌর এলাকা এবং সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ভূমির প্রকৃত বাজারমূল্য নির্ধারণ, স্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তর মূল্য বাজারদরের সঙ্গে যৌক্তিকীকরণসহ জমি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিভিন্ন ফি ও গেইন ট্যাক্স যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার সুপারিশ করেছে কমিটি।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ, এসি ল্যান্ড, এলএ শাখা ও কানুনগো অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধ এবং দালালমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বৈঠকে।</p><p>একই জমির দলিল জামানত হিসেবে ব্যবহার করে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মতো অনিয়ম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে কমিটি। বিদ্যমান প্রচলিত পদ্ধতির ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার সুপারিশও করা হয়।</p><p>কমিটির সভাপতি নাসের রহমানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে কমিটির সদস্য ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, জয়নাল আবদিন, সুলতানা আহমেদ, মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল ও মুহাম্মদুল্লাহ অংশ নেন।</p>
<p>জার্মানির মুসলিম অভিবাসীদেরকেও দেশটিতে হওয়া হলোকাস্ট বা ইহুদি গণহত্যার ঐতিহাসিক দায়দায়িত্ব স্বীকার করতে হবে। এই দায়িত্ব যাঁরা স্বীকার করবেন না, তাঁদের জার্মানি ছেড়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।</p><p>জার্মানির রাজধানী বার্লিনে গত শুক্রবার ইহুদি ক্রীড়াবিদদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মের্ৎস এ কথা বলেন। জার্মান প্রেস এজেন্সি (ডিপিএ) সূত্রে এ খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বার্লিনার জাইটুং। বার্লিনে চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে ২০২৬ সালের ‘মাকাবিয়া’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের সম্মানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইসরায়েলে প্রতি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় ইহুদিদের এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এটি ‘ইহুদি অলিম্পিক’ নামেও পরিচিত।</p><p>অনুষ্ঠানে একজন বাস্কেটবল প্রশিক্ষক মের্ৎসকে বলেন, তাঁর দলের ইহুদি ক্রীড়াবিদেরা জার্মানির রাস্তায় ডেভিডের তারকা চিহ্নসংবলিত লাল মাকাবি ট্রেনিং জ্যাকেট পরে বের হতে ভয় পান। কারণ, এ কারণে তাঁদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-08/hutldevs/talks-with-athletes.jpg"><figcaption>মাকাবিয়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পদকজয়ীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস (মাঝে)। জার্মানির বার্লিনে চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে। ৬ নভেম্বর ২০২৬ </figcaption></figure><p>এর জবাবে মের্ৎস জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রপতি রিশার্ড ফন ভাইৎসেকারের ১৯৮৫ সালে দেশটির সংসদে দেওয়া একটি ঐতিহাসিক ভাষণের প্রসঙ্গ তোলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া ওই ভাষণে নাৎসি বাহিনীর অপরাধ এবং লাখ লাখ ইহুদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায় ও দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন ভাইৎসেকার।</p><p>১৯৮৫ সালের ৮ মে দেওয়া ওই ভাষণে ভাইৎসেকার বলেছিলেন, ‘অতীতে যা ঘটেছিল, তার জন্য তরুণেরা দায়ী নয়; কিন্তু ইতিহাসে সেই ঘটনার পরিণতি কী হবে, তার জন্য তারা দায়ী।’</p><p>মের্ৎস বলেন, ভাইৎসেকারের এই কথাগুলো তাঁর কাছে পাথরে খোদাই করা সত্যের মতো অটল। এই দায়িত্ব জার্মানির সমগ্র সমাজের জন্য প্রযোজ্য। বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামি দেশগুলো থেকে যাঁরা জার্মানিতে আসেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও আমাদের দেশের এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব ঠিক একইভাবে প্রযোজ্য। আর কেউ যদি এই দায়িত্ব মেনে না চলেন, তাহলে তাঁকে আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।’</p><p>মুসলিম অভিবাসীদের একাংশের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের প্রসঙ্গেই মের্ৎস এ মন্তব্য করেন।</p>
<p> ইউনাইটেড ০-২ অ্যাস্টন ভিলা (৪ মিনিট)<br> ইউনাইটেড ২-২ অ্যাস্টন ভিলা (৪৪ মিনিট)<br> ইউনাইটেড ২-৪ অ্যাস্টন ভিলা (৫৩ মিনিট)<br> ইউনাইটেড ৪-৪ অ্যাস্টন ভিলা (ফুল টাইম)</p><p> কী অবিশ্বাস্য এক ম্যাচই না হলো ওল্ড ট্রাফোর্ডে। ৮ গোলের রোমাঞ্চের যে ম্যাচে যোগ করা সময়ে ২ গোল করে হার এড়িয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইয়োশুয়া জির্কজি ও প্যাট্রিক ডোরগুর গোলে ২-৪ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও অ্যাস্টন ভিলাকে জিততে দেয়নি ইউনাইটেড। তবে এমন নাটকীয় জয়ও মুখে হাসি ফোটাতে পারেনি দলটির কোচ মাইকেল ক্যারিকের মুখে। দল যে পড়ে আছে পয়েন্ট তালিকার ১৮ নম্বরে, অবনমন অঞ্চলে।</p> <p>ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপরে এখনো ঝুলছে বরখাস্তের খাঁড়া। আরেকটি হার হয়তো আন্তর্জাতিক বিরতির আগেই তাঁর বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিত। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের ছয় মিনিটে ইয়োশুয়া জির্কজি ও প্যাট্রিক ডোরগুর দুই গোলে কোনো রকমে সমতায় ফিরে বেঁচে গেছে ইউনাইটেড। তবে কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।</p><p>অবনমন অঞ্চলে থাকা ইউনাইটেড ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শেষ আট ম্যাচে জয়হীন। ফলে ক্যারিক শেষ পর্যন্ত চাকরি বাঁচাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে চেলসির কাছে হারের পরও ইউনাইটেড পরিচালনা পর্ষদ তাঁর ওপর আস্থা রাখায় আপাতত কিছুটা সময় পেয়েছিলেন তিনি। মাঝে মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও রোমাকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ৯ ম্যাচের জয়খরা কাটিয়েছিল দলটি।</p><p>তবে চলতি মৌসুমে ১৫ ম্যাচে মাত্র তিন জয় পাওয়া ইউনাইটেড ঘরের মাঠে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই ফের বিপর্যয়ে পড়ে। প্রথম চার মিনিটের মধ্যেই দুই গোল হজম করে বসে তারা। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই অ্যালিসনের শট ইউনাইটেড গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্সের হাত গলে জালে জড়ায়। তিন মিনিট পর ল্যামেন্সের দুর্বল সেভে পাওয়া ফিরতি বল সহজে জালে ঠেলে দিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন নিকলাস জ্যাকসন।</p><p>১৬ মিনিটে বক্সে মাতেউস কুনিয়াকে বুবাকার কামারা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইউনাইটেড। স্পটকিকে ব্যবধান কমান অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ। আর ৪৪ মিনিটে ভিলার সাবেক মিডফিল্ডার ইউরি টিলেমান্সের জোরালো শট সমতায় ফেরায় রেড ডেভিলদের।</p><p>বিরতির পরপরই ৪৮ মিনিটে দিয়োগো দালোত বক্সে অ্যালিসনকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ভিলা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে ফের এগিয়ে নেন জন ম্যাকগিন। ৫৩ মিনিটে ইউনাইটেড ডিফেন্ডার লেনি ইয়োরোর গায়ে লেগে বল ক্রসবারে আঘাত করার পর কাছ থেকে ভিলার চতুর্থ গোলটি করেন লিওন গোরেৎসকা।</p><p>৪-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে হার যখন প্রায় নিশ্চিত, তখনই ইনজুরি টাইমে রোমাঞ্চের শুরু। যোগ করা সময়ে জির্কজির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে আশা জাগে ইউনাইটেডের। আর শেষ মুহূর্তে ভিলা গোলরক্ষক জায়ন সুজুকির দুর্বল পাঞ্চের সুযোগ নিয়ে হেড থেকে নাটকীয় সমতা ফেরান ডোরগু।</p><h3>লিভারপুলের জয়, চেলসির হার </h3><p>এদিকে সান্ডারল্যান্ডের মাঠ স্টেডিয়াম অব লাইটে বড় ধাক্কা খেয়েছে চেলসি। শীর্ষ চারে থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও টেবিলের তলানির দল সান্ডারল্যান্ডের কাছে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ব্লুজদের। পুরো মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো জয়ের মুখ দেখল সান্ডারল্যান্ড। রিয়েল মাদ্রিদের সাবেক বস চাবি আলোনসোর অধীনে প্রিমিয়ার লিগে ১০ ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই হারল পাঁচ নম্বরে থাকা চেলসি।</p><p>অন্যদিকে, তলানির দল ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে স্বস্তির জয় পেয়েছে লিভারপুল। ক্রিস্টাল প্যালেসের আতিথ্য নেওয়ার আগে আর্সেনাল ও ফেনেরবাচের কাছে হেরেছিল অলরেডরা।</p><p>মৌসুমের দুর্দান্ত সূচনা অব্যাহত রেখে ব্রাইটন নিজেদের মাঠে ব্রেন্টফোর্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে।</p>
<p>পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত ট্রাইব্যুনাল থেকে আরও এক বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন। এ নিয়ে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল থেকে মোট চারজন বিচারপতি পদত্যাগ করলেন।</p><p>সর্বশেষ পদত্যাগ করা বিচারপতির নাম বিশ্বজিৎ বসু। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।</p><p>পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য এমন ১৯টি এসআইআর ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় অন্তত ৩০ লাখ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।</p><p>এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় একই প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।</p><p><strong>মুর্শিদাবাদে আপিল নিষ্পত্তি থমকে</strong></p><p>নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু ও ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে মুর্শিদাবাদ জেলার আপিল মামলাগুলো নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।</p><p>দৈনিক প্রায় ২২ কিলোমিটার যাতায়াতের ঝক্কি এবং বিপুল মামলার চাপের কথা উল্লেখ করে আগেই পদত্যাগ করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ধারণা ছিল, এটি দুই থেকে তিন মাসের একটি সাময়িক ব্যবস্থা হবে। কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। অপর দুই বিচারপতিও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।</p><p>পরপর দুজন বিচারপতির পদত্যাগে মুর্শিদাবাদে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের আপিল নিষ্পত্তির কাজ পুরোপুরি থমকে গেছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত মার্চে নির্বাচন কমিশন ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। বর্তমানে বাদ পড়া প্রায় ২২ লাখ ভোটারের আপিল শুনানি চলছে। তবে একের পর এক বিচারপতির পদত্যাগে এই লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে।</p><p>সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে লাখ লাখ মামলার নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত কঠিন বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন বিচারপতি বসু। তিনি ট্রাইব্যুনালগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছিলেন। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাতায়াত, কমিশনের পোর্টালে প্রযুক্তিগত ত্রুটিসহ নানা জটিলতায় ট্রাইব্যুনালগুলোতে মামলার জট দিন দিন মারাত্মক রূপ নিচ্ছে।</p>
<p>জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বিদেশি আইনজীবী ‘অবজারভার’ (পর্যবেক্ষক) হিসেবে নিয়োগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তিনি বলেছেন, ‘অবজারভার’ হিসেবে বিদেশি আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে থাকতে পারবেন এবং বিচারকাজ পরিচালনায় তাঁর আইনজীবীকে সহযোগিতা করতে পারবেন।</p><p> ট্রাইব্যুনালে আজ রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তবে আসামিপক্ষ জানিয়েছে তারা ‘অবজারভার’ চায় না, বিদেশি আইনজীবী সরাসরি নিয়োগ দিতে চায়।</p><p>এর আগে আজ ট্রাইব্যুনালে কথা বলেছেন আসামি সালমান এফ রহমান। তিনি ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন। সালমান এফ রহমান বলেন, তিনি ন্যায়বিচার চান। বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিতে তিনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে তিনি বার কাউন্সিলে আবেদন করেন। তাঁর বিদেশি আইনজীবীও বার কাউন্সিলে এ বিষয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু বার কাউন্সিল এখনো তাঁদের এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে খবরের মাধ্যমে জেনেছেন, বার কাউন্সিল তাঁর বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। যদিও অবজারভার আনা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p>আইনের বিষয় উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান বলেন, আইনে যুক্তিসংগত কোনো কারণ ছাড়া বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি আটকে না রাখতে বলা হয়েছে। অথচ বার কাউন্সিল বিদেশি আইনজীবী না দেওয়ার কারণই তাঁদের জানায়নি। সেটা জানালে ট্রাইব্যুনাল দেখবে যে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ না দেওয়ার যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা যুক্তিসংগত কি না।</p><p>সালমান এফ রহমান আরও বলেন, প্রসিকিউশন বলছে, তাঁর মামলার বিচার প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাঁরা আগেই বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেছেন। সামনে যুক্তিতর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের উদ্দেশ্য ছিল আসামিকে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া। যুক্তিতর্কের সময় তিনি বিদেশি আইনজীবী চান।</p><p>এরপর ট্রাইব্যুনালে কথা বলেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইনে উল্লেখ আছে আসামি বার কাউন্সিলের অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারবেন। আর লিখিত আবেদনে সালমান এফ রহমান তাঁর পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের নেই।</p><p>তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, আইনে যদি উল্লেখ না থাকত, তখন তাঁরা বিষয়টি (বার কাউন্সিলের অনুমতি নিয়ে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ) বিবেচনা করতে পারতেন। আইনে বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় এমন নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার তাঁদের নেই। তবে সালমান এফ রহমানের বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি বার কাউন্সিল নিষ্পত্তি করেছে কি না, করলে কী করেছে—তাঁরা (ট্রাইব্যুনাল) এ বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারেন। তখন বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে আপিল করার সুযোগ থাকবে।</p><p>পরে সাংবাদিকদের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, তাঁরা বলেছেন, বিদেশি আইনজীবী ট্রাইব্যুনালের ডায়াসে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারবেন কি না, সে ব্যাপারে আইনে অনুমতির প্রয়োজন আছে। কিন্তু একজন আইনজীবীকে সহযোগিতা (অ্যাসিস্ট) করার জন্য, মামলা রেডি (প্রস্তুত) করে দেওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তিরই অনুমতির দরকার নেই। তাঁরা যদি সত্যি বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করতে চান, তাহলে অবজারভার হিসেবে আনতে পারেন। অবজারভার হিসেবে তাঁদের আইনজীবীদের অ্যাসিস্ট (সহযোগিতা) করবেন, তাঁরা (আসামিপক্ষের বাংলাদেশি আইনজীবী) সাক্ষীকে প্রশ্ন করবেন।</p>
<p>ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি বড় অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এই তিন রাজ্যের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কার্তুজ উদ্ধার এবং জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সংবাদমাধ্যম মিল্লাত টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।</p><p> প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর চন্দন তিওয়ারি ও তাঁর ভাই অভিষেক তিওয়ারির ছবি প্রকাশ্যে আসায় ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন ছবিতে তাঁদের দুজনকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) পোশাক পরা অবস্থায় দেখা গেছে। অন্য একটি ছবিতে মুজাফফরপুরের এক স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গেও তাঁদের দেখা যায়।</p><p>অভিষেক তিওয়ারি এর আগেও একটি অস্ত্র পাচার মামলায় কারাগারে ছিলেন। চন্দন তিওয়ারিকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। তবে আরএসএসের এই চক্রে সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তার কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। কেবল পোশাক পরা ছবির মাধ্যমে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগসূত্র নিশ্চিত হওয়া যায় না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।</p><p>পাটনা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিহারের আরা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১৯ হাজারের বেশি কার্তুজ উদ্ধার করে বিহার এসটিএফ। এ ঘটনায় চন্দন তিওয়ারিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, চক্রটির শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে উত্তর প্রদেশের বদায়ূঁ জেলায়। পরবর্তী সময়ে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানায় অভিযান চালিয়ে আরও কয়েক হাজার কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।</p><p>একই ধরনের অভিযানে হরিয়ানা এসটিএফ ঝজ্জরের রোহদ টোল প্লাজার কাছ থেকে দুটি গাড়ি তল্লাশি করে মোট ২৫ হাজার গুলি ও আটটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বদায়ূঁ জেলার বাসিন্দা মুন্না খান, আসিম রইস, সবলু খান, আরবাজ আলী ও জিনাত নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ‘বদায়ূঁ গান হাউস’-এর মালিক মুন্না খান সিরসা এলাকায় অবস্থিত ‘মেহক গান হাউস’-এর মালিক বিজয় গোয়েলের কাছ থেকে এই কার্তুজ সংগ্রহ করেছিলেন।</p><p>তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কার্তুজের উৎস নিয়ে। উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলো সরকারি অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বা সমরাস্ত্র কারখানায় তৈরি। সরকারি কারখানায় তৈরি কার্তুজ কীভাবে এই বেআইনি চক্রের হাতে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।</p><p>এর আগে জাল লাইসেন্স ব্যবহার করে ১০০টি পিস্তল সরবরাহের মামলায় বিহারের ‘জালান শপ’ নামের একটি অস্ত্র বিপণির নাম এসেছিল। তার সঙ্গে এই অবৈধ কার্তুজ উদ্ধারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।</p><p>ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ইতিমধ্যে তদন্তে যুক্ত হয়ে সরবরাহের মূল উৎস এবং ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেছে। বিপুল এই গোলাবারুদের চূড়ান্ত ক্রেতা কারা ছিল, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।</p>
<p>ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটানোর সুযোগ পেয়েছেন বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকট। সাবেক এই সেনাপ্রধানকে সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। আজ রোববার এই দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বলেছেন, ‘যে কারও জন্য আমার দরজা খোলা।’</p><p> গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো দল বা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সরকার গঠনের কঠিন সমীকরণের মধ্যে আইজেনকট সরকার গঠনের কাজ শুরু করেছেন। তিনি নেতানিয়াহুর জোটের দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিনের সময় পেয়েছেন তিনি।</p><p>প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর আইজেনকট বলেন, ‘আমরা এক জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে আছি। ইসরায়েল রাষ্ট্র এমন এক জায়গায় যাচ্ছে, যেখান থেকে ফিরে আসার উপায় নেই। আমাদের একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠন করতে হবে। এর জন্য সৃজনশীল এবং ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে।’</p><p>নেতানিয়াহুর সময় ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিশ্বে একঘরে হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে আইজেনকট বলেন, ‘আমরা এক ভয়াবহ কূটনৈতিক সংকটের মধ্যে আছি। এমনকি আমাদের নিকটতম বন্ধু ও কৌশলগত মিত্ররাও বলছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আবার বিবেচনা করা দরকার।’</p><p>আইজেনকট নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের অতি ডানপন্থী পার্টিকেও তাঁর সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে শর্ত হলো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেবল তিনিই থাকবেন।</p><p>আইজেনকট বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিকে গভীরভাবে বোঝেন, এমন যে কারও জন্য আমার দরজা খোলা এবং আমার হাত আন্তরিকভাবে ও সানন্দে প্রসারিত।’</p><p>ভোটে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব নেতাদের নেতৃত্বাধীন দল রাআম ও জোট জয়েন্ট লিস্টের ১৯টি আসন যোগ হলে দাঁড়ায় ৬৭। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। কিন্তু আরবদের সমর্থনে সরকার গঠনে আইজেনকটের জোটের শরিক দলগুলোর আপত্তি রয়েছে। ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী থাকা নেতানিয়াহু বিরতি দিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে দেশ শাসন করেছেন। এবারের ভোটে তাঁর লিকুদ পার্টি পেয়েছে সর্বোচ্চ ২৭টি আসন। ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী মিত্রদের নিয়ে তাঁর জোটের আসন ৫৩টি। তবে এই জোটের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছে, তারা কোনো পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে না। এতে সরকার গঠনের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েন নেতানিয়াহু। ইউটিজের আসন রয়েছে সাতটি।</p>
কবি শাহ সানাউল হকের ‘প্রতিবিম্ব কবিতা’ অবশ্য আয়নার হুবহু প্রতিচ্ছবির ধারণা নয়; বরং একই দৃশ্য, মুহূর্ত বা অভিজ্ঞতা কবিচেতনায় দুইভাবে প্রতিফলিত হয়। জন্ম দেয় দুটি স্বতন্ত্র কবিতার। একটি অন্যটির অনুলিপি, পুনর্লিখন বা ছায়া নয়। একই উৎস থেকে সেগুলো ভিন্ন ভাষা, চিত্রকল্প ও অনুভব নিয়ে আলাদা হয়ে ওঠে। এদিক থেকে ‘প্রতিবিম্ব কবিতা’ একধরনের কাব্যিক ও দার্শনিক নিরীক্ষা।
শ্রীলঙ্কার কোচের অভিযোগ, সাফে আয়োজক দেশ ও ভারতের পক্ষে সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন তিনি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনাকে।