ফুটবল

রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সির কী হবে

নভেম্বর ৬, ২০২৬
রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সির কী হবে
রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সির কী হবে
রোনালদো অবসর নেওয়ার পরও অনেকের কাছে ৭ নম্বর জার্সির মালিক শুধু তিনিই। কারণ, ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে বেশির ভাগ ম্যাচ যে এ জার্সি পরেই খেলেছেন কিংবদন্তি।

Prothomalo

View more
ট্রাম্পকে রুখে দিয়েছে তরুণদের ভোট
ট্রাম্পকে রুখে দিয়েছে তরুণদের ভোট

<p>যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বলে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারায়। কিন্তু এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের জয় অর্ধশতকের মধ্যে যেকোনো দলের জন্য সবচেয়ে বড় বিজয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/xmj32uxo/Donald_trump_AFP.jpg"><figcaption>যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশে ‘ভেটো’ লেখা টুপি। মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে ‘মনে হয় আমি মিস্টার ভেটো হয়ে যাব’ বলেছিলেন তিনি। হোয়াইট হাউস, ০৫ নভেম্বর ২০২৬</figcaption></figure><p>জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আর পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি বিরক্তি—যুক্তরাষ্ট্রের তরুণেরা এসব ক্ষোভের প্রকাশ ঘটালেন ব্যালট বাক্সে। গত মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি তরুণদের সমর্থন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।</p><p>মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টি ২৫৩ আসনে জয়ী হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছে ১৬০ আসন। ৩২ আসনের ফল ঘোষণা বাকি। আর ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ সিনেটে এখন ৫৪টি আসন ডেমোক্র্যাটদের, রিপাবলিকানদের আসন ৪৪টি। সিনেটের দুটি আসনে ফল ঘোষণা বাকি। এবার সিনেটে ভোট হয়েছে ৩৫ আসনে।</p><p> নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় এবারের প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে ১৮-২৯ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে দুই দলের ভোটের ব্যবধান প্রায় ৪০ শতাংশ পয়েন্ট, যা ডেমোক্র্যাটদের দিকে গেছে। তরুণ পুরুষদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ৩৯ শতাংশ পয়েন্ট, নারীদের ক্ষেত্রে ২৭ শতাংশ পয়েন্ট। সাক্ষাৎকারে তরুণেরা বলেছেন, বাড়িভাড়া ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা; চাকরি করে নিজের বাড়ি ও সংসার গড়ার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধ ও ইসরায়েলনীতি নিয়ে অসন্তোষ তাঁদের সমর্থন পরিবর্তনে প্রভাব ফেলেছে।</p><h3>পরিবর্তনের আশায় ভোট</h3><p>তরুণদের ভোটের এই পালাবদল শহর ছাড়িয়ে গ্রাম ও শহরতলিতেও ছড়িয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস–এর ৫ নভেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ট্রাম্পের জেতা ২৩৪টি কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে ৫২টিতে এবার ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হয়েছেন। দলটি ২০০৮ সালের পর প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে। </p><aside><cite>ট্রিস্টান ওয়ামস্লি, টেক্সাসের তরুণ ভোটার</cite>জেমস ট্যালারিকোকে সঙ্গে পেলে হয়তো আমরা সমাজকে পিছিয়ে নেওয়ার বদলে সামনে এগিয়ে নিতে পারব।</aside><p>তবে তরুণদের অনেকে স্পষ্ট করেছেন, ডেমোক্র্যাটদের প্রতি তাঁদের সমর্থন নিঃশর্ত নয়। তাঁরা দলকে নয়, পরিবর্তনের আশাকে ভোট দিয়েছেন; বিজয়ীরা প্রতিশ্রুতি রাখছেন কি না, সেটিও তাঁরা দেখবেন।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বলে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারায়। কিন্তু এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের জয় অর্ধশতকের মধ্যে যেকোনো দলের জন্য সবচেয়ে বড় বিজয়।</p><h3>প্রার্থীর মধ্যে নিজের মিল খুঁজেছেন তরুণেরা</h3><p>টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী পুরুষদের ভোটের প্রবণতা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ট্যালারিকোর পক্ষে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ পয়েন্ট। এই অঙ্গরাজ্যের রিচমন্ডের ভোটার ট্রিস্টান ওয়ামস্লি (৩৫) বলেন, ‘তিনি (জেমস) আমার বয়সী। তাঁর কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে, আমি নিজেই তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারতাম। তিনি আমার মতোই একজন সাধারণ মানুষ।’ ট্রিস্টান জীবনে এবারই প্রথম অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সব পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন।</p><blockquote>তরুণদের অনেকে স্পষ্ট করেছেন, ডেমোক্র্যাটদের প্রতি তাঁদের সমর্থন নিঃশর্ত নয়। তাঁরা দলকে নয়, পরিবর্তনের আশাকে ভোট দিয়েছেন; বিজয়ীরা প্রতিশ্রুতি রাখছেন কি না, সেটিও তাঁরা দেখবেন।</blockquote><p>বছরের পর বছর টেক্সাস শাসন করেছেন রিপাবলিকানরা। তাতে ট্রিস্টানের জীবনে কোনো বাস্তব পরিবর্তন আসেনি। তাঁর ভাষায়, ‘জেমসকে সঙ্গে পেলে হয়তো আমরা সমাজকে পিছিয়ে নেওয়ার বদলে সামনে এগিয়ে নিতে পারব।’</p><p>ট্রিস্টানের মতো তরুণেরা যে প্রার্থীর মধ্যে নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছেন, তাঁদের ভোট দিয়েছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির এমন প্রার্থী ছিলেন মিশিগানের নবনির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল-সাইদ, আইওয়ার নবনির্বাচিত গভর্নর রব স্যান্ড, জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ, লস অ্যাঞ্জেলেসের নবনির্বাচিত মেয়র নিত্যা রমন এবং মন্টানা থেকে নবনির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য স্যাম ফরস্ট্যাগ। আর ১৯ বছর বয়সী ড্যানিয়েল ড্যারিস-ও’কনর ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি পরিষদে আট মেয়াদ ধরে দায়িত্বে থাকা এক রিপাবলিকানকে হারিয়েছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/4hwfu6rj/abdul.JPG"><figcaption>নির্বাচনে জয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে মিশিগানের নবনির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল–সাইদ। ৪ নভেম্বর ২০২৬, মিশিগান</figcaption></figure><p>এভাবে সেকেলে রাজনীতিকদের ভোটাররা বিদায় করেছেন। তাঁরা ফিরিয়ে দিয়েছেন রিক জ্যাকসন ও কেন প্যাক্সটনের মতো ধনী মধ্যবয়সী রিপাবলিকানদেরও। জ্যাকসন জর্জিয়ার গভর্নর পদে প্রার্থী ছিলেন। টেক্সাসে প্যাক্সটন হেরেছেন জেমস ট্যালারিকোর কাছে।</p><p>বিজয়ী ডেমোক্র্যাটরা যেন তরুণ ভোটারদের ভাষাতেই কথা বলছেন। তবে ৪৫ বছরের কম বয়সী অনেক ভোটার, বিশেষ করে মিলেনিয়াল প্রজন্মের (জন্ম: ১৯৮১-১৯৯৬) কম বয়সীরা আর জেন–জির (জন্ম: ১৯৯৭-২০১২) সদস্যরা দ্রুতই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁদের মতাদর্শ বদলায়নি। তাঁরা আপাতত ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন জানিয়ে দিয়েছেন, যাতে জীবনযাত্রার ব্যয়, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং ইরানের যুদ্ধের মতো বিষয়ে বাস্তব পরিবর্তনের শুরু হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/zlsgoldymy">প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখেই কি ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন ভ্যান্স</a></aside><p>টেক্সাসে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের সব প্রার্থীকে ভোট দেওয়াটা ট্রিস্টান ওয়ামস্লির কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হলেও নিজের সিদ্ধান্তে খুশি তিনি। তবে এটাও বলেছেন, তাঁর ভোট ছিল প্রার্থীদের জন্য। দলের জন্য তিনি ভোট দেননি। তাঁরা কথা রাখছেন কি না, সেদিকেও তিনি কড়া নজর রাখবেন। ট্রিস্টান বলেন, ‘এখন যা চলছে, তা থেকে আমি সত্যিই বেরিয়ে আসতে চাই। কারণ, এখনকার ব্যবস্থায় কাজ হচ্ছে না।’</p><h3>অসন্তোষ বিশ্বজুড়ে</h3><p>নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, এই অসন্তোষ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ ও ভারত থেকে সার্বিয়া ও ফ্রান্স পর্যন্ত নানা দেশে তা তরুণদের আন্দোলনের জন্ম দিচ্ছে। সরকারি সম্পদ গেছে বেবি বুম প্রজন্মের (জন্ম: ১৯৪৬-১৯৬৫) অবসরপ্রাপ্তদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ভর্তুকিযুক্ত অবসরসুবিধা দিতে। এদিকে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে, স্বাস্থ্যবিমার খরচ আকাশছোঁয়া হয়েছে। বয়স্ক প্রজন্ম জায়গা ছাড়তে না চাওয়ায় চাকরির নিরাপত্তাও কমেছে। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভোট দেওয়ার বয়সে পা রাখা তরুণদের মনে গভীর আশঙ্কা তৈরি করেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/zeconz90zj">ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ হেগসেথ কি তাহলে রিপাবলিকানদের আনা অভিশংসনের মুখে পড়তে যাচ্ছেন</a></aside><p>তবে তরুণ ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অর্থনীতি। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাঁদের মনে এমন ধারণা তৈরি করেছে যে নিজের বাড়ি হবে, পরিবার হবে—পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে এভাবে জীবন শুরু করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। নর্থ ক্যারোলাইনার র‍্যালিতে ২৩ বছর বয়সী চেজ সার্ডেসন ইলেকট্রিশিয়ানের শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেন। তিনি রক্ষণশীল পরিবারে বড় হয়েছেন। তবে একটি গাড়ির বিক্রয়কেন্দ্রে কাজ করার সময় উদারপন্থী রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। সেখানে তিনি জানতে পারেন, তাঁর এক হিস্পানিক অভিবাসী সহকর্মী পরিবার চালাতে তিনটি চাকরি করেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-11-07/ybnnl0pq/zohran-mamdani.webp"><figcaption>নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি</figcaption></figure><p>এখন সার্ডেসন ও তাঁর বান্ধবী মাসে ১ হাজার ৮০০ ডলার বাসা ভাড়া দেন। মা-বাবার স্বাস্থ্যবিমার আওতা থেকে বেরিয়ে গেলে কত খরচ হবে, তা হিসাব করে দেখে মন দমে গিয়েছিল বলে জানালেন সার্ডেসন। তিনি বলেন, ‘বেবি বুম প্রজন্ম আর জেন এক্সের প্রজন্মের (জন্ম: ১৯৬৫-১৯৮০) বয়স্কদের দিকে তাকালে দেখি, তাঁরা এমন এক আমেরিকার সুফল পাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, যে আমেরিকা ছিল সমৃদ্ধ, ছিল বিশ্বের শীর্ষে। নিজের দিকে তাকালে দেখি, আমি যেন তারই ছায়া।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/fzgid74t6f">বিনা রক্তপাতে যুক্তরাষ্ট্রে ‘রেজিম চেঞ্জ’ </a></aside><p>সিনেট নির্বাচনে তিনি বেবি বুম প্রজন্মেরই একজনকে ভোট দিয়েছেন। তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার। তবে সার্ডেসনের পছন্দ ছিল এমন একজন প্রার্থী, যিনি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মতো অর্থনীতি নিয়ে আরও জোরালো কথা বলবেন। তিনি বলেন, ‘মামদানি আর মিশিগানের সিনেটর আল-সাইদ আমার মতো মানুষদের কথা ভাবেন, আমাদের কথা শোনেন বলে মনে হয়। এমনকি টেক্সাসের জেমস ট্যালারিকোকেও আমার তা-ই মনে হয়।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/nkr040do/James_Talarico.jpg"><figcaption>টেক্সাসের নবনির্বাচিত সিনেটর ডেমোক্রেটিক পার্টির জেমস ট্যালারিকো</figcaption></figure><h3>জেমস ট্যালারিকো, আল-সাইদের মতো প্রার্থীতে মুগ্ধ</h3><p>নিউ হ্যাম্পশায়ারের পোর্টসমাউথে একটি কফির দোকানের সহকারী ব্যবস্থাপক ২৪ বছর বয়সী ইজি ইমস। তিনি ধর্মপরায়ণ ও রক্ষণশীল পরিবারে বড় হয়েছেন। হাইস্কুলে পড়ার সময় থেকেই তিনি এসব প্রভাব থেকে সরে এসেছেন। উদারপন্থী রাজনীতি এখন তাঁর পরিচয়ের অংশ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর তিনি ‘মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন’। মঙ্গলবার তিনি সব পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। তিনি চান, বিজয়ীরা ‘ছোট ছোট বিষয়ে আরও মনোযোগ দিন’। তাঁর মতে, নিউইয়র্কের মেয়র ‘মামদানি এ কাজটা ভালো করেন’।</p><p>টেক্সাসে রিপাবলিকানপন্থী পরিবারে বড় হয়েও এবার ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী ওবেদ আলভিদ্রেজ। জেমস ট্যালারিকো, আল-সাইদের মতো ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা তাঁকে মুগ্ধ করছে। আলভিদ্রেজ বলেন, এবার তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছেন সেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা, যাঁরা ধরে নেননি যে তাঁর ভোট এমনিতেই পাবেন। তিনি বলেন, ‘জেমস ট্যালারিকো আর আল-সাইদ স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁরা পদে যাচ্ছেন নিজেদের দলের প্রতিনিধিত্ব করতে নয়। তাঁরা যাচ্ছেন তাঁদের অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য। এ কারণেই কোনো কোনো রিপাবলিকান আর নির্দলীয় ভোটারদের সমর্থন পেতে তাঁদের অনেক সুবিধা হয়েছে।’ আলভিদ্রেজ পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরিও করছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ আসলে ক্লান্ত।...আমাদের যা করার ছিল, আমরা করেছি।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/zxavfivtpj">চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে যুক্তরাষ্ট্রের এত তাড়া কেন, প্রতিযোগিতায় রাশিয়া–চীনও</a></aside>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
বন্ধ ঘরের দরজায় ধাক্কা দিতেই দেখা গেল মেঝেতে নারীর লাশ
বন্ধ ঘরের দরজায় ধাক্কা দিতেই দেখা গেল মেঝেতে নারীর লাশ

ওই নারীর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও তাঁর মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
ঐতিহ্যের শিকড়েই বাংলাদেশের ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ
ঐতিহ্যের শিকড়েই বাংলাদেশের ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ

নিজস্ব ঐতিহ্য, কারুশিল্প ও সৃজনশীলতাকে ভিত্তি করে বাংলাদেশের ফ্যাশন শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ডিজাইনার ও উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অন্ধ অনুকরণ নয়, প্রয়োজন নিজস্বতার চর্চা, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা, দক্ষ কারিগর এবং সমন্বিত উদ্যোগ।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
রবিউল বললেন, পরীমনি তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন
রবিউল বললেন, পরীমনি তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন

রবিউল বললেন, পরীমনি তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন

নভেম্বর ৭, ২০২৬
শুধু পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরই নয়, সময় এসেছে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট পুনরুদ্ধারের: বিজেপি এমপি নিশিকান্ত
শুধু পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরই নয়, সময় এসেছে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট পুনরুদ্ধারের: বিজেপি এমপি নিশিকান্ত

<p>ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির লোকসভা সদস্য নিশিকান্ত দুবে দাবি করেছেন, শুধু পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরই নয়, সময় এসেছে বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর ‘পুনরুদ্ধার’ করার। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নীতিকে দায়ী করে বিজেপির এই এমপি বলেন, কাশ্মীরের অংশ ছাড়াও নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর জোর করে পাকিস্তানকে হস্তান্তর করেছিলেন তিনি। ওই তিনটি অঞ্চলই তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত ছিল বলে দাবি করেন এই নেতা।</p><p> শুক্রবার ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন নিশিকান্ত দুবে। তিনি ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডা আসন থেকে নির্বাচিত লোকসভার সদস্য। উল্লেখ্য, এই গোড্ডাতেই শিল্পপতি আদানির বিতর্কিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত, যেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়।</p><p>সাক্ষাৎকারে দেশভাগের সময়কার জওহরলাল নেহরুর নীতির তীব্র সমালোচনা করে নিশিকান্ত বলেন, তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম সিং নিজের রাজ্যের অংশ হস্তান্তর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। নেহরুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কীভাবে তাঁর রাজ্যের ভূখণ্ড হস্তান্তর করা যায়। রাজা বলেছিলেন, রাজ্যের ভালো-মন্দের সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন; তিনি ভারতে থাকবেন, পাকিস্তানে যাবেন, নাকি স্বাধীন থাকবেন—তা তিনিই ঠিক করবেন।</p><p>নিশিকান্ত দুবে বলেন, ‘নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর তিনটিই ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ। আজ যা ত্রিপুরা, আগে তার নাম ছিল তিপ্রা। সেখানকার রাজা ছিলেন বীর বিক্রম সিং। নেহরুর নীতির ধারাবাহিক বিরোধিতা তিনি করে যাচ্ছিলেন। নেহরুকে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, জানতে চেয়েছিলেন, কোন অধিকারে তিনি তাঁর রাজ্যের অংশবিশেষ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন? সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? কী করে তিনি নোয়াখালী পাকিস্তানকে দিতে পারেন? সিলেট ও চট্টগ্রামে গণভোট করাতে পারেন? নেহরুকে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা আমার রাজ্য। আমিই ঠিক করব ভারতের সঙ্গে থাকব, পাকিস্তান যাব নাকি স্বাধীন থাকব।’</p><p>বিজেপির এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে সরদার বল্লভভাই প্যাটেল সেনা পাঠানোর পর ১৯৪৮ সালের অক্টোবর মাসে ত্রিপুরা রাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। ভারত অন্তর্ভুক্তি চুক্তিতে (ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন) সই করেছিলেন তৎকালীন মহারানি কাঞ্চনপ্রভা দেবী।</p><p>১৯৪৬ সালের নোয়াখালীর দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে নিশিকান্ত অভিযোগ করেন, সে সময় নোয়াখালীর পরিস্থিতির দিকে নজর না দিয়ে নেহরু বেশি আগ্রহী ছিলেন মুসলিম লীগকে সরকারে ভেড়াতে। নিশিকান্তের দাবি, সেই বছরের ১৫ অক্টোবর নোয়াখালীতে এক দিনেই ১০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছিল; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও নেহরু নোয়াখালীতে যাননি।</p><p>ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পেছনেও নেহরুর নীতিকে দায়ী করেন এই বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, ‘আজ উত্তর-পূর্বাঞ্চল যে পিছিয়ে রয়েছে, সেখানকার খনিজ সম্পদ এবং মজুত গ্যাসের সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ওই তল্লাটে এখনো যদি বিচ্ছিন্নতাবোধ টিকে থাকে, তাহলে তার একমাত্র কারণ হলো চট্টগ্রাম বন্দর হাতে না থাকা। তাই সময় এসেছে নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধার করার।’</p><p>সাক্ষাৎকারে নিশিকান্ত আরও অভিযোগ করেন, সিলেটে গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলাম ছিলেন ‘মুসলিম লীগ রেড আর্মি’র সদস্য এবং নোয়াখালী গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত। পরে কংগ্রেস তাঁকে দফায় দফায় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে রাজ্যসভার সদস্য, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পর্যন্ত বানিয়েছিল।</p><p>নিশিকান্তের এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের বংশধর ও তিপ্রা মথা দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লিখেছেন, দেশভাগের সময় তাঁর দাদিকে অন্ধকারে রেখে ত্রিপুরার এক বিশাল অংশ পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল এক ঐতিহাসিক ভুল। তিনি দাবি করেন, আজ চট্টগ্রাম বন্দর তাঁদের হাতে থাকলে ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডর) নিয়ে ভারতকে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো না।</p><p>নানা উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য নিশিকান্ত দুবে এর আগেও বহুবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। কিছুদিন আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং বিহারের কাটিহার ও কিষানগঞ্জ নিয়ে পৃথক একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি তুলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক এমপি মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অর্থ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করার যে অভিযোগ উঠেছিল, তার পেছনেও অভিযোগকারী হিসেবে ছিলেন এই নিশিকান্ত দুবে।</p>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
কুমিল্লায় গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, স্বজনদের ক্ষোভ
কুমিল্লায় গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, স্বজনদের ক্ষোভ

<p>কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মান (গার্ড অব অনার) ছাড়াই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার (৭৮)। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবার ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। দাফনের সময় উপজেলা প্রশাসনের কেউ উপস্থিত না থাকায় গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।</p><p>বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে রাজধানী ঢাকায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন আব্দুস সাত্তার। তাঁর বাড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামে। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসরের পর ছেলের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করতেন।</p><p>বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি মহালক্ষ্মীপাড়ায় আনা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।</p><p>পরিবারের সদস্যরা জানান, গার্ড অব অনার দেওয়ার মাধ্যমে আব্দুস সাত্তারকে শেষবিদায় জানাতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করেছিলেন। পুলিশ সদস্যরা পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি আসেননি। পরে গার্ড অব অনার ছাড়াই বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার।</p><p>আব্দুস সাত্তারের ভাই মো. শাহজাহান আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করল, সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেল না।’</p><p>বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা গার্ড অব অনারের জন্য পুলিশ পাঠিয়েছিলাম এবং পুলিশ লাইন থেকে বিউগলের সুর বাজানোর জন্য দলও এসেছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি।’</p><p>শুক্রবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলামের দাপ্তরিক মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেছেন, ‘সাধারণত সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গার্ড অব অনার প্রদর্শন করা হয়। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। তারপরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু ঢাকা থেকে লাশ আনা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, তাই দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানতে পারলে আমরা অবশ্যই সেখানে উপস্থিত হতাম।’</p><p>ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে তাঁরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছিলেন। গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালাম দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাঁদের জানিয়েছিলেন, ‘সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়ার নিয়ম নেই।’</p><p>কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আকতার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাধারণত সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গার্ড অব অনার প্রদর্শন করা হয়। কিন্তু আমার প্রতিবেশী মারা গেলে আমি তো ঘরে বসে থাকব না। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা তাঁর কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত হবেন। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতি প্রদর্শন করবেন।’</p><p>জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ব্রাহ্মণপাড়ার ঘটনাটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (ক্যাবিনেট) ও বিভাগীয় কমিশনারকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।</p>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
চড়–কাণ্ডের আট মাস পর অভিনেত্রী তিশা–অথৈকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
চড়–কাণ্ডের আট মাস পর অভিনেত্রী তিশা–অথৈকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

<p>শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ—দুজনেরই সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ। এর আগে দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিল সংগঠনটি। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।</p><p>গত ৪ অক্টোবরের তানজিন নাহার তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈ বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই তাঁদের ‘সদস্যপদ স্থগিতকরণ’ সংক্রান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু দুজনের কেউই ওই নোটিশের জবাব সংগঠনের কার্যালয়ে জমা দেননি।</p><p>চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সালিস বা বিবাদ মীমাংসাকরণ বৈঠকে আলোচনা হয়। সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় দুই অভিনেত্রীর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।</p><p>চিঠি দুটিতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু।</p><p><strong>‘একাধিকবার বসেও বিরোধ মেটানো যায়নি’</strong></p><p>এ বিষয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, ‘অভিনয়শিল্পী সংঘের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য একটি সালিস কমিটি আছে, যা সার্বভৌম এবং স্বাধীন। আমরা চেয়েছিলাম, তাঁরা নিজেদের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি দূর করে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। ঘটনার পর থেকেই আমরা দুই শিল্পীর সঙ্গে একাধিকবার বসেছি। তাঁদের বক্তব্য শুনেছি, বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। উদ্ভূত ঘটনার পরিস্থিতিতে তাদের দুজনকেই সালিসের জন্য ডাকা হয়। সেখানে দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একটি হচ্ছে তাঁরা ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেবেন এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাবেন। সেটা আমরা প্রকাশ করব কি করব না, এটা একান্তই সংগঠনের নিজস্ব ব্যাপার ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দুটি সিদ্ধান্তের কোনোটাই তাঁরা মানেননি এবং তাঁদেরকে পরপর দুটি চিঠি দেওয়ার পরও তাঁরা চিঠির কোনো সদুত্তর দেননি এবং চিঠিগুলো ফেরত আসে। পরবর্তীতে তাঁদের ফোনও করা হয়, কিন্তু ফোনের কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় দীর্ঘ বিরতির পর সালিস কমিটি বাধ্য হয়ে ইসি কমিটিকে তাঁদের সদস্যপদ বাতিলের জন্য সুপারিশ করে। পরে ইসি কমিটি সভায় এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।’</p><p>রাশেদ মামুন আরও জানান, বিরোধ মীমাংসার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু দুই পক্ষের সহযোগিতা না পাওয়ায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-03-03/2c46k9jo/WhatsApp_Image_2026_03_03_at_6_45_30_PM.jpeg"><figcaption>সামিয়া অথৈই ও তানজিন তিশা</figcaption></figure><p><strong>যেভাবে বিরোধের সূত্রপাত</strong></p><p>গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে পরিচালক রাফাত মজুমদারের একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে তিশার বিরুদ্ধে মারধর ও অপদস্থ করার অভিযোগ তোলেন সামিয়া।</p><p>সামিয়ার অভিযোগ ছিল, নাটকের একটি দৃশ্যে তাঁর তিশাকে আলতো করে চড় মারার কথা ছিল। পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সেটিই করেছিলেন; কিন্তু এরপর তিশা তাঁকে একাধিকবার জোরে চড় মারেন। এতে তাঁর চোখ ও গাল ফুলে যায় এবং কথা বলতেও সমস্যা হয় বলে দাবি করেন সামিয়া।</p><p>শুধু ওই দিনের ঘটনাই নয়, এর আগেও তিশার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল বলে অভিযোগ করেন সামিয়া। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-11-24/rh1cw6q6/tanjintisha176200818737563193914206444771650430621.jpg"><figcaption>তানজিন তিশা</figcaption></figure><p><strong>অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিশা</strong><br>অন্যদিকে সামিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তানজিন তিশা। তাঁর দাবি ছিল, শুটিং সেটে যা ঘটেছে, সবই চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কাউকে আঘাত করেননি তিনি।<br>তখন তিশা জানিয়েছিলেন, নাটকটিতে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। চরিত্রটির আচরণে অন্যকে আঘাত করা বা কামড় দেওয়ার মতো দৃশ্য রয়েছে। তাই অভিনয়ের প্রয়োজনে চিত্রনাট্যে যা ছিল, সেটিই করেছেন তিনি।<br>তিশার বক্তব্য ছিল, নাটকটি মুক্তি পেলে দর্শকেরা ঘটনার প্রেক্ষাপট বুঝতে পারবেন। বিষয়টিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না দেখে পেশাদারত্বের জায়গা থেকে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি।<br>নাটকের পরিচালক রাফাত মজুমদারও ঘটনাটিকে ভুল–বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, নাটকের দৃশ্যে দুজনেরই পরস্পরকে চড় মারার কথা ছিল। অভিনয়ের সময় কোনো চড় জোরে লেগে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে থাকতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-03-04/z07hrn7i/60573629841786332057837238387380349670181097n.jpg"><figcaption>সামিয়া অথই</figcaption></figure><p><strong>ঘটনার পরই সতর্ক করেছিল সংগঠন</strong><br>দুই অভিনেত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই বিবৃতি দেয় অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। সংগঠনটি জানায়, কোনো সদস্যের সঙ্গে পেশাগত জটিলতা বা মতভেদ তৈরি হলে তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে না জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে প্রচার করা আচরণবিধির পরিপন্থী।</p><p>বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার একতরফা উপস্থাপন অভিনয়শিল্পীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এ ধরনের বিরোধ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।<br>একই সঙ্গে সংগঠনটি সতর্ক করেছিল, কোনো সদস্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।<br>এরপর বিষয়টি নিয়ে সালিস ও মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়; কিন্তু একাধিকবার আলোচনার পরও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক।<br>সর্বশেষ গত ৭ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর পরও দুই অভিনেত্রীর কেউ লিখিত জবাব দেননি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁদের সদস্যপদ স্থগিত করা হলো।<br>তবে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠিতে শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়নি। সংগঠনটির সিদ্ধান্ত মূলত কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়।<br>এদিকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, তা-ও জানা যায়নি।</p>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর এফবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার, ৮২ বছরের টমাস মার্কেলের কী অপরাধ
প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর এফবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার, ৮২ বছরের টমাস মার্কেলের কী অপরাধ

<p>শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হয়েছেন মেগান মার্কেলের বাবা টমাস মার্কেল সিনিয়র। ফ্লোরিডার একটি প্রবীণ নিবাস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।</p><p> যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন। তবে কী কারণে টমাস মার্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।</p><p>ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল প্রথম টমাস মার্কেলের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮২ বছর বয়সী টমাস মার্কেলকে ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড শহরের একটি প্রবীণ নিবাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</p><p>মেক্সিকো ও ফিলিপাইনে থাকা টমাস মার্কেলের দুটি সংরক্ষণাগারেও একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ডেইলি মেইল। তবে এসব তথ্যের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।</p><p>টমাস আগে কিছুদিন ফিলিপাইনে বসবাস করেছেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে গত মাসে তদন্ত শুরু করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/k1i6w2r5/Prince-Harry.jpg"><figcaption>একসঙ্গে হাঁটছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। যুক্তরাজ্যের কেনসিংটন প্রাসাদের সানকেন গার্ডেনে </figcaption></figure><p>এর আগে ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছিল, টমাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হবে। অভিযোগগুলো প্রথম পাওয়ার সময় অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি বলে জানতে পেরেছিল তারা।</p><p>নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টমাস। ডেইলি মেইলকে তিনি বলেছেন, এসব অভিযোগ অসত্য ও ‘জঘন্য মিথ্যা’।</p><p>ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেল একজন মার্কিন নাগরিক। ২০১৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে তিনি ‘গভীরভাবে বিচলিত’ বলে জানিয়েছেন।</p>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সির কী হবে
রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সির কী হবে

রোনালদো অবসর নেওয়ার পরও অনেকের কাছে ৭ নম্বর জার্সির মালিক শুধু তিনিই। কারণ, ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে বেশির ভাগ ম্যাচ যে এ জার্সি পরেই খেলেছেন কিংবদন্তি।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।