ক্রিকেট

প্রথম তিন ওভারে ৫০ রান, তবু জিততে পারল না ভারত

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
প্রথম তিন ওভারে ৫০ রান, তবু জিততে পারল না ভারত
প্রথম তিন ওভারে ৫০ রান, তবু জিততে পারল না ভারত
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৪৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারতের ইনিংস গুটিয়ে গেল ২২৩ রানে। ২৪ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজের চতুর্থ টি–টুয়েন্টি শেষে ২–২ সমতা নিয়ে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

Prothomalo

View more
বৈজ্ঞানিক মনন গড়ে তোলার এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের নাম বিজ্ঞানচিন্তা
বৈজ্ঞানিক মনন গড়ে তোলার এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের নাম বিজ্ঞানচিন্তা

<p>এ বছর জুন মাসে বাংলা একাডেমি থেকে আমার একটি বই  প্রকাশিত হয়। <em>ইউক্লিডের এলিমেন্টস (প্রথম পর্ব)</em>। প্রায় ২ হাজার ৩০০ বছর ধরে মানবসভ্যতায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আসা গণিতশাস্ত্রের সবচেয়ে মৌলিক গ্রন্থ ইউক্লিডের <em>এলিমেন্টস</em>-এর প্রথম ছয়টি পরিচ্ছেদের বাংলা অনুবাদ ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ। এই গ্রন্থটি প্রকাশের পরপরই বিজ্ঞানচিন্তা একটি বিশেষ প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে। পরে তা বিজ্ঞানচিন্তা ও প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয়। এই খবর দেশের বিজ্ঞান অনুরাগী ও সাধারণ পাঠকমহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিজ্ঞান ভাবনার গ্রন্থকে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি ছিল এক অসামান্য পদক্ষেপ। বিজ্ঞানচিন্তার মতো একটি সচেতন মাধ্যম ছিল বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। আমাদের সমাজে যদি এমন একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকত, তবে এই জ্ঞানচর্চার বিস্তার আরও বহুগুণ তীব্র ও ফলপ্রসূ হতো।</p><p>বিজ্ঞানচিন্তার এই প্রগতিশীল উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা যদি আজকের বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার দিকে চোখ ফেরাই, তবে দেখতে পাব আন্তঃপ্রজাতি সংলাপের এক অভূতপূর্ব অধ্যায়, যা মানব ইতিহাসে অন্য কোনো প্রজাতির সঙ্গে যোগাযোগের প্রথম বৈজ্ঞানিক সেতু। অথচ প্রকৃতির কী অদ্ভুত পরিহাস! ভিন্ন বুদ্ধিমত্তা ও মহাজাগতিক চেতনার খোঁজে আমরা যখন আলোকবর্ষ দূরে চোখ মেলে রেখেছিলাম, তখন সেই প্রজ্ঞার সুর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহমান ছিল আমাদেরই ঘরের পাশের অন্ধকার নীল জলরাশির নিচে। মানুষ যখন বিশালাকার তিমিকে কেবল বাতি জ্বালানোর তেল ও চর্বির উৎস হিসেবে কেটে টুকরো করেছে, তখনো সমুদ্রের হাজার হাজার ফুট গভীরে—যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না—প্রতিধ্বনিত হয়ে চলেছিল তাদের অনুভূতির দীর্ঘ স্বর: ‘আমি এখানে আছি, আমি জীবিত আছি।’</p><p>আজ আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বায়ো-অ্যাকুস্টিকসের সমন্বিত প্রয়াস আমাদের চোখের সামনে থেকে অন্ধকারের পর্দা সরিয়ে দিচ্ছে। প্রজেক্ট সেটির মতো বৈশ্বিক উদ্যোগের সাম্প্রতিক আবিষ্কার আমাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। স্পার্ম ও হাম্পব্যাক তিমির জটিল ধ্বনিতরঙ্গ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, তাদের নির্গত শব্দ কেবল কোনো যান্ত্রিক সাড়া নয়; মানুষের ভাষার মতোই সেখানে রয়েছে নির্দিষ্ট ছন্দ, ব্যাকরণ, সময়মাত্রা, এমনকি স্বরবর্ণ ও দ্বিস্বরবর্ণের মতো জটিল গঠন।</p><p>প্রকৃতির এই গোপন দুয়ার খুলে দেওয়ার পেছনে যে হাতিয়ারটি সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কিন্তু সমুদ্রের নিচের এই অলিখিত ভাষার রহস্য উন্মোচনে এআই যেমন সাহায্য করছে, অন্যদিকে তেমনি তা মানবসভ্যতার জন্য নিয়ে আসছে অস্তিত্বের এক নতুন প্রশ্ন। মানবসভ্যতার সূচনা থেকেই গণিতকে ধরা হয়েছে মানুষের বিশুদ্ধ মেধা ও যুক্তির সর্বোচ্চ স্তম্ভ হিসেবে। জটিল উপপাদ্য প্রমাণ কিংবা যুগের পর যুগ অমীমাংসিত গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা ছিল কেবল মানুষের মস্তিষ্কেরই একচ্ছত্র অধিকার। কিন্তু প্রযুক্তির এই নতুন সন্ধিক্ষণে এসে আমাদের সেই চিরন্তন অহংকার প্রবল ঝাঁকুনি খেয়েছে। এআই এখন একের পর এক গাণিতিক অচলাবস্থা ভেঙে ফেলছে। ফিলাডেলফিয়ার আন্তর্জাতিক গণিত সম্মেলনে এ নিয়ে গণিতবিদদের গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশিত হয়েছে, যা আজ বৈজ্ঞানিক মহলে ‘গণিতের এআই অ্যাপোক্যালিপস’ নামে আখ্যায়িত হচ্ছে।</p><p>প্রযুক্তির এই অভাবনীয় জয়যাত্রা দেখে মনে প্রশ্ন জাগে, কেন এমন হলো? যন্ত্রের মেধা এত দ্রুত অগ্রসর হলেও আমাদের নৈতিক ও মানবিক চেতনা কেন এভাবে পিছিয়ে পড়ছে? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ছয় কোটি মানুষের মৃত্যু, পরিবেশের চরম অবক্ষয় কিংবা আধুনিক প্রযুক্তিচালিত মনস্তাত্ত্বিক বিচ্ছিন্নতা—কোনো কিছুই যেন আমাদের বোধের সঠিক জাগরণ ঘটাতে পারেনি। ১৯৫৯ সালে বিজ্ঞানী ও ঔপন্যাসিক সি পি স্নো তাঁর বিখ্যাত ‘দ্য টু কালচারস’ বক্তৃতায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বিজ্ঞান এবং মানবিকতা যদি দুটি বিচ্ছিন্ন সংস্কৃতিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তবে তা মানবজাতি ও চিন্তাজগতে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। আজ সেই শঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে।</p><p>১৯৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসরের উদ্ভাবক ফেদেরিকো ফাজিন চেতনা ও অস্তিত্বের উত্তরণের যে গভীর দর্শনের কথা তুলে ধরেছিলেন, আমরা তা অনুধাবন করার চেষ্টা করিনি। ফলে রোবোটিকসের অধ্যাপক হ্যান্স মোরাভেক কয়েক দশক আগে যে যান্ত্রিক স্বর্গের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তা আজ আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। একদিকে কৃত্রিম স্বর্গের মোহময় হাতছানি, আর অন্যদিকে মানুষের জৈবিক ও নৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার ব্যাকুল সংগ্রাম—এই দুই বৈপরীত্যের মাঝে পড়ে আমরা আজ এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক ধাক্কার মুখোমুখি।</p><p>বিশ্বজুড়ে যখন ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির চরম বাস্তবতা ও প্রযুক্তিগত এই সাংস্কৃতিক ধাক্কা ঘনীভূত হচ্ছে, তখন আমাদের মতো সমাজে এসব অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা নেই বললেই চলে। অথচ প্রযুক্তি আর প্রকৃতির এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে বিষয়গুলোকে অনুধাবন করে কাজ করার পথ এখনো খোলা রয়েছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ইতিহাসবিমুখতা, ভঙ্গুর রাজনীতি আর অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে আমাদের সামাজিক চিন্তাশক্তি আজ অনেকটাই অবরুদ্ধ। আমাদের নীতিনির্ধারক ও উপদেষ্টাদের ডিগ্রির ঘাটতি না থাকলেও, নতুন যুগের এসব বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও মেধা অনুধাবনের চেয়ে মোসাহেবিতেই তাঁদের আগ্রহ বেশি।</p><p>এমন এক স্থবির ও আত্মঘাতী সময়ে মাসিক বিজ্ঞানচিন্তা তার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পা রাখল। বাংলাদেশে যেখানে বিচ্ছিন্ন কিছু প্রচেষ্টা ছাড়া নিয়মিত বিজ্ঞানচর্চা ও বিজ্ঞান সাংবাদিকতার প্রদীপ জ্বালাবার মতো আর কেউ নেই, সেখানে বিজ্ঞানচিন্তা টানা এক দশক ধরে আলোর বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে; এক ছাদের নিচে যুক্ত করছে হাজারো বিজ্ঞানমনস্ক মানুষকে।</p><p>আজকের দিনে বিজ্ঞান কেবল ল্যাবরেটরির চার দেয়ালের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়; প্রযুক্তি আমাদের অস্তিত্বকে কোন অভিমুখে নিয়ে যাচ্ছে আর নৈতিকতার নিত্যনতুন সংকট কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এই মৌলিক প্রশ্নগুলো তৈরি করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমই হলো বিজ্ঞান। এমন একটি যুগে বিজ্ঞানচিন্তার মতো শতাধিক চিন্তাশীল প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠা জরুরি, যেন মানুষ অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার আর যান্ত্রিক অপসংস্কৃতির গ্রাস থেকে বেরিয়ে চিন্তার নতুন আলো দেখতে পায়। বিজ্ঞানচিন্তার এই ১০ বছরের যাত্রা কেবল একটি সাময়িক পত্রিকার টিকে থাকা নয়, এটি মুক্তচিন্তার স্বাধীনতা ও বৈজ্ঞানিক মনন গড়ে তোলার এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ ক্ষণে বিজ্ঞানচিন্তা ও এর নেপথ্যের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এই প্রয়াস যেন আরও অজস্র উদ্যোগকে অনুপ্রাণিত করে। প্রশ্ন জাগে, এই অনুপ্রেরণা থেকেই কি আগামী দিনের আলোকিত মানুষেরা অস্তিত্বের সমীকরণ মেলাতে সক্ষম হবেন?</p><h4>লেখক: বিজ্ঞানবক্তা, সম্পাদক, <em>মহাবৃত্ত</em></h4>

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, সিএনজি অটোরিকশাচালক আহত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, সিএনজি অটোরিকশাচালক আহত

পুলিশ জানিয়েছে, রাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনের সড়কে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়েছে, আরেকটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় রয়েছে।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু ও অন্যান্য খবর
রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু ও অন্যান্য খবর

<p>চাকরির আশায় রাশিয়ায় পাচার হয়ে ড্রোন হামলায় অন্তত ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় এসআরবি। এ ছাড়া দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা পেলেন তিন সচিব
সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা পেলেন তিন সচিব

জনপ্রশাসন, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা তিন সচিবকে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদমর্যাদা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের চিন্তার খোরাক জোগাতে দশক পার করল বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের চিন্তার খোরাক জোগাতে দশক পার করল বিজ্ঞানচিন্তা

<p>এক যুগ আগের কথা। তখন সদ্য স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হয়েছি; ইলেকট্রনের কথা, ইলেকট্রন-আয়ন মিথস্ক্রিয়ার কথা, পরমাণুর অভ্যন্তরের সদস্যদের পারস্পরিক বোঝাপড়া, তারা কোন কোন কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত, তাদের মাঝে আবার কী সব টান টান করছে—এই সব হাবিজাবি মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। শুধু যে তত্ত্বকথা ভেবে চলেছি এমন নয়, মাঝে মাঝে মনে হতো, এই যে ইলেকট্রন নিয়ে এত কাণ্ডকারখানা, এদের দেখতে কী রকম? কোয়ান্টাম তত্ত্বের শুরুর দিকে আমরা জেনেছি, ইলেকট্রন তরঙ্গও হতে পারে আবার কণাও হতে পারে। </p><p>বাস্তবে যদি ইলেকট্রনকে আমরা দেখতে পেতাম, তাহলে কেমন একই অঙ্গে এই দুটি রূপ দেখা যেত? মানে হাবিজাবি সব প্রশ্ন আরকি! এখনকার মতো চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির বাড়বাড়ন্ত সে সময় ছিল না। গুগল অবশ্য ছিল, কিন্তু সব সময় আমার আজগুবি প্রশ্নের উত্তর পেতাম না। পরিচিত অধ্যাপকদের জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা পেতাম, পাছে যদি কেউ প্রশ্নগুলো অবান্তর ভেবে বসেন!</p><p>এক দিন এক জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানীর সাক্ষাৎকার শুনছিলাম। ভদ্রলোক বললেন, ‘বিজ্ঞান পড়তে গিয়ে যদি তোমার মাথায় অবান্তর প্রশ্ন না আসে, তবে তুমি বিজ্ঞান পড়ছ না।’ সত্যি তো! আমরা তো কোনো অচিনপুরের মানুষের জীবন-জীবিকার কথা পড়ছি না। আর বিজ্ঞান তো সতত চলমান; কালকের আবিষ্কৃত তত্ত্বকে আজ আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না, এই রকম স্বৈরাচারী ধারণা বিজ্ঞানে চলে না। সে না হয় বোঝা গেল, কিন্তু পাঠ্যবইয়ের পাতায় যে সব ভদ্রস্থ কথা লেখা আছে, সেখানে তো আর আমার মনের খোরাক মিটবে না। খোঁজ করতে থাকলাম গুগলে। পাচ্ছি বেশ কিছুই, কিন্তু বেশির ভাগই সাহেবি ভাষায়। হঠাৎ নজরে এল বিজ্ঞানচিন্তা নামক এক প্ল্যাটফর্ম মাতৃভাষায় বিভিন্ন আজগুবি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চলেছে। খুব মজা পেলাম। অবসরে একটার পর একটা আজগুবি বিষয় পড়তে থাকি বিজ্ঞানচিন্তার পাতায়।</p><p>সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানচিন্তার কলেবর চোখে পড়েছে। মহাকাশবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, রসায়নসহ মৌলিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় আলাদা আলাদা তাক আবিষ্কার করেছি। শুধু বড়দের মনের খোরাক নয়, জায়গা পেয়েছে শিশু-কিশোরদের উপযোগী প্রশ্নোত্তর। ‘মোবাইল চার্জ করতে কী পরিমাণ খরচ হয়’ বা ‘সিলিং ফ্যানগুলোতে সচরাচর তিনটি পাখা থাকে কেন’—এই জাতীয় জীবনমুখী প্রশ্নও নজরে আসে প্রথম আলোর এই প্রয়াসের সৌজন্যে। এরই বিভিন্ন প্রবন্ধ পড়তে পড়তে জানতে পারি <em>নিউ সায়েন্টিস্ট</em>, <em>সায়েন্স</em>, <em>পপুলার মেকানিকস</em>সহ পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞান ম্যাগাজিনগুলোর কথা।</p><p>আসলে আমাদের পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুতে কখনোই আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণার আভাস পাওয়া যায় না; বেশিরভাগই শতাব্দীপ্রাচীন বা নিদেনপক্ষে পঞ্চাশ বছরের আগের বিজ্ঞান। এ কথা সত্যি যে বুনিয়াদি শিক্ষা ব্যতীত আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণা বোঝা সম্ভব নয়। সেই বুনিয়াদি বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী গবেষণা হচ্ছে জানতে পারলে শিক্ষার্থীদের একটু ঝোঁক বাড়ে; তারা আনন্দিত হয়। সেই উদ্দেশ্যেই বিজ্ঞান ম্যাগাজিনগুলোর জন্ম। ইংরেজি, জার্মানসহ অন্যান্য ভাষায় অনেক আগে থেকেই এসবের প্রচলন রয়েছে। বাংলাতে ছাপা পত্রিকা কিছু আছে ঠিকই, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুব কম। সেগুলোতে আবার গত মাসে কী কী আলোড়ন সৃষ্টিকারী গবেষণা হয়েছে, তার হদিস বড্ড মেলে না। যদিও বেশিরভাগের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের ধারা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ছাপার পরিবর্তে যদি একটি সর্বাঙ্গসুন্দর ওয়েব প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা যায়, তাহলে কম খরচে অনেক বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো যায়; আর মোবাইল তো এখন প্রত্যেকের হাতে হাতে। বিগত এক দশক ধরে বিজ্ঞানচিন্তা সেই কাজটাই যত্ন করে করে আসছে।</p><p>গবেষণার সময় দেখেছি, সুপারভাইজাররা যখন নতুন কোনো কাজের জন্য এক গণ্ডা গবেষণাপত্র হাতে ধরিয়ে দিতেন, তা পড়ে বোঝা বেশ শক্ত ছিল; প্রথম প্রথম তো দাঁত বসানো যেত না। সেই জায়গায় বিজ্ঞানচিন্তার পাতায় কোনো নতুন গবেষণার কথা লেখকেরা যে সাবলীলভাবে তুলে ধরেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিজ্ঞানচিন্তার পথচলা আরও সহজ ও মসৃণ হোক, যাতে বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা আগামীতে বলতে পারে, আমাদের ’স্পেস ডটকম’ বা ফিজিকস ডটঅর্গ’ নেই তো কী হয়েছে, বিজ্ঞানচিন্তা তো আছে!</p><h4>লেখক: গবেষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ বিচার সহায়ক বিজ্ঞান পরীক্ষাগার, কলকাতা, ভারত</h4>

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ, সুপারিশ পেলেন ১৭০২ জন
৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ, সুপারিশ পেলেন ১৭০২ জন

৪৫তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বেড়েছে। ১৫ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনের ডাক।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
অভিনন্দন, বিজ্ঞানচিন্তা!
অভিনন্দন, বিজ্ঞানচিন্তা!

<p>এআই নিয়ে কথা উঠলে প্রায় সবাই জানতে চান, এটি আর কী কী পারবে। আমি আজকাল একটু উল্টো প্রশ্ন করি—এটি চালাতে কত বিদ্যুৎ লাগে? বড় এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও ব্যাপক ব্যবহারের জন্য এখন বিশাল ডেটা সেন্টার লাগে। যেখানে হাজার হাজার চিপ চলে এবং সেগুলো ঠান্ডা রাখতে খরচ হয় আরও বিদ্যুৎ। এআইয়ের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ডেটা সেন্টার চালাতে পারমাণবিক বিদ্যুতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করছে। পারমাণবিক প্রকৌশলের একজন গবেষক হিসেবে খবরটা আমার কাছে একই সঙ্গে আকর্ষণীয় এবং একটু অস্বস্তিকরও।</p><p>বিজ্ঞানচিন্তার ১০ বছর পূর্তিতে এই অস্বস্তির কথাটাই পাঠকদের বলতে চাই। বিজ্ঞানচিন্তাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে দেখেছি, আবিষ্কারের চমকের চেয়ে পেছনের প্রশ্নগুলোই তাদের বেশি টানে। এআই নিয়ে সেই আলাপে চাকরি, নিরাপত্তা, এমনকি লেখার মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন এসেছিল। এমন প্রশ্ন তোলার জায়গা আমাদের দেশে খুব বেশি নেই। পত্রিকাটির সম্পাদক, কর্মী, লেখক ও পাঠকদের আন্তরিক অভিনন্দন।</p><p>কথাটা একটু কড়া শোনাতে পারে। যে এআই খুব দ্রুত ও খুব নির্ভুল উত্তর দেয়, অথচ বাস্তবের কোনো যন্ত্রে কাজে লাগানো যায় না, সেটি আমার কাছে খুব দামি একটা ক্যালকুলেটর হয়েই থেকে যায়। ক্যালকুলেটরও দ্রুত এবং নির্ভুলও। আমরা এআইয়ের সাফল্য মাপি কোন মডেল কোন পরীক্ষায় কত নম্বর পেল, তা দিয়ে। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণকক্ষে কিংবা কারখানার মেঝেতে প্রশ্নটা অন্য রকম। এআইটি যন্ত্রের পাশে বসে চলবে তো? কত বিদ্যুৎ টানবে? নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কী হবে?</p><p>জ্বালানি খাতে হিসাবটা আরও সোজা। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য যে এআই বানাচ্ছি, সেটি চালাতেই যদি সাশ্রয়ের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়, তাহলে লাভটা থাকল কোথায়? বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটা আরও কঠিন। এ দেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গায়ে লাগে। তাই বিদ্যুৎ আর খরচের সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই প্রযুক্তি বানাতে হবে। আমাদের দরকার এমন এআই, যা ছোট একটি চিপে, অল্প বিদ্যুতে এবং কম খরচে চলবে।</p><p>এখানে সবচেয়ে ভালো শিক্ষক বোধ হয় আমাদের নিজেদের মস্তিষ্ক। মানুষের মস্তিষ্ক চলে মোটামুটি ২০ ওয়াটে, যা পুরোনো দিনের একটি সাধারণ বাল্বের চেয়েও কম শক্তিতে। এই শক্তিতেই আমরা দেখি, শুনি, নতুন কিছু শিখি এবং বিপদের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিই। মস্তিষ্কের নিউরনের সংকেতভিত্তিক কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নিউরোমরফিক চিপ ও স্পাইকিং নিউরাল নেটওয়ার্ক। এসব ব্যবস্থায় সব সময় সব হিসাব চালানোর বদলে সংকেতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় হিসাব করার চেষ্টা হয়। এতে বিদ্যুৎ বাঁচানোর দারুণ সুযোগ আছে।</p><p>পথটা খুব একটা সহজ নয়। অ্যালগরিদম ও চিপের নকশা একসঙ্গে নতুন করে ভাবতে হয়। তবু আমার বিশ্বাস, বাস্তবে এআই কাজে লাগানোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।</p><p>পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথাই ধরা যাক। একটি কেন্দ্র কয়েক দশক ধরে চলে, তাতে থাকে হাজার হাজার যন্ত্র ও সেন্সর। কঠিন পরিবেশে সময়ের সঙ্গে সেন্সর নিজেও ক্ষয়ে যায়। ফলে তার দেওয়া তথ্যে ধীরে ধীরে ভুল ঢুকে পড়তে পারে। আবার চুল্লির ভেতরের সব জায়গার তাপমাত্রা বা চাপ সরাসরি মাপাও যায় না। কয়েকটি সেন্সরের তথ্য থেকে বাকি জায়গার অবস্থা অনুমান করতে সাহায্য করতে পারে এআই। একে বলে ভার্চ্যুয়াল সেন্সিং। এই তথ্য দিয়ে কেন্দ্রের একটি ডিজিটাল টুইন অর্থাৎ কম্পিউটারে তার ভার্চ্যুয়াল প্রতিরূপ হালনাগাদ রাখা যায়। এর ভিত্তি হলো এমন এআই মডেল, যা সময়সাপেক্ষ জটিল সিমুলেশনের কাজ অনেক দ্রুত করে দিতে পারে।</p><p>এখন এই এআই যদি প্রতিটি সংকেত দূরের সার্ভারে পাঠিয়ে উত্তরের অপেক্ষায় বসে থাকে, তাহলে যোগাযোগের কারণে বাড়তি দেরি হতে পারে। তথ্য আদান-প্রদানের নিরাপত্তাও ভাবতে হবে। যন্ত্রের পাশেই কম বিদ্যুতের একটি চিপে চলতে পারলে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করে সতর্ক করার সম্ভাবনা বাড়ে। রূপপুরের কারণে এই প্রশ্নগুলো এখন আমাদেরও প্রশ্ন।</p><p>তবে এখানে এআইকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা চলে না। এআই কখন ভুল করতে পারে, তার উত্তরে কতটা অনিশ্চয়তা আছে, সেটাও বোঝার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কঠোর যাচাই আর মানুষের তত্ত্বাবধান ছাড়া এখানে কোনো প্রযুক্তি জায়গা পায় না, পাওয়া উচিতও নয়।</p><p>আরেকটি বদল আমাকে বেশ আশাবাদী করে। এখন এমন এআই ব্যবস্থাও তৈরি হচ্ছে, যা শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না, নির্দিষ্ট লক্ষ্য ধরে ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেয়। একে বলা হচ্ছে এজেন্টিক এআই। ধরুন, চুল্লির জন্য এমন উপাদান খুঁজছি, যা বেশি তাপ আর বিকিরণ সইতে পারে। এমন একটি ব্যবস্থায় গবেষক লক্ষ্য ঠিক করে দিলেন। এআই সম্ভাব্য উপাদান বাছাই করল, সিমুলেশন চালাল, ফল দেখে পরের ধাপ প্রস্তাব করল এবং আবার চালাল। চুল্লি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমাদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, তুলনামূলক ছোট একটি ভাষামডেল বা ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলও সিমুলেটরে চালিয়ে যাচাই করে নিয়ন্ত্রণের কৌশল বেছে নিতে শিখতে পারে।</p><p>কিন্তু এমন এজেন্টকে বারবার হিসাব করতে হবে, সিমুলেশন চালাতে হবে। প্রতিবার বিপুল বিদ্যুৎ লাগলে আবিষ্কারের খরচ আকাশ ছোঁবে। ফলে এজেন্টিক আবিষ্কারকে সাশ্রয়ীভাবে কাজে লাগাতে হলে এআইয়ের বিদ্যুৎ খরচও একসঙ্গে ভাবতে হবে। আর কোন ফলটা বিশ্বাসযোগ্য, সে সিদ্ধান্ত এখনো বিজ্ঞানীরই।</p><p>তাই আগামীর এআইকে আমি শুধু পরীক্ষার নম্বর দিয়ে মাপতে চাই না। দেখতে চাই, সেটি বাস্তবের যন্ত্রে বসানো যায় কি না, অল্প বিদ্যুতে চলে কি না এবং নতুন জ্ঞান খুঁজে পেতে সাহায্য করে কি না। জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি কিংবা ভবিষ্যতের স্মার্ট গ্রিড—সব জায়গায় এমন এআইয়ের গুরুত্ব বাড়বে।</p><p>বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এখানে একটি বড় সুযোগ দেখছি। সবচেয়ে বড় এআই মডেল বানানোর দৌড়ে বিপুল টাকা ও অবকাঠামো লাগে। কিন্তু সীমিত যন্ত্রে, অল্প বিদ্যুতে কীভাবে ভালো এআই চালানো যায়; এ প্রশ্নেও অনেক কাজ বাকি। এর সব কাজের জন্য বিশাল ডেটা সেন্টার লাগে না; লাগে ভালো চিন্তা, উপযুক্ত যন্ত্র আর পরীক্ষা করার সুযোগ। পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, ইলেকট্রনিকস আর কম্পিউটার একসঙ্গে বুঝতে পারলে এখানে আমাদের ছেলেমেয়েরাও পথ দেখাতে পারে।</p><p>বিজ্ঞানচিন্তার কাছে আমার চাওয়া, এআইয়ের চমকের খবরের পাশে তার দামটাও পাঠকের সামনে আসুক। কত বিদ্যুৎ লাগল, কোথায় আটকে গেল, আমাদের বাস্তবতায় কাজে লাগবে কি না; এই বিষয়গুলোও আলোচনা করা হোক। কোনো কিশোর বা কিশোরী হয়তো পড়তে পড়তে ভাববে, মস্তিষ্ক যদি এত অল্প শক্তিতে এত কাজ করতে পারে, যন্ত্রকে আরও মিতব্যয়ী করা যাবে না কেন? এমন একটা প্রশ্ন থেকেই এক দিন বড় কোনো গবেষণা শুরু হতে পারে। দশ বছরের পথচলায় বিজ্ঞানচিন্তা এমন প্রশ্ন জাগিয়ে যাক। অভিনন্দন, বিজ্ঞানচিন্তা!</p><h4>লেখক: সহকারী অধ্যাপক, নিউক্লিয়ার, প্লাজমা অ্যান্ড রেডিওলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও ন্যাশনাল সেন্টার ফর সুপারকম্পিউটিং অ্যাপ্লিকেশনস, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইন, যুক্তরাষ্ট্র</h4>

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ভাইকিংসের তিন দশকে আসছে গান ও সিনেমা
ভাইকিংসের তিন দশকে আসছে গান ও সিনেমা

প্রথম দুই অ্যালবামের ১১টি গান নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশের পাশাপাশি দীর্ঘ পথচলার গল্প নিয়ে নির্মাণ করছে ৪৫ মিনিটের একটি সিনেমা। নাম রাখা হয়েছে ‘ভাইকিংস রিপ্লেইড’।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ঢাকার ফুটপাতে মারধরের ঘটনায় আটক সেই যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড
ঢাকার ফুটপাতে মারধরের ঘটনায় আটক সেই যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড

<p>ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে মারধর করা যুবক খালিদ হাসানকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুরে ধানমন্ডির মীনাবাজার এলাকা থেকে খালিদকে আটক করে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে ১৫ দিনের সাজা দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান।</p><p> ডিএমপির রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ আজ প্রথম আলোকে বলেন, গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোডের বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের উল্টো দিকে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর কথা স্বীকার করেছেন খালিদ হাসান। এরপর তাঁকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।</p><p>গত সোমবার দুপুরে এক তরুণীকে (২৩) শ্লীলতাহানির অভিযোগে শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর করেন খালিদ। একপর্যায়ে শহীদ আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ধানমন্ডি থানা–পুলিশ। পরে তাঁকে এক মাসের সাজা দিয়ে কারাগার পাঠান ঢাকা মহানগর পুলিশের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।</p><p>ফুটপাতে শহীদ আবদুল্লাহকে চড়থাপ্পড় মারা ও কান ধরে ওঠবস করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে দুই পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তাঁরা নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের ওই ভূমিকা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন।</p><p>এ ঘটনায় আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডির মীনাবাজার এলাকা থেকে খালিদ হাসানকে আটক করে পুলিশ। আর মারধরের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে তাঁর কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/d056vjg7d5">ঢাকার ফুটপাতে মারধরের ঘটনায় যুবক আটক, দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার</a></aside><p>পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, খালিদ হাসান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। তাঁর ভাগনিকে শ্লীলতাহানি করায় তিনি শহীদ আবদুল্লাহর ওপর চড়াও হয়েছিলেন। গতকাল ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানিয়েছিলেন, শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি মানসিক রোগী। এমবিবিএস পড়ার সময় তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। এরপর বিয়ে হলেও তাঁর সংসার টেকেনি।</p><p>ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী জানিয়েছিলেন, শহীদ আবদুল্লাহ তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ (খারাপ স্পর্শ) করেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের সদস্যরা তাঁকে আটক করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তখন তিনি ফোন করে তাঁর মামাকে ডেকে আনেন। তিনি এসে শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর করেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/5lgqqzebbp">ঢাকার ফুটপাতে একজনকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, ঘটনাটি আসলে কী ঘটেছিল</a></aside><p>ওই মারধরের জন্য আজ খালিদ হাসানের কারাদণ্ড হওয়ার পর ওই তরুণী কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট মামাকে ১৫ দিনের জেল দিয়ে দিছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কান্নাকাটি করে বলেছিলাম, আমাকে নিয়ে যান, আমার মামাকে ছেড়ে দেন। আমাকে রক্ষা করতেই তো তিনি এসেছেন। আমার জন্যই তো তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট আমার কথা শুনলেন না।’</p><p>তাঁকে রক্ষা করতে এসে এখন তাঁর স্বজন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে ওই তরুণী প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে শ্লীলতাহানির ঘটনার সময় পুলিশের সদস্যরা চুপচাপ দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?</p><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি ইমদাদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এএসআই আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তাঁর দায়িত্ব ছিল। আর পুলিশের বাকি দুই সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (দাঙ্গা দমন বিভাগের)। তাঁদের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।</p>

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন