‘সকলে মিলে চেষ্টা করলে আগামী দিনে এই ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে আমরা বহু মানুষকে রক্ষা করতে পারব।’
<p>সাইবার হামলাটি চালানো হয়েছিল সাত শতাধিক সুপারমার্কেটে ব্যবহৃত ডেনমার্কের একটি সফটওয়্যার সিস্টেমের ওপর। ফলে ফ্রিজগুলো অচল হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে অনেক দোকানকে তাদের হিমায়িত খাবার ফেলে দিতে হয়। তবে এই সাইবার হামলা কারা চালিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/0ppdz1b2/7WCLMYRCIBJSVEIQV4ZMKHC7IE.avif"><figcaption>ফ্রান্সের নঁতে শহরের কাছে একটি সুপারমার্কেটে হিমায়িত খাবারের অংশ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সাইবার হামলায় ফ্রান্সের কয়েকটি সুপারমার্কেট চেইনের হিমায়নব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে খাবার নষ্ট হওয়া এবং কয়েকটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে</figcaption></figure><p>গতকাল ১৩ অক্টোবর ফ্রান্সের শত শত সুপারমার্কেটের ফ্রিজ ও হিমাগার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলা হয়েছে। হ্যাকাররা কোল্ড স্টোরেজ নিয়ন্ত্রণকারী সফটওয়্যারে ঢুকে ফ্রিজারের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।</p><p>এতে রাতারাতি নষ্ট হয়ে যায় বিপুল পরিমাণ তাজা ও হিমায়িত খাবার। কোনো কোনো দোকানে তাপমাত্রা বেড়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে ফ্রিজার থেকে গরম বাতাস বের হতে থাকে। কোথাও কোথাও ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।</p><p>ফ্রান্সের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের তথ্যানুযায়ী, দেশটির কয়েক শ সুপারমার্কেট এ হামলার শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে আছে ইন্টারমার্শে, নেত্তো, কুপারেটিভ ইউ, ক্যারফুর ও মনোপ্রিক্সের মতো বড় বড় চেইন শপ। দেশটির কর্তৃপক্ষ হামলার তদন্ত শুরু করেছে। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।</p><h3>ফ্রিজের তাপমাত্রা বেড়ে ৫০ ডিগ্রি </h3><p>হ্যাকাররা ডেনমার্কের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ড্যানফসের তৈরি ফ্রিজ ও হিমাগার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ ব্যবস্থার সাহায্যে সুপারমার্কেটের ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।</p><p>হ্যাকাররা দূর থেকে সেসবের সেটিংস বদলে দেয়। সাধারণত সুপারমার্কেটের ফ্রিজগুলোয় অল্প সময়ের জন্য ডিফ্রস্টিং বা বরফ গলানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চলে, যাতে ফ্রিজে বাড়তি বরফ জমে নষ্ট না হয়।</p><p>কিন্তু হ্যাকাররা সেই প্রক্রিয়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক দীর্ঘ করে দেয়। এতে ফ্রিজগুলোকে ঠান্ডা করার বদলে একটানা গরম রাখতে বাধ্য করে। ফলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে গিয়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো উচ্চমাত্রায় পৌঁছে যায়, যা তাজা ও হিমায়িত খাবার নষ্ট করে দেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/x4obwvvq/X5ELD3LJDZMHXJSJQDZEMLTW4E.avif"><figcaption>ফ্রান্সের প্যারিসে একটি ইন্টারমার্শে সুপারমার্কেটের বাইরে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবারের বাক্স</figcaption></figure><p>ফ্রান্সের একটি সুপারমার্কেটের কোল্ডস্টোরেজের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ায় যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো কোনো স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। আইসক্রিম রাখার ফ্রিজে ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখানোর ছবিও সামনে এসেছে।</p><p>ফ্রিজারের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমার বাইরে চলে গেলে খাবার নিরাপদ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শীতল পরিবেশ নষ্ট হয়। একে বলা হয় ‘কোল্ড চেইন’। এ অবস্থায় খাবার খেলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত অনেক দোকান তাজা ও হিমায়িত খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে।</p><h3>পুরোনো সফটওয়্যারকে লক্ষ্য করে হামলা </h3><p>ডেনমার্কের ফ্রিজিং সরঞ্জাম তৈরি প্রতিষ্ঠান ড্যানফস জানিয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছিল পুরোনো মডেলের। সেসবে আর সফটওয়্যার ও নিরাপত্তার হালনাগাদ দেওয়া হতো না। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই গ্রাহকদের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখার এবং পুরোনো ব্যবস্থার বদলে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে আসছিল।</p><p>তবে ঠিক কোন দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা এসব ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত যন্ত্রপাতির নিরাপত্তায় সামান্য ত্রুটিও যে বড় বিপদের কারণ হতে পারে, এ ঘটনা তারই উদাহরণ।</p><h3>কতটা ক্ষতি হয়েছে </h3><p>ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেস্কিউর গতকাল ১৩ অক্টোবর পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, দেশটির ১০ হাজার সুপারমার্কেটের মধ্যে প্রায় ৭০০টি এ ঘটনার কবলে পড়েছে। তবে এতে জনগণের খাদ্য সরবরাহে বড় কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই সাইবার হামলা খাদ্যনিরাপত্তার মূল ভিত্তিকে আঘাত করেছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি সবার জন্যই একটি বড় সতর্কবার্তা।</p><p>ফ্রান্সের বিভিন্ন সুপারমার্কেট চেইনের তথ্যানুযায়ী, ইন্টারমার্শে ও নেত্তোর প্রায় ৩০০টি দোকান ও কুপারেটিভ ইউর ২ হাজার দোকানের মধ্যে অন্তত ৮০টি দোকান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ক্যারফুর ও মনোপ্রিক্সের কিছু দোকানেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের সঠিক সংখ্যা ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/4kyc2o1v/SFXJIX6LWZLWBPWP32ZTLRDD24.avif"><figcaption>ফ্রান্সের প্যারিসে একটি ইন্টারমার্শে সুপারমার্কেটের বাইরে কর্মীরা নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার বাক্সে ভরছেন</figcaption></figure><p>কুপারেটিভ ইউয়ের প্রধান ডমিনিক শেলচার জানান, কিছু দোকানে দ্রুত কারিগরি সহায়তা পৌঁছানোয় খাবার নষ্ট হওয়া ঠেকানো গেছে। তবে যেসব দোকানে ফ্রিজের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছিল, সেখানে বিপুল পরিমাণ খাবার ফেলে দিতে হয়েছে।</p><p>১৩ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে শেলচার বলেন, এ হামলা ছিল অপ্রত্যাশিত ও অত্যন্ত গুরুতর। ইউরোপের বড় বাণিজ্যিক রেডিও নেটওয়ার্ক আরটিএলকে তিনি বলেন, হামলাকারীরা সাধারণ মানুষের খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার ওপর আঘাত হেনেছে। দীর্ঘ পেশাগত জীবনে তিনি এমন ঘটনা দেখেননি।</p><p>ক্ষতির সুনির্দিষ্ট হিসাব না দিলেও শেলচার জানান, ফ্রিজিং ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে একটি ছোট সুপারমার্কেটের কয়েক হাজার ইউরো ক্ষতি হতে পারে। বড় হাইপারমার্কেটের ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে দুই লাখ ইউরোর বেশি।</p><p>উত্তর ফ্রান্সের একটি ছোট শহরের সুপারমার্কেট ব্যবস্থাপক জুলিয়েন ফ্রেরেট জানান, তাঁদের দোকানের সব তাজা ও হিমায়িত খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। গ্রামীণ এলাকায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা তাঁরা কল্পনাও করেননি। দোকানের সব পণ্য ফেলে দিতে হওয়ায় সেদিন ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার মতো কিছুই ছিল না।</p><h3>তদন্ত চলছে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/wvv4gquq/UFLGQUG4QJJWFG3ITTNDXUVN54.avif"><figcaption>ফ্রিজের পাশে রাখা নোটিশে লেখা, ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আমাদের দোকানে সাইবার হামলা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের হিমায়নব্যবস্থা।’</figcaption></figure><p>এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। হামলাকারীদের কাছ থেকে মুক্তিপণও দাবি করা হয়নি। সাধারণত সাইবার অপরাধীরা অর্থ আদায়ের জন্য হামলা চালালে মুক্তিপণ দাবি করে। আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হামলা চালালে কোনো কোনো গোষ্ঠী নিজেদের দায় স্বীকার করে। এ ঘটনায় তেমন কিছু না ঘটায় হামলার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।</p><p>প্যারিসের পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয়ের সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ তদন্ত করছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শনাক্ত করা, খাবার নষ্ট হওয়ার সঙ্গে সাইবার হামলার যোগসূত্র খুঁজে বের করা এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোর কারণ নির্ধারণ করা এই তদন্তের অংশ।</p><p>ড্যানফস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সঙ্গে তারা সরাসরি যোগাযোগ করছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা দিচ্ছে। তবে এ ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সাইবার হামলার লক্ষ্য হতে পারে। তাই সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের নয়, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার বেলায়ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।</p><p><sup>সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, ইউরো নিউজ, এবিসি নিউজ ও রয়টার্স</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%AB%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%AB-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%B8">স্মার্টফোনের ৫ নিরাপত্তা টিপস</a></aside>
জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি দ্রুত পুনর্নির্ধারণের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিকপক্ষ, শ্রমিকনেতা ও অর্থনীতিবিদেরা।
সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার মামলায় আদালতে আরও একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাদী বদিউল আলম মজুমদারকে আবার জেরার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
যুদ্ধাপরাধীদের বাইরে অন্য কারও বিচার ট্রাইব্যুনালে হয়েছে বলে জানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
<p>এ বছর জুন মাসে বাংলা একাডেমি থেকে আমার একটি বই প্রকাশিত হয়। <em>ইউক্লিডের এলিমেন্টস (প্রথম পর্ব)</em>। প্রায় ২ হাজার ৩০০ বছর ধরে মানবসভ্যতায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আসা গণিতশাস্ত্রের সবচেয়ে মৌলিক গ্রন্থ ইউক্লিডের <em>এলিমেন্টস</em>-এর প্রথম ছয়টি পরিচ্ছেদের বাংলা অনুবাদ ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ। এই গ্রন্থটি প্রকাশের পরপরই বিজ্ঞানচিন্তা একটি বিশেষ প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে। পরে তা বিজ্ঞানচিন্তা ও প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয়। এই খবর দেশের বিজ্ঞান অনুরাগী ও সাধারণ পাঠকমহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিজ্ঞান ভাবনার গ্রন্থকে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি ছিল এক অসামান্য পদক্ষেপ। বিজ্ঞানচিন্তার মতো একটি সচেতন মাধ্যম ছিল বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। আমাদের সমাজে যদি এমন একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকত, তবে এই জ্ঞানচর্চার বিস্তার আরও বহুগুণ তীব্র ও ফলপ্রসূ হতো।</p><p>বিজ্ঞানচিন্তার এই প্রগতিশীল উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা যদি আজকের বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার দিকে চোখ ফেরাই, তবে দেখতে পাব আন্তঃপ্রজাতি সংলাপের এক অভূতপূর্ব অধ্যায়, যা মানব ইতিহাসে অন্য কোনো প্রজাতির সঙ্গে যোগাযোগের প্রথম বৈজ্ঞানিক সেতু। অথচ প্রকৃতির কী অদ্ভুত পরিহাস! ভিন্ন বুদ্ধিমত্তা ও মহাজাগতিক চেতনার খোঁজে আমরা যখন আলোকবর্ষ দূরে চোখ মেলে রেখেছিলাম, তখন সেই প্রজ্ঞার সুর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহমান ছিল আমাদেরই ঘরের পাশের অন্ধকার নীল জলরাশির নিচে। মানুষ যখন বিশালাকার তিমিকে কেবল বাতি জ্বালানোর তেল ও চর্বির উৎস হিসেবে কেটে টুকরো করেছে, তখনো সমুদ্রের হাজার হাজার ফুট গভীরে—যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না—প্রতিধ্বনিত হয়ে চলেছিল তাদের অনুভূতির দীর্ঘ স্বর: ‘আমি এখানে আছি, আমি জীবিত আছি।’</p><p>আজ আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বায়ো-অ্যাকুস্টিকসের সমন্বিত প্রয়াস আমাদের চোখের সামনে থেকে অন্ধকারের পর্দা সরিয়ে দিচ্ছে। প্রজেক্ট সেটির মতো বৈশ্বিক উদ্যোগের সাম্প্রতিক আবিষ্কার আমাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। স্পার্ম ও হাম্পব্যাক তিমির জটিল ধ্বনিতরঙ্গ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, তাদের নির্গত শব্দ কেবল কোনো যান্ত্রিক সাড়া নয়; মানুষের ভাষার মতোই সেখানে রয়েছে নির্দিষ্ট ছন্দ, ব্যাকরণ, সময়মাত্রা, এমনকি স্বরবর্ণ ও দ্বিস্বরবর্ণের মতো জটিল গঠন।</p><p>প্রকৃতির এই গোপন দুয়ার খুলে দেওয়ার পেছনে যে হাতিয়ারটি সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কিন্তু সমুদ্রের নিচের এই অলিখিত ভাষার রহস্য উন্মোচনে এআই যেমন সাহায্য করছে, অন্যদিকে তেমনি তা মানবসভ্যতার জন্য নিয়ে আসছে অস্তিত্বের এক নতুন প্রশ্ন। মানবসভ্যতার সূচনা থেকেই গণিতকে ধরা হয়েছে মানুষের বিশুদ্ধ মেধা ও যুক্তির সর্বোচ্চ স্তম্ভ হিসেবে। জটিল উপপাদ্য প্রমাণ কিংবা যুগের পর যুগ অমীমাংসিত গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা ছিল কেবল মানুষের মস্তিষ্কেরই একচ্ছত্র অধিকার। কিন্তু প্রযুক্তির এই নতুন সন্ধিক্ষণে এসে আমাদের সেই চিরন্তন অহংকার প্রবল ঝাঁকুনি খেয়েছে। এআই এখন একের পর এক গাণিতিক অচলাবস্থা ভেঙে ফেলছে। ফিলাডেলফিয়ার আন্তর্জাতিক গণিত সম্মেলনে এ নিয়ে গণিতবিদদের গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশিত হয়েছে, যা আজ বৈজ্ঞানিক মহলে ‘গণিতের এআই অ্যাপোক্যালিপস’ নামে আখ্যায়িত হচ্ছে।</p><p>প্রযুক্তির এই অভাবনীয় জয়যাত্রা দেখে মনে প্রশ্ন জাগে, কেন এমন হলো? যন্ত্রের মেধা এত দ্রুত অগ্রসর হলেও আমাদের নৈতিক ও মানবিক চেতনা কেন এভাবে পিছিয়ে পড়ছে? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ছয় কোটি মানুষের মৃত্যু, পরিবেশের চরম অবক্ষয় কিংবা আধুনিক প্রযুক্তিচালিত মনস্তাত্ত্বিক বিচ্ছিন্নতা—কোনো কিছুই যেন আমাদের বোধের সঠিক জাগরণ ঘটাতে পারেনি। ১৯৫৯ সালে বিজ্ঞানী ও ঔপন্যাসিক সি পি স্নো তাঁর বিখ্যাত ‘দ্য টু কালচারস’ বক্তৃতায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বিজ্ঞান এবং মানবিকতা যদি দুটি বিচ্ছিন্ন সংস্কৃতিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তবে তা মানবজাতি ও চিন্তাজগতে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। আজ সেই শঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে।</p><p>১৯৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসরের উদ্ভাবক ফেদেরিকো ফাজিন চেতনা ও অস্তিত্বের উত্তরণের যে গভীর দর্শনের কথা তুলে ধরেছিলেন, আমরা তা অনুধাবন করার চেষ্টা করিনি। ফলে রোবোটিকসের অধ্যাপক হ্যান্স মোরাভেক কয়েক দশক আগে যে যান্ত্রিক স্বর্গের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তা আজ আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। একদিকে কৃত্রিম স্বর্গের মোহময় হাতছানি, আর অন্যদিকে মানুষের জৈবিক ও নৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার ব্যাকুল সংগ্রাম—এই দুই বৈপরীত্যের মাঝে পড়ে আমরা আজ এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক ধাক্কার মুখোমুখি।</p><p>বিশ্বজুড়ে যখন ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির চরম বাস্তবতা ও প্রযুক্তিগত এই সাংস্কৃতিক ধাক্কা ঘনীভূত হচ্ছে, তখন আমাদের মতো সমাজে এসব অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা নেই বললেই চলে। অথচ প্রযুক্তি আর প্রকৃতির এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে বিষয়গুলোকে অনুধাবন করে কাজ করার পথ এখনো খোলা রয়েছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ইতিহাসবিমুখতা, ভঙ্গুর রাজনীতি আর অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে আমাদের সামাজিক চিন্তাশক্তি আজ অনেকটাই অবরুদ্ধ। আমাদের নীতিনির্ধারক ও উপদেষ্টাদের ডিগ্রির ঘাটতি না থাকলেও, নতুন যুগের এসব বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও মেধা অনুধাবনের চেয়ে মোসাহেবিতেই তাঁদের আগ্রহ বেশি।</p><p>এমন এক স্থবির ও আত্মঘাতী সময়ে মাসিক বিজ্ঞানচিন্তা তার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পা রাখল। বাংলাদেশে যেখানে বিচ্ছিন্ন কিছু প্রচেষ্টা ছাড়া নিয়মিত বিজ্ঞানচর্চা ও বিজ্ঞান সাংবাদিকতার প্রদীপ জ্বালাবার মতো আর কেউ নেই, সেখানে বিজ্ঞানচিন্তা টানা এক দশক ধরে আলোর বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে; এক ছাদের নিচে যুক্ত করছে হাজারো বিজ্ঞানমনস্ক মানুষকে।</p><p>আজকের দিনে বিজ্ঞান কেবল ল্যাবরেটরির চার দেয়ালের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়; প্রযুক্তি আমাদের অস্তিত্বকে কোন অভিমুখে নিয়ে যাচ্ছে আর নৈতিকতার নিত্যনতুন সংকট কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এই মৌলিক প্রশ্নগুলো তৈরি করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমই হলো বিজ্ঞান। এমন একটি যুগে বিজ্ঞানচিন্তার মতো শতাধিক চিন্তাশীল প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠা জরুরি, যেন মানুষ অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার আর যান্ত্রিক অপসংস্কৃতির গ্রাস থেকে বেরিয়ে চিন্তার নতুন আলো দেখতে পায়। বিজ্ঞানচিন্তার এই ১০ বছরের যাত্রা কেবল একটি সাময়িক পত্রিকার টিকে থাকা নয়, এটি মুক্তচিন্তার স্বাধীনতা ও বৈজ্ঞানিক মনন গড়ে তোলার এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ ক্ষণে বিজ্ঞানচিন্তা ও এর নেপথ্যের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এই প্রয়াস যেন আরও অজস্র উদ্যোগকে অনুপ্রাণিত করে। প্রশ্ন জাগে, এই অনুপ্রেরণা থেকেই কি আগামী দিনের আলোকিত মানুষেরা অস্তিত্বের সমীকরণ মেলাতে সক্ষম হবেন?</p><h4>লেখক: বিজ্ঞানবক্তা, সম্পাদক, <em>মহাবৃত্ত</em></h4>
পুলিশ জানিয়েছে, রাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনের সড়কে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়েছে, আরেকটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় রয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন