বিজ্ঞান

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধ্বংস হয়ে গেল নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ

নভেম্বর ৬, ২০২৬
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধ্বংস হয়ে গেল নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধ্বংস হয়ে গেল নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ
<p>উৎক্ষেপণের প্রায় ২২ বছর পর অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসে বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে নাসার স্পেস টেলিস্কোপ সুইফট। মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ গামা–রে বার্স্ট এবং অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুর তথ্য সংগ্রহের জন্য ২০০৪ সালে ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড ওজনের সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন মহাকাশে সফলভাবে বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বর্ধিত সৌর কার্যকলাপের কারণে স্পেস টেলিস্কোপটির কক্ষপথ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেছিল।</p><p>ইউএস স্পেস ফোর্সের তথ্যমতে, সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ গত বুধবার সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের ওপরে থাকা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বায়ুমণ্ডলে ঘর্ষণের ফলে টেলিস্কোপটির বেশির ভাগ অংশ পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে।</p><p>গত আগস্টে সুইফট স্পেস টেলিস্কোপটিকে রক্ষা করার জন্য তিন কোটি ডলার ব্যয়ে একটি উদ্ধারকারী মহাকাশযান পাঠিয়েছিল নাসা। মহাকাশযানটির মাধ্যমে টেলিস্কোপটিকে উচ্চতর কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। তবে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।</p><p>নাসার প্রশাসক জারেড আইজ্যাকম্যান এক বিবৃতিতে জানান, মিশনটি মানুষের জানার পরিধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সুইফট দুই হাজারের বেশি গামা–রে বার্স্ট এবং ১ হাজার ৪০০টি বিস্ফোরিত তারা আবিষ্কার করার পাশাপাশি ধূমকেতু, গ্রহাণু ও কৃষ্ণগহ্বরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে।</p><p>সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ ধ্বংসের বিষয়ে পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং মিশনের সঙ্গে যুক্ত জন নৌসেক বলেন, ‘আমরা সুইফট উৎক্ষেপণের আগ থেকেই এই দিনের কথা জানতাম। নিম্ন কক্ষপথে যা ওপরে ওঠে, তা নিচে নামবেই। আর সেই সমাপ্তি ধ্বংসাত্মক হয়।’</p><p>সুইফট স্পেস টেলিস্কোপের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল যেকোনো মহাজাগতিক বিস্ফোরণের দিকে দ্রুত ঘুরে যাওয়ার ক্ষমতা। আর তাই হাবল ও জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মতো বড় টেলিস্কোপগুলোর জন্য সুইফট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল।</p><p>সূত্র: ডেইলি মেইল</p>

Prothomalo

View more
কেয়ারটেকার মানেন নাই, মেনেছেন; সংস্কার মানেন নাই, মানতে হবে: জামায়াত আমির
কেয়ারটেকার মানেন নাই, মেনেছেন; সংস্কার মানেন নাই, মানতে হবে: জামায়াত আমির

<p>সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘কেয়ারটেকার মানেন নাই?... মেনেছেন। সংস্কার মানেন নাই?...মানতে হবে।’</p><p>আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।</p><p>আলোচনা সভায় জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। কিন্তু এখন তারা গণভোটের রায় মানছে না; বাকশালি ধারায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে সে আয়োজন ষোলো কলায় পূর্ণ হতে চলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের সব কটি সংসদের প্রথম অধিবেশনে তোলা হয়নি উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, যেসব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ বন্ধ হতো, সেগুলোর মধ্য থেকে ২০টি সরকার বাদ দিয়েছে।</p><p>বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনসহ সব জায়গায় সরকার দলীয়করণ করেছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করা শুরু হয়েছে। দুদকের চেয়ারম্যানকে সরিয়ে যাঁকে বসানো হয়েছে, তাঁর আমলনামা এর মধ্যেই জাতি জানতে পেরেছে; এমন মানুষ দিয়ে দুর্নীতি দমন করা অসম্ভব। পিএসসির চেয়ারম্যান ও দুজন সদস্যকে চায়ের দাওয়াত দিয়ে বিদায় দেওয়া হয়েছে।</p><p>শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলোর প্রতিবাদ না করলে বিরোধী দল হিসেবে অর্পিত দায়িত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। এ দেশে বিপ্লব বারবার আসবে, দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাস সেটির প্রমাণ।</p><p>সরকারকে ভুল পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আধিপত্যবাদের বিরোধিতার কথা বললেও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে সরকার কী করেছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। অদৃশ্য কোনো চুক্তি দেশের মানুষ মানবে না।</p><p>জামায়াত আমির আরও বলেন, সামরিক অফিসাররা তাঁদের প্রতি উপহাস ও অপমানের প্রতিশোধ নিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। এর পর থেকে ওই বছরের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতার উত্থান–পতন ও অনেক পালাবদল হয়। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটান। তবে সামরিক কর্মকর্তারা সে পাল্টা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেন।</p><p>৭ নভেম্বরের ইতিহাস প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘৩ থেকে ৬ নভেম্বর জিয়াউর রহমান বন্দী ছিলেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অবদান নেই, তিনি নিরুপায় ছিলেন। তাঁকে সিপাহিরাই ৭ নভেম্বর মুক্ত করে এনেছিলেন। বিপ্লব সিপাহিরা করেছিল, সংহতি জানিয়েছিল সাধারণ জনগণ। এ জন্যই দিবসটির নাম হয়েছে বিপ্লব ও সংহতি দিবস।’</p><p>বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমান ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতি হলেন এবং বিএনপি গঠনের কাজে এগিয়ে গেলেন। ১৯৭১ সালে বিএনপি ছিল না, ১৯৭৫ সালেও ছিল না। তবে দুই সময়েই জিয়াউর রহমান ছিলেন। তাঁকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আশপাশে থাকা তাঁর দলের কারও কিছু হলো না। সবকিছুই রহস্য থেকে গেল।</p><p>ইতিহাসে যাঁর যা অবদান রয়েছে, তাঁকে সেই স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারও অবদানকে ছোট করে দেখার পক্ষে নই। স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে মারামারিতে আমরা নাই। যিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ সেটা শুনেছে। আবার স্বাধীনতার পতাকা একজন তরুণ নেতা সেদিন উড়িয়েছিলেন। এটা এখন আর আলোচনায় আসে না। জনাব আ স ম আবদুর রব। তাঁর নামটি কিন্তু কেউ বলে না। বললে নিজের ক্রেডিট চলে যায়।’</p><p>বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী। তাঁর নামটি কি কেউ এখন মুখে নেয়? এটা নিলে নিজের এবং নিজের দলের কোনো কৃতিত্ব থাকে না। এসব হীনম্মন্যতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যাঁর যেখানে অবদান, তাঁর স্বীকৃতি দিতে হবে।’</p><p>ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আবদুর রহমান মূসা ও গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত।</p>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
গোল করেই কেন কেঁদেছিলেন ইব্রাহিম
গোল করেই কেন কেঁদেছিলেন ইব্রাহিম

বাংলাদেশ দলে এখনো নির্ভরযোগ্য একজন স্বীকৃত স্ট্রাইকারের অভাব। ইব্রাহিমকে সেই ভূমিকায় খেলানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ৭ মুসলিম
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ৭ মুসলিম

<p>যুক্তরাষ্ট্রে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রসের উভয় কক্ষে অন্তত সাতজন মুসলিম আইনপ্রণেতা জয় পেয়েছেন। নাগরিক অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পররাষ্ট্রনীতি ছিল প্রার্থীদের প্রচারের মূল বিষয়। এই নির্বাচনের ফল ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। ডেমোক্রেটিক দল রিপাবলিকানদের হারিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। নবনির্বাচিত ও পুনর্নির্বাচিত কয়েকজন আইনপ্রণেতা আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড বজায় রাখা, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং গাজায় চলমান গণহত্যার মধ্যে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়গুলোও তাঁদের প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছেন।</p><p><strong>আবদুল আল-সাইয়েদ</strong></p><p>৪২ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সিনেটে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম। তিনি সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক রজার্সকে হারিয়েছেন। অবসরে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি রিপাবলিকান পার্টি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিক থেকে মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণের শিকার হন।</p><p>গত আগস্টে ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে জয়ী আল-সাইয়েদ ইসরায়েলকে নিঃশর্ত অস্ত্র সরবরাহের সমালোচনা করেন এবং গাজায় সামরিক অভিযানকে গণহত্যা বলে আখ্যা দেন। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে প্রাইমারিতে আল-সাইদের কাছে হেরে যাওয়া হ্যালি স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন দেন। গাজা নিয়ে আল-সাইয়েদের বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।</p><p><strong>ইলহান ওমর</strong></p><p>ডেমোক্র্যাট নেত্রী ইলহান ওমর মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পঞ্চমবারের মতো জয় পেয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান জন নাগেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ডেভলে জ্যাকসনকে পরাজিত করেন। ইলহান ১২ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে দেশটির প্রথম সোমালি-আমেরিকান ফেডারেল আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হলেও তিনি মার্কিন অস্ত্র বিক্রির ওপর নজরদারি ও মানবিক সহায়তার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।</p><p><strong>রশিদা তালিব</strong></p><p>ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রশিদা তালিব মিশিগানের ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপারকে পরাজিত করেন। রশিদা কংগ্রেসের ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত একমাত্র মার্কিন সদস্য। তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগ, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন।</p><p><strong>অ্যাডাম হামাভি</strong></p><p>৫৬ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হামাভি নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান গ্রেগ মেলেককে হারিয়ে নিউ জার্সি থেকে কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম মুসলিম সদস্য হলেন। হামাভি একজন প্লাস্টিক সার্জন, অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা চিকিৎসক এবং ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ সৈনিক।</p><p>অ্যাডাম ২০২৪ সালে গাজার ইউরোপিয়ান হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনী প্রচারে গাজায় মানুষের দুর্ভোগের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন হামাভি। তিনি সবার জন্য মেডিকেয়ার চালু, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের ঋণ বাতিল, মার্কিন অভিবাসন সংস্থা আইসিই বিলুপ্তকরণ এবং ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে প্রচার চালান।</p><p><strong>দারিআলিজা আভিলা শেভালিয়ে</strong></p><p>নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী দারিআলিজা আভিলা শেভালিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের আসন নিশ্চিত করেছেন। তিনি গত জুনের প্রাইমারি নির্বাচনে অভিজ্ঞ কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইল্লাতকে পরাজিত করেছিলেন। শেভালিয়ে একজন নাগরিক অধিকারকর্মী, গবেষক। তিনি পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি নির্বাচনে ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রচারে মাঠপর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।</p><p><strong>আন্দ্রে কারসন</strong></p><p>ইন্ডিয়ানার ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা আন্দ্রে কারসন রিপাবলিকান প্যাট্রিক ম্যাকঅলি এবং লিবার্টেরিয়ান জেমস সিনিয়াককে হারিয়ে তাঁর আসন ধরে রেখেছেন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী মুসলিম সদস্য। তিনি নীতিগতভাবে আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা, সমান মানবিক মর্যাদা ও মানবিক সহায়তার ওপর জোর দেন।</p><p><strong>লতিফা সাইমন</strong></p><p>ক্যালিফোর্নিয়ার ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী লতিফা সাইমন। তিনি সহকর্মী ডেমোক্র্যাট জেমি জয়েসকে পরাজিত করেন। সাইমন আক্রমণাত্মক মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।</p><p>ক্যালিফোর্নিয়ার অপর একটি কংগ্রেশনাল আসনে ভোট গণনা চলাকালে আরেক মুসলিম প্রার্থী আয়েশা ওহাব প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে ছিলেন।</p>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের 
পরাজয়ে বড় পতন শেয়ারবাজারে
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ে বড় পতন শেয়ারবাজারে

<p>— সবচেয়ে বেশি কমছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানির শেয়ারদর।<br>— ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ইলন মাস্কের টেসলা ও স্পেসএক্সে শেয়ারের বড় পতন।<br>— ইলন মাস্কের সম্পদ গতকাল দিন শেষে কমে ৮০ হাজার কোটি ডলারের নিচে।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ের পর বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উন্নয়নের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সে আশঙ্কায় গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনেই মার্কিন পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার কমে গেছে। যার প্রভাবে বড় দরপতনের মুখে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারও।</p><p>আজ শুক্রবার লেনদেন শুরু হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক কেওএসপিআই প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে দেশটির প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন ২০ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এর আগে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক নাসডাক ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে যায়। গত ৬ অক্টোবর সূচকটি রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল। সে তুলনায় হিসাব করলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সূচকটি ১০ শতাংশ কমেছে।</p><p>গত বছরের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবারের আগপর্যন্ত নাসডাক সূচকের এত বড় দরপতন আর দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের অন্যান্য সূচকও বড় পতনের মুখে পড়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও ডাও জোনস সূচকও কমেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর ১ দিনে এ দুটি সূচকও এত বড় পতনের মুখে আর কখনো পড়েনি।</p><p>অথচ বুধবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গিয়েছিল। সেদিন ডাও জোনস সূচক ১ হাজার ৫৬৯ পয়েন্ট বেড়েছিল। নাসডাক বেড়েছিল ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। যদিও তখন পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল পুরোটা সামনে আসেনি। নির্বাচনের ফলাফলে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর বৃহস্পতিবার ডাও জোনস সূচক ১ হাজার ৮৩৩ পয়েন্ট কমে যায়। বুধবার প্রধান সূচকগুলো বাড়লেও সেমিকন্ডাক্টর চিপ নির্মাতা ও এআই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর ছিল নিম্নমুখী। এর ফলে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির হিড়িক লেগে যায়। এর প্রভাব পড়ে শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকগুলোতেও।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে শেয়ারের এ দরপতনের অন্যতম কারণ টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসের জয়। এআই প্রযুক্তির বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এ অঙ্গরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গুগল, মেটা, ওরাকল ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান সেখানে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। তবে নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসে নির্বাচনী প্রচারের সময় অঙ্গরাজ্যে সাময়িকভাবে ডেটা সেন্টার (তথ্যকেন্দ্র) নির্মাণ বন্ধ রাখা এবং এ খাতে বিনিয়োগকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কিছু করছাড় প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।</p><p>টেক্সাসের মতো যেসব অঙ্গরাজ্যে বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ করছে, সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ের পর এআই খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা চিপ নির্মাতা ও তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ার ব্যাপক হারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম গতকাল এক দিনেই কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর একটি সূচকও ১২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্রায় সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে এক দিনে সূচকটি এত বড় পতন আর দেখেনি। এ ছাড়া ইলন মাস্কের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দাম কমেছে ১১ শতাংশ। তাঁর মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমেছে ৯ শতাংশ।</p><p>এদিকে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের বড় দরপতনে কোম্পানি দুটির মালিক ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ বৃহস্পতিবার এক দিনেই ৮০০ কোটি ডলার কমে যায়। এর ফলে ওই দিন শেষে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৮০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে। অথচ এক মাসের কম সময় আগে তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ট্রিলিয়নিয়ার বা এক লাখ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হয়েছিলেন।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রায় ৪৫ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন ইলন মাস্ক। দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো ব্যক্তির এটাই সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অনুদান। তবে বিপুল অর্থ খরচ করেও ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় ঠেকাতে পারেননি তিনি। এ পরিস্থিতিতে তাঁর ব্যবসা–বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে, এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।</p><p>নির্বাচনের ফলাফল বেরোতেই দেখা গেল, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টেসলা ও মহাকাশযানসংশ্লিষ্ট কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। ফলে তাঁর সম্পদের মূল্যও দ্রুত কমতে থাকে। ফোবর্সের রিয়েল টাইম হিসাবে, আজ সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময়) ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।</p>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
ঢাকায় আদিবাসীদের খাদ্য ও শস্য মেলা
ঢাকায় আদিবাসীদের খাদ্য ও শস্য মেলা

<p>পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও শস্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ‘আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা’। মেলায় রয়েছে জুমে উৎপাদিত নানা ধরনের শাকসবজি, ফলমূল, শস্য, বিন্নি চালের পিঠা, পাজনসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার। খাবারের পাশাপাশি মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গান। উন্নয়ন সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ ও আদিবাসী সুহৃদদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুরের ১৩ নম্বরে পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/3unkr2f8/Ethnic-MainoritiesFair06112601.jpg"><figcaption>বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন অতিথিরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/mmisvjkj/Ethnic-MainoritiesFair06112602.jpg"><figcaption>মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছেন অতিথিরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/63erz3qv/Ethnic-MainoritiesFair06112603.jpg"><figcaption>মঞ্চে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নাচ পরিবেশন করছেন শিল্পীরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/2oanjwjo/Ethnic-MainoritiesFair06112604.jpg"><figcaption>নাচ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/opazkwta/Ethnic-MainoritiesFair06112605.jpg"><figcaption>মেলার স্টলে বিভিন্ন ধরনের ফলমূলের পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/36boiif6/Ethnic-MainoritiesFair06112606.jpg"><figcaption>মেলায় বিক্রির জন্য ভুট্টা পোড়াচ্ছেন এক বিক্রেতা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/lhd9wa65/Ethnic-MainoritiesFair06112607.jpg"><figcaption>জুমচাষের মাধ্যমে উৎপাদিত নানা ধরনের শাকসবজি সাজিয়ে রাখা হয়েছে মেলার স্টলে। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/qj89seay/Ethnic-MainoritiesFair06112608.jpg"><figcaption>বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের মাছের শুঁটকি। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/5gx8po92/Ethnic-MainoritiesFair06112609.jpg"><figcaption>মেলায় প্রদর্শন করা হয়েছে আপফোল্খা (তিতা ফল)।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/eme12n0s/Ethnic-MainoritiesFair06112610.jpg"><figcaption>মেলা থেকে জুমে উৎপাদিত নানা ধরনের শাকসবজি, ফলমূল ও শস্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।</figcaption></figure>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
দেশের মানুষ আ.লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য খবর
দেশের মানুষ আ.লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য খবর

দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নভেম্বর ৬, ২০২৬
জুমার নামাজ শেষে শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময়
জুমার নামাজ শেষে শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময়

জুমার নামাজ আদায়ের পর শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নভেম্বর ৬, ২০২৬
সবাই যখন জুমার নামাজে, তখন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিল দুর্বৃত্তরা
সবাই যখন জুমার নামাজে, তখন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিল দুর্বৃত্তরা

সবাই যখন জুমার নামাজে ব্যস্ত, তখন চাঁদপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ৬ নভেম্বর দুপুরে চাঁদপুর শহরে এ ঘটনা ঘটে

নভেম্বর ৬, ২০২৬
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইজেনকট, নেতানিয়াহু কি বিদায় নিচ্ছেন
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইজেনকট, নেতানিয়াহু কি বিদায় নিচ্ছেন

<p>ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। ফলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারাচ্ছেন কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।