শুধু এই ম্যাচই নয়, চলতি মৌসুমে কুমিল্লায় লিগের ম্যাচ আয়োজন নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে
<p>প্রবাসী কর্মীরা যেন বিমানবন্দরে কোনো রকম অবহেলা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে নজর রাখার সুপারিশ করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।</p><p>বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৫৯০ জন নারী কর্মী। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।</p><p>বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি ও বাজেট বরাদ্দ পর্যালোচনা করা হয়। অনিয়ম, দুর্নীতি যাতে না হয়, সে জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে সুপারিশ করে কমিটি।</p><p>কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্যদের মধ্যে অংশ নেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, জসীম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম হিলালী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, আনোয়ারুল ইসলাম এবং আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।</p><h3>নতুন ছয় গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/1l7jg21t/WhatsApp_Image_2026_10_08_at_10_10_34_PM.jpeg"><figcaption>বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। সংসদ ভবন। ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><p>এখন ২৩টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ভবিষ্যতে আরও ছয়টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।</p><p>সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া প্রতিবেদনে বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৫ দেশের ২৩ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চলাচল করে। যেগুলো হলো—সৌদি আরবে দাম্মাম, জেদ্দা, রিয়াদ ও মদিনা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, দিল্লি, চেন্নাই, যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার, ওমান, কুয়েত, কাতার, ইতালি, কানাডা, নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন ও জাপান। বর্তমানে বিমানের বহরে নিজস্ব ১৯টিসহ ২১টি উড়োজাহাজ রয়েছে।</p><p>প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২০২৬ থেকে ২০৩৪-২০৩৫ অর্থবছরের জন্য বিমানের ‘নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ফ্লিট প্ল্যান’ অনুযায়ী বর্তমানে লাভজনক রুটগুলোতে সাপ্তাহিক ফ্রিকুয়েন্সি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক উড়োজাহাজ সংগ্রহ সাপেক্ষে নতুন নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক রুটে নতুন গন্তব্য হিসেবে মালে, কুনমিং, সিডনি, জাকার্তা, সিউল এবং উহানে সেবা সার্ভিস সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। বাহরাইনে আবার ফ্লাইট চালু করার পরিকল্পনা আছে তাদের। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হওয়া সাপেক্ষে নিউইয়র্কে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে বিমানের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।</p><p>কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে অংশ নেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, কামরুল হাসান ও আবু তালিব।</p>
<p>জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুলায়মান হোসাইনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা, হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেছে একটি পরিবার। ওই পরিবারের গৃহকর্তা আলতাফ হোসেনের অভিযোগ, জমি লিখে না দিলে কবরও দিতে দেবে না—এমন হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আলতাফ হোসেন।</p><p> আলতাফ হোসেন (৮২) ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। কৃষক দল নেতা সুলায়মানও ওই এলাকার বাসিন্দা। তিনি কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক।</p><p> সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলতাফ হোসেন বলেন, সুলায়মান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জমি দখল, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ তাঁদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। এর মধ্যে পাঁচটি দাগে প্রায় ৫৯ শতক জমি দখলে নেওয়ার জন্য তাঁদের হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে সালিস–মীমাংসা, থানা থেকে আদালতে গড়িয়ে হেরে গেলেও জোরপূর্বক জমি লিখে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করে আসছেন।</p><p>আলতাফ হোসেন আরও অভিযোগ করেন, তাঁর দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে ইউসুফ হোসেন নূর বর্তমানে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে মাগুরায় কর্মরত। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করায় ছেলেকে চাকরিচ্যুত করতে সর্বোচ্চ মহলে তদবির করছেন সুলায়মান।</p><p>ইউসুফ নূর বাদী হয়ে সুলায়মানকে আসামি করে ভূমি প্রতিরোধ আইনে ২০২৩ সালে একটি মামলা করেন বলে জানান আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুলাই আন্দোলনে আমার ছেলের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেখানেই কর্মরত থাকে, সেখানে গিয়ে বিএনপির নেতাদের দিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন (সুলায়মান)।’</p><p>ভূমি প্রতিরোধ আইনের মামলায় আদালত সম্প্রতি সুলায়মানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, গত ৮ জুলাই কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সমীর কুমার দাস সুলায়মানকে গ্রেপ্তার করতে যান। তখন এসআই সমীরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকিসহ গালাগাল করেন তিনি। এ ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়।</p><p>প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমার বসতঘর থেকে সুলায়মানের বসতঘরের দূরত্ব ১০ ফিটের মতো। বাড়িতে এসেই রাতের বেলা আমার ঘরে ঢুকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে এবং বলে, “কাগজে সই করে দাও, নইলে মরলে কবরে মাটি দিতে দেব না”।’</p><p>তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষক দল নেতা সুলায়মান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ বানোয়াট। জমিগুলো নিয়ে আমার বাবার নামে দলিল আছে। বাবার মৃত্যুর পর থেকে ওই জমি দখল করে ছোটবেলায় আমাদের উচ্ছেদ করে দিয়েছিল। আমার বাবার বৈধ জমি বুঝে নিতে গেলে এই বিরোধ শুরু হয়।’</p><p>সুলায়মান আরও দাবি করেন, ‘বিষয়টি নিয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুল ভাইয়ের (কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য) বাড়িতে এক সালিসের সিদ্ধান্তের পর আলতাফ হোসেন স্বাক্ষর করে। কিন্তু বাড়িতে ফিরেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমি বুঝিয়ে দেয়নি।’ তিনি আরও বলেন, কখনো সাদা কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। বর্তমানে আদালতে বণ্টন মামলাও চলমান রয়েছে। এটি আদালতের বিচার্য বিষয়।</p><p>ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই সমীর কুমার প্রথম আলোকে বলেন, ৮ জুলাই রাতে তিনি পরোয়ানা তামিল করতে সুলায়মানের বাড়িতে যান। উনি প্রথমে তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন। পরে তিনি (সুলায়মান) ফোনে কৃষক দলের এক কেন্দ্রীয় নেতাকে ধরিয়ে দেন। কৃষক দলের ওই কেন্দ্রীয় নেতা তাঁকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, সুলায়মান অসুস্থ। উনি আগামীকাল কোর্টে গিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন। পরদিন সুলায়মান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।</p><p>জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর কোনো কিছু জানা নেই। তবে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে কেউ জমি ফিরে পেলে, সেই জমিতে ভোগদখলে আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি অন্যায় কাজ করে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা দল নিতে পারে।</p>
বাংলাদেশের অর্থনীতির রিপোর্ট কার্ড: কোথায় স্বস্তি, কোথায় বড় বিপদ
<p>দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ গড়ে তোলা ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।</p><p> সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর আলোচনা হয়।</p><p>উপ-প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।</p><p>বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে।</p><p>এমনকি প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।</p><p>এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।</p><p>বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।</p><h3>আবরারের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর </h3><p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা নৃশংসভাবে তাঁকে হত্যা করেছিলেন।</p><p>আজ বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা।</p><p>সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ ছেলে হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।</p><p>প্রধানমন্ত্রী আবরারের পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/647d96ey/Untitled-6.jpg"><figcaption>বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা</figcaption></figure><p>এ সময় প্রধানমন্ত্রী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।</p><p>সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এ ছাড়া আবরার ফাহাদের কবর পাকাকরণ কার্যক্রম ও পাশের মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।</p><p>প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেন এবং আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। একসঙ্গে মসজিদটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।</p><p>সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা তাঁর ছেলের হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।</p><p>সাক্ষাতে আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এ ছাড়া বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি জানান তিনি।</p><p>একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদের বিষয়ে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তাঁর ঘটনা অন্তর্ভুক্তির দাবিও জানান আবরার ফাইয়াজ।</p><p>এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষাসচিবের সঙ্গে কথা বলেন।</p><p>সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।</p><p>২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে।</p>
আইনজীবীর স্বাধীনতা বিচারকের কর্তৃত্বকে দুর্বল করে না। আবার বিচারকের কর্তৃত্বও আইনজীবীর পেশাগত স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করার অনুমতি দেয় না।
<p>চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, গঙ্গা চুক্তিতে মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা।</p><p>আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পানিসম্পদমন্ত্রী এ প্রত্যাশার কথা জানান। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস-বিস) নিজেদের মিলনায়তনে এ আয়োজন করে।</p><p>শহীদউদ্দীন চৌধুরী জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান হবে। এ ছাড়া তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে আগামী বছর সরকার মূল কাজ শুরু করতে চায় বলেও জানান তিনি।</p><p>পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট এবং বাংলাদেশের জন্য মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট। যেখানে বাংলাদেশের মোট অঞ্চলের তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ এর সুফল পাবে। পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য একনেকে পাস হয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে কাজ দৃশ্যমান হবে।’</p><p>‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ’ মন্তব্য করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘এটি একটি খরস্রোতা নদী। ভারত থেকে উজানের পানি যেভাবে ভাটি এলাকায় আসছে, দীর্ঘদিন থেকে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে ওই অঞ্চলের মানুষ জীবনধারণ করছে। আমরা এই মহাপরিকল্পনার নামে যা আলোচনা করছি, এটা নিয়ে প্রচুর সেমিনার হয়েছে এবং হচ্ছে। বুয়েটের যেসব বিশেষজ্ঞ সদস্য রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি, মিটিং করেছি এবং দায়িত্ব দিয়েছি। দেশি-বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ, তাঁদের কারিগরি সহায়তা বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেওয়া আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন।’</p><p>পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘খুব শিগগির এর ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ হাতে নিতে হবে। স্টাডির ভিত্তিতেই আমরা প্রজেক্টের কাজ শুরু করব। আমরা আশা করছি, এটি সম্পূর্ণ করতে কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সব শেষ করে যেন ২০২৭ সালে মূল কাজ শুরু করা যায়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে।’ তিনি বলেন, অন্যদিকে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে সবাই বেশ উদ্গ্রীব। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর এই ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হয়েছিল, যাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ রেখে চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করা হয়।</p><p>পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘১২ ডিসেম্বরের আগেই আমাদের নতুন চুক্তি করতে হবে। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় পক্ষ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী যে ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। সেখানে আমাদের মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনা।’</p><p>পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি না, জানতে চাইলে শহীদউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যাঁরা বাস করেন, তাঁরা আমাদের দেশেরই মানুষ। আমার দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’</p><p>আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজের সমীক্ষা সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরবর্তী সময়ে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছি। তিস্তার মতো বৃহদায়তন প্রকল্পের সমীক্ষা রাতারাতি বা এক-দুই মাসে সম্ভব নয়। অতীতে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজ শেষ করেননি। তাই আমাদের সরকার নিজ উদ্যোগেই এই কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দেবে।’</p><h3>ভারতের প্রতিনিধিদের নাম চেয়েছে ঢাকা</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/7jc74qj9/WhatsApp_Image_2026_10_08_at_9_44_43_PM.jpeg"><figcaption>বিসের সেমিনার উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><p>পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টনে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে।</p><p>আজ বিসের সেমিনার উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়। পানিবণ্টনের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। পানি ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ প্রয়োজন।</p><p>প্রতিমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতের পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে।</p><p>গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতের কাছে নাম চেয়েছি, যাতে আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারেন। এখন আমাদের তাদের জবাবের অপেক্ষা করতে হবে।’</p><p>ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, খুব শিগগির এ বিষয়ে জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী দফার পানি চুক্তি নবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।</p><p>প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব। কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই এসব বিষয় সমাধান করতে হবে।</p>
<p>ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকেরা ১৫ অক্টোবর থেকে সব ধরনের ব্যাংকিং স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারবেন। গ্রাহকেরা সারা দেশে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম বুথ থেকে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। একই দিন থেকে কাউন্টার সেবা, মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ ব্যাংকের সব ডিজিটাল ও অনলাইন সেবা পূর্ণমাত্রায় চালু হবে। আজ বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্যাংকটি।</p><p> এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন এবং ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহিদুল হক। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমদ, মো. সরওয়ার হোসেন ও মো. আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।</p><p>সাক্ষাৎকালে গভর্নর আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের প্রতি জন–আস্থা অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের সব আমানতকারীর চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ১৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সভার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন দুপুরে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ১৫ অক্টোবর থেকে গ্রাহকদেরকে চাহিদা অনুযায়ী সব ব্যাংকিং সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।</p><p>এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন গভর্নরকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ন্যাশনাল ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। ব্যাংকের দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনও আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক সহযোগিতা এবং পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ন্যাশনাল ব্যাংক আবারও পূর্ণ গতিতে গ্রাহকসেবায় ফিরছে।</p><p>এদিকে ন্যাশনাল ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘দীর্ঘ সময় ধরে যেসব গ্রাহক ধৈর্য ধরে পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। খেলাপি ঋণ আদায়ে আমরা সব সময়ই কঠোর অবস্থানে ছিলাম। আগামী দিনেও কোনো খেলাপিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে আমরা গ্রাহকের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।’</p><p>এ ছাড়া ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক জানান, ১৫ অক্টোবর থেকে সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।</p>
<p>রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আসলে কার নিয়ন্ত্রণে, সেখানে জমি কীভাবে বেচাকেনা হয়—জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটিতে এমন প্রশ্ন তুলেছেন কোনো কোনো সদস্য। আজ বৃহস্পতিবার কমিটির বৈঠকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছে বিষয়গুলো জানতে চাওয়া হয়।</p><p>আজকের বৈঠকে রাজউক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে একাধিক সদস্য বসুন্ধরা এলাকার বিষয়ে কথা বলেন। একজন সদস্য বলেন, ওই এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে বসুন্ধরার নিজস্ব লোকজন। সেখানে জমি বেচাকেনা করতে বসুন্ধরা গ্রুপকে কমিশন দিতে হয়। একটি ডিশ লাইনের সংযোগ নিতে হলেও তাদের কাছ থেকে নিতে হয়। এটি একটি রাষ্ট্রের ভেতর আরেকটি রাষ্ট্রের মতো হয়ে যাচ্ছে।</p><p>সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কমিটির একজন সদস্য জানতে চান, বসুন্ধরা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ কার। কীভাবে তাদের জমি কেনাবেচার অনুমতি দেওয়া হয়। তখন রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কাগজে-কলমে মূলত সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। তবে এখনো সিটি করপোরেশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সেখানে নেই বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।</p><p>জানতে চাইলে কমিটির সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, ‘বসুন্ধরাকে নিয়ে অনেকের অনেক অভিযোগ। তারা সেখানে আলাদা রাজত্ব, আলাদা প্রশাসন গড়ে তুলেছে। তারা হোল্ডিং কর নেয়, সেখানে জমি বিক্রি করতে হলে নাকি কাঠাপ্রতি বসুন্ধরাকে টাকা দিতে হয়। ড্রেন নির্মাণ, ডিশ লাইন দেওয়া এসব কাজও তাদের ছাড়া করা যায় না।’ তিনি কমিটির বৈঠকে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন বলে জানান।</p><p> বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে রাজউকের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। সূত্র জানায়, ২০০১-০৬ সালে পূর্বাচলে রাজউকের বরাদ্দ দেওয়া প্লট বাতিল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। </p><p>প্লট বাতিল করার ক্ষতিগ্রস্তদের কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, তা রাজউকের কাছে জানতে চেয়েছিল কমিটি। রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হচ্ছে ঢাকায় আর নতুন করে কোনো প্লট বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। তবে রাজউকের জায়গায় অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং করে ফ্ল্যাট দেওয়া যেতে পারে।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করার সুপারিশ করে কমিটি। পাশাপাশি অতীতে প্লট বরাদ্দে সংঘটিত অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। নতুন ভূমিনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে কমিটি।</p><p>কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন