রাজনীতি

বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে সুপারিশ

অক্টোবর ৮, ২০২৬
বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে সুপারিশ
বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে সুপারিশ
<p>প্রবাসী কর্মীরা যেন বিমানবন্দরে কোনো রকম অবহেলা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে নজর রাখার সুপারিশ করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।</p><p>বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৫৯০ জন নারী কর্মী। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।</p><p>বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি ও বাজেট বরাদ্দ পর্যালোচনা করা হয়। অনিয়ম, দুর্নীতি যাতে না হয়, সে জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে সুপারিশ করে কমিটি।</p><p>কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্যদের মধ্যে অংশ নেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, জসীম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম হিলালী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, আনোয়ারুল ইসলাম এবং আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।</p><h3>নতুন ছয় গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/1l7jg21t/WhatsApp_Image_2026_10_08_at_10_10_34_PM.jpeg"><figcaption>বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। সংসদ ভবন। ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><p>এখন ২৩টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ভবিষ্যতে আরও ছয়টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।</p><p>সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া প্রতিবেদনে বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৫ দেশের ২৩ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চলাচল করে। যেগুলো হলো—সৌদি আরবে দাম্মাম, জেদ্দা, রিয়াদ ও মদিনা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, দিল্লি, চেন্নাই, যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার, ওমান, কুয়েত, কাতার, ইতালি, কানাডা, নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন ও জাপান। বর্তমানে বিমানের বহরে নিজস্ব ১৯টিসহ ২১টি উড়োজাহাজ রয়েছে।</p><p>প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২০২৬ থেকে ২০৩৪-২০৩৫ অর্থবছরের জন্য বিমানের ‘নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ফ্লিট প্ল্যান’ অনুযায়ী বর্তমানে লাভজনক রুটগুলোতে সাপ্তাহিক ফ্রিকুয়েন্সি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক উড়োজাহাজ সংগ্রহ সাপেক্ষে নতুন নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক রুটে নতুন গন্তব্য হিসেবে মালে, কুনমিং, সিডনি, জাকার্তা, সিউল এবং উহানে সেবা সার্ভিস সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। বাহরাইনে আবার ফ্লাইট চালু করার পরিকল্পনা আছে তাদের। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হওয়া সাপেক্ষে নিউইয়র্কে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে বিমানের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।</p><p>কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে অংশ নেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, কামরুল হাসান ও আবু তালিব।</p>

Prothomalo

View more
এসে নিয়ে যেতে ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়েছিল মেয়ে, বাবা গিয়ে দেখেন উদ্ধার হচ্ছে লাশ
এসে নিয়ে যেতে ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়েছিল মেয়ে, বাবা গিয়ে দেখেন উদ্ধার হচ্ছে লাশ

<p>বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে ৪ অক্টোবর কুমিল্লা শহরের বাসা থেকে বের হয়েছিল সেখানকার একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৫)। আজ বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার নির্জন এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাও পাওয়া গেছে।</p><p> লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জানতে পারে, ওই কিশোরী প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পরে কক্সবাজারে গিয়েছিল। গতকাল বুধবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিল, রাতে কুমিল্লায় ফিরবে; কিন্তু রাতে আর বাসায় ফেরা হয়নি।</p><p> বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল-সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে আশপাশে খোঁজ করেন। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে তাঁরা মরদেহটি দেখতে পান।</p><p>স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বণিক বলেন, মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। মেয়েটির গলায় গামছা প্যাঁচানো এবং মুখে মাটি লেগে ছিল।</p><p>ওই কিশোরীর গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলায়। তার পরিবার কুমিল্লা শহরে থাকে। শহরের একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ফেব্রুয়ারির পর ওই ছাত্রী আর বিদ্যালয়ে যায়নি।</p><p>ওই কিশোরীর বাবা কুমিল্লায় চাকরি করেন। তিনি বলেন, ৪ তারিখ বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয় মেয়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। গতকাল রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে সে মেসেজ (খুদে বার্তা) এবং ‘লাইভ লোকেশন’ (ওই সময় মেয়েটির অবস্থান যেখানে ছিল) পাঠায়। মেসেজে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে। তিনি বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।’</p><p>লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, উদ্ধারের সময় মরদেহের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয়। কিশোরীর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।</p><p>পদুয়ার বাজারে নামার পর ওই কিশোরী কীভাবে লালমাইয়ের ওই স্থানে গেল, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি বলেন, ‘নূরজাহান হোটেল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির বিষয়েও তদন্ত চলছে। আমরা অটোরিকশা ধরে তদন্ত এগোচ্ছি।’</p><p>পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর ওই কিশোরী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লা এসে পরে সে কক্সবাজারে যায়। বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে বলে পুলিশ জানায়।</p><p>পুলিশ জানিয়েছে, অটোরিকশাটির ভেতর পোশাক ও ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো ওই কিশোরীর কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।</p><p>রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেন ওই কিশোরীর বাবা। পরে তার মরদেহ নিয়ে পরিবার যশোরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।</p><p>ওই কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে কী হয়েছে, কারা তাকে হত্যা করেছে, পুরো ঘটনা জানতে চাই। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানাই।’</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
ঢাকায় এক মঞ্চে দেশ-বিদেশের নগরপ্রধানেরা, আলোচনায় বাসযোগ্য শহর
ঢাকায় এক মঞ্চে দেশ-বিদেশের নগরপ্রধানেরা, আলোচনায় বাসযোগ্য শহর

<p>যানজট, আবাসনসংকট, জলাবদ্ধতা, পরিবেশদূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের মতো নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের শহরগুলো। এসব সংকট মোকাবিলা করে কীভাবে আরও বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও নাগরিকবান্ধব শহর গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকায় এক মঞ্চে বসছেন দেশ-বিদেশের নগরপ্রধান, স্থপতি ও নগর–পরিকল্পনাবিদেরা।</p><p> এ লক্ষ্য নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ আর্কসামিট ২০২৬’। বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (বাস্থই) আয়োজনে এই সম্মেলন আগামী রোববার পর্যন্ত চলবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘কো–ক্রিয়েটিং সিটিজ ফর অল’ বা ‘সবার জন্য সম্মিলিতভাবে নগর গড়ে তোলা’।</p><p> বাস্থইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ‘মেয়রস টকস’। এতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নগরপ্রধান ও নগর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। তাঁরা নিজ নিজ শহরের সমস্যা, নগর ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা এবং নাগরিক সুবিধা বাড়াতে নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরবেন।</p><p>আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার কলম্বো মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের মেয়র ভ্রাই ক্যালি বালথাজার, ফিলিস্তিনের রামাল্লাহর ডেপুটি মেয়র মাজেদ জামাল আমিন আবদুলফাত্তাহ এবং নেপালের ললিতপুরের মহালক্ষ্মী পৌরসভার ডেপুটি মেয়র লক্ষ্মী মহার্জন। এ ছাড়া নেপালের ধনগড়ি উপমহানগরের প্রতিনিধি দিজ রাজ ভাট্টা সম্মেলনে অংশ নেবেন।</p><p>সম্মেলনে থাইল্যান্ডের আইডিআইএন আর্কিটেক্টসের প্রতিষ্ঠাতা জেরাভেই হংসাকুল, চীনের আর্কাসিয়ার সভাপতি অধ্যাপক উ জিয়াং এবং জর্ডানের খাম্মাশ আর্কিটেক্টসের প্রতিষ্ঠাতা আম্মার ইয়াসের আহমাদ খাম্মাশের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কলম্বো ও রামাল্লাহর নগর–পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন।</p><p>দেশের নগর প্রশাসনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল, কুমিল্লা ও খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানদেরও কর্মসূচিতে রাখা হয়েছে।</p><p>আয়োজকদের মতে, শহরের উন্নয়ন কেবল নতুন ভবন, সড়ক কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরবাসীর চলাচল, আবাসন, উন্মুক্ত স্থান, পরিবেশ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নাগরিক সুবিধায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদদের সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই মেয়রস টকস আয়োজন করা হচ্ছে।</p><p>চার দিনের সম্মেলনে স্থাপত্যশিক্ষা নিয়েও আন্তর্জাতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন আর্কিটেকচারাল এডুকেশন ২০২৬’-এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘রিথিঙ্কিং আর্কিটেকচারাল এডুকেশন ফর ফিউচার প্র্যাকটিস’। এতে ভবিষ্যতের পেশাগত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থাপত্যশিক্ষার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হবে।</p><p>পাশাপাশি থাকছে ‘আর্কিটেক্টস টকস’, বাংলাদেশের সমকালীন স্থাপত্যে উদীয়মান প্রতিভাদের নিয়ে আলোচনা, ‘আইএবি বিল্ড-এক্সপো’, ‘বিল্ড টকস’, ‘এসিওয়াইএ টকস’, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন।</p><p>বাস্থই জানিয়েছে, উন্নত শহর গড়ে তোলা শুধু স্থপতিদের দায়িত্ব নয়। এ জন্য নগর কর্তৃপক্ষ, নীতিনির্ধারক, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষাবিদ, শিল্প খাত এবং সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি নগর উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে। সংগঠনটির প্রত্যাশা, এই আয়োজনের আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় ভবিষ্যতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলার উদ্যোগে ভূমিকা রাখবে।</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
যেকোনো দলকেই চমকে দিতে পারি—অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার আগে নিগার
যেকোনো দলকেই চমকে দিতে পারি—অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার আগে নিগার

আগামীকাল তাদের মাটিতে প্রথমবার দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। তিন ওয়ানডে সিরিজের সব ম্যাচই ব্রিসবেনে।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, মারা গেলেন নার্স বীথি আক্তার
সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, মারা গেলেন নার্স বীথি আক্তার

<p>সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা রাজবাড়ীর বীথি আক্তার মারা গেছেন। বিস্তারিত ভিডিওতে... </p><figure></figure>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
মাল্টা ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
মাল্টা ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

<p>বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, শুল্ক পরিশোধের পরও মাল্টা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। পবিত্র রমজান বা অন্য কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। সারা বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভৌগোলিক সুবিধাপ্রাপ্ত এলাকাভিত্তিক কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার।</p><p>আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কোন অঞ্চলে কোন সময়ে কোন ফসল উৎপাদন হবে, তা নির্ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে খাদ্য ও সবজি উৎপাদন করা গেলে বছরের বিভিন্ন সময়ে বাজারে পণ্যের ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।</p><p>বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আসন্ন রমজান উপলক্ষে চিনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের যথেষ্ট মজুত রয়েছে দেশে। কোনো ধরনের সরবরাহ ঘাটতি নেই। এ ছাড়া পাইপলাইনেও আমদানির পণ্য চালান রয়েছে। ফলে রমজান কিংবা অন্য সময়ে কোন ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা জোটবদ্ধভাবে যদি দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, তাহলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/5yirf64g0e">৮৭ টাকায় আনা মাল্টা বাজারে কেন ৫২০ টাকা কেজি</a></aside><p>চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, চেম্বারের সাবেক সভাপতি আলী আহমেদ, চেম্বার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এম এ সালাম, বিপিএএমইএর প্রথম সহসভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী, কমিশনার অব কাস্টমস মুহা. মাহবুবুর রহমান, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ ছালাম, সাবেক পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব, রেজাউল করিম প্রমুখ।</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
চুম্বন ও বিকিনি দৃশ্যে আপত্তি, হলিউডের সুযোগ ফিরিয়ে দিলেন মালয়েশিয়ান অভিনেত্রী
চুম্বন ও বিকিনি দৃশ্যে আপত্তি, হলিউডের সুযোগ ফিরিয়ে দিলেন মালয়েশিয়ান অভিনেত্রী

সুযোগ যদি ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে কী করবেন একজন অভিনয়শিল্পী?

অক্টোবর ৮, ২০২৬
হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা–লুটপাটের মামলায় ৫২ আসামি খালাস, একজনের ৬ মাসের কারাদণ্ড
হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা–লুটপাটের মামলায় ৫২ আসামি খালাস, একজনের ৬ মাসের কারাদণ্ড

<p>চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রামপুর শ্রীশ্রী গৌর নিতাই মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় দীর্ঘ পাঁচ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে আসামি রাজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি ৫২ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।</p><p> গতকাল বুধবার দুপুরে চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ এ রায় ঘোষণা করেন।</p><p>মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে কুমিল্লার ঘটনার জেরে হাজীগঞ্জের রামপুর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার রাতে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রামপুর শ্রীশ্রী গৌর নিতাই মন্দিরে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে এবং স্বর্ণালংকার, পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও দানবাক্সের নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় মন্দিরে উপস্থিত ভক্তদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়।</p><p>পরে এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি পাপন চন্দ্র সাহা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ।</p><p>সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মোহাম্মদ আলী বলেন, এ মামলায় ৫৩ আসামির মধ্যে আদালত ৫২ জনকে খালাস দিয়েছেন। একজনকে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে ছয় মাসের সাজা প্রদান করেন।</p><p>রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি রুহি দাস বনিক বলেন, ‘আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেটার বিরুদ্ধে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’</p><p>উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমীতে কুমিল্লা নগরের নানুয়ারদিঘির উত্তরপাড়ে দর্পণ সংঘের পূজামণ্ডপে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে কুমিল্লা ছাড়াও নোয়াখালী ও চাঁদপুরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় মন্দির-মণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কুমিল্লায় ১২টি, নোয়াখালীতে ৩২টি, চাঁদপুরে ১০টিসহ মোট ৫৪টি মামলা হয়।</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
সরকারি ব্যাংকের ১১ জিএমকে ডিএমডি পদে পদোন্নতি
সরকারি ব্যাংকের ১১ জিএমকে ডিএমডি পদে পদোন্নতি

<p>রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ১১ মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।</p><p> প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রূপালী ব্যাংকের জিএম মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান ও শিকদার ফারুক এ আজম, অগ্রণী ব্যাংকের জিএম মোহাম্মদ ফজলুল করিম, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) জিএম আবু সাঈদ মো. রওশনুল হক এবং জনতা ব্যাংকের জিএম মো. আব্দুল মতিন এবং সোনালী ব্যাংকের জিএম মো. জামান মোল্লা ও মো. সাকায়েত হোসেন পাটোয়ারীকে পদোন্নতি দিয়ে নিজ নিজ ব্যাংকের ডিএমডি করা হয়েছে।</p><p>বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জিএম আশরাফুজ্জামান খানকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) এ রূপালী ব্যাংকের জিএম মো. ইকবাল হোসেন খানকে জনতা ব্যাংকের ডিএমডি করা হয়েছে। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের জিএম শাহীনুর সুলতানাকে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) এবং বেসিক ব্যাংকের জিএম মো. হাসান ইমামকে পদোন্নতি দিয়ে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ডিএমডি পদে পদায়ন করা হয়।</p><p>প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে মনোনয়ন, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা-২০২৫ এবং সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারি করা নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকরি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হবে।</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়াই ফিরছে প্রথম বিভাগ হকি লিগ
বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়াই ফিরছে প্রথম বিভাগ হকি লিগ

সর্বশেষ ২০২৩ সালে মাঠে গড়িয়েছিল প্রিমিয়ার হকি লিগ। একই বছর অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ প্রথম বিভাগ হকি লিগও।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন