৩ নভেম্বরের আগে ইরানে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পহেলা জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেেশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৯৪ জনে । আরও উল্লেখযােগ্য খবরের মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রামে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পাঠাও-এর প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে একটি চক্র। এসব তথ্যের মধ্যে মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অবস্থান, ফেসবুক পরিচিতি ও বাসার ঠিকানা রয়েছে বলে দাবি করে তারা। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে পাঠাওয়ের কাছে ৪ লাখ ডলারও চাওয়া হয়েছে।</p><p> সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব গতকাল বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিষয়টি সামনে এনেছে। ডার্ক ওয়েবে করা ওই পোস্টের একটি স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছে ডেইলি ডার্ক ওয়েব। তবে দাবিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।</p><p> বিষয়টি নিয়ে জানতে পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও জবাব পাওয়া যায়নি। </p><p>তবে বুধবার সেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় পাঠাও জানিয়েছে, গত ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন সেবা বিঘ্নিত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হলেও সিস্টেম পুরোপুরি স্থিতিশীল করার কাজ চলছে।</p><p>বুধবার পাঠাও এর ভেরিভায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনার সময় কিছু ব্যক্তিগত তথ্য, যার মধ্যে নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর রয়েছে, দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে বলে তারা জানতে পেরেছে।</p><p>বিবৃতিতে পাঠাও আরও বলে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।</p><p>ডার্ক ওয়েবের ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তাদের কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য রয়েছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড ও ৫৯১টি তথ্যভান্ডার রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডারে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি হিসাবের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।</p><p>এ ছাড়া ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি এনআইডি নম্বর ও মুঠোফোন নম্বর, ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য, প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ছবি এবং প্রায় ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানা থাকার দাবি করা হয়েছে।</p><p>পাঠাওয়ের অভ্যন্তরীণ ও ব্যবসায়িক তথ্যও নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে ওই গোষ্ঠী। এর মধ্যে কর্মীদের তথ্য, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকারের নথি, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব ও ব্যাংকের শাখা শনাক্তকরণ নম্বর, অর্থ লেনদেনের তথ্য, পণ্য সরবরাহের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য এবং চালকদের যাত্রার নথি থাকার কথা বলা হয়েছে।</p><p>পোস্টে পাঠাওয়ের কাছে ৪ লাখ ডলারও দাবি করা হয়েছে। অর্থ পরিশোধ না করলে এনআইডি, ব্যাংক, কর্মী ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।</p><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা প্রথম আলোকে বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচিত অবিলম্বে একটি স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের ব্যবস্থা করা, প্রাসঙ্গিক সার্ভার ও অ্যাক্সেস লগসহ সব ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ করা এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা। ডিজিটাল আলামতের সুরক্ষা, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রমাণভিত্তিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।</p>
<p>গিয়াস উদ্দিনকে (রিমন) প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সচিব পদমর্যাদা দিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গিয়াস উদ্দিনকে চুক্তি ভিত্তিতে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।</p><p>প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গিয়াস উদ্দিনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তাঁর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।</p>
<p>ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ক্রামাতোরস্ক শহরে রাশিয়ার গাইডেড বোমা হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার চালানো এ হামলায় আহত হয়েছেন ১৮ জন। এটি চলতি বছর রাশিয়ার চালানো বড় হামলাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে ইউক্রেন সরকার।</p><p> ক্রামাতোরস্ক শহর ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা দখল করে রেখেছে রুশ বাহিনী। এখন গুরুত্বপূর্ণ ক্রামাতোরস্ক শহর দখলের দিকে নজর দিয়েছে তারা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে।</p><p> ক্রামাতোরস্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাস্তায় থাকা দুটি বাসে ওই বোমা হামলা চালানো হয়। বাস দুটিতে অনেক যাত্রী ছিলেন। ইউক্রেন পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, রাস্তায় বাসের পোড়া কাঠামো পড়ে আছে। সড়কে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কয়েকটি মরদেহও ছিল।</p><p>এই হামলা পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ইউক্রেন সরকার। স্থানীয় গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন বলেন, রুশ বাহিনীর কাছে যাত্রীবাহী বাস আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু। কারণ, একটি হামলাতেই যত বেশি সম্ভব মানুষকে হত্যা করা যায়।</p><p>বোমা হামলার পর ক্রামাতোরস্কসহ আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর স্লোভিয়ানস্কের কর্তৃপক্ষকে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান গভর্নর ফিলাশকিন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার কোনো অধিকার আমাদের নেই।’</p><p>হামলার বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়া বেসামরিক মানুষদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে। এ ছাড়া রাশিয়া চাচ্ছে, এই যুদ্ধ বন্ধের আগে পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চলকে মস্কোর হাতে ছেড়ে দিতে হবে কিয়েভকে। তবে এই দাবি মানবে না ইউক্রেন।</p><p>ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরদিন হামলাটি চালানো হলো। আগের দিনের হামলায় ১২ জন নিহত হন। এদিন ইউক্রেনের আবাসিক অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল রাশিয়া।</p><p>রাশিয়ার এই হামলা নিয়ে কিয়েভভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘পেনটা’র প্রধান ভলোদিমির ফেসেঙ্কো আল–জাজিরাকে বলেন, এটা রাশিয়ার নতুন একটি কৌশল। তারা ইউক্রেনকে বিদ্যুৎবঞ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। এখন তারা পরিবহনব্যবস্থা ধসিয়ে দেওয়ার জন্য অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে।</p>
<p>রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহান (১৯) নামের এক কলেজছাত্রের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।</p><p> ফুয়াদ হাসান উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ফরহাদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি রাজবাড়ী শহরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।</p><p> ফুয়াদের দাদা মরহুম রোকন উদ্দিন চৌধুরী রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর ফুফাতো ভাই আরিফুল ইসলাম বর্তমানে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।</p><p>ফুয়াদ হাসানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে খাওয়ার সময় ফুয়াদের মুঠোফোনে একটি কল আসে। খাবার খেয়ে তিনি দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকেল চারটা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর মুঠোফোনে কল করেন। তবে তাঁর দুটি ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি একটি অ্যানড্রয়েড ও একটি বাটন ফোন ব্যবহার করতেন।</p><p>আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরের একটি ডোবায় স্থানীয় লোকজন একটি বস্তা ভাসতে দেখেন। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সন্দেহ হলে তাঁরা লাঠি দিয়ে বস্তাটিতে ধাক্কা দেন। এ সময় বস্তার ভেতর থেকে মানুষের একটি পা বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দী লাশটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি ফুয়াদের বলে শনাক্ত করেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ ফুয়াদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।</p><p>ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মুনির হোসেন বলেন, ফুয়াদের লাশটি একটি বস্তার ভেতরে রাখা হয়েছিল। আরেকটি বস্তায় মাটি ভরে লাশের বস্তার সঙ্গে বেঁধে সেটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। লাশটি ফুলে ওঠার পর বস্তাটি পানিতে ভেসে উঠলে স্থানীয় লোকজন সেটি দেখতে পান।</p><p>পুলিশ সুপার বলেন, ৫ অক্টোবর থেকে কলেজছাত্র ফুয়াদ নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনের তথ্য, পারিবারিক বিরোধ, প্রেমঘটিত কোনো বিষয় ছিল কি না এবং বন্ধুদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।</p><p>মীর মুনির হোসেন বলেন, ‘এখনো হত্যার কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।’</p>
চট্টগ্রামে ‘কিশোর গ্যাং’ নেতাকে জুলাই যোদ্ধা দাবি মেয়রের, অভিযানের পর ওসি বদলি
<p>রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় উদ্ধার কয়েকটি আলামতে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ পাওয়া গেছে। খেজুরের বীজ, কামড় দেওয়া শসার অংশ ও সিগারেটের ফিল্টারে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে তাঁদের ডিএনএ মিলে গেছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।</p><p> বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে সনাতন চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে ওদের (সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ) ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিবেদন আজ হাতে পেয়েছি। আলামতে পাওয়া খেজুরের বিচি, শসা ও সিগারেটের অংশে তাদের ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।’</p><p>তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পরে গণপতি চক্রবর্তীর শয়নকক্ষে খেজুরের বিচি, কামড় দেওয়া শসার অংশ ও সিগারেটের মুড়া পাওয়া গিয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা এসব আলামতসহ বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার উদ্দেশে নেওয়া হয়। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে তাঁদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।</p><p>ডিবি পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, সিগারেটের শেষাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ এবং নিহত শিশুর খাতায় পাওয়া একটি লেখাসহ বিভিন্ন আলামত রয়েছে। এসব আলামত কয়েক দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/49ja1y3jjf">রংপুরে চার খুন: এক ভরি উদ্ধার, বাকি স্বর্ণালংকার কোথায়, কী বলছে পুলিশ</a></aside><p>গত ২১ আগস্ট দিবাগত রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কলেজপড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর নগরের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাঁদের প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।</p><p>পুলিশ জানিয়েছে, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মামলাটি প্রথমে নগরের কোতোয়ালি থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় রংপুর ডিবিকে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/rud5dw8e0b">রংপুরে চার খুন: ডিএনএ পরীক্ষার জন্য দুই আসামিকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে</a></aside>
<p>চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, ১৬টি গুলিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে সলিমপুর ইউনিয়নের আলীনগর বাহাদুরঘোনা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।</p><p> গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাসেল (৩০), মোরশেদ (২৮), বাবু (২৫) ও সাব্বির (৩২)।</p><p>পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থান ও অস্ত্র মজুতের তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।</p><p>অভিযানে থাকা ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, বাহাদুরঘোনা এলাকায় একদল সন্ত্রাসী সংঘবদ্ধ হয়ে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে অভিযান চালান। সেখান থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।</p>
<p>বাংলাদেশে প্রযুক্তি, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ-বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী লিথুয়ানিয়া। এ জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় উত্তর-পূর্ব ইউরোপের দেশটি।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টার ভিডমান্টাস ভার্বিকাস। রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআইয়ের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায়।</p><p>লিথুয়ানিয়ার এমন আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। এ জন্য দেশটির ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য ভিন্ন দেশে গিয়ে ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বেশ কষ্টসাধ্য।</p><p>ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশ লিথুয়ানিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক। তিনি বলেন, লিথুয়ানিয়ার উন্নত প্রযুক্তি, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে।</p><p>লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টার জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো ইউরোপের পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাজার সম্প্রসারণ। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের একটি কৌশলগত বাণিজ্যকেন্দ্র। সে জন্য ঢাকায় ভিসা সেবাকেন্দ্র চালু করা কিংবা শেনজেনভুক্ত অন্য কোনো দেশের কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসা জটিলতা সহজ করার উপায় খোঁজা হচ্ছে।</p><p>লিথুয়ানিয়ায় আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য ‘ডিজিটেক সামিট’ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান ভিডমান্টাস ভার্বিকাস।</p><p>বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর, ভারতে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার ডেপুটি হেড অব মিশন লুকাস কিসিয়েলিউস, পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্দো-প্যাসিফিক রিজিওনের অ্যাটাচে মিস. ক্রিসটিনা প্রমুখ।</p>
বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পহেলা জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেেশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৯৪ জনে । আরও উল্লেখযােগ্য খবরের মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রামে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল নিয়ে সম্প্রতি নানা আলোচনা সামনে আসছে। এই যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরিসহ নানা পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও এটি নিয়ে বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তি করার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কিন্তু বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের বিরোধিতার মুখে সরকার সেই কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মারমেইড বা জলপরী নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেন অন্ত নেই। বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশের কোথাও জলপরী, কোনো দেশে মারমেইড, কোথাও মাদার অফ ওয়াটার বা জলের মা, কোথাও সাইরেন, আবার কোনো কোনো জায়গায় এটি মৎস্যকন্যাসহ নানা নামে পরিচিত।
ইসরায়েলে তিন বছর আগে যা ঘটেছে তার জন্য কোনো ব্যক্তিগত দায়িত্ব নিতে বা রাষ্ট্রীয় তদন্তের নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে গোয়া রাজ্যে তার মৃত্যু হয়।
ককরোচ জনতা পার্টি, বামপন্থি দল ও সংগঠনগুলোর যে বিক্ষোভ ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহ ধরে শুরু হয়েছে, তাদের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলোও যুক্ত হয়েছে।
সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণা কেন্দ্রের একজন রুশ কর্মীর মৃত্যুর পর ওই ল্যাব থেকে বিরল রোগের জীবানু ছড়িয়ে পড়ার জল্পনা উস্কে দিয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এখন আর এ সংযোগ স্বীকার করছে না। তাহলে ওই ল্যাব কর্মী ঠিক কীভাবে মারা গেলেন? আর প্লেগ নিয়ে মানুষের কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী কংগ্রেসনাল নির্বাচনের আগে দেশটির ওপর আর কোনো হামলা চালানো হবে না। বৃহস্পতিবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেছেন।
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে বাংলাদেশকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহাকারী নয়; প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও রপ্তানিকারক হিসেবে হতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ধলেশ্বরী নদীতে এক লাখ পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের হামলা জোরদার করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে তারা দেশটির আকাশসীমা ও তেল স্থাপনাগুলো অচল করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের হামলায় ইতিমধ্যে তিনজন নিহত হয়েছেন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ জোড়া ব্রিজ সংলগ্ন আবুল কাশেম মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে গার্মেন্ট পল্লীর মসজিদ মার্কেটসংলগ্ন ওই মার্কেটে আগুন লাগে।
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই একটি পোশাক কারখানার ১৩০ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
দেশে থিয়েটার, শিল্প, চলচ্চিত্রের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি, কামার ও কুমারদের মতো কারিগরদের জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৯২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।