যুক্তরাষ্ট্র

নরওয়ে ‘জঘন্য’ দেশে পরিণত হয়েছে, কেন বললেন ট্রাম্প

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
নরওয়ে ‘জঘন্য’ দেশে পরিণত হয়েছে, কেন বললেন ট্রাম্প
নরওয়ে ‘জঘন্য’ দেশে পরিণত হয়েছে, কেন বললেন ট্রাম্প
<p>যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি—শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তাঁরই প্রাপ্য ছিল। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর হাতে ধরা দেয়নি এ পুরস্কার। এতে তিনি চটেছেন নরওয়ের ওপর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, শান্তিতে নোবেল না দেওয়ায় নরওয়ের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে না।</p><p> ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সময় গতকাল রোববার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হুরনে এক সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে ফ্রান্সে অস্থিরতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে তিনি বলেন, কিছু দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাবেন তিনি, তবে নরওয়ে থেকে কাউকে নয়। কারণ, তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি।</p><p>ট্রাম্প আরও বলেন, নরওয়ে আসলে একটি জঘন্য দেশে পরিণত হয়েছে। এর আগে হাইতি, লিবিয়া, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের ক্ষেত্রেও তিনি একই ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। তবে নরওয়ের অভিবাসীদের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন কোনো সরকারি নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/65cdpei8gz">‘এআই’ নাম বদলে কেন ‘এসআই’ রাখতে মরিয়া ট্রাম্প, স্লোভেনিয়ার নাম কেন আলোচনায়</a></aside><p>নোবেল কমিটির সদর দপ্তর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অবস্থিত। ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে নরওয়ের নোবেল কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। তবে নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে গতকাল রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে বলেন, ‘ট্রাম্প খুব ভালো করেই জানেন, নোবেল কমিটি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কারও এ নিয়ে সন্দেহ থাকলে তাঁদের জন্য বিষয়টি আবার মনে করিয়ে দিচ্ছি। পরিস্থিতি এখনো একই রকম রয়েছে।’ এ বিষয়ে তাঁর মন্ত্রণালয় আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/tm0w4yeedb">রোববারই ইরানে হামলা, না হয় চমৎকার সমঝোতা: ট্রাম্প</a></aside>

Prothomalo

View more
এনসিপির স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, মাহিন–আরিফের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বে সেই রনি
এনসিপির স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, মাহিন–আরিফের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বে সেই রনি

এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে এবার যুক্ত হলো ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের অনুমোদনে এই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ার জটিলতা, দূরদূরান্তের শিশুদের শেষ ভরসা ঢাকা
হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ার জটিলতা, দূরদূরান্তের শিশুদের শেষ ভরসা ঢাকা

দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এভাবেই জটিল ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হামে আক্রান্ত শিশুদের রাজধানীর শিশু হাসপাতালে আনা হচ্ছে।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সিপিবির মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে হামলা
সিপিবির মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে হামলা

যুবদল-ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সোমবার রাত ১০টার দিকে এ হামলা শুরু করার পর প্রায় এক ঘণ্টা পুরানা পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দেন।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ইরানের কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিরও অভিশংসন চায় তারা
ইরানের কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিরও অভিশংসন চায় তারা

<p>যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় ক্ষমতার লড়াইও চলছে। এর এক পক্ষে আছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো উদারপন্থী ও মধ্যপন্থীরা। অন্য পক্ষে আছেন ‘পায়দারি ফ্রন্টের’ কট্টরপন্থীরা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/bcw93aka/Iran_Presidend__NSC_AFP.jpg"><figcaption>ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (ডানে) মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বক্তব্য দেন। পাশে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই। তেহরান, ২৬ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন দেশটির আলোচনাবিরোধী কট্টরপন্থীরা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে। এর মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে ইরানকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানিয়েছে তারা।</p><p> এই কট্টরপন্থী অংশ হলো ‘ফ্রন্ট অব ইসলামিক রেভল্যুশনারি স্ট্যাবিলিটি’। তারা ‘পায়দারি ফ্রন্ট’ নামেও পরিচিত। অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি ইরানকে বেরিয়ে যেতে দেশটির পার্লামেন্ট ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল) কাছে এ আহ্বান জানিয়েছে তারা। এই পদক্ষেপকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে। পায়দারি ফ্রন্ট বলেছে, এসব সামরিক উদ্যোগ নিতে হবে ‘যত দ্রুত সম্ভব’।</p><p> ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ইরানের কট্টরপন্থীদের অনমনীয় বার্তার সর্বশেষ উদাহরণ এটি। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এই অজুহাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।</p><p>যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় ইরান এবং আরব দেশগুলোর অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।</p><p>গত আট মাসে যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় ক্ষমতার লড়াইও চলেছে। এর এক পক্ষে আছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো উদারপন্থী ও মধ্যপন্থীরা। তাঁরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে। অন্য পক্ষে আছেন পায়দারি ফ্রন্টের কট্টরপন্থীরা। তাঁরা আলোচনা চান না।</p><blockquote>কট্টরপন্থীদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে, ‘আপস নয়, আত্মসমর্পণ নয়—আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই চাই’ এবং ‘শত্রুর সঙ্গে আলোচনা মাতৃভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’।গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের অধিবেশন থেকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তেহরানে ফেরার সময়ও তাঁরা বিক্ষোভ করেন।</blockquote><p>ইরানের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে বাঁচাতে দ্রুত সংঘাতের অবসান চায় উদারপন্থী শিবির। আর কট্টরপন্থীরা মনে করে, ওয়াশিংটন শুধু শক্তির ভাষাই বোঝে। তাই ইরানের দাবি মেনে যুক্তরাষ্ট্র নতি স্বীকার না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-02-28/oycz8j56/iranattack.jpg"><figcaption>ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল</figcaption></figure><h3>‘আপস নয়...লড়াই চাই’</h3><p>দেশের ভেতরের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র দেখা যায় ইরানের বড় শহরগুলোর চত্বরে। ২০০ দিন ধরে সেখানে রাতে সমাবেশ করছেন কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। শুরুতে এসব সমাবেশের মাধ্যমে মানুষ সরকারের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতেন। বিনা উসকানিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রতিবাদ করতেন। সময়ের সঙ্গে এসব জমায়েত সুসংগঠিত রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়েছে। সেখানে কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ শেষ করার জন্য উদারপন্থীদের চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করছেন রাজনৈতিক কর্মীরা।</p><aside><cite>আমির হোসেন সাবেতি, পায়দারি ফ্রন্টের ঘনিষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য </cite>যাঁরা ভেবেছিলেন আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, তাঁরা বিশ্ব কীভাবে চলে, তা বোঝেননি। তাঁরা নিজেদেরই ভুল বুঝিয়েছেন। বিশ্ব শুধু একটি ভাষাই বোঝে। তা হলো শক্তির ভাষা।</aside> <p>কট্টরপন্থীদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে, ‘আপস নয়, আত্মসমর্পণ নয়—আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই চাই’ এবং ‘শত্রুর সঙ্গে আলোচনা মাতৃভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’।<br>গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন থেকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তেহরানে ফেরার সময়ও তাঁরা বিক্ষোভ করেন। ওই অধিবেশনে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের নিন্দা জানান। একই সঙ্গে কূটনীতির সুফলও তুলে ধরেন। প্রেসিডেন্টের কাছে নিজেদের ‘আলোচনাবিরোধী’ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উপায় হিসেবে ওই বিক্ষোভকে দেখা হয়।</p><p>রাজনৈতিক কর্মীদের এই পরিসরের বাইরেও গোষ্ঠীটির যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। তেহরানের নগর প্রশাসন ও পার্লামেন্টে কট্টরপন্থীদের শক্ত অবস্থান আছে। ধর্মীয় বক্তা ও শোকগাথা পাঠকারীদের মধ্যেও তাঁদের প্রভাব রয়েছে। শিক্ষাঙ্গন ও গণমাধ্যমেও তাঁদের অবস্থান শক্ত।</p><h3>পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিকে অভিশংসনের প্রস্তাব</h3><p>পায়দারি ফ্রন্টের ঘনিষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য আমির হোসেন সাবেতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কিংবা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে না।</p><p>আমির হোসেন বলেন, ‘ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে শত্রু সরে আসেনি। তারা আবার অতর্কিত হামলা চালানোর উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় আছে। যাঁরা ভেবেছিলেন আলোচনা করে যুদ্ধ ঠেকানো যাবে, কিংবা আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, তাঁরা বিশ্ব কীভাবে চলে, তা বোঝেননি। তাঁরা নিজেদেরই ভুল বুঝিয়েছেন। বিশ্ব শুধু একটি ভাষাই বোঝে। তা হলো শক্তির ভাষা।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-28/5j67z46g/5.avif"><figcaption>ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি</figcaption></figure><p>আমির হোসেন যে রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্য, তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অভিশংসনের প্রস্তাব পার্লামেন্টে জমা দিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর নিউইয়র্ক সফরের পর এ প্রস্তাব আনা হয়। বিদেশি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়া ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করতে একটি আইনও বিবেচনা করছে ইরানের পার্লামেন্ট। আইনটি হলে তা হবে কট্টরপন্থীদের আরেকটি জয়।</p><p>পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিশংসনের প্রস্তাব নিয়ে পার্লামেন্টে প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। তবে সরকারপন্থী রাজনৈতিক শিবির বর্তমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছে।</p><p>পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক দাভুদ হেশমতি বলেছেন, কিছু লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, ইরানের সরকার উৎখাতের বড় লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে মার্কিন বাহিনী। এর বদলে তারা তুলনামূলক ছোট কিছু লক্ষ্য বেছে নিয়েছে। এতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বেড়েছে।</p><aside><cite>দাভুদ হেশমতি, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক</cite>কট্টরপন্থীদের ধারণা, কয়েক দফা লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই সংঘাত থেকে সরে যাবে। কিন্তু আমরা যা দেখছি, সেই যুক্তির সঙ্গে এই ধারণা সংগতিপূর্ণ বলে মনে হয় না।</aside><p>হেশমতি আরও বলেন, ‘যাঁরা বলছেন হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া যাবে না, তাঁরা মনে করেন যুদ্ধ শেষ হওয়া উচিত নয়। ইরানের আলোচনাবিরোধী শিবিরের দৃষ্টিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের কোনো শেষ নেই। তবে এই যুদ্ধ থেকে তাঁরা কী ফল আশা করেন, তা ব্যাখ্যা করেন না। তাঁদের ধারণা, কয়েক দফা লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই সংঘাত থেকে সরে যাবে। কিন্তু আমরা যা দেখছি, সেই যুক্তির সঙ্গে এই ধারণা সংগতিপূর্ণ বলে মনে হয় না।’</p><p>আল–জাজিরাকে হেশমতি বলেন, ‘অন্য ওই লক্ষ্যগুলো অর্জনের বেশ কয়েকটি উপায় আছে। যুদ্ধ তার একটি। তবে যুদ্ধ ঠেকাতে হলে আগে সামরিক পদক্ষেপের সব বিকল্প যাচাই করতে হবে। আলোচনা ও কূটনৈতিক চুক্তি এসব বিকল্পের মধ্যে পড়ে। যুদ্ধের চেয়ে সব সময় এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।’ </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/ril9kyq0pv">দেশের জন্য জীবন বাজি রাখতে ‘জানফেদা’, যুক্ত তিন কোটি ইরানি, আছেন তরুণীরাও</a></aside><p>হেশমতি ইঙ্গিত দেন, যেকোনো যুদ্ধ শেষ করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতা প্রয়োজন, যেখানে ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান থাকবে। তিনি বলেন, ইরানে যাঁরা আলোচনার পক্ষে, তাঁদের যুক্তি হলো, শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে সব সময় যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না। তবে কূটনৈতিক পথে এ পর্যন্ত যা ঘটেছে, তাতে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা বোধগম্য।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-04-07/2li6hpet/Mojtaba-Khamenei.avif"><figcaption>ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি</figcaption></figure><h3>প্রধান ক্ষমতাধরেরা চাইলে চুক্তি সম্ভব</h3><p>রাজনৈতিক বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভির মতে, দেশের ভেতরে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী। তবে ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন তাদের প্রভাব সীমিত। তিনি বলেন, ইরানের কট্টরপন্থীরা কোনো প্রান্তিক রাজনৈতিক শক্তি নন। তাঁরা সুসংগঠিত। ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর গভীরে তাঁদের অবস্থান। সমর্থকদের সংগঠিত করা, রাজনৈতিক আলোচনার গতিপথ নির্ধারণ এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সামর্থ্যই তাঁদের শক্তি। কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়াকে রাজনৈতিকভাবে আরও কঠিনও করে তুলতে পারেন তাঁরা।</p><p>মোর্তাজাভি আরও বলেন, তবে রাজনৈতিক প্রভাব আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে এক করে দেখা উচিত নয়। যুদ্ধ, শান্তি ও আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ইরানের নেতৃত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সর্বোচ্চ পর্যায়ে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/es6jsenqri">ইরানে একা ইসরায়েল আসলে কী করতে পারবে, তেহরানের সক্ষমতা কোথায়</a></aside><p>তিনি বলেন, কট্টরপন্থীরা আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরোধিতা চালিয়ে যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবদাতাদের অভিশংসনের হুমকি দিতে পারেন। কূটনৈতিক উদ্যোগে বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করতে পারেন। তবে দেশের প্রধান ক্ষমতাধরদের সমর্থন থাকলে কোনো চুক্তি ঠেকাতে পারবেন না তাঁরা। এই ক্ষমতাধরদের মধ্যে আছেন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।</p><aside><cite>নেগার মোর্তাজাভি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক </cite>পুরো যুদ্ধের সময় তেহরান কূটনীতির দরজা খোলা রেখেছে। নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে। কট্টরপন্থীরা তা থামাতে পারেননি।</aside><p>আল–জাজিরাকে মোর্তাজাভি বলেন, কূটনীতিকে জটিল করে তোলার মতো যথেষ্ট ক্ষমতা কট্টরপন্থীদের আছে। তবে তা থামিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা তাঁদের আছে, এমন নয়। রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাঁরা খুবই দৃশ্যমান ও সরব। কিন্তু সিদ্ধান্ত তাঁদের হাতে নেই।</p><p>মোর্তাজাভি আরও বলেন, পুরো যুদ্ধের সময় তেহরান কূটনীতির দরজা খোলা রেখেছে। নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে। কট্টরপন্থীরা তা থামাতে পারেননি। তাঁদের ক্ষমতার আসল পরীক্ষা হলো, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে তাঁরা জেসিপিওএ বা পারমাণবিক চুক্তি ঠেকাতে পারেননি। ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকও ঠেকাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তগুলো তাঁদের ওপরের পর্যায়েই নেওয়া হয়েছে।</p><p>ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিরোধিতা করে রাজপথে সমাবেশ চলবে। টেলিভিশনেও এ নিয়ে অনুষ্ঠান চলবে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিশংসন শুনানির দিন নির্ধারণে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধ শেষ করতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। এসবই ইঙ্গিত দিচ্ছে, উদারপন্থীরা এখনো এমন এক শক্তি, যাঁদের উপেক্ষা করা যায় না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/75dmmzx96e">ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি</a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
চিত্রনায়িকা শিমু হত্যা মামলায় সাফাই সাক্ষ্য ১৯ নভেম্বর
চিত্রনায়িকা শিমু হত্যা মামলায় সাফাই সাক্ষ্য ১৯ নভেম্বর

<p>চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যা মামলায় তাঁর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও মামলার আরেক আসামি এস এম ফরহাদের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নুসরাত জাবীন নিম্মীর আদালত এ দিন ধার্য করেন।</p><p> আদালতে দুই আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় তাঁদের বক্তব্য শোনার পর আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষী উপস্থাপনের আবেদন করেন তাঁরা। পরে আদালত সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।</p><p> আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলাটিতে ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর ৬ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।</p><p>মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের আলীপুর ব্রিজের প্রায় ৩০০ গজ উত্তরে পাকা রাস্তার পাশের ঝোপ থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আঙুলের ছাপ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মরদেহটি চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর বলে শনাক্ত করা হয়।</p><p>মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে শিমুকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ জানুয়ারি তাঁর ভাই হারুনুর রশীদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।</p><p>মামলাটি তদন্ত করে ওই বছরের ২৯ আগস্ট কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম নোবেল ও ফরহাদকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে অঘটন...
অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে অঘটন...

‘উইকার’ ছবিতে আলেকজান্ডার স্কারসগার্ড ও অলিভিয়া কোলম্যানের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং ছিল রোমাঞ্চকর, আবার হাস্যকরও।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

<p> রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।</p><p> গ্রেপ্তার যুবকের নাম আবুল হায়াদ ওরফে দীপু (৩২)। সোমবার বেলা তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।</p><p>ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ) নিয়াজ মেহেদী প্রথম আলোকে জানান, রমনা থানায় দায়ের করা ককটেল বিস্ফোরণের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সহযোগিতায় রূপগঞ্জে যৌথ অভিযান চালিয়ে আবুল হায়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়।</p><p>পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ২ নম্বর ফটকের পূর্ব পাশের সড়কে দুর্বৃত্তরা একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। হঠাৎ বিস্ফোরণে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে রমনা মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করা হয়।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, দেওবন্দে ৫ হাজার প্রতিনিধির সম্মেলন
পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, দেওবন্দে ৫ হাজার প্রতিনিধির সম্মেলন

<p>পশ্চিমবঙ্গ সরকার সম্প্রতি ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, পুরো ভারতে বিপুলসংখ্যক মাদ্রাসার অনুমোদন নেই বলে বিভিন্ন রাজ্যের সরকার সেগুলো বন্ধের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এমনকি বহুসংখ্যক মাদ্রাসা বন্ধের লক্ষ্যে জরিপও শুরু করা হয়েছে।</p><p> এই পরিস্থিতিতে উত্তর প্রদেশের দেওবন্দ শহরে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের উদ্যোগে আগামীকাল ২৭ অক্টোবর এক বিশাল সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সর্বভারতীয় মাদ্রাসা পরিচালকদের সংগঠন ‘রাবিতা-ই-মাদারিস ইসলামিয়া’র ব্যানারে আয়োজিত এ সম্মেলনে ইসলামি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে।</p><p>আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে মাদ্রাসা পরিচালনায় বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ, নথিপত্র ও আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়গুলোতে। সম্মেলন শুরুর আগে দারুল উলুমের কার্যনির্বাহী কমিটি ‘মজলিস-এ-আমিলা’ পূর্ববর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত এজেন্ডা নির্ধারণ করবে। প্রতিষ্ঠানের রেক্টর মুফতি আবুল কাসিম নোমানি জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অতিথিদের স্বাগত জানাতে যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।</p><p>অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গেও মাদ্রাসাগুলো ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। রাজ্যে সদ্য গঠিত বিজেপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামো ও অনুমোদন যাচাইয়ে এক ব্যাপক জরিপ শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ওই জরিপের পর রাজ্যের প্রায় ২৫২টি মাদ্রাসা একযোগে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর অনিয়ম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবের অভিযোগে আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।</p><p>দ্বিতীয় পর্যায়ে নগণ্য শিক্ষার্থী এবং অবকাঠামোগত ঘাটতিতে থাকা আরও ২৫০টি বেসরকারি অথচ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদ্রাসা পর্যায়ক্রমে বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া প্রায় ২ হাজার ৫০০টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা সম্ভাব্য পর্যায়ক্রমিক নজরদারির মুখে পড়তে পারে।</p><p>জরিপ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২ হাজার ১৩২টি মাদ্রাসা সরকারি বৈধ অনুমোদনে চললেও ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসা কোনো সরকারি রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, আড়াই শ বছর আগে ১৭৮০ সালে কলকাতায় প্রথম অনুমোদিত মাদ্রাসা স্থাপিত হয়েছিল। মূলত মুসলিম শিক্ষার্থীরা এসব মাদ্রাসায় গেলেও পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলোতে হিন্দু শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনা করে থাকে।</p><p>মাদ্রাসা বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মালদহ জেলাতেই সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৪৫টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরের তালিকায় রয়েছে উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া জেলা। কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক উত্তর না পেলে পরবর্তী সময়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে প্রশাসন।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
নরওয়ে ‘জঘন্য’ দেশে পরিণত হয়েছে, কেন বললেন ট্রাম্প
নরওয়ে ‘জঘন্য’ দেশে পরিণত হয়েছে, কেন বললেন ট্রাম্প

<p>যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি—শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তাঁরই প্রাপ্য ছিল। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর হাতে ধরা দেয়নি এ পুরস্কার। এতে তিনি চটেছেন নরওয়ের ওপর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, শান্তিতে নোবেল না দেওয়ায় নরওয়ের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে না।</p><p> ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সময় গতকাল রোববার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হুরনে এক সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে ফ্রান্সে অস্থিরতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে তিনি বলেন, কিছু দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাবেন তিনি, তবে নরওয়ে থেকে কাউকে নয়। কারণ, তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি।</p><p>ট্রাম্প আরও বলেন, নরওয়ে আসলে একটি জঘন্য দেশে পরিণত হয়েছে। এর আগে হাইতি, লিবিয়া, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের ক্ষেত্রেও তিনি একই ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। তবে নরওয়ের অভিবাসীদের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন কোনো সরকারি নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/65cdpei8gz">‘এআই’ নাম বদলে কেন ‘এসআই’ রাখতে মরিয়া ট্রাম্প, স্লোভেনিয়ার নাম কেন আলোচনায়</a></aside><p>নোবেল কমিটির সদর দপ্তর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অবস্থিত। ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে নরওয়ের নোবেল কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। তবে নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে গতকাল রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে বলেন, ‘ট্রাম্প খুব ভালো করেই জানেন, নোবেল কমিটি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কারও এ নিয়ে সন্দেহ থাকলে তাঁদের জন্য বিষয়টি আবার মনে করিয়ে দিচ্ছি। পরিস্থিতি এখনো একই রকম রয়েছে।’ এ বিষয়ে তাঁর মন্ত্রণালয় আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/tm0w4yeedb">রোববারই ইরানে হামলা, না হয় চমৎকার সমঝোতা: ট্রাম্প</a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”