চলতি বছর বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং ব্যবহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
ইসরায়েলের ডেমোক্র্যাটস দলের চেয়ারম্যান ইয়াইর গোলান বুধবার লিখেছেন, আরব নাগরিকদের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এমন সরকার গড়ার সুযোগ এসেছে, যা ইসরায়েলের সব নাগরিকের জন্য কাজ করবে।
ভালোবেসে এক বছর আগে বর্ষা ও নাবিদের বিয়ে হয়েছিল। নাবিদ কোনো কাজ করতেন না। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে শ্বশুরের কাছে টাকা চাইতেন। এ নিয়ে বর্ষার সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হতো।
প্রবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের কারণে যাঁরা এসআই পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
<p>কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপামজয়ী ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহিকে নতুন একটি মামলায় পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন তেহরানের আদালত। একই সঙ্গে তাঁর সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং দুই বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত বছর রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন এই নির্মাতা। নতুন রায়ের ফলে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ৬৬ বছর বয়সী পানাহি। তবে নতুন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।<br> বুধবার (২৮ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও মার্কিন সাময়িকী ভ্যারাইটি পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের সংস্কারপন্থী সংবাদমাধ্যম এমতেদাদকে পানাহির আইনজীবী মোস্তফা নিলি জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেলের অনুপস্থিতিতেই আদালত নতুন রায় দিয়েছেন। এমনকি শুনানির তারিখ সম্পর্কেও পানাহিকে আগে জানানো হয়নি।</p><p><strong>ব্যাংক হিসাব জব্দের পর জানা গেল রায়</strong><br> আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হঠাৎ পানাহির ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ করা হয়। বিষয়টি জানতে তিনি পানাহিকে সঙ্গে নিয়ে তেহরানের প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, আদালত ইতিমধ্যে নতুন মামলার রায় দিয়েছেন।</p><p>ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার নথিতে পানাহিকে ইরানের বাইরে বসবাসকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ চলতি বছরের ৩০ মার্চ তিনি ইরানে ফিরে এসেছেন। নতুন রায়ের পাশাপাশি তাঁর আগের এক বছরের কারাদণ্ডও বহাল রয়েছে। তবে দুটি রায়ের সাজা কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।<br>দ্য গার্ডিয়ানকে মোস্তফা নিলি জানিয়েছেন, পানাহির বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি মামলা বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এদিকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ইউরোপে বসবাসকারী পানাহির এক বন্ধু জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর সঙ্গে নির্মাতার কথা হয়েছে। তখন পর্যন্ত তাঁকে আটক করা হয়নি। এর পর থেকে তাঁর আটক হওয়ার কোনো নিশ্চিত তথ্যও বুধবারের প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-02/a5d7241c-2f4b-4b11-86bb-64c3600cd10e/Jafar_Panahi.webp"><figcaption>ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি </figcaption></figure><p><strong>সম্পদ বাজেয়াপ্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন</strong><br>পানাহির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের অধিকারকর্মীদের আইনি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান দাদবানের মানবাধিকার আইনজীবী মইন খাজায়েলি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, সম্পত্তির সঙ্গে অভিযোগের সুস্পষ্ট আইনগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এ ধরনের বাজেয়াপ্তের নির্দেশ ইরানের সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারে।<br>নতুন রায় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ইরানের চলচ্চিত্র অঙ্গনের কয়েকজন শিল্পীও। মোহাম্মদ রাসুলফ পরিচালিত ‘দ্য সিড অব দ্য স্যাক্রেড ফিগ’ ছবির অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, পানাহির মতো নির্মাতাদের গল্প দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বে পৌঁছে যাওয়াই কর্তৃপক্ষের অস্বস্তির কারণ।</p><p>ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বনিয়াদিও এ রায়ের নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে পানাহি নিজের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইরানের মানুষের দুর্ভোগ ও প্রতিরোধের কথা তুলে ধরেছেন। নতুন কারাদণ্ড সেই কণ্ঠ রুদ্ধ করার আরেকটি চেষ্টা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/world-cinema/eg61fwtke3">ইরানের জাফর পানাহি টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালীর তালিকায়</a></aside><p><strong>নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে স্বর্ণপাম জয়</strong><br>ইরানের প্রভাবশালী নির্মাতাদের একজন জাফর পানাহি। গত দুই দশকে একাধিকবার দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন তিনি। ২০১০ সালে তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণ, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা ও বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও গোপনে চলচ্চিত্র নির্মাণ চালিয়ে যান তিনি।<br>‘দ্য সার্কেল’, ‘অফসাইড’, ‘দিস ইজ নট আ ফিল্ম’, ‘ট্যাক্সি’ ও ‘নো বেয়ার্স’-এর মতো চলচ্চিত্র তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে। ২০১৫ সালে ‘ট্যাক্সি’ ছবির জন্য বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণভালুক জয় করেন। ২০১৮ সালে ‘থ্রি ফেসেস’ ছবির জন্য পান কান চলচ্চিত্র উৎসবের চিত্রনাট্য পুরস্কার।<br>২০২২ সালের জুলাইয়ে ইরানের কয়েকজন নির্মাতার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ঘিরে পানাহি নিজেও গ্রেপ্তার হন। প্রায় সাত মাস কারাবন্দী থাকার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামিনে মুক্তি পান তিনি।<br>২০২৫ সালে ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ চলচ্চিত্রের জন্য কান উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম জয় করেন পানাহি। ছবিটি ৯৮তম অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করে মনোনয়নও পায়।<br>পানাহির নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত ছবিটির গল্প। কয়েকজন সাবেক রাজনৈতিক বন্দী এক ব্যক্তিকে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো কারারক্ষী বলে সন্দেহ করেন। এরপর প্রতিশোধ, ন্যায়বিচার ও নৈতিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় কাহিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2018/05/15/f65e1ca21a4613491c7e3a7a4726875b-5afa971c5cf0d.jpg"><figcaption>থ্রি ফেসেস ছবির দৃশ্যে ইরানি অভিনেত্রী বেনহাজ জাফারি ও গৃহবন্দী নির্মাতা জাফর পানাহি</figcaption></figure><p><strong>কারাদণ্ড মাথায় নিয়েই দেশে ফিরেছিলেন</strong><br>২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পানাহিকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন ইরানের আদালত। পাশাপাশি তাঁর বিদেশ ভ্রমণ ও রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সে সময় তিনি নতুন ছবির আন্তর্জাতিক প্রচারণায় দেশের বাইরে ছিলেন।<br>কারাদণ্ডের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের মার্চে ইরানে ফিরে আসেন পানাহি। দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এর আগে ভ্যারাইটিকে জানিয়েছিলেন, নিজের দেশেই থাকতে ও কাজ করতে চান তিনি। কারাদণ্ড কার্যকর করা হলেও দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বদলাবেন না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-07/94178578-e221-46ce-880d-a903d4734713/taxi_tehran.jpg"><figcaption>টেক্সি সিনেমা জাফর পানাহি এনে দেয় গোল্ডেন বার্লিন বিয়ার</figcaption></figure><p>এদিকে চলতি বছরের শুরুতে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন নির্মাতা। তাঁর আশঙ্কা, রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন চলতে থাকলে সহিংসতার চক্র থেকে বেরিয়ে আসা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।<br>সর্বশেষ রায় পানাহির ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে বুধবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন মামলার অভিযোগের বিস্তারিত, রায় কার্যকরের সময় এবং আগের কারাদণ্ডের সঙ্গে নতুন সাজা কীভাবে কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।</p>
<p>উত্তরা দক্ষিণ স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে উঠলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক নারী। সময়টা বুধবার দুপুরবেলা। বগিতে বসার কোনো জায়গা ফাঁকা ছিল না। বাধ্য হয়ে তাঁকে দাঁড়িয়েই পুরো পথ যেতে হলো। অথচ তাঁর পাশেই ছিল বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ছয়টি আসন। এসব জায়গায় বসেছিলেন তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষ যাত্রীরা। ট্রেন চলতে শুরু করার পর পরের স্টেশনগুলো থেকে ভিড় বাড়তে থাকল। ট্রেনের স্পিকারে বয়স্ক ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের বসার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা বাজল কয়েকবার। কিন্তু সেখানে বসে থাকা যাত্রীদের কেউ ওই নারীকে জায়গা ছেড়ে দিলেন না।</p><p>ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি মেট্রোরেলের সামনের একটি কোচ কেবল নারীদের জন্য নির্ধারিত। এর বাইরে সাধারণ প্রতিটি কোচে সন্তান কোলে থাকা নারী, অন্তঃসত্ত্বা নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বসার সুবিধার জন্য ‘অগ্রাধিকার আসন’ রাখা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ কোচে এই নিয়ম মানার ক্ষেত্রে যাত্রীদের সচেতনতার বড় ঘাটতি দেখা যায়।</p><p>বেলা সোয়া ১টার দিকে শাহবাগ স্টেশনে কথা হয় মিরপুরের বাসিন্দা জিনাত তাজনিনের সঙ্গে। ৪৩ বছর বয়সী এই নারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি নিয়মিত এই পথে মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন। জিনাত জানান, সাধারণ বগিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য আলাদা আসন চিহ্নিত থাকলেও অনেক সময় তাঁদের বসতে দেওয়া হয় না। বেশির ভাগ সময় তরুণ ও যুবকেরা এসব জায়গা দখল করে থাকেন। নারী যাত্রীদের সঙ্গে শিশু থাকলেও অনেকে আসন ছেড়ে উঠতে চান না।</p><p>জিনাত নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, কিছুদিন আগে মিরপুর ১০ স্টেশন থেকে এক নারী সন্তান কোলে নিয়ে ট্রেনে ওঠেন। ওই সময় তাঁদের জন্য নির্ধারিত আসনে কয়েকজন তরুণ বসে ছিলেন। অনুরোধ করার পরেও তাঁরা ওঠেননি। উল্টো তাঁরা মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকার ভান করেন। আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে অনেকে কড়া ভাষায় নারীদের আলাদা কোচে যাওয়ার কথা বলেন।</p><p>একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী মেট্রোরেলে চলাচলের নিয়ম সম্পর্কে নিজের না জানার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, মেট্রোরেলে নারীদের জন্য আলাদা বগি থাকার বিষয়টি তিনি জানতেন। কিন্তু সাধারণ বগিতেও যে নির্দিষ্ট যাত্রীদের বসার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর ধারণা ছিল না। ট্রেন ছাড়ার সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি তাড়াহুড়া করে সাধারণ বগিতে উঠে পড়েন। পরে স্পিকারে ঘোষণা শুনে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ তাঁকে নিজের জায়গা ছেড়ে দেননি।</p><p>মেট্রোরেলে নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রীরা বলছেন, সাধারণ বগিতে শিশু কোলে নারী কিংবা বয়স্ক ব্যক্তিরা উঠলেও অনেকে চোখ ফিরিয়ে মুঠোফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। স্পিকারে বারবার সচেতনতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা মানার কোনো তদারকি চোখে পড়ে না। যাত্রীদের ভাষ্য, শুধু নিয়ম লিখে রাখা কিংবা স্পিকারে ঘোষণার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ না করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের বসার অধিকার নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/e6tdlcmgtw">মেট্রোরেলে শিক্ষকের মৃত্যু: ‘আজীবন আক্ষেপ থাকবে, কেউ যদি আব্বুকে বসতে দিতেন’</a></aside><p>এ বিষয়ে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম বুধবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, নারী, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের আসনগুলোতে স্টিকার লাগানো আছে। ছবি দেওয়া হয়েছে। ট্রেনের ভেতর ভিডিও ডিসপ্লেতে দেখানো হয়। অডিও ঘোষণা প্রচার করা হয়। চার ধরনের নির্দেশনা থাকার পরেও যদি না মানা হয়, তা দুঃখজনক। যাত্রীরা সচেতনতা থেকে মানবেন, এটাই চাওয়া। এখন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এটা না করা লাগলেই ভালো হতো। তারপরও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা লাগছে।</p><p>বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালত মিরপুর ১১ মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে। সেই সঙ্গে মেট্রোরেলের কোচে অগ্রাধিকার আসনগুলোতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রবীণ ব্যক্তি) যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।</p>
একটি রসিকতার মূল্য যে এত চড়া হতে পারে, এমবাপ্পে সম্ভবত তা কল্পনাও করেননি। ক্ষমা চেয়েও পার পাবেন কিনা, এখন পর্যন্ত অস্পষ্ট।
<p>আইফোনের লোভে কুপিয়ে হত্যা করা হলো বন্ধুকে। এরপর ৯ হাজার টাকায় আইফোন বিক্রি করে কেনা হয় নতুন জামা ও বাটনফোন। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...</p><figure></figure>
<p>হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই যাত্রীর জিনসের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের মধ্যে কাপড় দিয়ে সেলাই করে লুকিয়ে রাখা ১২ কেজি ৬০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। এসব সোনার বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা। আজ বুধবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা কাস্টমস হাউসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।</p><p>ঢাকা কাস্টমস হাউসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দুবাই থেকে এমিরেটসের ইকে৫৮৬ ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে সোনা চোরাচালান হতে পারে বলে গোপন তথ্য পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি শুরু করে তারা।</p><p>একপর্যায়ে চেন লিইউন ও মো জিয়াওইউ নামের দুই যাত্রী ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে ব্যাগেজ বেল্ট-২-এ এলে তাঁদের তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁদের জিনসের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের মধ্যে কাপড় দিয়ে সেলাই করে লুকিয়ে রাখা নরম হলুদ রঙের সোনার পেস্ট উদ্ধার করা হয়।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ধার করা সোনার বিশুদ্ধতা প্রাথমিক পরীক্ষায় ২৪ ক্যারেট বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।</p><p>আটক সোনা ও দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং ফৌজদারি আইনে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টমস হাউস।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।