বলিউড

নিজেই গাড়ি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ চালককে হাসপাতালে নিলেন আহত টাইগার

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
নিজেই গাড়ি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ চালককে হাসপাতালে নিলেন আহত টাইগার
নিজেই গাড়ি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ চালককে হাসপাতালে নিলেন আহত টাইগার
<p>বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মুম্বাই পুলিশ। হামলাকারীদের ধরতে গঠন করা হয়েছে ১৫টি দল। তাঁদের পালানোর কাজে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নামে হামলার দায় স্বীকার করে দেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। তবে হামলার সঙ্গে এই চক্রের যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।</p><p>গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলে ফেরার সময় হামলার মুখে পড়েন টাইগার। পুলিশের সূত্রে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, তাঁর গাড়িতে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। অভিনেতার শরীরে গুলি লাগেনি। তবে তাঁর গাড়িচালক ফেরদৌস ও ঘটনাস্থলে থাকা উমেশ চবন নামের আরেক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুজনই শঙ্কামুক্ত।</p><p><strong>চালক গুলিবিদ্ধ, নিজেই স্টিয়ারিং ধরেন টাইগার</strong><br>ফুটবল খেলে বেরিয়ে গাড়িতে বসেছিলেন টাইগার। আশপাশে ভক্তদের ভিড়। গাড়ি থেকে তাঁদের উদ্দেশে হাতও নাড়ছিলেন অভিনেতা। এর মধ্যেই শুরু হয় গুলি। এনডিটিভির প্রকাশিত ভিডিওর বিবরণ অনুযায়ী, গাড়ির কাছে এসে গুলি চালান হামলাকারীরা। গুলিবিদ্ধ হন চালক ফেরদৌস। মুহূর্তেই ভক্তদের উচ্ছ্বাস আতঙ্কে পরিণত হয়।</p><p>এনডিটিভি জানিয়েছে, দুই হামলাকারী গাড়িতে গুলি চালাচ্ছিলেন। তাঁদের তৃতীয় সহযোগী মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর জন্য প্রস্তুত ছিলেন। ভিডিওতে গুলি চালানোর একপর্যায়ে একজনের অস্ত্র আটকে যেতে দেখা যায় বলেও সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে। এরপর হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে উঠে পালিয়ে যান।<br>হামলার পরের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, টাইগার চালকের আসনে গিয়ে বসছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও, টাইগার।’ আহত চালককে নিয়ে অভিনেতা নিজেই তাঁর বিএমডব্লিউ চালিয়ে নানাবতী হাসপাতালে যান। গাড়িটি সরে যাওয়ার পর রাস্তায় রক্তের দাগও দেখা যায়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/72x1p4fwvx">বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, ঘটনাস্থলে আহত ২</a></aside><p><strong>মোটরসাইকেল ফেলে পালান হামলাকারীরা</strong><br>দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, হামলার পর আন্ধেরি রেলস্টেশনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেলে যান হামলাকারীরা। সেটি জব্দ করেছে পুলিশ। মুম্বাই পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ ঘটনার তদন্ত করছে। আহত গাড়িচালক ফেরদৌসের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তাঁর বাঁ হাতে গুলি লেগেছে। হত্যাচেষ্টাসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে।</p><p>এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নম্বরপ্লেট ও চেসিস নম্বর ধরে উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটির মালিকানার তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে হামলাকারীদের পালানোর পথ শনাক্তের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।</p><p><strong>বিষ্ণোই চক্রের নামে দায় স্বীকার</strong><br>হামলার পর অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধুর নাম উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকারের একটি পোস্ট ছড়ায়। লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নামে দেওয়া ওই পোস্টে দাবি করা হয়, টাইগারকে আগে ফোন করে সতর্ক করা হয়েছিল। তা উপেক্ষা করায় তাঁকে নিশানা করা হয়েছে। সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হামলার হুমকি দেওয়া হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, অনিল পণ্ডিতের নামে ছড়ানো একটি অডিও বার্তায় সালমানকে লরেন্স বিষ্ণোই ও বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতেও বলা হয়েছে। তবে পোস্ট ও অডিও বার্তার সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।<br>সালমানের প্রতি বিষ্ণোইয়ের এই বৈরিতার পেছনে রয়েছে ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের সময় সালমানের বিরুদ্ধে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। বন্য প্রাণী রক্ষায় পরিচিত বিষ্ণোই সম্প্রদায় এই প্রাণীকে পবিত্র মনে করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালমানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলে আসছেন লরেন্স বিষ্ণোই। ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে অভিনেতাকে হত্যার হুমকিও দেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-10/d6160dc2-3026-4c86-87f3-2d4e3dff66b0/DSC7719.jpg"><figcaption>টাইগার শ্রফ</figcaption></figure><p>২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে গুলি চালান মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই হামলার সঙ্গে বিষ্ণোই চক্রের যোগসূত্র পাওয়া যায়। একই বছরের অক্টোবরে সালমানের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিক বাবা সিদ্দিকিকে মুম্বাইয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই হত্যারও দায় দাবি করেন বিষ্ণোই চক্রের সদস্য পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি।</p><p>টাইগারের গাড়িতে হামলার পর নতুন করে এই চক্রের নাম সামনে এলেও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, পুলিশ দায় স্বীকারের পোস্টটি পরীক্ষা করছে।<br><strong>পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস সরকারের</strong><br>হামলার পর টাইগারের বাবা জ্যাকি শ্রফের টিম ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছে, অভিনেতা ভালো আছেন। ছেলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁর মা আয়েশা শ্রফও স্বস্তি প্রকাশ করেন।<br>মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ ফোনে টাইগারের সঙ্গে কথা বলেছেন। হামলাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে রোববার রাতে টাইগারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। সে সময় অভিনেতার মা আয়েশাও উপস্থিত ছিলেন।<br>সাক্ষাতের ছবিতে টাইগারের হাতে ব্যান্ডেজ এবং শরীরের কয়েকটি স্থানে ড্রেসিং দেখা গেছে। শিন্ডে সাংবাদিকদের জানান, গুলি না লাগলেও বারুদ ও ভাঙা কাচের টুকরায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন অভিনেতা। ঘটনায় টাইগার ও তাঁর মা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেও জানান তিনি।<br>পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে শিন্ডে বলেন, মুম্বাইয়ে হুমকি বা সহিংসতার মাধ্যমে কাউকে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। কোনো ধরনের হুমকিই সরকার সহ্য করবে না।<br>সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।</p>

Prothomalo

View more
অস্বীকার, প্রতিবাদ, হুঁশিয়ারি—শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন ইশরাক
অস্বীকার, প্রতিবাদ, হুঁশিয়ারি—শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন ইশরাক

<p>মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশের খবর প্রকাশের পর তা গুজব বলে দাবি করেছিলেন ইশরাক হোসেন। একের পর এক বার্তা দিয়েছেন রাতভর। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিতে আবার নির্দেশ দিলেন আসামের হাইকোর্ট
ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিতে আবার নির্দেশ দিলেন আসামের হাইকোর্ট

গত মে মাসে আসামের নগাঁওয়ের চার নম্বর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে মমতাজ বেগম নামে এক গৃহবধূকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। এরপর গত জুনে তাঁকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ভারতের গণতন্ত্র যেভাবে ভেতর থেকে দুর্বল হচ্ছে
ভারতের গণতন্ত্র যেভাবে ভেতর থেকে দুর্বল হচ্ছে

শুরুতে নির্বাচন কমিশন ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আধার কার্ড গ্রহণ করেনি। যুক্তি ছিল, এই পরিচয়পত্রে অতিরিক্ত মানুষ অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারেন।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
কিছু ফল ও সবজি কেন বিদ্যুৎ পরিবাহী
কিছু ফল ও সবজি কেন বিদ্যুৎ পরিবাহী

<p>বিজ্ঞান মেলায় গেলে প্রায়শই দুটি প্রজেক্ট দেখা যায়—একটি কাগজের তৈরি আগ্নেয়গিরি, অন্যটি আলুর ব্যাটারি। কয়েকটা আলু দিয়ে ছোট বাল্ব জ্বালানোর দৃশ্য দেখতে বেশ ভালোই লাগে। আমাদের প্রতিদিনের তরকারিতে থাকা সাধারণ একটি আলু কীভাবে আলো জ্বালাতে পারে, তা দেখে অনেকে অবাক হন। তবে আলু কিন্তু নিজে থেকে কোনো বিদ্যুৎ তৈরি করে না। এর ভেতরে কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা নির্দিষ্ট ধাতুর সংস্পর্শে এলে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করে। কিন্তু কীভাবে কিছু ফল ও সবজির ভেতর বিদ্যুৎ চলে? সব সবজিতে বা ফলের মধ্য দিয়ে কেন বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে পারে না?</p><p>আসলে বিদ্যুৎ পরিবাহী বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। আমাদের ঘরবাড়িতে তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের তার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, কারণ এরা ধাতব পরিবাহী। আবার রুপাও খুব ভালো পরিবাহী। আর অন্যটি হলো আয়নিক পরিবাহী, যা মুক্তভাবে বিচরণকারী আয়নের সাহায্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ সচল রাখে। মানুষের শরীরের টিস্যু কিংবা আলু মূলত আয়নিক পরিবাহী হিসেবে কাজ করে একটি আয়নিক সার্কিট তৈরি করে। এদের ভেতরে থাকা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থই মূলত এই কারেন্টের পথ তৈরি করে দেয়। সহজ কথায়, ইলেক্ট্রোলাইট হলো এমন একধরনের যৌগ, যা পানিতে মিশলে আয়নে ভেঙে যায়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/0fk0gzu7vf">পরিবাহী তারে বিদ্যুৎ কীভাবে সৃষ্টি হয়?</a></aside><blockquote>আয়নিক পরিবাহী মুক্তভাবে বিচরণকারী আয়নের সাহায্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ সচল রাখে। মানুষের শরীরের টিস্যু কিংবা আলু মূলত আয়নিক পরিবাহী হিসেবে কাজ করে একটি আয়নিক সার্কিট তৈরি করে।</blockquote><p>যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাইকেল হিকনার বিষয়টি চমৎকারভাবে বুঝিয়েছেন। তাঁর মতে, লবণের দ্রবণ যেভাবে একটি সার্কিট পূর্ণ করে বিদ্যুৎ পরিবহন করে, ঠিক একইভাবে ফল ও সবজিও বিদ্যুৎ নিয়ে যেতে পারে। আর এর মূল কারণ হলো লবণের দ্রবণে ভেসে থাকা আয়নগুলো, যা প্রথাগত ধাতব তারের মতো সরাসরি ইলেকট্রন না চালিয়ে আয়ন চলাচলের মাধ্যমে কাজ করে।</p><p>আয়নিক পরিবাহীর ভেতরে চার্জযুক্ত ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন থাকে। এদের ওপর ভোল্টেজ বা বিদ্যুতের চাপ প্রয়োগ করলে এরা সহজে চলাচল করতে পারে। যেমনটা দেখা যায় সাধারণ খাবার লবণ পানিতে গুলে নিলে সোডিয়াম ও ক্লোরাইড আয়ন তৈরি হয়, যা একটি চমৎকার আয়নিক দ্রবণ গঠন করে। এই দ্রবণগুলোকেই বলা হয় ইলেক্ট্রোলাইট, যা যেকোনো জীবন্ত প্রাণীর ভেতরেই উপস্থিত থাকে। এই কারণেই তাত্ত্বিকভাবে বলতে গেলে প্রায় সব ফল বা সবজিই বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। তবে সবগুলোর কার্যকারিতা সমান হয় না। ঠিক একই কারণে একদম বিশুদ্ধ পানির চেয়ে লবণ মেশানো পানি কিংবা কলের পানি অনেক বেশি সহজে বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে।</p><p>ফল বা সবজি দিয়ে ব্যাটারি বানাতে চাইলে এমন কিছু বেছে নিতে হবে, যার মধ্যে পটাশিয়াম বা সোডিয়ামের মতো আয়ন বেশি থাকে। এগুলো বিদ্যুতের আধান বা চার্জ খুব সহজে বহন করতে পারে। সেই সঙ্গে ফল বা সবজির ভেতরটা এমন হতে হবে, যেন বিদ্যুৎ সহজে যাতায়াত করতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/f5s5hptuwd">বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজ কতক্ষণ ঠান্ডা থাকে</a></aside><blockquote>আয়নিক পরিবাহীর ভেতরে চার্জযুক্ত ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন থাকে। এদের ওপর ভোল্টেজ বা বিদ্যুতের চাপ প্রয়োগ করলে এরা সহজে চলাচল করতে পারে।</blockquote><p>একটা শক্তপোক্ত আলু কিন্তু এই পরীক্ষার জন্য একদম দারুণ। বিজ্ঞানী মাইকেল হিকনারের মতে, পরীক্ষা শুরু করার আগে আলুকে যদি কিছুক্ষণ লবণ-পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়, তবে আলুটির বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। লবণ পানির সোডিয়াম আলুর ভেতরে ঢুকে আয়ন চলাচলের পথকে আরও সহজ করে দেয়। ফলে ব্যাটারিটা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।</p><p>অন্যদিকে টমেটোর ভেতরের গঠন বেশ অগোছালো ও রসালো। আর কমলালেবুতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকা সত্ত্বেও তা বিদ্যুৎ পরিবহনে খুব একটা কাজ দেয় না। নিউজার্সির রুটগার্স ইউনিভার্সিটির খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পল তাখিস্টভ জানান, ‘কমলালেবুর ভেতরটা আলাদা আলাদা কোষে বা ভাগে বিভক্ত থাকে। এই কারণে মূলত আয়ন চলাচলের পথে বাধা তৈরি হয়।’</p><p>কোনো ফল বা সবজিতে প্রচুর পরিমাণ আয়নিক উপাদান থাকলেও, তাকে ব্যাটারিতে রূপান্তর করতে বাড়তি কিছু উপকরণের প্রয়োজন পড়ে। ব্যাটারিতে বিভব পার্থক্য বা ভোল্টেজ তৈরির জন্য প্রয়োজন দুটি ভিন্ন ধাতুর তৈরি ইলেকট্রোড। এটা হতে পারে তামা ও দস্তা। একটা তামার মুদ্রা ও দস্তার প্রলেপ দেওয়া গ্যালভানাইজড পেরেক আলুতে পুঁতে তার দিয়ে যুক্ত করলেই তৈরি হয়ে যাবে সহজ এক ব্যাটারি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/8woo5y7332">শব্দ থেকে কি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব</a></aside><blockquote>বিজ্ঞানী মাইকেল হিকনারের মতে, পরীক্ষা শুরু করার আগে আলুকে যদি কিছুক্ষণ লবণ-পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়, তবে আলুটির বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।</blockquote><p>কোনো ফল বা সবজি কিন্তু একা একা ব্যাটারি হতে পারে না। ভেতরে থাকা ইলেকট্রিক চার্জ বা আয়নগুলোকে চলাচলের পথ তৈরি করে দিতে হয়। এর জন্য প্রথমে দুটি আলাদা ধরনের ধাতুর টুকরো ফলের ভেতর গুঁজে দেওয়া হয়। এরপর বাইরে থেকে তার দিয়ে তাদের সংযোগ দিলে তৈরি হয়ে যায় একটি পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রিক সার্কিট। ফলের ভেতরের তরল ইলেক্ট্রোলাইট আর এই ধাতুর ছোঁয়া লাগতেই শুরু হয় রাসায়নিক বিক্রিয়া। দুই ধাতুর ভেতরে শক্তির পার্থক্য থাকার কারণে আয়নগুলো তারের মধ্য দিয়ে দ্রুত ছোটাছুটি শুরু করে। আর এভাবেই তৈরি হয় ভোল্টেজ বা বিদ্যুৎ।</p><p>আলুর ব্যাটারি দিয়ে কি ফোন চার্জ দেওয়া সম্ভব? সহজ উত্তর হলো, না। একটি আলুর ব্যাটারি থেকে সাধারণত মাত্র ১.২ ভোল্টের মতো খুব সামান্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। মোবাইল বা ট্যাবলেটের মতো বড় কিছু চার্জ দিতে চাইলে সারিবদ্ধভাবে একসঙ্গে অসংখ্য আলু-ব্যাটারি যুক্ত করতে হবে। এটি বেশ ঝামেলার কাজ। তাই আলু দিয়ে ফোন চার্জ দেওয়ার চেষ্টার চেয়ে সাধারণ চার্জার ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।</p><h4>সূত্র: লাইভ সায়েন্স</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/5h8yub00rk">আমাদের শরীরেও বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু শক খাই না কেন</a></aside>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
আজকের বিনিময় হার
আজকের বিনিময় হার

আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ডলারের দাম সামান্য বেড়েছে। বাজারে ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
নিজেকে জাহির করতে গিয়ে মন্ত্রিত্ব হারাচ্ছেন ইশরাক
নিজেকে জাহির করতে গিয়ে মন্ত্রিত্ব হারাচ্ছেন ইশরাক

আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে ডেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
পূজা দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নারীর মৃত্যু, ‘আনন্দের সময়ে পরিবারটিতে বিষাদ নেমে এল’
পূজা দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নারীর মৃত্যু, ‘আনন্দের সময়ে পরিবারটিতে বিষাদ নেমে এল’

বড় অসহায় হয়ে গেল তাঁর মেয়ে দুটি। শুনেছি তার ছিঁড়ে পড়ার বিষয়টি রাতেই পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বোমার হুমকিতে বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ করল তেল আবিব থেকে ভিয়েনাগামী উড়োজাহাজ
বোমার হুমকিতে বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ করল তেল আবিব থেকে ভিয়েনাগামী উড়োজাহাজ

বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ওএস৮২ ফ্লাইটটি রোমানিয়ার সীমান্তের কাছে থাকাকালে উড়োজাহাজের ক্রুরা বোমার হুমকি পান।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে শি
খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে শি

সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক শিশু, নারী-পুরুষ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খেলাধুলায় যুক্ত করাই শির মূল লক্ষ্য। খেলাধুলার মাধ্যমে তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং সমাজে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে সংগঠনটি।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন