মধ্যপ্রাচ্য

নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেবে না জোটসঙ্গী দল ইউটিজে, আরও বেকায়দায় তিনি

নভেম্বর ৫, ২০২৬
নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেবে না জোটসঙ্গী দল ইউটিজে, আরও বেকায়দায় তিনি
নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেবে না জোটসঙ্গী দল ইউটিজে, আরও বেকায়দায় তিনি
<p>ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়ল। একে তো নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন কট্টর ইহুদিবাদী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এরপর আবার জোটের এক সঙ্গী জানিয়ে দিয়েছে যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাবে না তারা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ইসরায়েলের ক্ষমতার রাজনীতিতে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন কট্টরপন্থী এই নেতা।</p><p> গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৩ আসন পায় নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮ আসন। ইসরায়েলের দুটি আরব দলও নজিরবিহীন ফল করেছে। একত্রে তারা পেয়েছে পার্লামেন্ট নেসেটের ১৯টি আসন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/5pmp6u1nfc">সরকার গঠন নিয়ে বিরোধী জোটের বৈঠক, নেতানিয়াহুকে দ্রুত সরানোর অঙ্গীকার</a></aside><p>কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এত দিন সরকার গঠন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। বুধবার থেকে সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করেছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। তাঁর হাতে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সরকার গঠন না হলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে সময় পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন নেতানিয়াহু।</p><p>হারজগের প্রচেষ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর জন্য বড় দুঃসংবাদ দেয় তাঁর জোটসঙ্গী অতি রক্ষণশীল ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে)। দলটি সাফ জানিয়ে দেয় যে তারা সরকার গঠনের জন্য শুধু নেতানিয়াহু কেন, কাউকেই সুপারিশ বা সমর্থন করবে না। যদিও নির্বাচনের পর থেকেই দলটি বারবার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল যে তারা নেতানিয়াহুর হাত ছাড়তে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/h9mbgpmakz"> পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে নেতানিয়াহু এখন কেন ‘জয় চুরি হয়ে যাওয়ার’ অভিযোগ তুলছেন</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/nf5h3s3h/Gadi-Eisenkot.jpg"><figcaption>গাদি আইজেনকট</figcaption></figure><p>এবারের নির্বাচনে ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ৭ আসন পেয়েছে। অর্থাৎ তারা সরে যাওয়ার পর নেতানিয়াহু জোটের আসনসংখ্যা হবে ৪৬। এর ফলে আইজেনকটের জোটের তুলনায় নেতানিয়াহু জোটের আসনসংখ্যা কমে যাবে। বিরোধী জোটের জন্য আরও বড় একটি খবর হচ্ছে, আরব একটি দল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটকে সমর্থন জানাতে পারে বলে খবর বেরিয়েছে।</p><p>দলটি মনসুর আব্বাসের রাআম বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল। তারা এবার আটটি আসন পেয়েছে। এ আসন যুক্ত হলে আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মোট ৫৬টি আসনের সমর্থন পাবেন। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর পতনের পথ মোটামুটি পরিষ্কার হলেও, শেষ পর্যন্ত নেসেটের দখল কারা নিচ্ছে, তা জানতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/c7mvd9pmrr">এ বছর শেষে ইসরায়েলকে সব সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হবে: ট্রাম্প</a></aside>

Prothomalo

View more
গরম দুধে দুটি কাঁচা ডিম, আর কী খেয়ে তরুণদের ঘুম কাড়তেন মনরো
গরম দুধে দুটি কাঁচা ডিম, আর কী খেয়ে তরুণদের ঘুম কাড়তেন মনরো

তাঁকে নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। সৌন্দর্য আর অভিনয়দক্ষতা তো ছিলই, যৌনতার প্রতীক হিসেবেও সারা দুনিয়ায় সম্ভবত সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে তাঁকে নিয়েই।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
কেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলালেন ডুলি
কেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলালেন ডুলি

ভুটান ম্যাচে সব আলোচনা ছাপিয়ে বড় কৌতূহল ছিল ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে হঠাৎ স্ট্রাইকার হিসেবে নামিয়ে দেওয়া হলো কেন?

নভেম্বর ৬, ২০২৬
দিনভর অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করার পর মধ্যরাতে সড়কে নেমে ছাত্রীদের বিক্ষোভ
দিনভর অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করার পর মধ্যরাতে সড়কে নেমে ছাত্রীদের বিক্ষোভ

<p>রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। </p><p>বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ এসে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপর ছাত্রীরা কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। ১২টার পরেও গিয়ে দেখা গেছে, শতাধিক ছাত্রী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করছেন তাঁরা।</p><p>এর আগে সকালে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রীরা। এ সময় ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা। </p><p>আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি প্রথমে রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়।</p><p>নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা। পরে ওই শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাঁদের কাছ থেকে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/i9q2fhyy/Home_Economics_01.jpg"><figcaption>অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলের চিত্র</figcaption></figure><p>কলেজের স্নাতকোত্তরের প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী তাবাসসুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুইটা স্টুডেন্টের সিট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করার কারণেই এই আন্দোলন। আমরা ম্যাডামের কাছে হাত-পা জোর করে ক্ষমা চাইলে ম্যাডাম বলেন, আমাদের স্যরি অ্যাকসেপ্ট করেছেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক রাতের অডিটোরিয়ামের বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হবে। আমাদের স্টুডেন্টদের পক্ষে এই টাকা দেওয়া সম্ভব না।’</p><p>অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় সন্ধ্যায় অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যা বলছে, তা টোটালি ঘটনার বিপরীত। আমি ওদের একটা অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছিলাম রাত ১২টা পর্যন্ত। ওরা ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছে। অনুষ্ঠান করার প্রেক্ষিতে আমি একটু রেগে গিয়ে ওদের দুইজনের আসন বাতিল করে দিয়েছি। পরবর্তীতে ওরা আমার কাছে মাফ চেয়েছে। আমি একটু নমনীয় হয়ে বলেছি, যেহেতু কোনো ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করে নাই, ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শাস্তির আওতায় আসতে হবে। ওরা লংটাইম বিদ্যুৎ অপচয় করছে, এই বিলটা ওদের কাছ থেকে আমি নিব। এই জরিমানার নোটিশ আমি দিয়েছি, এটাই আমার অপরাধ।’</p><p>অধ্যক্ষ বলেন, ‘তারা সাদা কাগজে আমাকে পদত্যাগের স্বাক্ষর করতে বলছে। আমি কেন তাদের কাছে পদত্যাগ করব?’</p><p>এরপরও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান ছাত্রীরা। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে বের করে আনে। পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার প্রথম আলোকে বলেন, অধ্যক্ষ বর্তমানে নিরাপদে আছেন। কলেজের সামনে বেশ কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়েছে। তাদেরকে কলেজ ক্যাম্পাসে চলে যেতে বলা হয়েছে।</p><p>তবে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ দুই গাড়ি পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতর এনে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা করিয়েছেন। তাতে দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। </p><p>অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সড়ক ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।</p>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখতে চান পোশাকশিল্পের মালিকেরা
পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখতে চান পোশাকশিল্পের মালিকেরা

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজিএমইএর সভাপতির নেতৃত্বে কয়েকজন পোশাকশিল্পমালিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আজ বৈঠক করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে শিল্পমালিকদের প্রতি অনুরোধ করেন বলে জানা গেছে।

নভেম্বর ৫, ২০২৬
শান্তিবাগে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে
শান্তিবাগে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে

<p>রাজধানীর শান্তিবাগে নিজেদের বাসায় সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফ (২৩) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।</p><p> পুলিশ ও নিহত সাইফুলের পারিবারিক সূত্র জানায়, সাইফুল সপরিবার শান্তিবাগে থাকতেন। তিনি ঠিকাদারি করতেন।</p><p>সাইফুলের মামা মো. রনি প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যায় সাইফুলের সঙ্গে তাঁর কিশোর বয়সী ছোট ভাইয়ের একটি বিষয় নিয়ে কথা–কাটাকাটি হয়। এ সময় তাদের বাবা সিরাজুল ইসলাম ছাদে ছিলেন। চিৎকার শুনে তিনি বাসার একটি কক্ষে এসে দেখেন সাইফুল মেঝেতে পড়ে আছেন। তাঁর বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন। রক্তাক্ত অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।</p><p>ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহজাহানপুর থানায় জানানো হয়েছে।</p>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
নকল বিদেশি ফুড সাপ্লিমেন্ট কারখানায় অভিযান, দেড় কোটি টাকার ওষুধ জব্দ
নকল বিদেশি ফুড সাপ্লিমেন্ট কারখানায় অভিযান, দেড় কোটি টাকার ওষুধ জব্দ

<p>রাজশাহীতে একটি বাড়ি থেকে দেশি-বিদেশি নামীদামি ব্র্যান্ডের নকল ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
১ লাখ গাছ রোপণ করল আড়ং
১ লাখ গাছ রোপণ করল আড়ং

<p>ব্র্যাক এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আড়ং তাদের ‘ব্রিং ইয়োর ওন ব্যাগ’ (Bring Your Own Bag—BYOB) ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ৪২টি জেলায় এক লাখের বেশি গাছ রোপণ করেছে।/////// এ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন থেকে অর্জিত অর্থ পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সহায়তা করা হচ্ছে গ্রামীণ পরিবারগুলোকে এবং সম্প্রসারণ করা হচ্ছে সবুজের পরিসর।</p><p> ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, ‘ব্রিং ইয়োর ওন ব্যাগ উদ্যোগের শুরু হয়েছিল একটি সহজ অভ্যাসের পরিবর্তন দিয়ে—নিজেদের কাছে থাকা ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে বের হওয়া এবং তা আবার ব্যবহার করা। আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এই ছোট সিদ্ধান্তগুলোই গাছ রোপণ, সবুজের পরিসর পুনরুদ্ধার এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।’</p><p>২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় BYOB ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কাগজের ব্যাগের ব্যবহার ৪৬ দশমিক ৮ লাখের বেশি কমানো সম্ভব হয়েছে, যা আনুমানিক ৬ হাজার গাছ সংরক্ষণের সমান। এ সময় কাগজের ব্যাগ বিক্রি থেকে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা আয় হয়েছে। আড়ং এ সম্পূর্ণ অর্থ গাছ রোপণ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারমূলক উদ্যোগে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।</p><p>এই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ব্র্যাকের ‘আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন’ কর্মসূচির মাধ্যমে ৯৫ হাজার ৩৮২টি ফলদ, কাঠজাত ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণে অর্থায়ন করেছে আড়ং। ৪২টি জেলার ২১০টি উপজেলায় ৪০ হাজার ১টি পরিবারের মধ্যে এসব চারা বিতরণ করা হয়েছে। ফলে পরিবারগুলো পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা পাবে, সম্ভাব্য আয়ের উৎস তৈরি করতে পারবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।</p><p>এ ছাড়া আড়ং মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে মিয়াওয়াকি ফরেস্ট গড়ে তুলছে। এই পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে ছোট জায়গায় দেশীয় প্রজাতির গাছ ঘনভাবে রোপণ করে নিবিড় ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ সবুজ এলাকা তৈরি করা হয়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মিয়াওয়াকি ফরেস্টে আড়ং তাদের গ্রাহক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পেইনটিকে সমর্থন জানিয়ে আসা অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি এ উদ্যোগে অবদান রাখার সুযোগ পান।</p>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেবে না জোটসঙ্গী দল ইউটিজে, আরও বেকায়দায় তিনি
নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেবে না জোটসঙ্গী দল ইউটিজে, আরও বেকায়দায় তিনি

<p>ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়ল। একে তো নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন কট্টর ইহুদিবাদী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এরপর আবার জোটের এক সঙ্গী জানিয়ে দিয়েছে যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাবে না তারা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ইসরায়েলের ক্ষমতার রাজনীতিতে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন কট্টরপন্থী এই নেতা।</p><p> গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৩ আসন পায় নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮ আসন। ইসরায়েলের দুটি আরব দলও নজিরবিহীন ফল করেছে। একত্রে তারা পেয়েছে পার্লামেন্ট নেসেটের ১৯টি আসন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/5pmp6u1nfc">সরকার গঠন নিয়ে বিরোধী জোটের বৈঠক, নেতানিয়াহুকে দ্রুত সরানোর অঙ্গীকার</a></aside><p>কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এত দিন সরকার গঠন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। বুধবার থেকে সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করেছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। তাঁর হাতে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সরকার গঠন না হলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে সময় পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন নেতানিয়াহু।</p><p>হারজগের প্রচেষ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর জন্য বড় দুঃসংবাদ দেয় তাঁর জোটসঙ্গী অতি রক্ষণশীল ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে)। দলটি সাফ জানিয়ে দেয় যে তারা সরকার গঠনের জন্য শুধু নেতানিয়াহু কেন, কাউকেই সুপারিশ বা সমর্থন করবে না। যদিও নির্বাচনের পর থেকেই দলটি বারবার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল যে তারা নেতানিয়াহুর হাত ছাড়তে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/h9mbgpmakz"> পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে নেতানিয়াহু এখন কেন ‘জয় চুরি হয়ে যাওয়ার’ অভিযোগ তুলছেন</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/nf5h3s3h/Gadi-Eisenkot.jpg"><figcaption>গাদি আইজেনকট</figcaption></figure><p>এবারের নির্বাচনে ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ৭ আসন পেয়েছে। অর্থাৎ তারা সরে যাওয়ার পর নেতানিয়াহু জোটের আসনসংখ্যা হবে ৪৬। এর ফলে আইজেনকটের জোটের তুলনায় নেতানিয়াহু জোটের আসনসংখ্যা কমে যাবে। বিরোধী জোটের জন্য আরও বড় একটি খবর হচ্ছে, আরব একটি দল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটকে সমর্থন জানাতে পারে বলে খবর বেরিয়েছে।</p><p>দলটি মনসুর আব্বাসের রাআম বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল। তারা এবার আটটি আসন পেয়েছে। এ আসন যুক্ত হলে আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মোট ৫৬টি আসনের সমর্থন পাবেন। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর পতনের পথ মোটামুটি পরিষ্কার হলেও, শেষ পর্যন্ত নেসেটের দখল কারা নিচ্ছে, তা জানতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/c7mvd9pmrr">এ বছর শেষে ইসরায়েলকে সব সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হবে: ট্রাম্প</a></aside>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান মহড়া ‘কোপ সাউথ’ সম্পন্ন
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান মহড়া ‘কোপ সাউথ’ সম্পন্ন

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/u0ep811f/BAF.jpg"><figcaption>ঢাকা সেনানিবাসের বিমানবাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকারে যৌথ মহড়া ‘কোপ সাউথ-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের কর্মকর্তারা</figcaption></figure><p>বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের (পিএসিএএফ) অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত যৌথ বিমান মহড়া ‘এক্সারসাইজ কোপ সাউথ-২০২৬’ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসের বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকারে পাঁচ দিনব্যাপী এ মহড়া সফলভাবে সমাপ্ত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।</p><p>মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল রুসাদ দীন আছাদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধান কর্নেল হেনরি ই. প্লাগরাডট মহড়ার নানা কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাঁচ দিনের এই যৌথ মহড়ায় সি-১৩০জে ও সি-১৩০বি পরিবহন বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ ব্যবস্থাপনা এবং বিমানসংক্রান্ত চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া আকাশপথে মালামাল পরিবহন, বিমানঘাঁটির নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার পর অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের ওপর অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।</p><p>এ মহড়ায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১২০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের ১৮ জন সদস্য অংশ নেন। ১ নভেম্বর শুরু হয়েছিল এই মহড়া।</p>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।