writings

নদীপারের অসমাপ্ত গল্প

অক্টোবর ২, ২০২৬
নদীপারের অসমাপ্ত গল্প
নদীপারের অসমাপ্ত গল্প
গাঁয়ের উত্তর পাড়ায় ছিল ফিরোজদের বাড়ি। বয়সে সেলিনার সমান। নদীতে মাছ ধরা কিংবা অন্যের জমিতে কাজ করা ছিল তার পেশা। সুযোগ পেলেই সেলিনাদের বাড়ির আশপাশে ঘুরঘুর করা ছিল নেশা। প্রথম প্রথম ফিরোজকে দেখে সেলিনা বিরক্ত হতো। কিন্তু কখন যে ঝাঁকড়া চুলের ছেলেটার প্রতি সেই বিরক্তিই মায়ায় পরিণত হলো, তা সে নিজেও জানে না।

Prothomalo

View more
জলাশয়ের বর্জ্য তুলবে যন্ত্র, প্রাকৃতিক রঙে রাঙবে কাপড়
জলাশয়ের বর্জ্য তুলবে যন্ত্র, প্রাকৃতিক রঙে রাঙবে কাপড়

কুমিল্লায় আয়োজিত তিন দিনের কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলায় শিক্ষার্থীদের তৈরি এমন নানা প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে।

অক্টোবর ২, ২০২৬
লন্ডনে বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু
লন্ডনে বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু

লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী

অক্টোবর ২, ২০২৬
মা–বাবা ঋণের চাপে এলাকাছাড়া, গ্রামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বৃদ্ধ আটক
মা–বাবা ঋণের চাপে এলাকাছাড়া, গ্রামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বৃদ্ধ আটক

<p>কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর আজ শুক্রবার বিকেলে আনু মিয়া নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।</p><p> অভিযুক্ত আনু মিয়া (৮০) উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নে একটি গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি একই ইউনিয়নের আরেকটি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে সেখানেই তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।</p><p>স্থানীয় লোকজন ও শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির মা–বাবা ঋণের কারণে প্রায় এক মাস ধরে এলাকায় নেই। এ কারণে মেয়েটি তার চাচা ও চাচির কাছে থাকছে। ঘটনার দিন শিশুটিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আনু মিয়া ঘরে নিয়ে যান। শিশুটির সঙ্গে থাকা আরেক শিশুকে ৫০ টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। এরপর মেয়েটিকে ধর্ষণচেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন আনু মিয়াকে আটক করেন। ওই দিন রাতে একটি বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও ওই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন।</p><p>তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনু মিয়া। স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটকের পর বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখার সময় তিনি বলেন, শিশুটি তাঁর কাছে তরকারি নিতে গিয়েছিল। শিশুটির ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের চেষ্টা তিনি করেননি বলেও দাবি করেন।</p><p>ঘটনার দিন মনোহরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুনয়ন বড়ুয়া একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এবং আরেকজন উপপরিদর্শক ৯৯৯–এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তখন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বাঁধা দেখিনি; জানতে পেরেছি স্থানীয়রা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন। পরে আমরা শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি—তারা বলেছে এমন কিছু ঘটেনি। এ ছাড়া পুলিশ সেখানে যাওয়ায় তাদের কয়েকজন বিরক্ত প্রকাশ করেছিল। পরে আমরা তাদেরকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে চলে আসি।’</p><p>আজ শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত শিশুটির পরিবারের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি।’ শিশুটির মা–বাবা ঋণের কারণে এলাকাছাড়া—বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হলে ওসি বলেন, ‘বিষয়টি তিনি জানতেন না। এখনই আবার ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। এরপর এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’</p><p>পরে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, আজ বিকেলে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা-পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। শিশুটির মা–বাবা এলাকায় না থাকায় তাঁর চাচা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে।</p><p>পুলিশ সুপার বলেন, ‘থানায় বর্তমানে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।’</p><p>বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে থানার ওসি মাকসুদ আহমেদ প্রথম আলোকে ঘটনার সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে বলেন, আনু মিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার দিন সেখানে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না, সেটিও দেখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।</p>

অক্টোবর ২, ২০২৬
উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় সফল হওয়া চ্যালেঞ্জের: গভর্নর
উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় সফল হওয়া চ্যালেঞ্জের: গভর্নর

<p>উচ্চ সুদহারে উদ্যোক্তাদের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা হ্রাস করতেই ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকঋণের বিদ্যমান সুদহার প্রায় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। এ ধরনের উচ্চ ব্যয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সফল হওয়া উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’</p><p>বেসরকারি খাতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এসব কথা বলেন। রাজশাহী নগরের ভেড়িপাড়ার মোড়ের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই সভায় ব্যবসায়ী, চেম্বার নেতা, সরকারি ও ব্যাংক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।</p><p>সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিসের নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার।</p><p>অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানান, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণদের যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ আমরা দেখেছি, সেই শক্তিকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই “উদ্যোগ” নামে একটি স্কিমের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে উদ্যোক্তা বাছাই করে ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে এই স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে স্কিমটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে এটির কার্যক্রম শুরু হবে।</p><p>গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আরও বলেন, ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন স্কিমের আওতায় যাতে অধিক সংখ্যক প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষক সুবিধা পায়, সে লক্ষ্যে প্রচলিত জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।</p><p>এ ছাড়া দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্য উৎপাদন পর্যায় থেকে সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা পর্যন্ত সম্পূর্ণ কৃষি-মূল্য-শৃঙ্খলকে কার্যকর ও গতিশীল করতে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন স্কিম ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।</p>

অক্টোবর ২, ২০২৬
নোয়াখালীতে পিকআপে চড়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৯ কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিল ছাত্রদল
নোয়াখালীতে পিকআপে চড়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৯ কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিল ছাত্রদল

<p> নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পিকআপ নিয়ে মিছিল করার অভিযোগে ৯ কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। আটকের সময় তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার সেবারহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক কিশোরদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।</p><p> পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌমুহনী এলাকা থেকে একটি খালি পিকআপ ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়ক দিয়ে সেবারহাটের দিকে যাচ্ছিল। পিকআপটি সেনবাগ স্টেডিয়ামের সামনে পৌঁছালে একদল তরুণ সেটির গতিরোধ করেন। তাঁরা সেবারহাট এলাকায় যাওয়ার কথা বলে পিকআপে ওঠেন। পরে চলন্ত পিকআপে তাঁরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন।</p><p>স্থানীয় সূত্র জানায়, পিকআপটি সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকা অতিক্রম করার সময় স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা–কর্মীর বিষয়টি নজরে আসে। তাঁরা মোটরসাইকেলে পিকআপটির পিছু নেন। পরে সেবারহাট বাজার এলাকায় পিকআপটি থামিয়ে সেটি ঘেরাও করে ৯ কিশোরকে আটক করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।</p><p>আটক কিশোরদের মারধর করার পর ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা পুলিশে খবর দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।</p><p>সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন প্রথম আলোকে বলেন, আটক কিশোরেরা একটি পিকআপে চড়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে ছমিরমুন্সিরহাট এলাকা থেকে সেবারহাটের দিকে যাচ্ছিল। ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা তাদের আটক করে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। তারা বর্তমানে থানায় রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।</p>

অক্টোবর ২, ২০২৬
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা, নিঃশর্ত মুক্তি চায় জামায়াত
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা, নিঃশর্ত মুক্তি চায় জামায়াত

<p>সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই দাবি জানান।</p><p> হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিকেলে রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।</p><p>বিবৃতিতে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সাধারণ যাত্রীদের মতোই হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন আখতারুজ্জামান। এর প্রতিবাদে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।</p><p>সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ নিয়ে অসদাচরণের অভিযোগে ইতিমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশও সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে বিষয়টি তদন্ত করার কথা জানায়। অথচ সেই তদন্তের আগেই উল্টো আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এই মামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/g1rpkrjuwf">বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার</a></aside><p>শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা, অসম্মানজনক আচরণ, লাগেজ নিয়ে হয়রানি ও মূল্যবান সামগ্রী হারানোর মতো নানা কারণে যাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে।</p><p>মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।</p>

অক্টোবর ২, ২০২৬
বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ ১০টি, শীর্ষে হৃদ্‌রোগ
বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ ১০টি, শীর্ষে হৃদ্‌রোগ

<p>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় হৃদ্‌রোগে। সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান যে ১০টি কারণের তালিকা প্রকাশ করেছে, তার শীর্ষে আছে হৃদ্‌রোগ। বিশ্বের প্রায় ৯৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এই রোগে।</p><p> বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আজ শুক্রবার মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের তালিকা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে মারা গেছে মোট ৬ কোটি ১ লাখ মানুষ। এর মধ্যে প্রধান ১০টি কারণের জন্য ৩ কোটি ৩ লাখ (৫৪ শতাংশ) মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২০ সালের পর এবারই প্রথম কোভিড-১৯ বৈশ্বিক শীর্ষ ১০টি মৃত্যুর কারণের তালিকা থেকে বাদ পড়ল। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে করোনা মহামারি শুরু হয়েছিল।</p><p>শীর্ষ ১০ কারণের মধ্যে আছে হৃদ্‌রোগ (স্কেমিক হার্ট ডিজিজ), স্ট্রোক, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্র ও ফুসফুসের রোগ (সিওপিডি), নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ, আলঝেইমার, ডিমেনশিয়া, ডায়াবেটিস, ফুসফুসের ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদ্‌রোগ, কিডনির রোগ এবং ডায়রিয়াজনিত রোগ। শীর্ষ ১০টি কারণের মধ্যে ৮টিই অসংক্রামক ব্যাধি (এনসিডি)। মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৭ শতাংশ হয় অসংক্রামক ব্যাধিতে।</p><p>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে হৃদ্‌রোগ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘাতক ব্যাধি, যা মোট মৃত্যুর ১৬ শতাংশ এর জন্য দায়ী। এই রোগে ২০০০ সালে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৯৫ লাখে পৌঁছেছে।</p><p>শীর্ষ দ্বিতীয় কারণ স্ট্রোক আনুমানিক ৬৮ লাখ (১১ শতাংশ) ও শীর্ষ তৃতীয় কারণ সিওপিডি ৩৬ লাখ (৬ শতাংশ) মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ আবারও বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে চতুর্থ স্থানে ফিরে এসেছে (২৭ লাখ মৃত্যু)। আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়া ৫ নম্বর স্থানে (২১ লাখ মৃত্যু) উঠে এসেছে, যার মধ্যে ৬৬ শতাংশ রোগীই নারী। ডায়াবেটিস (২০ লাখ) ষষ্ঠ এবং ফুসফুসের ক্যানসার (১৮ লাখ) সপ্তম স্থানে রয়েছে। এ ছাড়া ২০০০ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কিডনির রোগে মৃত্যু ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নবম স্থানে পৌঁছেছে; আর দশম স্থানে আছে ডায়রিয়াজনিত রোগ। এটা মূলত নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সমস্যা।</p><p>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থনৈতিক শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী মৃত্যুর কারণগুলোতে বড় পরিবর্তন দেখা যায়</p><p>১. নিম্ন আয়ের দেশ: সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ এখানে সবচেয়ে বেশি। ২০২৩ সালেও শীর্ষ ১০টি কারণের ৭টিই ছিল সংক্রামক রোগ। তবে ডায়রিয়াজনিত রোগে মৃত্যু ২০০০ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কমেছে। নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ এখানে ২০১০ সাল থেকে প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে।</p><p>২. নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ: হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এবং সিওপিডি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে শীর্ষ তিনটি স্থানে চলে এসেছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিসে মৃত্যু ২০০০ সালের পর তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।</p><p>৩. উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ: আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ায় মৃত্যু তিন গুণের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।</p><p>৪. উচ্চ আয়ের দেশ: বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার প্রাদুর্ভাব শীর্ষে। এখানকার ১০টি প্রধান কারণের ৯টিই অসংক্রামক ব্যাধি।</p><h3>কেন মৃত্যুর কারণ তা জানা জরুরি </h3><p>মানুষ কেন ও কী কারণে মারা যাচ্ছে, তা জানা কেবল মৃত্যুর তথ্য রাখা নয়; বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝা, প্রতিরোধযোগ্য রোগ চিহ্নিত করা এবং সঠিক নীতিনির্ধারণের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিখুঁত তথ্য–উপাত্ত, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও বাজেট সঠিক জায়গায় বণ্টন করতে নীতিনির্ধারকদের সাহায্য করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘আইসিডি–১১’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোতে সময়োপযোগী ও নির্ভুল স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করে আসছে।</p>

অক্টোবর ২, ২০২৬
বাসচাপায় নিহত ৭: ‘আমার সব মারা গেছে’, দায় নেবে কে
বাসচাপায় নিহত ৭: ‘আমার সব মারা গেছে’, দায় নেবে কে

ময়মনসিংহে বাসচাপায় ৭ নিহতের মধ্যে জামালপুরের একই পরিবারের ৪ জন। এর মধ্যে এক নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন

অক্টোবর ২, ২০২৬
রাজধানীর পাইকপাড়ায় সরকারি ভবনের লিফট ছিঁড়ে শিশুসহ আহত ৩
রাজধানীর পাইকপাড়ায় সরকারি ভবনের লিফট ছিঁড়ে শিশুসহ আহত ৩

<p>রাজধানীর পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনের লিফট ছিঁড়ে পড়ে শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁদের শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে পাইকপাড়া আবাসন প্রকল্পের ১ নম্বর ভবনে এ ঘটনা ঘটে।</p><p> আহত ব্যক্তিরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান (৬২), নাইস আহমেদ (৪০) ও তাঁর ছেলে ওয়াসী (৮)।</p><p> যোগাযোগ করা হলে দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, সকালে আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনের লিফট ছিঁড়ে ওপর থেকে নিচে পড়ে। এতে ওই লিফটে থাকা শিশুসহ ভবনটির তিনজন বাসিন্দা আহত হন। পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটি বাদে অন্য দুজনের অবস্থা গুরুতর।</p><p>দারুসসালাম থানা পুলিশ ও ভবনটির বাসিন্দারা জানান, ফজরের নামাজের পর আজ সকালে ভবনটির তিন বাসিন্দা পঞ্চম তলা থেকে লিফটে করে নিচে নামছিলেন। একপর্যায়ে চতুর্থ তলায় লিফটের কেব্‌ল ছিঁড়ে গেলে লিফটটি নিচে পড়ে যায়। এতে ভবনটির বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান, নাইস আহমেদ ও তাঁর ছেলে ওয়াসী আহত হন। তাঁদের পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়।</p><p>ভবনটির এক বাসিন্দা জানান, ফজরের নামাজের পর ভবনের পঞ্চম তলার তিন বাসিন্দা লিফটে উঠেছিলেন। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে লিফটটি ছিঁড়ে পড়ে। শব্দ শুনে দারোয়ান সেখানে গিয়ে লিফটের ভেতরে চিৎকার শুনতে পান। পরে আশপাশের কয়েকজন এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।</p><p>লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে ত্রুটিযুক্ত বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। ওই আবাসন প্রকল্পে মোট আটটি ভবন রয়েছে, যেখানকার অধিকাংশ ভবনের লিফটের অবস্থাই ভালো নয়।</p><p>আরেকজন বাসিন্দা সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের ফোন করলে বা চিঠি লিখলে আইসা তেল দিয়ে বা পানি দিয়ে মুছে বলে সার্ভিসিং করে দিয়েছি। আসলে এখানে প্রকৃত সার্ভিসিং করা হয় না।’</p>

অক্টোবর ২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন