নারী আসনের উপনির্বাচন: ঋণখেলাপিদের তথ্য চেয়েছে ইসি
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনের নির্বাচনের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনেও ঋণখেলাপিরা যাতে অংশ নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট বিধান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঢাকার শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের দূরত্ব কমবে ৮০ কিলোমিটার।
চুরি হওয়া ল্যাপটপটি ফিরে পেলেন জার্মান পর্যটক
<p>পেরুর রাজধানী লিমায় তিনটি কনসার্টে ১ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ দর্শক টেনেছে কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। দেশটিতে এটাই দলটির প্রথম সফর। ‘অ্যারিরাং’ ট্যুরের অংশ হিসেবে ৭, ৯ ও ১০ অক্টোবর লিমার এস্তাদিও সান মার্কোস স্টেডিয়ামে কনসার্ট করে দলটি।</p><p>শুরুতে লিমায় দুটি কনসার্টের পরিকল্পনা ছিল। তবে ভক্তদের ব্যাপক চাহিদার কারণে তৃতীয় কনসার্টের আয়োজন করে বিটিএসের এজেন্সি বিগ হিট মিউজিক। তিনটি কনসার্টের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।</p><p>কনসার্টজুড়ে প্রিয় দলের সঙ্গে গলা মিলিয়ে গান গেয়েছেন ভক্তরা। উচ্ছ্বাস আর করতালিতে মুখর ছিল স্টেডিয়াম। সদস্যরাও কয়েকবার স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেন। </p><p>‘লস আমোস’ বলে ভক্তদের ভালোবাসা জানান তাঁরা। স্প্যানিশ এই কথাটির অর্থ, ‘আমি তোমাদের ভালোবাসি’। দর্শকদের উচ্ছ্বাস দেখে পেরুতে আরও আগে কেন আসেননি, সেই বিস্ময়ের কথাও জানান তাঁরা।</p><p><strong>জিমিনের জন্মদিনে ড্রোন শো</strong></p><p>বিটিএসের সদস্য জিমিনের জন্মদিন ১৩ অক্টোবর। লিমায় কনসার্টের সময় তাঁকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন করেন ভক্তরা। কনসার্টে আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিন উদ্যাপনের আলাদা ব্যবস্থা ছিল না। তবে শহরজুড়ে ছিল নানা উদ্যোগ।</p><p>জিমিনকে শুভেচ্ছা জানাতে ডিজিটাল বিলবোর্ড, সড়কের ব্যানার ও এলইডি পর্দাসংবলিত ট্রাকের আয়োজন করেন ভক্তরা। ছিল ড্রোন শোও। রাতের আকাশে ড্রোনের আলোয় ফুটে ওঠে জিমিনের নাম, জন্মদিনের ছবি ও একটি বার্তা—‘আমরা সব সময় তোমার পাশে থাকব।’</p><p>শনিবার ছিল লিমায় বিটিএসের শেষ কনসার্ট। এদিন বিদায়ী বক্তব্যের সময় জিমিনের জন্য জন্মদিনের গান গেয়েছেন ভক্তরা। তাঁর নাম ধরেও স্লোগান দেন তাঁরা।</p><p>জিমিন বলেন, ‘তোমরা যেভাবে আমাদের স্বাগত জানিয়েছ এবং যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেখিয়েছ, তাতে আমি গভীরভাবে আপ্লুত। পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে তোমরা যে এত ভালোবাসা পাঠিয়ে আসছ, তা আমি সব সময় মনে রাখব।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/song/gtytiswhjj"> ‘উই স্ট্যান্ড উইথ বিটিএস’, হ্যাশট্যাগে সয়লাব সামাজিক মাধ্যম</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/8mg8nah9/news-p.v1.20261012.3b058c4889b64b5cb5217930a96e0a46P1.jpg"><figcaption> লিমার এস্তাদিও সান মার্কোস স্টেডিয়ামে গাইছে বিটিএস </figcaption></figure><p><strong>অর্থনীতি চাঙা হওয়ার আশা</strong></p><p>বিটিএসের কনসার্ট ঘিরে লিমায় পর্যটন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কনসার্টের আগে পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, অনুষ্ঠান উপলক্ষে ৫০ হাজারের বেশি দর্শনার্থী রাজধানীতে আসতে পারেন। </p><p>তাঁদের ঘিরে পর্যটন খাতে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে।</p><p>লিমা চেম্বার অব কমার্সের হিসাব আরও বড়। তাদের ধারণা, হোটেল, খাবার, পরিবহন, পর্যটন ও স্মারক পণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের মাধ্যমে ১৫ কোটি থেকে ২০ কোটি পেরুভিয়ান সলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে। ডলারে যার পরিমাণ আনুমানিক ৪ কোটি ৩৫ লাখ থেকে ৫ কোটি ৮০ লাখ।</p><p><strong>হোটেলের সামনে ভিড় নিয়ে আরএমের বার্তা</strong></p><p>লিমা সফরের আগে হোটেলের বাইরে ভিড় না করতে ভক্তদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন বিটিএসের নেতা আরএম। বৃহস্পতিবার উইভার্সে দেওয়া ওই পোস্টে লাতিন আমেরিকার প্রসঙ্গ আসায় কিছু ভক্ত আপত্তি জানান। তাঁদের বক্তব্য, শিল্পীদের ব্যক্তিগত পরিসরে এমন হস্তক্ষেপ বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতেও ঘটে।</p><p>শুক্রবার ভক্তদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরএম বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য শুধু পেরু বা লাতিন আমেরিকাকে নিয়ে ছিল না।</p><p>আরএম বলেন, ‘গতকাল আমি যে পোস্ট লিখেছি, সেটি শুধু লাতিন আমেরিকা বা পেরুকে নিয়ে ছিল না। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আসলে দীর্ঘদিন ধরেই এমনটা হচ্ছে। এশিয়াতেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।’</p><p>অনেক ভক্ত যে সদস্যদের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তা স্বীকার করেন আরএম। তবে কিছু আচরণ সীমা ছাড়িয়েছে বলেও জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে সদস্যদের হোটেলকক্ষের ওপর ড্রোন ওড়ানো এবং তাঁদের দিকে লেজার আলো তাক করার কথা বলেন।</p><p>ভক্তদের জাতীয়তা বা মহাদেশের ভিত্তিতে আলাদা করে দেখারও বিরোধিতা করেন তিনি। আরএম বলেন, ‘আমরা কখনো মানুষকে জাতীয়তা বা মহাদেশের ভিত্তিতে আলাদা করেছি? আর্মি (বিটিএসের ভক্তদের নাম) এবং বিটিএসের পরিচয়ে আমরা সবাই একই মানুষ।’</p><p>আরএম আরও বলেন, সম্মানজনক আচরণ করেন এমন ভক্তের সংখ্যাই অনধিকার চর্চা করা ভক্তদের চেয়ে বেশি বলে তিনি বিশ্বাস করেন। পেরুর ক্ষেত্রেও তাঁর এই বিশ্বাস প্রযোজ্য।</p><p>লিমা সফর শেষে বিটিএসের পরবর্তী গন্তব্য চিলির সান্তিয়াগো। ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর সেখানে কনসার্ট করবে দলটি। এরপর যাবে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস ও ব্রাজিলের সাও পাওলোতে।</p><p><sup>কোরিয়া হেরাল্ড অবলম্বনে</sup></p>
<p>নানা প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রেখেছেন রাজশাহীর মেধাবী শিক্ষার্থী রাহি ও মোসা. সাদিয়া খাতুন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে রাজশাহী আলোর পাঠশালায় পড়াশোনা করে এসএসসি পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তরণের পর এবার তাঁরা ভর্তি হয়েছেন রাজশাহীর স্বনামধন্য বরেন্দ্র কলেজে। ছোট্ট এই পরিবারটিতে রয়েছেন বাবা-মা ও একটি ছোট বোন। পরিবারের সীমিত সামর্থ্য আর নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁদের। তবে প্রতিকূলতা তাঁদের লক্ষ্য থেকে একচুলও টলাতে পারেনি বরং দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তাঁরা এগিয়ে গেছেন স্বপ্নের পথে।</p><p>ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই রাহি ও সাদিয়া ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী ও মেধাবী। ক্লাসের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁদের ছিল সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য। শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা, নিয়মিত পাঠদান এবং উৎসাহ তাঁদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত ‘রাজশাহী আলোর পাঠশালা’ মূলত সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণের পথ দেখাচ্ছে। রাহি ও সাদিয়ার এই সাফল্য সেই মহৎ উদ্যোগেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।</p><p>শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে, শিক্ষার্থীদের জীবনে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগানোই যেন আলোর পাঠশালার মূল অর্জন। রাহি ও সাদিয়ার চোখে এখন নতুন ও বর্ণিল স্বপ্ন। উচ্চশিক্ষা শেষ করে নিজেদের যোগ্য ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পাশাপাশি তাঁরা ভবিষ্যতে নিজেদের নিয়োজিত করতে চান দেশ ও মানুষের সেবায়। তাঁদের এই সাফল্যে দারুণ আনন্দিত ও গর্বিত শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা—রাহি ও সাদিয়ার মতো দেশের প্রতিটি কোণ থেকে সুবিধাবঞ্চিত আরও অনেক শিক্ষার্থী প্রতিকূলতাকে জয় করে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে আসবে এবং একদিন দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আলোর পাঠশালা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া রাহি ও সাদিয়ার এই যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি স্বপ্ন দেখার ও জয় করার এক অনুপ্রেরণার গল্প।</p>
২০ ক্যাটাগরির পদে মোট ৫৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৬।
সোমবার সন্ধ্যায় আখাউড়া থানায় মন্দিরের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। ঘটনার পর থেকে পুলিশের একাধিক দল মন্দিরের মালামাল উদ্ধারে কাজ শুরু করে।
নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আইনি ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ সরকার, বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
প্রতি তলায় ৪০ থেকে ৫০টি দোকান রয়েছে। গতকাল বিকেলে ভবনটির ষষ্ঠ তলায় প্রথম আগুন লাগে। আগুনে সেখানকার প্রায় সব গুদামের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তা করার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে রাশিয়া ও চীন ইরানকে সাহায্য করছে। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
সৌদি আরবে হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন থেকে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ১ লাখ অতিক্রম করেছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩০৭ জন।
দিল্লির যন্তর-মন্তর এখন আর বিক্ষোভ করা যাবে না- নরেন্দ মোদীর সরকারের এই সিদ্ধান্তকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে উল্লেখ করে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি এটিকে "মানুষের প্রতিবাদ করার এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত" বলে বর্ণনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বেশ জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে ডিজেল আনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনকে বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী সংকট তৈরি হতে পারে। হামলার পর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের অর্ধশতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপ ২১ জানুয়ারি, শেষ ধাপ ২৭ মে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রগুলো এসব খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।
বাদামী রঙের চুল, সাদা গড়নের শিশুটিকে প্রথমবার দেখলে যে কেউই বিদেশি বলে ভুল করবেন। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটি এখন 'পপুলার নাও' ক্যাটাগরিতে রয়েছে, কেননা সম্প্রতি এক দম্পতি শিশুটিকে নিজের সন্তান বলে ডিএনএ টেস্ট দাবি করেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে শিশুটির বর্তমান পরিবার। প্রশ্ন হলো, কেউ চাইলেই কী বাংলাদেশে ডিএনএ টেস্ট করা যায়?
স্থানীয় দু'টি সংগঠনের ডাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলা সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার বিকেলে ঢাকায় একটি আদালতে তোলে পুলিশ। সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় সাহেব আলীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার কয়েক দিন আগেই সৌদি আরব আসন্ন সামরিক হামলার বিষয়ে জনসতর্কতা জারি করা বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। মঙ্গলবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, “দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণে জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে কমিটি গঠন করবে বিএনপি।
বিএনপির দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, “দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে মণ্ডপে মণ্ডপে পাহারার ব্যবস্থা করবে বিএনপি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফায়ার সার্ভিস দলের অগ্নিনির্বাপণ ও সচেতনতামূলক ডেমো প্রদর্শন করার কথা ছিল। সেই লক্ষ্য অনুযায়ী সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন কর্মীরা। তবে মহড়া শুরুর পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রস্তুতির ঘাটতি প্রকাশ পায়। আগুন জ্বালিয়ে তা নেভানোর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও দেখা যায়, সিলিন্ডারে পর্যাপ্ত গ্যাস নেই। ফলে তাঁরা নির্ধারিত আগুন জ্বালানো বা তা নেভানোর মহড়া দেখাতে ব্যর্থ হন।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, জরুরি তেলের মজুদ কমে আসা এবং সরকারি বাজেটের ওপর অত্যধিক চাপের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ‘শিগগিরই তার সহনক্ষমতার সীমার পরীক্ষায় পড়তে পারে।’
অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনাকে।
তিনি বলেন, সারের ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী কি না, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা আছে কি না, তা দেখা হয় না। বরং সংসদ সদস্যদের ছেলে কিংবা আত্মীয়দের বিবেচনায় নেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে, যখন নিয়োগ দেওয়া হয় কিংবা সারের ডিলার নিয়োগ করা হয়, তখন দেখা যায়, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের সরকার হতে পারেনি।