ইসলাম

মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন
মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন
<p>নিজে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নামাজের প্রতি আহ্বান করা পবিত্র কোরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ। আল্লাহ বলেন, ‘আর তুমি তোমার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দাও এবং তার ওপর অবিচল থাকো।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১৩২)</p><p>তবে পরিবারের অন্য সদস্য—যেমন ভাইবোন বা সন্তানদের নামাজের নির্দেশ দেওয়া যতটা সহজ, মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত দেওয়া ততটাই সংবেদনশীল। ইসলামে মা-বাবার স্থান সবার ওপরে।</p><p>তাই তাঁদের কোনো ভুল শুধরে দেওয়া বা নেক কাজের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শিষ্টাচার ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া মুমিনের দায়িত্ব। মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত দেওয়ার কার্যকর কিছু উপায় তুলে ধরা হলো।</p><blockquote>মা-বাবাকে নামাজের কথা বলার সময় সন্তানের ভাষা ও আচরণ হতে হবে নম্র। কোনো অবস্থাতেই তাঁদের শিক্ষক বা মুরব্বি সাজার চেষ্টা করা যাবে না।</blockquote><h3>সম্মানজনক ভাষার ব্যবহার </h3><p>মা-বাবাকে নামাজের কথা বলার সময় সন্তানের ভাষা ও আচরণ হতে হবে নম্র। কোনো অবস্থাতেই তাঁদের শিক্ষক বা মুরব্বি সাজার চেষ্টা করা যাবে না। কোরআনের নির্দেশ হলো, ‘আর তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩)</p><p>পিতা আজরকে ইমান ও ইবাদতের দাওয়াত দেওয়ার সময় নবী ইব্রাহিমের ভাষা ছিল মধুর। তিনি বারবার ‘হে আমার প্রিয় পিতা’ বলে সম্বোধন করেছেন। (সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৪২-৪৫)</p><p>ইমাম কুরতুবি লিখেছেন, পিতা-মাতাকে সৎকাজের আদেশ দেওয়া বা অন্যায় থেকে বারণ করার সময় সন্তানের ভাষা হতে হবে খুবই বিনয়ী; কোনো অবস্থাতেই রূঢ় আচরণ বা তিরস্কার করা যাবে না, বরং তাঁরা দাওয়াত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বা রাগ করলেও সন্তানকে নীরব ও শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। (আল-কুরতুবি, <em>আল-জামি লি–আহকামিল কুরআন</em>, ১১ত/৯৫, দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ, কায়রো, ১৯৬৪)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/fp1rsgt9mg">বাবা-মায়ের সঙ্গে আচরণের নিয়ম শিখতে কোরআনের ১০ আয়াত</a></aside><h3>সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন </h3><p>মানুষ কথার চেয়ে কাজের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। সন্তান যখন নিজে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে এবং নামাজের কারণে তার চরিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, তখন মা-বাবা প্রাকৃতিকভাবেই প্রভাবিত হবেন। </p><p>সন্তান যদি নামাজের পাশাপাশি মা-বাবার সেবায় আগের চেয়ে বেশি যত্নবান হয়, তখন তাঁরা উপলব্ধি করবেন যে নামাজই তাঁর সন্তানকে এত সুন্দর মানুষে পরিণত করেছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই উত্তম চরিত্রই হলো শ্রেষ্ঠ নেক আমল।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৮৯৫২)</p><p>সুন্দর চরিত্রই হলো সবচেয়ে শক্তিশালী নীরব দাওয়াত।</p><blockquote>অনেক সময় সন্তানের জায়নামাজে বসে মোনাজাত করা দেখে মা-বাবার হৃদয়ও গলে যায়। এ ছাড়া তাঁদের বলতে পারেন, ‘মা, ফজরের সময় আমাকে একটু ডেকে দিয়ো।’</blockquote><h3>ঘরে ধর্মীয় পরিবেশ তৈরি করা </h3><p>সরাসরি নামাজের কথা বললে মা-বাবার আত্মসম্মানে আঘাত লাগতে পারে। তাই কৌশলগত পদ্ধতি অবলম্বন করা বেশ কার্যকর। যেমন—আজান শুনলে আওয়াজ করে আজানের জবাব দেওয়া বা কোরআন পাঠ করা। </p><p>অনেক সময় সন্তানের জায়নামাজে বসে মোনাজাত করা দেখে মা-বাবার হৃদয়ও গলে যায়। এ ছাড়া তাঁদের বলতে পারেন, ‘মা, ফজরের সময় আমাকে একটু ডেকে দিয়ো।’</p><p>এর মাধ্যমে তাঁদের মনে নামাজের সময় সম্পর্কে একধরনের দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা তৈরি হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/a9b0xr2dqf">ফোনের নোটিফিকেশন চেক করার মতো দ্রুত কি বাবা-মায়ের ডাকে সাড়া দিই</a></aside><h3>তাদের জন্য দোয়া করা </h3><p>কারও অন্তরে সুপথের আলো দেওয়া একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। মহানবী (সা.) চাইলেও তাঁর প্রিয় চাচা আবু তালিবকে ইমান আনানোর তওফিক পাননি। তাই মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি শেষরাতে তাদের জন্য প্রার্থনা করা বেশি জরুরি।</p><p>কোরআনে একটি চমৎকার দোয়া শেখানো হয়েছে, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৪০)</p><p>ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়া লিখেছেন, মানুষের অন্তর আল্লাহর আঙুলগুলোর মধ্যে থাকে; তাই বাহ্যিক চেষ্টার চেয়ে আল্লাহর কাছে গভীর রাতের দোয়া অনেক বেশি জাদুকরি প্রভাব ফেলে এবং মানুষের অন্তরে দ্রুত পরিবর্তন আনে। (আল-জাওজিয়া, <em>মাদারিজুস সালিকিন,</em> ১/২৩৫, দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত, ১৯৯৬)</p><aside><cite>সুরা লুকমান, আয়াত: ১৫</cite>আর যদি তারা তোমাকে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে পীড়াপীড়ি করে, যার কোনো জ্ঞান তোমার নেই, তবে তুমি তাদের কথা মেনো না; কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করো।</aside><h3>ধৈর্য ধারণ ও তর্ক না করা </h3><p>মা-বাবাকে একবার বা দুবার বলেই হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আবার তাঁরা যদি নামাজের কথা শুনে বিরক্ত হন বা বকাঝকা করেন, তবে তাঁদের সঙ্গে কোনোভাবেই তর্ক করা যাবে না।</p><p>ইসলামে শিরক বা কুফরের নির্দেশ ছাড়া মা-বাবার অন্য সব কথা মানার নির্দেশ থাকলেও তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।</p><p>আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি তারা তোমাকে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে পীড়াপীড়ি করে, যার কোনো জ্ঞান তোমার নেই, তবে তুমি তাদের কথা মেনো না; কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করো।’ (সুরা লুকমান, আয়াত: ১৫)</p><p>মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত দেওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ভালোবাসাপূর্ণ প্রক্রিয়া। জোরজবরদস্তি বা তর্কের মাধ্যমে নয়, বরং অকৃত্রিম ভালোবাসা, নিরবচ্ছিন্ন সেবা এবং আল্লাহর কাছে অবিরাম প্রার্থনার মাধ্যমেই তাঁদের হৃদয়কে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/zys7mfy8c6">আপনার নামাজ কতটা মননশীল হয়ে উঠছে</a></aside>

Prothomalo

View more
পর্যটক বাড়ছে, সেন্ট মার্টিন ঝুঁকিতে
পর্যটক বাড়ছে, সেন্ট মার্টিন ঝুঁকিতে

প্রতিদিন ২,০০০ পর্যটক যাওয়ার সীমা বাড়িয়ে ৩,৫০০। রাতযাপনের সুযোগ ২ মাস থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ মাস।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
বৃষ্টি উপেক্ষা করে টোকিওতে তারকার মেলা, কী হচ্ছে উৎসবে
বৃষ্টি উপেক্ষা করে টোকিওতে তারকার মেলা, কী হচ্ছে উৎসবে

<p>শরতের কয়েকটি ঝলমলে দিনের পর টাইফুনের প্রভাবে গত সপ্তাহান্তে টোকিওতে ফিরে এসেছিল টানা বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির মধ্যেই গত সোমবার সন্ধ্যায় শুরু হয় ৩৯তম টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। বৃষ্টিভেজা লালগালিচা, তারকাদের উপস্থিতি আর চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে জমে ওঠে উদ্বোধনী আয়োজন। পরদিন মঙ্গলবার থেকে পুরোদমে শুরু হয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। বুধবার আকাশে রোদও ফিরেছে। টোকিওর হিবিয়া, ইউরাকুচো, মারুনৌচি ও গিনজা এলাকায় এখন চলচ্চিত্রের উৎসবমুখর পরিবেশ।</p><p>আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। বিশ্বের নানা প্রান্তের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে জাপানের রাজধানী। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, নতুন প্রতিভার বিকাশ ও জাপানি চলচ্চিত্রের বিশ্ববাজার সম্প্রসারণের বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে এবারের আয়োজনে।</p><p><strong>বৃষ্টিভেজা লালগালিচায় তারকারা</strong><br> উৎসবের প্রথম দিন টোকিও মিডটাউন হিবিয়ার স্টেপ স্কয়ারে ছিল লালগালিচার আয়োজন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বর্ষাতি পরে অপেক্ষা করছিলেন দর্শকেরা। আর অতিথিরা হাজির হন উৎসবের লোগোসংবলিত স্বচ্ছ ছাতা হাতে। নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও দর্শকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।<br> উৎসবের নেভিগেটর নাকাজিমা কেনতো বলেন, ‘বৃষ্টি হচ্ছিল, কিন্তু মনে হচ্ছিল যেন প্রাণসঞ্চারী বৃষ্টি।’<br> উৎসবের ১১টি বিভাগের চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অতিথিদের পাশাপাশি লালগালিচায় ছিলেন চারটি প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকেরাও। বিভিন্ন দেশের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে দেয় আন্তর্জাতিক মাত্রা।<br> ইন্দোনেশিয়ার পরিচালক গারিন নুগ্রোহো ও অভিনেতা নিকোলাস সাপুত্রা আসেন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের চলচ্চিত্র ‘রেড বিফোর ডন’ নিয়ে। ফুটবল মাঠে ভয়াবহ সংঘর্ষ থেকে সৃষ্ট বিয়োগান্ত ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘হেইসেল ৮৫’ ছবির প্রতিনিধিত্ব করেন বেলজিয়ামভিত্তিক পরিচালক তেওদোরা আনা মিহাই ও অভিনেত্রী ভায়োলেট ব্রেকম্যান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/ia9ytj5d/oig8krdh.JPG"><figcaption>ভিডিও বার্তা চলচ্চিত্রশিল্পের প্রতি সমর্থনের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির </figcaption></figure><p>উত্তর মেসিডোনিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালক মিলচো মানচেভস্কির সঙ্গে ছিলেন ‘সিস্টার ব্রাদার ম্যানহোল কাভার’ ছবির অভিনয়শিল্পী সারা ক্লিমোস্কা ও ফিলিপ ত্রাইকমোভিক। চীনা পরিচালক চিউ জিয়ংজিয়ং এবং অভিনয়শিল্পী ওয়াং হি ও শু শুচুয়ান আসেন ‘ফুক্সি: ফোর টেলস অব ফিস্টিং’ নিয়ে। উপস্থিত ছিলেন ইরানি নির্মাতা বাহমান ঘোবাদি এবং ‘ট্রিজ আর ওয়াচিং’ ছবির অভিনয়শিল্পী মুরাত ইলদ্রিম ও ইরাম ইলদ্রিম। কাজাখস্তানের কঠোর বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত ‘শিরমায়ুখ’ ছবির পরিচালক আজামাত শারগিনও অংশ নেন লালগালিচায়।<br>জাপানি চলচ্চিত্রের শিল্পী ও নির্মাতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত তিন জাপানি চলচ্চিত্র—ইকেদা আকিরার ‘দ্য ক্যানারিস লালাবাই’, মিশিমা ইউকিকোর ‘টু সিগারেটস, থ্রি নাইটস’ এবং ইয়ামামোতো আকিরার ‘দ্য ইন্টারটুইনিং’–এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ছিলেন ‘নিপ্পন নাউ’ বিভাগের শিল্পী ও নির্মাতারাও।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/p9r4ge38/65r2hnxa.JPG"><figcaption>বক্তব্য দিচ্ছেন উৎসব পরিচালক হিসামাৎসু তাকেও </figcaption></figure><p>লালগালিচার শেষ দিকে আসেন উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ‘সুকিয়াকি’র অভিনয়শিল্পী ওকাদা জুনইচি, মাতসুজাকা তোরি ও সেইনো নানা এবং পরিচালক জেজে তাকাহিসা। অস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের প্রধান নির্বাহী বিল ক্রেমারসহ সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।<br>লালগালিচার আনুষ্ঠানিকতা শেষে অতিথিরা যোগ দেন পাশের হিউলিক হলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।<br></p><p><strong>চলচ্চিত্রশিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস</strong><br>উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের চলচ্চিত্র ও কনটেন্ট শিল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই। তিনি জানান, বিদেশের বাজারে জাপানের কনটেন্ট শিল্পের বিক্রি প্রায় ৬ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে খাতটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মাঙ্গা, অ্যানিমে এবং এসবের মেধাসম্পদকে ঘিরে পণ্য বিপণন ও বিভিন্ন আয়োজন নতুন বাজার তৈরি করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।<br>ভিডিও বার্তায় উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র দেশের সীমানা পেরিয়ে মানুষকে যুক্ত করে, বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/qucz01wr/cgzdzuzw.JPG"><figcaption>মৃদু বৃষ্টিতে ছাতা হাতে মজা করছেন একদল তারকা</figcaption></figure><p>আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যৌথ প্রযোজনার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানি চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযোজনার গন্তব্য হিসেবে দেশটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার কথাও জানান তিনি।<br>তাকাইচি বলেন, চলচ্চিত্রসহ কনটেন্ট শিল্পকে জাপানের প্রবৃদ্ধি কৌশলের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই পক্ষের সহযোগিতা জোরদারের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।<br>এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়াভিত্তিক প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতা রলফ ডি হিয়ার। তাঁর সঙ্গে বিচারক হিসেবে আছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযোজক ওহ জুংওয়ান, ফ্রান্সের ডিআই কালারিস্ট ইয়োভ মুর, প্রযোজক অ্যালেক্স লো ও জাপানি অভিনেত্রী ওয়াতানাবে মাকিকো।</p><p>উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রলফ ডি হিয়ার তাঁর চলচ্চিত্রজীবনে জাপানি নির্মাতা ইয়াসুজিরো ওজু, নাগিসা ওশিমা ও আকিরা কুরোসাওয়ার প্রভাবের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, চলচ্চিত্রের প্রতি অনুরাগ ও সততা বজায় রেখেই বিচারকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন।<br>উৎসব পরিচালক হিসামাৎসু তাকেও স্মরণ করেন প্রায় ৫০ বছরের চলচ্চিত্রজীবনে দেখা দেশি-বিদেশি অসংখ্য ছবির কথা। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘সিনেমা আমাকে কখনোই ক্লান্ত করে না। সেই আনন্দই দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/90tpa35b/%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%BE.JPG"><figcaption>লালগালিচায় ইরানি নির্মাতা বাহমান গবাদি ও শিল্পীরা</figcaption></figure><p><strong>১০ দিনে ২০৪ চলচ্চিত্র</strong><br>২৬ অক্টোবর শুরু হওয়া উৎসব চলবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। এবারের আয়োজনে প্রদর্শিত হবে ২০৪টি চলচ্চিত্র। থাকছে নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব, সিম্পোজিয়াম, মাস্টারক্লাস এবং টিআইএফএফ লাউঞ্জে বিশেষ আলোচনা।<br>উৎসবের প্রধান পুরস্কার টোকিও গ্রাঁ প্রির জন্য প্রতিযোগিতায় রয়েছে ১৫টি চলচ্চিত্র। বিশ্বের ১১২টি দেশ ও অঞ্চল থেকে জমা পড়া ১ হাজার ৮৯২টি ছবির মধ্য থেকে এগুলো নির্বাচন করা হয়েছে।<br><strong>উদ্বোধনী ছবি ‘সুকিয়াকি’</strong><br>এবারের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ছিল জেজে তাকাহিসা পরিচালিত ‘সুকিয়াকি’। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি জাপানি গানের পেছনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। এতে উঠে এসেছে গানটির সুরকার, গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পীর জীবন, সৃজনশীল সহযোগিতা, সংগ্রাম এবং পারস্পরিক মতপার্থক্যের নানা ঘটনা।<br>১৯৬৩ সালে প্রকাশিত জাপানি গান ‘উয়ে ও মুইতে আরুকো’ আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে ‘সুকিয়াকি’ নামে পরিচিতি পায়। প্রথম জাপানি ভাষার গান হিসেবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকার শীর্ষে টানা তিন সপ্তাহ অবস্থান করে।<br>চলচ্চিত্রে সুরকার নাকামুরা হাচিদাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওকাদা জুনইচি। গীতিকার এই রোকুসুকের চরিত্রে মাতসুজাকা তোরি এবং গায়ক সাকামোতো কিউয়ের ভূমিকায় দেখা গেছে নাকানো তাইগাকে।</p><p><strong>প্রতিযোগিতায় নানা দেশের গল্প</strong><br>এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগে নবীন ও অভিজ্ঞ নির্মাতাদের চলচ্চিত্র স্থান পেয়েছে। প্রেম, রাজনীতি, ভৌতিক কাহিনি, প্রকৃতি, সামাজিক সংঘাত ও প্রতিকূলতার মধ্যে টিকে থাকার সংগ্রাম—নানা বিষয় উঠে এসেছে ছবিগুলোতে।<br>প্রতিযোগিতায় রয়েছে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো আলোনসোর ‘ডাবল ফ্রিডম’, ইতালির সামুয়েলে রোসির ‘ইভেন ইফ হেল কেইম’, সিঙ্গাপুরের সুন শুনের ‘ম্যাজিক অ্যাটলাস’, পর্তুগালের সের্জিও গ্রাসিয়ানোর ‘মেমোরিজ অব প্রিজন’, ইরানের বাহমান ঘোবাদির ‘ট্রিজ আর ওয়াচিং’, সার্বিয়ার ইয়েলেনা মাক্সিমোভিচের ‘আনটিল দ্য ডে এন্ডস’ এবং হংকংয়ের ওয়াং জিয়াংইয়ংয়ের ‘দ্য নাইট দ্যাট বাইন্ডস আস’।<br>এসব ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশি নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-12-05/rbg5hl5f/The_Difficult_Bridge_WIP.webp"><figcaption>‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দৃশ্য। নির্মাতার সৌজন্যে </figcaption></figure><p><strong>মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’</strong><br>টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রায় চার দশকের ইতিহাসে এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্র মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পেয়েছে। সেই চলচ্চিত্র রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।<br>বাংলাদেশ, ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ৮৮ মিনিটের ছবিটি এর আগে ভেনিস ও টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছে।<br>এতে অভিনয় করেছেন জাইনীন চৌধুরী করিম, আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ বিনতে কামাল, শতাব্দী ওয়াদুদ ও সাবেরী আলম।<br>চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রে রয়েছে ঢাকার এক হবু কনের গল্প। বিয়ের প্রস্তুতি, সৌন্দর্যচর্চা, পারিবারিক প্রত্যাশা ও সামাজিক নিয়মের চাপে তাঁর শরীর ও মন এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। বাস্তবতার সঙ্গে স্বপ্ন, ভয়, স্মৃতি ও অলৌকিকতার মিশেলে এগিয়ে যায় কাহিনি।<br>নারীর শরীর, ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণা এবং বিয়েকে ঘিরে সমাজে চালু থাকা বৈষম্যমূলক রীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে ছবিটি।<br>টোকিওতে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’–এর তিনটি প্রদর্শনী নির্ধারিত রয়েছে। ৩১ অক্টোবর তোহো সিনেমা চ্যানটারে, ১ নভেম্বর হিউলিক হলে এবং ২ নভেম্বর হিউম্যানট্রাস্ট সিনেমা ইউরাকুচোতে ছবিটি দেখানো হবে।<br>মূল প্রতিযোগিতার বাইরে ‘এশিয়ান ফিউচার’, ‘ওয়ার্ল্ড ফোকাস’, ‘গালা সিলেকশন’ ও ‘উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট’সহ বিভিন্ন বিভাগে প্রদর্শিত হচ্ছে নানা দেশের চলচ্চিত্র। জাপানের প্রখ্যাত নির্মাতা কেনজি মিজোগুচির নির্বাচিত চলচ্চিত্র নিয়েও থাকছে বিশেষ রেট্রোস্পেক্টিভ।</p><p><strong>চলচ্চিত্রের বাজার ও বিশেষ আয়োজন</strong><br>চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রবাজার টিফকম। বুধবার থেকে হামামাৎসুচোর টোকিও মেট্রোপলিটন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেড সেন্টারে শুরু হয়েছে এই আয়োজন।<br>টিফকমের ‘টোকিও গ্যাপ ফিন্যান্সিং মার্কেট’-এ অংশ নিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২৪টি চলচ্চিত্র ও অ্যানিমেশন প্রকল্প। আন্তর্জাতিক যৌথ প্রযোজনা ও অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলা কর্মসূচিতে থাকছে সেমিনার, প্রকল্প উপস্থাপনা এবং বিভিন্ন দেশের প্রযোজক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/1bpdj9fe/w0lag0v1.jpeg"><figcaption> উৎসব ভেন্যুতে পোস্টার দেখছেন একজন দর্শক ছবি</figcaption></figure><p>মূল প্রদর্শনীর বাইরে থাকছে সম্মাননা, মাস্টারক্লাস ও আলোচনা। এবারের আয়োজনের অংশ হিসেবে দেওয়া হবে ‘কুরোসাওয়া আকিরা অ্যাওয়ার্ড’, ‘টিফ এথিক্যাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘কাশিকো কাওয়াকিতা অ্যাওয়ার্ড’।<br>চলচ্চিত্র নির্মাতা জেজে ও ওয়েন ওয়াংয়ের মাস্টারক্লাসের পাশাপাশি জার্মান নির্মাতা উলরিকে ওটিঙ্গারের সঙ্গে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।<br>বুধবার শুরু হয়েছে চলচ্চিত্রকর্মীদের মতবিনিময়ের আয়োজন ‘টোকিও টক’। এটি চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ‘ক্রসকাট এশিয়া প্লাস’-এর বিশেষ সিম্পোজিয়ামে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চলচ্চিত্র, আর্কাইভ, ইতিহাস ও স্মৃতির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে।<br>এ ছাড়া অস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে রয়েছে ‘একাডেমি ইন টোকিও’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা। বুধবারের আয়োজনের পর বৃহস্পতিবারও থাকছে এই কর্মসূচি। এতে অস্কারের কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রশিল্পের পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয় উঠে আসছে।<br>বৃষ্টিভেজা লালগালিচা দিয়ে শুরু হওয়া উৎসব এখন পুরোদমে জমে উঠেছে। বুধবার টোকিওর আকাশে ফিরেছে রোদ, উৎসবস্থলেও বেড়েছে দর্শকের আনাগোনা। আগামী কয়েক দিন বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, সংগ্রাম ও স্বপ্নের গল্প উঠে আসবে টোকিওর পর্দায়। বিভাজন ও সংঘাতের এই সময়ে ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষকে একসূত্রে গাঁথার সুযোগ তৈরি করছে চলচ্চিত্রের এই মিলনমেলা।</p>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ধানখেতের বাসিন্দা খলশে মাছ কোথায় গেল
ধানখেতের বাসিন্দা খলশে মাছ কোথায় গেল

মাছটা দেখতে সুন্দর। লম্বায় বড়জোর ১০ সেন্টিমিটার। গায়ে নীলচে আর কমলা রঙের আড়াআড়ি ডোরা। পেটের কাছ থেকে দুটি সুতার মতো পাখনা ঝুলে থাকে। এগুলো দিয়ে সে ছুঁয়ে ছুঁয়ে পথ চেনে, তাই ঘোলা পানিতেও তার অসুবিধা হয় না

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ডেঙ্গু জ্বর হলে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া নিষেধ কেন
ডেঙ্গু জ্বর হলে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া নিষেধ কেন

<p>শরীরের প্রতিটি জোড়ায় তীব্র ব্যথা, যেন হাড়গুলো সব ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে! মাথা ভারী, চোখের পেছনে টনটনানি, পেশিতে অসহ্য যন্ত্রণা। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত অনেকেই এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেন। এ কারণেই ডেঙ্গুকে একসময় ব্রেকবোন ফিভার বা হাড়ভাঙা জ্বরও বলা হতো।</p><p>এমন যন্ত্রণায় কাবু হলে হাতের কাছে থাকা ব্যথানাশক বড়ি খেতে ইচ্ছে করতেই পারে। কিন্তু ডেঙ্গু সন্দেহ হলে নিজের ইচ্ছায় ব্যথানাশক খাওয়া বিপজ্জনক। আইবুপ্রোফেন, নাপ্রোক্সেন, ডাইক্লোফেনাক ও অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ডেঙ্গু নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা না করে, সন্দেহ হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে। কিন্তু কেন? যে ওষুধ সাধারণ সময়ে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, ডেঙ্গুর সময় সেটিই কেন বিপদের কারণ হতে পারে?</p><p>এর উত্তর বুঝতে হলে জানতে হবে রক্তের অতি ক্ষুদ্র অণুচক্রিকা কীভাবে কাজ করে, আমাদের কোষে কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধব্যবস্থা কী ভূমিকা রাখে। প্রথমে দেখা যাক, ডেঙ্গু শরীরের ভেতরে কীভাবে প্রভাব ফেলে।</p><p>ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণে রক্তের অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে যেতে পারে। অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট হলো রক্তের ক্ষুদ্র উপাদান, যা রক্তপাত বন্ধ করতে সাহায্য করে। কোথাও কেটে গেলে বা রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অণুচক্রিকাগুলো দ্রুত সেখানে জড়ো হয়। তারা একে অন্যের সঙ্গে লেগে ক্ষতস্থানে একটি অস্থায়ী বন্ধনী তৈরি করে। এরপর রক্ত জমাট বাঁধার অন্যান্য প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এভাবেই রক্তপাত বন্ধ হতে সাহায্য করে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/j0ymq83eac">ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক সম্ভাবনাময় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ</a></aside><blockquote>ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণে রক্তের অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে যেতে পারে। অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট হলো রক্তের ক্ষুদ্র উপাদান, যা রক্তপাত বন্ধ করতে সাহায্য করে।</blockquote><p>এদিকে রোগীর শরীরে প্রবেশ করার পর ডেঙ্গু ভাইরাস সরাসরি হাড়ের মজ্জায় আক্রমণ চালায়। আর এই মজ্জাতেই তৈরি হয় অনুচক্রিকা। শুধু তা-ই নয়, ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে আমাদের শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম বা রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাও ভুলবশত সুস্থ অনুচক্রিকাগুলো ধ্বংস করে ফেলে। ফলে রক্তে অনুচক্রিকার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমতে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া।</p><p>তবে বিপদ শুধু অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। ডেঙ্গুর গুরুতর পর্যায়ে রক্তনালির ভেতরের আবরণ খুব ভঙ্গুর ও দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে রক্তের তরল অংশ, অর্থাৎ প্লাজমা, নালির বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় শরীরের রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অর্থাৎ, ডেঙ্গুর সময় শরীরের রক্তপাত বন্ধ করার ব্যবস্থা যেমন দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, তেমনি রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতাও বিঘ্নিত হতে পারে। এর মধ্যে কিছু ব্যথানাশক খেলে শুরু হতে পারে আরেকটি বিপজ্জনক সমস্যা। চলুন, সেটাই জানা যাক।</p><p>শরীরের কোথাও প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হলে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন। অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড নামের একটি পদার্থ থেকে COX-1 ও COX-2 নামের দুটি এনজাইমের সাহায্যে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনসহ আরও কিছু রাসায়নিক তৈরি হয়। এই রাসায়নিকগুলো ব্যথা, প্রদাহ এবং শরীরের নানা স্বাভাবিক কাজে ভূমিকা রাখে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/soj2jvjsvm">ডেঙ্গু চিকিৎসায় পেঁপেপাতার রস</a></aside><blockquote>প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের কিছু ধরন পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এগুলো শ্লেষ্মা বা মিউকাস এবং বাইকার্বোনেট তৈরিতে ভূমিকা রাখে।</blockquote><p>ধরুন, এই দুটি এনজাইম হলো কারখানার দুই দক্ষ কারিগর। তবে এদের কাজ পুরোপুরি এক নয়। COX-1 শরীরের স্বাভাবিক নানা কাজে ভূমিকা রাখে। এর সাহায্যে তৈরি থ্রম্বোক্সেন এ২ অণুচক্রিকাকে সক্রিয় করে এবং তাদের একসঙ্গে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। অন্যদিকে COX-1 ও COX-2 উভয়ই প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের কিছু ধরন পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণকে সুরক্ষা দেয়, আবার কিছু ধরন ব্যথা ও প্রদাহের অনুভূতি বাড়ায়।</p><p>থ্রম্বোক্সেন এ২ হলো এক ধরনের রাসায়নিক আঠার মতো। যখনই কোথাও রক্তপাত হয়, তখনই এটি অনুচক্রিকাগুলোকে ডাক পাঠিয়ে সক্রিয় করে তোলে। তারপর তাদের একটার সঙ্গে আরেকটাকে আঠার মতো জড়িয়ে রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে।</p><p>প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের কিছু ধরন পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এগুলো শ্লেষ্মা বা মিউকাস এবং বাইকার্বোনেট তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই সুরক্ষার ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিড সহজে ভেতরের দেয়ালের ক্ষতি করতে পারে না। তবে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের সব ধরন একই কাজ করে না; কিছু ধরন ব্যথা ও প্রদাহের অনুভূতি বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%81-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8">ডেঙ্গু নিয়ে যা জানা জরুরি</a></aside><blockquote>যখন কোথাও রক্তপাত হয়, তখন থ্রম্বোক্সেন এ২ অনুচক্রিকাগুলোকে ডাক পাঠিয়ে সক্রিয় করে তোলে। তারপর তাদের একটার সঙ্গে আরেকটাকে আঠার মতো জড়িয়ে রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে।</blockquote><p>এবার দেখা যাক, কোনো ব্যথানাশক ওষুধ এই রাসায়নিক ব্যবস্থায় বাধা দিলে কী ঘটতে পারে। কেউ যখন তীব্র ব্যথা সহ্য করতে না পেরে কোনো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করে, তখন সেই ওষুধ রক্তের প্রবাহে মিশে সরাসরি ওই দুটি এনজাইমকে (COX-1 ও COX-2) হাত-পা বেঁধে অচল করে দেয়। ফল হিসেবে শরীরে ব্যথার অনুভূতি সাময়িকভাবে কমতে পারে। কিন্তু সেই সঙ্গে অণুচক্রিকার স্বাভাবিক কাজেও বাধা পড়ে। তখন সাথে সাথেই বন্ধ হয়ে যায় থ্রম্বোক্সেন এবং প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন রাসায়নিক যৌগের উৎপাদন। এখানেই বিপদের শুরু। কারণ, ডেঙ্গুর সময় শরীরের রক্তপাত বন্ধ করার ব্যবস্থা এমনিতেই চাপে থাকতে পারে।</p><p>কিছু ব্যথানাশক ওষুধের কারণে অণুচক্রিকার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। যেমন, অ্যাসপিরিন অণুচক্রিকায় COX-1-এর কাজ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়। এতে থ্রম্বোক্সেন এ২ তৈরি কমে যায় এবং অণুচক্রিকার একসঙ্গে জড়ো হওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়। আইবুপ্রোফেনের মতো কিছু ওষুধের প্রভাব তুলনামূলক সাময়িক। তবে ডেঙ্গুর সময় রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকায় এসব ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।</p><p>একই সঙ্গে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন কমতে থাকায় পাকস্থলীর মিউকাসের তৈরি সুরক্ষামূলক চাদরটি একদম পাতলা হয়ে যায়। তখন পাকস্থলীর ক্ষতিকর হাইড্রোক্লোরিক এসিড সরাসরি নিজের ভেতরের দেওয়াল বা আস্তরণকে পোড়াতে শুরু করে এবং সেখানে রক্তক্ষরণকারী আলসার বা ক্ষতের জন্ম দেয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/8dudxfqbnn">ডেঙ্গু ভ্যাকসিন গবেষণায় অগ্রগতি কতদূর?</a></aside><blockquote>কিছু ব্যথানাশক ওষুধের কারণে অণুচক্রিকার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। যেমন, অ্যাসপিরিন অণুচক্রিকায় COX-1-এর কাজ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়।</blockquote><p>এবার দুটি ঘটনা একসঙ্গে মিলিয়ে দেখুন—একদিকে পাকস্থলীর দেওয়ালে ব্যথার ওষুধের তৈরি করা তীব্র ক্ষত, অন্যদিকে প্লাটিলেট আর রক্ত জমাট বাঁধাতে পারে না। ফলাফল? ক্ষতের মুখ দিয়ে তরতর করে অবিরাম অনিয়ন্ত্রিত রক্তক্ষরণ শুরু হয়! রক্তবমি, কালো পায়খানা কিংবা নাক ও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া তাই কখনোই অবহেলা করার মতো লক্ষণ নয়। এগুলোর কোনোটি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।</p><p>ঘটনা কেবল পাকস্থলীর রক্তক্ষরণেই থমকে থাকে না। ডেঙ্গু ভাইরাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে শরীরের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর ছিদ্রগুলো বড় হয়ে রক্তরস বা প্লাজমা নালী থেকে বের হয়ে আশপাশের খালি জায়গায় জমা হতে শুরু করে। এর সঙ্গে ব্যথার ওষুধের কারণে যুক্ত হওয়া অনিয়ন্ত্রিত অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ রূপ দেয়।</p><p>রক্তনালী থেকে রক্ত ও রক্তরস দুটোই বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে রোগীর রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যায়। হৃৎপিণ্ড সারা শরীরে রক্ত পাম্প করার যথেষ্ট উপাদান পায় না। ফলে রক্ত সঞ্চালনের অভাবে মস্তিষ্ক, কিডনি, লিভার এবং ফুসফুসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো একে একে অক্সিজেনহীন হয়ে যায়। তাতে অঙ্গগুলো স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই প্রাণঘাতী অবস্থাকে বলা হয় ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার এবং ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম। কেবল একটি ব্যথানাশক বড়ির ভুলে রোগীর জীবন এভাবে পৌঁছে যেতে পারে আইসিইউর দুয়ারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/h4wb3aa1s0">ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাদ-বাগানের জন্য একটি ছোট উদ্ভাবন</a></aside><blockquote>রক্তনালী থেকে রক্ত ও রক্তরস দুটোই বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে রোগীর রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যায়। হৃৎপিণ্ড সারা শরীরে রক্ত পাম্প করার যথেষ্ট উপাদান পায় না।</blockquote><p>ডেঙ্গুতে জ্বর ও ব্যথা কমাতে সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধের তুলনায় প্যারাসিটামল অণুচক্রিকার কাজে অনেক কম প্রভাব ফেলে। সাধারণ মাত্রায় এটি পাকস্থলীর সুরক্ষাব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে না। তাই ডেঙ্গুতে জ্বর ও ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প।</p><p>তবে প্যারাসিটামলও ইচ্ছেমতো খাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত মাত্রায় এটি লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ডেঙ্গুতে লিভার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ওষুধটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণের সময় শারীরিক অবস্থা, লিভারের স্বাস্থ্য এবং অন্য ওষুধ গ্রহণের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হয়।</p><p>পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ। পানি, খাবার স্যালাইন, স্যুপসহ উপযুক্ত তরল পান করা যেতে পারে। তবে জোর করে অতিরিক্ত তরল পান করা ঠিক নয়; বয়স, শারীরিক অবস্থা ও রোগের পর্যায় অনুযায়ী তরলের পরিমাণ নির্ধারণ করা দরকার। চিকিৎসকের পরামর্শমতো নিয়মিত পর্যবেক্ষণও জরুরি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/d9yp8r8d58">পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণী কি মশা!</a></aside><blockquote>প্যারাসিটামল ইচ্ছেমতো খাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত মাত্রায় এটি লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ডেঙ্গুতে লিভার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ওষুধটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা জরুরি।</blockquote><p>জ্বর কমে গেলেই নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকবেন না। ডেঙ্গুতে অনেক সময় জ্বর কমার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় গুরুতর জটিলতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, রক্তবমি, কালো পায়খানা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।</p><p>মনে রাখবেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, উপযুক্ত তরল গ্রহণ এবং বিপদের লক্ষণ চিনতে পারা। সামান্য সতর্কতাই কখনো কখনো বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।</p><h4>লেখক: প্রদায়ক, বিজ্ঞানচিন্তা</h4><h4>সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র এবং ক্লিনিক্যাল কেয়ার অব ডেঙ্গু</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/93jf41mujx">পৃথিবীর সব মশা মেরে ফেললে কি হতো</a></aside>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
আজ টিভিতে যা দেখবেন (২৯ অক্টোবর ২০২৬)
আজ টিভিতে যা দেখবেন (২৯ অক্টোবর ২০২৬)

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন আজ। কেপটাউনে চলছে দক্ষিণ আফ্রিকা–অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় টেস্ট। হকি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জাপান।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছিনতাইকারীর কবলে এক রাত
ছিনতাইকারীর কবলে এক রাত

<aside><cite></cite>‘মুরুব্বি, টাকা কই? আমারে ঘুরাইতেছেন ক্যান? ফলাফল সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে?’</aside><p>রাত বাজে সাড়ে বারোটা। আমার এগারোটার ভেতর বাসায় ফেরার কথা। বাসায় ফেরার কোনো বাস, অটোরিকশা কিছুই পাচ্ছি না। কেউ মোহাম্মদপুরে যেতে রাজি হচ্ছে না।</p><p>মগবাজারের এক গলির মুখে ল্যাম্পপোস্টের নিচে একজন বাইকারকে পেয়ে গেলাম। ২৫-২৬ বছর বয়সের তরুণ। মুখভরা আউলাঝাউলা দাড়ি। সে মোহাম্মদপুরে যেতে রাজি হয়েছে। দরদাম করল না। বলল, ‘ওঠেন। যা আছে দেবেন।’</p><p>‘যা আছে দেবেন’ মানে বুঝলাম না। তবে বাইকে উঠে বসলাম। ভাঙা একটা হেলমেট দিল পরতে। বাইকার মোহাম্মদপুর পর্যন্ত যাওয়ার ধৈর্য রাখতে পারল না। কাকরাইলের এক শূন্য অন্ধকার গলির ভেতর ঢুকে পড়ল। বাইক থামিয়ে কোমর থেকে ছুরি বের করে বলল, ‘আমি বাইকার না। আমি ছিনতাইকারী। যা আছে বাইর করেন। তাড়াতাড়ি বাইর করেন!’</p><p>সঙ্গে সঙ্গে মানিব্যাগ বের করে দিলাম। নোট আর কয়েন মিলিয়ে সেখানে আছে ১৫৬ টাকা। ব্যাংকের ডেবিট কার্ড আছে। আমাকে নিয়ে গেল এটিএম বুথে। আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ব্যালান্স দেখাল ৩৪ টাকা। ছিনতাইকারী বিরক্ত হয়ে বলল, ‘এই নিয়া রাস্তায় নামছেন? বাসায় টাকা নাই?’</p><p>খুশি হয়ে, হালকা লাফানোর ভঙ্গিতে বললাম, ‘আছে। বাসায় টাকা আছে। কিন্তু একটা সমস্যাও আছে।’</p><p>ছিনতাইকারী বলল, ‘কী সমস্যা?’</p><aside><cite></cite>‘বাবা, তেত্রিশ বছর ধরে আমিও খুঁজছি। তুমি যদি বের করে দিতে পারো, অর্ধেক টাকা অবশ্যই তোমাকে দেব।’</aside><p>বললাম, ‘বাবা, আমার বাসায় এক লাখ টাকা আছে। খুঁজে পাচ্ছি না। তুমি যদি সেই টাকা খুঁজে বের করতে পারো, অর্ধেক তোমার।’</p><p>ছেলেটা ছুরি হাতে রেখেই আমার দিকে সরাসরি তাকাল। লাল চোখে বলল, ‘ফাজলামি করেন, মিয়া? বিটলামি ধরছেন। ভুঁড়ি ফাঁসালে জানটাও যাবে।’</p><p>কাতর গলায় বললাম, ‘বিশ্বাস না হলে বাসায় চলো।’</p><p>ছেলেটা বলল, ‘যাব, তবে বিটলা মুরুব্বি, তোমার বাসায় যাব না। খালপাড়ে গিয়ে তোমাকে জবো দেব।’</p><p>মৃত্যু চোখের কাছাকাছি চলে এলে আর মৃত্যুভয় থাকে না। এটা আমার অভিজ্ঞতা। আহ্লাদের সুরে বললাম, ‘বাবা, তোমার নাম কী?’</p><p>সে বলল, ‘বাবুল। আমার নাম বাবুল।’</p><p>বললাম, ‘বাবা বাবুল, আমার বাসায় চলো। টাকা বাসাতেই আছে। খুঁজে বের করতে পারলেই তোমার নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা।’</p><p>বাবুল রাজি হলো। সে আমাকে নিয়ে বাসায় এল। তাকে পুরো বাড়ির নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দিলাম। বাবুল বেডরুমের আলমারি খুলল, বিছানার তলা দেখল, ওয়ার্ডরোবের ড্রয়ার টানল, এমনকি চালের ড্রামও উল্টে দেখার ব্যবস্থা করল। কোথাও টাকা পাওয়া গেল না।</p><p>বাবুল ঘেমেটেমে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। তার চোখ জ্বলছে। কর্কশ গলায় বলল, ‘মুরুব্বি, টাকা কই? আমারে ঘুরাইতেছেন ক্যান? ফলাফল সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে?’</p><p>শান্তভাবে বললাম, ‘টাকা আছে।’</p><p>বাবুল অধিক শীতল গলায় বলল, ‘টাকা কোথায় আছে?’</p><p>বললাম, ‘টাকা আমার স্ত্রীর কাছে আছে।’</p><p>অমনি বাবুলের চেহারা বদলে গেল। সে গোড়াকাটা লতানো গাছের মতো নুয়ে গিয়ে বলল, ‘আগে কইলেন না ক্যান? বউয়ের টাকার খোঁজ বাইর করতে পারলে কি আমি ছিনতাই করি!’</p><p>দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, ‘বাবা, তেত্রিশ বছর ধরে আমিও খুঁজছি। তুমি যদি বের করে দিতে পারো, অর্ধেক টাকা অবশ্যই তোমাকে দেব।’</p><p>বাবুল কিছু না বলে ছুরি পকেটে ঢুকিয়ে দরজার দিকে হাঁটতে লাগল।</p><p>পেছন থেকে বললাম, ‘কী হলো? চেষ্টা করবে না?’</p><p>বাবুল দরজার কাছে গিয়ে ফিরে তাকিয়ে বলল, ‘মুরুব্বি, রাস্তায় ছিনতাই করি। বাসায় বাসায় এই ক্যাচাল করার লাইসেন্স অহনো পাই নাই!’</p><p>বাবুল বাইকে উঠে স্টার্ট দিল। আমি মনে মনে বললাম, ‘তেত্রিশ বছর! তেত্রিশ বছর কাটল। কেউ কথা রাখেনি। ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল, শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে, তারপর কত চন্দ্রভুক অমাবস্যা এসে চলে গেল, কিন্তু সেই বোষ্টুমী আর এল না।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/5up8j96aq1">খোঁজ দ্য দরিদ্র</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hik3yizsq8">সিনেপ্লেক্সে একদিন </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/tnsdadk1at">সড়কপথে বিমানের ছোঁয়া </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/wio8c5i398">আরও যা যা ফাঁস হতে পারে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/j2xtgsfcge">আমি ভুল করিনি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l2v7tpucaz">চাঁদ দখল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kjqv1isuow">বন্ধু ফার্মেসি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/g9j6k83pp1">ডাব সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6dfwgsqw20">Lieসেন্স</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d4fl17cod8">রসচিঠি</a></aside>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্যের পর ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের
আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্যের পর ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের

লিকুদ পার্টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানালেও, সিইসির এক কর্মকর্তা আগেই টেলিভিশন চ্যানেল ১২–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জালিয়াতির দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন
মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন

<p>নিজে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নামাজের প্রতি আহ্বান করা পবিত্র কোরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ। আল্লাহ বলেন, ‘আর তুমি তোমার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দাও এবং তার ওপর অবিচল থাকো।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১৩২)</p><p>তবে পরিবারের অন্য সদস্য—যেমন ভাইবোন বা সন্তানদের নামাজের নির্দেশ দেওয়া যতটা সহজ, মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত দেওয়া ততটাই সংবেদনশীল। ইসলামে মা-বাবার স্থান সবার ওপরে।</p><p>তাই তাঁদের কোনো ভুল শুধরে দেওয়া বা নেক কাজের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শিষ্টাচার ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া মুমিনের দায়িত্ব। মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত দেওয়ার কার্যকর কিছু উপায় তুলে ধরা হলো।</p><blockquote>মা-বাবাকে নামাজের কথা বলার সময় সন্তানের ভাষা ও আচরণ হতে হবে নম্র। কোনো অবস্থাতেই তাঁদের শিক্ষক বা মুরব্বি সাজার চেষ্টা করা যাবে না।</blockquote><h3>সম্মানজনক ভাষার ব্যবহার </h3><p>মা-বাবাকে নামাজের কথা বলার সময় সন্তানের ভাষা ও আচরণ হতে হবে নম্র। কোনো অবস্থাতেই তাঁদের শিক্ষক বা মুরব্বি সাজার চেষ্টা করা যাবে না। কোরআনের নির্দেশ হলো, ‘আর তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩)</p><p>পিতা আজরকে ইমান ও ইবাদতের দাওয়াত দেওয়ার সময় নবী ইব্রাহিমের ভাষা ছিল মধুর। তিনি বারবার ‘হে আমার প্রিয় পিতা’ বলে সম্বোধন করেছেন। (সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৪২-৪৫)</p><p>ইমাম কুরতুবি লিখেছেন, পিতা-মাতাকে সৎকাজের আদেশ দেওয়া বা অন্যায় থেকে বারণ করার সময় সন্তানের ভাষা হতে হবে খুবই বিনয়ী; কোনো অবস্থাতেই রূঢ় আচরণ বা তিরস্কার করা যাবে না, বরং তাঁরা দাওয়াত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বা রাগ করলেও সন্তানকে নীরব ও শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। (আল-কুরতুবি, <em>আল-জামি লি–আহকামিল কুরআন</em>, ১১ত/৯৫, দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ, কায়রো, ১৯৬৪)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/fp1rsgt9mg">বাবা-মায়ের সঙ্গে আচরণের নিয়ম শিখতে কোরআনের ১০ আয়াত</a></aside><h3>সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন </h3><p>মানুষ কথার চেয়ে কাজের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। সন্তান যখন নিজে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে এবং নামাজের কারণে তার চরিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, তখন মা-বাবা প্রাকৃতিকভাবেই প্রভাবিত হবেন। </p><p>সন্তান যদি নামাজের পাশাপাশি মা-বাবার সেবায় আগের চেয়ে বেশি যত্নবান হয়, তখন তাঁরা উপলব্ধি করবেন যে নামাজই তাঁর সন্তানকে এত সুন্দর মানুষে পরিণত করেছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই উত্তম চরিত্রই হলো শ্রেষ্ঠ নেক আমল।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৮৯৫২)</p><p>সুন্দর চরিত্রই হলো সবচেয়ে শক্তিশালী নীরব দাওয়াত।</p><blockquote>অনেক সময় সন্তানের জায়নামাজে বসে মোনাজাত করা দেখে মা-বাবার হৃদয়ও গলে যায়। এ ছাড়া তাঁদের বলতে পারেন, ‘মা, ফজরের সময় আমাকে একটু ডেকে দিয়ো।’</blockquote><h3>ঘরে ধর্মীয় পরিবেশ তৈরি করা </h3><p>সরাসরি নামাজের কথা বললে মা-বাবার আত্মসম্মানে আঘাত লাগতে পারে। তাই কৌশলগত পদ্ধতি অবলম্বন করা বেশ কার্যকর। যেমন—আজান শুনলে আওয়াজ করে আজানের জবাব দেওয়া বা কোরআন পাঠ করা। </p><p>অনেক সময় সন্তানের জায়নামাজে বসে মোনাজাত করা দেখে মা-বাবার হৃদয়ও গলে যায়। এ ছাড়া তাঁদের বলতে পারেন, ‘মা, ফজরের সময় আমাকে একটু ডেকে দিয়ো।’</p><p>এর মাধ্যমে তাঁদের মনে নামাজের সময় সম্পর্কে একধরনের দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা তৈরি হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/a9b0xr2dqf">ফোনের নোটিফিকেশন চেক করার মতো দ্রুত কি বাবা-মায়ের ডাকে সাড়া দিই</a></aside><h3>তাদের জন্য দোয়া করা </h3><p>কারও অন্তরে সুপথের আলো দেওয়া একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। মহানবী (সা.) চাইলেও তাঁর প্রিয় চাচা আবু তালিবকে ইমান আনানোর তওফিক পাননি। তাই মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি শেষরাতে তাদের জন্য প্রার্থনা করা বেশি জরুরি।</p><p>কোরআনে একটি চমৎকার দোয়া শেখানো হয়েছে, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৪০)</p><p>ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়া লিখেছেন, মানুষের অন্তর আল্লাহর আঙুলগুলোর মধ্যে থাকে; তাই বাহ্যিক চেষ্টার চেয়ে আল্লাহর কাছে গভীর রাতের দোয়া অনেক বেশি জাদুকরি প্রভাব ফেলে এবং মানুষের অন্তরে দ্রুত পরিবর্তন আনে। (আল-জাওজিয়া, <em>মাদারিজুস সালিকিন,</em> ১/২৩৫, দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত, ১৯৯৬)</p><aside><cite>সুরা লুকমান, আয়াত: ১৫</cite>আর যদি তারা তোমাকে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে পীড়াপীড়ি করে, যার কোনো জ্ঞান তোমার নেই, তবে তুমি তাদের কথা মেনো না; কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করো।</aside><h3>ধৈর্য ধারণ ও তর্ক না করা </h3><p>মা-বাবাকে একবার বা দুবার বলেই হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আবার তাঁরা যদি নামাজের কথা শুনে বিরক্ত হন বা বকাঝকা করেন, তবে তাঁদের সঙ্গে কোনোভাবেই তর্ক করা যাবে না।</p><p>ইসলামে শিরক বা কুফরের নির্দেশ ছাড়া মা-বাবার অন্য সব কথা মানার নির্দেশ থাকলেও তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।</p><p>আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি তারা তোমাকে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে পীড়াপীড়ি করে, যার কোনো জ্ঞান তোমার নেই, তবে তুমি তাদের কথা মেনো না; কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করো।’ (সুরা লুকমান, আয়াত: ১৫)</p><p>মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত দেওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ভালোবাসাপূর্ণ প্রক্রিয়া। জোরজবরদস্তি বা তর্কের মাধ্যমে নয়, বরং অকৃত্রিম ভালোবাসা, নিরবচ্ছিন্ন সেবা এবং আল্লাহর কাছে অবিরাম প্রার্থনার মাধ্যমেই তাঁদের হৃদয়কে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/zys7mfy8c6">আপনার নামাজ কতটা মননশীল হয়ে উঠছে</a></aside>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮

<p>স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কাস্তিয়া লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকার নিহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। </p><p>দুর্ঘটনার কারণে রাজধানী মাদ্রিদের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের উচ্চগতির রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্থগিত করেছে দেশটির রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টার কিছু পর এই দুর্ঘটনা ঘটে।</p><p>কাস্তিয়া লা মাঞ্চা আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র এস্থার পাদিয়া জানান, তোলেদো প্রদেশের উরদার কাছে মাদ্রিদ থেকে সেভিলেগামী রেলপথে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি দ্রুতগতির এভিই ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ইরিওর দাঁড়িয়ে থাকা একটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রেনের কয়েকটি বগি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায় এবং দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। দাঁড়িয়ে থাকা ইরিওর ট্রেনে একটি শিশুসহ ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় রেনফের ট্রেনে যাত্রী ছিলেন ৩৯৭ জন।</p><p>দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনদের খোঁজে আহাজারি করতে দেখা গেছে অনেককে। আনা নামের এক নারী মাদ্রিদ থেকে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি রয়টার্সকে জানান, তাঁর স্বামী রেনফের এভিই ট্রেনের আট নম্বর বগিতে ছিলেন। স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।</p><p>ইরিও ট্রেনের যাত্রী ও ফিলিপাইনের পর্যটক ফ্রেডেরিক বাররিলেয়া নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, প্রচণ্ড ধাক্কায় মনে হয়েছিল তিনি আসন থেকে উড়ে যাচ্ছেন। তবে ট্রেনের দরজাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাওয়ায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। তাঁদের বগির যাত্রীদের আঘাত গুরুতর ছিল না। এর আগে একই ট্রেনের যাত্রী এদুয়ার্দা জানিয়েছিলেন, তিনি বগির যাত্রীদের ছিটকে পড়তে ও মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/a7er9nyh/spain2.jpg"><figcaption>দুর্ঘটনায় ট্রেনের বেশ কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। সেখানে উদ্ধার কাজ চলছে</figcaption></figure><p>দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি শববাহী গাড়িও পৌঁছাতে দেখা গেছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য আশপাশের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।</p><p>স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস উদ্ধারকাজে সহায়তা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনাস্থলের সবচেয়ে কাছের শহর উরদা সফরে গেছেন। সেখানে তিনি উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং পরে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবেন। সানচেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা ও সংহতি জানান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/chs50on7ww">স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৩০</a></aside><p>রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এক সময়ে স্পেনে এই দুর্ঘটনা ঘটল। আগামী ২৯ নভেম্বর দেশটিতে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।</p><p>চলতি বছর স্পেনে এটি দ্বিতীয় বড় ট্রেন দুর্ঘটনা। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে একই রেলপথে একই দুই পরিচালনাকারী সংস্থার ট্রেনের মধ্যে দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে চলতি বছরের এ দুটি দুর্ঘটনার আগে স্পেনের রেল সুরক্ষার রেকর্ড ইউরোপের মধ্যে অন্যতম সেরা ছিল। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের রেলপথে মৃত্যুহার ছিল ইউরোপের সর্বনিম্ন পর্যায়ের। এর আগে ২০১৩ সালে সান্তিয়াগো দে কম্পোসতেলা শহরের কাছে এক বড় ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হয়েছিলেন।</p>

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।