ইসলাম

জীবনে বরকত আসার ১০ উৎস

অক্টোবর ২১, ২০২৬
জীবনে বরকত আসার ১০ উৎস
জীবনে বরকত আসার ১০ উৎস
<p>‘বরকত’ একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ আরবি শব্দ, যার অর্থ বৃদ্ধি, প্রাচুর্য, স্থিতিশীল কল্যাণ ও দৈব অনুগ্রহ। সাধারণ দৃষ্টিতে জীবন বা সম্পদে বরকত বলতে শুধু গাণিতিক হিসাব বা বাহ্যিক সংখ্যা বৃদ্ধিকে বোঝায় না; বরং অল্প সম্পদে অসীম আত্মতৃপ্তি, কম সময়ে অনেক বেশি কল্যাণকর কাজ সম্পন্ন করতে পারা এবং জীবনজুড়ে প্রশান্তি বজায় থাকাই হলো প্রকৃত বরকত।</p><p>ইসলামে জীবনকে অর্থবহ ও কল্যাণময় করতে বরকতের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআন ও হাদিস নির্দেশনা বিশ্লেষণ করলে জীবনে বরকত লাভের ১০টি প্রধান উৎস চিহ্নিত করা যায়।</p><p><strong>১. তাকওয়া ও ইমান চর্চা</strong></p><p>ইমান ও খোদাভীতি বা তাকওয়া হলো জীবনে বরকত লাভের মূল চাবিকাঠি। মানুষ যখন সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার আদেশ মেনে চলে এবং পাপকাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে, তখন জীবনের বন্ধ দুয়ারগুলো নিজে থেকেই খুলে যায়।</p><p>মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি সেসব জনপদের অধিবাসীরা ইমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৯৬)।</p><p><strong>২. নিয়মিত কোরআন অনুশীলন</strong></p><p>পবিত্র কোরআন স্বমহিমায় এক বরকতময় ঐশ্বরিক গ্রন্থ। প্রতিদিন কোরআন তেলাওয়াত এবং এর বার্তা উপলব্ধি করার মাধ্যমে ঘরে ও মনে শান্তি নেমে আসে। </p><p>আল্লাহ বলেছেন, ‘আর এটি এমন এক কিতাব, যা আমি নাজিল করেছি, যা বরকতময়; সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৫৫)।</p><p>যে ঘরে নিয়মিত কোরআন চয়ন ও চর্চা করা হয়, সেখানে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় এবং শয়তানের প্রভাব দূর হয়ে বরকতের পথ উন্মুক্ত হয় (ইবনে কাসির, <em>তাফসিরুল কুরআনিল আজিম,</em> ১/৫৪, দারুত তাইবা, রিয়াদ, ১৯৯৯)।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/nlhyxldhm1">ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বরকত লাভের ৫ উপায়</a></aside><p><strong>৩. ভোরের সময়কে কাজে লাগানো</strong></p><p>দিনের সূচনা অর্থাৎ শুভ্র সকালে রয়েছে বিশেষ বরকত। আলসেমি কাটিয়ে ভোরে ওঠার মাধ্যমে কাজের গতি ও মানসিক সতেজতা বাড়ে।</p><p>রাসুলুল্লাহ (সা.) ভোরের সময়ের জন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা করেছেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি আমার উম্মতকে তার ভোরের কাজে বরকত দিন’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬)।</p><p><strong>৪. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা</strong></p><p>পরিবার, মাতাপিতা ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা শুধু সামাজিক শিষ্টাচার নয়, বরং এটি আয়ু ও রিজিকে বরকত লাভের অন্যতম মাধ্যম।</p><p>রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার জীবিকা বৃদ্ধি পাওয়া এবং আয়ু দীর্ঘ হওয়া পছন্দ করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬)।</p><p><strong>৫. সততা ও হালাল উপার্জন</strong></p><p>জীবিকার বিশুদ্ধতা বরকতের পূর্বশর্ত। অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থে সাময়িক প্রাচুর্য দেখা গেলেও তাতে স্থায়িত্ব ও শান্তি থাকে না।</p><p>রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা যদি কেনাবেচায় সত্য বলে এবং পণ্যের দোষ-গুণ স্পষ্ট করে, তবে তাদের ব্যবসায় বরকত দেওয়া হয় (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৭৯)।</p><p>হারাম বা সন্দেহযুক্ত উপার্জনের প্রভাব মানুষের অন্তরে গিয়ে পড়ে, যা উপাসনার মিষ্টতা কাড়িয়া নেয় এবং অর্জিত অর্থের বরকত নষ্ট করে দেয়।</p><p><strong>৬. ইস্তিগফার বা তাওবা করা</strong></p><p>মানুষ মাত্রই ভুলত্রুটি করে। পাপের কারণে অনেক সময় রিজিক ও জীবনের কল্যাণ সংকুচিত হয়ে যায়। নিয়মিত ক্ষমা প্রার্থনা বা ইস্তিগফার করলে আল্লাহ তাআলা বিপদ কাটিয়ে দেন।</p><p>কোরআনে হজরত নুহ (আ.)-এর ভাষায় বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত পাঠাবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন’ (সুরা নুহ, আয়াত: ১০-১২)।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/ebufcvkz0e">কোরআন থেকে ‘বরকত’ লাভের ৭ উপায়</a></aside><p><strong>৭. মুক্তহস্তে দান-সদকা করা</strong></p><p>বাহ্যিকভাবে দান করলে অর্থ কমে গেছে মনে হলেও আধ্যাত্মিক বিচারে তা বৃদ্ধি পায়। দান-সদকা সম্পদে অদৃশ্য প্রবৃদ্ধি আনে এবং জীবনে বিপদমুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। </p><p>আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ সুদের বৃদ্ধি বিনাশ করেন এবং দান-সদকায় বরকত দেন’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭)।</p><p><strong>৮. কৃতজ্ঞতা বা শোকর আদায়</strong></p><p>আল্লাহর দেওয়া অল্প বা অনেক—যেকোনো নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা বরকত বৃদ্ধির আরেক হাতিয়ার। প্রাপ্তির পর অহংকার না করে শুকরিয়া আদায় করলে নেয়ামত দীর্ঘস্থায়ী হয়।</p><p>কোরআনের ঘোষণা, ‘যদি তোমরা শোকর আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)।</p><p><strong>৯. একত্রে আহার করা</strong></p><p>পরিবারের সবাইকে নিয়ে বা অন্যদের শরিক করে আহার করার মধ্যে বিশেষ কল্যাণ ও সুন্নাহ নিহিত রয়েছে। একা একা খাওয়ার চেয়ে সবাই মিলে একসঙ্গে খেলে আহারে বরকত হয়।</p><p>রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা একত্রে আহার করো এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাহলে এতে তোমাদের জন্য বরকত দেওয়া হবে’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩২৮৭)।</p><p><strong>১০. আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা</strong></p><p>সব ধরনের বস্তুগত চেষ্টা চালানোর পর ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করার নাম তাওয়াক্কুল।</p><p>বান্দা যখন বাহ্যিক সব উপকরণের উর্ধ্বে উঠে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে শেখে, তখন আল্লাহ তার জীবনের প্রতিটি কর্মে অলৌকিক সহজতা ও বরকত দান করেন। (ইবনে রজব আল-হাম্বলি, <em>জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম,</em> ১/২১৫, দারুল হাদিস, কায়রো, ২০০১)।</p><p>বরকত কোনো অলৌকিক বস্তু নয়, বরং এটি জীবন পরিচালনার এক সুশৃঙ্খল ও আত্মিক জীবনধারা। দৈনন্দিন জীবনে ইসলামী এই মূল্যবোধগুলোর চর্চা ফিরিয়ে আনতে পারলে আমাদের সময়, অর্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবারে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ অর্জিত হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/6rza55kf8y">পরামর্শ সভায় বরকত আনার কৌশল</a></aside>

Prothomalo

View more
ঢাকা থেকে ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিতে ভোগান্তিতে ২০ হাজার ২৫৪ যাত্রী
ঢাকা থেকে ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিতে ভোগান্তিতে ২০ হাজার ২৫৪ যাত্রী

<p>সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৩৪টি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত হয়েছে। ফলে এসব ফ্লাইটের ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর মধ্যে ৬১টি সরাসরি এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট।</p><p>আজ বুধবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।</p><p>অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৮টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে।</p><p>সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার কারণে রিয়াদগামী ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ২৫ অক্টোবর রিয়াদগামী ফ্লাইট এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার রিয়াদগামী ফ্লাইট চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।</p>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
মামলার পর জানা গেল থানায় ঢুকে তিন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়েছিলেন এক যুবক
মামলার পর জানা গেল থানায় ঢুকে তিন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়েছিলেন এক যুবক

নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পুলিশকে মারধর করা আসলাম হোসেনকে। তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
বিদায়ের সুরে প্রতিমা বিসর্জন
বিদায়ের সুরে প্রতিমা বিসর্জন

দেবী দুর্গার বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

আজ রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
চলন্ত বাস থেকে যুবলীগ নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
চলন্ত বাস থেকে যুবলীগ নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

যুবলীগের ওই নেতার নাম মেজবাহ উদ্দিন ওরফে হেলাল। তিনি রামগতি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছাত্রদল নেতার নাম মো. জামাল হোসেন (৩২)।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যে চার নির্দেশনা দিল মাউশি
প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যে চার নির্দেশনা দিল মাউশি

বিষয়টিতে ‘অতীব জরুরি’ উল্লেখ করে অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের মঙ্গলবার এ নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

নিহত ও নিখোঁজ পর্যটকেরা ঢাকার উত্তরা থেকে এসেছেন বেসরকারি লাইফগার্ড প্রতিষ্ঠান সি-সেফের আঞ্চলিক পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ। তবে তাঁদের পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
২১ কোটি টাকার ‘দ্বিতীয় বেতনের’ খবর: ইনফান্তিনোর কাছে ক্ষমা চাইল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম
২১ কোটি টাকার ‘দ্বিতীয় বেতনের’ খবর: ইনফান্তিনোর কাছে ক্ষমা চাইল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ভুল অভিযোগ প্রকাশের জন্য ক্ষমা চেয়ে ভুল স্বীকার করেছে। তারা সম্পত্তি কেনার দাবিও প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
ফ্রান্সে কেন বারবার সহিংস দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঘটে
ফ্রান্সে কেন বারবার সহিংস দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঘটে

২০০৬ সালে গবেষক হিসেবে যখন আমি প্রথম সমসাময়িক ফ্রান্স নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন দেশটি সবেমাত্র এক ভয়াবহ শহরকেন্দ্রিক সহিংসতার ধাক্কা সামলে উঠছিল।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন