নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টায় বিরোধীরা

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। চূড়ান্ত ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮ আসন। আরব দলগুলোর হাতে রয়েছে ১৯ আসন। ফলে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের জন্য উভয় পক্ষকেই জোট বা সমর্থনের পথ খুঁজতে হচ্ছে।

হুজুরের ‘পানিপড়া’ নিতে আত্রাইমুখী জনস্রোত, ফুলবাড়ী স্টেশনে বিশৃঙ্খলা

নওগাঁর আত্রাইয়ের এক হুজুরের কাছ থেকে ‘পানিপড়া’ নিতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনে শত শত নারী-পুরুষের ভিড় দেখা গেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ...

হুজুরের ‘পানিপড়া’ নিতে আত্রাইমুখী জনস্রোত, ফুলবাড়ী স্টেশনে বিশৃঙ্খলা
সুন্দরবনে ৯ প্রজাতির মাছ বাড়ছে, কমছে ৬ প্রজাতির

সুন্দরবনে ৯ প্রজাতির মাছের মজুদ বাড়লেও অন্তত ৬ প্রজাতির মাছ কমতির দিকে রয়েছে। অবৈধভাবে মাছ আহরণ, পোনা ধরা এবং পরিবেশগত নানা প্রতিকূলতাকে মাছের মজুদ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সুন্দরবনে ৯ প্রজাতির মাছ বাড়ছে, কমছে ৬ প্রজাতির
আওয়ামী লীগের সঙ্গে 'আঁতাত' নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি সন্দেহ, নেপথ্যে কী?

শুধু গোয়েন্দা তথ্য কিংবা সরকার পতনের চেষ্টা নয়, তৃতীয় আরেকটি কারণেও জামায়াত-আওয়ামীলীগ আঁতাতের ষড়যন্ত্র দেখছে বিএনপি। সেটা হচ্ছে, জুলাই সনদ এবং সংবিধান নিয়ে ‘অচলাবস্থা তৈরির চেষ্টা’।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে 'আঁতাত' নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি সন্দেহ, নেপথ্যে কী?
নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে বহিরাগত, ক্ষুব্ধ জেনিফার লরেন্স

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। তবে একবার নগ্ন দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে সেটে অনুমতি ছাড়াই কিছু বহিরাগত কর্মীর উপস্থিতি নিয়ে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ ক...

নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে বহিরাগত, ক্ষুব্ধ জেনিফার লরেন্স
ভিড় এড়াতে মধ্যরাতে দৌড়ে পালালেন অরিজিৎ সিং

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং নিজের সাদামাটা জীবনযাপন এবং প্রচারবিমুখ স্বভাবের জন্য পরিচিত। তবে ভক্তদের তুমুল আগ্রহের কারণে বারবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন তিনি। এবার মধ্যরাতে ধাবা থেকে বের হওয়ার সময় ভক...

ভিড় এড়াতে মধ্যরাতে দৌড়ে পালালেন অরিজিৎ সিং
কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ: সেমিফাইনাল থেকে বাংলাদেশের বিদায়

কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভারতের আহমেদাবাদের ভীর সাভারকার স্পোর্টস কমপ্লেক্সে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৫৬-২৭ পয়েন্টে হেরেছে ল...

কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ: সেমিফাইনাল থেকে বাংলাদেশের বিদায়

সারা দেশ

View more
৮ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
৮ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

দেশের ৮ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

Video news

Rss feed news

ওপারে আমার ঘর
ওপারে আমার ঘর

<p>আমেরিকা থেকে কেউ দেশে যেতে চাইলে সেই খবর প্রকাশ করতে খানিকটা দ্বিধা বোধ করে। রাজ্যের আত্মীয় আর পরিচিতেরা নিজেদের আত্মীয়–পরিজনদের জন্য উপহারসামগ্রী নিয়ে হাজির হন। সবই জরুরি। ওষুধের বোতল, বাচ্চাদের জামা, ডায়াবেটিস বা ব্লাডপ্রেশার মাপার যন্ত্র, চকলেট, নতুন–পুরোনো আইফোন, আর এমন কিছু রহস্যময় প্যাকেট, যা হাতে দেওয়ার সময় সবাই নিচু গলায় ষড়যন্ত্র করছে, এমন স্বরে বলে ‘তেমন কিছু না। খুবই হালকা।’</p><p>এই ‘খুবই হালকা’ জিনিসগুলোর ওজন সাধারণত সাত থেকে দশ পাউন্ড হয়ে থাকে।</p><p>প্লেন একেকজন সাধারণ যাত্রীকে পঞ্চাশ পঞ্চাশ মোট এক শ পাউন্ড ওজনের মালামাল চেক ইন করার সুযোগ দেয়। যে দেশে যাচ্ছে, সে নিজের জামাকাপড় ও আত্মীয়দের জন্য উপহার নিতে গিয়ে ওজন মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপর বাড়তি মাল ধরিয়ে দিলে যে ওকে এয়ারপোর্টে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়, সেটা ইচ্ছা করেই কেউ বুঝতে চান না।</p><p>এদিকে আমাদের বাংলাদেশিদের স্বভাব হচ্ছে আমরা মুখের ওপর না বলতে পারি না। কাজেই এই অহেতুক বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকেই দেশে যাওয়ার খবর একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জানাতে চান না।</p><p>সেবার সপরিবার দেশে যাচ্ছিল নাবিলা। স্বামী–স্ত্রী ও তিন সন্তানের জন্য মোট দশটা লাগেজ! পাঁচ শ পাউন্ড ওজনের মাল নিতে পারবে। ডালাসের বাঙালি কমিউনিটিতে খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার বাড়ি ছোটখাটো কুরিয়ার অফিস হয়ে গেল। সন্ধ্যায় ওর সঙ্গে রাইসা দেখা করতে গেল। হাতে কিছু ছিল না। সে প্রায় আধঘণ্টা বসে রইল।</p><p>নাবিলা হাসতে হাসতে বলল, ‘তুমি কিছু পাঠাবে না?’</p><p>‘না।’</p><p>‘সত্যি? তোমার মা-বাবার জন্য কিছুই না?’</p><p>রাইসা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, ‘পাঠানোর জিনিস বাসায় অনেক আছে। আমি যখন যাব তখন নিয়ে যাব।’</p><p>তারপরে একটু থেমে হেসে বলেছিল, ‘তা ছাড়া যদি তোমার স্যুটকেসে জায়গা না থাকে? দেখা যাবে তোমাকে লাগেজের ওজন কমাতে এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে প্যান্ট, টি–শার্টের ওপর শাড়ি পরে নিতে হবে।’</p><p>সবাই হেসে উঠল। এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। এয়ারপোর্টে গিয়ে দেখে লাগেজের ওজন বেশি। বাড়তি ওজনের জন্য এক শ ডলার দিতে হবে। সামান্য কয়েক কেজির জন্য এত টাকা কে দেয়? হয় টাকা দিতে হবে, না হলে জিনিস ফেলে দিতে হবে। যাত্রীরা তখন বুদ্ধি করে ব্যাগ থেকে সোয়েটার/জ্যাকেট জাতীয় ভারী পোশাক বের করে গায়ে চাপিয়ে প্লেনের দিকে হাঁটা দেয়।</p><p>নাবিলা বলল, ‘অসুবিধা নাই। জায়গা প্রচুর আছে। তুমি কিছু পাঠাতে চাইলে নিয়ে এসো।’</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/durporobash/xrxb5w14z5">ব্রাজিলীয়দের সঙ্গে ব্রাজিলের খেলা</a></aside><p>বাসায় ফিরে সে আলমারির ওপরের তাক থেকে একটি ব্যাগ নামাল। ব্যাগের মধ্যে বাবার জন্য কেনা ধূসর রঙের সোয়েটার। গত বছরের থ্যাংকসগিভিং ডিলে কিনেছিল। বাবা কোনো দিন আমেরিকায় আসেননি। বাংলাদেশের শীতেও এমন মোটা সোয়েটারের প্রয়োজন হবে না। তবু দোকানে এক বয়স্ক আমেরিকানকে সোয়েটারটি কিনতে দেখে তার বাবার কথা মনে হয়েছিল।</p><p>পাশে মায়ের জন্য একটি ছোট পারফিউম। মা মুখে না বললেও রাইসা জানে যে তিনি পারফিউম খুবই পছন্দ করেন। কেউ পারফিউম উপহার দিলে তিনি অতি যত্নে আলমারিতে তুলে রাখেন, ঈদে বা বিশেষ অনুষ্ঠানে একটু একটু করে শরীরে ছিটিয়ে দেন।</p><p>মায়ের জন্য এই পারফিউম কেনার মূল কারণ ছিল পারফিউমের গায়ে লেখা ‘Homme’ শব্দটি। শব্দটি পড়ে Home–এর কথা মনে পড়ে। বাড়ি মানেই তো মা, মায়ের কোল, মায়ের হাতের স্পর্শ!</p><p>যদিও homme শব্দের মানে যে men, এটি পুরুষদের জন্য পারফিউম, রাইসা তখনো সেটি জানত না। মা–ও জানেন না। তাঁর কাছে সুগন্ধি হচ্ছে সুগন্ধি, সেটার আবার নারী–পুরুষ কী?</p><p>ভাই রায়হানের জন্য একটি ঘড়িও ছিল। দুবছর আগে কেনা। ভাইটার একটা ভালো ঘড়ির খুব শখ।</p><p>জিনিসগুলো রাইসা কাউকে দেয়নি। তার মনে হতো, নিজে সঙ্গে করে নিয়ে গেলে উপহারগুলোর মর্যাদা থাকবে। উপহার পাওয়ার সময়ে মা–বাবা, ভাইয়ের চোখমুখের অভিব্যক্তি সে দেখতে চায়। অন্যের স্যুটকেসে গেলে সেগুলো কেবল মালপত্র হয়ে যাবে।</p><p>সে ব্যাগটি আবার তুলে রাখল।</p><p>তারপর রান্নাঘরের সিঙ্কে পড়ে থাকা প্লেট ধুতে গেল।</p><p>আমেরিকায় মন খারাপ করার অবসর নেই। থালাবাসন থেকে শুরু করে টয়লেট সিট পর্যন্ত সবকিছুই নিজেকে ধুতে হয়।</p><p>রাইসার দিন শুরু হতো সকাল ছয়টায়।</p><p>প্রথম অ্যালার্মে সে উঠত না। দ্বিতীয় অ্যালার্মে চোখ খুলে ফোনের দিকে তাকাত। তৃতীয় অ্যালার্মে তার স্বামী আদনান বিরক্ত হয়ে বলত,</p><p>‘ওই যদি আধঘণ্টা পরেই ওঠো, তাহলে আধঘণ্টা পরে অ্যালার্ম দিলে সমস্যা কোথায়?’</p><p>রাইসা চোখ বন্ধ রেখেই বলত, ‘অ্যালার্মটা আমার মায়ের মতো। তিনবার না ডাকলে কাজ হয় না।’</p><p>তারপর শুরু হতো ছোটাছুটি। ছেলে আরিশের নাশতা, মেয়ের চুল বাঁধা, স্কুলের পানির বোতল, নিজের ল্যাপটপ, অফিসের মিটিং, ট্রাফিক, ই–মেইল, গ্রোসারি, রান্না।</p><p>দেশে থাকতে মা সকালবেলা তার পেছনে পেছনে ঘুরতেন।</p><p>‘রাইসা, ডিমটা খেয়ে যা।’</p><p>‘চুলটা আঁচড়ে যা।’</p><p>‘ওড়নাটা ঠিক করে পর।’</p><p>‘বিকেলের আগে বাড়ি ফিরবি।’</p><p>সেই শাসনগুলো তখন তার কাছে লোহার শিকলের মতো লাগত। একদিন রেগে গিয়ে বলেছিল,</p><p>‘মা, তুমি কি আমাকে কোনো দিন বড় হতে দেবে না?’</p><p>মা জবাব দিয়েছিলেন, ‘মায়ের কাছে বাচ্চারা কখনোই বড় হয় না। ওদের শুধু বয়স বাড়ে।’</p><p>আমেরিকায় এসে রাইসা বড় হয়েছিল। এতটাই বড় যে অসুস্থ হলেও কাউকে বলতে পারত না। জ্বর নিয়ে রান্না করত, কোমরব্যথা নিয়ে বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দিত। দেশের কথা মনে পড়লে যখন চোখ লাল হয়ে যেত, অফিস সহকর্মীদের বলত, ‘অ্যালার্জি’।</p><p>কিন্তু মাঝেমধ্যে খুব ইচ্ছা করত, কেউ কপালে হাত দিয়ে বলুক ‘তোর শরীর গরম কেন?’</p><p>মানুষের শরীরের বয়স বাড়ে। কিন্তু মন সব সময়েই শিশুর মতো মায়ের কোলে ছুটে যেতে চায়।</p><p>প্রতি শনিবার সকালে মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হতো।</p><p>মা ফোনটি এমনভাবে ধরতেন যে স্ক্রিনে কেবল তাঁর কপাল দেখা যেত।</p><p>রাইসা বলত, ‘মা, ফোনটা নিচে নামাও।’</p><p>মা ফোন নিচে নামিয়ে থুতনি দেখাতেন।</p><p>‘আরেকটু ওপরে।’</p><p>এবার সিলিং ফ্যান দেখা যেত।</p><p>পাশ থেকে বাবা বিরক্ত হয়ে বলতেন, ‘তুমি আমাকে দাও। সামান্য একটা ফোন চালানো এখনো শিখতে পারলে না!’</p><p>ফোন হাতে নিয়ে বাবা প্রথমে ক্যামেরা বন্ধ করে দিতেন। তারপর নিজের নাকের বিশাল একটি ছবি দেখিয়ে বলতেন, ‘এবার দেখা যাচ্ছে?’</p><p>রাইসার এতই হাসি পেত যে কথাই বলতে পারত না।</p><p>মেয়ের হাসি দেখে বাবাও হেসে উঠতেন। মা রাগের ভান করতেন।</p><p>কল শেষ হলে রাইসার ঘরটা হঠাৎ খুব চুপ হয়ে যেত।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/durporobash/mf45mla625">বৃদ্ধাশ্রম: ১</a></aside><p>ফোনের পর্দায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে তার মনে হতো, মা-বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় সে কয়েক মিনিটের জন্য আগের রাইসা হয়ে যায়। যে মেয়ে দুপুরে ঘুমিয়ে উঠলে টেবিলে ভাত ঢাকা পেত, বাড়িতে ফিরতে দেরি করলে বাবা গলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকতেন।</p><p>কল কেটে গেলে সে আবার দুই সন্তানের মা, একজন স্ত্রী, একটি কোম্পানির দায়িত্বশীল এমপ্লয়ি।</p><p>পৃথিবীর এপাশে তাকে কেউ আর মেয়ে বলে চিনত না।</p><p>বাবা তাকে কোনো দিন ‘মা’ ছাড়া অন্য কিছু বলে ডাকেননি।</p><p>রাইসা কলেজে পড়ার সময় একবার রাত করে বাসায় ফিরেছিল। ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছিল। বাবা গলির মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মুখ কঠিন। চোখের নিচে অন্ধকার।</p><p>রাইসা ভেবেছিল খুব বকবেন।</p><p>কিন্তু তাকে দেখে বাবা শুধু বলেছিলেন, ‘ক্ষুধা লাগছে, মা? কিছু খেয়েছ?’</p><p>সেদিন বাবার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে রাইসার মনে হয়েছিল, বাবার ভালোবাসা বুঝি সন্তানের ওপর রাগ করতেও ভয় পায়, পাছে সন্তানটি আরও দূরে সরে যায়।</p><p>আমেরিকায় আসার দিন এয়ারপোর্টে বাবা সেই একই প্রশ্ন করেছিলেন।</p><p>‘প্লেনে ক্ষুধা লাগবে না তো?’</p><p>মা তখন কাঁদতে কাঁদতে বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, ‘প্লেনে খাবার দেয়। তোমার মেয়ে জঙ্গলে যাচ্ছে না।’</p><p>বাবা গোপনে রাইসার হাতে পাঁচ শ টাকার একটি নোট গুঁজে দিয়েছিলেন।</p><p>রাইসা হেসে বলেছিল, ‘এটা দিয়ে আমেরিকায় কী করব?’</p><p>বাবা বলেছিলেন, ‘কিছু করতে হবে না। কাছে রাখিস। দেশের টাকা।’</p><p>বাবার স্পর্শ লেগে থাকা নোটটি এখনো তার ওয়ালেটে আছে। ডলার, ক্রেডিট কার্ড আর ড্রাইভিং লাইসেন্সের পেছনে। দেশের স্মৃতি। বাবার স্মৃতি। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি নোট।</p><p>রাইসা শেষবার দেশে গিয়েছিল চার বছর আগে।</p><p>তারপর থেকে ঝামেলা লেগেই থাকে। এক বছর গেল করোনার ভয়। পরের বছর চাকরি বদল। তারপরেরটা আরিশের স্কুল। তারপরের বছর টিকিটের উচ্চমূল্য। প্রতিবছরই কারণগুলো যুক্তিসংগত ছিল। জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগুলো প্রায়ই অসংখ্য যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত জমতে জমতে ঘটে।</p><p>মা কখনো সরাসরি বলতেন না, ‘দেশে আয়।’</p><p>বলতেন, ‘এ বছর আসার কোনো সম্ভাবনা আছে?’</p><p>রাইসা ক্যালেন্ডার খুলে বলত, ‘বাচ্চাদের সামার ব্রেকে দেখি।’</p><p>সামার এলে বলত, ‘অফিসে বড় প্রজেক্ট চলছে।’</p><p>প্রজেক্ট শেষ হলে বলত, ‘ডিসেম্বরে টিকিটের দাম খুব বেশি।’</p><p>মা প্রতিবারই বলতেন, ‘ঠিক আছে। কাজকর্ম নষ্ট করে আসতে হবে না। আমরা তো আছিই।’</p><p>‘আমরা তো আছিই’ এই কথাটার ওপর মানুষ বড় নিশ্চিন্তে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে। কেউ মনে রাখে না, ‘আছি’ একটি অতি সাময়িক ব্যাপার। ‘নেই’–এ পাল্টে যেতে সময় নেয় না।</p><p>সময় তার কাজ চালিয়ে যায়।</p><p>বাবার হাঁটার গতি কমে গিয়েছিল। ভিডিও কলে সোফা থেকে উঠতে গেলে হাত দিয়ে টেবিলের কোণ ধরতেন। আগে মাথাভর্তি কালো চুল ছিল। এখন চুলের চেয়ে মাথার ত্বক বেশি দেখা যায়।</p><p>মায়ের চুল প্রথমে কানের পাশে পেকেছিল। পরে কপালের কাছে। এখন পুরো মাথায় সাদা-কালো এমনভাবে মিশে গেছে, যেন রাত শেষ হওয়ার আগেই ভোর ঢুকে পড়েছে।</p><p>একদিন ভিডিও কলে রাইসা বলল, ‘মা, চুলে রং করো না কেন?’</p><p>মা হেসে বললেন, ‘কার জন্য করব?’</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>‘বাবার জন্য।’</p><p>পাশ থেকে বাবা বললেন, ‘আমার চোখে তো তোমার মা চিরকালই সুন্দর। সুচিত্রা সেন! আমারই আফসোস! আমি কখনো ওর চোখে উত্তম হতে পারলাম না।’</p><p>মা ধমক দিলেন, ‘বুড়ো বয়সে ন্যাকামি করো না।’</p><p>বাবা বললেন, ‘বুড়ো বয়সেই তো ন্যাকামি করা যায়। যৌবনে করলে মানুষ সন্দেহ করে।’</p><p>তিনজনই হেসে উঠল।</p><p>তারপর বাবা চা খেতে গিয়ে কাশলেন। সামান্য কাশি। কিন্তু রাইসার হাসি থেমে গেল।</p><p>দেশ থেকে দূরে থাকা মানুষের কাছে প্রতিটি কাশি সম্ভাব্য বিপর্যয়, প্রতিটি গভীর রাতের ফোন মৃত্যুসংবাদ, প্রতিটি ‘কিছু হয়নি’ কথার ভেতর লুকিয়ে থাকে ভয়ংকর কিছু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।</p><p>রাইসা জিজ্ঞেস করল, ‘বাবার কাশি কত দিন ধরে?’</p><p>মা স্বাভাবিক গলায় বললেন, ‘দু-এক দিন।’</p><p>বাবা বললেন, ‘তোমার মা বাড়িয়ে বলে। কিছু না।’</p><p>পরে রায়হানকে ফোন করলে সে বলল, ‘আরে না, আপু। শীতের কাশি।’</p><p>‘ডাক্তার দেখিয়েছিস?’</p><p>‘দেখাব।’</p><p>‘কবে?’</p><p>‘এই সপ্তাহে।’</p><p>‘কোন দিন?’</p><p>রায়হান বিরক্ত হয়ে বলল, ‘তুমি আমেরিকায় বসে এত টেনশন করো কেন? আমি তো আছি।’</p><p>এই ‘আমি তো আছি’ কথাটা শুনলেই রাইসার নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে হতো। আবার একই সঙ্গে স্বস্তিও হতো।</p><p>প্রবাসীরা অনেক সময় দায়িত্ব ও অপরাধবোধের মাঝখানে একটি সুবিধাজনক সেতু বানায়। সেই সেতুর ভিত্তি দেশে তো কেউ একজন আছে।</p><p>নাবিলার ফ্লাইটের আগের দিন রাইসা তাকে একটি ছোট প্যাকেট দিয়ে এল।</p><p>মায়ের পারফিউমটি।</p><p>‘এত হালকা?’ নাবিলা অবাক হয়ে বলল।</p><p>‘হ্যাঁ।’</p><p>‘আর কিছু দেবে? আমার এখনো পাঁচ পাউন্ড ওজন বাকি আছে।’</p><p>‘না।’</p><p>তারপরেও একদম শেষ মুহূর্তে রাইসা ব্যাগ থেকে ধূসর সোয়েটারটিও বের করল।</p><p>‘এটা বাবার জন্য।’</p><p>নাবিলা সোয়েটার হাতে নিয়ে বলল, ‘এইটা বাংলাদেশের শীতে পরলে আঙ্কেল একদম সেদ্ধ হয়ে যাবেন।’</p><p>তারা দুজনেই হাসল।</p><p>নাবিলার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গ্রোসারি শপের পার্কিং লটে গাড়ির ভেতর বসে রাইসা কাঁদল। খুব নিঃশব্দে। পাশের গাড়িতে বসা এক বৃদ্ধ আমেরিকান ভদ্রলোক তার দিকে তাকিয়ে ভদ্রতা করে চোখ ফিরিয়ে নিলেন।</p><p>রাইসা ভাবল, লোকটি হয়তো মনে করছে তার জীবনে ভয়ংকর কিছু ঘটেছে। অথচ কিছুই ঘটেনি। মা বেঁচে আছেন। বাবা বেঁচে আছেন। ভাই আছে। পুরোনো বাড়িটাও আছে।</p><p>কিছুই হারায়নি। শুধু সে সেখানে নেই। কখনো কখনো অনুপস্থিতিও শোকের মতো ভারী হয়।</p><p>তিন দিন পর মা ভিডিও কলে পারফিউমটি দেখালেন।</p><p>‘নামটা অদ্ভুত। গুয়ের লাইন!’</p><p>রাইসা হেসে বলল ‘ওটা গেরলেইন হবে।’</p><p>‘এমন কঠিন উচ্চারণ! অনেক দামি নাকি?’</p><p>‘না, মা।’</p><p>‘সত্যি বল।’</p><p>‘তোমাকে দাম বললে তুমি ব্যবহার করবে না।’</p><p>‘এমনিতেও ব্যবহার করব না। রেখে দেব।’</p><p>রাইসা জানত মা এটাই করবেন। খুব দামি জিনিস মা জমিয়ে রাখেন।</p><p>বাবা সোয়েটার পরে ক্যামেরার সামনে এলেন। ঢাকার তাপমাত্রা তখন সাতাশ ডিগ্রি। কপালে ঘাম জমেছে।</p><p>রাইসা হেসে বলল, ‘বাবা, খুলে ফেলো!’</p><p>বাবা বললেন, ‘না, খুব আরাম।’</p><p>মা পেছন থেকে বললেন, ‘মিথ্যা কথা! পাঁচ মিনিট ধরে ফ্যানের নিচে দাঁড়িয়ে আছে।’</p><p>‘তুমি চুপ করো তো।’</p><p>‘বুড়ো মানুষ গরমে অজ্ঞান হলে তোমার মেয়ে আমেরিকা থেকে পানি ঢালতে আসবে?’</p><p>বাবা ক্যামেরার দিকে একটু এগিয়ে এসে বললেন, ‘কেমন লাগছে, মা?’</p><p>রাইসা দেখল, সোয়েটারটি বাবার গায়ে ঢিলেঢালা। বাবা অনেক শুকিয়ে গেছেন। চার বছর আগে যে মাপটি তার মনে ছিল, সেই শরীর এখন আর নেই।</p><p>তবু সে বলল, ‘খুব সুন্দর।’</p><p>বাবা শিশুর মতো খুশি হলেন।</p><p>রাতে রাইসা ক্যালেন্ডার নিয়ে বসল। পরের বছরের জুন মাসে তিন সপ্তাহ ছুটি নেবে। অফিসে আগেভাগে জানাবে। বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ থাকবে। টিকিট এখনই কিনলে কম পড়বে।</p><p>সে হিসাব করল, চারটি টিকিট, ঢাকায় খরচ, উপহার, আদনানের ছুটি।</p><p>অঙ্কটা বড়।</p><p>কিন্তু মা–বাবার বয়সের পাশে কোনো অঙ্ক বসানো যায় না।</p><p>সে টিকিটের ওয়েবসাইট খুলল। অনেকগুলো তারিখ দেখে শেষ পর্যন্ত ব্রাউজার বন্ধ করে দিল।</p><p>আগামীকাল আদনানের সঙ্গে কথা বলবে।</p><p>রাত তিনটা সতেরো মিনিটে ফোন বেজে উঠল।</p><p>স্ক্রিনে রায়হানের নাম।</p><p>রাইসার বুকের ভেতর কে যেন এক মুঠো বরফ ঢেলে দিল। দেশে তখন দুপুর। তবু অসময়ের ফোন মানেই তার কাছে মৃত্যুসংবাদ।</p><p>ফোন ধরেই সে বলল, ‘কী হয়েছে?’</p><p>ওপাশে কয়েক সেকেন্ড কোনো শব্দ নেই।</p><p>‘রায়হান, কথা বল!’</p><p>‘আপু, ভয় পাস না।’</p><p>এই বাক্যটি শোনার পর পৃথিবীর কোনো মানুষ ভয় না পেয়ে থাকতে পারে?</p><p>‘বাবা?’</p><p>‘গত রাতে বাবা বাথরুমে পড়ে গিয়েছিল।’</p><p>রাইসার গলা শুকিয়ে গেল।</p><p>‘এখন কোথায়?’</p><p>‘হসপিটালে। কথা বলছে। ডাক্তার বলছে মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে।’</p><p>রাইসা বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। কোথায় যাবে জানত না। তবু দাঁড়াল। যেন দাঁড়ালে দূরত্ব কিছুটা কমবে।</p><p>‘আমাকে আগে জানাসনি কেন?’</p><p>‘তুই চিন্তা করবি।’</p><p>একটা কড়া ধমক দিতে গিয়েও সে দিতে পারল না। নিজেকে সামলাল। ওপাশে রায়হান চুপ।</p><p>আদনান উঠে বাতি জ্বালাল। রাইসার মুখ দেখে আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। শুধু ল্যাপটপ খুলে ফ্লাইট খুঁজতে শুরু করল।</p><p>পরদিন অফিসে ফোন, বাচ্চাদের স্কুল, কাপড়, পাসপোর্ট...সবকিছু এলোমেলো গতিতে ঘটতে লাগল।</p><p>যে যাত্রার পরিকল্পনা সে চার বছর ধরে করতে পারেনি, ভয় সেই যাত্রার ব্যবস্থা চার ঘণ্টায় করে দিল।</p><p>ঢাকার ফ্লাইটে উঠে রাইসা ঘুমাতে পারল না।</p><p>তার মনে হচ্ছিল, যদিও বিমানটি সামনে এগোচ্ছিল, সে যেন সময়ের হাত ধরে কেবল পেছনেই যাচ্ছিল।</p><p>সে দেখল ছোটবেলার উঠান। বাবা সাইকেলের পেছনে বসিয়ে তাকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন। মা টিফিন বক্সের ঢাকনা বন্ধ করতে করতে বলছেন, ‘সবটুকু খেয়ে আসবি। খবরদার! খাবার যেন নষ্ট না হয়।’</p><p>দেখল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন বাবা রিকশায় চেপে মেয়েকে ক্লাসরুমে নামিয়ে দিতে আসছেন।</p><p>দেখল আমেরিকা যাওয়ার রাতে মা তার স্যুটকেসের ফাঁকে মরিচের আচার, গুঁড়া মসলা আর একটি ছোট জায়নামাজ ঢুকিয়ে দিচ্ছেন।</p><p>রাইসা বিরক্ত হয়ে বলেছিল ‘মা, আমেরিকায় কি মরিচের আচার পাওয়া যায় না?’</p><p>মা বলেছিলেন, ‘পাওয়া যায়। কিন্তু আমার হাতের আচার তুই কোথায় পাবি?’</p><p>এত বছর পর প্লেনের অন্ধকারে বসে রাইসা বুঝল, মা আসলে আচার দেননি। তাঁর অনুপস্থিতির মধ্যে সামান্য উপস্থিতি গুঁজে দিয়েছিলেন।</p><p>বিমান চলছিল ঘণ্টায় নয় শ কিলোমিটার বেগে। কিন্তু রাইসার মনে হচ্ছিল যেন খুব ধীরে চলছে। সময়ও কি এমন? চলে গেলে দ্রুত মনে হয়, ফিরে আসতে গেলে অসহ্য ধীর?</p><p>ঢাকায় নামার পর আর্দ্র বাতাস তার মুখে এসে লাগল। বহু বছর পর মায়ের স্পর্শের মতো পরিচিত অনুভূতি।</p><p>ইমিগ্রেশনের লাইন, লাগেজ, কাস্টমস সবকিছু তার কাছে নিষ্ঠুর বিলম্ব মনে হলো। বাইরে বেরিয়ে সে রায়হানকে দেখল।</p><p>চার বছরে ভাইয়ের পেট একটু বেড়েছে, মাথার সামনে চুল কমেছে। তবু হাসিটা আগের মতো।</p><p>রাইসা তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করল।</p><p>রায়হান বলল, ‘আরে আপু, এইভাবে কাঁদছ কেন? মানুষ দেখছে।’</p><p>‘দেখুক।’</p><p>‘তুই আমেরিকা থেকে কান্না ইমপোর্ট করে আনছিস নাকি? হাহাহা!’</p><p>রাইসা কাঁদতে কাঁদতেই ওর পিঠে ঘুষি দিল।</p><p>‘বাবা কেমন আছে?’</p><p>‘আগের চেয়ে ভালো। কথাও বলছে।’</p><p>‘মা?’</p><p>রায়হান জানালার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মা হসপিটালেই আছে।’</p><p>‘ভিডিও কলে দেখাসনি কেন?’</p><p>‘তোর ফ্লাইটের সময় তোকে অস্থির করতে চাইনি।’</p><p>রাইসার হঠাৎ রাগ হলো।</p><p>‘তোরা সব সময় আমাকে বাঁচিয়ে রাখিস কেন? কষ্ট থেকে, খবর থেকে, দায়িত্ব থেকে? আমি কি এই পরিবারের কেউ না?’</p><p>রায়হান শান্ত গলায় বলল, ‘তুই দূরে থাকিস বলেই দুশ্চিন্তা বেশি করিস। দড়িকে সাপ ভেবে ভয় পাস!’</p><p>ঢাকার রাস্তায় তখন সন্ধ্যা নামছিল। বাসের হর্ন, ধুলো, দোকানের আলো, রাস্তার পাশে চায়ের ধোঁয়া—সবই একই রকম আছে, তবু কিছুই যেন আগের মতো নেই। হয়তো শহর বদলায়নি। ফিরে আসা মানুষটাই বদলে গেছে।</p><p>হসপিটালের করিডরে মাকে প্রথমে চিনতে পারেনি রাইসা।</p><p>একটি বেঞ্চে কুঁজো হয়ে বসে ছিলেন। ধূসর চুল খোঁপা থেকে বেরিয়ে এসেছে। হাতে বাবার রিপোর্টের ফাইল। চোখের নিচে ক্লান্তির গভীর ছায়া।</p><p>রাইসা সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই মা কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলেন।</p><p>তারপর বললেন, ‘এত রোগা হয়েছিস কেন?’</p><p>রাইসা কাঁদতে কাঁদতে মাকে জড়িয়ে ধরল।</p><p>‘তুমি এখনো এই কথা বলছ?’</p><p>মা মেয়ের পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন। মায়ের শাড়িতে হসপিটালের গন্ধ। ঘাম, ওষুধ আর দুশ্চিন্তার মিশে আছে। তবু সেই বুকের ভেতর মুখ রাখতেই রাইসার মনে হলো, পৃথিবীতে এত বছর তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা ছিল না। আজ সে ঠিকানায় ফিরেছে।</p><p>মা তাকে সরিয়ে মুখ দেখলেন।</p><p>‘এত শুকিয়ে গেছিস কেন? চোখের নিচে কালি পড়েছে।’</p><p>‘মা!’</p><p>‘চুলও পাতলা হয়েছে।’</p><p>‘তুমি আমাকে আদর করবে, নাকি খুঁত ধরে বেড়াবে?’</p><p>মা প্রথমবার হাসলেন।</p><p>‘দুটো আলাদা নাকি?’</p><p>হাসির পরপরই মায়ের মুখ কেঁপে উঠল।</p><p>‘তোর বাবা তোকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে আছে।’</p><p>বাবাকে দেখে রাইসার মনে হলো, হাসপাতালের বিছানাটি কোনো জাদুতে তাঁকে ছোট করে দিয়েছে।</p><p>বাবার বাঁ হাত নিস্তেজ। মুখের এক পাশ সামান্য বেঁকে আছে। কিন্তু রাইসাকে দেখেই চোখ দুটি জ্বলে উঠল।</p><p>অস্পষ্ট গলায় বললেন, ‘মা…এসেছিস?’</p><p>রাইসা তাঁর হাত ধরে বসে পড়ল।</p><p>কত কথা সে ভেবে রেখেছিল!</p><p>‘কেন নিজের যত্ন নাওনি?’</p><p>‘কেন অসুখ লুকিয়েছ?’</p><p>‘কেন আমাকে আগে জানাওনি?’</p><p>কিছুই বলতে পারল না।</p><p>বাবা অনেক কষ্টে বললেন, ‘ক্ষুধা লাগছে? কিছু খেয়েছিস?’</p><p>রাইসা মাথা নিচু করল। তার মনে হলো, মানুষ মৃত্যুর দরজার কাছাকাছি পৌঁছেও নিজের স্বভাব বদলায় না। বাবা এখনো নিজের শরীরের আগে মেয়ের ক্ষুধার কথা ভাবছেন।</p><p>সে বাবার হাত কপালে ঠেকিয়ে বলল, ‘খুব ক্ষুধা লাগছে, বাবা।’</p><p>বাবা তৃপ্তির মতো চোখ বন্ধ করলেন।</p><p>‘তোর মা…ভাত দেবে।’</p><p>মা কিছু বললেন না। শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছলেন।</p><p>বাবা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেন।</p><p>হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার দিন তিনি হুইলচেয়ারে বসে বাড়িতে ঢুকলেন। রাইসা দেখল, ড্রয়িংরুমের দেয়ালে এখনো তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের ছবি। তার ঘরটাও প্রায় আগের মতো রাখা হয়েছে। আলমারিতে পুরোনো বই, আয়নার কোণে শুকনো হয়ে যাওয়া স্টিকার, টেবিলের ড্রয়ারে ভাঙা কলম।</p><p>বিছানার চাদর নতুন।</p><p>মা বললেন, ‘তোর ঘর ঠিক সেভাবেই রাখি যেভাবে তুই রেখে গিয়েছিলি।’</p><p>‘আমি তো আসি না।’</p><p>‘ঘর কি জানে তুই আসবি না?’</p><p>রাইসা জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল।</p><p>দুপুরে মা টেবিলভর্তি খাবার সাজালেন। ইলিশভাজা, ডাল, আলুভর্তা, বেগুনভাজি, গরুর মাংস। সবই রাইসার প্রিয় খাবার।</p><p>রাইসা বলল, ‘এত রান্না কেন?’</p><p>মা বললেন, ‘পেট ভরে খা। ওখানে কি দেশি গরুর মাংস, পদ্মার ইলিশ, গাছের বেগুনের ভাজি পাস?’</p><p>বাবা পাশে বসে অল্প অল্প খাচ্ছিলেন। রাইসা তাঁর প্লেটে মাছের কাঁটা বেছে দিল।</p><p>বাবা বললেন, ‘ছোটবেলায় আমি তোর কাঁটা বেছে দিতাম।’</p><p>‘এখন আমি দেব।’</p><p>‘সবকিছুর পালা আসে, তাই না?’</p><p>তিন সপ্তাহ দ্রুত চলে গেল।</p><p>বাবা ওয়াকার নিয়ে হাঁটতে শিখলেন। মা প্রতিদিন তাঁর ওষুধ গুনে রাখতেন। রাইসা বাজার করত, রান্নাঘরে মায়ের পাশে দাঁড়াত, বিকেলে ছাদে যেত।</p><p>একদিন মা কাপড় মেলতে মেলতে বললেন, ‘তুই চলে গেলে বাড়িটা আবার খালি হয়ে যাবে।’</p><p>রাইসা বলল, ‘রায়হান তো আছে।’</p><p>‘এক সন্তানের জায়গা আরেকজন পূরণ করতে পারে না।’</p><p>বলতে বলতে মায়ের গলা ধরে এলো। সঙ্গে সঙ্গে তিনি অন্যদিকে ফিরে তাকালেন। নিজের চোখের পানি তিনি সন্তানদের দেখাতে রাজি নন। রাইসা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। এত দিন তার ধারণা ছিল তার মা বেশ শক্ত মনের মানুষ। আজ বুঝল, পৃথিবীর কোনো মা শক্ত মানুষ হতে পারেন না। তাঁরা কেবল নিজের ভাঙার শব্দ বুকের ভেতর চেপে রাখেন।</p><p>সে বলল, ‘আমার ভয় হয়, মা।’</p><p>‘কিসের ভয়?’</p><p>‘পরেরবার এসে যদি তোমাদের দুজনকে একসঙ্গে না পাই?’</p><p>মায়ের হাত থেমে গেল। ছাদের ওপর বিকেলের রোদ। পাড়ার মসজিদে আজান শুরু হয়েছে। বাতাসে ভেজা কাপড় দুলছে।</p><p>মা ধীরে ধীরে বললেন, ‘একসঙ্গে না পেলেও এক জায়গায় ঠিকই পাবি।’</p><p>‘কোথায়?’</p><p>মা রাইসার বুকের ওপর আঙুল রাখলেন। ‘এখানে। বাবা থাকবে তোর আদরে। আমি থাকব তোর শাসনে। দেখিস, তুই যখন তোর মেয়েকে বকবি, আমার গলা শুনতে পাবি।’</p><p>রাইসা হাসার চেষ্টা করল।</p><p>‘তোমার মতো এত বকতে পারব না।’</p><p>মা বললেন, ‘তুই আমার চেয়েও বেশি বকিস। ভিডিও কলে তোকে দেখেছি।’</p><p>মা-মেয়ে হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই রাইসা মাকে জড়িয়ে ধরল। কাপড়ের দড়িতে ঝুলতে থাকা একটি সাদা ওড়না বাতাসে উড়ে এসে দুজনকে ঢেকে দিল। কয়েক মুহূর্তের জন্য পৃথিবীটা সাদা হয়ে গেল।</p><p>ফেরার দিন বাবা এয়ারপোর্ট পর্যন্ত যেতে চাইলেন।</p><p>সবাই নিষেধ করল। তিনি শুনতে রাজি না। অবশেষে ঠিক হলো বাড়ির গেট পর্যন্ত আসবেন। ওয়াকার নিয়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ালেন।</p><p>মা রাইসার ব্যাগে চানাচুর, আচার, দেশি মসলা আর মিষ্টি ঢোকাচ্ছিলেন।</p><p>রাইসা বলল, ‘মা, আমেরিকায় সব পাওয়া যায়।’</p><p>মা তার দিকে তাকালেন।</p><p>দুজনেই একই সঙ্গে বহু বছর আগের কথাটি মনে করল।</p><p>মা বললেন, ‘পাওয়া যায়। কিন্তু...’</p><p>বাকিটা বললেন না। বলতে হলো না।</p><p>এয়ারপোর্টে যাওয়ার আগে রাইসা বাবাকে জড়িয়ে ধরল। বাবার শরীর এখন হালকা, কাঁধ সরু। তাঁর বুকের সঙ্গে মুখ লাগিয়ে রাইসা ক্ষীণ হৃৎস্পন্দন শুনতে পেল।</p><p>তার মনে হলো, সে কোনো মানুষকে নয়, একটি ঘড়িকে জড়িয়ে ধরে আছে। ঘড়িটি টিকটিক করে চলছে। আর সে জানে না, আবার ফিরে আসার আগপর্যন্ত ঘড়িটি চলবে কি না।</p><p>বাবা কানের কাছে বললেন, ‘যাও, মা। বাচ্চারা কষ্টে আছে।’</p><p>মা বললেন, ‘দুবাই পৌঁছে একবার ফোন দিবি। তারপরে আমেরিকা পৌঁছে আরেকবার।’</p><p>রায়হান বলল, ‘কাঁদিস না। এয়ারপোর্টে দেরিতে গেলে ফ্লাইট মিস হতে পারে।’</p><p>রাইসা গাড়িতে উঠে জানালা নামাল। মা হাত নেড়ে যাচ্ছেন। বাবা ওয়াকার ধরে দাঁড়িয়ে। তাঁর গায়ে সেই ধূসর সোয়েটার। ঢাকার গরমে কপালে ঘাম।</p><p>রাইসা চিৎকার করে বলল, ‘বাবা, সোয়েটার খুলে ফেলো! গরম লাগছে!’</p><p>বাবা শিশুর মতো হেসে বললেন, ‘এইটা আমার মায়ের দেওয়া সোয়েটার! এসির মতো আরাম লাগছে।’</p><p>সবাই হেসে উঠল। গাড়ি চলতে শুরু করল।</p><p>হাসির মধ্যেই মুখগুলো ছোট হয়ে গেল। গলি শেষ হলো। বাড়ি আড়াল হয়ে গেল।</p><p>রাইসা জানালা দিয়ে হাত বের করে রেখেছিল আরও কিছুক্ষণ, যদিও হাত নেড়ে বিদায় জানানোর মতো কেউ তখন দেখা যাচ্ছিল না।</p><p>আমেরিকায় ফিরে জীবন আবার আগের গতিতে চলতে শুরু করল।</p><p>অফিস, স্কুল, বাজার, রান্না, মিটিং, রাশ আওয়ার ট্রাফিক, দাওয়াত।</p><p>তবে রাইসা এবার পরের বছরের জন্য অপেক্ষা করল না। ছয় মাস পরের টিকিট কিনে ফেলল। টিকিটের দাম বেশি ছিল। অফিসে ছুটি পাওয়া কঠিন ছিল। বাচ্চাদের কয়েক দিন স্কুল মিস হবে। সে মনকে কোনো যুক্তি শুনতে দিল না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোনের ক্যালেন্ডার খুলে একটি করে দিন কেটে দিত।</p><p>এক শ বিরাশি দিন। এক শ একাশি। এক শ আশি।</p><p>সময় এগিয়ে চলল। বাবার হাঁটা একটু ভালো হলো। মায়ের চুল আরও একটু সাদা হলো। শীত গেল, বসন্ত এল।</p><p>এক রাতে ভিডিও কলে বাবা বললেন, ‘আর কত দিন?’</p><p>‘সাঁইত্রিশ দিন।’</p><p>মা পেছন থেকে বললেন, ‘দিন গোনার কিছু নেই। দেখতে দেখতে চলে আসবে।’</p><p>অপেক্ষারত মানুষের কাছে দিন ‘দেখতে দেখতে’ আসে না। প্রতিটি দিন, প্রতিটা ঘণ্টা অনেক দীর্ঘ মনে হয়।</p><p>ঘুমানোর আগে সে ক্যালেন্ডারে দাগ দিল। ছত্রিশ দিন।</p><p>ভোরে তার ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে রায়হানের নাম।</p><p>রাইসা ফোনটির দিকে তাকিয়ে রইল। হাত বাড়াতে পারল না।</p><p>পাশে আদনান ঘুমিয়ে। জানালার বাইরে আমেরিকার আকাশে ধীরে ধীরে আলো ফুটছে। পৃথিবীর অন্য পাশে তখন সন্ধ্যা নেমে গেছে।</p><p>ফোন বেজেই চলেছে।</p><p>রাইসার মনে হলো, মাঝখানে শুধু একটি ফোন নয়, একটি সমুদ্র বাজছে। হাজার হাজার মাইল দূরত্ব বাজছে। ফেলে আসা সব বছর একসঙ্গে বাজছে।</p><p>শেষ পর্যন্ত সে ফোনটি হাতে নিল।</p><p>কিন্তু ধরার আগে চোখ বন্ধ করে খুব নিচু গলায় বলল, ‘আল্লাহ, এবার গেলে যেন দুজনকেই পাই।’</p><p>তারপর কলটি ধরল।</p><p>ওপাশ থেকে কী বলা হলো, তা ঘরের আর কেউ শুনতে পেল না।</p><p>শুধু দেয়ালে ঝোলানো ক্যালেন্ডারের পাতাটি এসির বাতাসে কাঁপতে থাকল।</p><p>সেখানে লাল কালিতে লেখা, ‘দেশে যেতে আর ৩৬ দিন।’</p>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে
প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

<p>সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন ১৬ বছর আগে। আশা ছিল, নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি পেয়ে একদিন প্রধান শিক্ষক হবেন। কিন্তু সেই পদোন্নতির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৩ বছর। গত জুনে আইনি বাধা কাটলেও আদালতের রায়ের অনুলিপি পেতে লেগেছে প্রায় পাঁচ মাস। এখন শুনছেন, পদোন্নতির কাজ শুরু হচ্ছে। কিন্তু পদোন্নতির চিঠি কবে হাতে পাবেন, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।</p><p>রংপুর বিভাগের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই সহকারী শিক্ষকের মতো দেশের হাজারো শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। পদোন্নতি আটকে থাকায় তাঁরা শুধু পদমর্যাদা নয়, এর সঙ্গে যুক্ত আর্থিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।</p><p>দীর্ঘ আইনি জটিলতার পর গত জুনে আপিল বিভাগে মামলার নিষ্পত্তি হয়। তবে রায়ের অনুলিপি পেতে দেরি হওয়ায় পদোন্নতির প্রশাসনিক কার্যক্রমও এগোয়নি। সম্প্রতি আদালতের রায়ের সারসংক্ষেপ ও নির্দেশনার অনুলিপি পাওয়ার পর আবার কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য প্রথমে জ্যেষ্ঠতার তালিকা বা গ্রেডেশন প্রস্তুত করা হচ্ছে।</p><p><strong>বর্তমানে কোন অবস্থায় পদোন্নতিপ্রক্রিয়া</strong></p><p>দীর্ঘ অপেক্ষার পর পদোন্নতির কার্যক্রম কত দূর এগিয়েছে, জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, আদালতের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর থমকে থাকা প্রশাসনিক কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এখন শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।</p><p>মহাপরিচালক জানান, দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের চাকরির নথি, সার্ভিস বুক, বদলির তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হচ্ছে। কোনো যোগ্য শিক্ষক যেন ভুল তথ্যের কারণে বাদ না পড়েন, সে জন্য মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। জ্যেষ্ঠতার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ধাপে ধাপে পদোন্নতির আদেশ দেওয়া হবে।</p><p>তবে তালিকা প্রস্তুত ও যাচাইয়ের কাজ শেষ করে কবে নাগাদ পদোন্নতির আদেশ দেওয়া সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।</p><blockquote>মহাপরিচালক জানান, দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের চাকরির নথি, সার্ভিস বুক, বদলির তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হচ্ছে। কোনো যোগ্য শিক্ষক যেন ভুল তথ্যের কারণে বাদ না পড়েন, সে জন্য মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। জ্যেষ্ঠতার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ধাপে ধাপে পদোন্নতির আদেশ দেওয়া হবে।</blockquote><p><strong>আদালতের রায়ে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের নিয়ম</strong></p><p>প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের মূল বিষয় ছিল জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। তখন প্রণীত বিধিমালার ৯(১) বিধি অনুযায়ী, জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির ৫০ শতাংশ সময়কে কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণনা করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের বিধান রাখা হয়। তবে তাঁদের অবস্থান সরাসরি নিয়োগ পাওয়া সরকারি শিক্ষকদের নিচে রাখার শর্তও ছিল।</p><p>জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এই বিধানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হয়। হাইকোর্ট সরকারের ওই শর্ত বাতিল করলেও আপিল বিভাগ পরে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকারের বিধিমালার পক্ষেই রায় দেন। রায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া সরকারি শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতার তালিকায় অগ্রাধিকার পাবেন। অন্যদিকে ২০১৩ সালে বা তার পরে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির ৫০ শতাংশ কার্যকর চাকরিকাল বিবেচনায় নেওয়া হবে। এই নিয়ম অনুসরণ করেই এখন জেলাভিত্তিক জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরির কাজ চলছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/f4lxd2c3x2">চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের চাকরি, আবেদন ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত</a></aside><p><strong>দ্রুত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অবসানের আকুতি</strong></p><p>আইনি বাধা কেটে কাজ শুরু হলেও প্রশাসনিক গতি নিয়ে চিন্তিত ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকার এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘১৩টি বছর আমাদের মামলা আর আইনি জটিলতার পেছনে শেষ হয়েছে। জুনে রায় হওয়ার পরও নথির কারণে পাঁচ মাস পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন ডিপিইর কাছে আমাদের একটাই দাবি—আর যেন কোনো নতুন আমলাতান্ত্রিক অজুহাতে সময় নষ্ট করা না হয়। দ্রুত জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ করে পদোন্নতি দেওয়া হোক।’</p><p>অবসর ঘনিয়ে আসা শিক্ষকেরা আছেন আরও বড় উদ্বেগে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার চাকরির মেয়াদ আর মাত্র দেড় বছর আছে। জেলা থেকে তথ্য যাচাই আর ফাইল চালাচালিতে যদি আবার বেশি সময় চলে যায়, তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পদোন্নতি আর দেখা হবে না।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-news/lz45qrucah">বেসরকারি চাকরিতে বেতন ‘আলোচনা সাপেক্ষে’, দর-কষাকষি কীভাবে করবেন চাকরিপ্রার্থীরা </a></aside><p><strong>প্রাথমিক শিক্ষা খাতে নতুন সমীকরণ</strong></p><p>ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এই পদোন্নতিপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে একযোগে ৩৬ হাজার ২৩৫ জন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হবেন। এতে বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা নেতৃত্বসংকট কাটবে।</p><p>একই সঙ্গে দেশে তৈরি হবে নতুন নিয়োগের পথ। এত বিপুলসংখ্যক সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি পেয়ে অন্য পদে চলে গেলে তাঁদের ফেলে যাওয়া পদগুলো খালি হয়ে যাবে। আগে বিদ্যমান শূন্য পদ ও পদোন্নতিজনিত নতুন পদ মিলে একযোগে প্রায় ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি হবে। সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নতুন সহকারী শিক্ষক ওরিয়েন্টেশন শেষে স্কুলে যোগ দিয়েছেন। তবে এই পদোন্নতিপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ামাত্রই মাঠপর্যায়ের বিশাল শূন্যতা পূরণে ডিপিইকে আবারও নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/w10ysi0rr2">এআই যুগে গণিত শেখা কি জরুরি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জেনে নিন</a></aside>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে উঠছে পৃথিবী
প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে উঠছে পৃথিবী

<p>প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর পৃথিবীতে মৃদু ভূকম্পন হয়। শুনতে অবাক লাগলেও ৬০ বছর ধরে গবেষণা করেও এই স্পন্দনের সঠিক কারণ এখনো ব্যাখ্যা করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। এটি কোনো হারমোনিক ঘটনা নাকি সূর্যের শক্তির কারণে তৈরি হয়, তা নিয়ে একাধিক তত্ত্ব রয়েছে। ১৯৬০ দশকের শুরুতে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লামন্ট-ডোহার্টি জিওলজিক্যাল অবজারভেটরির ভূতাত্ত্বিক জ্যাক অলিভার প্রথম পৃথিবীর এই স্পন্দন বা মাইক্রোসিজম নথিভুক্ত করেন। তবে সে সময় আধুনিক সিসমোলজিস্টদের ব্যবহৃত উন্নত যন্ত্র তাঁর কাছে ছিল না। পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানীরা জানান, গিনি উপসাগরের বাইট অব বনি নামের একটি স্থান থেকে তৈরি হচ্ছে এই স্পন্দন।</p><p>কিছু গবেষকের মতে, এই স্পন্দনের পেছনে একটি সাধারণ কারণ রয়েছে। মহাসাগরের নিচে থাকা কন্টিনেন্টাল শেলফ বা মহীসোপান একটি বিশাল ঢেউ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। গিনি উপসাগরের মহীসোপানের বিশেষ স্থানে নিয়মিত সমুদ্রের ঢেউ আঘাত করায় এই স্পন্দন তৈরি হতে পারে। বাদ্যযন্ত্রের ড্রামের মতো মহীসোপানের গঠন বিশেষ ধরনের শব্দের সৃষ্টি করছে বলে গবেষকদের ধারণা। আবার অনেক গবেষক মনে করেন এই স্পন্দনের পেছনে একটি আগ্নেয়গিরি দায়ী। বাইট অব বনির সাঁও তোমে দ্বীপের একটি আগ্নেয়গিরির ঠিক কাছাকাছি স্থানে স্পন্দনের কেন্দ্রবিন্দু রয়েছে। জাপানেও একই ধরনের আগ্নেয়গিরিজাত সিসমিক স্পন্দন আগে থেকেই নথিভুক্ত রয়েছে।</p><p>বিজ্ঞানীরা এই স্পন্দন নিয়ে গবেষণা করলেও বড় ধরনের প্রাকৃতিক ক্ষতির আশঙ্কা না থাকায় এটি সমাধান করা প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠেনি। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, প্রতিবছর বড়দিনের আগে পৃথিবীর সিসমিক কম্পন কমে আসার প্রবণতা দেখা যায়।</p><p>সূত্র: পপুলার মেকানিকস</p>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ব্যক্তিগত সম্পর্কে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হলে নীরব থাকবেন না
ব্যক্তিগত সম্পর্কে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হলে নীরব থাকবেন না

<p>অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনিই আপনার ভাগ্যনিয়ন্ত্রক। গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব জীবনে ভূমিকা রাখলেও আপনার সিদ্ধান্ত ও কর্মই চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে। সাহস, ধৈর্য ও সঠিক মানসিকতা আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। প্রতি শনিবার ‘এ সপ্তাহের রাশিফল’ লিখছেন জ্যোতিষী <strong>চিন্ময় বড়ুয়া</strong></p><ul><li><p>এ সপ্তাহের রাশিফল (৩১‍ অক্টোবর–৬ নভেম্বর ২০২৬)</p></li></ul><h3>মেষ রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/1lrhk4rs/1Mesh-Rashi.jpg"><figcaption>মেষ রাশি</figcaption></figure><p>সব লড়াই জিতে নেওয়াই সাফল্য নয়, কখনো কখনো কোন লড়াইয়ে জড়ানো উচিত নয়, সেটি বুঝতে পারাও বড় অর্জন। কর্মক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের তাগিদ বাড়বে, কিন্তু অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে নিজের শক্তি ক্ষয় করবেন না। কোনো দায়িত্ব বা পরিকল্পনা প্রত্যাশামতো এগোতে দেরি হলে নতুন করে কৌশল সাজাতে হতে পারে।</p><p>পারিবারিক জীবনে ছোট কোনো বিষয় বড় হয়ে ওঠার আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করুন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিগত সম্পর্কে নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি অন্যের নীরবতার অর্থও বোঝার চেষ্টা করুন। আপনার কাছে যা সামান্য, অন্যের কাছে তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সপ্তাহটি মনে করিয়ে দেবে, দৃঢ়তা মানে কঠোর হওয়া নয়। পরিস্থিতি বুঝে কখন এগোতে হবে, কখন থামতে হবে, সেই বিচারবোধই আপনাকে প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী করবে।</p><h3>বৃষ রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/37la7wit/2Brisho-Rashi.jpg"><figcaption>বৃষ রাশি </figcaption></figure><p>জীবনে সব পরিবর্তন পরিকল্পনা মেনে আসে না। কিছু পরিবর্তন আসে আমাদের পুরোনো অভ্যাসের সীমাবদ্ধতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা কর্মক্ষেত্রের পরিবেশে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা আপনাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে। কোনো অপ্রত্যাশিত ব্যয় সাময়িক অস্বস্তি তৈরি করলেও তা ভবিষ্যতের প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে নেওয়ার শিক্ষা দিতে পারে।</p><p>কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নমনীয়তারও প্রয়োজন হবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দিলে শুধু নিজের যুক্তির ওপর নির্ভর না করে তাঁদের উদ্বেগটিও বোঝার চেষ্টা করুন। পুরোনো কোনো পরিকল্পনা সংশোধন করতে হলে সেটিকে ব্যর্থতা ভাববেন না। সবকিছু আগের মতো ধরে রাখাই স্থিতিশীলতা নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাতে পারাও স্থিতির লক্ষণ। এ সপ্তাহে আপনার আসল শক্তি হবে পরিবর্তনের মধ্যেও নিজের ভিত্তি অটুট রাখা।</p><h3>মিথুন রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/dh6xqijg/3Mithun-Rashi.jpg"><figcaption>মিথুন রাশি</figcaption></figure><p>অনেক কথা বলা যায়, অনেক পরিকল্পনাও করা যায়; কিন্তু কোন কথাটি বলা প্রয়োজন এবং কোন পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা জরুরি, সেটিই আসল প্রশ্ন। যোগাযোগ, পড়াশোনা ও কাজের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিচিত কারও সঙ্গে আলোচনা আপনার সামনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি খুলে দিতে পারে। তবে প্রতিটি প্রস্তাব বা খবরকে সমান গুরুত্ব দিলে মনোযোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।</p><p>অর্থনৈতিক বিষয়ে ছোট ছোট সিদ্ধান্তের সম্মিলিত প্রভাব বুঝে চলুন। ব্যক্তিগত সম্পর্কে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হলে নীরব থেকে অন্যকে অনুমান করতে বাধ্য করবেন না। নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন। কর্মক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার চেয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর দেওয়া বেশি কার্যকর হবে। নতুন কিছু শেখার আগ্রহকে কাজে লাগান, তবে অসমাপ্ত কাজের স্তূপ তৈরি করবেন না। এ সপ্তাহের শিক্ষা—বুদ্ধিমত্তা শুধু দ্রুত চিন্তা করার মধ্যে নেই; অপ্রয়োজনীয় বিষয় বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয়টিকে ধরে রাখার মধ্যেও তার পরিচয়।</p><h3>কর্কট রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/4vwk0y43/4Korkot-Rashi.jpg"><figcaption>কর্কট রাশি</figcaption></figure><p>সব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের মনের খবর নেওয়া ভুলে গেলে একসময় ভেতরে ক্লান্তি জমতে থাকে। পরিবার, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আপনার ভাবনা বাড়তে পারে। বাড়ির কোনো বিষয় বা পরিবারের সদস্যের প্রয়োজন আপনার সময় ও মনোযোগ দাবি করবে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রেও নিজের অবস্থান ধরে রাখার চাপ অনুভব করতে পারেন। সব সমস্যার সমাধান একা করার চেষ্টা না করে দায়িত্ব ভাগ করে নিন।</p><p>অর্থনৈতিক বিষয়ে আবেগের বশে ব্যয় না করে বাস্তব প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিন। কাছের কারও আচরণে কষ্ট পেলে সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন না। কখনো মানুষের পরিস্থিতিও তার আচরণের পেছনে কাজ করে। নিজের বিশ্রাম ও মানসিক শান্তির জন্য কিছুটা ব্যক্তিগত সময় রাখুন। এ সপ্তাহে শক্ত থাকার অর্থ সব কষ্ট লুকিয়ে রাখা নয়। বরং কোথায় সাহায্য চাইতে হবে এবং কোথায় নিজের সীমা নির্ধারণ করতে হবে, তা বুঝতে পারাই হবে আপনার বড় অর্জন।</p><h3>সিংহ রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/yzqqxo20/5Shingho-Rashi.jpg"><figcaption>সিংহ রাশি</figcaption></figure><p>আত্মবিশ্বাস মানুষকে সামনে এগিয়ে নেয়, কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কখনো কখনো প্রয়োজনীয় সতর্কতাকে আড়াল করে দেয়। নিজের যোগ্যতা, প্রতিভা ও নেতৃত্বের ক্ষমতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা নতুন উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা এগোতে পারে। তবে প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় এমন প্রতিশ্রুতি দেবেন না, যা পরে চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।</p><p>অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লাভের সম্ভাবনার পাশাপাশি ক্ষতির দিকটিও বিবেচনা করুন। ব্যক্তিগত সম্পর্কে সব সিদ্ধান্ত নিজের মতো করে নিতে চাইলে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। কাছের মানুষের মতামত আপনার অবস্থানকে দুর্বল করবে না, বরং সিদ্ধান্তকে আরও পরিণত করতে পারে। কোনো সমালোচনা শুনলে সেটিকে ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে না দেখে প্রয়োজনীয় অংশটুকু গ্রহণ করুন। এ সপ্তাহে আপনার প্রকৃত পরিচয় তৈরি হবে শুধু কতটা উজ্জ্বলভাবে সামনে আসছেন, তা দিয়ে নয়, কতটা দায়িত্বশীলভাবে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করছেন, তা দিয়েও।</p><h3>কন্যা রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/0qmnx6m1/6Konya-Rashi.jpg"><figcaption>কন্যা রাশি</figcaption></figure><p>সব উত্তর সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না, আর প্রতিটি বিলম্বও ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। কর্মক্ষেত্র, আর্থিক দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কিছুটা চাপ অনুভব করতে পারেন। কোনো কাজ প্রত্যাশিত সময়ে শেষ না হলে নিজের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ না করে কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন, তা খুঁজে দেখুন। আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিষ্কার রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় দায় এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ হবে। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে নিজের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যেন পিছিয়ে না যায়, সেদিকে নজর রাখুন।</p><p>ব্যক্তিগত সম্পর্কে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ কখনো কখনো সহজ কথাকেও জটিল করে তোলে। সবকিছুর নিখুঁত ব্যাখ্যা খোঁজার বদলে মানুষের আন্তরিকতাকেও জায়গা দিন। পুরোনো কোনো অসমাপ্ত কাজ শেষ করার সুযোগ পেলে সেটিকে গুরুত্ব দিন। নিজের দক্ষতা উন্নত করা এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সময়টি কাজে লাগান। এ সপ্তাহে আপনার সাফল্য বড় কোনো চমকের মধ্যে নয়, বরং ছোট ছোট ভুল সংশোধন করে নিজের ভিত আরও মজবুত করার মধ্যে লুকিয়ে থাকবে।</p><h3>তুলা রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/sb0keuhr/7Tula-Rashi.jpg"><figcaption>তুলা রাশি </figcaption></figure><p>সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে গিয়ে নিজের শান্তি হারিয়ে ফেলা কোনো প্রজ্ঞার পরিচয় নয়। সম্পর্ক, সামাজিক যোগাযোগ ও কর্মক্ষেত্রে সমঝোতার প্রয়োজন বাড়তে পারে। আপনার সুন্দরভাবে কথা বলার ক্ষমতা জটিল পরিস্থিতি সহজ করতে সাহায্য করবে, তবে প্রয়োজনের সময় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করাও জরুরি। কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্যের আপত্তি থাকলে তা শুনুন, কিন্তু শুধু বিরোধ এড়ানোর জন্য নিজের নীতির বিরুদ্ধে যাবেন না।</p><p>অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ ও ব্যক্তিগত আনন্দের জন্য খরচ করার প্রবণতা বাড়তে পারে। আনন্দ উপভোগ করুন, তবে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথাও মনে রাখুন। কাছের মানুষের সঙ্গে পুরোনো কোনো ভুল–বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে নতুন পরিচিতি বা আলোচনার মাধ্যমে উপকারী সম্ভাবনা সামনে আসতে পারে। এ সপ্তাহের গভীর শিক্ষা হলো, ভারসাম্য মানে দুই পক্ষকে সমানভাবে খুশি করা নয়। বরং নিজের প্রয়োজন, অন্যের অধিকার ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ন্যায়সংগত অবস্থান খুঁজে নেওয়া।</p><h3>বৃশ্চিক রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/puiylo95/8Brishchik-Rashi.jpg"><figcaption>বৃশ্চিক রাশি</figcaption></figure><p>কিছু লড়াই প্রকাশ্যে হয়, আবার কিছু লড়াই চলে নিজের ভেতরে। কোন পথে এগোবেন, কাকে বিশ্বাস করবেন, আর কখন পুরোনো পরিকল্পনা ছেড়ে নতুন পথ বেছে নেবেন। কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতির ইচ্ছা বাড়লেও কিছু কাজ ধীরগতিতে এগোতে পারে। অন্যের বিলম্ব বা ভুলের কারণে নিজের পরিকল্পনা আটকে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করুন। অর্থনৈতিক বিষয়ে অপ্রত্যাশিত দায় কিংবা পুরোনো কোনো হিসাব সামনে আসতে পারে।</p><p>সবকিছু একসঙ্গে সমাধান করার চেষ্টা না করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করুন। ব্যক্তিগত সম্পর্কে সন্দেহ বা নীরবতা দূরত্ব বাড়াতে পারে। যে প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন, সেটি অনুমানের মাধ্যমে নয়, সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে জানার চেষ্টা করুন। অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ কাজে লাগতে পারে, তবে নিজের বিচারবোধকে উপেক্ষা করবেন না। সাময়িক বাধা আপনার সক্ষমতার চূড়ান্ত পরিচয় নয়। এ সপ্তাহে প্রকৃত অগ্রগতি হবে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো চিনে নিয়ে সেগুলোর মোকাবিলায় বাস্তব পদক্ষেপ নিতে পারলে।</p><h3>ধনু রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/nkj6osch/9Dhonu-Rashi.jpg"><figcaption>ধনু রাশি </figcaption></figure><p>দূরের পথ সব সময় সহজ হয় না, কিন্তু সেই পথেই অনেক সময় নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানা যায়। উচ্চশিক্ষা, পেশাগত উন্নতি কিংবা ভবিষ্যতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। কোনো সুযোগের বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে হতাশ না হয়ে নিজের প্রস্তুতির ঘাটতিগুলো খুঁজে দেখুন। দূরের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য বুঝে চলুন।</p><p>কর্মক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব আপনাকে অভিজ্ঞতা বাড়ানোর সুযোগ দিতে পারে, যদিও তার সঙ্গে চাপও থাকবে। অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে আবেগের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিন। পরিবারের কারও পরামর্শ আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। নিজের বিশ্বাস ধরে রাখুন, কিন্তু পরিস্থিতির নতুন তথ্যকেও গ্রহণ করুন। এ সপ্তাহের বার্তা, ভাগ্যের অপেক্ষায় বসে থাকার চেয়ে নিজের প্রস্তুতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া জরুরি, যেখানে সুযোগ এলে আপনি সেটিকে কাজে লাগাতে পারেন।</p><h3>মকর রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/duvl9coe/10Mokor-Rashi.jpg"><figcaption>মকর রাশি</figcaption></figure><p>দীর্ঘদিন ধরে যে ভিত্তি তৈরি করেছেন, তার শক্তি বোঝা যায় তখনই, যখন পরিস্থিতি সহজ থাকে না। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব বাড়তে পারে এবং নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করার প্রয়োজন অনুভব করবেন। কোনো সিদ্ধান্তের ফল পেতে দেরি হলে অস্থির না হয়ে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন। অর্থনৈতিক বিষয়ে ঋণ, যৌথ সম্পদ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি দায়ের হিসাব নতুন করে পর্যালোচনা করা ভালো। কোনো চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগে শর্তাবলি বুঝে নিন।</p><p>ব্যক্তিগত জীবনে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কাছের মানুষের অনুভূতির প্রতিও মনোযোগ দিন। সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতা কমাতে হবে, কখনো অন্যকে দায়িত্ব দেওয়া এবং সহযোগিতা গ্রহণ করাও প্রয়োজন। পুরোনো কোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটলে এবার ভিন্ন পদ্ধতিতে সমাধানের চেষ্টা করুন। আপনার শক্তি শুধু কঠোর পরিশ্রমে নয়, দীর্ঘ সময় ধরে স্থির থাকতে পারার ক্ষমতাতেও। এ সপ্তাহে ধীর অগ্রগতিকে অবমূল্যায়ন করবেন না। যে সাফল্যের ভিত মজবুত, তার নির্মাণ প্রায়ই নীরবেই সম্পন্ন হয়।</p><h3>কুম্ভ রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/gixkdjtf/11Kumbho-Rashi.jpg"><figcaption>কুম্ভ রাশি</figcaption></figure><p>মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা সহজ হতে পারে, কিন্তু সে সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস ও দায়িত্ব বজায় রাখাই আসল পরীক্ষা। দাম্পত্য, ব্যবসায়িক অংশীদারি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো সহযোগিতার ক্ষেত্রে স্পষ্ট আলোচনার প্রয়োজন হবে। কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে সেটিকে জেতা-হারার প্রশ্নে পরিণত করবেন না। বরং উভয় পক্ষের প্রয়োজন বুঝে সমাধান খুঁজুন। অর্থনৈতিক বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের দায় ও অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার থাকুন।</p><p>কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতা উপকারী হতে পারে, তবে দায়িত্বের বিভাজন অস্পষ্ট থাকলে পরে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ব্যক্তিগত সম্পর্কে স্বাধীনতার প্রয়োজন এবং ঘনিষ্ঠতার প্রত্যাশা—দুটিকে একসঙ্গে জায়গা দিতে হবে। কোনো নতুন উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করুন। নিজের মতামত বজায় রাখুন, কিন্তু অন্যের অভিজ্ঞতা থেকেও শিখুন। এ সপ্তাহে আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি হতে পারে—স্বাধীন থাকা এবং অন্যের সঙ্গে যুক্ত থাকা পরস্পরের বিপরীত নয়, সঠিক সীমারেখা থাকলে দুটোই একসঙ্গে সম্ভব।</p><h3>মীন রাশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-06-26/7wmpz9sx/12Meen-Rashi.jpg"><figcaption>মীন রাশি</figcaption></figure><p>ধৈর্যের মূল্য বোঝা যায় তখনই, যখন পরিশ্রমের ফল সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়ে না। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব ও দৈনন্দিন কাজের চাপ বাড়লেও নিয়মিত প্রচেষ্টা আপনাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। কোনো অসমাপ্ত কাজ শেষ করার সুযোগ পেলে সেটিকে গুরুত্ব দিন। সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিলে তর্ক বাড়ানোর বদলে সমাধানের পথ খুঁজুন। আর্থিক বিষয়ে ছোটখাটো ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন, যাতে প্রয়োজনের সময় চাপ তৈরি না হয়।</p><p>ব্যক্তিগত সম্পর্কে দায়িত্বশীল আচরণ ও আন্তরিকতা আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। কোনো পুরোনো সমস্যা সামনে এলে এবার সেটিকে এড়িয়ে না গিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের চেষ্টা করুন। নিজের সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব নেওয়ার প্রবণতা থাকলে সীমা নির্ধারণ করুন। নিয়মিত বিশ্রাম ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনও কাজের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। এ সপ্তাহে আপনার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো তাৎক্ষণিক সাফল্য নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের স্থিরতা বজায় রাখার ক্ষমতা। ধারাবাহিকতা কখনো কখনো দ্রুতগতির চেয়ে অনেক দূর নিয়ে যায়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/horoscope/qq4oos9wah">অপ্রত্যাশিত ব্যয় সামলাতে সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে কোন রাশির জাতকের</a></aside>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
হাবিলদার পোশাকে নজরুলের প্রতিকৃতি: বিদ্রোহের পূর্বমুহূর্তের নান্দনিক দলিল
হাবিলদার পোশাকে নজরুলের প্রতিকৃতি: বিদ্রোহের পূর্বমুহূর্তের নান্দনিক দলিল

<p>হাবিলদার পোশাকে কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতি বাংলা আলোকচিত্র-ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় স্টুডিও পোর্ট্রেট। এর শিল্পমূল্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রতীকী ভাষা—তিনটি স্তরেই এটি একটি ক্ল্যাসিক আলোকচিত্র।</p><p> প্রথমেই চোখে পড়ে দণ্ডায়মান ভঙ্গি। নজরুল দাঁড়িয়ে আছেন—আত্মবিশ্বাসী, সোজা ও স্থির। তাঁর শরীরের ওজন এক পায়ে সামান্য স্থানান্তরিত; বাঁ হাতটি রাখা আছে সৈনিকের হেলমেটের ওপর, ডান হাত কোমরে। এই ভঙ্গি কৃত্রিম স্টুডিও-অঙ্গভঙ্গি হলেও এর মধ্যে আত্মমর্যাদা ও কর্তৃত্বের অনুভূতি প্রবল।</p><p> সামরিক পোশাকের নির্মাণও লক্ষণীয়। পরিচ্ছন্ন ইউনিফর্ম, বুকের ওপর তির্যক বেল্ট, হাঁটু পর্যন্ত পট্টি জড়ানো পা এবং ভারী বুট—সব মিলিয়ে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন তরুণ হাবিলদার। কিন্তু মুখাবয়বে কোনো সামরিক কঠোরতা নেই। বরং সেখানে আছে চিন্তার গভীরতা এবং এক অদ্ভুত কোমলতা—এই দ্বৈততা ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি।</p><p>স্টুডিওর আঁকা ব্যাকড্রপ, পাশে কাপড়ে ঢাকা টেবিল, তার ওপর রাখা হেলমেট এবং অলংকৃত চেয়ার—সবই বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের ভারতীয় স্টুডিও আলোকচিত্রের পরিচিত উপাদান। এগুলো নিছক সাজসজ্জা নয়; বরং সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব নির্মাণের দৃশ্যভাষা।</p><blockquote>সামরিক পোশাকের নির্মাণও লক্ষণীয়। পরিচ্ছন্ন ইউনিফর্ম, বুকের ওপর তির্যক বেল্ট, হাঁটু পর্যন্ত পট্টি জড়ানো পা এবং ভারী বুট—সব মিলিয়ে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন তরুণ হাবিলদার। কিন্তু মুখাবয়বে কোনো সামরিক কঠোরতা নেই। বরং সেখানে আছে চিন্তার গভীরতা এবং এক অদ্ভুত কোমলতা। এই দ্বৈততা ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি।</blockquote><p>আলোকসজ্জা সরাসরি নয়, নরম। ফলে মুখে তীব্র ছায়া পড়েনি। চোখের দৃষ্টি সামান্য ক্যামেরার বাইরে নিবদ্ধ। দর্শকের দিকে সরাসরি তাকিয়ে না থেকেও তিনি যেন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন। এই দৃষ্টিই ছবিটিকে সময়ের গণ্ডি অতিক্রম করায়।</p><p>ছবিটির বর্তমান রঙিন সংস্করণটি পরবর্তীকালের রঙায়ন। ফলে এটি মূল আলোকচিত্র নয়, বরং একটি পুনর্নির্মিত দৃশ্য। তবু রঙের ব্যবহার, বিশেষত নীল পটভূমি, খয়েরি বুট, ক্রিম রঙের ইউনিফর্ম ও লাল বেল্ট প্রতিকৃতির নাটকীয়তা বাড়িয়েছে। তবে গবেষণার জন্য অবশ্যই মূল সাদা-কালো প্রিন্টকেই প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/vmmw83x1/1.jpeg"><figcaption>হাবিলদারের পোশাকে কাজী নজরুল ইসলাম, ১৯২০, কলকাতা, (আলোকচিত্রীর নাম অজানা)</figcaption></figure><p>এই প্রতিকৃতির সবচেয়ে গভীর তাত্পর্য নিহিত রয়েছে এর কালগত অবস্থানে। এখানে আমরা যে মানুষটিকে দেখি, তিনি তখনো ‘বিদ্রোহী’ কবি নন; অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়নি; ‘বিদ্রোহী’ কবিতা লেখা হয়নি। কিন্তু তাঁর মুখাবয়বের অন্তর্লীন তেজ, দৃষ্টির আত্মবিশ্বাস ও দেহভঙ্গির দৃঢ়তা যেন ভবিষ্যতের কবিকে আগাম ঘোষণা করছে।</p><p>এই একটি ছবিতে তিনটি পরিচয় একত্র হয়েছে—সৈনিক, কবি ও বিদ্রোহী। তাই এটি কেবল একটি প্রতিকৃতি নয়; এটি একজন মানুষের আত্মপরিচয়ের সন্ধিক্ষণের দৃশ্যমান দলিল।</p><blockquote>বাংলা আলোকচিত্রের ইতিহাসে এই ছবির যথার্থ মূল্যায়ন এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। আলোকগ্রাহকের পরিচয়, স্টুডিওর অবস্থান, নেগেটিভের উত্স, প্রথম প্রকাশ, বিভিন্ন সংস্করণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং পরবর্তী রঙায়নের ইতিহাস নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা জরুরি। সেই গবেষণা সম্পন্ন হলে এই আলোকচিত্র কেবল নজরুল-গবেষণার নয়, ঔপনিবেশিক ভারতীয় স্টুডিও আলোকচিত্রের ইতিহাসেও একটি কেন্দ্রীয় স্থান অধিকার করবে।</blockquote><p>বাংলা আলোকচিত্রের ইতিহাসে এই ছবির যথার্থ মূল্যায়ন এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। আলোকগ্রাহকের পরিচয়, স্টুডিওর অবস্থান, নেগেটিভের উত্স, প্রথম প্রকাশ, বিভিন্ন সংস্করণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং পরবর্তী রঙায়নের ইতিহাস নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা জরুরি। সেই গবেষণা সম্পন্ন হলে এই আলোকচিত্র কেবল নজরুল-গবেষণার নয়, ঔপনিবেশিক ভারতীয় স্টুডিও আলোকচিত্রের ইতিহাসেও একটি কেন্দ্রীয় স্থান অধিকার করবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/7p0e7y6k/2.-Nazrul-Stamps.jpg"><figcaption>হাবিলদারের পোশাকে কাজী নজরুল ইসলামের আলোকচিত্র অবলম্বনে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ থেকে প্রকাশিত ডাকটিকিট, ২০২৬</figcaption></figure><p>আজও যখন আমরা এই প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়াই, মনে হয়—ক্যামেরার সামনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই তরুণ সৈনিক শুধু একটি ছবি তোলেননি; তিনি ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। তাঁর শরীর স্থির, কিন্তু তাঁর উপস্থিতি আজও গতিশীল। তাই সত্যিই বলা যায়—প্রয়াত হয়েও তিনি সরব।</p>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ফুলটি তেমন নজরকাড়া নয়, তবু ঘ্রাণ ছড়িয়ে থমকে দেয় পথিককে
ফুলটি তেমন নজরকাড়া নয়, তবু ঘ্রাণ ছড়িয়ে থমকে দেয় পথিককে

সড়কের দুই পাশে পাশাপাশি দুটি ছাতিমগাছ। ছাতার মতো থরে থরে সাজানো শাখা-প্রশাখায় অসংখ্য ফুল। গাছটির নিচে টিনের চালে জমে আছে ঝরা ফুল।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
নিষেধাজ্ঞা শেষে ফিশারিঘাটে ফিরেছে ইলিশ
নিষেধাজ্ঞা শেষে ফিশারিঘাটে ফিরেছে ইলিশ

<p>দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরতে নেমেছেন জেলেরা। প্রথম দিনেই চট্টগ্রাম নগরের ফিশারিঘাটে এসেছে ইলিশ। সাগর থেকে ধরা মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। এরপর শুরু হয় মাছ বাছাই, বরফ দেওয়া, প্যাকেটজাত ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের প্রস্তুতি। ব্যস্ত সময় পার করছেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের আগমনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে ফিশারিঘাটে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/4uq6jbg1/1.JPG"><figcaption>দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগর থেকে ধরা ইলিশ এসেছে চট্টগ্রাম নগরের ফিশারিঘাটে। টুকরিতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে মাছ। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/b5pm1uw1/2.JPG"><figcaption>দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের জন্য ককশিটের বাক্সে ইলিশ ভরছেন শ্রমিকেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/hb8r5tvj/3.JPG"><figcaption>মাছ সতেজ রাখতে ইলিশের ওপর দেওয়া হচ্ছে বরফ। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/d1uxt45o/4.JPG"><figcaption>ককশিটের বাক্সে মাছ ভরার পর লাল পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/2b71o6ec/5.JPG"><figcaption>ককশিটের বাক্সে মাছের নাম ও ওজন লিখে রাখছেন শ্রমিকেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/molvxsu7/6.JPG"><figcaption>বাজারজাতের জন্য টুকরিতে বরফ দিয়ে ইলিশ সাজিয়ে রাখছেন শ্রমিকেরা।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/pws92ypl/7.JPG"><figcaption> সরবরাহের জন্য গাড়িতে তোলা মাছ রশি দিয়ে বাঁধছেন শ্রমিকেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/a9z8byrg/8.JPG"><figcaption>ককশিটে ভর্তি ইলিশ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের উদ্দেশে ফিশারিঘাট ছাড়ছে গাড়ি। </figcaption></figure>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
‘আব কি বার, ট্রাম্প সরকার’ থেকে অবিশ্বাস—মোদির ভারত কেন ট্রাম্পের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে
‘আব কি বার, ট্রাম্প সরকার’ থেকে অবিশ্বাস—মোদির ভারত কেন ট্রাম্পের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে

অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দল আসন হারিয়ে তাঁর ক্ষমতা ও প্রভাব কিছুটা কমে এলে মোদি সরকার বরং স্বস্তি পেতে পারে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
আওয়ামী লীগের সঙ্গে 'আঁতাত' নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি সন্দেহ, নেপথ্যে কী?
আওয়ামী লীগের সঙ্গে 'আঁতাত' নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি সন্দেহ, নেপথ্যে কী?

শুধু গোয়েন্দা তথ্য কিংবা সরকার পতনের চেষ্টা নয়, তৃতীয় আরেকটি কারণেও জামায়াত-আওয়ামীলীগ আঁতাতের ষড়যন্ত্র দেখছে বিএনপি। সেটা হচ্ছে, জুলাই সনদ এবং সংবিধান নিয়ে ‘অচলাবস্থা তৈরির চেষ্টা’।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের রেকর্ড ভাঙতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের রেকর্ড ভাঙতে পারে

সামগ্রিক ভোটদানের হার ২০২০ সালকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে, এমনকি সম্ভবত ২০১৮ সালকেও ছাড়িয়ে যাবে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১৯১৪ সালের সামগ্রিক ভোটদানের হারের রেকর্ড ভেঙেছিল।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী?

তেসরা নভেম্বর মার্কিন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন, যে নির্বাচন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু রহস্য: যেসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু রহস্য: যেসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর তদন্তে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। এই ঘটনায় একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তুরাগ নদের ওই এলাকায় তারা কেন গিয়েছিল সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
সাজেকে অবরোধ, অস্থিরতার নেপথ্যে কী?
সাজেকে অবরোধ, অস্থিরতার নেপথ্যে কী?

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অন্যতম একটি পর্যটন স্পট সাজেকে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সরেজমিনে খাগড়াছড়ি ঘুরে পাহাড়ের আন্দোলনকারী, ব্যবসায়ী জনপ্রতিনিধি এবং পাহাড়ি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
কিংবদন্তি অভিনেতা স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের মৃত্যু
কিংবদন্তি অভিনেতা স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের মৃত্যু

প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে "প্রজন্মের সবচেয়ে সম্মানিত ও প্রিয় অভিনেতা" বলে অভিহিত করেছেন স্যার ইয়ান ম্যাকেলান।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
নেতানিয়াহু ইসরায়েলি নির্বাচনকে 'অবৈধ' প্রমাণের চেষ্টা করছেন- অভিযোগ বিরোধীদের
নেতানিয়াহু ইসরায়েলি নির্বাচনকে 'অবৈধ' প্রমাণের চেষ্টা করছেন- অভিযোগ বিরোধীদের

ইসরায়েলের আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। কাতার ও তুরস্ক থেকে অবৈধ তহবিল দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। যদিও এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলের আরব দলগুলো।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
'যৌন হয়রানি, ধর্মান্তরের চাপ', আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টানরা
'যৌন হয়রানি, ধর্মান্তরের চাপ', আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টানরা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান ধর্মের মানুষের উপর একের পর এক হামলার অভিযোগ উঠছে। এদিকে, দেশটির বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একজন নেতা বলেছেন,"আমাদের লক্ষ্য, যতজন খ্রিস্টান আছেন, তাদের হিন্দু বানিয়ে দেব।"

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
এশিয়ার দীর্ঘতম ইয়াংজি নদীতে নিষিদ্ধ মাছ ধরা
এশিয়ার দীর্ঘতম ইয়াংজি নদীতে নিষিদ্ধ মাছ ধরা

এশিয়ার দীর্ঘতম এবং বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী ইয়াংজিতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে চীন সরকার। নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাছের বিলুপ্তি ঠেকাতে ২০২১ সালে ১০ বছরের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। এর সুফলও মিলতে শুরু করেছে। নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে মাছের মোট পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বড় আকারের মাছের সংখ্যা বেড়েছে ২৩২ শতাংশের বেশি।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
সুন্দরবনে ৯ প্রজাতির মাছ বাড়ছে, কমছে ৬ প্রজাতির
সুন্দরবনে ৯ প্রজাতির মাছ বাড়ছে, কমছে ৬ প্রজাতির

সুন্দরবনে ৯ প্রজাতির মাছের মজুদ বাড়লেও অন্তত ৬ প্রজাতির মাছ কমতির দিকে রয়েছে। অবৈধভাবে মাছ আহরণ, পোনা ধরা এবং পরিবেশগত নানা প্রতিকূলতাকে মাছের মজুদ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
হুজুরের ‘পানিপড়া’ নিতে আত্রাইমুখী জনস্রোত, ফুলবাড়ী স্টেশনে বিশৃঙ্খলা
হুজুরের ‘পানিপড়া’ নিতে আত্রাইমুখী জনস্রোত, ফুলবাড়ী স্টেশনে বিশৃঙ্খলা

নওগাঁর আত্রাইয়ের এক হুজুরের কাছ থেকে ‘পানিপড়া’ নিতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনে শত শত নারী-পুরুষের ভিড় দেখা গেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টায় বিরোধীরা
নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টায় বিরোধীরা

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। চূড়ান্ত ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮ আসন। আরব দলগুলোর হাতে রয়েছে ১৯ আসন। ফলে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের জন্য উভয় পক্ষকেই জোট বা সমর্থনের পথ খুঁজতে হচ্ছে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে বহিরাগত, ক্ষুব্ধ জেনিফার লরেন্স
নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে বহিরাগত, ক্ষুব্ধ জেনিফার লরেন্স

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। তবে একবার নগ্ন দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে সেটে অনুমতি ছাড়াই কিছু বহিরাগত কর্মীর উপস্থিতি নিয়ে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ভিড় এড়াতে মধ্যরাতে দৌড়ে পালালেন অরিজিৎ সিং
ভিড় এড়াতে মধ্যরাতে দৌড়ে পালালেন অরিজিৎ সিং

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং নিজের সাদামাটা জীবনযাপন এবং প্রচারবিমুখ স্বভাবের জন্য পরিচিত। তবে ভক্তদের তুমুল আগ্রহের কারণে বারবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন তিনি। এবার মধ্যরাতে ধাবা থেকে বের হওয়ার সময় ভক্তদের হাত থেকে সেলফি ও ছবি তোলার ভিড় এড়াতে রীতিমতো দৌড়ে পালিয়েছেন।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিলেন পোপ চতুর্দশ লিও, গড়লেন ইতিহাস
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিলেন পোপ চতুর্দশ লিও, গড়লেন ইতিহাস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন পোপ চতুর্দশ লিও। এর মধ্য দিয়ে প্রথম কোনো পোপ হিসেবে মার্কিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার নজির গড়েছেন তিনি। সম্ভবত কোনো ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক নির্বাচনেও এই প্রথম ভোট দিলেন একজন পোপ।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ: সেমিফাইনাল থেকে বাংলাদেশের বিদায়
কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ: সেমিফাইনাল থেকে বাংলাদেশের বিদায়

কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভারতের আহমেদাবাদের ভীর সাভারকার স্পোর্টস কমপ্লেক্সে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৫৬-২৭ পয়েন্টে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬