অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে হলে এটিকে কোনো বিচ্ছিন্ন সামাজিক অপরাধ হিসেবে না দেখে একটি পদ্ধতিগত ও প্রযুক্তিগত সংকট হিসেবে মোকাবিলা করতে হবে।
বলিভিয়ার ইস্টার্ন বলিভিয়ান অনকোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের সামনে আট বছর ধরে অবস্থান করছে একটি মোরগ
সেই একাডেমির প্রাঙ্গণেই পাঠাগারটি স্থাপন করায় এখানকার শিক্ষার্থীরা সরাসরি বই পড়ার সুযোগ পাবে এবং বিশেষভাবে উপকৃত হবে। এ ছাড়া শিশুদের মনন বিকাশের কথা চিন্তা করে পাঠাগারটিতে ছোটদের পড়ার উপযোগী আকর্ষণীয় গল্পের ও ছড়ার বইও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যেহেতু ঘুষের কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, তাই ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় এর শাস্তি কঠোর হতে পারে।
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/ffnaj9r1/Untitled-1-08.jpg"></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/dnglbyspbh">ডাক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l2v7tpucaz">চাঁদ দখল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/g9j6k83pp1">ডাব সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kjqv1isuow">বন্ধু ফার্মেসি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d4fl17cod8">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/u86yf3kq5z">অজুহাতের কামব্যাক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6dfwgsqw20">Lieসেন্স</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6ivlyjbko1">চাঁদা নিয়ে বিখ্যাত কবি–সাহিত্যিকেরা যা লিখতেন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l7r2uxvti0">রস+আলো নোবেল ২০২৬</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/dkgc2prfwa">কোথায় কোথায় কালি মাখানো যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/72zdocu7yj">এলাকার ট্যালেন্টেড বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/z87t7zqecu">স্মার্টফোনের অবসর চেয়ে আবেদন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bwluvlmmu8">বিবাহিত পুরুষ চেনার সহজ উপায়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/trarpa7245">দুটি কলেজের সংঘর্ষ বন্ধ করার বিভিন্ন পদ্ধতি</a></aside>
সময়ের সঙ্গে সরে গেছে নদী, তৈরি হয়েছে খাল, জেগে উঠেছে নতুন ভূমি। সেই ভূখণ্ডকে ঘিরেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে বসতি, হাটবাজার ও বাণিজ্য কেন্দ্র।
<p>বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় অংশীদার চীন। দেশের বৃহৎ অনেক অবকাঠামো প্রকল্পও নির্মাণ করছে সে দেশের কোম্পানিগুলো। ফলে দেশে চীনের নাগরিকদের উপস্থিতি বেড়েছে। এ জন্য তাঁদের বিশেষায়িত সেবা দিতে চায় ব্যাংকগুলো। ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশি ১৪টি ব্যাংক পৃথক ‘চায়না ডেস্ক’ চালু করেছে। কোনো কোনো ব্যাংক চীনে প্রতিনিধি অফিসও খুলেছে।</p><p> চায়না ডেস্কে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো চীনের মান্দারিন ভাষা জানা ব্যক্তিদের পাশাপাশি চীনের নাগরিকদের প্রাধান্য দিচ্ছে। চায়না ডেস্কে লেনদেন হয় চীনা মুদ্রায়। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের হিসাব খোলা, প্রকল্প অর্থায়ন, গ্যারান্টি সুবিধা, মাশুল জমাসহ নানা ধরনের ব্যাংকিং সেবা দিয়ে চীনা বিনিয়োগে গতি আনতে ভূমিকা রাখছে ব্যাংকগুলো।</p><p> জানা গেছে, সর্বশেষ চায়না ডেস্ক চালু করেছে ওয়ান ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক। এর আগে ১২টি ব্যাংক এ সেবা চালু করে। সেগুলো হলো স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, এইচএসবিসি বাংলাদেশ, ব্যাংক অব সিলন, হাবিব ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এমটিবি, ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল), ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), প্রাইম ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক।</p><p> সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, চায়না ডেস্ক চালু করার ফলে চীনা বিনিয়োগকারী, বাংলাদেশি আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারদের মধ্যে আর্থিক সংযোগ বাড়ছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য অর্থায়ন, নগদ ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, প্রকল্প অর্থায়নসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে।</p><p><strong>চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য</strong></p><p>বর্তমানে বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার চীন। দেশের বিভিন্ন বড় অবকাঠামোর নির্মাণসামগ্রী; সৌর ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রযুক্তি খাত এবং তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয় চীন থেকে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ও ভোগ্যপণ্যের বেশির ভাগ আসে সে দেশ থেকে। দ্বিপক্ষীয় এ বাণিজ্যকে আরও সহজ করতে দেশের ব্যাংকগুলো চীনের ব্যাংক অব চায়না, আইসিবিসি, সিসিবি, এবিসির মতো শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সরাসরি লেনদেন ও নস্ট্রো হিসাব পরিচালনা করছে।</p><p>চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।</p><blockquote>* চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দুই দেশের মধ্যে ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়।* দেশে চীনের পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।* নিয়োগের ক্ষেত্রে চীনের মান্দারিন ভাষা জানা ব্যক্তিরা প্রাধান্য পাচ্ছেন।</blockquote><p>বাংলাদেশ চীন থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, তার ১০ শতাংশও দেশটিতে রপ্তানি করতে পারে না। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিশাল ঘাটতির মুখে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশটি থেকে বিনিয়োগ এলেও তা খুব বেশি নয়। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে তোলা হয়েছে চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ বছরের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৫ সালে দেশে চীনের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।</p><p>দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে চীনের ৫টি প্রতিষ্ঠান দেশে ১০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।</p><p>জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আগে শুধু আমদানি হতো। এখন দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ জন্য তাদের ব্যাংকিং সেবার চাহিদা বেড়েছে। তাই দেশের ব্যাংকগুলো চায়না ডেস্ক খুলছে।</p><p><strong>পৃথক সেবা ব্যাংকগুলোর</strong></p><p>চীনা ব্যবসায়ীদের সেবা দিতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ২০১৬ সালে ‘চায়না ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডেস্ক’ চালু করে, যা ২০২১ সালে আরও জোরদার করা হয়। ব্যাংকটি চীনা নাগরিকদের নিয়োগও দেয়। পাশাপশি চীনের সঙ্গে সিন্ডিকেট অর্থায়নও শুরু করে।</p><p>প্রিমিয়ার ব্যাংক ২০১২ সালে এবং এমটিবি ২০১৮ সাল থেকে বৈদেশিক বাণিজ্য বা এফডিআই হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে চীনা ব্যবসায়ীদের সেবা দিয়ে আসছে। ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল) ২০১৯ সালে চীনের গুয়াংজুতে নিজস্ব প্রতিনিধি অফিস ও ২০২৩ সালে চীনাদের জন্য ঢাকায় পৃথক বিজনেস ডেস্ক চালু করে। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ২০১৯ সালে চীনা নাগরিকদের জন্য বিশেষ সেবা কাউন্টার চালু করে। প্রাইম ব্যাংকও সে বছর চায়না ডেস্ক চালু করে। একই সময়ে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি বাংলাদেশ–চায়না ডেস্ক খোলে। এ ছাড়া বহুজাতিক হাবিব ব্যাংক ২০২০ সালে, স্থানীয় দ্য সিটি ব্যাংক ২০২২ সালে সেবাটি শুরু করে, যা সম্প্রতি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার ব্যাংক অব সিলন ২০২৩ সালে চায়না ও ইউয়ান মুদ্রাকেন্দ্রিক বিশেষ সেবার ব্যবস্থা করে।</p><aside><cite>সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, এমডি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক</cite>চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আগে শুধু আমদানি হতো। এখন দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ জন্য তাদের ব্যাংকিং সেবার চাহিদা বেড়েছে। তাই দেশের ব্যাংকগুলো চায়না ডেস্ক খুলছে।</aside><p>ব্র্যাক ব্যাংক ২০২৪ সালে করপোরেট ব্যাংকিংয়ের আওতায় মান্দারিন জানা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চায়না ডেডিকেটেড ডেস্ক চালু করে। মিডল্যান্ড ব্যাংক ২০২৫ সালে চায়না ডেস্ক খোলে। এ ছাড়া চলতি বছর ওয়ান ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক চায়না ডেস্ক চালু করে। ইতিমধ্যে ওয়ান ব্যাংক প্রায় দুই কোটি ডলারের লেনদেন করেছে।</p><p>এ বিষয়ে ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের গ্লোবাল করিডর কৌশলের অংশ হিসেবে চলতি বছর আমরা চায়না ডেস্ক চালু করেছি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সংযোগ আরও জোরদার করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমন্বিত ও সহজতর ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা।’</p><p>মুহিত রহমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর শিল্প, উৎপাদনসক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী খাতের বিকাশে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যে আমরা কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করেছি। এখন আরও কিছু চীনা বিনিয়োগকারী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে কাজ করছি।’</p><p><strong>দেশে চীনের যত কোম্পানি</strong></p><p>বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, অবকাঠামো নির্মাণ ও বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে বড় পরিসরে কাজ করছে বেশ কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের ব্যাংকগুলোয় হিসাব পরিচালনা করছে। তারা ব্যাংকগুলোয় আমানত রাখছে, বিনিয়োগ আনছে এবং ব্যাংক গ্যারান্টি-সুবিধা নিচ্ছে।</p><p>বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বিভিন্ন প্রকল্পে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রকৌশলগত কাজ পরিচালনা করছে বেশ কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং, জিয়াংসু ইটার্ন, ফুজিয়ান ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি, চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন, চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন, চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ, চায়না ওয়ানবাও ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন, ইউএস-ডিকে গ্রিন এনার্জি বিডি, নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল, সানসিংস স্মার্ট ইলেকট্রিক বাংলাদেশ কোম্পানি ও হেক্সিং ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি।</p><p>বৃহৎ অবকাঠামো, সড়ক, সেতু, রেলওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নির্মাণ প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে চীনা কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে অন্যতম হলো চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি, চায়না কনস্ট্রাকশন সেভেনথ ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি, সিআরসিসি হারবার, পাওয়ার চায়না হুপেই কনস্ট্রাকশন, চায়না রেলওয়ে ব্রিজ গ্রুপ, জিয়াংসু প্রভিন্সিয়াল ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ, চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ, চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন, চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রেলওয়ে ১৬তম ব্যুরো গ্রুপ করপোরেশন, চায়না শানডং ইন্টারন্যাশনাল, সিনোহাইড্রো, বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ, চায়না শানডং হাই-স্পিড কিয়ানফাং ইন্টারন্যাশনাল টেকনোলজি, পাওয়ার চায়না হারবার কোম্পানি, হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ, টিবিইএ কোম্পানি, চায়না হেবেই কনস্ট্রাকশন।</p><p>ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে কাজ করছে চীনের বেশ কিছু কোম্পানি। তারা বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক ও বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে অন্যতম হলো সানি ট্রেন্ড (এইচকে) কোম্পানি, জিউনুও (বাংলাদেশ) ম্যাটেরিয়ালস কোম্পানি, হেংচেন জিয়াসেং ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি ও অ্যাডেলিন বিউটি টেকনোলজি (বাংলাদেশ) কোম্পানি।</p>
আরও তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ। ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা, ভর্তুকি, নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন সুযোগ বহাল থাকবে।
পিবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, রাজবাড়ী ঘাট এলাকাটি মাদকের স্পট হিসেবে পরিচিত। মাদক কারবারিদের ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ সাউরি নদে পড়ে ডুবে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।