ব্যাংক এশিয়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান খুলবে হংকংয়ে
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির সাজার ঘোষণায় কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে।
শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান খুলবে হংকংয়ে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় একটি সাবমারসিবল পাম্পের পানির সঙ্গে গ্যাস বের হচ্ছে। লাইটার বা ম্যাচ দিয়ে অগ্নিসংযোগ করলে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। এই সাবমারসিবল পাম্প নিয়ে এলাকার মানুষদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহলের...
ভারতে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বা ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রেপ্তারের নামে সাইবার জালিয়াতির ঘটনা বেড়ে চলায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদেরকে তাদের মোবাইল ফোন দেয়ালে ছুঁড়...
অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে হকার বসানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, অবৈধ ফুটপাত দখলের পক্ষে যত...
শিক্ষার মান ও তরুণদের বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবে দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। আর এই বেকারত্বের সুযোগ ও হতাশা কাজে লাগিয়ে...
গত ৫টি সিজন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর প্রতিবারের মতো এবারও শুরু হতে যাচ্ছে Club Graduate's এর জমকালো ক্রিকেট টুর্নামেন্ট "CLUB GRADUATE'S CHAMPION TROPHY'' SEASON-6 এই টুর্নামেন্ট এর চ্যাম্পিয়ন দল...
দেশের ৮ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
<p>আলোচক: </p><p>হাসান ফেরদৌস</p><p>সাংবাদিক ও বিশ্লেষক</p> <p>সঞ্চালক: </p><p>শামসউজজোহা</p><figure></figure>
<p>উপসহকারী পরিচালকের পদ থেকে চাকরিচ্যুত মো. শরীফ উদ্দিনকে জ্যেষ্ঠতাসহ পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে সংস্থাটি। এই আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে সাড়ে চার বছরের বেশি সময় আগে চাকুরিচ্যুত শরীফ উদ্দিনের জ্যেষ্ঠতাসহ দুদকের চাকরিতে পুনর্বহালে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।</p><p>২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদক পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। ২০২১ সালের ১৬ জুন পটুয়াখালীতে বদলির আগে শরীফ দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সে সময় সরকারি প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের ঘটনা তদন্ত করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করেছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালনের কারণে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন জানিয়ে থানায় জিডিও করেছিলেন দুদকের তৎকালীন এই কর্মকর্তা। শরীফের চাকরিচ্যুতি ঘিরে তখন বেশ আলোচনা সৃষ্টি হয়। চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনেও দুদকের কর্মীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধনের মতো ঘটনা ঘটে।</p><p><strong>চাকরি ফিরে পেতে রিট</strong></p><p>শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতি–সংক্রান্ত দুদকের আদেশে বলা হয়, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৫৪ (২)-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মো. শরীফ উদ্দিন (উপসহকারী পরিচালক) দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যক্রম, পটুয়াখালীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো। তিনি বিধি মোতাবেক ৯০ দিনের বেতন এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’</p><p>তবে কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই কোনো কর্মীকে চাকরি থেকে অপসারণ-সংক্রান্ত দুদক কর্মচারী বিধিমালার ৫৪(২) বিধির বৈধতা নিয়ে ও চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে শরীফ ২০২২ সালের ১৩ মার্চ রিট করেন। রিটের শুনানিতে এর আগে ৫৪(২) বিধির ক্ষমতাবলে দুদকের আরেকজন কর্মকর্তাকে (মো. আহসান আলী) চাকরিচ্যুতি নিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগে রয়েছে বলে আদালতে তুলে ধরা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২৫ মে হাইকোর্ট এক আদেশে ওই আপিলের (দুদকের আপিল) নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৫৪ (২) ধারায় চাকরিচ্যুতির বৈধতা নিয়ে শরীফের করা রিটের শুনানি মুলতবি করেন।</p><p>ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে ২০২২ সালের ১৬ জুন আপিল বিভাগে শরীফ লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। মো. আহসান আলীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ৫৪(২) বিধি বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা আপিলের সঙ্গে শরীফের করা লিভ টু আপিল একসঙ্গে শুনানির জন্য ওঠে। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ আপিল বিভাগ দুদকের করা আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন। ওই বিধি বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করা হয়। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে শরীফ উদ্দিনের করা লিভ টু আপিল প্রয়োজনের বাড়তি বলে উল্লেখ করা হয়।</p><p>আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালার ৫৪(২) বিধিটি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এই পর্যবেক্ষণসহ বিধিটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুদককে ১২ দফা পর্যবেক্ষণ বা গাইডলাইন অনুসরণ করতে বলা হয়।</p><p><strong>জ্যেষ্ঠতাসহ পুনর্বহালের নির্দেশ</strong></p><p>আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর শরীফের করা রিট হাইকোর্টে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৯ জুলাই হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতির ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির আদেশটি আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও শুরু থেকে বাতিল ঘোষণা করা হয়। হাইকোর্ট জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুবিধাসহ শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে নির্দেশ দেন। রায়ের অনুলিপি গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। হাইকোর্টের রায়ের ফলে শরীফ উদ্দিনের চাকরিতে পুনর্বহালের পথ খোলে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/lwc6edr0i6">দুদকের সাবেক কর্মকর্তা শরীফ এখন দোকানের কর্মী</a></aside><p><strong>দুদকের লিভ টু আপিল প্রত্যাহার</strong></p><p>হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছর লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি) চেয়ে আবেদন করে দুদক। দেওয়ানি এই লিভ টু আপিল প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে সংস্থাটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আদেশ দেন। এ-সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী (অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড) দেওয়ানি লিভ টু আপিলটি না চালানোর জন্য নির্দেশনা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে না চালানোর (নট টু প্রসিড) কারণে লিভ টু আপিলটি খারিজ করা হলো।</p><p>হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদক যে লিভ টু আপিল করেছিল, তা প্রত্যাহার চেয়ে সংস্থাটি আবেদন করে বলে জানান শরীফ উদ্দিনের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দীন দোলন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন। অর্থাৎ লিভ টু আপিল প্রত্যাহার হয়ে গেল। জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুবিধাসহ শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছিলেন, তা বহাল রইল। শরীফের চাকরিতে ফেরার পথ খুলেছে। জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুবিধাসহ শরীফের চাকরিতে পুনর্বহালে আর কোনো বাধা নেই।</p>
<p>২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর শ্যামলীর বাসভবনে <strong>শামসুর রাহমানের</strong> এ সাক্ষাত্কার নিয়েছিলেন <strong>নাসির আলী মামুন</strong>। সাক্ষাৎকারটি প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৭ সালের ১৭ আগস্ট কবির মৃত্যুদিনে। এত দিন ছাপা কাগজে থাকা সাক্ষাৎকারটি আজ অন্য আলো অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।</p><p><strong>নাসির আলী</strong> <strong>মামুন:</strong> রাহমান ভাই, সম্প্রতি লেখা একটা কবিতা পড়েন।</p><p><strong>শামসুর</strong> <strong>রাহমান:</strong> ‘বন্ধু, খানিক দাঁড়াও এই/ ঝোপের ধারে। পরে নাহয় পা চালিয়ে/ যাওয়া যাবে অন্য পথে,/ যেখান থেকে আখেরে ঠিক পৌঁছে যাব/ অভীষ্ট সেই সাগরতুল্য সভাস্থলে।</p><p>‘এখানে এক মুক্তিযোদ্ধা চিরনিদ্রা/ নিয়েছিলেন আলিঙ্গনে যুদ্ধ করে বিদেশি সব শত্রুসেনা/ এবং নিজের দেশের কিছু ঘৃণ্য লোকের ঘোর বিরুদ্ধে।/ বন্ধু, এমন স্থানে খানিক নত মাথায়/ না দাঁড়ালে ভুলের বোঝা বইতে হবে।</p><p>‘ঝোপের পাশে অবহেলায় শুয়ে থাকা/ মুক্তিযোদ্ধা এখনো কি এই এলাকার কিছু লোকের/ স্মৃতিতে খুব ঝলসিত? নাকি সবাই/ অবহেলার আস্তাকুঁড়ে কবর দিয়ে আছে সুখে?</p><p>‘বন্ধু এবং আমি নানা ভাবনা বয়ে নিয়ে/ যাচ্ছি হেঁটে অভীষ্ট সেই সাগরতুল্য সভাস্থলে।/ যাচ্ছি হেঁটে, সূর্য ডোবার আগেই হেঁটে/ যেতে হবে সবার মাঝে মুক্ত মনে, যেতেই হবে।</p><p>‘দেরি করা চলবে না আর, কোথাও আর থামলে এখন চলবে না ভাই,/ সূর্য ডোবার আগেই আশা জাগিয়ে রেখে/ চলতে হবে, চলো বন্ধু, এগোই চলো ভবিষ্যতের খোলা পথে।’</p><p>[‘সাগরতুল্য সভার দিকে’, ‘গন্তব্য নাইবা থাকুক’ (২০০৪) শামসুর রাহমান]</p><p><strong>মামুন:</strong> কবিতাটিতে আপনার নিজের জীবনের কথা আছে বলে মনে হয়েছে।</p><p><strong>রাহমান:</strong> কী জানি, আমি জানি না, হতে পারে, তোমার যখন মনে হয়েছে।</p><p><strong>মামুন:</strong> ১৯৮৫ সালে আপনি প্রথম বলেছিলেন, একজন সৃজনশীল মানুষ বা কবির কমপক্ষে ৫০০ বছর বাঁচা উচিত। আপনার মাত্র ৭৪ চলছে, তার মানে এখনো আপনি শিশু।</p><p><strong>রাহমান:</strong> হা হা হা...</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-10-25/z8kctpri/ShamsurRahman.jpg"><figcaption>শামসুর রাহমান (২৩ অক্টোবর, ১৯২৯—১৭ আগস্ট, ২০০৬)</figcaption></figure><p><strong>মামুন:</strong> সৃজনশীল মানুষের ৫০০ বছর বাঁচা উচিত—কথাটি আপনি এখনো বলেন। বিশেষত আপনার জন্মদিনের আগে। মানুষ তো ৫০০ বছর বাঁচে না, এ জন্য কি আপনার কোনো ক্ষোভ আছে?</p><p><strong>রাহমান:</strong> আমার মনে হয় প্রত্যেক মানুষই; সাধারণ হোক, অসাধারণ হোক, অস্বাভাবিক মুহূর্তে মানুষ আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার মুহূর্তটাকে তুমি স্বাভাবিক মুহূর্ত বলতে পারো না। এটা আমার ধারণা, অন্য কারও সঙ্গে না–ও মিলতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষ মরতে চায় না। সে বেঁচে থাকতে চায় তার পরিবারের মধ্যে, সমাজের মধ্যে এবং সে যেসব কাজ করে তার মধ্যে। কাজের ক্ষেত্রে যারা তার সহকর্মী তাদের মধ্যে, বন্ধুদের মধ্যে সে বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু একটা অস্বাভাবিক মুহূর্তে তার কাছে মনে হয়, নিজেকে ধ্বংস করে ফেলি। এ জন্য আমি বলেছি, ৫০০ বছর বাঁচতে চাই, চট করে মরে যেতে চাই না। যারা বলে আহা মরে যাই—আমি তাদের দলে নাই। সুন্দর পৃথিবী। মানুষের অভাব-অনটন থাকে, আমার জীবনেও আছে কিছু অভাব। এসব সত্ত্বেও আমি বাঁচতে চাই। আমি বলব না, মরার জন্য আমি খুব ব্যাকুল; বরং বলব, আমি যাদের ভালোবাসি, যারা আমাকে ভালোবাসে তারাও বেঁচে থাক। আমি বেঁচে থাকতে চাই, যত দিন যত বছর বেঁচে থাকা যায়। একদিন সংবাদপত্রে দেখলাম, আমাদের দেশেরই একজন মানুষ শতবর্ষ পেরিয়েও সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে আছে। আমার দুর্ভাগ্য যে আমার স্বাস্থ্য ভালো নেই। চাইছি অনেক বাঁচতে, হয়তো বাঁচব না। জানি না, আবার বেঁচেও যেতে পারি। এটা একটা চান্সের বিষয়। আর আমি শারীরিক নয়, মানসিক কাজ করি। তবে শরীরেরও কিছু প্রয়োজন হয়। যে কাজ করি তা করতে আমি ভালোবাসি। আমি বাধ্য হয়ে করি তা নয় কিন্তু। তবে এক হিসাবে বাধ্যই। আমার মন, ধারণা, চিন্তা আমাকে বাধ্য করে কবিতা বা যেকোনো একটা কিছু লিখতে। সুতরাং যদি আমার মগজ সুস্থ থাকে, চিন্তা করার শক্তি থাকে, তাহলে অনেক অনেক বছর লিখতে চাই।</p><p>সে জন্যই আমার বাঁচার ইচ্ছা। আমার প্রিয়জনদের কাছে পাওয়া, তাদের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা। আমার মা-বাবা চলে গেছেন। তাঁরা চলে যান, আমি চাইনি। তাঁদের জন্য আমি কেঁদেছি, দুজনের মৃত্যুতেই আমার কান্না পেয়েছে।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার ছেলে মতিন...</p><p><strong>রাহমান:</strong> আমার ছেলে মতিন আমাদের গ্রামের বাড়ির পুকুরে ডুবে মারা গেল।</p><p><strong>মামুন:</strong> সেটা কোন বছর?</p><p><strong>রাহমান:</strong> বছরটা আমি ভুলে গেছি।</p><blockquote>আমার মনে হয় প্রত্যেক মানুষই; সাধারণ হোক, অসাধারণ হোক, অস্বাভাবিক মুহূর্তে মানুষ আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার মুহূর্তটাকে তুমি স্বাভাবিক মুহূর্ত বলতে পারো না। এটা আমার ধারণা, অন্য কারও সঙ্গে না–ও মিলতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষ মরতে চায় না। সে বেঁচে থাকতে চায় তার পরিবারের মধ্যে, সমাজের মধ্যে এবং সে যেসব কাজ করে তার মধ্যে। কাজের ক্ষেত্রে যারা তার সহকর্মী তাদের মধ্যে, বন্ধুদের মধ্যে সে বেঁচে থাকতে চায়।</blockquote><p><strong>মামুন:</strong> আপনি তো তখন ঢাকায় ছিলেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> আমি ঢাকায় ছিলাম, আমি যাইনি। ওর মৃত মুখ আমি দেখতে চাইনি। এতে কেউ কেউ আমাকে খুব নিষ্ঠুর মনে করেছে। কিন্তু আমি পারতাম না, সে ওইভাবে শুয়ে আছে, ওটা আমি দেখতে পারতাম না। ওকে আমি গ্রামে পাঠিয়েছিলাম বাধ্য হয়ে। কেননা সে ভীষণ ভায়োলেন্ট হয়ে গিয়েছিল। ওর তো একটা অসুখ হয়েছিল, মানসিক। অল্প বয়সে। সে ভায়োলেন্ট হয়ে আক্রমণ করত। আমাকে খুব কমই করেছে। ভাই-বোন-মাকে, অন্য সবাইকে আক্রমণ করেছে। যারা কাজ করত তাদেরও করেছে। কোনোভাবে যদি আমার মেয়ের চেহারার ক্ষতি হয়, বিয়ের সমস্যা হবে—এটা চিন্তা করে ওকে পাঠিয়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম, অন্তত প্রথম মেয়ের বিয়ে হওয়া পর্যন্ত সে ওখানে থাক।</p><p><strong>মামুন:</strong> ভায়োলেন্ট হওয়ার পেছনে ওর তো কোনো দোষ ছিল না, আপনারা বিরক্ত হতেন কেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> না, বিরক্ত না। একটা বিশেষ কারণে ওকে ওখানে পাঠিয়েছিলাম। সে যে ওখানে মারা যাবে তা তো আমি জানতাম না। ওকে দেখাশোনা করার জন্য আমার চাচাতো ভাইয়ের কাছে মাসে ৭০০ টাকা করে পাঠাতাম। আমার মনে হয়, সে ভালো করে দেখাশোনা করেনি, কষ্ট দিয়েছে ওকে। ওর জন্য কষ্টও পাই। কিন্তু কষ্ট করে তো লাভ নেই। ওর কথা মাঝেমধ্যে মনে পড়ে। সব সময় মনে পড়ে না, এটাও বলি। এটাই কিন্তু বাস্তব।</p><p><strong>মামুন:</strong> মতিনকে নিয়ে তো কবিতাও লিখেছেন।</p><p><strong>রাহমান:</strong> হ্যাঁ, লিখেছি।</p><p><strong>মামুন:</strong> কয়টা?</p><p><strong>রাহমান:</strong> দু-তিনটা হবে।</p><p><strong>মামুন:</strong> লাইন মনে আছে?</p><p><strong>রাহমান:</strong> মনে নেই। স্মৃতি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কিছুই মনে পড়ে না। অনেক বিখ্যাত কবিদের নামও মনে পড়ে না।</p><p><strong>মামুন:</strong> প্রিয় মানুষদের নাম?</p><p><strong>রাহমান:</strong> অনেক প্রিয় মানুষের নামও মনে করতে পারি না। কিছুদিন পর হয়তো মনে পড়ে। এ রকমভাবে চলছে। এটাই বোধ হয় জীবন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-10/4966c44b-de79-404a-92f2-7c56c53e1d86/f438e8dda15f3708e2d7e5927e8803e6_5db0720c2efe1.jpg"><figcaption>কবি শামসুর রাহমান</figcaption></figure><p><strong>মামুন:</strong> মা-বাবা, ছেলে-সন্তানের বিয়োগ-বিচ্ছেদ তো মানুষের জীবনে ঘটে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> বিচ্ছেদের কারণে মানসিক সমস্যা হয়, তবে এখনো আমি সে স্টেজে আসিনি যে হাত কাঁপছে। মাথা ঘুরে যাচ্ছে। মাথা ঘোরে কখনো কখনো। সেটা আমার বোধ হয় শরীর ভালো না সে জন্য।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার ৭৪ বছরের জীবনকে আনন্দ-বেদনায় কীভাবে ভাগ করবেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> আমার মনে হয়, সুখের ভাগটা বেশি। এটা আমি অস্বীকার করব না। ভাগ্যের কাছে আমি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব না। কিন্তু কিছু দুঃখ-কষ্ট, সেগুলো এত তীব্র যে আনন্দ তখন ম্লান হয়ে যায়। এই যে দুঃখ-কষ্ট, প্রিয়জনদের মৃত্যু, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-বন্ধুদের মৃত্যু—এগুলো আমাকে খুবই আলোড়িত করে। আবার ভুলেও তো যাই। নিজের কাজেও তো আবার মন দিই। একেবারে উন্মাদ তো আমি হয়ে যাই না। এটাই বোধ হয় জীবনের রীতি।</p><blockquote>আমার মনে হয়, সুখের ভাগটা বেশি। এটা আমি অস্বীকার করব না। ভাগ্যের কাছে আমি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব না। কিন্তু কিছু দুঃখ-কষ্ট, সেগুলো এত তীব্র যে আনন্দ তখন ম্লান হয়ে যায়। এই যে দুঃখ-কষ্ট, প্রিয়জনদের মৃত্যু, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-বন্ধুদের মৃত্যু—এগুলো আমাকে খুবই আলোড়িত করে। আবার ভুলেও তো যাই। নিজের কাজেও তো আবার মন দিই। একেবারে উন্মাদ তো আমি হয়ে যাই না। এটাই বোধ হয় জীবনের রীতি।</blockquote><p><strong>মামুন:</strong> মৃত্যু ছাড়া বেদনার আর কী কী আছে আপনার? যেমন আপনি লিখছিলেন যে আপনার অনেক জীবিত ঘনিষ্ঠ বন্ধুই আপনার কাছে মৃত হয়ে গেছে।</p><p><strong>রাহমান:</strong> আমার কাছে বেদনার লাগে যখন কেউ কেউ বন্ধুত্বের ভাব করে; কিন্তু আসলে বন্ধু নয়।</p><p><strong>মামুন:</strong> এটা আপনি বুঝতে পারেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> পারি। আবার আমি, সংখ্যায় বেশি না হলেও, প্রকৃত বন্ধুও পেয়েছি। তাদের কাছে আমি ঋণী। এই ঋণ টাকাপয়সার দিক থেকে নয়। তবে একবার টাকা ধার নিয়েছি রশীদ করীমের কাছ থেকে। রশীদ করীম একজন খাঁটি মানুষ। তাঁর লেখাও খুব ভালো। আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় টাকা ছিল না। এদিকে কেবিনভাড়া দিতে হবে। খুব সিরিয়াস অসুখ হয়েছিল তার। তখন রশীদ করীমের কাছ থেকে ৪০০ টাকা ধার নিয়েছিলাম। পরে আমার হাতে যখন টাকা এল তত্ক্ষণাৎ আমি ফিরিয়ে দিলাম। তিনি কিন্তু ভুলেই গিয়েছিলেন যে আমাকে টাকা ধার দিয়েছিলেন। এই একমাত্র বন্ধু, যাঁর কাছে আমি ধার নিয়েছিলাম। আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ, আমার বিপদের সময় তিনি আমাকে সাহায্য করেছিলেন।</p><p><strong>মামুন:</strong> বেদনার আর কোনো ব্যাপার...</p><p><strong>রাহমান:</strong> অনেক বেদনা আছে, যা আসলে বলা যাবে না। অনেক আগে যখন আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ি; সে সময় আমি একজনের প্রেমে..., মানে আমার মধ্যে প্রেম জেগে উঠেছিল।</p><p><strong>মামুন:</strong> তিনি কি ইংরেজি বিভাগের ছিলেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> ইংরেজি বিভাগের নয়, অন্য একটি বিভাগের। আমি তো এমএ পড়েছি, পরীক্ষা দিইনি—অর্ধেক দিয়েছি, অর্ধেক দিইনি। তিনি পরীক্ষা দিয়ে পাস করে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর প্রেমে পড়েছিলাম। তিনি আসতেন। তখন ভার্সিটিতে ছুটি হওয়ার পর কখনো কখনো সাহিত্য সভা হতো। যাঁরা লেখক, তাঁরা কবিতা-গল্প-প্রবন্ধ পড়তেন। প্রায় প্রতিটি সভায় কয়েকজন মহিলা আসতেন। তাঁরা আলাদাভাবে বসতেন। ওখানে একজনকে আমার চোখে পড়ে। তিনিও আমার দিকে চেয়ে থাকতেন, শুনতেন ভালো করে। খুব সুন্দরী ছিলেন। বিশেষ করে তাঁর চোখ দুটো ছিল নীল। তাঁর সঙ্গে বেশ প্রেম জমে উঠেছিল। দুজনেই স্থির করেছিলাম আমরা বিয়ে করব। কিন্তু একদিন তিনি আমাকে চিঠি লিখলেন, লাস্ট চিঠি তাঁর। লিখলেন যে আমাকে এমএ পরীক্ষা দিতেই হবে; পরীক্ষা দিয়ে সিএসপি হতে হবে। চিঠিটি আমার বাবার হাতে পড়ে। মা-ও ছিলেন আমার পাশে। বাবা তখন মাকে বললেন, ‘তোমার ছেলের জন্য সব মেয়ে ফুলের মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিয়ে করার জন্য।’ কেননা শর্তটর্ত নিয়ে চিঠিটা তো আমার পক্ষে যায়নি। আমি তখনো কিছু জানি না। ভাবলাম, কী ব্যাপার! দেখলাম বাবার হাতে চিঠি।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি চিঠিটা কখন পড়লেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> পরে পড়েছি। আম্মাকে বললাম, দিয়ে দাও চিঠি। আম্মা চিঠিটা দিলেন, আমি পড়লাম।</p><p><strong>মামুন:</strong> কোন বছরের ঘটনা এটা, মনে আছে?</p><p><strong>রাহমান:</strong> পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে।</p><blockquote>নিন্দা করলে আমি সেটা এভাবে নিই যে একটা জিনিস যখন তৈরি হয়, তখন প্রশংসা হতে পারে, না-ও হতে পারে। নিন্দা হতে পারে, না-ও হতে পারে। দুটো দিকই আছে। সুতরাং আমি সাধারণত একটু নির্বিকার থাকি। আমি দেশের প্রধান কবি কি না, আদৌ কবি কি না—এ নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমার লিখতে ভালো লেগেছে, লিখেছি। আমাকে তো কেউ বলেনি যে তুমি লেখো।</blockquote><p><strong>মামুন:</strong> ’৫৬-’৫৭—এ রকম সময়?</p><p><strong>রাহমান:</strong> তার কিছুটা আগে বোধ হয়।</p><p><strong>মামুন:</strong> সেই ভদ্রমহিলা কি আপনার কবিতা পড়তেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> পড়তেন। তিনি এখনো জীবিত।</p><p><strong>মামুন:</strong> দুজনে মিলেই কি বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? নাকি শুধু আপনারই সিদ্ধান্ত ছিল?</p><p><strong>রাহমান:</strong> আমিই সিদ্ধান্ত নিলাম। তিনিও আর রাজি হলেন না। এটা আমার খুব খারাপ লেগেছিল। পরে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।</p><p><strong>মামুন:</strong> বিয়ের পর?</p><p><strong>রাহমান:</strong> অনেক পর। দেখা হয়েছে এবং আমরা ওটা ভুলেই গেছি আরকি। এখন আর দ্বেষ কিংবা ঘৃণা নেই।</p><p><strong>মামুন:</strong> আর দু-একটা বেদনার ঘটনা বলেন।</p><p><strong>রাহমান:</strong> বেদনার আর তেমন কিছু নেই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-08/7daa0a9b-637d-4ff9-ab00-1e21e4108f69/Untitled_4.jpg"><figcaption>শ্যামলীর বাসায় টেবিলে লিখছেন কবি শামসুর রাহমান। ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি</figcaption></figure><p><strong>মামুন:</strong> আনন্দই বেশি আপনার জীবনে।</p><p><strong>রাহমান:</strong> হ্যাঁ, আনন্দই বেশি।</p><p><strong>মামুন:</strong> অনেক বড় কবির পরিবারই কবিকে বুঝতে পারে না বা বুঝতে চায় না। এটা কি বেদনা জাগায়?</p><p><strong>রাহমান:</strong> না, আমার এটা মনে হয় না। আমার স্ত্রী তো একেবারে শিক্ষিত নয়, কিন্তু সে আমার কদর বোঝে।</p><p><strong>মামুন:</strong> বুঝতে পারে?</p><p><strong>রাহমান:</strong> বুঝতে পারে যে আমার একটা নাম বা সুনাম আছে। আমি খুব ফেলনা লোক নই। আমার ছেলেও হয়তো বোঝে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি বোঝে আমার ছেলের বউ টিয়া, পশ্চিমবঙ্গের মেয়ে। সে যখন ছোট, ওর ফুফুর বিয়ে হয় ঢাকায়। ফুফুর সঙ্গে সে ঢাকায় আসে এবং থেকে যায়।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি যেসব নারীকে পছন্দ করেছেন, তাঁদের কেউ কেউ এখন আর নেই। তাঁদের মৃত্যুতে আপনার কষ্ট হয়নি?</p><p><strong>রাহমান:</strong> সময় এমন একটা জিনিস, সব আস্তে আস্তে ধূসর করে দেয়। কারও মৃত্যুর খবর পেলে প্রথমে খুব কষ্ট হয়। তীব্র সেটা। কিন্তু এখন, ‘হ্যাঁ, তাঁর মৃত্যু হয়েছে’—এই তো বললাম। সময় মানুষকে অনেক বদলে দেয়।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনিও অনেক বদলেছেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> হ্যাঁ, বদলেছি আমি, অস্বীকার করব না। কিন্তু আমি যখন ভালোবেসেছি, খুব তীব্রভাবেই বেসেছি। এর মধ্যে কোনো ফাঁকি রাখিনি।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি যাঁদের ভালোবেসেছেন, তাঁরাও কি আপনাকে সে রকম ভালোবেসেছেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> হ্যাঁ, মোটামুটি।</p><p><strong>মামুন:</strong> তাঁরা তো আপনার প্রেরণা ছিল।</p><p><strong>রাহমান:</strong> হ্যাঁ, প্রেরণা ছিল।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনি অনেক কবিতা লিখেছেন, মনে হয় বেশির ভাগই প্রেমের কবিতা। আপনার কী মনে হয়?</p><p><strong>রাহমান:</strong> কিছু না কিছু, কোনো না কোনো জিনিসের প্রতি প্রেম তো বটেই। হয়তো প্রেমের যে অর্থ আমরা জানি, ঠিক সে অর্থে হয়তো নয়। মানুষের জন্য তো ভালোবাসা আছেই।</p><p><strong>মামুন:</strong> মানুষের জন্য প্রেম, দেশের জন্য প্রেম।</p><p><strong>রাহমান:</strong> হ্যাঁ, দেশের প্রতি। এটা তো আছেই। এটা আমার কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। কেউ কেউ নিন্দা করেছেন—কী লেখে এগুলো! আবার অনেকে প্রশংসা করেছেন।</p><p><strong>মামুন:</strong> নিন্দা শুনলে কেমন লাগে?</p><p><strong>রাহমান:</strong> নিন্দা করলে আমি সেটা এভাবে নিই যে একটা জিনিস যখন তৈরি হয়, তখন প্রশংসা হতে পারে, না-ও হতে পারে। নিন্দা হতে পারে, না-ও হতে পারে। দুটো দিকই আছে। সুতরাং আমি সাধারণত একটু নির্বিকার থাকি। আমি দেশের প্রধান কবি কি না, আদৌ কবি কি না—এ নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমার লিখতে ভালো লেগেছে, লিখেছি। আমাকে তো কেউ বলেনি যে তুমি লেখো। হ্যাঁ, বলেছে, সে হলো আমার মন, আমার মাথা। আমার তো লেখার কথা ছিল না। কারও লেখার কথা থাকে না। হঠাৎ তাঁর মনে জেগে ওঠে তাঁর লেখা। তিনি যত বড় বা যত ছোট কবিই হোন। তিনি যদি লেখক বা কবি হন, তাঁর মনে জাগে, না হলে তো লেখা যায় না।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার রচনায় আপনি কোন সুরটা বাজাতে চেয়েছেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> মূল সুরটা ভালোবাসারই। সেটি কোনো ব্যক্তির প্রতি হতে পারে; আমার পরিবারের লোকজন, আমার মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান হতে পারে। আমার পরবর্তী জেনারেশন হতে পারে বা আমার বন্ধু হতে পারে। বন্ধুদের নিয়েও কবিতা লিখেছি আমি। তারপর দেশের জন্য লিখেছি। সুরটা প্রেমেরই মনে করি। ঘৃণা দিয়ে তো আমি লিখিনি। মানুষের প্রতি ঘৃণাটা আমার আসে না। হয়তো খুব বেশি হলে ব্যঙ্গর মতো হয়ে যায়। এটা আমার দোষ কি না জানি না। হয়ে যায় আরকি।</p><p><strong>মামুন:</strong> ঘৃণা কিন্তু ঠিকই প্রকাশ পায়। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে একটা প্রদর্শনী দেখে এক কবিতায় আপনি লিখেছিলেন—ধিক, ধিক, রাজাকারদের। এ রকম আরও অনেক কবিতা আছে আপনার, বোঝা যায়।</p><p><strong>রাহমান:</strong> বোঝা যায়?</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2021-08/be60a6f3-4d3e-4546-b8c7-801de5afe87e/Untitled_4.jpg"><figcaption>শামসুর রাহমান</figcaption></figure><p><strong>মামুন:</strong> আমরা পাঠক হিসেবে বুঝতে পারি। আচ্ছা, আজ আমার সামনে একটি কবিতা লিখেছেন। কবিতাটা কি আগেই মাথায় এসেছিল?</p><p><strong>রাহমান:</strong> না। আমি সাধারণত পত্রিকা পড়ি সকালবেলা। তারপর লেখালেখি করি। আজ এই কবিতা কিন্তু পত্রিকা পড়ার আগেই লিখেছি। না হলে হয়তো লেখাই হতো না। হঠাৎ আমার মনে স্ট্রাইক করেছে। আজ এ রকম একটা কবিতা লিখব আমি জানতাম না। অনেস্টলি বলছি। ভণ্ডামি করছি না, বাহাদুরিও না। যে রকমই হোক, আমি এটা লিখে ফেলেছি। হ্যাঁ, একটা জিনিস মাথায় থাকে, হয়তো কোথাও লেখা দিতে হবে...</p><p><strong>মামুন:</strong> ফরমায়েশি লেখা?</p><p><strong>রাহমান:</strong> ফরমায়েশি বলতে ঠিক ফরমায়েশি না, মানে লেখা চায় কেউ কেউ। চায় যে এটা আমার সৌভাগ্য বলতে পারো। অনেকের কাছে লেখা চায় না, তারা দেয় কিন্তু। আমার কাছে চাইছে লেখা, এটা কিন্তু সহজ কথা না।</p><p><strong>মামুন:</strong> তাহলে কি আপনি জনপ্রিয় এবং খ্যাতিমান—দুটোই?</p><p><strong>রাহমান:</strong> হা হা হা, কী জানি, আমি জানি না।</p><p><strong>মামুন:</strong> জনপ্রিয়তা কিন্তু সহজে আসে না। দেখা যায় অনেকে খুব খ্যাতিমান, কিন্তু জনপ্রিয় নন।</p><p><strong>রাহমান:</strong> যেমন ধরো, এক ভদ্রলোক আর্মিতে কাজ করতেন, তিনি খুব উত্সাহী হয়ে আমার জন্মদিন পালন করবেন। তাঁর নাম, কী যেন নাম...</p><p><strong>মামুন:</strong> মেজর এম এইচ খান (অব.)।</p><p><strong>রাহমান:</strong> হ্যাঁ, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার।</p><p><strong>মামুন:</strong> চলুন, পেছনে ফিরে যাই। আপনার জন্ম তো ৪৬ মাহুতটুলীতে, পুরান ঢাকায়। ওই বাড়ির একটা বর্ণনা দেন। আপনার বাবা কী করতেন, আপনার ভাইবোন—তাঁদের কথা বলুন।</p><p><strong>রাহমান:</strong> আমি জন্মেছি আমার নানার বাড়িতে। নানার বাড়ি আর আমাদের মাহুতটুলীর ওই বাড়ি বলা যায় একটাই বাড়ি, মাঝখানে শুধু দেয়াল ছিল একটা। যে ঘরে আমি জন্মেছি, সেটি ছিল মাটির ঘর।</p><p><strong>মামুন:</strong> বাকিটা তো দালান ছিল?</p><p><strong>রাহমান:</strong> হ্যাঁ।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার নানা ভাড়ায় থাকতেন, না নিজেই মালিক ছিলেন বাড়িটার?</p><p><strong>রাহমান:</strong> নিজেই মালিক ছিলেন।</p><p><strong>মামুন:</strong> নানার নামটা একটু বলেন।</p><p><strong>রাহমান:</strong> মুন্সি আফতাব উদ্দিন আহম্মদ। আমার নানা ও নানিকে আমি একটা বই উত্সর্গ করেছি, কবিতার বই। জন্মানোর পর আমাকে নানার বাড়ি থেকে আমাদের বাড়িতে আনা হয়। এই বাড়িটা আমার আব্বা ও চাচা মিলে বানিয়েছিলেন। আমি তো আমার মা-বাবার প্রথম সন্তান। কিন্তু আমার মা বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী ছিলেন আমার মায়েরই বড় বোন। আবার তিনি ছিলেন নানার আরেক স্ত্রীর মেয়ে। তিনি মারা যান। ওনার ঘরে ছিল চার সন্তান, তাঁদের মধ্যে একজনকে আমি দেখতে পারিনি। আগেই মারা যান তিনি। তিনজনকে আমি দেখেছি। এই তিনজনও আর বেঁচে নেই।</p><p><strong>মামুন:</strong> আপনার নানার আদি নিবাস কোথায়?</p><p><strong>রাহমান:</strong> নরসিংদী জেলার পাড়াতলী গ্রাম। আমার দাদা আর নানা তো আপন ভাই। নানা ছিলেন ছোট। দাদা একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তখন স্কুলটার দরিদ্র অবস্থা ছিল। শুরুতে ঘর ছিল বেড়ার। আব্বা ওটাকে হাইস্কুল করেছেন।</p><p><strong>মামুন:</strong> মাহুতটুলীর বাড়িতে আর যান না কত দিন হলো?</p><p><strong>রাহমান:</strong> তিন বছর।</p><p><strong>মামুন:</strong> বাড়িটা কি বিক্রি করে দিয়েছেন?</p><p><strong>রাহমান:</strong> হ্যাঁ।</p><p><strong>মামুন:</strong> শেষবার যখন গেলেন, তখন কেউ আপনাকে চিনতে পেরেছিল?</p><p><strong>রাহমান:</strong> কেউ চিনতে পারেনি। সে রকম পুরোনো লোক নেই এখন। আমার বয়সই তো এখন ৭৪ হয়ে যাচ্ছে। স্মৃতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু মনে পড়ে। যেমন ছোটবেলায় নানির সঙ্গে ঘুমাতাম এবং মাঝেমধ্যে বিছানায় প্রস্রাব করে দিতাম। নানা-নানি খুব স্নেহ করতেন। নানি নানাকে বলতেন, তোমার নাতির জ্বালায় আমি নামাজ পড়তে পারব না। হা হা হা।</p>
ব্রহ্মপুত্রের বুকেই তৈরি হচ্ছে খেলার মাঠ, প্রতিবাদ পরিবেশকর্মীদের
পাবনার জেলা সদরের আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া হাটে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেছেন, যেকোনো মূল্যেই ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার বিচার হবে। হত্যাকারী সে যেই হোক না কেন, সে অপরাধী। তার কোনো দল নেই, তার কোনো দেশ নেই।
<p>রাজধানীর মিরপুর-১ ও মিরপুর-১০ নম্বর সেকশন এবং উত্তরায় উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উপযুক্ত জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে হকারদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়মিত ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।</p><p> ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে এ কথা জানান। তিনি বলেন, হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকবে। তবে কোনো অবস্থাতেই সড়ক দখল করে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।</p><p> সম্ভাব্য কয়েকটি জায়গা নিয়ে আজ সকালে করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে জানান শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জমি খুঁজে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে জায়গা নির্ধারণ করা হবে।</p><p> প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা হকারদের জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করছি। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন সেখানে পরিদর্শনে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। জায়গাটি উপযুক্ত হলে সেখানে তাঁদের জন্য আপাতত হলিডে মার্কেট করা হবে। সেখানে ৩০০ থেকে ৫০০ জনকে জায়গা দেওয়া সম্ভব কি না, তা দেখা হবে।’</p><h3>মিরপুর এবং উত্তরার হকারদের জন্য সম্ভাব্য স্থান </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/qsq2yi6c/5.-Eviction-DNCC-28102026.jfif"><figcaption>ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চলছে অভিযান। ১৮ অক্টোবর</figcaption></figure><p>মিরপুরের হকারদের জন্য শাহ আলী কাঁচাবাজারের আড়ত কমপ্লেক্সের একটি জায়গা বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান ডিএনসিসির প্রশাসক। তিনি বলেন, গতকাল উচ্ছেদ অভিযানের সময় আড়ত ব্যবসায়ীদের একজন ওই জায়গা ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তবে এ বিষয়ে আড়ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক হয়নি। জায়গাটি পরিদর্শনের পর আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতে পারে।</p><p>এর আগে মিরপুর-১০ এলাকার হকারদের গাবতলীর দিকে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত একটি জায়গায় যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই জায়গায় হকারদের অনেকে যাননি বলে জানান প্রশাসক। তাঁদের আবারও প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ জন্য মাইকিং করে হকারদের জানানো এবং তাঁদের সঙ্গে বসে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।</p><p>এদিকে উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকার হকারদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে মাঝামাঝি কোনো জায়গা খোঁজার চেষ্টা চলছে। এ জন্য দিয়াবাড়ির একটি জায়গাও পরিদর্শন করা হতে পারে। সেখানে হকারদের জায়গা দেওয়ার সুযোগ না থাকলে অন্য বিকল্প খোঁজা হবে।</p><h3>নির্দিষ্ট সময় বেঁধে ব্যবসার সুযোগ </h3><p>ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, হকারদের শুধু সপ্তাহে দুই দিন হলিডে মার্কেটে বসার সুযোগ দিলে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হতে পারে। এ কারণে নির্ধারিত জায়গায় নিয়মিত ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সময়টি বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত হতে পারে।</p><p>শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সেটা অবশ্যই কোনো নির্ধারিত খালি জায়গা হবে; রাস্তা নয়। রাস্তা ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজনে জায়গাটিতে সীমানাপ্রাচীরও করে দেওয়া হবে।’</p><h3>চাঁদাবাজি ঠেকাতে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধান </h3><p>পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে হকারদের কাছ থেকে বাইরের কোনো গোষ্ঠী যাতে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করতে না পারে, সে বিষয়েও নজর দিতে চায় ডিএনসিসি। প্রশাসক বলেন, হকারদের সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি নেওয়া হতে পারে। বিনিময়ে তাঁদের ব্যবসার জায়গা থেকে উৎপন্ন বর্জ্য পরিষ্কার করবে সিটি করপোরেশন।</p><p>শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত একটা ফি থাকবে। যেমন: ৫০ টাকা। তাঁরা যে ময়লা করবেন, সেই ময়লা আমরা পরিষ্কার করে দেব। এ রকম শর্তের ভিত্তিতে তাঁদের একটা ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করব।’</p><h3>হকারদের তালিকা নতুন করে যাচাই হতে পারে </h3><p>মিরপুরের হকারদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আগের তালিকাটি আবার যাচাই করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক। তাঁর ভাষ্য, কয়েক মাস আগে তিনটি সংস্থার মাধ্যমে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করে কারা কোথায় থাকেন এবং কত দিন ধরে ব্যবসা করছেন, তা যাচাই করেছিলেন।</p><p>তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। কেউ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, আবার নতুন কেউ হকার হিসেবে বসেছেন। তাই আগের তালিকার ভিত্তিতেই সবাইকে পুনর্বাসন করা হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।</p><p>শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে তাঁর কাছে প্রায় ৮০০ হকারের একটি তালিকা রয়েছে। সেটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হতে পারে। তবে পুনর্বাসনের জন্য জায়গা নির্ধারণ, সেখানে কতজনকে রাখা সম্ভব এবং কারা অগ্রাধিকার পাবেন—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।</p><p>উচ্ছেদ অভিযানের পর হকারদের জীবিকা ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার মধ্যে সমন্বয় করাই এখন ডিএনসিসির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। বিকল্প জায়গা নির্ধারণ ও তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ হলে পুনর্বাসনের পরিকল্পনাটি কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা স্পষ্ট হবে।</p><h3>উচ্ছেদের পর ফাঁকা সড়ক-ফুটপাত </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-02/shams51a/RoadFootpathMirpur02102602.jpg"><figcaption>হকারদের দৌরাত্ম্য না থাকায় এখন অনেকটাই ফাঁকা চলাচলের পথ। মিরপুর ১০ নম্বরের কাছে বিআরটিএ কার্যালয়মুখী ফুটপাত থেকে তোলা ছবি</figcaption></figure><p>মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেট ও মিরপুর-১৩ নম্বরের দিকে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। অভিযানের পর গোলচত্বর থেকে বিআরটিএ কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার ফুটপাতসহ আশপাশের সড়ক ফাঁকা হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশজুড়ে থাকা পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও খাবারের দোকান সরিয়ে দেওয়ায় পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফেরে। তবে ওই অভিযানের সময় হকার ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।</p><p>উচ্ছেদের পর মিরপুর-১০ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি। সংস্থাটির প্রশাসক রাতের বেলায় এলাকাটি পরিদর্শন করে গাছ লাগানো, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, নালা-নর্দমার উন্নয়ন এবং ময়লা ফেলার পাত্র বসানোর নির্দেশ দেন। অবৈধ দোকানের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং মেট্রোরেলের পিলার ও আশপাশের দেয়াল থেকে অবৈধ পোস্টার সরানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়।</p><p>গতকাল বুধবার মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী কাঁচাবাজার এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যায় দুই দফায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএনসিসি। এ সময় অস্থায়ী দোকানপাট ও কাঠামো ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাতে রাখা মালপত্র জব্দ করা হয়।</p><p>এর আগে গত ৩০ এপ্রিল মিরপুরের ২০২ জন হকারকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেয় ডিএনসিসি। তাঁদের মধ্যে ১০২ জনকে মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনের ওয়াসা রোডে এবং ১০০ জনকে গাবতলী কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন হকাররা ওই জায়গায় ব্যবসা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।</p>
বৃহস্পতিবার দুপুরে মাটি কাটার সময় বাক্স দুটি পান উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আশরাফ আলী ও তাঁর ছেলে।
বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এদিকে, সৌদি আরবে উপস্থিতি জরুরি নয় এমন কর্মকর্তাদের এবং তাদের পরিবারকে দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ব্যাপক কৌতুহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কিনা এ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। কেন তাকে নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে?
৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিলের একজন সেনেটর। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বড় ছেলে। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে বাবার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
সাইক্লোন অর্ণবের প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও তেলেঙ্গানার বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। তবে পশ্চিবমঙ্গের কিছু এলাকায় বৃষ্টি চলবে।
ইলন মাস্কের প্রশংসা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং বলেছেন যে তারা 'ঘনিষ্ঠ' যোগাযোগের মধ্যে আছেন।
দৈনন্দিন কার্যকলাপ আমাদের হৃদরোগ এবং এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারে। আপনি কোনো মিটিংয়ে আছেন, বিমানে বসে আছেন বা এই নিবন্ধটি পড়ছেন, এ সময়ও এর কিছু সহজ উপায় চেষ্টা করতে পারেন।
ঢাকার উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক একজন কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আমাজন রেইনফরেস্টের নিচে হাজার হাজার বছর আগে নির্মিত এমন সব কাঠামো আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা, যা এখানকার মানব বসতির ইতিহাস নতুন করে লিখতে সাহায্য করে।
বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মাদারীপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার উদ্দেশে টোকিও ত্যাগ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভারতে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বা ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রেপ্তারের নামে সাইবার জালিয়াতির ঘটনা বেড়ে চলায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদেরকে তাদের মোবাইল ফোন দেয়ালে ছুঁড়ে মারার পরামর্শ দিয়েছে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় একটি সাবমারসিবল পাম্পের পানির সঙ্গে গ্যাস বের হচ্ছে। লাইটার বা ম্যাচ দিয়ে অগ্নিসংযোগ করলে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। এই সাবমারসিবল পাম্প নিয়ে এলাকার মানুষদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। এখানে গ্যাসক্ষেত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান খুলবে হংকংয়ে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির সাজার ঘোষণায় কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে।