গ্রাহকদের ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ, অগ্রণী ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা আটক
সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আসলে কার নিয়ন্ত্রণে, সেখানে জমি কীভাবে বেচাকেনা হয়—জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটিতে এমন প্রশ্ন তুলেছেন কোনো কোনো সদস্য। আজ বৃহস্পতিবার কমিটির বৈঠকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছে বিষয়গুলো জানতে চাওয়া হয়।</p><p>আজকের বৈঠকে রাজউক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে একাধিক সদস্য বসুন্ধরা এলাকার বিষয়ে কথা বলেন। একজন সদস্য বলেন, ওই এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে বসুন্ধরার নিজস্ব লোকজন। সেখানে জমি বেচাকেনা করতে বসুন্ধরা গ্রুপকে কমিশন দিতে হয়। একটি ডিশ লাইনের সংযোগ নিতে হলেও তাদের কাছ থেকে নিতে হয়। এটি একটি রাষ্ট্রের ভেতর আরেকটি রাষ্ট্রের মতো হয়ে যাচ্ছে।</p><p>সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কমিটির একজন সদস্য জানতে চান, বসুন্ধরা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ কার। কীভাবে তাদের জমি কেনাবেচার অনুমতি দেওয়া হয়। তখন রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কাগজে-কলমে মূলত সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। তবে এখনো সিটি করপোরেশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সেখানে নেই বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।</p><p>জানতে চাইলে কমিটির সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, ‘বসুন্ধরাকে নিয়ে অনেকের অনেক অভিযোগ। তারা সেখানে আলাদা রাজত্ব, আলাদা প্রশাসন গড়ে তুলেছে। তারা হোল্ডিং কর নেয়, সেখানে জমি বিক্রি করতে হলে নাকি কাঠাপ্রতি বসুন্ধরাকে টাকা দিতে হয়। ড্রেন নির্মাণ, ডিশ লাইন দেওয়া এসব কাজও তাদের ছাড়া করা যায় না।’ তিনি কমিটির বৈঠকে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন বলে জানান।</p><p> বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে রাজউকের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। সূত্র জানায়, ২০০১-০৬ সালে পূর্বাচলে রাজউকের বরাদ্দ দেওয়া প্লট বাতিল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। </p><p>প্লট বাতিল করার ক্ষতিগ্রস্তদের কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, তা রাজউকের কাছে জানতে চেয়েছিল কমিটি। রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হচ্ছে ঢাকায় আর নতুন করে কোনো প্লট বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। তবে রাজউকের জায়গায় অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং করে ফ্ল্যাট দেওয়া যেতে পারে।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করার সুপারিশ করে কমিটি। পাশাপাশি অতীতে প্লট বরাদ্দে সংঘটিত অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। নতুন ভূমিনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে কমিটি।</p><p>কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন।</p>
<p>ডিপি ওয়ার্ল্ডের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এসা কাজিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।</p><p> সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।</p><p> এ সময় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।</p><p>প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, চুক্তির আওতায় কনটেইনার টার্মিনাল ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়াতে এ অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।</p><p>সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী ফ্রি ট্রেড জোন এবং রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো স্থাপন এবং বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদলের আগ্রহের কথা জানতে চান। এ সময় প্রতিনিধিদল এসব খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।</p>
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে এক নারীর বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাত করে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা গ্রামে ওই যুবক নিহত হন।
<p>‘আমরা সবাই একদিন চলে যাব। আমি কাল থাকব কি না, জানি না।’ মৃত্যুর কয়েক দিন আগে এমন কথাই বলেছিলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। </p><p>জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে তাঁর সেই কথার কয়েক দিন পরই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাসায় তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।</p><p>ভোরে বাসায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় নানা পাটেকরকে। দ্রুত তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন চিকিৎসকেরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফেরানো যায়নি। ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।</p><p>মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকার জানিয়েছেন, নানা পাটেকরকে যখন হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন তাঁর হৃদ্যন্ত্রের কোনো কার্যক্রম ছিল না। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকো-লিগ্যাল মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত করা হবে বলেও জানা গেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/nw8a3o5ywf">নানা পাটেকর আয়ের ৯০ শতাংশ বিলিয়ে দিতেন, কাটাতেন সাদাসিধে জীবন</a></aside><p><strong>মৃত্যুর আগে কী বলেছিলেন নানা</strong></p><p>৪ অক্টোবর গোয়ার ডোনা পাওলায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। সেখানেই জীবনের শেষ সময় নিয়ে কথা বলেন তিনি।</p><p>নানা বলেন, ‘আমরা সবাই একদিন চলে যাব। আমি কাল থাকব কি না, জানি না। প্রত্যেক মানুষের জীবনই একদিন শেষ হবে। কিন্তু তার আগে আমাকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে: আমি যা করতে চাই, তা কি করতে পারছি?’</p><p>অভিনেতা আরও বলেন, শুধু স্ত্রী, সন্তান ও নিজের ঘর নিয়ে জীবন সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদও থাকা দরকার।</p><p>সেই অনুষ্ঠানে গোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিকরকে স্মরণ করেন নানা। তাঁকে নিজের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অল্প সময়ের জীবনে একজন মানুষ কতটা কাজ করে যেতে পারেন, পারিকর ছিলেন তার উদাহরণ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/bcl6gljbwo">অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন</a></aside><p><strong>পাঁচ দশকের অভিনয়জীবন</strong></p><p>১৯৫১ সালে জন্ম নানা পাটেকারের। ১৯৭৮ সালে মারাঠি ছবি ‘গমন’ দিয়ে অভিনয় শুরু করেন তিনি। পরে হিন্দি ও মারাঠি দুই ভাষার সিনেমায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।</p><p>‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘খামোশি’ ও ‘আব তক ছাপ্পান’-এর মতো ছবিতে নানার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। আবার ‘ওয়েলকাম’ ও ‘হাউসফুল’ সিরিজে হাস্যরসের অভিনয়েও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।</p><p>মৃত্যুর আগপর্যন্ত অভিনয় করেছেন নানা। ‘হাউসফুল ৫’-এর পর তাঁকে দেখা গেছে বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও’রোমিও’ ছবিতে। শাহিদ কাপুর ও তৃপ্তি দিমরির এই ছবিতে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।</p><p><sup>হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে</sup></p>
<p>নোবেল পাওয়ার খবর শোনার ঠিক পরমুহূর্তে একজন বিজ্ঞানীর অনুভূতি কেমন হয়? সদ্য নোবেলজয়ী জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোআইয়ের সঙ্গে নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটের প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথের এই ছোট্ট ফোনালাপটি শুনলে তার দারুণ একটা ধারণা পাওয়া যায়। তবে এই সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হলো এর একদম শেষ দিকটা, যেখানে খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী ফোন করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন! চলুন, অ্যাডাম স্মিথের সঙ্গে কেনসো সোআইয়ের কথোপকথনটি পড়া যাক। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন <strong>শিউলী সুলতানা</strong>।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> হ্যালো, আমি কি প্রফেসর সোআইয়ের সঙ্গে কথা বলছি?</p><p><strong>কেনসো সোআই:</strong> হ্যাঁ, বলছি।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> হ্যালো, আমার নাম অ্যাডাম স্মিথ।</p><p><strong>কেনসো সোআই:</strong> ওহ, হ্যাঁ!</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> নোবেল পুরস্কার জেতার জন্য আপনাকে অনেক অভিনন্দন!</p><p><strong>কেনসো সোআই:</strong> ওহ, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খবরটা শুনে আমি সত্যিই ভীষণ রোমাঞ্চিত!</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> হ্যাঁ, দারুণ খবর, চমৎকার একটা খবর! আচ্ছা, খবরটা শোনার পর আপনার মাথায় প্রথম কী চিন্তা এসেছিল? মানে, তাৎক্ষণিকভাবে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?</p><p><strong>কেনসো সোআই:</strong> আসলে, নোবেল প্রাইজ কমিটি যে আমাদের গবেষণাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এটাই অনেক বড় ব্যাপার। এই পুরস্কারটি পেয়ে আমরা সত্যিই ভীষণ আনন্দিত।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> আপনাদের এই গবেষণা তো পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির রহস্যের একদম কেন্দ্রে অবস্থান করছে, তাই না?</p><p><strong>কেনসো সোআই:</strong> বিজ্ঞানীরা তো বহুদিন ধরেই এই রহস্যের উত্তর খুঁজছিলেন...বিশেষ করে বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরও অণুর ভেতরে কাইরালিটি বা একপেশে স্বভাব তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি সেটা কোনো গবেষণাপত্রে প্রকাশ করে যেতে পারেননি। শুধু তাঁর একটি লেকচারে এর উল্লেখ করেছিলেন। আমরা আসলে সেই হোমোকাইরালিটি বা একপেশে অণুর সমস্যার সমাধানে ছোট্ট একটু অবদান রাখার চেষ্টা করেছি মাত্র।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/qc6lz4h6qf">এখন জীবন্ত প্রাণীর ভেতরটাও আমরা নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি— কার্ল ডাইসারোথ, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী</a></aside><blockquote>আমার মনে হয় বিশ্বের নানা দেশের গবেষকেরা এই অদ্ভুত বিষয়টির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। তাঁরা যে আমাদের এই বিক্রিয়াটি নিয়ে এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, এটা জেনে আমার খুব ভালো লাগে।</blockquote><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> আপনি যখন সোআই রিঅ্যাকশন আবিষ্কার করলেন, তখন তো সেটি ফ্র্যাংকের গাণিতিক মডেলের একেবারে শেষ শর্তটিও পূরণ করে ফেলল! এটা সত্যি এক অভাবনীয় আবিষ্কার ছিল।</p><p><strong>কেনসো সোআই:</strong> ওহ, ধন্যবাদ আপনাকে।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> সবচেয়ে বড় কথা হলো, এখন বিজ্ঞানীদের একটা দল শুধু আপনার এই বিক্রিয়া নিয়েই পড়াশোনা করছে। সারা পৃথিবীর রসায়নবিদেরা আপনার আবিষ্কার করা এই অনন্য সোআই রিঅ্যাকশন নিয়ে মেতে আছেন। এটা দেখতে আপনার কেমন লাগে?</p><p><strong>কেনসো সোআই:</strong> আমার মনে হয় বিশ্বের নানা দেশের গবেষকেরা এই অদ্ভুত বিষয়টির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। তাঁরা যে আমাদের এই বিক্রিয়াটি নিয়ে এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, এটা জেনে আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই বন্ধু, বিজ্ঞানের বন্ধু।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> বাহ, খুব চমৎকার কথা... আপনি তো জানেন যে...</p><p><strong>কেনসো সোআই:</strong> আমাকে একটু মাফ করবেন, আমি কি আপনাকে একটু থামাতে পারি? আমি এইমাত্র খবর পেলাম। টোকিওর সময় অনুযায়ী ঠিক ৭টা ৪৫ মিনিটে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করবেন। অর্থাৎ, ঠিক এক মিনিট পরই তাঁর ফোন আসবে!</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> ওহ, অবশ্যই! আপনাকে তো তাঁর সঙ্গে কথা বলতেই হবে! হ্যাঁ, অবশ্যই, আমি বুঝতে পেরেছি। আপনার সঙ্গে কথা বলে ভীষণ ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।</p><p><strong>কেনসো সোআই:</strong> ধন্যবাদ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/8ci6yczetn">অনেক জায়গায় কাজ করে ও শিখে নিজের মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করেছি—রসায়নে নোবেলজয়ী সুসুমু কিতাগাওয়া</a></aside>
<p>ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মোট ৬৪টি পদের মধ্যে ৬০টিই শূন্য, যা মোট পদের ৯৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।</p><p> জানা গেছে, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ২০০৬ সালে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রথম ডিএনএ ল্যাব ‘ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালে গঠিত হয় ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।</p><p> এই অধিদপ্তরের অধীন ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিটি ঢাকা মেডিকেল কলেজে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ছাড়া সাতটি বিভাগে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি রয়েছে। বিভাগীয় এসব ল্যাবে মূলত নমুনা সংগ্রহ ও স্ক্রিনিং করা হয়। এরপর সংগৃহীত নমুনা ঢাকার জাতীয় ল্যাবে পাঠিয়ে ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়।</p><p>সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার পরিচিতিমূলক তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএনএ ল্যাবরেটরি অধিদপ্তরের দেওয়া নথিতে দেখা গেছে, অনুমোদিত পদের মধ্যে মহাপরিচালক, পরিচালক, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালকসহ কয়েকটি পদে অন্যান্য দপ্তর থেকে সংযুক্তির (সংযুক্তি পদায়ন) মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে ৯টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদ ও ১৮টি ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টের পদসহ মোট ৬০টি পদই ফাঁকা। প্রতিবেদনে সংস্থাটি জনবল–সংকট, যানবাহন–সংকট ও নিজস্ব স্থাপনা না থাকাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে।</p><p>ডিএনএ ল্যাবের একটি সূত্র জানায়, এই জনবল–সংকটের পেছনে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। অতীতে প্রকল্পে কাজ করা ৩৪ কর্মকর্তা অধিদপ্তরে আত্তীকরণের জন্য আদালতে মামলা করেছিলেন। আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে ৩৪টি পদ পূরণ হবে, যার সব কটিই মূলত বিশেষায়িত পদ।</p><p>বৈঠক সূত্র আরও জানায়, সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য ডিএনএ ল্যাবরেটরি অধিদপ্তরের জনবল–সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অপরাধীরা সব সময় অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করে; কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তাই এই অধিদপ্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অবহেলা কেন, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি এই ল্যাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং ঢাকার বাইরের বিভাগীয় ল্যাবগুলোকে পুরোদমে কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।</p><p>এদিকে বৈঠকে আরেকজন সদস্য উল্লেখ করেন, সম্প্রতি যশোরে মাইকিং করে বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হলেও তা ঠেকাতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। এ ধরনের ঘটনা রোধে বাল্যবিবাহবিরোধী প্রচার আরও জোরদার করতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।</p>
<p>অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সড়ক দুর্ঘটনায় তাসনিম ঐশী (২২) নামের এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁরা চিকিৎসাধীন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে আটটার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।</p><p> নিহত তাসনিম পার্থের এডিথ কাওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাত্র দুই মাস আগে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। বাংলাদেশি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন পার্থ (বিআইএসএপি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।</p><p>পুলিশ ও বিআইএসএপি সূত্রে জানা গেছে, পার্থের উত্তরে ব্রেটন বে এলাকার ইন্ডিয়ান ওশান ড্রাইভে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের বহনকারী ধূসর রঙের একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। সিবার্ড সড়কের মোড়ের কাছে এলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে যায়। এরপর সেটি সজোরে একটি গাছে ধাক্কা খায়। এতে গাড়ির সামনে চালকের পাশের আসনে থাকা তাসনিম ঘটনাস্থলেই মারা যান।</p><p>আহত তিনজনের মধ্যে দুজন ছেলে, অন্যজন মেয়েশিক্ষার্থী। ছেলে দুজনের মধ্যে একজন গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রয়্যাল পার্থ হাসপাতালে পাঠায়।</p><p>চিকিৎসকদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাঁদের আঘাত প্রাণঘাতী নয়। তাসনিমের মরদেহ একই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।</p><p>উদ্ধারকাজের জন্য ইন্ডিয়ান ওশান ড্রাইভের ওই অংশে দুই দিকেই কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ওই সময় সড়কটিতে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।</p><p>বিআইএসএপি এক বিবৃতিতে তাসনিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবার, বন্ধু ও সহপাঠীদের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে বিবৃতিতে।</p>
<p>সকাল কিংবা সন্ধ্যায় রান্নাঘরে ঢুকলেই নাকে আসে পরিচিত এক গন্ধ। কড়াইয়ে তেল গরম হচ্ছে, তাতে পেঁয়াজ পড়তেই শুরু হয়েছে ছ্যাঁত ছ্যাঁত শব্দ। একটু পর সেই তেলেই ভাজা হচ্ছে বেগুনি, আলুর চপ কিংবা মাছ। রান্নাঘরের এই ছোট্ট দৃশ্য আমাদের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। কিন্তু কড়াইয়ের সেই তেলটা কী সরিষা নাকি সয়াবিন?</p><p>বাংলাদেশের রান্নাঘরে দুই ধরনের তেলেরই ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। সরিষার তেলের ঝাঁজালো গন্ধ ও স্বাদ অনেকের পছন্দ। আবার সয়াবিন তেলের স্বাদ তুলনামূলক হালকা হওয়ায় দৈনন্দিন রান্নায় এর ব্যবহারও অনেক। কিন্তু পুষ্টিগুণের দিক থেকে এই দুই তেলের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের প্রথমেই জানতে হবে, তেল আসলে কী?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/byo7k2piir">তেল কেন পানির মতো জমে বরফ হয় না</a></aside><blockquote>সরিষার তেলে মনো-আনস্যাচুরেটেড চর্বি বেশি থাকে, আর সয়াবিন তেলে পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বি বেশি থাকে। সরিষার তেলে স্যাচুরেটেড চর্বির পরিমাণও তুলনামূলক কম।</blockquote><h2><strong>তেল মানেই চর্বি</strong></h2><p>সরিষার তেল হোক কিংবা সয়াবিন তেল, দুটিই মূলত চর্বি। তাই এগুলো ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার। ১০০ গ্রাম তেলে প্রায় ৮৮৪ কিলোক্যালরি শক্তি থাকে। ১ গ্রাম চর্বি থেকে পাওয়া যায় প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি। অর্থাৎ কোন তেল ব্যবহার করছি, তার পাশাপাশি কতটা তেল ব্যবহার করছি, সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>তেলের পুষ্টিগুণ বোঝার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এতে থাকা চর্বির ধরন। খাদ্যের চর্বিকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়। স্যাচুরেটেড<sup>১</sup> বা সম্পৃক্ত চর্বি, মনো-আনস্যাচুরেটেড<sup>২</sup> বা একক অসম্পৃক্ত চর্বি এবং পলি-আনস্যাচুরেটেড<sup>৩</sup> বা বহু অসম্পৃক্ত চর্বি।</p><p>১০০ গ্রাম সরিষার তেলে প্রায় ১১.৬ গ্রাম স্যাচুরেটেড, ৫৯.২ গ্রাম মনো-আনস্যাচুরেটেড এবং ২১.২ গ্রাম পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বি থাকে। অন্যদিকে ১০০ গ্রাম সয়াবিন তেলে প্রায় ১৪.৯ গ্রাম স্যাচুরেটেড, ৪৩ গ্রাম মনো-আনস্যাচুরেটেড এবং ৩৭.৬ গ্রাম থাকে পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বি। অর্থাৎ সরিষার তেলে মনো-আনস্যাচুরেটেড চর্বি বেশি থাকে, আর সয়াবিন তেলে পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বি বেশি থাকে। সরিষার তেলে স্যাচুরেটেড চর্বির পরিমাণও তুলনামূলক কম।</p><p>কিন্তু এই পার্থক্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ বেশি পরিমাণ স্যাচুরেটেড চর্বি রক্তে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের<sup>৪</sup> মাত্রা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে স্যাচুরেটেড চর্বির পরিবর্তে মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বি গ্রহণ করলে তা হৃদ্যন্ত্রের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/t9abf0ukv6">সাবান কীভাবে তেল-ময়লা দূর করে</a></aside><blockquote>খাদ্যের চর্বিকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়। স্যাচুরেটেড বা সম্পৃক্ত চর্বি, মনো-আনস্যাচুরেটেড বা একক অসম্পৃক্ত চর্বি এবং পলি-আনস্যাচুরেটেড বা বহু অসম্পৃক্ত চর্বি।</blockquote><h2><strong>সরিষার তেলে কী আছে</strong></h2><p>এই তেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এতে মনো-আনস্যাচুরেটেড চর্বির পরিমাণ বেশি। এ ধরনের চর্বি অসম্পৃক্ত চর্বির একটি ধরন। সরিষার তেলে কিছু ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও থাকে। এর মধ্যে রয়েছে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড।</p><p>আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড<sup>৫</sup> শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। শরীর নিজে এটি তৈরি করতে পারে না, তাই খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। সরিষার তেলে অল্প পরিমাণে এই অ্যাসিড পাওয়া যায়। তবে সরিষার তেলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উপাদান রয়েছে, যার নাম এরুসিক অ্যাসিড<sup>৬</sup>। এটিও একধরনের মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড। তবে সরিষার তেলের জাত ও ধরনভেদে এর পরিমাণ অনেকটা বদলে যেতে পারে।</p><p>এখানেই সরিষার তেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কতার বিষয় আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০২৬ সালের হালনাগাদ আমদানি সতর্কতায় বলা হয়েছে, কিছু সরিষার বীজ থেকে চাপ প্রয়োগ করে সরাসরি নিষ্কাশন করা তেলে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এরুসিক অ্যাসিড থাকতে পারে। প্রাণীর ওপর গবেষণায় বেশি মাত্রার এরুসিক অ্যাসিডের সঙ্গে হৃৎপেশির ক্ষতির সম্পর্ক দেখা গেছে। এ কারণেই উচ্চমাত্রার এরুসিক অ্যাসিডযুক্ত সরিষার তেল নিয়ে এফডিএর সতর্কতা রয়েছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%A4-%E0%A6%B9%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%89%E0%A7%9C%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8">তেল বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায় না কেন?</a></aside><blockquote>সরিষার তেলে মনো-আনস্যাচুরেটেড চর্বির পরিমাণ বেশি। এ ধরনের চর্বি অসম্পৃক্ত চর্বির একটি ধরন। সরিষার তেলে কিছু ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও থাকে। এর মধ্যে রয়েছে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড।</blockquote><h2><strong>সয়াবিন তেলের বিশেষত্ব কোথায়</strong></h2><p>সয়াবিন তেলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এতে পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বির পরিমাণ বেশি। এর মধ্যে রয়েছে লিনোলিক অ্যাসিড। এটি একধরনের ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। লিনোলিক অ্যাসিড শরীরের জন্য বেশ প্রয়োজনীয়। শরীর নিজে এটি তৈরি করতে পারে না, তাই খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। সয়াবিন তেলে ভিটামিন ই থাকে। এই ভিটামিন শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।</p><p>আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সয়াবিন তেলকে এমন তরল উদ্ভিজ্জ তেলের মধ্যে রেখেছে, যেগুলোতে অসম্পৃক্ত চর্বি বেশি এবং স্যাচুরেটেড চর্বি তুলনামূলক কম। স্যাচুরেটেড চর্বির বদলে এ ধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি গ্রহণ করলে রক্তের এলডিএল কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে সয়াবিন তেলকে স্বাস্থ্যকর বলেই ইচ্ছামতো ব্যবহার করা যাবে না। কারণ এটিও তেল, অর্থাৎ মূলত চর্বি এবং ক্যালরির উৎস। বেশি তেল ব্যবহার করলে খাবারের মোট ক্যালরিও বেড়ে যায়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/dpvv9qy1p0">সিলেটে তেলের সন্ধান: কীভাবে মাটির নিচে তেল ও গ্যাস তৈরি হয়</a></aside><blockquote>শরীর নিজে লিনোলিক অ্যাসিড তৈরি করতে পারে না, তাই খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। সয়াবিন তেলে ভিটামিন ই থাকে। এই ভিটামিন শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।</blockquote><h2><strong>তাহলে সরিষার তেলের উপকারিতা কী</strong></h2><p>সরিষার তেলের সবচেয়ে বড় পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্য হলো এর চর্বির গঠন। এতে মনো-আনস্যাচুরেটেড চর্বি তুলনামূলক বেশি এবং স্যাচুরেটেড চর্বি তুলনামূলক কম। এতে কিছু পরিমাণ এএলএ পাওয়া যায়। এ ছাড়া সরিষার তেলের নিজস্ব গন্ধ ও স্বাদ রান্নায় আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি করে। অনেক খাবারে এই স্বাদই খাবারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।</p><p>তবে সব সরিষার তেল এক রকম নয়। কোন জাতের সরিষা থেকে তেল তৈরি হয়েছে এবং কীভাবে তৈরি হয়েছে, তার ওপর তেলের ভেতরের উপাদানের পরিমাণ বদলাতে পারে। এর মধ্যে এরুসিক অ্যাসিডও আছে। কিছু সরিষার তেলে এরুসিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। তাই সরিষার তেলের উপকারিতা নিয়ে কথা বলার সময় তেলে এরুসিক অ্যাসিড কতটা আছে, সেটিও বিবেচনা করা দরকার।</p><h2><strong>সয়াবিন তেলের উপকারিতা কী</strong></h2><p>সয়াবিন তেলে পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বি বেশি। এতে লিনোলিক অ্যাসিডের মতো প্রয়োজনীয় ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। পাশাপাশি ভিটামিন ই পাওয়া যায়। স্যাচুরেটেড চর্বির পরিবর্তে সয়াবিনের মতো অসম্পৃক্ত চর্বিসমৃদ্ধ তরল উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে, এমন পরামর্শ দেয় আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন। তবে এখানেও মূল কথা হলো পরিমাণ। সয়াবিন তেল যতই অসম্পৃক্ত চর্বিসমৃদ্ধ হোক, বেশি পরিমাণে খেলে অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে যাবে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/wv7gyrt9bm">পানি কি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরম হতে পারে</a></aside><blockquote>সরিষার তেলের সবচেয়ে বড় পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্য হলো এর চর্বির গঠন। এতে মনো-আনস্যাচুরেটেড চর্বি তুলনামূলক বেশি এবং স্যাচুরেটেড চর্বি তুলনামূলক কম। এতে কিছু পরিমাণ এএলএ পাওয়া যায়।</blockquote><h2><strong>তেলের অপকারিতা কোথায়</strong></h2><p>দুই তেলেরই সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এগুলো অত্যন্ত ক্যালরিসমৃদ্ধ। রান্নায় তেল বেশি ব্যবহার করলে খাবারের ক্যালরি দ্রুত বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্যকর তেল হলেও পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। আরেকটি বিষয় হলো, তেল বারবার গরম করা। একই তেল বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করলে তেলের অক্সিডেশন বাড়তে পারে এবং তেলের গুণগত পরিবর্তন ঘটতে পারে।</p><p>আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ব্যবহৃত রান্নার তেল পুনরায় গরম বা ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয়। তেল ধোঁয়া ওঠার পর্যায়ে পৌঁছালে সেটি নষ্ট হতে শুরু করতে পারে। তাই একবার রান্নায় ব্যবহার করা তেল বারবার গরম করে ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে একই তেলে বারবার ভাজাপোড়া করার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।</p><h2><strong>সরিষা নাকি সয়াবিন, কোনটি এগিয়ে</strong></h2><p>এখন আগের প্রশ্নে ফিরে আসা যাক। সরিষার তেল নাকি সয়াবিন তেল, কোনটি বেশি উপকারী? এককথায় বলতে গেলে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ, দুই তেলের চর্বির গঠন আলাদা। সরিষার তেলে মনো-আনস্যাচুরেটেড চর্বি বেশি, সয়াবিন তেলে পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বি বেশি। সরিষার তেলে কিছু এএলএ থাকে, সয়াবিন তেলে লিনোলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন ই পাওয়া যায়। আবার সরিষার তেলের ক্ষেত্রে এরুসিক অ্যাসিডের পরিমাণ বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>তাই শুধু ‘কোন তেল ভালো’—এই প্রশ্নের চেয়ে বরং ‘কোন তেলে কী আছে এবং কতটা ব্যবহার করছি’—এই প্রশ্নটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শও মূলত একই জায়গায় এসে দাঁড়ায়। স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটের পরিবর্তে মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বি বেছে নেওয়া ভালো।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/others/vpa8fzh3x7">পৃথিবীর এত পানি এল কোথা থেকে</a></aside><blockquote>সরিষার তেলে মনো-আনস্যাচুরেটেড চর্বি বেশি, সয়াবিন তেলে পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বি বেশি। সরিষার তেলে কিছু এএলএ থাকে, সয়াবিন তেলে লিনোলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।</blockquote><h2><strong>তেলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পুরো খাবার</strong></h2><p>ধরা যাক, একজন সরিষার তেল ব্যবহার করেন। কিন্তু সেই তেলে প্রতিদিন অনেক বেশি পরিমাণে পরোটা, আলুর চপ কিংবা ডুবোতেলে ভাজা খাবার তৈরি করেন। অন্যদিকে আরেকজন সয়াবিন তেল ব্যবহার করেন, কিন্তু রান্নায় অল্প তেল দেন এবং খাবারে শাকসবজি, ডাল, মাছসহ নানা ধরনের খাবার রাখেন। শুধু তেলের নাম দেখে এই দুই খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে কোনটি ভালো, তা বলা যাবে না।</p><p>আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে আমাদের পুরো খাদ্যাভ্যাস। যেমন কত ক্যালরি খাচ্ছি, কী ধরনের খাবার খাচ্ছি, কতটা তেল ব্যবহার করছি এবং শারীরিকভাবে কতটা সক্রিয় থাকছি। তাই কোনো একটি তেলকে সুপারফুড ভাবারও কারণ নেই, আবার কোনো একটি তেলকে সব পরিস্থিতিতে খারাপ বলারও সুযোগ নেই।</p><h4>লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</h4><h4>সূত্র: প্রথম আলো, বিজ্ঞানচিন্তা ও ফুড স্ট্রাক্ট</h4><h4><strong>টীকা</strong></h4><h4>১. <strong>স্যাচুরেটেড চর্বি:</strong> যে চর্বির ফ্যাটি অ্যাসিডের কার্বন পরমাণুগুলোর মধ্যে কোনো দ্বিবন্ধন থাকে না (অর্থাৎ কার্বনগুলো যতটা সম্ভব হাইড্রোজেন দিয়ে পূর্ণ থাকে), তাকে সম্পৃক্ত চর্বি বলে। যেমন- মাখন, ঘি, চর্বিযুক্ত মাংস, নারকেল তেল ও পাম তেলে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।</h4><h4>২. <strong>মনো-আনস্যাচুরেটেড চর্বি:</strong> এটি এমন একধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি, যার ফ্যাটি অ্যাসিডে একটি কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন থাকে। অলিভ অয়েল, বাদাম, চিনাবাদাম ও অ্যাভোকাডোতে এই ধরনের চর্বি পাওয়া যায়।</h4><h4>৩. <strong>পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বি:</strong> যে অসম্পৃক্ত চর্বির ফ্যাটি অ্যাসিডের কার্বন শৃঙ্খলে দুই বা তার বেশি কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন থাকে, তাকে পলি-আনস্যাচুরেটেড চর্বি বলে। সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, ভুট্টার তেল, তৈলাক্ত মাছ ইত্যাদিতে এই চর্বি পাওয়া যায়।</h4><h4>৪. <strong>খারাপ কোলেস্টেরল:</strong> এটি এমন একধরনের লিপোপ্রোটিন, যা রক্তের মাধ্যমে কোলেস্টেরলকে শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেয়। রক্তে এর মাত্রা বেশি হলে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ধমনির দেয়ালে জমে প্লাক বা আঠালো স্তর তৈরি করতে পারে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।</h4><h4>৫. <strong>লিনোলেনিক অ্যাসিড:</strong> এটি মূলত আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড নামে পরিচিত একটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, তিসির তেল ও আখরোটে পাওয়া যায়।</h4><h4>৬. <strong>এরুসিক অ্যাসিড:</strong> এটি একধরনের মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড। সরিষার তেলে প্রাকৃতিকভাবেই এটি থাকতে পারে, যা বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে হৃৎপেশির ক্ষতি হতে পারে।</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/oj3caotzbs">গভীর সমুদ্রের পানি জমে বরফ হয় না কেন</a></aside>
চট্টগ্রামে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও এটি নিয়ে বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তি করার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কিন্তু বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের বিরোধিতার মুখে সরকার সেই কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মারমেইড বা জলপরী নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেন অন্ত নেই। বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশের কোথাও জলপরী, কোনো দেশে মারমেইড, কোথাও মাদার অফ ওয়াটার বা জলের মা, কোথাও সাইরেন, আবার কোনো কোনো জায়গায় এটি মৎস্যকন্যাসহ নানা নামে পরিচিত।
ইসরায়েলে তিন বছর আগে যা ঘটেছে তার জন্য কোনো ব্যক্তিগত দায়িত্ব নিতে বা রাষ্ট্রীয় তদন্তের নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে গোয়া রাজ্যে তার মৃত্যু হয়।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে সামনে রেখেই একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে দিল্লি গেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী; চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২৯ শতাংশ; এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করলেও তা মানছেন না বিক্রেতারা— এ সংক্রান্ত খবর ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় গুরুত্ব পেয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টি, বামপন্থি দল ও সংগঠনগুলোর যে বিক্ষোভ ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহ ধরে শুরু হয়েছে, তাদের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলোও যুক্ত হয়েছে।
সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণা কেন্দ্রের একজন রুশ কর্মীর মৃত্যুর পর ওই ল্যাব থেকে বিরল রোগের জীবানু ছড়িয়ে পড়ার জল্পনা উস্কে দিয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এখন আর এ সংযোগ স্বীকার করছে না। তাহলে ওই ল্যাব কর্মী ঠিক কীভাবে মারা গেলেন? আর প্লেগ নিয়ে মানুষের কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে আলোচনায় তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ‘খুব ভালো কাজ করছেন’। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চুক্তি করাটা তার পছন্দের বিষয় নয়।
গ্রাহকের অভিযোগ পেয়ে প্রথমে ব্যাংকটির অফিসার (ক্যাশ) মো. শরীফুজ্জামানকে পুলিশের সহায়তায় আটক করা হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টিম অনুসন্ধান করে শরীফুজ্জামানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ব্যাংকটির আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে পুলিশের সাহায্যে আাটক করে।
কুড়িগ্রামের সব সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি, নির্ধারিত স্ট্যান্ড স্থাপন এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশার চালকেরা।
প্রয়াত অভিনেতা নানা পাটেকরকে স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন শাহরুখ খান। নানাকে নিজের শিক্ষক, সমালোচক ও বন্ধু উল্লেখ করে তার দেওয়া নানা পরামর্শ ও স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন শাহরুখ।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৪ শিক্ষার্থী। ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির আটজন করে মোট ২৪ শিক্ষার্থীকে এ পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে হারিকেনের আশঙ্কায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগের জেরে তেলের দাম আরো বেড়েছে।
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘লালের আত্মজীবনী’ তার এই বইটি একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এখানে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের লাল ডানাবিশিষ্ট দানব গেরিয়ন এবং মহাবীর হারকিউলিসের কাহিনিকে তিনি আধুনিক প্রেক্ষাপটে পুনর্নির্মাণ করেছেন। পৌরাণিক চরিত্রগুলো আধুনিক মানুষের প্রেম, যৌনতা, নিঃসঙ্গতা ও প্রান্তিকতার অভিজ্ঞতা লাভ করে। ফলে প্রাচীন পুরাণ আর কেবল অতীতের গল্প থাকে না; তা হয়ে ওঠে আধুনিক মানুষের আত্মপরিচয় ও আকাঙ্ক্ষার ভাষা।