bangladesh

এটা সুইসাইড নয়, তদন্ত করলে অপরাধীদের খুঁজে পাওয়া যাবে: তাহসিফের বাবা

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
এটা সুইসাইড নয়, তদন্ত করলে অপরাধীদের খুঁজে পাওয়া যাবে: তাহসিফের বাবা
এটা সুইসাইড নয়, তদন্ত করলে অপরাধীদের খুঁজে পাওয়া যাবে: তাহসিফের বাবা
<p>তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর বাবা বলেছেন, এটা সুইসাইড নয়, সরকার তদন্ত করলে এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বের করতে পারবে।</p><figure></figure>

Prothomalo

View more
নিহত ছাত্রদল নেতার বাড়িতে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
নিহত ছাত্রদল নেতার বাড়িতে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

<p>নাটোরে নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। ১৪ অক্টোবর রাতে কুপিয়ে আহত করার ১২ দিন পর সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে নাটোর–৪ আসনের সাবেক এমপির ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছুরিকাঘাতে আহত আবু ইউসুফ মারা গেছেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হত্যা দাবি পরিবারের
ছুরিকাঘাতে আহত আবু ইউসুফ মারা গেছেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হত্যা দাবি পরিবারের

<p>চট্টগ্রামের বায়েজিদে ছুরিকাঘাতে আহত আবু ইউসুফ হাসপাতালে মারা গেছেন। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হত্যার অভিযোগে যুবদল নেতা জিল্লুরসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দেখুন ভিডিওতে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
হোগলাবুনিয়া থেকে তাসভির...
হোগলাবুনিয়া থেকে তাসভির...

প্রথম সিনেমা ‘দেলুপি’তে অভিনয় করে উত্তর আমেরিকার তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন চিরনজিৎ বিশ্বাস।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
১৫০ কিলোমিটার গতির পেসাররা হঠাৎ ধীর হয়ে যান কেন, রহস্য ফাঁস করলেন ওয়াকার ইউনিস
১৫০ কিলোমিটার গতির পেসাররা হঠাৎ ধীর হয়ে যান কেন, রহস্য ফাঁস করলেন ওয়াকার ইউনিস

পেসারদের গতি ধরে রাখতে ক্রিকেট বোর্ডগুলোর ভূমিকা রাখতে হবে বলে মনে করেন ওয়াকার। তাঁর মতে, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বিশেষজ্ঞ বোলিং ইউনিট তৈরি করা উচিত।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে চলত ইয়াবার কারবার, ১২০০ পিসসহ গ্রেপ্তার ৫
ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে চলত ইয়াবার কারবার, ১২০০ পিসসহ গ্রেপ্তার ৫

<p>ময়মনসিংহ শহরে ইয়াবা কেনাবেচার প্রস্তুতির সময় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে নগরের সেওড়া মুন্সিবাড়ি এলাকার একটি দোতলা বাড়ির নিচতলার কক্ষ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।</p><p> এ সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ছয় লাখ টাকা।</p><p> ছাত্রদল নেতা মনিরুল ইসলাম (৩০) জেলা সদরের চর ঘাগড়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। গ্রেপ্তার অন্য চারজন হলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার শাকির হোসেন (২৫), ময়মনসিংহ শহরের মধ্য বাড়েরা এলাকার জাকিরুল ইসলাম (৩২), জেলা সদরের ঘাগড়া ইউনিয়নের সজীব মিয়া (২০) ও ময়মনসিংহ শহরের সারদা ঘোষ রোড এলাকার উৎসব সিং সাগর (২৮)।</p><p>এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিপন উদ্দিন বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। পরে পাঁচজনকে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।</p><p>মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি জানতে পারে, সেওড়া মুন্সিবাড়ি এলাকায় উজ্জ্বল মিয়ার বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে কয়েকজন মাদক কারবারি ইয়াবা কেনাবেচার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরে ডিবির একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাঁদের দেহ তল্লাশি করে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।</p><p>ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, মাদকসহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামের গ্রেপ্তারের বিষয়টি তিনি জানার পর কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তির দায় দল নেবে না।</p><p>আজিজুল হাকিম আরও বলেন, ‘আমরা কমিটি গঠনের সময় প্রত্যেকের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করেই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। সে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, সেটি জানা ছিল না। এখনকার বাস্তবতায় যদি কেউ খারাপ কাজে যুক্ত হয়, দল অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আমরা কোনো খারাপ কাজকে উৎসাহিত করি না।’</p><p>জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল হক বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চক্রটি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে তাঁরা কোথা থেকে মাদক সংগ্রহ করতেন এবং কোথায় বিক্রি করতেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি।</p>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
দুই হাজার টাকা মুচলেকায় সেই কিশোরের জামিন যেসব কারণে
দুই হাজার টাকা মুচলেকায় সেই কিশোরের জামিন যেসব কারণে

<p>রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে বিশ্রামরত নির্মাণশ্রমিক গাড়িচাপায় মারা যাওয়ার ঘটনায় আইনের সংস্পর্শে আসা সেই কিশোরকে দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন আদালত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক আজ বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে ওই কিশোরের জামিন মঞ্জুর করেন।</p><p> জামিন আদেশে বলা হয়েছে, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দিয়ে প্রাণহানির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। শিশু আইন, ২০১৩-এর ৩৪ ধারার বিধান অনুসারে বর্ণিত অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদে আটকাদেশের বিধান আছে। আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১ মাস ৫ দিন যাবৎ আটক আছে। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক), টঙ্গী, গাজীপুরের প্রতিবেদনমতে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত ওই শিশুর বর্তমান জটিল শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় বিশেষায়িত চিকিৎসা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৩০০ জনের বিপরীতে বর্তমানে ১ হাজার ১৯ জন শিশু নিবাসী রয়েছে। ফলে বিদ্যমান জনবল, অবকাঠামো ও পরিচর্যাসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার মধ্যে শিশুটির প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত ও নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুরূহ। ওই অবস্থায় শিশুটির চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে তার সর্বোত্তম স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।</p><p>জামিন আদেশে আদালত আরও বলেছেন, ওই কেন্দ্রে অবস্থানকালে শিশুটির শৃঙ্খলাবোধ ও আচার-ব্যবহার সন্তোষজনক মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রত্যয়ন অনুসারে তার শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে শিশুকে জামিনে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর গুরুতর স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনায় যথোপযুক্ত এবং সুচিকিৎসার প্রয়োজনে এবং তার শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুকে দুই হাজার টাকা মুচলেকায় তার পিতা এবং একজন বিজ্ঞ কৌঁসুলির জিম্মায় জামিন মঞ্জুর করা হলো।</p><p>আদালতে দাখিল করা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৮ অক্টোবর ওই কিশোরের তীব্র জ্বর ও অতিরিক্ত বমি শুরু হয়। প্রথমে তাকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে তার অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (ইন্টারনাল হেমোরেজ), আঘাতজনিত মাথার ক্ষত (ট্রমাটিক হেড ইনজুরি) ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত জটিলতার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া তার শ্রবণশক্তি হারানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পরীক্ষায় তার রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা পাওয়া যায় ৪ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এবং সিরাম বিলিরুবিনের মাত্রা ৫ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, এসব ফলাফল কিডনি ও যকৃতের কার্যকারিতাসংক্রান্ত গুরুতর জটিলতার আশঙ্কা নির্দেশ করে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/0xyiwg5x0h">বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: চালকের আসনে থাকা কিশোরের জামিন মঞ্জুর</a></aside><p>প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিশুটির চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে তার সর্বোত্তম স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কেন্দ্রে অবস্থানকালে তার শৃঙ্খলাবোধ ও আচার-ব্যবহারও সন্তোষজনক ছিল।</p><p>গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে গাড়িচাপায় মেহেদী হাসান (২৪) নামের নির্মাণশ্রমিক নিহত হন। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। ঘটনার সময় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। দ্রুতগতির প্রাইভেট কারটি সেই ফুটপাতে উঠে যায়। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মেহেদী। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করেন নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম।</p><p>পুলিশ সূত্রে জানায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। বয়স ১৭ বছর। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন।</p><p>দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিলেন উপস্থিত লোকজন। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রথমে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিশোরের সম্পৃক্ততা পায়। পরে তাকে আইনের সংস্পর্শে আনা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/vzvryph0i8">বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিককে গাড়িচাপা, কিশোর আটক</a></aside><p>এই মামলায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর একই আদালত এই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানোর আদেশ দেন। সেদিন কিশোরের পক্ষে আদালতে জামিনের আবেদন দাখিল করা হয়েছিল। শুনানি নিয়ে তার জামিন নামঞ্জুর করেছিলেন আদালত।</p><p>আজ আদালতে জামিন আবেদনের শুনানিতে ওই কিশোরের পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, ঘটনার দিন দুর্ঘটনার পরপর ৬০ থেকে ৭০ জন উত্তেজিত মানুষ ওই কিশোরের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। তাকে উপর্যুপরি ও বেধড়ক মারধর করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আটক হওয়ার পরও তার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি।</p><p>আদালতে দাখিল করা জামিন আবেদনে ওই শিক্ষার্থীর স্কুল থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে তার শিক্ষাগত পরিস্থিতি ও আসন্ন পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, শিশুটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন অনুযায়ী শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেও তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন।</p><p>রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ওই কিশোরের জামিনের বিরোধিতা করেছেন। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালতে দাখিল করা নথিপত্র যাচাই করে দুই হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/hy6m1wr0dj">বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: চালকের আসনে ছিল কিশোর, মামলায় আসামি আরেকজন </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/febx058u8l">বারিধারায় গাড়িচাপা: সেই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ</a></aside>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
এটা সুইসাইড নয়, তদন্ত করলে অপরাধীদের খুঁজে পাওয়া যাবে: তাহসিফের বাবা
এটা সুইসাইড নয়, তদন্ত করলে অপরাধীদের খুঁজে পাওয়া যাবে: তাহসিফের বাবা

<p>তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর বাবা বলেছেন, এটা সুইসাইড নয়, সরকার তদন্ত করলে এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বের করতে পারবে।</p><figure></figure>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
পেট্রাপোলে পণ্যবাহী ট্রাকের জট, বেনাপোলে প্রবেশে বিলম্বের অভিযোগ
পেট্রাপোলে পণ্যবাহী ট্রাকের জট, বেনাপোলে প্রবেশে বিলম্বের অভিযোগ

<p>শিল্পকারখানার কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ৭০০ থেকে ৭৫০টি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে আটকে রয়েছে। নানা জটিলতায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য প্রবেশ করতে তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগছে এবং এতে অতিরিক্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ আমদানিকারকদের।</p><p> অন্যদিকে ভারতের পেট্রাপোলে বিপুলসংখ্যক ট্রাক আটকে থাকার তথ্য মানতে রাজি নন বেনাপোল কাস্টমসের কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, বর্তমানে সেখানে ৩৫০টির মতো ট্রাক আটকে আছে, যা স্বাভাবিক সময়ের মতোই।</p><p> শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ছয় দিনের ছুটির পর গত শনিবার থেকে উভয় দেশের এ দুটি স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। এ ছাড়া সাইবার হামলার ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সার্ভার দুই দিন বন্ধ রাখা হয়। এর ওপর বেনাপোল স্থলবন্দরে ওয়েট স্কেলে পণ্যের ওজন মাপার সার্ভার বন্ধ থাকায় জট আরও বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার ছুটির সময়ে পেট্রাপোল বন্দরে বাংলাদেশমুখী প্রায় ১ হাজার ৪০০ পণ্যবাহী ট্রাক আটকে পড়েছিল বলে জানান দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বেনাপোল কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, খোলার পর কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পচনশীল ৭৭টি ট্রাক পণ্য খালাস করা হয়।</p><p>বেনাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে ১ হাজার ১৫০টি ট্রাক এসেছে। এখনো প্রায় ৭৫০টি ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।</p><p>মতিয়ার রহমান আরও বলেন, কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দিনের প্রথম ভাগে কার্গো বা পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত করতে হবে। পাশাপাশি পচনশীল ও দ্রুত পচনশীল পণ্য, যেমন গ্যাস ও জিলেটিন ক্যাপসুল খালাসের জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে (বিএলপিএ) অবশ্যই ২ নম্বর গেট খুলে দিতে হবে। এ ছাড়া দুই পারের কার্গো ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের নম্বর পরস্পরের মধ্যে আদান-প্রদান করা প্রয়োজন।</p><p>ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী মোবাইল ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দুর্গাপূজার ছুটির কারণে ১ হাজার ৪০০ ট্রাক আটকে পড়েছিল। পরে বাংলাদেশের সার্ভার জটিলতায় দুই দিন পণ্য প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হয়। বাণিজ্য গতিশীল করতে ভারত ও বাংলাদেশের উভয় পাশের অবকাঠামো আরও আধুনিক ও সহজ করার তাগিদ দেন তিনি।</p><p>কার্তিক চক্রবর্তী আরও বলেন, আগে দুই পারের ব্যবসায়ীদের ‘কারপাস’ বা বিশেষ পাস দেওয়া হতো। এর মাধ্যমে তাঁরা সহজেই অন্য পারের বন্দরে গিয়ে কাগজপত্রের কাজ সেরে নিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে নিরাপত্তার অজুহাতে তা বন্ধ থাকায় দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।</p><p>অভিযোগের বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পূজার ছয় দিনের ছুটির কারণে পণ্যবাহী ট্রাকের যে জট তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। বর্তমানে পেট্রাপোলে ৩৫০টির মতো ট্রাক আটকে আছে। এখন প্রতিদিন প্রায় ৪৫০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোলে প্রবেশ করছে, যা স্বাভাবিক সময়ে থাকে ৩০০ থেকে ৩৫০টি। জট কমাতে বর্তমানে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কাজ চালানো হচ্ছে।</p><p>কাস্টমস কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এটাকে ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেন কমিশনার ফাইজুর রহমান। তিনি বলেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের নিয়ম থাকলেও অনেক কর্মকর্তা রাত ১০টা পর্যন্ত উপস্থিত থেকে কাজ সম্পন্ন করেন।</p>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি, কমেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি
সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি, কমেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির ধরন: জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের গড় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশে নেমেছে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।