<p>৮০ বছর বয়সী এক ভদ্রলোক এবং মধ্য বয়সী এক নারী কথা প্রসঙ্গে আমাকে বলেছিলেন, অ্যাকসিডেন্ট করার পর থেকে তাঁরা আর ড্রাইভ করেন না। প্রয়োজনে উবার কল করেন। ড্রাইভিং লাইসেন্সটি ফটো আইডি হিসেবে তাঁরা ব্যবহার করেন। যাঁরা ড্রাইভিংয়ে অনিচ্ছুক এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নেননি, তাঁদের অনেকেই সার্ভিস অন্টারিও (সরকারি অফিস) থেকে বাৎসরিক ফি পরিশোধের মাধ্যমে ফটো আইডি নিয়ে থাকেন। নর্থ আমেরিকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ফটো আইডি হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই আছেন, যাঁরা ড্রাইভ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। তারপরও বলা যায়, শীতের দেশে এই নর্থ আমেরিকায় গাড়িহীন জীবন একেবারেই অচল। ড্রাইভিংয়ের সময় নিয়ম ভঙ্গের জন্য পুলিশের টিকিট ছায়া হয়ে আশপাশেই ওত পেতে থাকে এবং গাড়ি পার্কিংয়ে ভুল ও অবহেলার কারণেও রয়েছে টিকিটের ব্যবস্থা। পান থেকে চুন খসলেই খবর আছে!</p><p>অগ্রজ ফরিদ ভাই হলুদ রঙের পার্কিং টিকিটের এই জরিমানার কাগজের (টিকিট) নাম দিয়েছেন গিফট সার্টিফিকেট। পুলিশের টিকিট সে তাঁর গাড়ির কম্পিউটার থেকে সাদা কাগজে সঙ্গে সঙ্গেই প্রিন্ট করে দেন এখন। ড্রাইভিংয়ের সময় ওয়াশরুমের প্রয়োজন হলে গ্যাস স্টেশন, কফির দোকান (টিম হর্টনস, স্টার বাকস্), শপিং মল কিংবা হোটেলে যেতে হয়। তখন গাড়ি অবশ্যই যথাস্থানে পার্ক করতে হবে। করোনার অনেক আগে একদিন দুপুরে ফরিদ ভাই ডাউনটাউনের এসপ্লানেড স্ট্রিটে অবস্থিত নভোটেল হোটেলে গেছেন ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্য। তিনি তখন তাঁর গাড়িটি হোটেলের লবিতে পার্ক করেছিলেন। এটি ড্রপ অফ ও পিকআপ জোন। ডেজিগনেটেড পার্কিং স্পট নয়। ওয়াশরুম থেকে ফিরে হোটেলের লবি থেকেই তিনি দেখতে পান, দুজন পুলিশ সদস্য সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর গাড়ির পাশে। গাড়ির চালককে নাগালে পেলেই তাঁরা জরিমানা করবেন। করিতকর্মা ফরিদ ভাই হোটেলের ভেতরে গ্লাসের ওপাড়ে থেকেই প্রায় দুই ঘণ্টা পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি খেললেন। অধৈর্য হয়ে পুলিশ দুজন সাইকেলে চড়ে পিঠ টান দেওয়ার পর ফরিদ ভাই বিজয়ের হাসি দিয়ে ফোন করে ঘটনার আদ্যোপান্ত জানালেন। এখন আর সেই যুগ নেই, পার্কিং ইন্সপেক্টরদের হাতে আধুনিক ডিভাইস দেওয়া হয়েছে। তাঁরা গাড়ির ছবি তুলতে পারলেই যথেষ্ট। তারিখ, সময়, লোকেশন উল্লেখ করে জরিমানার টিকিট এখন ডাকযোগে বাসায় চলে আসে। প্রযুক্তির কারণে তাঁদের পেশাদারত্ব সহজতর হয়েছে।</p><p>সকাল ও বিকেলের নির্দিষ্ট একটি সময় ট্রাফিক নিয়মানুযায়ী রাশ আওয়ার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে শহরে। এই রাশ আওয়ারে বিভিন্ন সড়কে লেফট টার্ন করা নিষেধ। কোথাও কোথাও রেড লাইটে রাইট টার্ন নিষেধ।</p><p>ড্রাইভিং শুরুর প্রথম দিকে (সম্ভবত ২০০৪ সাল) কিং স্ট্রিট ওয়েস্ট অ্যান্ড আটলান্টিক স্ট্রিটে সকাল নয়টার সামান্য একটু আগে লেফট টার্ন করার সঙ্গে সঙ্গেই মামা (পুলিশ) আমাকে থামিয়ে বললেন, তুমি আমাকে ইনসাল্ট করেছ! তিনি তাঁর গাড়ির দরজা খুলে ড্রাইভিং সিটে বসে ছিলেন। আমি আমার বাঁ দিকে একটু বেশি করে ঘাড় ঘোরালে তাঁকে দেখতে পেতাম। এক্সকিউজ মি, তোমাকে কীভাবে ইনসাল্ট করেছি, তুমি একটু বুঝিয়ে বললে ভালো হয়। সে বলল, রাশ আওয়ারে এই আটলান্টিক স্ট্রিটে লেফট টার্ন নিষেধ। আমি তো এখানে বসে আছি, তারপরও তুমি ইচ্ছাকৃতভাবে লেফট টার্ন করে আমাকে ইনসাল্ট করেছ। তুমি এটার পরের স্ট্রিট জেফারসনে লেফট টার্ন করতে পারতে। এক্সকিউজ মি, আসলে আমি তোমাকে খেয়াল করিনি। তোমাকে দেখলে তো আর আমি বোকার মতো ভুল করি না। আটলান্টিকে লেফট টার্ন না করে জেফারসনে লেফট করা যায়, সেটাও আমি জানি। ‘ভুল সবই ভুল এই জীবনের পাতায় পাতায়’।</p><p>সাধারণত পুলিশ টিকিট দেওয়ার পর বলে, তোমার কিছু বলার থাকলে তুমি কোর্টে যেতে পারো। বাসায় আসার পর বিকেলে বন্ধু মহিউদ্দিন আহমেদ বিন্দুকে ফোনে জিজ্ঞাসা করি, জীবনের প্রথম টিকিটের জরিমানা কি দিয়ে দেব? না, না, জরিমানা দিয়ো না। জরিমানা দিলে তোমার ইনস্যুরেন্স বাড়বে, কোর্টে যাও। যথারীতি কোর্টে গিয়ে ফর্ম পূরণ করার চার-পাঁচ মাস পর ডাকযোগে চিঠি এল, তোমার আমলনামা থেকে উল্লিখিত টিকিটটি ওয়েভ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো জরিমানা দিতে হবে না। কোনো কারণে মামা নির্দিষ্ট তারিখে কোর্ট উপস্থিত হতে অপারগ ছিলেন, এই জন্য মওকুফ পাওয়া গেল। আপিলের তারিখে কোর্টে পুলিশ উপস্থিত থাকলে চিত্রনাট্য পাল্টে যায়। ব্যস্ততার কারণে অনেকে উকিলের সাহায্য নেন।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>একদিন সকালে সাউথ অব মার্টনে ইয়াং স্ট্রিটের সাউথ বাউন্ডে ড্রাইভিংয়ের সময় মামার খপ্পরে আটকে গেলাম। তিনি লাইট পোস্টের আড়ালে নর্থের দিকে স্পিড ক্যামেরা হাতে শুটিং মুডে ছিলেন। রাস্তার এই অংশটি ধনুকের মতো বাঁকা বা ঢালু (লো-হিল), এ কারণে চলমান গাড়ির গতি দ্রুত বেড়ে যায়। মামা আমাকে থামিয়ে জোড়ালো কণ্ঠে বললেন, সিট টাইট। তিনি আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে গেলেন। ফিরে এসে টিকিট দিয়ে বললেন, তোমার গাড়ির গতি বেশি ছিল, এই নাও তোমার টিকিট। তুমি জরিমানার টাকা যথাসময়ে জমা দিও, যদি কোর্টে গিয়ে আপিল করো, তাহলে তোমার জরিমানার অঙ্ক এখনই বাড়িয়ে দেব। বললাম, এক্সকিউজ মি, মামা তুমি যদি ক্যামেরাটা আমাকে একটু দেখাও তাহলে ভালো হয়। আমার গাড়ির স্পিড কত ছিল? মামা তাঁর বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, টিকিট ফেরত দাও এবং সিট টাইট। তোমাকে আরেকটি টিকিট দেব। টিকিটসহ আমার হাত সরিয়ে নিয়ে বলি, আচ্ছা মামা, আমার ভুল হয়েছে। ক্যামেরা দেখাতে হবে না। আমি সুবোধ বালকের মতো তোমার উল্লিখিত জরিমানা যথাসময়ে পরিশোধ করব। "‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা তখন আমার। পরদিনই কোর্টে গিয়ে আপিল করি। চার-পাঁচ মাস পর ডাকযোগে চিঠি আসে, তোমার আমলনামা থেকে টিকিট ওয়েভ করা হয়েছে। তখন পুলিশ মামাকে উদ্দেশ্য করে বলি, ‘পিচঢালা এই পথটারে ভালোবসেছি/ তার সাথে এই মনটারে বেঁধে নিয়েছি/ রংভরা এই শহরে যতই দেখেছি/ আরে গোলকধাঁধার চক্করে ততই পড়েছি’।</p><p>আমি ইস্ট বাউন্ডে ড্রাইভিংয়ে ছিলাম, বাসায় ফিরতে হলে ওয়েস্ট বাউন্ডে ড্রাইভ করতে হবে। বাসায় ফেরার জন্য আমার বাঁ দিকে নর্থ বাউন্ডের ওয়ান-ওয়ে স্ট্রিটের গলির মুখে ঢুকে সঙ্গে সঙ্গেই ইউ টার্ন করি। ওয়ান-ওয়ে নির্দেশনার কালো রঙের সাইনটি গ্রীষ্মের ঝুলন্ত ফুলগাছের আড়ালে থাকায় আমার নজর কাড়েনি। রাস্তার সাউথে কনস্ট্রাকশন কাজের তদারকিতে ছিলেন এক পুলিশ মামা। তিনি সাইকেল পুলিশের সঙ্গে গল্পরত অবস্থায় আমাকে লক্ষ করেন। আমার ভুল ইউ টার্ন দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বিষয়টি সাইকেল পুলিশের দৃষ্টিগোচরে আনেন। ‘পড়বি পড় মালির ঘাড়ে...’। বিনা পরিশ্রমের শিকার তো আর এত সহজে হাতছাড়া করা যায় না। তিনি সাইকেলসহ দৌঁড়ে এসে আমাকে পাকড়াও করলেন। যদিও তিনি নিজের চোখে আমার ভুল প্রত্যক্ষ করেননি। টিকিট নিয়ে আপিল করার পর কোর্টের তারিখ এল ডাকযোগে। কোর্টে উপস্থিত হওয়ার পর দেখি, মামা অনুপস্থিত। বেঞ্চ ক্লার্ক সবাইকে জানালেন, আজ সরাসরি জরিমানার টাকা পরিশোধ করা সম্ভব নয়, তাঁদের নিচতলার পেমেন্ট অফিসের পিওএস টার্মিনাল ডিসঅর্ডার। সবাইকে তিনি টাকা পরিশোধের জন্য সম্ভাব্য অফিসের ঠিকানা ও নির্দেশনার কাগজ হস্তান্তর করলেন। পুলিশ অনুপস্থিত থাকলে আমার টিকিট ওয়েভ হওয়ার কথা। সেটি আর হলো না। দুই-তিন দিন পর ডাউনটাউনের অফিসে টাকা পরিশোধের জন্য গেলে জানতে পারি, আমার টিকিট ওয়েভ হয়েছে। কারণ, কোর্ট থেকে আমি চলে আসার পর পুলিশ উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি লেট-লতিফ হওয়ার কারণে বিচারক আমার টিকিট ওয়েভ করেছেন। এটি শুরুতেই হওয়ার কথা ছিল।</p><p>সব সময়ই একটু পরপর তিনটা মিররে চোখ রাখি। রেড লাইটের খপ্পর থেকে বাঁচার জন্য লেফট টার্ন করার সময় দ্রুত টার্ন করতে গিয়ে ডান দিকে তাকাতে ভুলে গিয়েছি। ইন্টারসেশনের ডান দিকের রেড লাইটে প্রথমেই মামা দণ্ডায়মান ছিলেন। ঝড়ের বেগে আকাশসমান পাহাড় হয়ে তিনি আমার বাঁ পাশে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের আড়ালে থাকা অডিও রেকর্ডার অন করে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে কেন থামিয়েছি জানো? না, জানি না। তুমি রেড লাইটে লেফট টার্ন করেছ। এক্সকিউজ মি, আমি কি কথা বলতে পারি। হ্যাঁ, বলো। আমি রেড লাইটে লেফট টার্ন করিনি। আমি লেফট টার্ন করার সময় ইয়োলো থেকে রেড হয়েছে, গ্রিন লাইটের সময় আমি ইন্টারসেকশনের মাঝে ছিলাম। তোমার কাগজপত্র দাও। ১৪০ ডলার ও ২৪০ ডলারের টিকিট দিয়ে বললেন, তোমার গাড়ির স্পিড বেশি ছিল, এখানে বাইক লেন আছে, এ জন্য তোমার সতর্ক থাকা উচিত। ইচ্ছা করলে তুমি কোর্টে যেতে পারো। গত দুই দশকে কোর্টে আপিল করার সময় কখনোই আমি দোভাষীর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করিনি এবং কোনো উকিল নিয়োগ করিনি। এবার কেন জানি না, ফর্ম পূরণের সময় আমার ইনটুইশন দোভাষীর জন্য বক্সে টিক চিহ্ন দিতে সায় দিল। চার-পাঁচ মাস পর ডাকযোগে চিঠি পেয়ে নির্দিষ্ট তারিখে কোর্টে উপস্থিত হই। বেঞ্চ ক্লার্ক বললেন, একটু অপেক্ষা করো, দেখি পুলিশ তোমার ফাইলে কী নোট লিখেছে। তিনি তাঁর কম্পিউটার থেকে চোখ তুলে বললেন, কোর্ট শুরু না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো প্লিজ। ডানে-বাঁয়ে তাকিয়ে দেখি, আমরা মাত্র ১০-১২ জন। দোভাষী মামাও লেট–লতিফ। যথারীতি আদালত শুরু হওয়ার পর আমার নাম উচ্চারিত হলে মহামান্য বিচারক জানান, ইউ আর ফ্রি টু গো। দুটি টিকিটই ওয়েভ করা হয়েছে। ‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে’!</p><p>মজুমদার ভাই সব সময়ই টিকিট নিয়ে কোর্টে আপিল করার সময় দোভাষীর জন্য অনুরোধ জানাতেন। তাঁকে বলেছি, যে ব্যক্তি ইংরেজি ভাষায় ভাব আদান-প্রদানে অথবা কথা বলায় দুর্বল, তাঁর জন্য দোভাষী প্রয়োজন। আপনি কোর্টে কেন দোভাষীর সাহায্য নেন? আপনার তো দোভাষীর প্রয়োজন নেই। বললেন, আরে জানেন না তো, দোভাষী অনুপস্থিত থাকলে টিকিট মাফ, কেস ডিসমিস।</p><p>ইন্টারসেকশনে রেড লাইটে ক্যামেরা আছে। গাড়ির অবস্থান, তারিখ, সময়, ছবিসহ ৪৫০ ডলারের টিকিট ডাকযোগে বাসায় চলে আসে। ড্রাইভিংয়ের সময় সেলফোন হাতে নিয়ে কথা বলা এবং ফেসবুকে যাওয়া নিষেধ। এ–জাতীয় অপরাধ সাইকেলে চলমান পুলিশের নজরে এলে কিংবা পুলিশের ক্যামেরায় ধরা পড়লে প্রায় ৬৫০ ডলারের টিকিট এবং তিন পয়েন্ট ডিমেরিট। গাড়িতে সবার জন্য সিট বেল্ট ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। সিট বেল্ট ব্যবহার না করলে ২০০ ডলারের টিকিট। রেড লাইটে থেমে থাকা গাড়িতে সাইকেল পুলিশ উঁকি দিয়ে পরীক্ষা করেন। রাস্তায় চলমান ট্রাফিকের কারণে ইন্টারসেকশনের বক্সে আটকে থাকার পর রেড লাইট হলে ৪৫০ ডলারের টিকিট। এই আইন নতুন নাজিল হয়েছে, অনেকেই জানেন না। এসবের জন্যও কোর্টে যাওয়া যায়। টিকিট থেকে রক্ষা পেতে চাইলে সাবধানতার (ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং) কোনো বিকল্প নেই। তারপরও ‘ছায়া হয়ে তবু পাশে রইব’ গানের বাণীর মতো তাঁরাও আমাদের আশপাশেই থাকেন অহর্নিশ।</p>
নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করার পর নিজেদের সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আবার শুরু করেছে ওপেনএআই।
<p>ফরাসি ঔপন্যাসিক গুস্তাভ ফ্লবেয়ারকে এবার দেখা যাবে তাঁর জীবনের নারীদের চোখ দিয়ে। ব্রিটিশ–তুর্কি লেখক এলিফ শাফাকের নতুন উপন্যাস ইন ওয়ান ব্রিফ মোমেন্ট অল ইটারনিটিতে উঠে এসেছে সেই আখ্যান। চলতি মাসের ১৫ তারিখে যুক্তরাজ্যের ভাইকিং প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে ৬০৮ পৃষ্ঠার এই নতুন বইটি। সাহিত্যের জগতে এলিফ শাফাক বেশ পরিচিত নাম। বাংলাদেশেও অনেক পাঠক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন তাঁর নতুন বইয়ের জন্য। মূলত ফরটি রুলস অব লাভ বইয়ের জন্যই অধিকাংশ পাঠক তাঁকে মনে রেখেছেন। এ ছাড়া তাঁর দুর্দান্ত সব বই আছে। এলিফ শাফাকের নতুন বই নিয়েও তাই অনেকেই উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন।</p><p>উপন্যাসের কেন্দ্রে ফ্লবেয়ার থাকলেও বইয়ে উঠে এসেছে তাঁর জীবনের অন্যান্য নারী চরিত্রদের বয়ানও। বাস্তবের চরিত্রাবলির পাশাপাশি কাল্পনিক কিছু চরিত্রের বয়ানেও উপন্যাসকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন এলিফ শাফাক। উনিশ শতকের ফ্রান্স থেকে উপন্যাসের যাত্রা বিস্তৃত হয়েছে ইস্তাম্বুল, কায়রো, ফিলিস্তিন ও বৈরুত পর্যন্ত। ফ্লবেয়ারের শৈশব, লেখালেখি ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি এসেছে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় শিল্প সৃষ্টির প্রসঙ্গ।</p><blockquote>উপন্যাসের কেন্দ্রে ফ্লবেয়ার থাকলেও বইয়ে উঠে এসেছে তাঁর জীবনের অন্যান্য নারী চরিত্রদের বয়ানও। বাস্তবের চরিত্রাবলির পাশাপাশি কাল্পনিক কিছু চরিত্রের বয়ানেও উপন্যাসকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন এলিফ শাফাক। উনিশ শতকের ফ্রান্স থেকে উপন্যাসের যাত্রা বিস্তৃত হয়েছে ইস্তাম্বুল, কায়রো, ফিলিস্তিন ও বৈরুত পর্যন্ত। ফ্লবেয়ারের শৈশব, লেখালেখি ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি এসেছে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় শিল্প সৃষ্টির প্রসঙ্গ।</blockquote><p>দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাফাক বইটিকে সাহিত্যের প্রতি তাঁর ভালোবাসার চিঠি বলেছেন।</p><p>দ্য ফর্টি রুলস অব লাভ, দ্য আইল্যান্ড অব মিসিং ট্রিজ ও দেয়ার আর রিভার্স ইন দ্য স্কাই–এর লেখক শাফাক এর আগেও ইতিহাস, স্মৃতি ও উপেক্ষিত মানুষের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন। তাঁর টেন মিনিটস থার্টি এইট সেকেন্ডস ইন দিস স্ট্রেঞ্জ ওয়ার্ল্ড উপন্যাসটি ২০১৯ সালে বুকারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল।</p><p>সূত্র: পেঙ্গুইন, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান ও লেখকের ওয়েবসাইট</p>
<p>রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করে। </p><p>তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আরিফ আহমদকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-৩) ইমতিয়াজ হোসেনকে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/0hqopntka9">আইইডিসিআরের কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধর, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে</a></aside><p>কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দায়দায়িত্ব নিরূপণ, প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও যুক্ত করতে পারবে বলেও আদেশে বলা হয়েছে।</p><p>আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে আইইডিসিআরের পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে মারধরের ঘটনা ঘটে। অধ্যাপক কাজী আহমেদের অভিযোগ, ড্যাবের কর্মীরা মব সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।</p><p>অধ্যাপক কাজী আহমেদকে মারধরের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রথম আলোর হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি নিজের কক্ষে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় আট থেকে নয়জন কক্ষে ঢুকে তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে তোলেন এবং মারধর শুরু করেন।</p><p><strong>কারণ দর্শানোর নোটিশ ড্যাবের</strong></p><p>এদিকে এ ঘটনায় পৃথক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসানের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।</p><p>ড্যাবের চিঠিতে বলা হয়েছে, আইইডিসিআরের পরিচালকের কক্ষে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জাহিদ হাসানের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এ বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্যাবের সভাপতি ও মহাসচিবের কাছে যথাযথ জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।</p>
<p>ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ গতকাল মঙ্গলবার থেকে আজ বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত দেশে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৮২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৯। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে।</p><p>স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬০৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬ হাজার ২০৫ জন।</p><p>গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।</p><p>বিভাগভিত্তিক হিসাবে, চলতি বছর ঢাকা বিভাগে (ঢাকা মহানগরসহ) ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৪০ জন, খুলনা বিভাগে ৭৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৮ জন, বরিশাল বিভাগে ২৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৩ জন, রংপুর বিভাগে ৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩ জন মারা গেছেন।</p><p>হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যার দিক থেকেও ঢাকা বিভাগ শীর্ষে। এ বিভাগে চলতি বছর ৫২ হাজার ৯৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১৯ হাজার ৫৫ জন এবং খুলনা বিভাগে ১৯ হাজার ৮২১ জন। বরিশাল বিভাগে এ সংখ্যা ১৬ হাজার ২৪৬, রাজশাহী বিভাগে ৯ হাজার ৮৭৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ হাজার ৯৫৫, রংপুর বিভাগে ৪ হাজার ৫০৭ এবং সিলেট বিভাগে ৮১২ জন।</p><p>স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ৩০৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগরে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩৯৫।</p>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/ug1q4q66/ABPARTY.jpg"><figcaption>মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা। ২৮ অক্টোবর </figcaption></figure><p>জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেছেন, সনদের ৫ হাজার ৬৯০ শব্দের মধ্যে বর্তমান সরকার কয়টি অক্ষর বাস্তবায়ন করেছে, জনগণ তার হিসাব জানতে চায়। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে একদিন রাজনৈতিক ও আইনগত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।</p><p>রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আজ বুধবার ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মঞ্জু এ কথা বলেন। এবি পার্টির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।</p><p>মঞ্জু বলেন, কোন ভাষায় সমালোচনা করলে কিংবা কী ধরনের কর্মসূচি দিলে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হবেন না, তা তাঁদের জানা নেই।</p><p>সভায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। বাক্স্বাধীনতা হরণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিরোধী দল কেবল পাঁচ বছর পর ক্ষমতায় আসার অপেক্ষায় থেকে ‘কুসুম-কুসুম বিরোধিতা’ করলে তা ভুল সিদ্ধান্ত হবে।</p><p>এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জনগণ বিচার ও সংস্কার চায়। সরকার চাইলেও কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দিতে পারে না। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই জুলাই সনদ প্রয়োজন।</p><p>ভয়েস অব রিফর্মের সংগঠক মাশরুর ফাহিম বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সাইবার সুরক্ষার মতো বিষয় নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি না করে বাস্তবায়নের দিকে এগোতে হবে।</p><p>এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে গ্রেপ্তারের মতো ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে নতুন বিতর্ক অতীতের রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে।</p><p>সভায় আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী ও কলামিস্ট আমাতুল্লাহ রুবী, এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবি পার্টির আহ্বায়ক আবদুল হালিম খোকন প্রমুখ।</p>
বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে খাদ্যে স্বনির্ভরতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা। তেলসম্পদের আয় কৃষিতে কাজে লাগিয়ে দেশটি কমাতে চাইছে আমদানিনির্ভরতা।
<p>আমাদের বিশ্বমানের মেট্রোরেল আছে, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠছে, নগরজীবনে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধা। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। কিন্তু একটি প্রশ্ন বারবার মনে জাগে—আমরা কি সেই উন্নত ব্যবস্থার উপযুক্ত নাগরিক হয়ে উঠতে পেরেছি? মেট্রোরেলের মতো আধুনিক গণপরিবহন ব্যবহার করতে শিখেছি ঠিকই, কিন্তু এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার মতো ন্যূনতম নাগরিক শিষ্টাচার কি আমরা অর্জন করতে পেরেছি?</p><p>খুব বেশি দেশ না হলেও বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণের সুযোগ আমার হয়েছে। সেসব দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, উন্নত দেশগুলোতে মেট্রোরেল কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার বাহন নয়; এটি মানুষের শৃঙ্খলা বোধ, দায়িত্বশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক মূল্যবোধেরও একটি পরিচায়ক। সেখানে নিয়ম মেনে চলা, অন্যের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং গণপরিসরে নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতন থাকার বিষয়গুলো বিশেষভাবে লক্ষণীয়।</p><p>আমাদের দেশে মেট্রোরেল তুলনামূলক নতুন সংযোজন হলেও বিশ্বের অনেক দেশে বহু দশক আগেই এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় সেসব দেশের মানুষ গণপরিবহন ব্যবহারের নিয়মকানুন ও শিষ্টাচারকে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নিয়েছেন। অবশ্য সব দেশের সব মানুষই যে নিয়ম মেনে চলেন, তা নয়। কিন্তু নিয়ম মানার সামাজিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের অনেকের কাছ থেকেই আমাদের শেখার আছে।</p><p>দুঃখজনক বিষয় হলো, আমরা আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে এগিয়ে গেলেও আমাদের একাংশের মনমানসিকতা, আচরণ ও সামাজিক দায়িত্ব বোধে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারিনি।</p><p><strong>সংরক্ষিত আসন: অধিকার নয়, মানবিকতারও পরীক্ষা—</strong></p><p>মেট্রোরেলে বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাঁদের চলাচলে বিশেষ অসুবিধা হয়, তাঁদের জন্য অগ্রাধিকারমূলক বা সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য অত্যন্ত মানবিক—যাঁদের বসার প্রয়োজন বেশি, তাঁরা যেন প্রয়োজনীয় সুবিধাটুকু পান।</p><p>কিন্তু আমাদের মেট্রোরেলে প্রায়ই এমন দৃশ্য চোখে পড়ে, যা সত্যিই বিব্রতকর। যাঁদের জন্য আসন সংরক্ষিত, তাঁদের অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়; অথচ সেই আসনগুলোতে বসে থাকেন এমন কিছু সুস্থ-সবল যাত্রী, যাঁদের পক্ষে অনায়াসেই অন্য কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব।</p><p>সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, কোনো বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিংবা চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে, এমন কোনো নারী সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ কেউ নির্বিকার থাকেন। কেউ অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নেন, কেউ মুঠোফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, আবার কেউ এমনভাবে বসে থাকেন যেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির প্রতি তাঁর কোনো দায়বদ্ধতাই নেই।</p><p>প্রশ্ন হচ্ছে, একজন মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় বা শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখেও কীভাবে তাঁর বিবেক নীরব থাকে? একটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়তো কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার, কিন্তু সেই ছোট্ট কাজটিই অন্য একজন মানুষের জন্য অনেক বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে।</p><p>এখানে বিষয়টি শুধু নিয়ম মানার নয়; এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা ও বিবেকেরও প্রশ্ন। সংরক্ষিত আসনে বসে থাকা ব্যক্তির যদি সত্যিই বিশেষ কোনো প্রয়োজন থাকে, সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অন্যের অধিকারের প্রতি উদাসীন থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।</p><blockquote>অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে, বদলাচ্ছে না আমাদের মানসিকতা—শৃঙ্খলা বোধ ও নাগরিক দায়িত্ব বোধের এই ঘাটতি আর কত দিন?</blockquote><p><strong>গণপরিবহন কি শুধু নিজের সুবিধা আদায়ের জায়গা?</strong></p><p>মেট্রোরেলসহ যেকোনো গণপরিবহন একটি যৌথ পরিসর। এখানে প্রত্যেক যাত্রীর সমান মর্যাদা রয়েছে, কিন্তু সবার প্রয়োজন সমান নয়। কারও শারীরিক সীমাবদ্ধতা আছে, কারও বয়স বেশি, কেউ অসুস্থ, আবার কেউ সাময়িকভাবে দুর্বল বা ক্লান্ত। তাই গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজের সুবিধার পাশাপাশি অন্যের প্রয়োজন বিবেচনা করাও জরুরি।</p><p>কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়, যেখানে নিজের সুবিধাটুকু নিশ্চিত করতে পারলেই যেন দায়িত্ব শেষ। অন্য কেউ কষ্ট পাচ্ছেন কি না, তাঁর অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না, কিংবা তাঁর জন্য সামান্য কিছু করা সম্ভব কি না—এসব ভাবার অবকাশ অনেকেরই নেই।</p><p>মনে রাখতে হবে, সভ্যতার পরিচয় শুধু আমরা কত দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি, তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং যাত্রাপথে অন্য মানুষের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করি, সেটিও সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।</p><p>বিশৃঙ্খলাকে আমরা যেন অলংকার হিসেবে পরিধান করেছি!</p><p>এ তো গেল মেট্রোরেলের কথা। বাস্তবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের আরও অনেক ক্ষেত্রেই একই ধরনের চিত্র দেখা যায়। সড়কে চলাচল, যানবাহনে ওঠানামা, ফুটপাত ব্যবহার, সারিতে দাঁড়ানো, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহণ কিংবা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ—প্রায় সর্বত্রই শৃঙ্খলা বোধের ঘাটতি চোখে পড়ে।</p><p>সারিতে দাঁড়ানোর পরিবর্তে আগে যাওয়ার চেষ্টা, সামান্য সুবিধার জন্য অন্যকে ঠেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা, উচ্চ স্বরে কথা বলে অন্যের বিরক্তির কারণ হওয়া কিংবা নিয়ম ভঙ্গ করেও নিজের আচরণকে স্বাভাবিক বলে মনে করা—এসব প্রবণতা আমাদের সামাজিক জীবনে নতুন নয়।</p><p>সবাই এমন আচরণ করেন, বিষয়টি অবশ্যই তা নয়। আমাদের সমাজে দায়িত্বশীল, মানবিক ও সচেতন মানুষেরও অভাব নেই। কিন্তু নিয়ম ভাঙার প্রবণতা যখন বারবার চোখে পড়ে এবং অন্যায় আচরণের জন্য মানুষ যখন সামাজিকভাবে বিব্রত বোধ করেন না, তখন বুঝতে হবে সমস্যাটি কেবল ব্যক্তিবিশেষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও অভ্যাসেরও সম্পর্ক রয়েছে।</p><p>কথাটা কঠিন হলেও সত্য—কখনো কখনো মনে হয়, বিশৃঙ্খলাকে আমরা যেন অলংকার হিসেবে পরিধান করেছি। নিয়ম মানাকে দুর্বলতা আর নিয়ম ভেঙে নিজের সুবিধা আদায় করাকে বুদ্ধিমত্তা বলে ভাবতে শিখেছি। অথচ প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা হলো এমনভাবে নিজের কাজ সম্পন্ন করা, যাতে অন্যের অধিকার ও সুবিধা ক্ষুণ্ন না হয়।</p><p><strong>উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোয় নয়, মানুষের মননেও প্রয়োজন—</strong></p><p>একটি দেশের উন্নয়নকে শুধু সেতু, সড়ক, উড়ালসড়ক, মেট্রোরেল কিংবা সুউচ্চ ভবন দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এসব অবকাঠামো উন্নয়নের দৃশ্যমান প্রতীক। কিন্তু একটি দেশের প্রকৃত অগ্রগতির সঙ্গে নাগরিকদের মূল্যবোধ, দায়িত্বশীলতা, সহনশীলতা, আইন মানার প্রবণতা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গভীরভাবে সম্পর্কিত।</p><p>আমরা যদি আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা নির্মাণ করি, অথচ সেখানে অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে না শিখি, তাহলে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক অপূর্ণ থেকে যায়। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করতে পারে, কিন্তু প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সচেতন ও দায়িত্বশীল মানুষ।</p><p>এ কারণে নাগরিক শিষ্টাচার শেখানোর কাজটি শুধু পরিবার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। পরিবারে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই অন্যকে সম্মান করা, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নিয়ম মেনে চলা এবং নিজের অধিকার চর্চার পাশাপাশি অন্যের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নাগরিক দায়িত্ব বোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। গণপরিবহন কর্তৃপক্ষকেও নিয়মিত প্রচার, দৃশ্যমান নির্দেশনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে।</p><p>একই সঙ্গে আমাদের প্রত্যেকের নিজের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন। আমি কি নিয়ম মেনে চলছি? আমার আচরণে অন্য কেউ সমস্যায় পড়ছেন কি না? আমার সামান্য অসচেতনতা কি অন্য কারও কষ্টের কারণ হচ্ছে? এমন আত্মজিজ্ঞাসাই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হতে পারে।</p><p><strong>পরিবর্তন শুরু হোক নিজের কাছ থেকে—</strong></p><p>আমরা প্রায়ই দেশের সমস্যা নিয়ে কথা বলি, অন্যের ভুল তুলে ধরি এবং সমাজের পরিবর্তন প্রত্যাশা করি। কিন্তু পরিবর্তনের দায়িত্বটি নিজের ওপর নিতে কতটা প্রস্তুত? অন্যকে নিয়ম মানতে বলার আগে নিজে নিয়ম মানছি কি না, অন্যের কাছ থেকে মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করার আগে নিজে সেই আচরণ করছি কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও আমাদের খুঁজতে হবে।</p><p>মেট্রোরেলে সংরক্ষিত আসনে বসার প্রয়োজন না থাকলে যাঁর প্রয়োজন বেশি, তাঁকে আসন ছেড়ে দেওয়া; সারিতে দাঁড়ানো; ওঠানামার সময় অন্যকে সুযোগ দেওয়া; ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা; অপ্রয়োজনে অন্যকে বিরক্ত না করা এবং গণপরিসরের নিয়ম মেনে চলা—এসব কোনো অসাধ্য কাজ নয়। প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের।</p><p>আমাদের মনে রাখতে হবে, নাগরিক শিষ্টাচার কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একটি সুস্থ ও সভ্য সমাজের মৌলিক উপাদান। নিয়ম মানতে পুলিশ বা কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি সব সময় প্রয়োজন হবে কেন? মানুষের নিজের বিবেক, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধই তো তাঁকে সঠিক পথে পরিচালিত করার কথা।</p><p>পরিশেষে বলতে চাই, বিশ্বমানের মেট্রোরেল নির্মাণ আমাদের সক্ষমতার পরিচয়, কিন্তু সেই মেট্রোরেলে দায়িত্বশীল যাত্রী হয়ে ওঠা আমাদের মানসিকতা ও নাগরিক সংস্কৃতির পরিচয়। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি যদি আমাদের চিন্তা, আচরণ ও মূল্যবোধের উন্নয়ন ঘটাতে না পারি, তাহলে উন্নয়নের পূর্ণ সুফল অর্জন করা সম্ভব হবে না।</p><p>আমরা শুধু উন্নত দেশের মতো অবকাঠামো চাই না; আমরা এমন নাগরিকও হতে চাই, যাঁরা নিয়ম মানবেন, অন্যের অধিকারকে সম্মান করবেন এবং মানবিক আচরণের মাধ্যমে নিজেদের দেশকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করবেন।</p><p>পরিবর্তনটা শুরু হোক আজ থেকেই—অন্যের কাছ থেকে নয়, নিজের কাছ থেকে।</p><p>*লেখক: মো. কাওছার আলম চৌধুরী, কবি, লেখক</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।