<p>বর্ষা শেষ হওয়ার পর গ্রামবাংলার খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করে। এ সময় অনেক এলাকায় দেশি কুচো চিংড়ি সহজলভ্য হয়ে ওঠে। বাজারেও মৌসুমি কুচো চিংড়ি পাওয়া যায় বলে এই সময়টায় অনেকেই কুচো চিংড়ির ভুনা করে থাকেন। কুচো চিংড়ির লাল ঝাল ভুনার রেসিপি দিয়েছেন <strong>শাহনাজ সেতু</strong></p><h3>উপকরণ</h3><ul><li><p>কুচো চিংড়ি ২৫০ গ্রাম</p></li><li><p>পেঁয়াজকুচি দুই কাপ</p></li><li><p>টমেটোকুচি আধা কাপ</p></li><li><p>রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ</p></li><li><p>আদাবাটা ১ চা–চামচ</p></li><li><p>কাঁচা মরিচ ৪–৫টি</p></li><li><p>মরিচগুঁড়া দেড় চা–চামচ</p></li><li><p>হলুদ আধা চা–চামচ</p></li><li><p>জিরাগুঁড়া আধা চা–চামচ</p></li><li><p>লবণ স্বাদমতো</p></li><li><p>শর্ষের তেল আধা কাপ</p></li><li><p>টমেটো ১টি ছোট (ঐচ্ছিক)</p></li><li><p>ধনেপাতা সামান্য</p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/l6mtpw2a0p">বরিশালের চিংড়ির জলটোবা খেয়েছেন? রেসিপি দেখুন</a></aside><h3>প্রণালি</h3><ul><li><p>কুচো চিংড়ি ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। সামান্য লবণ ও হলুদ মাখিয়ে রাখুন।</p></li><li><p>কড়াইয়ে বাকি শর্ষের তেল দিয়ে পেঁয়াজ দিন। ভালো করে লালচে বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।</p></li><li><p>এরপর টমেটোকুচি দিয়ে একটু ভাজুন। নরম হলে মরিচগুঁড়া দিন।</p></li><li><p>একটু ভেজে রসুন ও আদাবাটা দিয়ে ভাজুন। ধনে, জিরা ও হলুদ সামান্য পানি দিয়ে ভালো করে কষান।</p></li><li><p>চিংড়ি দিয়ে মসলার সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে কম আঁচে ৫–৭ মিনিট ভুনে নিন।</p></li><li><p>তেল আলাদা হয়ে এলে কাঁচা মরিচ দিন। শেষে ধনেপাতা দিয়ে চুলা বন্ধ করুন।</p></li></ul><h3>নোট</h3><ul><li><p>চাইলে অল্প লবণ–হলুদ মেখে মাছ সামান্য ভেজেও নিতে পারেন।</p></li><li><p>তবে বেশি পেঁয়াজে অনেকক্ষণ ভুনা হয় বলে না ভাজলেও স্বাদ ভালো হয়।</p></li><li><p>এই রান্নায় মরিচ বেশি দিলেই মজা।</p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/fa10kbsxw3">ঢাকার কোন কোন রেস্তোরাঁয় গ্রামীণ স্বাদের ভাত-ভর্তা পাবেন</a></aside>
আইনস্টাইনের থিওরি অনুযায়ী, আপনি যদি আলোর গতির (প্রতি সেকেন্ডে ৩ লাখ কিলোমিটার) কাছাকাছি গতিতে ছুটতে পারেন, তবে আপনার জন্য সময় ধীর হয়ে যাবে এবং আপনি ভবিষ্যতে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু মানুষের তৈরি সবচেয়ে দ্রুতগতির মহাকাশযান ‘পার্কার সোলার প্রোব’-এর গতি আলোর গতির মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৬৪ শতাংশ।
<p>সদ্য বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসেও দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাসজুড়ে একেবারে বৃষ্টিহীন পরিস্থিতি থাকবে না। বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।</p><p> অক্টোবরের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়।</p><p>আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩১৯ মিলিমিটার। এর বিপরীতে বৃষ্টি হয়েছে ২৬৬ মিলিমিটার। অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে সেপ্টেম্বর মাসে দেশে গড়ে ২০ দিন বৃষ্টি হলেও গত মাসে বৃষ্টি হয়েছে ১৭ দিন।</p><p>তবে সব বিভাগে বৃষ্টির পরিস্থিতি একই ছিল না। খুলনা বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে স্বাভাবিক ২৭৭ মিলিমিটারের বিপরীতে ৩১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের কাছাকাছি ছিল। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহে কমেছে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ, রংপুরে ২৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।</p><p><strong>অক্টোবরেও কম বৃষ্টির সম্ভাবনা</strong></p><p>আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১৬০ মিলিমিটার; এ মাসে ১৩০ থেকে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। ময়মনসিংহে স্বাভাবিক ১৮০ মিলিমিটারের বিপরীতে ১৫০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে স্বাভাবিক ২১৬ মিলিমিটারের বিপরীতে ১৯০ থেকে ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।</p><p>সিলেটে স্বাভাবিক ১৮২ মিলিমিটারের বিপরীতে ১৫০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার, রংপুরে স্বাভাবিক ১৫৫ মিলিমিটারের বিপরীতে ১২০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার এবং খুলনায় স্বাভাবিক ১৫০ মিলিমিটারের বিপরীতে ১১০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। বরিশালে ১২০ থেকে ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ২১১ মিলিমিটার।</p><p>তবে রাজশাহীতে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এ বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১০৪ মিলিমিটার; পূর্বাভাসে ১১০ থেকে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।</p><p><strong>লঘুচাপ হতে পারে ২–৩টি</strong></p><p>অক্টোবরে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাসের প্রথমার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে পর্যায়ক্রমে বিদায় নিতে পারে।</p><p>এ মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে পারে। তবে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।</p><p>আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, অক্টোবর মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টিপাত হলে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।</p>
<p>মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে বিকল্প ইঞ্জিনের সাহায্যে ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে আনা হয়। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।</p><p>এর আগে বেলা দেড়টার দিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মাগুরছড়া এলাকায় ট্রেনটির ইঞ্জিনের সঙ্গে বগির সংযোগ হুক ছিঁড়ে যায়। এতে বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে ট্রেনটি রেললাইনে আটকা পড়লে সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।</p><p>শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, লাউয়াছড়ায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস আটকা পড়ায় ভানুগাছ স্টেশনে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং শ্রীমঙ্গল স্টেশনে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস আটকা পড়েছিল। বিকল্প ইঞ্জিন দিয়ে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসকে শ্রীমঙ্গল স্টেশনে নেওয়ার পর রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।</p><p>দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বিশেষ করে চট্টগ্রামগামী যাত্রীরা বেশি বিপাকে পড়েন। পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের যাত্রী মো. সাব্বির বলেন, চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছিলেন। কাছাকাছি কোনো জায়গায় হলে অন্য গাড়িতে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু লাউয়াছড়ার ভেতরে আটকা পড়ায় সেটিও সম্ভব হয়নি।</p>
৪০ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা মাছের খামারে বিভিন্ন জাতের মাছ মরে ভেসে উঠেছে। ১ অক্টোবর সকালে মৌলভীবাজার জুড়ী উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...
<p>সকাল থেকেই নওগাঁ সদর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করে। পরিচিত মুখ দেখলেই কেউ ছুটে গিয়ে বন্ধুকে জড়িয়ে ধরছিল, কেউ হাত মেলাচ্ছিল। কেউ আবার মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধরে রাখছিল দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ার মুহূর্ত। বন্ধুদের কেউ কেউ বলছিল, ‘কী রে, কেমন আছিস?’</p><p> একই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া যমজ দুই বোন শুভমিতা রায় ও সমাদ্রিতা রায়ও এসেছিল অনুষ্ঠানে। শুভমিতা বলে, ‘আমাদের সাফল্য উদ্যাপন করতে এত বড় আয়োজন। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। অনেক বান্ধবীর সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা হলো। ওদের সঙ্গে আড্ডা হবে, আনন্দ হবে। অনেক মজা করব।’</p><p>নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ‘শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা’। নওগাঁ বন্ধুসভার সদস্য পারমিতা রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর নওগাঁ প্রতিনিধি ওমর ফারুক। অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন দেওয়ান মাহবুব আলম ও মিনা আক্তার।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-02/8v7q53pm/NAOGAONGPA-2.JPG"><figcaption>সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত গেয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আজ শুক্রবার সকালে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে</figcaption></figure><p>প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে দিনমজুর বাবার সঙ্গে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসেছিল সাফিয়া খাতুন। সে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসার অনুভূতি প্রকাশ করে সাফিয়া বলে, ‘আজকের এই সংবর্ধনা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার বাবা-মায়ের। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তাঁরা পড়াশোনায় উৎসাহ দিয়েছেন। শিক্ষকেরাও অনেক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাকে এই ফল করতে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-02/j8p3amco/NAOGAONGPA-3.JPG"><figcaption> ক্রেস্ট হাতে শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার সকালে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে</figcaption></figure><p>নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া নওশিন বিনতে রউফ বলে, ‘এখানে এসে অনেক দিন পর আমার বান্ধবীর দেখা পেলাম। পরীক্ষার পরপরই অনেকেই রাজশাহী ও ঢাকায় চলে গিয়েছে। এই অনুষ্ঠানে তাদের অনেকের সঙ্গে দেখা হলো। বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে জানব, কার কলেজ কেমন, কে কীভাবে পড়াশোনা করছে।’</p><p>অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে নওগাঁর সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবী ডি এম আব্দুল বারী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। আবৃত্তি, গান, খেলাধুলাসহ শিক্ষার্থীদের অন্যান্য আগ্রহ ও সৃজনশীলতার চর্চা করা প্রয়োজন।</p><p>শিক্ষার্থীদের আইটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল বারী বলেন, ‘বর্তমান পৃথিবী অনেক দূর এগিয়েছে। এটি আইটি ও এআইয়ের যুগ। তোমাদের প্রযুক্তির সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হতে হবে। নিজেদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু চাকরি, অর্থ উপার্জন ও গতানুগতিক জীবনযাপনের পেছনে না ছুটে সমাজ, সভ্যতা ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও তোমাদের নিতে হবে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-02/lj06p4b0/NAOGAONGPA-4.JPG"><figcaption>নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে যমজ বোন শুভমিতা ও সমাদ্রিতা। আজ শুক্রবার সকালে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে</figcaption></figure><p>অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিধান চন্দ্র সাটিয়ার এবং নওগাঁ কৃষ্ণধন (কেডি) সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হাসমত আলী।</p><p>প্রথম আলো রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তোমরা আজকে ভালো ফল করেছ। ভবিষ্যতে দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই থাকো না কেন, তিন ‘মা’কে কখনো ভুলবে না। একটা হলো নিজের জন্মদাত্রী মা, আর দুইটা হলো নিজের জন্মভূমি মা ও মাতৃভাষা মা।’ ভালো কিছু করতে হলে মাদক থেকে দূরে থাকা, মিথ্যা না বলা এবং না বুঝে কোনো কিছু মুখস্থ না করার পরামর্শ দেন তিনি।</p><p>শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থবিদ্যাকে ‘না’ বলার শপথ পাঠ করানো হয়। শপথ পাঠ করান প্রথম আলো নওগাঁ বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও রাণীনগর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-02/ozus2uqi/NAOGAONGPA-5.JPG"><figcaption>শিক্ষার্থীরা ফটো ফ্রেমে ছবি তুলছে। আজ শুক্রবার সকালে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে</figcaption></figure><p>বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা তখনো শেষ হয়নি। ক্রেস্ট হাতে বাড়ি ফেরার আগে কেউ বন্ধুদের সঙ্গে শেষবারের মতো ছবি তুলছিল, কেউ ফোন নম্বর বিনিময় করছিল। সাফল্যের আনন্দ, দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের দেখা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন স্বপ্ন—সব মিলিয়ে দিনটি শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে ওঠে স্মরণীয়।</p><p>‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রথম আলোর আয়োজনে এবং শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখোর পৃষ্ঠপোষকতায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নওগাঁয় আজকের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।</p><p>এবারের আয়োজন পাওয়ার্ড বাই বিকাশ। সহযোগিতায় রয়েছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।</p>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-02/x4ffiqsq/Untitled-1.jpg"><figcaption>মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান</figcaption></figure><p>সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। </p><p> আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছিল। আজ ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</p><p>মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।</p><p>মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ (বিজি-৩৩৮) থেকে যাত্রীরা নামার পর ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।</p><p>এ সময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে পরিস্থিতি দেখতে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। পুলিশ জানায়, রাগীব সামাদ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান। ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’ বলে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে প্রকাশ্যে হুমকি দেন তিনি। এমনকি তিনি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন।</p><p>মামলার বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাঁদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।</p><p>মামলায় সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা পবিত্র জমজমের পানির বোতলের ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।</p><p>তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হবে। এগুলোর ভিত্তিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p>
<p>অক্টোবরের প্রথম পাক্ষিক বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য চমৎকার কিছু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মুহূর্ত নিয়ে হাজির হবে। শরৎ শেষ হয়ে হেমন্তের আবহ শুরু হওয়ায় এ সময়ে সাধারণত বাংলাদেশের আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার থাকে। এর ফলে সন্ধ্যার পরে তারা ও গ্রহ পর্যবেক্ষণের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে একাধিক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যাবে।</p><h3>শনি গ্রহের সুবর্ণ সময় ও বলয় প্রদর্শন </h3><p>অক্টোবরের প্রথম পাক্ষিকে শনি গ্রহ সন্ধ্যার আকাশে উজ্জ্বলভাবে রাজত্ব করবে। আর তাই সূর্যাস্তের ঠিক পরপরই পূর্ব–দক্ষিণপূর্ব আকাশে গ্রহটিকে স্পষ্ট দেখা যাবে। সময় যত গড়াবে, ততই গ্রহটি মাথার ওপরের দিকে উঠতে থাকবে এবং প্রায় সারা রাত আকাশে অবস্থান করবে। শনি গ্রহকে চেনার সহজ উপায় হলো এর স্থির ও সামান্য সোনালি জ্যোতি (এটি নক্ষত্রের মতো মিটমিট করে না)। ফলে সাধারণ বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করেই শনি গ্রহের বিখ্যাত বলয় এবং এর সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটান দেখা যাবে।</p><h3>সন্ধ্যার আকাশে উজ্জ্বল শুক্র গ্রহ </h3><p>অক্টোবরের শুরুতেই সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে চোখ রাখলেই নজর কাড়বে উজ্জ্বল শুক্র গ্রহ। গোধূলির আলো মেলাতেই পশ্চিম আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হিসেবে এটি দেখা যাবে। ৩ ও ৪ অক্টোবরের দিকে শুক্র গ্রহ অ্যাকুয়ারিয়াস নক্ষত্রমণ্ডলের উজ্জ্বল তারাগুলোর কাছাকাছি অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত গ্রহটিকে পশ্চিম দিগন্তের কিছুটা ওপরে দেখা যাবে।</p><h3>চন্দ্রকলা ও চাঁদের অবস্থান </h3><p>অক্টোবরের ১৫ তারিখের মধ্যে চাঁদ বিভিন্ন রূপ ধারণ করবে, যা রাতের আকাশের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ৩ অক্টোবর চাঁদ শেষ চতুর্থাংশ অবস্থানে থাকবে। এই সময় চাঁদ মূলত মধ্যরাতের পর দেখা যাবে। ফলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সন্ধ্যার আকাশ থাকবে অন্ধকার ও চাঁদের আলোমুক্ত, যা গ্যালাক্সি ও নক্ষত্রমণ্ডল দেখার জন্য উপযুক্ত। ১০ অক্টোবর অমাবস্যা। এদিন আকাশে চাঁদের কোনো আলো থাকবে না। নিঝুম ও ঘন অন্ধকার আকাশ নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের জন্য সেরা পরিবেশ তৈরি করবে। ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর নতুন চাঁদ দেখা যাবে।</p><h3>ড্রাকোনিড উল্কাবৃষ্টি </h3><p>অক্টোবরের অন্যতম আকর্ষণ হলো ড্রাকোনিড উল্কাবৃষ্টি, যা প্রতিবছর অক্টোবরের শুরুর দিকে ঘটে থাকে। ৮ থেকে ৯ অক্টোবর সন্ধ্যার পর এই উল্কাবৃষ্টি তার শীর্ষ বিন্দুতে পৌঁছাবে। সন্ধ্যা নামার পর উত্তর আকাশে (ড্রাকো নক্ষত্রমণ্ডলের দিকে) তাকালে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০টি হালকা ও দ্রুতগতির জ্বলন্ত উল্কা ছুটে যেতে দেখা যেতে পারে।</p><h3>শরৎ ও হেমন্তের নক্ষত্রমণ্ডল ও অ্যান্ড্রোমিডা </h3><p>১০ অক্টোবর গ্রামীণ বা শহরের আলোমুক্ত পরিবেশে দুরবিন দিয়ে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিকে একঝলক আবছা আলোর মেঘের মতো দেখা যাবে। এ সময় পূর্ব আকাশে ডানাওয়ালা কাল্পনিক ঘোড়ার আকৃতি পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডলের বিশাল চারকোনা তারাগুলো সহজেই চোখে পড়বে। একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর মাথার ঠিক ওপরে গ্রীষ্মকালীন ত্রিভুজের অংশ হিসেবে ভেগা, আলটায়ার ও ডেনেব নক্ষত্রত্রয়ী পশ্চিমের দিকে ঢলে পড়তে দেখা যাবে।</p><p>সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি ডটকম</p>
আড়াল হয়তো জেমসকে রহস্যময় করে রেখেছে। সংগীতশিল্পী হিসেবে তাঁকে চেনেন সবাই, কিন্তু ব্যক্তি ফারুক মাহফুজ আনামকে চেনেন কতজন?
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন