<p>মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার ৭৫তম আসরে অংশ নিতে পুয়ের্তো রিকোর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা। কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে তাঁদের আনুষ্ঠানিকতা ও নানা কার্যক্রম। ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে। এবার ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন কেরালার মডেল <strong>কাজিয়া লিজ মেজো</strong></p><p>৫ নভেম্বর নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন কাজিয়া লিজ মেজো। ছবিতে দেখা গেছে, ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে (একদল সদস্যদের সঙ্গে) পুয়ের্তো রিকোর উদ্দেশে যাত্রা করছেন কাজিয়া। তবে তাঁর সাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে মেরুন রঙের একটি শাড়ি। </p><h3>১ লাখ ৪২ হাজার রুপির শাড়িতে কাজিয়া</h3><p>বিমানবন্দরে যাওয়ার সময়ের সাজের ছবি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেছেন কাজিয়া। মেরুন রঙের শাড়িটির নকশা করেছেন সামান্থা চৌহান। অর্গানজা ও র-সিল্ক কাপড়ের মিশ্রণে তৈরি শাড়িটিতে আছে সোনালি জরির সূক্ষ্ম কারুকাজ। </p><p>ডিজাইনারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে শাড়িটির দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/zhox29mh/A_queen_carries_more_than_a_crown__she_carries_the_dreams_and_hopes_of_a_nation_____Draped_in___2_.jpg"><figcaption>এয়ারপোর্ট লুকের এই ছবি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেছেন কাজিয়া</figcaption></figure><p>শাড়িটির মূল কাপড়ে আছে অনুজ্জ্বল বা ম্যাট ফিনিশ। পাড়ে সূক্ষ্ম কারুকাজের পাশাপাশি আঁচলজুড়ে আছে ঘন এমব্রয়ডারির কাজ। সব মিলিয়ে শাড়িটিতে ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে আভিজাত্যের ছাপও স্পষ্ট। </p><p>শাড়ির সঙ্গে পাথর বসানো নেকলেস ও মিলিয়ে কানের দুল পরেছিলেন কাজিয়া। হাতে ছিল একাধিক চুড়ি। চুলের স্বাভাবিক কোঁকড়া ভাব বজায় রেখে খোলা রেখেছিলেন। মাথায় ছিল মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মুকুট। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/m4obblpw/A_queen_carries_more_than_a_crown__she_carries_the_dreams_and_hopes_of_a_nation_____Draped_in_.jpg"><figcaption>কাজিয়ার শাড়িটির নকশা করেছেন ডিজাইনার সামান্থা চৌহান</figcaption></figure><p>কাজিয়ার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা এক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ঐতিহ্যবাহী সাজে ও গৌরবের মুকুট মাথায় নিয়ে মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬ কাজিয়া লিজ মেজো ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে পুয়ের্তো রিকোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/yst3qtz6b1">ফাইনালে আশা জাগিয়ে কোন রাউন্ডে বাদ পড়লেন মিথিলা</a></aside><h3>কে এই কাজিয়া লিজ মেজো</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/h8vkmysd/Devil_in_disguise__Dress____lethangdesign_03_Photo____tutim_pic_Makeup_____duonghoaiphuc_Hair____1_.jpg"><figcaption>আইন বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং করছেন কাজিয়া</figcaption></figure><p>কাজিয়া লিজ মেজোর বাড়ি ভারতের কেরালায়। ২০০৭ সালে জন্ম নেওয়া এই মডেলের শৈশব কেটেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে। পড়াশোনা করেছেন এমিরেটস ন্যাশনাল স্কুল, সেন্ট জোসেফস স্কুল ও আবুধাবি ইন্ডিয়ান স্কুলে। বর্তমানে আইন বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং করছেন তিনি।</p><p>শাস্ত্রীয় নৃত্যে ১২ বছরের প্রশিক্ষণ আছে কাজিয়ার। গান গাওয়ার পাশাপাশি বেহালা ও ড্রামসও বাজাতে পারেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/jn5wzvl3/Golden_hour__golden_dreams__and_a_queen_who_makes_the_world_stand_still____Gown____gem_bridal_M.jpg"><figcaption>মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী রাজ্যভিত্তিক শিরোপাজয়ী কাজিয়া</figcaption></figure><p>এটাই তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০২৪ সালে ‘মিস টিন ডিভা’ খেতাব জেতেন কাজিয়া। পরের বছর ‘মিস টিন ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে প্রথম রানারআপ হন। চলতি বছরের শুরুতে জেতেন ‘মিস ইউনিভার্স কেরালা ২০২৬’ খেতাব। এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী রাজ্যভিত্তিক শিরোপাজয়ী হন তিনি।</p><p>এবার মিস ইউনিভার্সের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন কাজিয়া। আগের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও নতুন কোনো অর্জন তাঁর ঝুলিতে যোগ হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।</p><p><sup>সূত্র: এনডিটিভি</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/style/pcihmp297i">এবারের মিস ইউনিভার্সে কী হয়েছিল মেক্সিকান সুন্দরী ফাতিমা বশের সঙ্গে?</a></aside>
প্রকৃতির প্রতিটি বদলের পেছনে একটা গল্প থাকে, আর সেই গল্পে জড়িয়ে থাকে মানুষও। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সেই গল্প খুঁজছেন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. রেজা খান।
বাংলা প্রযুক্তি উন্নয়নে ১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও টুলগুলোর কার্যকারিতা ও ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মানব ইতিহাসে বিজ্ঞান গবেষণার এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় মেরি কুরিকে। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব এসেছে তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে।
<p>কুমিল্লায় দুই তরুণকে তল্লাশি করেন সাদাপোশাকে থাকা পুলিশের দুই সদস্য ও তাঁদের একজন সোর্স। পরবর্তী সময়ে ওই তিনজনের পরিচয়পত্র দেখতে চান শিক্ষার্থীরা। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। দেখুন ভিডিওতে...</p><figure></figure>
আলিয়া ভাট ও রণবীর কাপুরের একমাত্র কন্যা রাহা পা দিলেন ৪ বছরে। জন্মদিনের একান্ত আয়োজনের হৃদয়ছোঁয়া ৫টি হোলসাম মোমেন্ট শেয়ার করেছেন তাঁরা।
২০২৫ সাল শেষে বাংলাদেশের ঋণের স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬–এ এই চিত্র উঠে এসেছে।
অভিষেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তাঁর বাসভবনে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছে। ঘটনার সময় কলকাতা পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।
অভিনতা হওয়ার আগে টেরি ক্রুজ যুক্তরাষ্ট্রে পেশাদার ফুটবল খেলতেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।