stories

চিড়িয়াখানা

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
চিড়িয়াখানা
চিড়িয়াখানা
<p>কলেজপাড়ার মোড়ে ঝাঁকড়া একটা আমগাছ। দেখলেই বোঝা যায়, অনেক বছরের পুরোনো। তার নিচে কয়েকটা অটো দাঁড়িয়ে থাকে। কিছু রিকশাও। আশপাশে কয়েকটি দোকান। লোকজন কমবেশি সব সময়ই থাকে। একটু দূরেই জেবুন্নেসা মহিলা কলেজ। ক্লাসের ফাঁকে দল বেঁধে মেয়েরা এখানে চা খেতে আসে। সেই সময় আশপাশের ছেলে-ছোকরাগুলো চায়ের দোকানে ছোঁক ছোঁক করে।</p><p>বিকেলবেলা আমগাছের নিচে অটোতে বসে ছিল সোবহান। মোটা ফ্রেমের চশমা চোখে হালকা লিকলিকে এক লোক এসে জিজ্ঞেস করল, ‘ভাই, যাবেন নাকি?’</p><p>সোবহান বলল, ‘কোথায়?’</p><p>লোকটা একটু হাসল। বলল, ‘যাব মানে ঘুরব। এই এদিক–সেদিক।’</p><p>সোবহান আশপাশে তাকাল। তেমন কাউকে দেখতে না পেয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার বান্ধবী কই? তারে তো দেখছি না!’</p><p>লোকটা বলল, ‘আমার কোনো বান্ধবী নেই। এই জগতে আমি একা।’</p><p>স্থানীয় বেশি ভাগ যাত্রীই সোবহানের মুখচেনা। ছয়-সাত বছর ধরে সে এখানে অটো দাঁড় করায়। কিন্তু এই লোকটাকে আগে কখনো দেখেছে বলে তার মনে পড়ছে না। লোকটার কথার ধরন একটু কী রকম যেন। এইভাবে সচরাচর কেউ কথা বলে না। আবার বান্ধবী ছাড়াই এই বয়সে কেউ একা একা অটোতে চড়ে এদিক–সেদিক ঘুরতেও বের হয় না। হতে পারে লোকটা সেয়ানা। কোনো ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। নির্জন রাস্তায় তার গলা কেটে অটো নিয়ে হাওয়া হয়ে যাবে। প্রতিদিনই তো এই রকম ঘটছে দেশের কোথাও না কোথাও। কপালে ভাঁজ পড়ল সোবহানের। মাথা নেড়ে বলল, ‘না ভাই, যাব না।’ ঠিক সেই মুহূর্তে তার বাঁ চোখটা চিড়িক দিয়ে উঠল। কিসের লক্ষণ এটা? বুঝতে চেষ্টা করল সে। কিন্তু বুঝতে পারল না। তবে বুঝতে পারল, ঘণ্টাচুক্তিতে হিসাব করলে বেশ ভালোই ভাড়া পাওয়া যাবে। সারা দিনে তেমন ভাড়া ওঠেনি।</p><blockquote>এভাবেই শুরু। এরপর প্রায়–প্রায়ই কল দেয়। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করে। কোনো কোনো দিন পদ্মার পাড়ে গিয়ে ঘাসে বসে থাকে। সোবহানকে পাশে বসিয়ে এটা–সেটা গল্প করে। গল্পে গল্পে সোবহান বুঝতে পারে, তার চোখে দেখা আর সব মানুষের মতো নয় মানুষটি। জগৎ-সংসারের প্যাঁচ খুব একটা বোঝে না। যতটা সম্ভব সরল সাদামাটা জীবন কাটাতেই তার আনন্দ।</blockquote><p>লোকটা ততক্ষণে আরেকটি অটোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সোবহান ডাকল, ‘ভাই, শোনেন।’</p><p>লোকটা দাঁড়িয়ে ঘাড় ফেরাল।</p><p>সোবহান বলল, ‘ঘণ্টায় তিন শ টাকা দিবেন। রাজি থাকলে উঠে বসেন।’</p><p>লোকটা কিছু বলল না। চুপচাপ উঠে বসল। সোবহান অটো স্টার্ট দিল। লোকটা বলল, ‘শুনেছি এখানে পদ্মার পাড় আছে। কত দূর এখান থেকে?’</p><p>‘তেমন দূরে নয়। আধঘণ্টা লাগবে যেতে। সেখানে যাবেন?’</p><p>‘চলেন যাই।’</p><p>‘এলাকায় আপনাকে নতুন মনে হচ্ছে!’</p><p>‘জি ভাই। গত পরশু এখানে এসেছি। ইয়াকুব মুনশির বাড়ির নিচতলায় ভাড়াটে হিসেবে উঠেছি। আপনি তো স্থানীয়, তাই না?’</p><p>‘জি, মহিলা কলেজের পেছনের গলিতে আমার বাড়ি।’</p><p>‘ও আচ্ছা। তাহলে তো ভালোই।’</p><p>‘কী ভালো?’ সোবহান জানতে চাইল।</p><p>লোকটা বলল, ‘ভালো মানে আপনার অটোতে চড়ে মাঝেমধ্যে ঘুরে বেড়ানো যাবে। এই জন্যই ভালো।’</p><p>‘এখানে কী করেন? চাকরি নাকি ব্যবসা?’</p><p>‘চাকরি করি, ভাই। আপনাদের মহিলা কলেজে মেয়েদের বাংলা পড়াই।’</p><p>‘ও, তাইলে আপনি ছার মানুষ।’</p><p>লোকটা হাসল, ‘ওই আরকি!’</p><p>এভাবেই শুরু। এরপর প্রায়–প্রায়ই কল দেয়। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করে। কোনো কোনো দিন পদ্মার পাড়ে গিয়ে ঘাসে বসে থাকে। সোবহানকে পাশে বসিয়ে এটা–সেটা গল্প করে। গল্পে গল্পে সোবহান বুঝতে পারে, তার চোখে দেখা আর সব মানুষের মতো নয় মানুষটি। জগৎ-সংসারের প্যাঁচ খুব একটা বোঝে না। যতটা সম্ভব সরল সাদামাটা জীবন কাটাতেই তার আনন্দ।</p><p>আজ সারা দিন বৃষ্টি। থামার নামগন্ধ নেই। অবস্থা বেগতিক দেখে আজ আর বেরোয়নি সোবহান। দুপুরে ব্রয়লার মুরগির মাংস রাঁধল বউ। সাথে খিচুড়ি। জম্পেশ আয়োজন। খেয়েদেয়ে বেশ আয়েশ করে ভাতঘুম দিচ্ছিল সোবহান। কয়েক দিন ধরে হুটহাট বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। কিছুক্ষণ চলে একটানা। তারপর আবার ঝিরিঝিরি ঝরতেই থাকে। বৃষ্টি-বাদলায় যাত্রী তেমন পাওয়া যায় না। চায়ের দোকানগুলোয় তাস খেলার মজমা বসে। আমগাছের নিচে দু-তিনটের বেশি অটো-রিকশা থাকে না। কী আর করা। ভাতঘুমের ফাঁকে ফাঁকে সোবহান দেখল, মেঝের ওপর দুই পা ছড়িয়ে বউ কাঁথা সেলাই করছে। মোটাসোটা তার বউটা। ভারী নিতম্ব। হাঁটুর ওপর শাড়ি-শায়া উঠে থাকায় দেখা যাচ্ছে মাংসল ঊরু। একটা ঢেকুর তুলে সোবহান চেয়ে রইল ধবধবে মাংসের ঢিবির দিকে। একবার তাকাল বউটার মুখের দিকে। গোলগাল ভরাট মুখ। ঠোঁট দিয়ে সুই কামড়ে ধরে কাঁথার সুতো টান টান করে আবার সেলাই করতে লাগল। শিহরণ খেলে গেল সোবহানের নাভির নিচে। ঝমঝম বৃষ্টির দুপুর! পাশের ঘরে মেয়েটা মুঠোফোনে হয়তো কার্টুন দেখছে। দুপুরে ভাত খেয়ে মেয়েটা কখনোই ঘুমোয় না। বসে বসে মুঠোফোন টেপে। খুব বেশি বকাঝকা করলে পড়তে বসে। বছর ঘুরলেই এসএসসি পরীক্ষা। তবু মেয়েটার গা নেই।</p><p>বেজে উঠল মোবাইলের রিংটোন। পাগলা মাস্টার। ‘হ্যালো ছার,’ বলতেই ওই প্রান্তে পাগলা মাস্টারের কণ্ঠস্বর, ‘সোবহান ভাই, কই আছেন?’</p><p>‘এই তো ছার, বাড়িতেই। দাঁড়ান, আসতেছি।’</p><p>উঠে কাপড় পরে নিল সোবহান। বউ বলল, ‘কই যাও?’</p><p>‘মাস্টার ছার কল দিছে। একটু ঘুইরে আসি।’</p><blockquote>অথচ সেই মানুষটাই বাড়িতে গিয়ে তার শিশুসন্তানকে বুকে নিয়ে আদর করে। এটুকুই হয়তো তার বেঁচে থাকার আনন্দ। কিন্তু হিসাব করে দেখলে তার জীবনে দুঃখের ভাগটাই বেশি। কী হাস্যকর একটা জীবন মানুষ কাটিয়ে দিচ্ছে! ভাবলেই আমার হাসি পায়, বুঝলেন সোবহান ভাই। আমি হিসাব মেলাতে পারি না। ওই যে ওই দিন আপনি বলছিলেন, মাঝেমধ্যে আপনার বাঁ চোখ চিড়িক দিয়ে ওঠে, সেই রহস্য আপনি জানেন না। জীবনের এই রহস্যও আমি বুঝতে পারি না। তবে বুঝতে পারি, আমরা আসলে জীবনের ছকে আটকে আছি। চিড়িয়াখানায় গেছেন কখনো?</blockquote><p>পাশেই আকতারের গ্যারেজ। সেখানে দৈনিক ভাড়ায় রাতে অটো রাখে সোবহান। রাতভর চার্জ হয়। অটোর চারদিকে পর্দা নামিয়ে বেঁধে নিয়ে অটো স্টার্ট দিল সে। বাসার সামনে পৌঁছাতেই ছাতা মাথায় এগিয়ে এল পাগলা মাস্টার। ছাতা গুটিয়ে পর্দা সরিয়ে ভেতরে ঢুকে বসল। বলল, ‘কী বৃষ্টি শুরু হইছে, দেখছেন ভাই? মনে হয় নুহ নবীর প্লাবন হয়ে যাবে।’</p><p>‘জি ছার,’ বলেই অটো টান দিল সোবহান। ভাবল, কথা সত্য। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় পানি জমে গেছে। মাটির রাস্তায় প্যাচপেচে কাদা। অটোর চাকা আটকে যায়। পায়ে হাঁটা খুবই মুশকিল।</p><p>তারা যখন পদ্মার পাড়ে গিয়ে পৌঁছাল, তখন বৃষ্টি অনেকটাই হালকা হয়ে এসেছে। একটা গাছের নিচে অটো দাঁড় করাল সোবহান। ছাতা মাথায় দিয়ে পর্দা খুলে গুটিয়ে ওপরে বেঁধে ফেলল। তারপর ভেতরে এসে বসল। চারদিক শূন্য। রাস্তার এক পাশে দূরে দূরে কয়েকটা পুরোনো আমলের গাছ। রাস্তার আরেক পাশে কয়েক হাত দূরেই প্রমত্ত পদ্মা। পদ্মার বুক ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বৃষ্টির ধারা। ঝমঝম শব্দ ছাড়া প্রকৃতির বুকে আর কোনো শব্দ নেই। বৃষ্টির ছাট এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে অটোর ভেতরটা। সামনের একদিকে ছাতা দিয়ে আটকে রেখেছে সোবহান। কিন্তু মাস্টারের সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। অটোর যেদিকটা নদীর দিকে, সেদিকে ঘেঁষে সে বসে আছে। ভিজছে, ভিজতেই যেন তার আনন্দ। একসময় বলল, ‘জীবন খুব আনন্দের, তাই না সোবহান ভাই?’</p><p>সোবহান কী বলবে বুঝতে পারল না। তার জীবনে অত আনন্দ কোথায়? কিন্তু সেসব কথা কি আর এখন বলা যায়। তাই বলল, ‘জি ছার। কিন্তু জীবনে আবার কষ্টও আছে।’</p><p>‘তা তো থাকবেই। দুঃখ-আনন্দ মিলিয়েই তো মানুষের জীবন। তাই না?’</p><p>‘জি ছার।’</p><p>‘আমি ভাবি, জানেন ভাই, জীবনে কষ্ট যেমন আছে, তেমনি আনন্দও আছে। তবু মানুষ আনন্দটাই বড় করে দেখে। তাই বেঁচে থাকতে পারে। যদি দুঃখ-কষ্টকে বড় করে দেখত, তাহলে বেঁচে থাকতে পারত না। এ জন্যই অনেকে আত্মহত্যা করে। ভেবেছেন এ রকম কখনো?’</p><p>‘আপনার মতো করে ভাবিনি। কিন্তু বুঝি যে খুব বেশি দুঃখে না পড়লে কেউ আত্মহত্যা করে না।’</p><p>দুই হাত বাইরে ছড়িয়ে দিয়ে তালুতে বৃষ্টি নিয়ে খেলতে খেলতে মাস্টার বলল, ‘আচ্ছা সোবহান ভাই, আপনার জীবনে দুঃখের ভাগ বেশি নাকি আনন্দের ভাগ?’</p><p>‘ওইভাবে হিসাব করে বলতে পারব না, ছার। তবে মনে হয় দুঃখের ভাগটাই বেশি। কী জানি, সব মানুষেরই বোধ হয় এমন!’</p><p>‘তবু মানুষ বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকার জন্য নানা অপকর্ম করে। বেঁচে থাকার নানা সুবিধা পেতে আরেকজনকে খুন করে। কী, করে না?’</p><p>‘জি ছার। তা তো করেই।’</p><p>‘অথচ সেই মানুষটাই বাড়িতে গিয়ে তার শিশুসন্তানকে বুকে নিয়ে আদর করে। এটুকুই হয়তো তার বেঁচে থাকার আনন্দ। কিন্তু হিসাব করে দেখলে তার জীবনে দুঃখের ভাগটাই বেশি। কী হাস্যকর একটা জীবন মানুষ কাটিয়ে দিচ্ছে! ভাবলেই আমার হাসি পায়, বুঝলেন সোবহান ভাই। আমি হিসাব মেলাতে পারি না। ওই যে ওই দিন আপনি বলছিলেন, মাঝেমধ্যে আপনার বাঁ চোখ চিড়িক দিয়ে ওঠে, সেই রহস্য আপনি জানেন না। জীবনের এই রহস্যও আমি বুঝতে পারি না। তবে বুঝতে পারি, আমরা আসলে জীবনের ছকে আটকে আছি। চিড়িয়াখানায় গেছেন কখনো?’</p><p>‘গেছি ছার একবার। ঢাকার মিরপুরে তো?’</p><p>‘হ্যাঁ। প্রত্যেক মানুষের জীবনও আসলে এক-একটা চিড়িয়াখানা। কিন্তু মানুষ সেটা বুঝতে পারে না। কারণ, জীবনের চিড়িয়াখানায় থাকতে থাকতে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই বাইরের কোনো অচেনা জীবনকে মানুষ ভয় পায়। তাই হয়তো সব মানুষ আত্মহত্যা করে না। হাজার দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেও বেঁচে থাকে।’</p><p>কথা বলল না সোবহান। মাস্টারের কথাগুলো ভাবতে লাগল। বুঝতে পারল, আসলেই জীবনটা একটা চিড়িয়াখানা। সবকিছু সেই একই রকম। কী রকম যেন আটকা আটকা লাগে!</p><p>মাস্টার বলল, ‘দ্যাখেন ভাই, নদীর ওই পাড়ে যত দূর চোখ যায় চেয়ে দেখেন। ওই দূরে আকাশ আর নদী এক সাথে মিলে গেছে। কী বিশাল তাদের সীমানা! প্রকৃতির এই বিশালতা আপনি লোকালয়ে দেখতে পাবেন না। গাছপালা আর বাড়িঘরে আপনার দৃষ্টি আটকে যাবে। নদী কিংবা সমুদ্রের তীরে দাঁড়ালেই কেবল আপনি দেখবেন, কী বিশালতার ভেতরে আমরা বাস করি।’</p><p>ছাতা গুটিয়ে রাখল সোবহান। সিটের ওপর পা তুলে বসে বলল, ‘জি ছার। চেয়ে থাকলে ভালো লাগে। আবার বুকের ভিতর কী রকম যেন একা একা লাগে।’</p><p>‘একা একা লাগে কেন, জানেন? ওই বিশালতা আমাদের অবচেতনে মনে করিয়ে দেয়, বিশাল এই মহাবিশ্বে আমরা খুবই তুচ্ছ, ছোট্ট একটা বিন্দুর মতো। কিন্তু আমি কী ভাবি, জানেন ভাই? এই বিশাল প্রকৃতির ভেতর আমি আছি মানে আমি ওই বিশালতার একটা অংশ। সুতরাং আমি ছোট্ট বিন্দুর মতো নই। আমিও বিশাল। যখন এ রকম ভাবি, তখন বেঁচে থাকার আনন্দ পাই। এই আনন্দ উপভোগ করতেই মাঝেমধ্যে আপনার অটোতে বেরিয়ে পড়ি।’</p><p>সোবহান কথা বলল না, চেয়ে রইল দূরে। বৃষ্টিতে ঝাপসা হয়ে আছে পদ্মার বুক। দৃষ্টি বেশি দূরে যায় না। কিন্তু সে তো অনেকবার এখানে এসেছে। চারপাশের সবকিছুই তার দেখা। মনের চোখে সোবহান দেখতে পেল, বহুদূরে আকাশের সাথে মিশে গেছে পদ্মার জল থই থই বুক। মাঝখানে কী বিশাল শূন্যতা!</p>

Prothomalo

View more
‘কালকের দিন সময় দিলাম, না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে’
‘কালকের দিন সময় দিলাম, না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে’

গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মামলার বাদী কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিনকে ফোন করে এ হুমকি দেওয়া হয়।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ভাবুক সম্রাট
ভাবুক সম্রাট

আর দর্শকের কানের সর্বনাশ।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
জর্ডানে গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ–গুলি, ৭ জন নিহত
জর্ডানে গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ–গুলি, ৭ জন নিহত

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোভাযাত্রা সবে শুরু হয়েছিল। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর সন্দেহভাজন বন্দুকধারীরা গির্জায় ঢুকে পড়ে। কয়েক মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
চা-বাগানের সবুজে আনন্দ
চা-বাগানের সবুজে আনন্দ

সবুজ চা-গাছের সারি, টিলার আঁকাবাঁকা পথ আর খোলা আকাশ। চারপাশে সবুজের সমারোহ। পূজার দীর্ঘ ছুটিতে সিলেটের মালনীছড়া ও লাক্কাতুরা চা-বাগানে ঘুরতে আসছেন নানা বয়সী মানুষ।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
১১ বছর পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরছেন রোনালদিনিও
১১ বছর পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরছেন রোনালদিনিও

ইতালিয়ান ফুটবলে ফিরছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদিনিও। আগামী মাসেই খেলতে নামবেন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
রোনালদোর ৯৮২তম গোল নিয়ে বিতর্ক, গোলটি কি আসলেই তাঁর
রোনালদোর ৯৮২তম গোল নিয়ে বিতর্ক, গোলটি কি আসলেই তাঁর

রোনালদো ছুটছেন ১০০০ গোলের দিকে। এ মুহূর্তে তাঁর প্রতিটি গোলই গুরুত্বপূর্ণ। এমন সময়ে গোল নিয়ে নিশ্চয়ই বিতর্কে পড়তে চাইবেন না পর্তুগিজ কিংবদন্তি।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে অবরোধ চলছে, সর্বশেষ যা জানা গেল
রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে অবরোধ চলছে, সর্বশেষ যা জানা গেল

অবরোধের কারণে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। খাগড়াছড়ি থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
শ্রীপুরে থানা ফটকের সামনে যুবলীগের মিছিল, আটজনকে পুলিশে সোপর্দ
শ্রীপুরে থানা ফটকের সামনে যুবলীগের মিছিল, আটজনকে পুলিশে সোপর্দ

গাজীপুরের শ্রীপুরে মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের আটজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
এশিয়ার সেরা ২০ সমুদ্রসৈকতের তালিকায় কক্সবাজার কি আছে
এশিয়ার সেরা ২০ সমুদ্রসৈকতের তালিকায় কক্সবাজার কি আছে

<p>এশিয়ার সেরা ২০টি সমুদ্রসৈকতের তালিকা প্রকাশ করেছে ভ্রমণবিষয়ক আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ‘কনডে নাস্ট ট্রাভেলার’। পাঠকদের ভোটে তৈরি ‘রিডার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এর এই তালিকায় এশিয়ার সেরা সৈকতের তালিকায় প্রথম স্থান পেয়েছে শ্রীলঙ্কার আরুগাম বে।</p><p>ম্যাগাজিনটির প্রকাশিত তালিকায় এশিয়ার ২০টি সৈকতের মধ্যে শ্রীলঙ্কার চারটি, থাইল্যান্ডের চারটি, ভারতের চারটি, ইন্দোনেশিয়ার তিনটি, মালয়েশিয়ার তিনটি এবং ফিলিপাইনের দুটি সৈকত আছে। তবে তালিকায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের।</p><p>তালিকায় প্রথম হওয়া আরুগাম বে পেয়েছে এক শর মধ্যে ৯৮ দশমিক ৮৪ স্কোর। দ্বিতীয় স্থানে থাকা থাইল্যান্ডের রাইলে বিচের স্কোর ৯৪ দশমিক ৪৪। তৃতীয় স্থানে আছে মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের পাংকর দ্বীপের কোরাল বিচ। এর স্কোর ৯৩ দশমিক ৩৩।</p><p>‘কনডে নাস্ট ট্রাভেলার’ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সমুদ্রসৈকত নিয়ে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁদের পছন্দের ভিত্তিতেই এবারের রিডার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।</p><h3>১০০–এর মধ্যে কোন সৈকত কত স্কোর পেল</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/t2kiddyx/Arugam_Waves__238816201_.jpeg"><figcaption>এশিয়ার সেরা সৈকতের তালিকায় প্রথম স্থান পেয়েছে শ্রীলঙ্কার আরুগাম বে</figcaption></figure><p>১. আরুগাম বে বিচ, শ্রীলঙ্কা, স্কোর ৯৮.৮৪<br>২. রাইলে বিচ, থাইল্যান্ড, স্কোর ৯৪.৪৪<br>৩. কোরাল বিচ, পাংকর দ্বীপ, মালয়েশিয়া, স্কোর ৯৩.৩৩<br>৪. বোরাকে, ফিলিপাইন, স্কোর ৯৩.০১<br>৫. নুসা দুয়া বিচ, ইন্দোনেশিয়া, স্কোর ৯২.৯৩</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/i5m3cq9t/pexels_dan_voican_2624103_14574517.jpg"><figcaption>থাইল্যান্ডের রাইলে বিচ</figcaption></figure><p>৬. পেরহেনতিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, মালয়েশিয়া, স্কোর ৯২.৭৮<br>৭. পান্তাই পাদাং পাদাং, ইন্দোনেশিয়া, স্কোর ৯১.৬৭<br>৮. লাংকাউই দ্বীপ, মালয়েশিয়া, স্কোর ৮৮.৬৭<br>৯. বেনটোটা বিচ, শ্রীলঙ্কা, স্কোর ৮৮.৩৩<br>১০. আও নাং বিচ, থাইল্যান্ড, স্কোর ৮৫.৫৬</p><figure><img alt="নুসা দুয়া বিচ" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/c9yjbn43/Nusa_Dua_Beach.jpg"><figcaption>ইন্দোনেশিয়ার নুসা দুয়া তিনটি সৈকত সেরা ২০–এ স্থান পেয়েছে</figcaption></figure><p>১১. রাধানগর বিচ, ভারত, স্কোর ৮৫.০০<br>১২. এল নিডো, ফিলিপাইন, স্কোর ৮৪.৮৪<br>১৩. আগোন্ডা বিচ, ভারত, স্কোর ৮৪.১২<br>১৪. তাঙ্গালে বিচ, শ্রীলঙ্কা, স্কোর ৮৩.৩৩<br>১৫. আনজুনা বিচ, ভারত, স্কোর ৮২.৬৭</p><figure><img alt="রাধানগর বিচ" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/3hp5gi6c/Radhanagar_Beach__India.jpg"><figcaption>ভারতের রাধানগর বিচ</figcaption></figure><p>১৬. পাতায়া বিচ, থাইল্যান্ড, স্কোর ৮১.৬৭<br>১৭. গিলি ত্রাওয়ানগান বিচ, ইন্দোনেশিয়া, স্কোর ৮০.০০<br>১৮. মায়া বে, থাইল্যান্ড, স্কোর ৭৯.৭৪<br>১৯. নেগোম্বো বিচ, শ্রীলঙ্কা, স্কোর ৭৮.৯২<br>২০. গোকর্ণ বিচ, ভারত, স্কোর ৭৭.৫৭</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/3bjoeiwp3r">ফ্যাটি লিভার সম্পর্কে ৮টি ভুল ধারণা</a></aside>

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন