<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/la4n1a7i/Untitled-1-08.jpg"></figure>
এমন অনুভূতি অনেকের জীবনেই দেখা যায়। কেউ মনে করেন, কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি পেলে জীবন গুছিয়ে যাবে। কেউ ভাবেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় করতে পারলেই নিরাপত্তা ও তৃপ্তি আসবে। আবার কেউ সামাজিক স্বীকৃতি বা অন্যের প্রশংসার মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ খোঁজেন। কিন্তু এসব লক্ষ্য অর্জনের পরও প্রত্যাশা শেষ হয় না; বরং নতুন কোনো লক্ষ্য সামনে এসে দাঁড়ায়।
<p>মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে। তখন পিকআপে সবজি তোলা হচ্ছিল। ছেলে কোথায়, কী করছেন জানতে ফোন করেছিলেন মা শওকত আরা। মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেছিলেন, সবজি নিয়ে টেকনাফে যাচ্ছেন। সকালে ফিরে আসবেন। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে মা শুনলেন, ছেলে আর নেই।</p><p>ইয়াছিন ফিরেছেন। মাকে দেওয়া কথা অনুযায়ী সকালে, কিন্তু জীবিত নয়, নিথর দেহে। যে পিকআপ কেনার জন্য মা-বাবার কাছে বায়না ধরেছিলেন, মাত্র ১৫ দিন আগে ৭ লাখ টাকা দিয়ে কেনা সেই পিকআপেই শেষ হলো তাঁর পথচলা।</p><p>বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া সবুজ পাহাড় এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একটি বাসের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোহাম্মদ ইয়াছিনসহ দুজন নিহত হন। ইয়াছিনের বয়স হয়েছিল মাত্র ১৮ বছর।</p><p>গতকাল শুক্রবার বিকেলে চকরিয়ার সাহারবিল ইউনিয়নের শাহপুরা এলাকায় নানাবাড়ির উঠানে রাখা ছিল ইয়াছিনের মরদেহ। শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা। ঘরের বারান্দা থেকে ভেসে আসছিল কান্নার শব্দ। সেই কান্নার মধ্যে বারবার শোনা যাচ্ছিল মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ।</p><p>‘অ পুত, আঁরে ছাড়ি কেন গেলি গই! ফজরত আইবি হইরে এন গরি ফাঁকি দিলি!’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন শওকত আরা। ছেলেকে আর কোনো দিন ফিরে পাবেন না, এ সত্য যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি।</p><p><strong>শখের পিকআপ, স্বপ্নের শুরুতেই শেষ</strong></p><p>ইয়াছিন আগে এলাকায় ইজিবাইক চালাতেন। তবে নিজের একটি পিকআপ কেনার স্বপ্ন ছিল তাঁর। মা-বাবার কাছে আবদার করেছিলেন পিকআপ কিনে দেওয়ার। ছেলের সেই ইচ্ছা পূরণ করতে ১৫ দিন আগে ৭ লাখ টাকা দিয়ে একটি পিকআপ কিনে দেন তাঁরা।</p><p>প্রথম ১০ থেকে ১২ দিন পিকআপটি চালিয়েছিলেন একজন চালক। গত বুধবার চালককে নামিয়ে দিয়ে নিজেই পিকআপ নিয়ে বের হন ইয়াছিন। সেদিন একটি ভাড়া নিয়ে চট্টগ্রামে যান। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার চকরিয়ায় ফেরেন। রাতেই পিকআপে সবজি তুলে টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেন ইয়াছিন। সে যাত্রাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা।</p><p>ইয়াছিনের লাশ দাফনের পর নানাবাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে বড় বোন জান্নাতুল নাইমা বলেন, ‘সে ইজিবাইক চালাত। মা-বাবার কাছে পিকআপ কিনে দেওয়ার জন্য বায়না ধরেছিল। ১৫ দিন আগে পিকআপটি কিনে দেওয়া হয়। সেই পিকআপই তার প্রাণ কেড়ে নিল।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-23/e2krnmqy/WhatsApp-Image-2026-10-23-at-10.25.23-PM.jpeg"><figcaption>নিহত মোহাম্মদ ইয়াছিন </figcaption></figure><p><strong>চার ভাইবোনের সংসারে শূন্যতা</strong></p><p>চার ভাইবোনের মধ্যে ইয়াছিন ছিলেন তৃতীয়। বড় ভাই মোহাম্মদ সৈয়দ হোসেন (২৬) মালয়েশিয়াপ্রবাসী। বড় বোন জান্নাতুল নাইমার বয়স ২২ বছর। ছোট ভাই মোহাম্মদ রবিউল হোছাইনের বয়স ১৫ বছর; সে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। বাবা মোহাম্মদ দুলাল লামায় ব্যবসা করেন।</p><p>ইয়াছিনের পৈতৃক বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলায়। তবে পরিবারটি অন্তত ২০ বছর ধরে চকরিয়ার সাহারবিল ইউনিয়নের শাহপুরা এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করছে।</p><p>পরিবারের যে ছেলে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল, মা-বাবার কাছে আবদার করে যে কিনেছিল নিজের পিকআপ, তার সেই স্বপ্ন আর এগোবে না। বাড়ির উঠানে ছেলের নিথর দেহের পাশে স্বজনদের কান্নায় স্পষ্ট হয়ে উঠছিল, একজন তরুণের মৃত্যু কীভাবে তছনছ করে দিতে পারে একটি পরিবারকে।</p><p><strong>আরেকটি পরিবারেও শোক</strong></p><p>দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তি আবদুল্লাহর বয়স ২৭ বছর। তাঁর বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল এলাকায়। তাঁর বাবা আবুল কালাম। পিকআপে চড়ে চকরিয়া থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন আবদুল্লাহ। কিন্তু তাঁরও আর বাড়ি ফেরা হয়নি।</p><p>গতকাল বিকেল পাঁচটায় শাহপুরা জামে মসজিদ মাঠে মোহাম্মদ ইয়াছিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পাশের সামাজিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।</p><p>যে ছেলের সকালে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন মা, তাঁকেই শেষবারের মতো বিদায় জানাতে হলো। মাত্র ১৫ দিন আগে ৭ লাখ টাকার পিকআপ ঘিরে যে স্বপ্ন শুরু হয়েছিল, সড়ক দুর্ঘটনায় তার করুণ পরিণতি হলো।</p>
<p>মিল্কিওয়ে ছায়াপথের (গ্যালাক্সি) কেন্দ্রীয় সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ধাতুর বিশাল ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে শনাক্ত করা গ্যাসীয় উপাদানগুলো মূলত সুপারনোভা বা নক্ষত্র বিস্ফোরণের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে ছায়াপথের কেন্দ্রে থাকা ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ভারী ধাতু ছড়িয়ে দিয়েছে। দ্য অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল জার্নালে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।</p><p>বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, জ্যোতির্বিজ্ঞানে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের চেয়ে ভারী যেকোনো উপাদানকে ধাতু বলা হয়, যার মধ্যে অক্সিজেন, কার্বন, লোহা বা সোনা অন্যতম। নক্ষত্রের আয়ু শেষের দিকে কেন্দ্রস্থলে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসব উপাদান তৈরি হয় এবং পরে তা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে নতুন নক্ষত্রের অংশ হয়।</p><p>গ্যাস হিসেবে শনাক্ত হওয়া এসব ধাতুর গঠন পার্শ্ববর্তী কয়েকটি নক্ষত্রের রাসায়নিক উপাদানের মতোই। কানাডার মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী নিকোল ফোর্ড বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্রে একটি ব্ল্যাকহোল রয়েছে, যা তার চারপাশের উপাদানকে নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে। তবে আমরা দেখছি এটি অন্যান্য সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের তুলনায় অনেক ধীরে উপাদান গ্রহণ করছে। এমন কেন ঘটছে তা বোঝার জন্য ব্ল্যাকহোলের খাদ্য হিসেবে থাকা গ্যাস, ধূলিকণা এবং এটিকে প্রদক্ষিণকারী নক্ষত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য জানা প্রয়োজন।</p><p>ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি গ্যাস নিঃসরণ স্থানীয় মেঘের পরিস্থিতির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে থাকে। ফলে কেবল গ্যাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্ল্যাকহোল কতটা সক্রিয় তা জানা সম্ভব নয়। তবে ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ধাতুর উপস্থিতি গ্যাস ঠান্ডা হওয়ার গতিকে প্রভাবিত করে, যা গ্যাসটি ব্ল্যাকহোলে কীভাবে টেনে নেওয়া হবে তা নির্ধারণ করে থাকে।</p><p>জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের নতুন পর্যবেক্ষণের এই তথ্য দূরবর্তী গ্যালাক্সির সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের চারপাশের ধাতুর বণ্টন এবং পৃথিবীতে ভারী মৌল পৌঁছানোর প্রক্রিয়া বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।</p><p>সূত্র: লাইভ সায়েন্স</p>
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের স্পাইডার-ম্যানের পোশাক পরা এক ব্যক্তি হুইলচেয়ারে থাকা একজনকে ষষ্ঠ স্ট্রিট পার হতে সাহায্য করেছিলেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মামলার বাদী কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিনকে ফোন করে এ হুমকি দেওয়া হয়।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোভাযাত্রা সবে শুরু হয়েছিল। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর সন্দেহভাজন বন্দুকধারীরা গির্জায় ঢুকে পড়ে। কয়েক মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।
সবুজ চা-গাছের সারি, টিলার আঁকাবাঁকা পথ আর খোলা আকাশ। চারপাশে সবুজের সমারোহ। পূজার দীর্ঘ ছুটিতে সিলেটের মালনীছড়া ও লাক্কাতুরা চা-বাগানে ঘুরতে আসছেন নানা বয়সী মানুষ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন