কলাম

চীন কেন বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে? কাহিনী কী?

অক্টোবর ২১, ২০২৬
চীন কেন বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে? কাহিনী কী?
চীন কেন বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে? কাহিনী কী?
<p>নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে এবং মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে টানা ২৩ মাস ধরে সোনা কিনছে চীন।</p><p>গত সেপ্টেম্বর মাসে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) তাদের সোনার মজুত বাড়িয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার আউন্স। আগস্টে এই পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার আউন্স। এতে চীনের মোট সোনার মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ হাজার আউন্সে। অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার ৪০৯ দশমিক ৫৯ টন।</p><p>তবে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নয়, চীনের বাজারেও সোনার চাহিদা বাড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে দেশটি ১ হাজার টনের বেশি সোনা আমদানি করেছে। এর মূল্য ১৫ হাজার ৮৮০ কোটি ডলার। অথচ ২০২৫ সালের পুরো বছরে চীন ৮৮৬ টন সোনা আমদানি করেছিল, যার মূল্য ছিল ৯ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। </p><h3>চীন কেন সোনা কিনছে?</h3><p>‘সোনা যার হাতে, নিয়মও তার হাতে’—চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঝিহুতে প্রকাশিত একটি পোস্টে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। কথাটি বাস্তবতার তুলনায় কিছুটা অতিরঞ্জিত হলেও চীনের কয়েকজন বিশ্লেষকের কাছে সোনার কৌশলগত গুরুত্ব কতটা বেড়েছে, তা বোঝা যায়। বর্তমানে চীনের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ৯ শতাংশ সোনা।</p><p>জিনরুই ফিউচার্সের বিশ্লেষক উ জিজিয়ে বলেন, চীনের মুদ্রা ইউয়ানের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে আমদানি খরচ কমেছে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সোনা আমদানির কোটা শিথিল করার সুযোগ পেয়েছে।</p><p>পিকটে ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ঝেং ওয়াংছিংয়ের মতে, চীনের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার কারণে বিদেশে সম্পদ কেনার সক্ষমতা বেড়েছে। বেইজিং যখন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমাচ্ছে, তখন বিকল্প সম্পদ হিসেবে সোনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।</p><p>ঝেং আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানকার কিছু সভেরেন্ট ওয়েলথ ফান্ড সোনা বিক্রি করেছে। চীনের বাড়তি চাহিদা সেই সোনার বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।</p><p>চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে জাতীয়তাবাদী বক্তব্যও দেখা যাচ্ছে। ওয়েইবোতে প্রকাশিত একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, চীনের সবচেয়ে ধনী ১০ কোটি মানুষ প্রত্যেকে ৮০ হাজার ইউয়ান করে দিলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে থাকা সব সোনা কিনে নেওয়া সম্ভব।</p><h3>ইউয়ানকে কি বৈশ্বিক মুদ্রা করতে চায় চীন?</h3><p>চীনের সোনা কেনার পেছনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য দেখছেন দেশটির কয়েকজন বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লেনদেনে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বেইজিংয়ের।</p><p>এ পরিকল্পনা শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনার মজুত বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে হংকংয়ের সোনা সংরক্ষণ ও বাণিজ্যব্যবস্থা এবং বিদেশের খনিতে চীনা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ।</p><p>লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সোনার খনি কিনে চীনা কোম্পানিগুলো সরাসরি উৎপাদনস্থল থেকে সোনা সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে, হংকংয়ের বিকাশমান সোনার বাজারের মাধ্যমে সেই সোনা সংরক্ষণ, কেনাবেচা ও লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এর ফলে সোনার বৈশ্বিক বাণিজ্যে চীনের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।</p><p>গুওতাই জুনান ইন্টারন্যাশনালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ঝৌ হাও বলেন, টানা ২৩ মাস সোনা কেনার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতি আস্থা শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে ডলারে রাখা রিজার্ভের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।</p><p>নানহুয়া ফিউচার্সের মূল্যবান ধাতু ও নতুন জ্বালানি গবেষণা দলের প্রধান সিয়া ইংইং বিষয়টিকে আরও বিস্তৃতভাবে দেখছেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনার মজুত বাড়ালে রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের একচ্ছত্র সুবিধা দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতি, ঋণ এবং নিষেধাজ্ঞা ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।</p><p>ইউয়ানে সোনার বাণিজ্য বাড়ানোর এই উদ্যোগে হংকং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের একটি প্রতিবেদনে চীনের অভ্যন্তরীণ সোনার বাজারের সঙ্গে বিদেশের বাজারগুলোকে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।</p><p>এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সাংহাই গোল্ড এক্সচেঞ্জের হংকংয়ের অফশোর গুদাম এবং ইউয়ানে মূল্য নির্ধারিত সোনার চুক্তি। ভবিষ্যতে এই নেটওয়ার্ক সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, দুবাই, রিয়াদ ও মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।</p><p>চীনা বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগের বাস্তব সুবিধাও রয়েছে। বিদেশি ক্রেতারা যদি ইউয়ান ব্যবহার করে হংকং থেকে সোনা কিনতে এবং তা বুঝে নিতে পারেন, তাহলে তাঁদের ইউয়ান সংগ্রহ ও নিজেদের কাছে রাখার আগ্রহ বাড়তে পারে। এতে ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক লেনদেনেও ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।</p><p>অবশ্য শুধু সোনার বাণিজ্য বাড়ালেই ইউয়ান বৈশ্বিক মুদ্রায় পরিণত হবে না। তবে এর মাধ্যমে চীনের বাইরে মুদ্রাটির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা সম্ভব।</p><h3>ডলারের আধিপত্য কি কমাতে পারবে চীন?</h3><p>চীনের সোনা কেনার এই প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের প্রভাব কমানো বা ‘ডলারমুক্তকরণ’ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে সোনা কেনার সঙ্গে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর সম্পর্ক ঠিক কতটা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।</p><p>চীন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমিয়েছে এবং একই সময়ে সোনার মজুত বাড়িয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দেশটি ডলারে বিনিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে। চীনা বিনিয়োগকারীরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছেন।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ঋণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বাজেট ঘাটতি চলতে থাকায় ডলারের দীর্ঘমেয়াদি শক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ডলারের প্রভাব এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী।</p><p>ঝিহুতে এক ব্যবহারকারীর মতে, সোনার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো—এর মূল্য কোনো একটি সরকারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বা ঋণযোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, সোনা কেনার প্রধান উদ্দেশ্য ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানো নয়; বরং আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।</p><p>রংই ফাইন্যান্স ছদ্মনামে লেখেন এমন একজন বিশ্লেষকও প্রায় একই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, সোনার মজুত বাড়লে একটি দেশের আর্থিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউয়ানের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে চীনের বাজারের প্রতি আস্থা এবং ইউয়ানকে সহজে অন্য মুদ্রায় রূপান্তর, ধরে রাখা ও বিনিয়োগ করার সুযোগের ওপর।</p><h3>চীনের সোনা কেনার কৌশল নিয়ে তিনটি মত</h3><p>চীনে এ নিয়ে মূলত তিন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।</p><p>প্রথমত, কেউ কেউ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ, নিষেধাজ্ঞা এবং ডলারের আধিপত্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় সোনা একটি নিরাপদ সম্পদ।</p><p>দ্বিতীয়ত, হংকংয়ের সোনার বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেনে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন অনেকে।</p><p>তৃতীয়ত, একদল বিশ্লেষকের মতে, কোনো সরকারের ঋণযোগ্যতার ওপর নির্ভর না করাই সোনার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। তাই আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সোনার মজুত বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>আপাতত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনা এবং তা আরও শক্তিশালী করাই চীনের সোনা কেনার প্রধান উদ্দেশ্য। তবে সময়ের সঙ্গে হংকংয়ের সোনার বাজার সম্প্রসারণের ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেনে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়তে পারে। যদিও শুধু সোনার বাজারের ওপর ভর করে বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের কেন্দ্রীয় অবস্থান সরিয়ে দেওয়া কঠিন।</p><ul><li><p><strong>সানা হাশমি</strong> পিএইচডি গবেষক। তিনি তাইওয়ান-এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফাউন্ডেশনের ফেলো। দ্য প্রিন্ট থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ</p></li></ul>

Prothomalo

View more
মাদক মামলার আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য
মাদক মামলার আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য

ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের সজনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
রোনালদোর পেনাল্টি মিস, বাড়ল মেসির সঙ্গে ব্যবধান
রোনালদোর পেনাল্টি মিস, বাড়ল মেসির সঙ্গে ব্যবধান

পেনাল্টি মিসে মেসির সঙ্গে রোনালদোর ব্যবধান আরেকটু বাড়ল। ক্যারিয়ারে ২২১টি পেনাল্টি শট নিয়ে ১৮৪ গোল করেছেন রোনালদো।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে ৬ থেকে ২০ গ্রেডে চাকরি, পদ ১৯
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে ৬ থেকে ২০ গ্রেডে চাকরি, পদ ১৯

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে ৬ থেকে ২০ গ্রেড পর্যন্ত ১৯ পদে নিয়োগ, শেষ তারিখ ৯ নভেম্বর ২০২৬।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
কুকুরের ডাকাডাকি শুনে ঘর থেকে বের হন ছাত্রদল নেতার ভাই, ফাঁকা গুলি ছুড়ে অপহরণ
কুকুরের ডাকাডাকি শুনে ঘর থেকে বের হন ছাত্রদল নেতার ভাই, ফাঁকা গুলি ছুড়ে অপহরণ

অপহৃত রফিক কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাইন্যাপাড়ার বাসিন্দা মমতাজ আহমদের ছেলে। তিনি বাহারছড়া উত্তর শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ কায়সারের বড় ভাই।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
আলো যখন মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রক: গল্পের শুরু একটি সবুজ শৈবাল থেকে
আলো যখন মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রক: গল্পের শুরু একটি সবুজ শৈবাল থেকে

২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী কার্ল ডাইসেরথ, পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেলের গবেষণা এবং অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তির বিকাশ ও গুরুত্ব সাধারণ পাঠকের উপযোগী করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন লেখক।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
রিয়াজুল, তুমি করিয়াছ ভুল
রিয়াজুল, তুমি করিয়াছ ভুল

<p>সোনিয়া কড়া গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘রিয়াজুল, এইটা কী করছ তুমি?’</p><p>আমি মাথা চুলকালাম। সারা দিন অনেক কিছুই করেছি। এর বেশির ভাগই সোনিয়ার পছন্দ নয়, জানি, তবু করে ফেলেছি। আজ সকালে যেমন পচা মাছ কিনে এনে সোনিয়াকে রাগিয়ে দিয়েছি। মাছ দেখেশুনেই কিনেছি, বাজারের অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখা টাটকা রুই মাছ কিনে, কেটেকুটে বাসায় এনেছি। কিন্তু আনার পর দেখা গেল পচা। জ্যান্ত মাছ কীভাবে পচা হলো, বুঝতে পারছি না। সম্ভবত মাছওয়ালা শেষ সময়ে ভালো মাছ বদলে পচা মাছ গছিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন এই ষড়যন্ত্রতত্ত্বের কথা বলে কোনো লাভ নেই। সোনিয়া বলেছে, এই মাছ আমাকে রান্না করতে হবে, ফেলে দেওয়া যাবে না। এখন আমি ইউটিউবে পচা মাছ কীভাবে রান্না করা যায়, তার রেসিপি দেখছি।</p><p>আগে ইলিশ রান্না করলে অনেক দূর ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ত, আমার পচা রুই মাছের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ঘটনা ঘটল। মাছের গন্ধ পাশের বাসার আন্টিকে টেনে আনল। তিনি হুড়মুড় করে সোনিয়াকে বললেন, ‘এত দুর্গন্ধ কিসের? কী রান্না করছ?’</p><p>সোনিয়া বলল, ‘পচা মাছ এনেছে, সেটাই রান্না করছে।’</p><aside><cite></cite>‘রিয়াজুল, এইটা কী করছ তুমি?’</aside><p>আন্টি বলল, ‘কিন্তু এই দুর্গন্ধ তো একপ্রকার টর্চার। স্বামীকে মাছ কেনা শেখাও, বুঝলে?’</p><p>সোনিয়া বলল, ‘মাছ কেনা নাহয় শেখালাম, কিন্তু চালাক–চতুর হওয়া কীভাবে শেখাব?’</p><p>আন্টি বলল, ‘অনলাইনে একটা শর্ট কোর্সে ভর্তি করে দাও। দেখবা আর ঠকবে না।’</p><p>‘তা–ই করতে হবে মনে হচ্ছে।’</p><p>আন্টির অভিযোগের পর আমার মাছ রান্না বন্ধ হলো।</p><p>যাহোক, আমার পাশে বসেছে সোনিয়া। ভাবভঙ্গি মোটেই ভালো মনে হচ্ছে না।</p><p>সোনিয়া আবার জিজ্ঞেস করল, ‘এইটা তুমি কী করেছ?’</p><p>‘কী করেছি?’</p><p>‘ফেসবুকে আমার বান্ধবী রানুর ছবিতে কী কমেন্ট করেছ?’</p><p>‘কেন লিখেছি, “অনাগত বেবির জন্য শুভকামনা। তোমার বাচ্চাটা সুস্থ-সুন্দর হোক।”’</p><p>‘গাধার গাধা। তোমার কমেন্ট নিয়ে লেগেছে তোলপাড়। ওর তো বিয়ে ভেঙে যাওয়ার অবস্থা।’</p><p>‘বিয়ে মানে? ওর না বেবি শাওয়ার হলো।’</p><p>‘আরে গাধা, ওটা বেবি না, ব্রাইডাল শাওয়ার।’</p><p>‘ওহ্ সরি সরি। গুলিয়ে ফেলেছি দুইটা। ও পেটে হাত রেখে ছবি তুলেছে। পেছনে শাওয়ার লেখাটা শুধু চোখে পড়েছে, বেবি না ব্রাইডাল, মিস করে গেছি।’</p><p>‘পেটে হাত দিয়ে ছবি তুললেই সে প্রেগন্যান্ট?’</p><p>‘ইয়ে মানে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়েছিলাম। এখন দেখছি হিসাব মেলেনি।’</p><p>‘ওর শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুব মাইন্ড করেছে তোমার কমেন্ট দেখে।’</p><p>‘দাঁড়াও, কমেন্ট ডিলিট করি। আরে ডিলিট তো হচ্ছে না।’</p><p>সোনিয়া রাগে গজরাতে লাগল। বলল, ‘তোমার আর ডিলিট করতে হবে না। যাও, মাছ কিনে আনো। শিং মাছ আনবা। একদম ডলে ডলে সাদা করে দেয় যেন।’</p><p>শিং মাছ কীভাবে ডলে সাদা করে, জানি না। বিড়বিড় করে বললাম, ‘তুমি রেসিস্ট।’</p><p>সোনিয়া বলল, ‘কী বললে?’</p><p>‘বলেছি, অনেক কষ্ট করেছ, এখন রেস্ট নাও।’</p><p>বাজারে এসে শিং মাছ কিনে এক মহিলাকে দিয়েছি। সে মেঝেতে ঘষে ঘষে মাছ সাদা করার চেষ্টা করছে। বলল, ‘ভাইজান সাদা তো হয় না। এ কেমন শিং?’</p><p>এমন সময় সোনিয়ার ফোন। বলল, ‘ওই, তুমি আমার ক্যাম্পাসের জুনিয়র মীরার ছবিতে কী কমেন্ট করেছ কেবল?’</p><p>‘ওটায় তো কোনো ভুল করিনি। লিখেছি, “জীবন সুন্দর হোক। নতুন জামাই নিয়ে সুখে থাকো।”’</p><p>‘আরে ওর তো বেবি শাওয়ার, ব্রাইডাল শাওয়ার না।’</p><p>আমার মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। চোখের সামনে বেবি শাওয়ার, ব্রাইডাল শাওয়ার, পচা রুই মাছ, শিং মাছ—সব একাকার হয়ে গেল।</p><p>আজ আর বাসায় যাব না। টা টা বাই বাই। খতম।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/xjo51ph1ol">সেরা দেশ</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/z87t7zqecu">স্মার্টফোনের অবসর চেয়ে আবেদন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/tx4yiwxen9">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/88lpnc5wio">রসচিঠি ২০</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/mrplq2ed70">ইলিশ আছে, ইলিশ হ্যাজ!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/trarpa7245">দুটি কলেজের সংঘর্ষ বন্ধ করার বিভিন্ন পদ্ধতি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hiksaptred">গ্যাঞ্জাম of সায়েন্সল্যাব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/uw52c84wv8">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/7rof92zr6d">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2bbl7jm57n">ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ফুলহাতা শার্ট পরা ছাড়া আর কী কী করা যেতে পারে?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/816oy38o23">আহসান হাবীবের প্রিয় ৪ কৌতুক</a></aside>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
দুই দশক পরও আবাসন ও শিক্ষকসংকটে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
দুই দশক পরও আবাসন ও শিক্ষকসংকটে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

<p>ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন, শিক্ষক, চিকিৎসা ও পরিবহনসংকটে ধুঁকছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে, খালি অর্ধেকের বেশি শিক্ষক পদ। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
দ্য কুইনস কমনওয়েলথ রাইটিং কম্পিটিশনে ব্রোঞ্জ অ্যাওয়ার্ড জয়
দ্য কুইনস কমনওয়েলথ রাইটিং কম্পিটিশনে ব্রোঞ্জ অ্যাওয়ার্ড জয়

প্রতিযোগিতায় কমনওয়েলথের ৫৬টি সদস্যদেশ থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৫৩ হাজার ৮৪০টি লেখা জমা পড়ে। এ বিপুল লেখার মধ্যে আমার লেখাটিও স্বীকৃতি পেয়েছে, ভাবতেই ভীষণ ভালো লাগছে। এটি হয়তো খুব বড় কিছু নয়, তবে আমার কাছে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
হাল ফ্যাশন শারদীয় ভোজ: চেনা রান্নায়  নতুন স্বাদ আনবে শসা দিয়ে খাসির মাংস
হাল ফ্যাশন শারদীয় ভোজ: চেনা রান্নায় নতুন স্বাদ আনবে শসা দিয়ে খাসির মাংস

শারদীয় ভোজে চেনা রান্নায় আনতে পারেন নতুন স্বাদ। খাসির মাংসের সঙ্গে শসার মেলবন্ধনে তৈরি এই পদ গরম ভাতের সঙ্গে জমবে বেশ।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন