আউটসোর্সিং নীতিমালা সংশোধন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সুযোগ বন্ধ করা হলেও সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নেওয়ার আইনি বিধান নেই।
মার্কিন এক সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যার ঠিক এক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্লাস্টিক বা রেজিনের বদলে জীবন্ত কোষ ও বিশেষ জৈব উপাদান দিয়ে ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) কাঠামো তৈরির উদ্ভাবনী প্রযুক্তিই হলো থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করার পর গতকাল তিনি রাজশাহী ছেড়েছেন।
<p>সম্পর্কে তর্কবিতর্ক স্বাভাবিক বিষয়। তবে এসব মতভেদ কীভাবে সমাধান করে দাম্পত্য সম্পর্ক আরও সুন্দর করে তুলছেন, সেটাই জরুরি।</p><p>প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল–বোঝাবুঝি বা মতবিরোধ খুবই স্বাভাবিক। দাম্পত্য জীবনেও তা–ই। তবে এই ছোটখাটো দ্বন্দ্ব শুরুতেই সামলে নেওয়া ভালো। না হলে তা হয়ে উঠতে পারে গভীর ক্ষত। দাম্পত্য সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে যে বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি—</p><p><strong>১. সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা</strong></p><p>সঙ্গীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ার পরই অনেকে একে অপরের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। এটা ভুল। ঝগড়া-বিবাদ মেটানোর জন্য খোলামেলাভাবে যোগাযোগ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গী যখন কোনো অভিযোগ করবেন, সেটা মন দিয়ে শুনুন। তবে শোনার উদ্দেশ্য যেন হয় তাঁকে বোঝা, তাঁর কথার পাল্টা যুক্তি দেওয়ার জন্য নয়। কথা বলার সময় তাঁকে বাধা দেবেন না। </p><figure><img alt="দাম্পত্যে ঝগড়া এড়িয়ে চলার ৭ টিপস" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2020-12/fcc31aeb-c036-43cb-9da3-a6804fc3a1aa/_SY_9146.jpg"><figcaption>সঙ্গীর ভালো কাজের প্রশংসারও দরকার আছে</figcaption></figure><p><strong>২. দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো</strong></p><p>অনেক সময় আমরা পরিস্থিতিকে শুধু নিজের দিক থেকে বিচার করতে পছন্দ করি। তবে দাম্পত্য জীবনের ছোট-বড় কলহের সমাধানের জন্য এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার। ঝগড়ার পর নিজেকে সঙ্গীর জায়গায় বসিয়ে ভাবুন। অর্থাৎ আপনি তাঁর জায়গায় থাকলে কী করতেন।</p><p>সঙ্গীর অনুভূতিকে সম্মান জানান ও স্বীকার করুন। খুব ছোট ছোট বাক্যে মুহূর্তেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ঠান্ডা হতে পারে। যেমন ‘আমি বুঝতে পারছি কেন বিষয়টি তোমার জন্য এত কষ্টের’—এ ধরনের কথা সমাধানের দরজা খুলে দিতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/relation/g7vwu6skvv">প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান কেন মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে</a></aside><p><strong>৩. আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ</strong></p><p>ঝগড়ার সময় অনেকের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তখন মনের ইচ্ছার বাইরে গিয়েও কটু কথা বলে ফেলেন। পরবর্তী সময় সেসব কথাই আরও বড় বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে। তাই তর্কের সময়ও একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রাখা জরুরি। পরিস্থিতি উল্টো দিকে যেতে শুরু করলে বিরতি নিন। এমন পরিস্থিতিতে নিজেই প্রস্তাব রাখুন, ‘চলো একটু হেঁটে আসি, তারপর আলোচনা করা যাবে।’</p><figure><img alt="দাম্পত্যে ঝগড়া এড়িয়ে চলার ৭ টিপস" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-07/3a0b0a0e-2093-4dd0-a2da-6ad3ad41b579/_SY_4074.JPG"><figcaption>তর্কের সময়ও একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রাখা জরুরি</figcaption></figure><p><strong>৪. দোষারোপ না করে অনুভূতির প্রকাশ</strong></p><p>যখন আপনার কথা বলার পালা আসবে, তখন এমন শব্দ বেছে নিন, যাতে সঙ্গীকে দোষারোপের বদলে আপনার ভেতরের অনুভূতির প্রকাশ হয়। যেমন ‘তুমি কখনো ঘরের কোনো কাজেই আমাকে সাহায্য করো না’—এভাবে না বলে বরং ‘সব যখন আমাকেই সামলাতে হয়, তখন খুব অসহায় আর ক্লান্ত লাগে’ ধরনের বাক্য বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/relation/qda4hv448h">সম্পর্ক সুন্দর, নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী রাখতে এই পাঁচ বিষয় মনে রাখুন</a></aside><p><strong>৫. নিজেকে দিয়ে কথা বলা শুরু করুন</strong></p><p>ঝগড়ার শুরুতেই অভিযোগ করে ‘তুমি এমন বলেছ, তুমি এমন করেছ’ ইত্যাদি না বলা ভালো। ‘তুমি’ দিয়ে শুরু করলে অপরপক্ষ নিজেকে অভিযুক্ত মনে করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আত্মরক্ষামূলক রূঢ় আচরণ করে বসতে পারেন। তার বদলে ‘আমি’ দিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলে অপরাধবোধ ছাড়া খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়।</p><figure><img alt="দাম্পত্যে ঝগড়া এড়িয়ে চলার ৭ টিপস" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-09-12/nqpmsqh3/IMG_1348.jpg"><figcaption>নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং সম্পর্কে পরিপক্বতার লক্ষণ</figcaption></figure><p><strong>৬. সব বিষয়ে একমত হওয়া যায় না, এটা মেনে নেওয়া</strong></p><p>সব দ্বন্দ্বের বা মতবিরোধের পরই যে একটি নিখুঁত সমাধান আসবে, এমন কোনো কথা নেই। এটি মেনে নেওয়া জরুরি যে প্রতিটি ব্যক্তির নিজ নিজ অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনার জগৎ আছে। কখনও কখনও এটি মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ-আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে আপনি বলতে পারেন, ‘যদিও সব বিষয়ে আমাদের মতামত মিলছে না, তবুও আমি তোমার দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান জানাই।’</p><p><strong>৭. ভুল স্বীকার করুন</strong></p><p>নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং সম্পর্কে পরিপক্বতার লক্ষণ। ঠিক তেমনি সঙ্গীর ভালো কাজের প্রশংসারও দরকার আছে। সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় করতে চাইলে প্রতিদিন ‘সরি’, ‘ধন্যবাদ’, ‘তোমাকে ভালোবাসি’ ইত্যাদি ছোট ছোট শব্দ ব্যবহার করুন। সব সময় যে শুধু মুখেই বলতে হবে তেমনটা নয়, তবে যত্নের বহিঃপ্রকাশ জরুরি।</p><p>সম্পর্কে তর্কবিতর্ক স্বাভাবিক বিষয়। তবে এসব মতভেদ কীভাবে সমাধান করে দাম্পত্য সম্পর্ক আরও সুন্দর করে তুলছেন, সেটাই জরুরি।</p><p><sup>সূত্র: ফেমিন</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/relation/rl0z3gfrfd">স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক মজবুত করতে পারে এই ৫ অভ্যাস</a></aside>
কানাডার আলবার্টায় গণভোটে জনগণ সচ্ছলতা ও জাতীয় ঐক্যে রায় দিয়েছেন। ৭৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার বিচ্ছিন্নতার বিপক্ষে।
১৪ অক্টোবর সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানা যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
হামলার পর সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। দেশ দুটি যৌথভাবে তেলসমৃদ্ধ আবেই অঞ্চলটি পরিচালনা করে। অঞ্চলের মালিকানা নিয়েও দেশ দুটির বিরোধ চলছে।
<p>আমি নাক ডাকি।</p><p>বিষয়টাকে আমি ইতিবাচকভাবে নিয়েছি।</p><p>সবাই নাক ডাকতে জানে না।</p><p>আমি জানি। </p><p>আমার মেজাজের ওপর নাকডাকার গুরুতর প্রভাব রয়েছে।</p><p>এবং আমার বিশ্বাস, বিষয়টা নতুন নয়।</p><p>নাকডাকা নিয়ে একাধিক রচনা আছে বৈকি!</p><p>লেখকদের সালাম জানাই।</p><p><br>নাক ডাকলে আমার বেশ ভালো ঘুম হয়।</p><p>পরদিন সকালবেলা উঠে মনে হয়, আমি উড়তে পারি।</p><p>বেশ খুশি খুশি লাগে। </p><p>যারা নাক ডাকতে পারে না, তাদের জন্য আমার আফসোস হয়।</p><p>নাকডাকা ব্যক্তিদের ওপর যারা রাগ দেখায় কিংবা হইচই করে, তাদের জন্য আমার মায়া হয়।</p><p>তারা কী করে বুঝবে এই গুণের কদর!</p><p><br>নাকডাকার উপকারিতা নিয়ে আমি পুরো উপন্যাস লিখতে পারি। </p><p>কেউ পড়বে কি না,জানি না।</p><p>বাস্তবসম্মত লেখার পাঠক পাওয়া দুষ্কর।</p><p>নাকডাকা আমার শ্বাস-প্রশ্বাসের অংশ।</p><p>আমার বেঁচে থাকার অংশ!</p><p><br>আমার বাড়িতে কোনো চুরির ভয় নেই।</p><p>ডেঙ্গুর এত প্রাদুর্ভাব থাকা সত্ত্বেও মশার উপদ্রব নেই।</p><p>বোধ করি এতেও নাকডাকার হাত আছে। </p><p><br>আমি সত্যিই বড় সুখী মানুষ। </p><p><br>আজ সারা দিনে ধকল কম যায়নি! </p><p>বিছানাটাকে আজ নতুন জায়গায় সরিয়ে এনেছি। </p><p>জানালার কাছে দিয়েছি পড়ার টেবিল।</p><p>পড়াশোনা শুরু করতে হলে চারপাশের পরিবেশে পরিবর্তন আনা দরকার। </p><p>নিজের পরিবর্তনটা নাহয় পরেই হবে।</p><p>জিনিসপত্র টানাটানি করতে গিয়ে জান বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম!</p><p>খুব ক্লান্ত লাগছে। </p><p><br>ঘুমাতে যাওয়ার আগে কেমন যেন অন্য রকম অনুভূতি হলো।</p><p>ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কিছু বলছে কি? </p><p>কোনো ডাক অপেক্ষা করছে আমার জন্য?</p><p>শোয়ামাত্রই ঘুমিয়ে পড়লাম। </p><p>আজকের স্বপ্নটা কিছুটা অদ্ভুত লাগল। একদল লোক গাধা মাথায় নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে—</p><p>কিন্তু আমি তো হেঁটে যাচ্ছি না!</p><p>তবে কি আমিও...?</p><p>হাত-পায়ের দিকে তাকালাম।</p><p>খুর তো দেখতে পাচ্ছি না। </p><p>তবে কান দুটো কিছুটা বড় মনে হচ্ছে। </p><p>এগুলো কি সত্যিই আমার কান? </p><p>যারা আমাকে মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছিল, তারা হঠাৎ আমাকে ফেলে দিল।</p><p>শূন্য থেকে। </p><p>ঘুম ভেঙে গেল। </p><p>আমি কোথায়? </p><p>আমার ঘরেই তো! </p><p>কিন্তু...ঘরটা এত ফাঁকা কেন?</p><p>আলমারিটা এই জায়গায় ছিল না?</p><p>বিছানাটা কোথায় গেল?</p><p>আমি মাটিতে কেন?</p><p><br>একটু পর বুঝতে পারলাম।</p><p>আমার আলমারি, বিছানা, টাকাপয়সা সবকিছু গায়েব।</p><p><br>শেষ!</p><p>আমার এত বছরের রেকর্ড, সব ভেঙে গেল।</p><p>জীবনে প্রথমবারের মতো আমি ছিনতাইয়ের শিকার হলাম, ঘুমন্ত অবস্থায়।</p><p>বারবার ভাবতে ইচ্ছা করল, পুরো ব্যাপারটাই একটা স্বপ্ন।</p><p><br>কিন্তু মন্দ বিষয়গুলো কখনো স্বপ্ন হয় না।<br>এই অর্ধসমাপ্ত, ব্যাখ্যাতীত ঘটনার শেষ লাইন কী?<br>আজ রাতে আমি নিশ্চিত, নাক ডাকিনি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/gpbhuxm4op">আমার আছে নোবেল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6ivlyjbko1">চাঁদা নিয়ে বিখ্যাত কবি–সাহিত্যিকেরা যা লিখতেন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/26lzw0694g">মানুষের মগজ ডাউনলোড করা সম্ভব নয় : হানিফ সংকেত</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/1b2pl7u0b9">ভদ্র ছেলেরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যায়?</a></aside>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন