<p>২০০০ সালের ৩০ জুন প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে ‘নাইপলের পাকিস্তান’ শিরোনামে নিবন্ধটির প্রতিক্রিয়ায় ২৮ জুলাই এ লেখাটি প্রকাশিত হয়। এত দিন ছাপা কাগজের পাতাজুড়ে থাকা লেখাটি আজ অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।</p><p>১৩৫৪ বাংলা সনে পাকিস্তান রাষ্ট্র তৈরি হয়। পাকিস্তান তৈরির কিছু আগে থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে বেশ আলোচনা শুরু হয়। সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন তাঁর স্মৃতিকথায় জানান, ১৩৫০ সালের কার্তিক সংখ্যা মাসিক মোহাম্মদীতে আবুল মনসুর আহমদের গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ ‘পূর্ব-পাকিস্তানের জবান’ প্রকাশিত হয়। নাসিরউদ্দীন লিখেছেন, ‘এতে বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা তথা জাতীয় ভাষা করা না হলে কি সংকট দেখা দিতে পারে তার ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু আবুল মনসুর আহমদ এবং অন্যান্য চিন্তানায়কের সতর্কবাণী উচ্চারণ ও রাষ্ট্রভাষা রূপে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ প্রকাশ করা সত্ত্বেও একশ্রেণীর বাঙালির উর্দু প্রীতির বিন্দুমাত্রও ঘাটতি ঘটেনি। ১৩৫২ সালে রচিত ও মাসিক ‘মোহাম্মদী’তে প্রকাশিত কবি ফররুখ আহমদের একটি ব্যঙ্গ-কবিতায় এই উর্দু প্রীতিওয়ালাদের পরিচয় বিধৃত: ‘...।’ কবিতাটির নাম ‘উর্দু বনাম বাংলা’।</p><p>দুই শো পঁচিশ মুদ্রা যে অবধি হয়েছে বেতন<br>বাংলাকে তালাক দিয়া উর্দুকেই করিয়াছি নিকা<br>বাপান্ত শ্রমের ফলে উড়েছে আশার চামচিকা<br>উর্দু নীল আভিজাত্য (জানে তা নিকট বন্ধুগণ)।<br>আতরাফ রক্তের গন্ধে দেখি আজ কে করে বমন?<br>খাঁটি শরাফতি নিতে ধরিয়াছি যে অজানা বুলি<br>তার দাপে চমকাবে এক সাথে বেয়ারা ও কুলি<br>সঠিক পশ্চিমী ধাঁচে যে মুহূর্তে করিব তর্জন।<br>পূর্ণ মোগলাই ভাব, তার সাথে দু’পুরুষ পরে<br>বাবরের বংশ দাবী, (জানি তা অবশ্য সুকঠিন<br>কিন্তু কোন লাভ বলো হাল ছেড়ে দিলে এ প্রহরে)<br>আমার আবাদী গন্ধ নাকে পায় আজো অর্বাচীন<br>পূর্বোক্ত তালাক সূত্রে শরাফতি করিব অর্জন;<br>নবাবী রক্তের ঝাঁজ আশা করি পাবে পুত্রগণ।</p><p>এই কবিতার প্রথম তিন ও শেষ তিন পঙ্ক্তি জুড়ে দিয়ে (মাঝখানে কোনো লোপ-নির্দেশক চিহ্ন ব্যবহার না করে) সনত্কুমার সাহা এক খিচুড়ি উদ্ধৃতি দেন (‘বাংলা গদ্যের স্বরূপ সন্ধানে’, প্রাকৃত, প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা, অক্টোবর ১৯৯২)। এই উদ্ধৃতির সঙ্গে সনৎবাবু দুটি মন্তব্যও করেন। সনৎবাবুর মতে ফররুখ আহমদ কবিতাটি লিখেছিলেন ‘অবশ্য এক বিরল মুহূর্তে’। এই প্রথম মন্তব্যটি সত্য নয়। তা আমরা একটু পরেই দেখাবো। সনৎবাবুর দ্বিতীয় মন্তব্য, ‘একে আমরা প্রক্ষিপ্ত ভাবনার আকস্মিক প্রকাশ বলেই মনে করি। নইলে ফররুখ আহমদের মত অসাধারণ কবির সততা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।’ আমরা দেখবো সনৎবাবুর এই মন্তব্য প্রমাণ করে ফররুখ আহমদের লেখার সাথে হয় তিনি পরিচিত নন, নয় সে লেখার মর্ম বোঝার ক্ষমতা তাঁর নাই।</p><p>সম্প্রতি হাসান ফেরদৌস সনৎবাবুর এই মন্তব্যের চেয়েও হীন এক কাজ করেছেন (‘নাইপলের পাকিস্তান’, প্রথম আলো, ৩০ জুন ২০০০)। ফররুখ আহমদ একদিকে যারা শরাফতির নামে বাংলা ভাষার স্থলে উর্দু ভাষা গ্রহণ করতে চাইছিলেন তাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বাংলা ভাষাকে সংস্কৃতের দুহিতা জ্ঞানে যারা ‘অস্পৃশ্যা নারীর মত বর্ণাশ্রম শৃঙ্খলে পীড়িত’ করছিলেন তাদেরও বিরুদ্ধে। এই দুই ধরনের বিরোধিতার মধ্যে কোনো বিরোধ আছে ধরে নিয়েই সনত্কুমার সাহা ‘ফররুখ আহমদের মত অসাধারণ কবির সততা নিয়ে প্রশ্ন’ তুলেছেন। আসলে এ দুয়ে কোনো বিরোধ নাই। আমি রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এবং সেই বাংলা চাই মৃত সংস্কৃতের বেড়াজাল মুক্ত। এতে বিরোধ কোথায়?</p><p>হাসান ফেরদৌসের সততা নিয়ে বরং আমার মনে একটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্যার বিদিয়াধর সূরযপ্রসাদ নাইপলের থিসিস—অনারব মুসলমানরা মাতৃভাষার চাইতে আরবিতে বেশি উত্সাহী, মাতৃভূমির চাইতে আরব দেশের প্রতি বেশি অনুগত—প্রমাণের খাতিরে হাসান সাহেব দাবি করেছেন চল্লিশ বছর আগের বাংলা কবিতায় ‘কবিদের ভাষা বাহ্যত বাংলা হলেও আরবি শব্দের উপস্থিতি তাতে প্রবল ও তীব্র।’ হাসান লিখেছেন: ‘আর যে স্বপ্নে ভরা কবিদের চোখ, সেখানেও আরবি দুলদুল, মরুর হাওয়া, শুষ্ক খর্জুর।’ হাসান ধরে নিয়েছেন ‘আরবি শব্দের উপস্থিতি’ ‘প্রবল ও তীব্র’ হলে কবিদের ভাষা অন্তরে আর বাংলাই থাকে না—‘বাহ্যত বাংলা’ হয় মাত্র।</p><blockquote>ফররুখ আহমদ একদিকে যারা শরাফতির নামে বাংলা ভাষার স্থলে উর্দু ভাষা গ্রহণ করতে চাইছিলেন তাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বাংলা ভাষাকে সংস্কৃতের দুহিতা জ্ঞানে যারা ‘অস্পৃশ্যা নারীর মত বর্ণাশ্রম শৃঙ্খলে পীড়িত’ করছিলেন তাদেরও বিরুদ্ধে। এই দুই ধরনের বিরোধিতার মধ্যে কোনো বিরোধ আছে ধরে নিয়েই সনত্কুমার সাহা ‘ফররুখ আহমদের মত অসাধারণ কবির সততা নিয়ে প্রশ্ন’ তুলেছেন। আসলে এ দুয়ে কোনো বিরোধ নাই। আমি রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এবং সেই বাংলা চাই মৃত সংস্কৃতের বেড়াজাল মুক্ত। এতে বিরোধ কোথায়?</blockquote><p>ফররুখ আহমদকে সনত্কুমার সাহা ‘আরব ভূখণ্ডে শিকড় সন্ধানী’ কবি বলে ডেকেছিলেন। ফররুখের কবিতায় আরবি শব্দ ও আরব্য প্রসঙ্গ দেখে তাঁর ধারণা হয়েছিল এই কবির পক্ষে বাংলা ভাষার পক্ষাবলম্বন সম্ভব নয়। তাই তিনি ফররুখের ‘উর্দু বনাম বাংলা’ সনেটটিকে ‘বিরল’ মুহূর্তের রচনা আর ‘প্রক্ষিপ্ত ভাবনার আকস্মিক প্রকাশ’ বলে ভুল করেছিলেন। হাসান ফেরদৌসও উদ্ধৃতি সহযোগে দেখান ফররুখ আহমদ বাংলায় আরবি শব্দ বেশি ব্যবহার করেছেন। ‘উর্দু বনাম বাংলা’ কবিতার দুই লাইন ‘দুই শো পঁচিশ মুদ্রা যে অবধি হয়েছে বেতন/বাংলাকে তালাক দিয়ে উর্দুকেই করিয়াছি নিকা’ উদ্ধারপূর্বক হাসান দাবি করলেন:</p><p>‘বলাবাহুল্য উর্দুর সাথে এক নিকাহ বাসনার ফল যে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপর বাংলা ভাষার হরফ বদলে আরবি করার অপচেষ্টা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’ আরবি হরফে বাংলা লেখার অপচেষ্টায় কতখানি শামিল হয়েছিলেন ফররুখ আহমদ? এ প্রশ্নের উত্তর হাসান দেন নাই। হাসানের আলোচনার ক্রম ও ধরন দেখে মনে হতে পারে ফররুখ আহমদের ‘উর্দু বনাম বাংলা’ কবিতাটি স্বীকারোক্তিমূলক। কবিতাটি যে বক্রোক্তিপূর্ণ সে কথা সনৎবাবু ধরতে পেরেছিলেন। সনৎবাবু ও হাসান সাহেব দুজনেই ধরে নিয়েছিলেন ফররুখ আহমদ আরবি শব্দ বেশি ব্যবহার করার কারণে উর্দুবিরোধী হতে পারেন না। ফররুখের স্পষ্ট উর্দুবিরোধিতা সনৎবাবুর চোখে হয় আকস্মিক, দৈব ঘটনা—নয় অসৎ রচনার প্রমাণ। হাসানের চোখে ওটা উর্দুবিরোধিতাই নয়। পক্ষপাত বরং।</p><p><strong>২.</strong></p><p>ফররুখ আহমদ যে রাষ্ট্রভাষা বিতর্কের আদি পর্বেই বাংলার পক্ষ নিয়েছিলেন তা হিসেবে নিলে সনৎবাবু স্বীকার করতেন কাজটি মোটেও আকস্মিক ছিল না। সওগাত-সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সাক্ষ্য অনুসারে: ‘১৩৫৪ সালের ভাদ্র মাসে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সে মাসেই তিনি সওগাতের জন্য একটি প্রবন্ধ লিখলেন—“পাকিস্তান: রাষ্ট্রভাষা ও সাহিত্য” নাম দিয়ে। এ প্রবন্ধটি পরবর্তী সংখ্যা আশ্বিনের সওগাতে ছাপা হয়। প্রবন্ধের প্রারম্ভেই তিনি লিখেছিলেন: “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, এ নিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আলোচনা হয়েছে। জনগণ ও ছাত্রসমাজ অকুণ্ঠভাবে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং এটা দৃঢ়ভাবেই আশা করা যায় যে, পাকিস্তানের জনগণের বৃহৎ অংশের মতানুযায়ী পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নির্বাচিত হবে। যদি তাই হয়, তবে এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, বাংলা ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।”—ভাষা সম্পর্কে আন্দোলন আরম্ভ হবার পূর্বেই ফররুখ আহমদ এ মতামত ব্যক্ত করেছিলেন।’</p><p>ফররুখ আহমদের এই প্রবন্ধ এখন তাঁর রচনাবলীর প্রথম খণ্ডে ছাপা হয়েছে (মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ও আবদুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত ‘ফররুখ রচনাবলী: প্রথম খণ্ড’ ঢাকা: আহমদ পাবলিশিং হাউস, ১৯৭৯)। প্রবন্ধটির শেষ ভাগে তিনি লেখেন: ‘গণতান্ত্রিক বিচারে যেখানে সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হওয়া উচিত সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষাকে যাঁরা অন্য একটি প্রাদেশিক ভাষায় রূপান্তরিত করতে চান তাঁদের উদ্দেশ্য অসৎ। পূর্ব পাকিস্তানের সকল অধিবাসীর সাথে আমিও এই প্রকার অসাধু প্রতারকদের বিরুদ্ধে আমার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারীরা তাঁর চোখে ‘প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণী’।</p><p>ফররুখ আহমদ লিখেছেন: ‘পাকিস্তানের, অন্তত পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা যে বাংলা হবে এ কথা সর্ববাদীসম্মত হলেও আমাদের এই পূর্ব পাকিস্তানেরই কয়েকজন তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তি বাংলা ভাষার বিপক্ষে এমন অর্বাচীন মত প্রকাশ করেছেন যা নিতান্তই লজ্জাজনক। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় রূপায়িত করলে ইসলামী ঐতিহ্যের সর্বনাশ হবে এই তাঁদের অভিমত।’ এই অভিমতকে ফররুখ বলেছিলেন ‘কুৎসিত পরাজয়ী মনোবৃত্তি’।</p><blockquote>ফররুখ আহমদ লিখেছেন: ‘পাকিস্তানের, অন্তত পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা যে বাংলা হবে এ কথা সর্ববাদীসম্মত হলেও আমাদের এই পূর্ব পাকিস্তানেরই কয়েকজন তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তি বাংলা ভাষার বিপক্ষে এমন অর্বাচীন মত প্রকাশ করেছেন যা নিতান্তই লজ্জাজনক। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় রূপায়িত করলে ইসলামী ঐতিহ্যের সর্বনাশ হবে এই তাঁদের অভিমত।’ এই অভিমতকে ফররুখ বলেছিলেন ‘কুৎসিত পরাজয়ী মনোবৃত্তি’।</blockquote><p>একজন মানুষ একই সঙ্গে বাংলা ভাষার অনুরাগী এবং ইসলাম প্রচারে উত্সাহী হতে পারেন—এই তথ্যটি সনৎ সাহা, স্যার বিদিয়া বা হাসান ফেরদৌস কারও কাছেই সম্ভবপর ঘটনা নয়। অথচ ফররুখ আহমদ ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। শুধু তাই নয়, ফররুখ আহমদ গণতন্ত্রবাদীও ছিলেন। ফররুখ স্পষ্ট বুঝেছিলেন, বাংলাদেশের ভাষা উর্দু এই দাবির প্রধান প্রেরণাটা অভিজাত বা শরাফতি মানসিকতাজাত। ইসলাম প্রচার এর প্রধান কারণ নয়। ফররুখ বাংলার পক্ষ নিয়েছিলেন ইসলাম প্রচারের পথ আরো সুগম করার খাতিরে।</p><p>ফররুখ আহমদ লিখেছেন: ‘যে মনোবৃত্তির ফলে প্রায় দুশো বছর বাংলা ভাষায় ইসলামের প্রবেশ প্রায় নিষিদ্ধ ছিল, সেই অন্ধ মনোবৃত্তি নিয়েই আবার আমরা ইসলামকে গলাটিপে মারার জন্য তত্পর হয়ে উঠেছি। দুঃখের বিষয় সন্দেহ নাই। কিন্তু আরো দুঃখের কথা এই যে, পূর্ব পাকিস্তানে এমন মানুষ আছেন (সংখ্যায় যত অল্পই হোক না কেন) যাঁরা একমাত্র মানসিক দুর্বলতার জন্যই মাতৃভাষাকে মাতৃভাষার মাধ্যমে অস্বীকার করে ইসলামী ঐতিহ্যের মহান দায়িত্ব অপর একটি প্রাদেশিক ভাষার কিঞ্চিৎ-পরিপুষ্ট ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন।</p><p>‘কারণ: (এক) ঐ প্রাদেশিক ভাষাটি তথাকথিত শরিফদের ভাষা।</p><p>‘(দুই) ঐ প্রাদেশিক ভাষায় কয়েকখানি ইসলামী তমদ্দুনমূলক গ্রন্থ রচিত ও অনূদিত হয়েছে।</p><p>‘প্রথম কারণটি হাস্যকর। দ্বিতীয় কারণটি অযৌক্তিক।’</p><p><strong>৩</strong></p><p>হাসান ফেরদৌস লিপিবদ্ধ করেছেন: ‘পাকিস্তানের মতো আমরাও নামের আগে সৈয়দ জুড়ে আরবের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজি। আরবের সমর নায়করা আমাদেরও সমর নায়ক হয়ে পড়ে। স্বাধীন বাংলার ইতিহাস আমাদের কাছে প্রায় অজ্ঞাত। গৌড়ের ইতিহাস আমাদের কাছে ভিন্ন দেশীয়। আমরা এতটাই হীনম্মন্য যে নিজের ভাষা বাংলা হওয়ায় তা নিয়ে পর্যন্ত বিব্রত।’ হাসান হয়তো জেনে অখুশি হবেন আরবি শব্দের প্রতি পক্ষপাত আছে এমন লোক মাত্রই ‘নিজের ভাষা বাংলা হওয়ায়’ বিব্রত নয়। উদাহরণ ফররুখ আহমদ।</p><p>ফররুখ আহমদের পিতার বংশে সৈয়দ উপাধি লেখার চল ছিল। প্রথম দিকে তিনিও হয়তো সৈয়দ ফররুখ আহমদ নামে লিখতেন। লেখক হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি—তাঁর কথায়—‘ফালতু ল্যাজটা’ কেটে বাদ দেন। ‘ফররুখ রচনাবলী’র দুই সম্পাদক—মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ও আবদুল মান্নান সৈয়দ বলেন: ‘মানবতাবাদী ফররুখ আহমদ “আশরাফ”, “আতরাফ”-এ বিশ্বাস করতেন না, তাঁর দৃষ্টিতে ছিল সব মানুষই সমান। তিনি ‘সৈয়দ’ তাঁর নামের সঙ্গে কখনো ব্যবহার করেছেন কিনা, জানা যায়নি।’</p>
পাজের উত্থান তো দৃশ্যমান, কিন্তু মাঝমাঠে তাঁর খেলার গভীরতা কোন তলায় গিয়ে ঠেকেছে, তা আপাতত কেউ জানে না। যেমনটা ওই বয়সে কেউ জানত না লিওনেল মেসির ক্ষেত্রেও।
<p>সফল ও অনুপ্রেরণাদায়ী নারীদের জীবন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প নিয়ে প্রথম আলো ডটকমের বিশেষ পডকাস্ট ‘তাঁHER কথা’।</p><p>এ পর্বের অতিথি ১৮৫ দেশ ভ্রমণকারী বাংলাদেশি পর্যটক ও অভিযাত্রী নাজমুন নাহার। একা একা পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে পাড়ি জমানো, সমাজের সব বাধা ও ভয়কে জয় করে বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে এই আড্ডায়।</p> <p>সঞ্চালক</p><p>মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক</p><p>অধ্যাপক, আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</p><figure></figure>
মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে গুলিতে নিহত যুবদল নেতা শাকের হোসেন (৩৯) হত্যায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
<p>ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের তিনটি পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং জোর করে দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিয়ে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। একটি পরিবারের এক নারীকে প্রকাশ্যে শুদ্ধীকরণের নামে গোসল করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।</p><p>১৮ থেকে ২০ অক্টোবর চন্দ্রকোনা থানা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বাড়ির কাছে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তাঁরা জানিয়েছেন, এখনো নতুন করে হামলার আশঙ্কায় রয়েছেন।</p><p>ওই ঘটনায় হত্যাচেষ্টা, অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন, নারীর শ্লীলতাহানি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ।</p><p>ভুক্তভোগীদের একজন ৪০ বছর বয়সী নারী। তিনি মুঠোফোনে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘১৮ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা আমাদের বাড়িতে আসে। তারা আমাকে ও আমার স্বামীকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে মারধর করে। আমি মাটিতে পড়ে যাই। তারা আমার কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। এরপর আমাকে তুলসীপাতা ও বেলপাতা খেতে বাধ্য করে। শুদ্ধীকরণের আচার হিসেবে আমার গায়ে পানি ঢালে। সবাই দাঁড়িয়ে দেখছিল, কীভাবে আমার গায়ে পানি ঢালা হচ্ছে।’</p><p>ওই নারীর স্বামীর বয়স ৫০ বছর। তাঁরা বাড়িতে তামার গয়না তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।</p><p>অভিযোগকারী নারী জানান, হামলাকারীরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করার জন্যও চাপ দিয়েছিল।</p><p><strong>পুলিশে অভিযোগের পর আবার হামলা</strong></p><p>অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা পরে প্রতিবেশী আরও দুটি খ্রিষ্টান পরিবারের বাড়িতে ঢুকে সদস্যদের মারধর করে। বাড়ি থেকে ২০ হাজার রুপি নিয়ে যায়। একই সঙ্গে পুলিশে অভিযোগ না করার হুমকি দেয়।</p><p>ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘এরপরও আমরা ১০০ নম্বরে ফোন করি। কয়েকজন পুলিশ সদস্য আসেন। তাঁরা আমাদের মুখে সব কথা শুনে চলে যান। ১৯ অক্টোবর সকালে দলটি আবার ফিরে আসে। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি বলে তারা ক্ষিপ্ত ছিল।’</p><p>ওই নারী আরও বলেন, ‘তারা আমাদের পাশের একটি গ্রামের দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিয়ে যায়। সেখানে অঞ্জলি দিতে বাধ্য করে। সবাই আমাদের দেখছিল। ফিরে এসে আমরা নিজেদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখি। বাইরে বের হওয়ার সাহস পাইনি।’</p><p>ওই নারী লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়ি থেকে দুর্গাপূজার মণ্ডপে হেঁটে যেতে প্রায় ১০ মিনিট লাগে।</p><p>তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রতিবেশী অন্য দুই খ্রিষ্টান পরিবারের অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকেও মারধর করেছে।</p><p><strong>‘পুরুষেরা বাড়ি ফিরে কাঁদছিলেন’</strong></p><p>পরদিন ২০ অক্টোবর তিন পরিবারের পুরুষ সদস্যদের আবার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।</p><p>ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘তারা আমার স্বামী ও অন্য পরিবারগুলোর পুরুষ সদস্যদের ধরে নিয়ে যায়। তাঁরা বাড়ি ফিরে কাঁদছিলেন। তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনটি দিন ছিল ভয়াবহ। ভয়ে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারিনি।’</p><p>ওই নারী আরও বলেন, ‘আমরা তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। এরপর সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্যকে ফোন করি। তাঁরা আবার পুলিশকে জানাতে বলেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে আমাদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর আমরা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করি।’</p><p>ওই নারী জানান, এখন তাঁদের নিরাপত্তায় বাড়ির বাইরে চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।</p><p>ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘পুলিশ আমাদের সহায়তা করেছে, এতে আমরা খুশি। কিন্তু এখনো হুমকি দিয়ে ফোন আসছে। একদিন তো পুলিশ চলে যাবে। তখন আমরা কী করব? আমি শুধু নিজের বাড়িতে শান্তিতে থাকতে চাই। বাড়িতে আমার অসুস্থ শ্বশুর ও বৃদ্ধা শাশুড়ি রয়েছেন।’</p><p><strong>এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি</strong></p><p>ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সহায়তা করা কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবী জানিয়েছেন, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০ অক্টোবর তিনি থানায় যাওয়ার পর পুলিশ এফআইআর (প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক মামলা) নথিভুক্ত করে।</p><p>ওই আইনজীবী বলেন, ‘তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। পরিবারগুলো আতঙ্কে রয়েছে।’</p><p>এ বিষয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে।</p><p>পুলিশ সুপার বলেন, ‘তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তাই, আমরা তাঁদের বাড়িতে যাই। তাঁদের থানায় নিয়ে আসা হয়। আমরা তাঁদের অভিযোগ পেয়েছি।’</p><p>পাপিয়া সুলতানা আরও বলেন, ‘তাঁরা বাড়ি ফিরে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তাই তাঁদের বাড়ির কাছে পুলিশ মোতায়েন করেছি। তাঁদের সঙ্গে যাতে আর কোনো অঘটন না ঘটে, তা নিশ্চিত করছি।’</p>
<p>ঢাকার সাভারের একটি মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার একটি ইউনিয়নে মাদ্রাসার একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।</p><p>এ ঘটনায় গতকাল রাতে শিশুটির দাদা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। পরে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে ওই শিক্ষকের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে কৌশলে পালিয়ে যান ওই শিক্ষক।</p><p>মামলার এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকে। অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (৫০) ও তাঁর স্ত্রী (৪০)। গতকাল সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি জুতা আনার জন্য দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় যায়। এ সময় শিশুটিকে একটি কক্ষে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন ওই শিক্ষক। ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ছাত্রীকে হুমকি দেন শিক্ষকের স্ত্রী।</p><p>এজাহারে আরও বলা হয়, শিশুটি কক্ষ থেকে চলে যেতে চাইলে আবার তাকে ঘটনা কাউকে না বলতে হুমকি দেন ওই শিক্ষক। একপর্যায়ে মাদ্রাসার বাবুর্চি সেখানে উপস্থিত হলে স্ত্রীকে নিয়ে দ্বিতীয় তলায় চলে যান ওই শিক্ষক। এরপর ভুক্তভোগী শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে যায়। এ সময় সে কান্নাকাটি করলে পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে তাঁদের ঘটনাটি খুলে বলে সে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় এসে মাদ্রাসাশিক্ষকের স্ত্রীকে আটক করেন। কিন্তু তার আগেই কৌশলে ওই শিক্ষক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান।</p><p>সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে বুধবার দিবাগত রাতে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে মাদ্রাসাশিক্ষকের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।</p>
<p>ইসলামে হালাল–হারাম নির্ধারণের একক অধিকার শুধু আল্লাহর। যেসব প্রাণী খাওয়া মুসলমানদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, গরু তার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু একটি হাদিস বেশ প্রচলিত যেখানে মহানবী (সা.) গরুর মাংস খেতে নিরুৎসাহিত করেছেন বা একে ‘রোগ’ আখ্যা দিয়েছেন।</p><p>এর ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, গরুর মাংস যদি হালালই হয়, তবে নবীজি (সা.) কেন এমন কথা বললেন? বিষয়টির বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।</p><h3>গরুর মাংস হালাল</h3><p>গরুর মাংস খাওয়া যে ধর্মীয়ভাবে সম্পূর্ণ হালাল, এ নিয়ে ফকিহদের মধ্যে বিন্দুমাত্র দ্বিমত নেই। কোরআনে সুরা বাকারার নামকরণের ইতিহাস এবং কোরবানির পশুর আলোচনায় গরুর কথা স্পষ্টভাবে এসেছে।</p><p>মহানবী (সা.) বিদায় হজের সময় তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কোরবানি দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭০৯)</p><p>সুতরাং গরুর মাংসকে হারাম বা নিষিদ্ধ ভাবার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।</p><h3>গরুর মাংস নিয়ে প্রচলিত হাদিস </h3><p>মাংস হালাল হলেও স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে গরুর মাংস সম্পর্কে নবীজির একটি হাদিস রয়েছে।</p><p>তিনি বলেছেন, ‘তোমরা গরুর দুধ পান করো এবং এর মাখন (ঘি) ব্যবহার করো; কারণ এর দুধে রয়েছে প্রতিষেধক এবং মাখনে রয়েছে আরোগ্য। তবে এর মাংস থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এর মাংসে রয়েছে রোগ।’ (আল-মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন, হাদিস: ৮২২৫)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/25pfzm8akc">খাদ্য সুরক্ষায় ইসলামের ৫ দর্শন</a></aside><aside><cite>ইমাম তিরমিজি (রহ.)</cite>উদ্ভিদের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর উপাদানগুলো পশুর মাংসের মধ্যে বেশি জমা হয়, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সেই গাছপালার নির্যাস ও সার পরিশোধিত হয়ে যখন দুধে বা ঘিয়ে রূপ নেয়, তখন তা অনেক বেশি পুষ্টিকর, বিশুদ্ধ এবং মানবদেহের জন্য নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।</aside><p>এই হাদিসের সত্যতা ও সনদ নিয়ে প্রাচীন মুহাদ্দিসদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। তবে নাসিরুদ্দিন আলবানিসহ অনেক মুহাদ্দিস এটিকে গ্রহণযোগ্য (হাসান বা সহিহ) বলে মত দিয়েছেন।</p><h3>হাদিসটির সঠিক ব্যাখ্যা </h3><p>হাদিস বিশেষজ্ঞ ও ফকিহদের মতে, এই হাদিসের অর্থ এই নয় যে গরুর মাংস নিষিদ্ধ; বরং এটি একটি স্বাস্থ্যগত নির্দেশনা (তিব্বে নববি)।</p><p>আরবের উষ্ণ আবহাওয়া এবং তৎকালীন শারীরিক পরিশ্রমের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ছিল। (আব্দুর রউফ আল-মুনাভি, <em>ফাইজুল কাদির শারহুল জামিউস সগির</em>, ৩/২৫০, আল-মাকতবাতুত তিজারিয়্যাহ আল-কুবরা, মিসর)</p><p>ইমাম তিরমিজি লিখেছেন, “উদ্ভিদের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর উপাদানগুলো পশুর মাংসের মধ্যে বেশি জমা হয় (যেহেতু মাংস সরাসরি শরীরের ভারী টিস্যু গঠন করে), যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সেই গাছপালার নির্যাস ও সার পরিশোধিত হয়ে যখন দুধে বা ঘিয়ে রূপ নেয়, তখন তা অনেক বেশি পুষ্টিকর, বিশুদ্ধ এবং মানবদেহের জন্য নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।” (আত–তিরমিজি, <em>নাওয়াদিরুল উসুল ফি মারিফাতি আহাদিসির রাসুল,</em> পৃষ্ঠা ২৬৪, দারুল জিল, বৈরুত)</p><p>ইবনুল কাইয়িম লিখেছেন, “গরুর মাংস ঠাণ্ডা ও শুষ্ক, হজম করতে কষ্টকর, ধীরে হজম হয় এবং তা কালো রক্ত উৎপন্ন করে; এটি শুধু কঠোর পরিশ্রমী মানুষের জন্যই উপযোগী। যারা নিয়মিত এটি খান বা এর ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে চান, তারা যদি এর সাথে গোলমরিচ, রসুন, দারুচিনি বা আদার মতো গরম মসলা ব্যবহার করেন, তবে এর ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।” (ইবনুল কাইয়িম, <em>জাদুল মাআদ,</em> ৪/৩২৪, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৯৯৮)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/s2nif07lo0">মহানবীর প্রিয় খাবার ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস</a></aside><p>আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও বলছে, অতিরিক্ত রেড মিট বা লাল মাংস হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। (আইএআরসি, <em>রেড মিট অ্যান্ড প্রসেস্ড মিট,</em> খ. ১১৪, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, লিয়ন, ফ্রান্স, ২০১৮)</p><blockquote>কোনো হালাল খাবার যদি কারও জন্য নির্দিষ্টভাবে ক্ষতিকর প্রমাণিত হয় বা চিকিৎসকেরা নিষেধ করেন, তবে তার জন্য তা পরিহার করাই ইসলামের দাবি, যদিও তা সাধারণভাবে সবার জন্য হালাল।</blockquote><h3>হাদিসটি পরিমিতিবোধের কথা বলে </h3><p>মহানবী (সা.) সাধারণত দুম্বা বা ছাগলের মাংস বেশি পছন্দ করতেন। তবে তার মানে এই নয় যে তিনি গরুর মাংসকে খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়েছেন। বরং ইসলাম আমাদের পরিমিতিবোধ শেখায়।</p><p>আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা আহার করো ও পান করো; কিন্তু অপচয় বা সীমালঙ্ঘন কোরো না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১)</p><p>হালাল বস্তু খাওয়া যাবে, তবে তা যেন শরীরের ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা সুন্নত।</p><p>কোনো হালাল খাবার যদি কারও জন্য নির্দিষ্টভাবে ক্ষতিকর প্রমাণিত হয় বা চিকিৎসকেরা নিষেধ করেন, তবে তার জন্য তা পরিহার করাই ইসলামের দাবি, যদিও তা সাধারণভাবে সবার জন্য হালাল। (ইবনে আবিদিন, <em>রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার,</em> ৬/৩৪০, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯২)</p><h3>শেষ কথা </h3><p>গরুর মাংস ধর্মীয়ভাবে সম্পূর্ণ হালাল এবং উৎসব বা কোরবানিতে এটি খাওয়া আনন্দের অনুষঙ্গ।</p><p>তবে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত গরুর মাংস পরিহার করে পরিমিতিবোধ বজায় রাখা এবং গরুর দুধ ও ঘিয়ের প্রতি বেশি জোর দেওয়াই নবীজির বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য।</p><p>হালালকে হারাম না বানিয়ে স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হওয়াই মুমিনের কাজ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/8fvzndymm9">সুরা মায়িদায় আছে হারাম খাদ্য–পানীয় সর্ম্পকে </a></aside>
গত জুলাইয়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি সম্প্রতি এসেছে নেটফ্লিক্সে। মুক্তির পর থেকেই বাংলাদেশে প্ল্যাটফর্মটির জনপ্রিয় সিনেমার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এটি।
দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায় অফিস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিজস্ব উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোর জয়নাম জৈন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন