গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার
নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্তভার থানা-পুলিশের কাছ থেকে সরিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চিকিৎসার জন্য বিমানে কলকাতা যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করা ভারতের আসাম রাজ্যের অঞ্জনা ভৌমিকের (৫৬) মরদেহ ১০ দিন পর দেশে ফিরেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে খেলা দেখার কথা বলে শাহীনের বাইরে যেতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহীন শিরিনের গলা চেপে ধরেন...
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা জুয়েল হোসেন নিরবকে পেটানোর ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহমান শাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর)।
ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘সংক্ষিপ্ত ও প্রবল সামরিক অভিযান’-এর জন্য প্রস্তুত থাকতে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশকে বার্তা দিয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহেরান্দী গ্রামে জুলাই যোদ্ধা তামিম মাতুব্বরের বাড়িসহ অন্তত অর্ধশত বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের লোকজনের ব...
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন।
<p>প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কলকাতার সল্টলেকের দপ্তরে ডাকা হয়েছিল সংগীতশিল্পী ও সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। সেখানে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর দপ্তর থেকে বের হতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।</p><p> আজ বুধবার দুপুরে ইডির সমন পেয়ে সল্টলেকের দপ্তরে যান ইন্দ্রনীল সেন। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডির কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দপ্তর থেকে বের হওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে কোন মামলায় এবং কী অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।</p><p>ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের প্রতিষ্ঠিত মাস আর্ট নামের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে কলকাতার দুর্গাপূজার ডোনার পাস বিক্রি করে ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি বউবাজার থানায় অভিযোগ করেন।</p><p>অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার ২৪টি উল্লেখযোগ্য দুর্গাপূজা দেখার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে প্লাটিনাম ফ্যামিলি ডোনার পাস বিক্রি করত মাস আর্ট। প্রতিটি পাসের দাম ছিল ৪ হাজার রুপি। ইউনেসকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি করে এবং সংস্থাটির নাম ও লোগো ব্যবহার করে এসব পাস বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।</p><p>অভিযোগকারীর দাবি, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী ইউনেসকোর কোনো আনুষ্ঠানিক অংশীদার নন। তা সত্ত্বেও নিজেদের ইউনেসকোর আনুষ্ঠানিক অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁরা পাস বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p>অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে ৬১ হাজার ডোনার পাস বিক্রি করা হয়। এসব পাস বিক্রি থেকে ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি তোলা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। তবে পাস বিক্রির সংখ্যা, অর্থের পরিমাণ এবং ওই অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।</p><p>এর আগে ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাসভবন, হুগলিতে তাঁর খামারবাড়ি এবং তাঁর ১৫ জন আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায় ইডি।</p><p>গ্রেপ্তার এড়াতে ইন্দ্রনীল সেন কলকাতা হাইকোর্ট ও পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে আদালত তাঁকে সুরক্ষা দেননি।</p><p>২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ইউনেসকো কলকাতার দুর্গাপূজাকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এর পর থেকে কলকাতার দুর্গাপূজা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিতি পায়। সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে ডোনার পাস বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।</p>
স্প্যানিশ ফেডারেশন বার্সেলোনাকে জরিমানা করেছে। তবে অঙ্কটা এতই ছোট যে শাস্তির চেয়ে জরিমানার পরিমাণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ হাসাহাসি করছেন।
<p>প্যারিসসহ ফ্রান্সের শহরগুলোতে যে বিদ্রোহের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, তা প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর অধীন দেশটিকে গ্রাস করা সংকটের গভীরতাকেই স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। এটি ক্ষোভের কোনো সাময়িক বিস্ফোরণ নয়। </p><p>এর সঙ্গে ১৯৬৮ সালের মে মাসের সেই ঐতিহাসিক গণ–অভ্যুত্থানের বেশ মিল রয়েছে। একটি ছাত্রবিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত একটি জাতীয় উত্তাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল এবং যার প্রভাব আজও ফ্রান্সের সমাজ ও রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করে চলেছে। </p><p>মাখোঁর শাসনকালকে যদি একটিমাত্র শব্দে সংজ্ঞায়িত করতে হয়, তবে সেই শব্দ হলো ’ক্ষোভ’। ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন থেকে শুরু করে পেনশন সংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মঘট, কিংবা শহরতলিগুলোর দাঙ্গা থেকে আজকের এই বিক্ষোভ—ফ্রান্স যেন এক টানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।</p><p>দেশের সব সমস্যার পেছনে যে মাখোঁ একাই দায়ী, তা নয়; তবে ফ্রান্সের জনগণের প্রতি, বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকান ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফ্রান্সের নাগরিক, এমনকি ফ্রান্সের আফ্রিকান অংশীদার দেশগুলোর প্রতি নিজের অহংকার ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিষাক্ত করে তুলেছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/kalzgtfo9f">ফ্রান্স কেন আন্দোলনকারীদের ওপর এত সহিংস হয়ে উঠছে</a></aside><p>এই বিদ্রোহের শিকড় প্রোথিত রয়েছে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভ্যন্তরীণ সংকটে—ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, স্থবির বেতনকাঠামো, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং ছড়িয়ে পড়া দারিদ্র্য। মাখোঁর নব্য-উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতি ফ্রান্সের বৈষম্যকে আরও বাড়িয়েছে এবং সরকারি পরিষেবাগুলোর ধ্বংস ত্বরান্বিত করেছে।</p><p>ফ্রান্সের শিশুদের বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের পবিত্র বাণী শেখানো হয়; কিন্তু বাস্তব জীবনে তারা যে ফরাসি সমাজের মুখোমুখি হয়, তা কেবল বৈষম্য আর অন্যায়ে ভরা।</p><p>মুহাম্মদ বা আয়েশা নামের একজন তরুণ বা তরুণী হয়তো জন্মসূত্রে, ভাষায় ও শিক্ষায় পুরোদস্তুর ফরাসি, এমনকি তাঁরা হয়তো ফরাসি পরিবারের তৃতীয় বা চতুর্থ প্রজন্ম, তবুও চাকরি, বাসস্থান কিংবা নাগরিক পরিষেবার আবেদন করতে গিয়ে তারা পদে পদে প্রত্যাখ্যাত হয়।</p><p>এর নির্মম পরিণতি হলো তরুণ নাগরিকদের এমন এক প্রজন্ম তৈরি হয়েছে, যাদের ফ্রেঞ্চ ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানা নেই; অথচ নিজ দেশেই তাদের প্রতিনিয়ত পরবাসী বা ‘বিদেশি’ অনুভূতির মুখোমুখি হতে হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/kqnrkjba/SQXPGSNBCROKVDRSWOBUZTWSUY__2_.avif"><figcaption>ফ্রান্সে আন্দোলনের মুখে ফরাসি পুলিশ </figcaption></figure><p>যে তরুণেরা ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা খুব ভালো করেই জানতেন যে কেন তাঁরা প্রতিবাদ করছেন—শিক্ষক–সংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং মা-বাবার বর্তমান অবস্থার চেয়েও এক অনিশ্চিত ও দরিদ্র ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে তাঁদের এই লড়াই। অথচ তারা রাজপথে নামতে না নামতেই অন্য পক্ষ হাজির হলো, তাদের প্রতিবাদের আসল অর্থ কী, তা শেখাতে!</p><p>এই তালিকায় প্রথমেই ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ তিনি দাবি করেন, ‘এ আন্দোলন স্কুলের জন্য নয়; বরং একসময়ের এই মহান দেশটিকে ইসলাম দখল করতে চাইছে বলেই এসব হচ্ছে!’</p><p>তাতেও ট্রাম্প থামেননি। হোয়াইট হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেন, ‘প্যারিস খুব শিগগির একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে।’</p><p>কৌশলটা খুবই সহজ। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট করে বলছেন, তারা কেন পথে নেমেছেন, আর ট্রাম্প তাঁদের শোনাচ্ছেন অন্য কথা। সেখানে স্কুল, মজুরি আর জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্নগুলো একনিমেষে গায়েব হয়ে গেল। তার জায়গায় সামনে নিয়ে আসা হলো উগ্র-ডানপন্থীদের সেই বহু পুরোনো জুজু ‘সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মুসলিম আক্রমণকারী’।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/y8tjktza00">ফ্রান্সে কেন বারবার সহিংস দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঘটে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/81n1epz0ju">ফ্রান্সে স্কুলশিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কেন ঐতিহাসিক</a></aside><p>এরপর এলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ইউরোপের মুসলমানদের হুমকি বানানোর কোনো সুযোগই হাতছাড়া করেন না।</p><p>এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ফ্রান্স ‘উগ্র ইসলামের আগ্রাসনের কাছে নতি স্বীকার করেছে’ এবং হুঁশিয়ারি দেন যে ‘তারা ফ্রান্সকে গিলে খাবে, পুরো ইউরোপকে গিলে খাবে।’ এরপর তিনি তাঁর আসল উদ্দেশ্য হাসিল করতে গিয়ে দাবি করেন—২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর তিনি নাকি মাখোঁকে সতর্ক করেছিলেন যে গাজায় হামাসকে ধ্বংস করা না হলে প্যারিসেও হামাস ঢুকে পড়বে; আর এখন নাকি ঠিক সেটিই ঘটছে!</p><p>এটি কোনো আকস্মিক মন্তব্য ছিল না। এটি ছিল এক সুচিন্তিত ও বহু পুরোনো কৌশলের অংশ।</p><p>২০১৭ সালে মাখোঁর পাশে দাঁড়িয়েও নেতানিয়াহু সতর্ক করেছিলেন যে ‘রাজনৈতিক ইসলাম ইসরায়েল ও ইউরোপীয় দেশ—উভয়কেই ধ্বংস করতে চায়।’ এমনকি তিনি ব্রিটেনকেও একটি ‘ইসলামিক রিপাবলিক’ বলে অভিহিত করেছিলেন।</p><p>নেতানিয়াহুর এই সমীকরণ কখনোই বদলায় না—ফিলিস্তিন, অভিবাসন ও ইসলামকে একটি একক হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করো; ইসরায়েলকে সভ্যতার যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন হিসেবে তুলে ধরো; আর ইউরোপীয়দের বোঝাও যে তাদের মধ্যকার মুসলিম নাগরিকেরাই আসলে ঘরের শত্রু বিভীষণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-24/ap5xqwk5/France-Protest-2.jpg"><figcaption>প্যারিসের পোর্ত দ্য ভাঁসেন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। ফ্রান্স, ২৪ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>এর উদ্দেশ্য একেবারেই পরিষ্কার। শিক্ষকদের জন্য রাজপথে নামা ফরাসি শিক্ষার্থীদের যদি প্যারিসের ‘হামাস’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া যায়, তবে ইউরোপের রাজপথে উড়তে থাকা প্রতিটি ফিলিস্তিনি পতাকাই নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হয়; আর গাজার ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিবাদই ‘অনুপ্রবেশের প্রমাণ’ হিসেবে গণ্য হয়।</p><p>এভাবেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতিকে ‘উগ্রবাদ’ বানিয়ে দেওয়া হয়; আর ইউরোপের মুসলিম নাগরিকেরা নিজ দেশেই সন্দেহভাজন অপরাধী হয়ে ওঠেন। ভয় তৈরি করাটা নেতানিয়াহুর রাজনীতির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটিই তাঁর রাজনীতির প্রধান পণ্য।</p><p>এর পেছনে একটি পুরোনো হিসাব মেটানোর বিষয়ও আছে, যা নিয়ে নেতানিয়াহু তাঁর আনন্দ গোপন করতে পারেননি। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের নিন্দা জানিয়েছিল ফ্রান্স। গাজায় ইসরায়েলের ত্রাণ অবরোধকে মাখোঁ ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলেছিলেন এবং গত বছর ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যা ইসরায়েলকে চরম ক্ষুব্ধ করে।</p><blockquote>কৌশলটা খুবই সহজ। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট করে বলছেন, তারা কেন পথে নেমেছেন, আর ট্রাম্প তাঁদের শোনাচ্ছেন অন্য কথা। সেখানে স্কুল, মজুরি আর জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্নগুলো একনিমেষে গায়েব হয়ে গেল। তার জায়গায় সামনে নিয়ে আসা হলো উগ্র-ডানপন্থীদের সেই বহু পুরোনো জুজু ‘সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মুসলিম আক্রমণকারী’।</blockquote><p>কৌশলটা খুবই সহজ। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট করে বলছেন, তারা কেন পথে নেমেছেন, আর ট্রাম্প তাঁদের শোনাচ্ছেন অন্য কথা। সেখানে স্কুল, মজুরি আর জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্নগুলো একনিমেষে গায়েব হয়ে গেল। তার জায়গায় সামনে নিয়ে আসা হলো উগ্র-ডানপন্থীদের সেই বহু পুরোনো জুজু ‘সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মুসলিম আক্রমণকারী’। ট্রাম্প কথা বলছিলেন আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে, আর নেতানিয়াহু সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন ইসরায়েলের আগাম নির্বাচন সামনে রেখে; কিন্তু তাঁদের ছোড়া কথাগুলো এসে আঘাত করল ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে, যেখানে আর মাত্র ছয় মাস পরেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।</p><p>ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুর এই গল্প আসলে মারিন ল্য পেনের উগ্র-ডানপন্থী ইশতেহারেরই অন্য এক সংস্করণ—যেখানে অভিবাসনের অর্থ হলো আক্রমণ, ইসলাম একটি হুমকি এবং শহরতলিগুলো শত্রুর ঘাঁটি।</p><p>এই ক্ষোভের আসল কারণগুলো মোকাবিলা করার বদলে মাখোঁর প্রধানমন্ত্রী আঙুল তুললেন বামপন্থীদের দিকে। সেবাস্টিয়ান ল্যাকোর্নু চরম বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সহিংসতা আয়োজনের অভিযোগ তোলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/8ibe9zoaba">লুলার বিজয় ইউরোপের আন্দোলনে যে কারণে উদ্দীপনা ছড়াল</a></aside><p>এই অভিযোগ বেশ সাদরে গৃহীত হলো—ল্য পেনও একইভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে যুক্তিসংগত সামাজিক দাবিগুলোকে হাইজ্যাক করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনেন। মধ্যপন্থী এবং চরম ডানপন্থী—উভয়েই যেন একই চিত্রনাট্য দেখে দেখে কথা বলছিলেন।</p><p>এমনকি এবার মাখোঁর নিজেকে বাঁচাতে অভিবাসীদের দোষ দেওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি; কারণ বহু বছর ধরে এই দোষারোপের সংস্কৃতিকে তিনিই একটি গ্রহণযোগ্য রূপ দিয়েছেন। অভিবাসন, ইসলাম ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে তিনি প্রায়ই সেই ডানপন্থীদের থেকে আলাদা কিছু ছিলেন না, যাঁদের তিনি বিরোধিতা করার দাবি করেন।</p><p>বলির পাঁঠা হয়তো আলাদা; কিন্তু উদ্দেশ্য একই—আসল জায়গায় দায় না রেখে অন্য যেকোনো স্থানে তা চাপিয়ে দেওয়া।</p><p>মুসলিম, অভিবাসী আর বামপন্থী—সবাইকে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারের দিকে শিক্ষার্থীদের তোলা প্রশ্নগুলোকে ধামাচাপা দিতে। স্কুলগুলোকে কে জরাজীর্ণ হতে দিলেন? সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কে কেড়ে নিলেন? কার শাসনকালে একটি পুরো প্রজন্ম মা-বাবার চেয়েও দরিদ্র জীবনযাত্রার প্রত্যাশায় বাঁচতে বাধ্য হলো? </p><p>ফ্রান্সের এই সংকট কেবল তাদের সীমান্তের ভেতরেই আটকে নেই। একসময়ের সুবিশাল সাম্রাজ্যটি আজ এক ক্ষীয়মাণ ও সংকটগ্রস্ত মধ্যম শক্তিতে পরিণত হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/19u21c9k/D5LDVRT53BKWJIMCSOYYQVWUKA.avif"><figcaption>প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিকে ফরাসি দাঙ্গা পুলিশ জলকামান ব্যবহার করলে, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেডের পেছনে আশ্রয় নেন।</figcaption></figure><p>আনুষ্ঠানিক ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর কয়েক দশক ধরে প্যারিস তার সাবেক উপনিবেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে আফ্রিকায় রাজনৈতিক, সামরিক, আর্থিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক সুবিশাল জাল বজায় রেখেছিল। ‘ফ্রাঁসাফ্রিক’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থার দৌলতে ফ্রান্স তার জনসংখ্যা বা অর্থনীতির আকারের তুলনায় অনেক বেশি বৈশ্বিক প্রভাব খাঁটাতে পেরেছিল।</p><p>কিন্তু সেই ব্যবস্থার তাসের ঘর এখন ভাঙতে শুরু করেছে। মালি, নাইজার, চাদ এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ফ্রান্স। আলজেরিয়া, সেনেগালসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক দিন দিন তিক্ত হচ্ছে। আফ্রিকান সরকারগুলো এখন ফ্রান্সের বদলে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে।</p><p>সংক্ষেপে বলতে গেলে, ফ্রান্সের বর্তমান সংকট কোনো সাময়িক মন্দা নয়। এটি এক গভীর ও কাঠামোগত সমস্যা। আগামী নির্বাচনে যদি উগ্র ডানপন্থীরা জয়ী হয়, তবে এই সমস্যা আরও তীব্র রূপ ধারণ করবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/955rtso7l0">এক ভয়ংকর মুসলিমবিদ্বেষের দিকে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/i4q40bnr83">যুক্তরাজ্যের রাজনীতিকেরা যেভাবে মুসলিমবিদ্বেষ তাতিয়ে তুলছেন</a></aside><p>আর চরম পরিহাসটি লুকিয়ে আছে ঠিক এই জায়গাতেই। ২০২০ সালে মাখোঁ ঘোষণা করেছিলেন যে বিশ্বজুড়েই ‘ইসলাম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে’। ঔপনিবেশিক মাতবরি খাটিয়ে তিনি নিজেকে সেই চিকিৎসকের ভূমিকায় দাঁড় করিয়েছিলেন, যিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর সেসব প্রশাসকের মতো অন্যদের রোগ সারাবেন।</p><p>আজ ফ্রান্স যখন তীব্র সংকটে পর্যুদস্ত, তখন মাখোঁ নিজেই সাহায্যের খোঁজে ছুটে গেছেন সেই মুসলিম বিশ্বের প্রাণকেন্দ্রে। জীবনযাত্রার তীব্র ব্যয়–সংকটের মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে তিনি দোহা থেকে কথা বলছিলেন। <br>কখনো হয়তো প্রশ্নটা এটা ছিলই না যে তথাকথিত সংকটে থাকা ইসলামকে কে সুস্থ করবে। আসল প্রশ্ন হলো, সংকটগ্রস্ত ফ্রান্সকে কে আরোগ্য দান করবে?</p><ul><li><p><strong>সুমাইয়া গানুশি</strong> ব্রিটিশ তিউনিসীয় লেখক ও মধ্যপ্রাচ্য–বিশেষজ্ঞ। <em>মিডল ইস্ট আই</em> থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।</p></li></ul>
<p>সার্বিয়ায় গত রোববার অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের সমর্থিত দল স্টুডেন্ট লিস্টের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। নেতৃত্বহীন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ ও তাঁর দল ইতিমধ্যে পরাজয় মেনে নিয়েছে। এখন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাকে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পদে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।</p><p> অন্তত চারজনের নাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছে। স্টুডেন্ট লিস্টের বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তালিকায় থাকা কয়েকজন উল্লেখযোগ্য প্রার্থীকে নিয়ে আলোচনা করা যাক।</p><p><strong>সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর দেজান সোসকিচ</strong></p><p>৫৯ বছর বয়সী দেজান সোসকিচ হচ্ছেন অর্থনীতিবিদ এবং বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদের অধ্যাপক। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইনগত কিছু সংশোধনী প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে—এই অভিযোগে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি বছরের পর বছর ধরে ভুচিচের সরকারের একজন সোচ্চার সমালোচক।</p><p>সোসকিচ ভুচিচের অধীনে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রায়ই সমালোচনা করেছেন। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতার সূচকে সার্বিয়ার অবস্থান ও নিম্নমুখী অবস্থানের দিকে নির্দেশ করে তিনি বলেছিলেন, বলকান অঞ্চলের এই দেশে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বেশি বিস্তৃত এবং তা দেশি–বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে। ভুচিচ ও তাঁর সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি দুর্নীতির এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে এসেছে।</p><p>সোসকিচ মনে করেন, সতর্ক ও বিচক্ষণ সরকারি অর্থব্যবস্থা মজুরি ও পেনশন স্থায়ীভাবে বৃদ্ধির পথে স্থিতিশীল ভিত্তি তৈরি করবে।</p><p>সরকারপন্থী গণমাধ্যমগুলো গভর্নর হিসেবে সোসকিচের সময়কালের সমালোচনা করেছে এবং তাঁর মেয়াদে দিনারের অবমূল্যায়ন ঘটানোর জন্য তাঁকে দায়ী করেছে। সোসকিচ এই অবমূল্যায়নকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা না বলে তৎকালীন বাধ্যবাধকতামূলক মুদ্রানীতি সংশোধনের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন।</p><p>তা সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রচারের সময় রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সোসকিচ দিনারের বিনিময় হার সংশোধন বা দুর্বল করার প্রস্তাব করেছিলেন, যাতে বিদেশি মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ পণ্যগুলো সস্তা হয়। তিনি বিকল্প একটি প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। সেটি হচ্ছে স্থির ও শক্তিশালী বিনিময় হার বজায় রাখা।</p><blockquote>* প্রধান প্রার্থী সর্দানোভিচ বলেছেন, নতুন সরকারকে দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার ও জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।* প্রচারের সময় রপ্তানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করতে দিনারের মান কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন সোসকিচ।* বিশ্লেষক ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সাইচিচকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছে।</blockquote><p><strong>কার্ডিওলজিস্ট ও অধ্যাপক ইলিজা সর্দানোভিচ</strong></p><p>৫৫ বছর বয়সী ইলিজা সর্দানোভিচ প্র্যাকটিসিং কার্ডিওলজিস্ট। তিনি নোভি সাদ বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা অনুষদের অধ্যাপক এবং একজন সাইক্লিস্ট। সেপ্টেম্বরে ভোটের তালিকা চূড়ান্ত হলে তিনি ছাত্র আন্দোলনের প্রধান প্রার্থী হন।</p><p>শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের সময় সর্দানোভিচের প্রকাশ্য রাজনীতিতে আগমন ঘটে। তিনি প্রায়ই বিভিন্ন সভা–সমাবেশে বক্তৃতা করতেন। চিকিৎসক হিসেবে তিনি উত্তর ভোজভোদিনা প্রদেশজুড়ে আন্দোলনের ‘সংবিধানের রক্ষক’ (গার্ডিয়ানস অব দ্য কনস্টিটিউশন) বাইসাইকেল ট্যুরে অংশ নিয়েছিলেন।</p><p>সর্দানোভিচ ‘নাগরিকদের সেবায় এবং সব রোগীর সমতার ভিত্তিতে’ একটি বিকেন্দ্রীভূত স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচার চালান। বেলগ্রেডভিত্তিক ফনেট নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সর্দানোভিচ বলেন, তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হলো ‘একটি সুন্দর সার্বিয়া গড়ে তোলা, অন্য কোনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ নয়।’</p><p>প্রচারের সময় ভুচিচের দেওয়া টেলিভিশন বিতর্কের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন সর্দানোভিচ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/j27y3x9x/Radomir.jpg"><figcaption>নির্বাচনের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন রাদোমির সাইচিচ। ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বেলগ্রেড</figcaption></figure><p>ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা গতকাল মঙ্গলবার এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, সর্দানোভিচের সঙ্গে টেলিফোনে তাঁর ‘ভালো’ আলাপ হয়েছে। তিনি বলেছেন, বিলম্ব না করে একটি নতুন সরকার গঠন করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।</p><p>সর্দানোভিচের কিছু নীতি আগের সরকারের নীতির থেকে খুব একটা আলাদা নয়। তিনি স্টুডেন্ট লিস্টের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জোর দিয়ে বলেন, ২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করা কসোভো এখনো দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রচারের সময় তিনি আরও বলেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বর্তমানে কোনো অগ্রাধিকার নয়। নতুন সরকারের তাৎক্ষণিক মনোযোগ থাকতে হবে দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার এবং জাতীয় ‘অস্তিত্ব রক্ষার’ ওপর।</p><p><strong>সাবেক বাস্কেটবল তারকা দেজান বোদিরোগা</strong></p><p>৫৩ বছর বয়সী দেজান বোদিরোগা যুগোস্লাভ জাতীয় বাস্কেটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং ইউরোলিগের বর্তমান সভাপতি, ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বক্তা।</p><p>দেজান গত রোববারের নির্বাচনকে ‘ছিনতাই হয়ে যাওয়া একটি দেশকে ফিরিয়ে আনার’ সংগ্রাম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।</p><p>রাজনীতিতে পা রাখাটা বাস্কেটবল-পাগল এই দেশের মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা দেজানের জীবনের এক নতুন অধ্যায়। তিনি ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে পরপর ফিবা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের স্বর্ণপদক জয় করেন। ১৯৯৬ সালের আটলান্টা গেমসে তত্কালীন যুগোস্লাভ দলকে অলিম্পিক রৌপ্যপদক এনে দেওয়া দলেও ছিলেন। পরে ২০০৭ সালে খেলোয়াড় হিসেবে অবসর গ্রহণের পর ক্রীড়া প্রশাসনে যুক্ত হয়েছেন। ২০২২ সালে ইউরোলিগের সভাপতি হন তিনি।</p><p>নির্বাচনী প্রচারের সময় দেজান শিক্ষার্থীদের সমাবেশে হাজির হয়েছিলেন এবং গ্রামীণ এলাকাগুলোতে উন্মুক্ত লোকনৃত্যে অংশ নিয়েছিলেন। ভক্তরা ১৯৯০-এর দশকের একটি স্লোগান দিয়ে তাঁকে করতালি দিতেন—‘আমাদের নিজস্ব ঈশ্বর আছেন, তাঁর নাম দেজান বোদিরোগা।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/6q8nznil/Vucic.jpg"><figcaption>নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়ে বক্তৃতা করছেন ফল প্রকাশের পর আলেকসান্দার ভুচিচ। ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বেলগ্রেড</figcaption></figure><p><strong>রসায়নের অধ্যাপক রাদোমির সাইচিচ</strong></p><p>৬৪ বছর বয়সী রাদোমির সাইচিচ জৈব রসায়নের অধ্যাপক। তিনি সার্বিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেস অ্যান্ড আর্টসের (এসএএনইউ) সদস্য। ভুচিচ পরাজয় স্বীকার করে নেওয়ার পর স্টুডেন্ট লিস্টের সদর দপ্তরে মঞ্চে উঠে রোববারের ফলাফলকে ‘নাগরিকদের বিজয়’ হিসেবে অভিবাদন জানিয়ে শিক্ষার্থীদের এই নির্বাচনী জয়ের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন সাইচিচ।</p><p>সাইচিচ মেডিসিনাল কেমিস্ট্রির বিশেষজ্ঞ। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় কেমোথেরাপি চিকিৎসা এবং অ্যান্টিভাইরাল থেরাপির সংশ্লেষণ, যার মধ্যে পাস্তুর ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যৌথভাবে কোভিডের ওপর একটি বিশেষ প্রকল্পও রয়েছে।</p><p>উত্তর সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরে ২০২৪ সালে একটি রেলওয়ে স্টেশনের ক্যানোপি ধসে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন সাইচিচ। ভুচিচের পদত্যাগ দাবি করে ২৪ জন শিক্ষাবিদের সঙ্গে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করার পর তিনি সরকারপন্থী ট্যাবলয়েডগুলোর নিশানায় পরিণত হন।</p><p>২০২৬ সালের মে মাসে সাইচিচ সংস্কৃতিমন্ত্রী নিকোলা সেলাকোভিচের উপস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে এসএএনইউ গ্যালারির একটি প্রদর্শনী থেকে বেরিয়ে যান।</p><p>প্রচারের সময় সাইচিচ জনতাকে বলেছিলেন, সার্বিয়া ‘ভেতর থেকে দখল করা হয়েছে’ এবং তিনি ছাত্র আন্দোলনের জন্য ‘নিজের জীবনও’ উৎসর্গ করতে প্রস্তুত বলে জানান।</p><p>সাইচিচ কসোভোকে ‘সাময়িকভাবে দখলকৃত ভূখণ্ড’ হিসেবে মনে করেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক জোরদার করাকে সমর্থন করেন।</p><p>রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এই চিকিৎসককে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে।</p>
জনপ্রিয় ট্রাভেল ভ্লগার রুহি চেনাত। কিছুদিন আগে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম দ্বীপ ত্রিস্টান দ্য কুনার উদ্দেশ্যে এক কঠিন সমুদ্রযাত্রায় বের হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই অভিযানের কথা
<p>অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হলো! বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের সর্ববৃহৎ প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ‘মার্কস অলরাউন্ডার’-এর চূড়ান্ত পর্ব আসছে এনটিভির পর্দায়। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে প্রতি শুক্রবার ও সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় প্রচারিত হবে এই আয়োজন।<br> প্রায় এক বছর ধরে চলা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে প্রায় ৩ লাখ শিশু-কিশোর। দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত ১০০টি আঞ্চলিক পর্ব এবং পরবর্তী বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বাছাই পেরিয়ে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা এবার লড়বে চূড়ান্ত পর্বে। </p><p>নাচ, গান, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, গল্প বলা ও উপস্থিত বক্তৃতায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে বয়সভিত্তিক তিনটি গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হবে বাংলাদেশের সেরা তিন অলরাউন্ডার।<br>তিনটি গ্রুপের সেরা তিন অলরাউন্ডারের প্রত্যেকে পাবে ১৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি। সব মিলিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের বিজয়ীদের জন্য থাকছে পদকসহ মোট ১ কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি।<br>প্রতিভার চমক আর জমজমাট মার্কস অলরাউন্ডারের লড়াই দেখতে চোখ রাখুন এনটিভির পর্দায়।</p>
আলেমদের সেই ঐতিহাসিক সমাবেশে তিনি মুসলমানদের পুনরুজ্জীবনের জন্য যে অমূল্য দুটি বার্তার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা আজকের দিনেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
<p>স্তন ক্যানসার মানেই মৃত্যু নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে দ্রুত রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করা সম্ভব। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে স্তন অপসারণ করারও প্রয়োজন হয় না।</p><p> স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করার গুরুত্ব বোঝাতে কথাগুলো বলেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাসুদ করিম। তিনি প্রথম আলো ডটকমের আয়োজনে ‘বিশ্বমানের ক্যানসার–চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। গত শনিবার অনুষ্ঠানটি প্রথম আলো ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।</p><p> অধ্যাপক ডা. সাগরিকা শারমীনের উপস্থাপনায় এ পর্বে আলোচক হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের ডিন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাসুদ করিম।</p><p> ‘পিংক অক্টোবর’ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারের পরিস্থিতি, রোগের ঝুঁকির কারণ, প্রাথমিক লক্ষণ, স্ক্রিনিং ও রোগনির্ণয়, স্তন অপসারণ না করে অস্ত্রোপচার, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি এবং চিকিৎসায় সচেতনতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় উঠে আসে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মতো জরুরি বিষয়ও।</p><p><strong>স্তন ক্যানসারের প্রকোপ বেশি</strong></p><p>বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের প্রকোপের বিষয়ে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, অতীতে নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে স্তন ক্যানসার অন্যতম প্রধান ক্যানসার হিসেবে উঠে এসেছে। দেশে প্রতি ১ লাখ নারীর মধ্যে আনুমানিক ২০ থেকে ২২ জন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন।</p><p>ডা. মোহাম্মদ মাসুদ করিম আরও বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হতো না। বর্তমানে সচেতনতা বাড়ার জন্য রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বংশগত বা জিনগত প্রবণতার পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক ও প্রজননসংক্রান্ত বিষয় এ রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।</p><p><strong>স্তনে পিণ্ড দেখলে অপেক্ষা নয়</strong></p><p>স্তন ক্যানসারের লক্ষণ সম্পর্কে ডা. মাসুদ করিম বলেন, স্তনে চাকা বা দলা, নিপল দিয়ে রক্তপাত, ত্বক দেবে যাওয়া বা কমলার খোসার মতো পরিবর্তন, ক্ষত কিংবা বগলে চাকা দেখা দিতে পারে। স্তনে ব্যথা না থাকলেও ক্যানসারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।</p><p>লজ্জা, ভয় ও কুসংস্কারের কারণে অনেক নারী চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। কেউ কেউ বিকল্প চিকিৎসার আশ্রয়ও নেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এতে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হতে পারে। তাই স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অপেক্ষা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/dva6iu84/02.-SKFArticle74.jpg"><figcaption>অধ্যাপক ডা. সাগরিকা শারমীনের উপস্থাপনায় আলোচনায় বাংলাদেশের স্তন ক্যানসার পরিস্থিতি, রোগের প্রাথমিক লক্ষণ, স্ক্রিনিং, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি, চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পুনর্বাসন এবং সচেতনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাসুদ করিম</figcaption></figure><p><strong>রোগনির্ণয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা</strong></p><p>স্তন ক্যানসার শনাক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ডা. মাসুদ করিম বলেন, রোগীর পূর্ববর্তী মেডিক্যাল রিপোর্ট নেওয়া, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ইমেজিং ও টিস্যু পরীক্ষার সমন্বয়ে রোগনির্ণয় করা হয়। এ ক্ষেত্রে দুই স্তন ও বগল পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। আলট্রাসনোগ্রাফি ও ম্যামোগ্রাফির পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এমআরআই করা হতে পারে।</p><p>ডা. মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, কোর নিডল বায়োপসির মাধ্যমে টিস্যু পরীক্ষা করে ক্যানসারের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী রিসেপ্টর পরীক্ষাও করা হয়। এসব পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।</p><p><strong>স্তন অপসারণ নয়</strong></p><p>স্তন ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর অনেক নারীর মধ্যে স্তন হারানোর ভয় থাকে। এ প্রসঙ্গে ডা. মাসুদ করিম বলেন, রোগের পর্যায় ও রোগীর অবস্থা বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে স্তন রেখে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে আক্রান্ত অংশটুকু অপসারণ করে স্তনের বাকি অংশ সংরক্ষণ করা হয়।</p><p>এই অস্ত্রোপচারের পর সাধারণত রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয় বলে জানান ডা. মাসুদ করিম। তিনি বলেন, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের আগে কেমোথেরাপি দিয়ে টিউমারের আকার কমানো হয়। কোন পদ্ধতি উপযুক্ত, তা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।</p><p><strong>দেশেই রয়েছে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ</strong></p><p>বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসাসুবিধা সম্পর্কে ডা. মাসুদ করিম বলেন, রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মতো চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুসরণ করে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>ডা. মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, সার্জন, রেডিওলজিস্ট, মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট, রেডিওথেরাপি বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমন্বয়ে রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। বাংলাদেশেও আধুনিক রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। তাই বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ খুঁজতে গিয়ে দেশে চিকিৎসা শুরু করতে অযথা দেরি করা উচিত নয়।</p><p><strong>কারা কখন স্ক্রিনিং করবেন</strong></p><p>স্তন ক্যানসার শনাক্তে স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে ডা. মাসুদ করিম বলেন, রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করার প্রক্রিয়াকে স্ক্রিনিং বলা হয়। এর মধ্যে নিজে স্তন পরীক্ষা করা, চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ইমেজিং পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত।</p><p>বিভিন্ন দেশের নির্দেশিকা অনুযায়ী সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর স্ক্রিনিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয় উল্লেখ করে মাসুদ করিম বলেন, পারিবারিক ইতিহাস বা অন্য কারণে ঝুঁকি বেশি থাকলে আরও কম বয়সে স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে। ঝুঁকি ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ম্যামোগ্রাফি বা এমআরআই করা যেতে পারে। দুই স্তরেরই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।</p><p><strong>সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজন সবার অংশগ্রহণ</strong></p><p>স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। হাসপাতাল, চিকিৎসক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও ভূমিকা রাখা জরুরি। গ্রাম ও মফস্সলের মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সভা, সেমিনার ও কর্মশালাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন।</p><p>এ প্রসঙ্গে ডা. মাসুদ করিম বলেন, শুধু অক্টোবর মাসে নয়, সারা বছরই স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে কোথায় যেতে হবে এবং কার পরামর্শ নিতে হবে, সে বিষয়েও মানুষকে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, স্তন ক্যানসার মোকাবিলায় সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো এবং সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।</p>
স্পেনে মাদ্রিদের কাছে দুটি দ্রুতগামী ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে, ইসরায়েলে ৭০ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনা শেষে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের জোট কোনোটিই সংখ্যাগরিষ্টতা পায়নি। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
২০০৬ সাল, সেই বছরের ২৮শে অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের পাল্টা-পাল্টি সমাবেশ ঘিরে রীতিমত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল ঢাকার পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকা। লাঠি-সোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সেখানে রক্তক্ষয়ী এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দল দু’টির নেতাকর্মীরা।
টানা ৭৫০ দিন সাগরে চলার পর জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামের কারণে 'ভিলা ভি ওডিসি' তার যাত্রা স্থগিত করেছে। জাহাজের পরিচালনাকারী সংস্থা বলছে, এশিয়ার কিছু অংশে প্রতি কেবিনের মাসিক জ্বালানি খরচ ১৮০০ ডলার থেকে বেড়ে ৮০০০ ডলার পর্যন্ত হয়েছে।
তীব্র ঘূর্ণিঝড় অর্ণব বুধবার ভোরে পুদুচেরির কাকিনাডা ও ইয়ানামের মধ্যবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ায় উপকূলীয় এলাকাজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, প্রবল বেগে ঝোড়ো বাতাস বইছে যার জেরে ব্যাহত হয়েছে দৈনন্দিন জীবন।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু'র নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী দলগুলোর জোটের সঙ্গে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তবে বুথফেরত জরিপে এখন পর্যন্ত যে ফলাফলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে কোনো দলই সরকার গঠন করার মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছে না বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
পহেলা নভেম্বর নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেবে সরকার। এজন্য বাড়তি ব্যয় সংস্থানে সরকার চলতি মাসে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া বাড়িয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের বিষয়টি রয়েছে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত অধিকাংশ সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনামে।
বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা মাশরুমের মতো দেখতে 'ব্যাঙের ছাতা'কে অনেকে মাশরুম মনে করে থাকেন। গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন বিষয়টা।
২০১৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশের তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় দেশটির তখনকার প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বিগ-বি ধারণাটি প্রথমে সামনে নিয়ে এসেছিলেন। ২০২৩ সালে জাপানের তখনকার প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার ভারত সফরের সময় বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে এই শিল্পাঞ্চলের প্রস্তাব ও এতে ভারতের যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গটি উঠে আসে।
সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং শহিদ পরিবারের প্রতিনিধিরা।
এর আগে বুধবার দুপুরে এক ফেসবুক লাইভে নিজের এক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান মাসুদ রানা। তবে তখন কোন স্ত্রীকে তালাক দেবেন, তা স্পষ্ট করেননি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রের বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর আশ্বাস দেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির সমালোচনা করে বলেছেন, দলটি (বিএনপি) ক্ষমতায় এসে যে রাজনীতি শুরু করেছে, তাতে গণতন্ত্রের পথ আবারও রুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংসদকে কেন্দ্র করে সংসদীয় ফ্যাসিবাদ শুরু হয়েছে।
শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তর করার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ওই মাঠে থাকা মেলার স্থাপনা ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।
সংগীতশিল্পী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। বুধবার ইউনেস্কোর নাম জালিয়াতি ও অর্থ তছরূপকাণ্ডে তাকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে জেরা করার জন্য ডেকে পাঠায় ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। দীর্ঘ জেরা শেষে কমপ্লেক্স থেকে বাইরে বের হতেই ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্যের জন্য আইজিপির ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য হাঙ্গেরিতে উচ্চশিক্ষায় প্রতি বছর ১৪০টি বৃত্তির সুযোগ রয়েছে।
ক্যাম্পেইনের আওতায় মার্সেলের ফ্রিজ, টিভি, এসি বা ফ্যান কেনার পর ক্রেতার নাম, মোবাইল নম্বর ও পণ্যের বারকোড দিয়ে ডিজিটাল নিবন্ধন করা হবে। এরপর সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা হবে ক্রেতার প্রাপ্য উপহার। ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে উপহারের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। পরে সংশ্লিষ্ট শোরুম কর্তৃপক্ষ ক্রেতার হাতে উপহার তুলে দেবে।