ক্রিকেট

ব্যাটসম্যানদেরই জেতানো উচিত ছিল, বলছেন তাসকিন

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ব্যাটসম্যানদেরই জেতানো উচিত ছিল, বলছেন তাসকিন
ব্যাটসম্যানদেরই জেতানো উচিত ছিল, বলছেন তাসকিন
<p>শুরুটা করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের প্রথম তিন উইকেটই তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ফেলেছিলেন চাপে। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা জিম্বাবুয়ে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে খেলেছে পুরো ৫০ ওভার। বাংলাদেশের সামনে দাঁড় করিয়েছে ২৭২ রানের লক্ষ্য।</p><p>কিন্তু সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৭২ রানে। উইকেটে বোলারদের জন্য খুব বেশি সহায়তা ছিল না। জিম্বাবুয়ের বোলাররাও যে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের খুব একটা বিপাকে ফেলেছেন, তা নয়। তারপরও এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের দায়টা ব্যাটসম্যানদেরই দিচ্ছেন তাসকিন।</p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/hb2s3q725j">জিম্বাবুয়ের ২৭২ রানও তাড়া করতে পারল না বাংলাদেশ</a></aside><p>শনিবার আবুধাবিতে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের এই পেসার বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আজকে যেরকম পিচ ছিল, আমরাও তো বল করেছি, একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু পানিশড হচ্ছিলাম। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অন্তত ২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। ওদের কন্ডিশনে ওরা অস্ট্রেলিয়াকেও কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এই কন্ডিশনে আমাদের আসলে তাড়া করা উচিত ছিল। আমরা আসলেই ভালো খেলিনি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/hstyzrun/854169957_28931780393124922_3087096911337358724_n.jpg"><figcaption>ম্যাচে বাংলাদেশের সেরা বোলার তাসকিন।</figcaption></figure> <p>বাংলাদেশের ইনিংসে উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তুলেছিলেন ৪৭ রান। সেটিই শেষ পর্যন্ত ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। ৩০ পেরোনো আরেকটি জুটি হয়েছে কেবল নবম উইকেটে। তাসকিন ও রিশাদ হোসেন মিলে ২৬ বলে যোগ করেন ৩২ রান।</p> <p>অর্থাৎ ব্যাটিংয়ে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। তাসকিনের চোখে, এই জায়গাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে দল। তাঁর কথায়, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি গড়তে পারিনি। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেত। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল করা হয়। বোলিংয়ে তাও তো একটা ধারাবাহিকতা আছে। আসলে ব্যাটসম্যানদের (আজ) জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু পারে নাই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/a7mpglnm/854627923_1586162236004289_8924000890607118504_n.jpg"><figcaption>তানজিদের ব্যাট থেকে এসেছে ৪৬ রান।</figcaption></figure> <p>হারের হতাশা থাকলেও এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেখছেন তাসকিন। সামনে একটি ম্যাচ বাকি, সেই ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফিরতে চায় বাংলাদেশ। তাসকিন বলেছেন, ‘এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা চাইব যে ভালোভাবে লড়াই করে ফিরে এসে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।’</p><p>তবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এমন বিপর্যয় নতুন নয়। চাপের মুখে দ্রুত ভেঙে পড়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন তাসকিন। তাঁর মতে, ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই, ঘাটতি মূলত ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ায়।</p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/6vyj1m8i15">যেভাবে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারল বাংলাদেশ</a></aside><p>তাসকিনের ব্যাখ্যা, ‘ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারার ঘাটতিটা একটু বেশি। কারণ স্কিল কিন্তু সবার আছে। আপনারা যাঁরা ক্রিকেট খেলা দেখেন, প্রতিটি ব্যাটসম্যানই কিন্তু প্রমাণ করেছে, তারা ভালো ব্যাট করতে পারে। মাঝে মাঝে আমরা দল হিসেবে দেখবেন, চাপে পড়লে খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি। এই জিনিসটাই আমাদের আসলে বের হয়ে আসতে হবে। বড় দল হতে চাইলে যেকোনোভাবে বের হয়ে আসতে হবে। আমি শিওর, এটা নিয়ে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি, কীভাবে দ্রুত ঠিক করা যায়।’</p><p>জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতে বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন তাসকিন। কিন্তু তাঁর সেই সাফল্য কাজে লাগাতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা। বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা থাকলেও ব্যাটিংয়ে চাপ সামলানোর ব্যর্থতা যে দলকে বারবার ভোগাচ্ছে, সেটিই আবার সামনে এসেছে এই হারে। এখন শেষ ম্যাচে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখাই বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।</p>

Prothomalo

View more
রাগ দমন: মুমিনের প্রকৃত শক্তি যেভাবে প্রকাশ পায়
রাগ দমন: মুমিনের প্রকৃত শক্তি যেভাবে প্রকাশ পায়

<p>সিগন্যালে দাঁড়িয়ে আছেন। ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা রিকশা এসে ধাক্কা দিয়ে আপনার বাইকের বাম্পারটা ভেঙে দিল। কিংবা প্রচণ্ড গরমে বাসে বসে আছেন। ভাবছেন দ্রুত বাসায় গিয়ে আরাম করবেন। অথচ রাস্তায় যাত্রী না থাকা সত্ত্বেও বাসটা দাঁড়িয়ে আছে। ইচ্ছে করে দেরি করছে।</p><p>কখনো কখনো এমন মুহূর্তে প্রচণ্ড রাগ হয়। অকথ্য ভাষায় গালি দিতে মন চায়। মনে হয় এই মানুষটাকে একটা শিক্ষা দিই।</p><p>এভাবে রাগের বশে কখনো কখনো আমরা এমন কিছু বলে ফেলি বা করে বসি, যা মুহূর্তের উত্তেজনা কেটে যাওয়ার পর নিজের কাছেই খারাপ লাগে। অথচ তখন আর কথাগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে না।</p><h3>বিজ্ঞান কী বলছে </h3><p>গবেষণায় দেখা গেছে, রাগের মুহূর্তে মস্তিষ্কের যে অংশ যুক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত, সেখানে অস্বাভাবিক সক্রিয়তা দেখা দেয়। ফলে রাগের সময় নেওয়া সিদ্ধান্ত সাধারণত ভুল হয়, আর সেই ভুল পরে দীর্ঘ অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। (ডেনসন, টি. এফ. ও অন্যান্য, ২০০৯, <em>জার্নাল অব কগনিটিভ নিউরোসায়েন্স</em>, ২১/৪, এমআইটি প্রেস, যুক্তরাষ্ট্র)</p><aside><cite>সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪</cite>যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে, যারা রাগ দমন করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।</aside><p>সহজ করে বললে, রাগের সময় মানুষের বিচারবুদ্ধি ঠিকমতো কাজ করে না। তাই রাগের মাথায় নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই ঝুঁকিপূর্ণ। চলুন দেখে নিই রাগ নিয়ে কোরআন কী বলছে।</p><h3>কোরআনের নির্দেশনা </h3><p>আল্লাহ–তাআলা মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে, যারা রাগ দমন করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪)</p><p>এই আয়াতে রাগ দমন বোঝাতে ‘কাজিমিনাল গাইজ’ ব্যবহার করা হয়েছে। ‘কাজম’ শব্দের অর্থ কোনো কিছু ভেতরে চেপে ধরে রাখা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/mtk1zkf851">রাগ নিয়ন্ত্রণে হাদিসের ৭ উপদেশ</a></aside><p>আয়াতে বলা হয়নি যে মুমিনের রাগ হবে না। রাগ হবে। স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি হিসেবেই হবে। কিন্তু সেই রাগকে প্রতিক্রিয়া আকারে বের হতে দেওয়া যাবে না, ভেতরেই সংবরণ করতে হবে।</p><p>এটাই আল্লাহর কাছে প্রিয় বান্দার পরিচয়। যে রাগ দমন করবে, সে সৎকর্মশীল। আর সৎকর্মশীলতা বেহেশতি মানুষদের বৈশিষ্ট্য।</p><h3>কোরআনের শিক্ষা </h3><p>১. রাগ দমনকারীই প্রকৃত শক্তিশালী। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অপরকে হারিয়ে দেয়। শক্তিশালী সে, যে রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১৪)</p><p>আমরা সাধারণত শক্তি বলতে শারীরিক শক্তি বোঝাই। কিন্তু নবীজি শক্তির সংজ্ঞাটাই পাল্টে দিলেন। যে মানুষ রাগের মুহূর্তে নিজেকে থামাতে পারে, প্রতিশোধ নেওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও চুপ থাকতে পারে, সে-ই আসল বীর।</p><aside><cite>সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৮৪</cite>তোমাদের কারও যখন রাগ হয়, আর সে দাঁড়ানো অবস্থায় থাকে, তখন সে যেন বসে পড়ে। এতে রাগ চলে গেলে ভালো, না গেলে সে যেন শুয়ে পড়ে।</aside><p>২. রাগ না করাই সবচেয়ে বড় উপদেশ। এক ব্যক্তি নবীজির কাছে এসে বললেন, ‘আমাকে উপদেশ দিন।’ রাসুল বললেন, ‘রাগ কোরো না।’ লোকটি একই কথা বারবার জিজ্ঞেস করলেন। প্রতিবারই তিনি একই উত্তর দিলেন, ‘রাগ কোরো না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১৬)</p><p>লোকটি হয়তো ভেবেছিলেন, নামাজ, রোজা বা দান নিয়ে কোনো উপদেশ পাবেন। কিন্তু মহানবী (সা.) তাঁকে জীবনের সবচেয়ে জরুরি শিক্ষাটা দিলেন। কারণ, রাগ এমন একটা অনুভূতি, যা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বাকি সব ভালো কাজ নষ্ট করে দিতে পারে।</p><p>৩. রাগ হলে শারীরিক অবস্থান বদলান। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও যখন রাগ হয়, আর সে দাঁড়ানো অবস্থায় থাকে, তখন সে যেন বসে পড়ে। এতে রাগ চলে গেলে ভালো, না গেলে সে যেন শুয়ে পড়ে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৮৪)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/h8b0drg83t">আয়েশা (রা.) রাগ করলে নবীজি (সা.) কী করতেন</a></aside><p>এই উপদেশ খুবই বাস্তবসম্মত। দাঁড়ানো অবস্থায় মানুষ সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে। বসে পড়লে বা শুয়ে পড়লে শরীর শান্ত হয়, আর শরীর শান্ত হলে মনও কিছুটা শান্ত হয়।</p><p>৪. রাগ সংবরণ বেহেশতের পথ। আল্লাহ সুরা শুরায় বেহেশতিদের গুণাগুণ বর্ণনা করে বলেন, ‘যারা গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে এবং রাগান্বিত হয়েও ক্ষমা করে দেয়।’ (সুরা শুরা, আয়াত: ৩৭)</p><p>খেয়াল করুন, এখানে শুধু বড় গুনাহ থেকে বাঁচার কথা বলা হয়নি। রাগের মুহূর্তে ক্ষমা করে দেওয়ার কথাও একই সারিতে রাখা হয়েছে। মানে রাগ সংবরণ করা কোনো ছোট গুণ নয়, এটা বেহেশতিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।</p><blockquote>নবীজির গায়ে ছিল মোটা কাপড়ের একটি চাদর। এক বেদুইন এসে সেই চাদর ধরে সজোরে টান দিল। টানের কারণে মোটা কাপড়ের ঘষায় নবীজির কাঁধে দাগ বসে গেল।</blockquote><h3>নবীজির জীবন থেকে শিক্ষা </h3><p>আনাস (রা.) বলেন, তিনি একবার নবীজির সঙ্গে হাঁটছিলেন। নবীজির গায়ে ছিল মোটা কাপড়ের একটি চাদর। এক বেদুইন এসে সেই চাদর ধরে সজোরে টান দিল। টানের কারণে মোটা কাপড়ের ঘষায় নবীজির কাঁধে দাগ বসে গেল।</p><p>লোকটি কর্কশ স্বরে বলল, ‘আল্লাহর যে সম্পদ তোমার কাছে আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দিতে বলো।’</p><p>মহানবী (সা.) লোকটির দিকে ফিরে তাকালেন। মুচকি হাসলেন। তারপর তাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩১৪৯)</p><p>শারীরিক ব্যথা পাওয়ার পরও রূঢ় আচরণের শিকার হওয়ার পরও তিনি রাগ করেননি। প্রতিশোধ নেননি। বরং হাসিমুখে সাহায্য করেছেন। এটাই ছিল তাঁর চরিত্র। রাসুলের অনুসারী হিসেবে আমাদের মাঝেও এমন আচরণ প্রতিস্থাপন করতে হবে।</p><p>পরেরবার যখন রাগ উঠবে, একটা কাজ করুন। থেমে যান। কথা বলার আগে তিন সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। প্রয়োজনে বসে পড়ুন বা জায়গা বদলে ফেলুন।</p><p>রাগের মুহূর্তে আপনি যা বলবেন বা করবেন, তার দায় পরে আপনাকেই বহন করতে হবে। কিন্তু সেই একই মুহূর্তে থেমে গেলে, নবীজির শেখানো পথে হাঁটলে, আপনি হয়তো এমন কিছু থেকে বেঁচে যাবেন, যার জন্য সারা জীবন আফসোস করতে হতো।</p><ul><li><p><em><strong>মুহাম্মাদ মুহসিন মাশকুর:</strong> খণ্ডকালীন শিক্ষক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।</em></p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%97-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%A3-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%A4">রাগ সংবরণ করা ও ক্ষমা করা ইবাদত</a></aside>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ব্যাটসম্যানদেরই জেতানো উচিত ছিল, বলছেন তাসকিন
ব্যাটসম্যানদেরই জেতানো উচিত ছিল, বলছেন তাসকিন

<p>শুরুটা করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের প্রথম তিন উইকেটই তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ফেলেছিলেন চাপে। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা জিম্বাবুয়ে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে খেলেছে পুরো ৫০ ওভার। বাংলাদেশের সামনে দাঁড় করিয়েছে ২৭২ রানের লক্ষ্য।</p><p>কিন্তু সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৭২ রানে। উইকেটে বোলারদের জন্য খুব বেশি সহায়তা ছিল না। জিম্বাবুয়ের বোলাররাও যে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের খুব একটা বিপাকে ফেলেছেন, তা নয়। তারপরও এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের দায়টা ব্যাটসম্যানদেরই দিচ্ছেন তাসকিন।</p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/hb2s3q725j">জিম্বাবুয়ের ২৭২ রানও তাড়া করতে পারল না বাংলাদেশ</a></aside><p>শনিবার আবুধাবিতে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের এই পেসার বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আজকে যেরকম পিচ ছিল, আমরাও তো বল করেছি, একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু পানিশড হচ্ছিলাম। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অন্তত ২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। ওদের কন্ডিশনে ওরা অস্ট্রেলিয়াকেও কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এই কন্ডিশনে আমাদের আসলে তাড়া করা উচিত ছিল। আমরা আসলেই ভালো খেলিনি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/hstyzrun/854169957_28931780393124922_3087096911337358724_n.jpg"><figcaption>ম্যাচে বাংলাদেশের সেরা বোলার তাসকিন।</figcaption></figure> <p>বাংলাদেশের ইনিংসে উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তুলেছিলেন ৪৭ রান। সেটিই শেষ পর্যন্ত ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। ৩০ পেরোনো আরেকটি জুটি হয়েছে কেবল নবম উইকেটে। তাসকিন ও রিশাদ হোসেন মিলে ২৬ বলে যোগ করেন ৩২ রান।</p> <p>অর্থাৎ ব্যাটিংয়ে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। তাসকিনের চোখে, এই জায়গাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে দল। তাঁর কথায়, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি গড়তে পারিনি। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেত। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল করা হয়। বোলিংয়ে তাও তো একটা ধারাবাহিকতা আছে। আসলে ব্যাটসম্যানদের (আজ) জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু পারে নাই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/a7mpglnm/854627923_1586162236004289_8924000890607118504_n.jpg"><figcaption>তানজিদের ব্যাট থেকে এসেছে ৪৬ রান।</figcaption></figure> <p>হারের হতাশা থাকলেও এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেখছেন তাসকিন। সামনে একটি ম্যাচ বাকি, সেই ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফিরতে চায় বাংলাদেশ। তাসকিন বলেছেন, ‘এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা চাইব যে ভালোভাবে লড়াই করে ফিরে এসে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।’</p><p>তবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এমন বিপর্যয় নতুন নয়। চাপের মুখে দ্রুত ভেঙে পড়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন তাসকিন। তাঁর মতে, ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই, ঘাটতি মূলত ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ায়।</p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/6vyj1m8i15">যেভাবে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারল বাংলাদেশ</a></aside><p>তাসকিনের ব্যাখ্যা, ‘ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারার ঘাটতিটা একটু বেশি। কারণ স্কিল কিন্তু সবার আছে। আপনারা যাঁরা ক্রিকেট খেলা দেখেন, প্রতিটি ব্যাটসম্যানই কিন্তু প্রমাণ করেছে, তারা ভালো ব্যাট করতে পারে। মাঝে মাঝে আমরা দল হিসেবে দেখবেন, চাপে পড়লে খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি। এই জিনিসটাই আমাদের আসলে বের হয়ে আসতে হবে। বড় দল হতে চাইলে যেকোনোভাবে বের হয়ে আসতে হবে। আমি শিওর, এটা নিয়ে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি, কীভাবে দ্রুত ঠিক করা যায়।’</p><p>জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতে বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন তাসকিন। কিন্তু তাঁর সেই সাফল্য কাজে লাগাতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা। বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা থাকলেও ব্যাটিংয়ে চাপ সামলানোর ব্যর্থতা যে দলকে বারবার ভোগাচ্ছে, সেটিই আবার সামনে এসেছে এই হারে। এখন শেষ ম্যাচে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখাই বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।</p>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
কাদসিয়ার কাছে হেরে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ শুরু ফর্টিসের
কাদসিয়ার কাছে হেরে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ শুরু ফর্টিসের

<p>এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে শুরুটা ভালো হলো না বাংলাদেশের ক্লাব ফর্টিস এফসির। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুয়েতের কাদসিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে দলটি। দুই দলই এবার প্রথমবারের মতো মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতায় খেলছে।</p> <p>কুয়েতের মোহাম্মদ আল-হামাদ স্টেডিয়ামে আজ ম্যাচের শুরু থেকেই ফর্টিসকে চাপে রাখে কাদসিয়া। সেই চাপের ফলও পেয়ে যায় তারা ২০ মিনিটে। বক্সের মধ্যে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় কুয়েতের ক্লাবটি। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মরক্কোর ফরোয়ার্ড হামজা খাব্বা।</p><p>গোল খেয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ফর্টিস। দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকবার কাদসিয়ার গোলমুখে আক্রমণও করে বাংলাদেশের দলটি। তবে প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভেঙে গোল আদায় করতে পারেনি তারা। উল্টো পাল্টা আক্রমণে ফর্টিসের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে কাদসিয়া। পুরো ম্যাচে ২৩টি শট নেয় কুয়েতের দলটি, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/gq6dzb2o/DSC0112.jpg"><figcaption>পুরো ম্যাচে ২৩টি শট নেয় কাদসিয়া।</figcaption></figure> <p>ম্যাচের ৭১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কাদসিয়া। এবারও গোলের পেছনে অবদান হামজার। তাঁর বাড়ানো বল থেকে গোল করেন আরেক মরক্কান ফরোয়ার্ড আইয়ুব লাখদার। ৯০তম মিনিটে তৃতীয় গোলও উদযাপন করে কাদসিয়া; গোল করেন আবদুল্লাহ আহমেদ।</p> <p>এর আগে প্রাথমিক বাছাইপর্বে নিজেদের মাঠে মুরাস ইউনাইটেডকে হারিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল ফর্টিস। তবে গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই হারায় তাদের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।</p><p>এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের ‘সি’ গ্রুপে ফর্টিস ও কাদসিয়ার অন্য দুই প্রতিপক্ষ ভারতের এফসি গোয়া ও তাজিকিস্তানের রেগার তাদাজ তুরসুনজোদা। চার দলের এই গ্রুপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/137j05d6/DSC0065.jpg"><figcaption>ম্যাচে ভালো খেলতে পারেনি ফর্টিস।</figcaption></figure> <p>গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে সরাসরি শেষ আটে উঠবে একটি দল। রানার্সআপ দলেরও সুযোগ থাকছে। পশ্চিম অঞ্চলের তিন গ্রুপের রানার্সআপদের মধ্যে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দলটি পাবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। ফলে শুধু জয় পাওয়া নয়, প্রতিটি ম্যাচে যতটা সম্ভব পয়েন্ট অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>অন্যদিকে পূর্ব অঞ্চলে সাতটি দল খেলবে দুই গ্রুপে। সেখান থেকে প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে।</p><p>গ্রুপ পর্বে ফর্টিসের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামী ২০ অক্টোবর। ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ভারতের এফসি গোয়া। প্রথম ম্যাচের হার ভুলে পরের ম্যাচে পয়েন্ট পাওয়াই এখন বাংলাদেশের ক্লাবটির লক্ষ্য।</p>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিপকের, এখনো আটক সৌরভ ও রাঙ্কা
শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিপকের, এখনো আটক সৌরভ ও রাঙ্কা

<p>ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দিপকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন। শনিবার বিকেলে দিল্লিতে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর ‘শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকারনামায়’ সই নিয়ে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এখনো আটক রয়েছেন।</p><p>আগের দিন শুক্রবার ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় দিপকেকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। একই ঘটনায় যন্তর মন্তরের পাশ থেকে আটক করা হয়েছিল অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকে। তাঁকে শনিবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়।</p><p>ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দেশটির মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন বিস্তৃত হচ্ছে। সিজেপি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও বিরোধী দলগুলো বিক্ষোভ করছে।</p><p>শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ বা ‘জাতীয় পতাকা উড়তে দাও’ কর্মসূচি আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দিপকেকে নোটিশ দিয়েছিল পুলিশ। তিনি তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাঁকে আটক করা হয়।</p><p>এর আগে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দিতে এসে উড়োজাহাজ থেকে নামার আগেই আটক হয়েছিলেন দিপকে এবং সিজেপির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। পরদিন শান্তি বজায় রাখার শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।</p><h3>সৌরভ ও আশুতোষ এখনো আটক</h3><p>দিপকের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হলেও সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এখনো আটক রয়েছেন। গত বুধবার যন্তর মন্তরে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠিয়েছিলেন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁদের সঙ্গে সিজেপির আরও কয়েকজন সদস্যও ছিলেন।</p><p>সৌরভ ও রাঙ্কার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ এনেছে। এর আগে গত রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লি ক্যান্ট থানায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁরা শান্তিভঙ্গ না করার মুচলেকা দিয়েছিলেন। পুলিশ অভিযোগ করেছে, তাঁরা সেই শর্ত ভঙ্গ করেছেন। এদিকে সিজেপি নেতা অজিঙ্কা শিন্দেকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।</p><h3>মুক্তি পেয়েই দাবি পুনর্ব্যক্ত করলেন নেহা বোরা</h3><p>শনিবার সকালে মুক্তির পর নেহা বোরাও এসআইআর বন্ধ এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভের সময়ও তাঁকে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।</p><p>বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাবে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ গেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি সুবিধা পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, রাজনৈতিক কারণে কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। ভুল করে নাম বাদ গেলে আবার নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।</p><h3>পুলিশ সদর দপ্তরমুখী নারীদের মিছিল</h3><p>শনিবার দিল্লিতে কয়েকটি নারী সংগঠন ও অধিকারকর্মী পুলিশ সদর দপ্তরের দিকে মিছিল করেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নারী ও ট্রান্সজেন্ডার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নিপীড়নের অভিযোগ তুলে তাঁরা অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। মিছিলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়।</p><h3>বিজয়ের দলও বিক্ষোভে</h3><p>গত বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) চেন্নাইয়ে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বিক্ষোভে যোগ দেয়। সিইসির অপসারণ এবং এসআইআর-বিরোধী এ কর্মসূচিতে দলটির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। ৩ অক্টোবর বিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার পর সিইসিবিরোধী বিক্ষোভে এটিই টিভিকের প্রথম অংশগ্রহণ। এতে দিল্লির বাইরে আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিসর বিস্তৃত হয়েছে।</p>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
অঞ্জলি, আরতি আর দেবীদর্শনে মুখর রমনা কালীমন্দির
অঞ্জলি, আরতি আর দেবীদর্শনে মুখর রমনা কালীমন্দির

রাজধানীর রমনা কালীমন্দিরে ধূপের ঘ্রাণ ও ঢাকের বাদ্যের মধ্য দিয়ে মহাসপ্তমীর পূজা উদ্‌যাপিত হয়েছে। দেবী দুর্গার কাছে শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেছেন ভক্তরা।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজের গতিবিধি ক্যামেরায় দেখতে পারবেন যাত্রীরা, বসল ১৮টি মনিটর ও ৩২ ক্যামেরা
শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজের গতিবিধি ক্যামেরায় দেখতে পারবেন যাত্রীরা, বসল ১৮টি মনিটর ও ৩২ ক্যামেরা

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ১৮টি মনিটর স্থাপন করেছে বেবিচক।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
স্বাধীনতার কথা বলে দিল্লির কৃতদাসত্ব করেছে আওয়ামী লীগ সরকার: রুহুল কবির রিজভী
স্বাধীনতার কথা বলে দিল্লির কৃতদাসত্ব করেছে আওয়ামী লীগ সরকার: রুহুল কবির রিজভী

‘একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আরেকটি দেশকে তিনি কী এমন দিচ্ছিলেন? সোনাদানা, হীরা-জহরত...—কী এমন দিচ্ছিলেন যে দেশের জনগণের তা জানার অধিকার নেই?,’ প্রশ্ন করেন তিনি।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
৬ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি: ৮ বছর পর আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড
৬ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি: ৮ বছর পর আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে শিশুকে যৌন হয়রানির মামলায় আসামি কামরুলকে ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নারী, শিশুসহ নিহত ১৮, আহত ৩৭
কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নারী, শিশুসহ নিহত ১৮, আহত ৩৭

কলকাতায় চোরবাগান পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নারী, শিশুসহ ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন