bangladesh

বিয়ের আগের রাতে বরের মৃত্যু, বরযাত্রার বদলে অনুষ্ঠিত হলো জানাজা

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
বিয়ের আগের রাতে বরের মৃত্যু, বরযাত্রার বদলে অনুষ্ঠিত হলো জানাজা
বিয়ের আগের রাতে বরের মৃত্যু, বরযাত্রার বদলে অনুষ্ঠিত হলো জানাজা
<p>গাইবান্ধায় বিয়ের আগের রাতে হঠাৎ মৃত্যু হয় তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহরিয়ারের। কনে ও বর দুজনের বাড়িতেই চলছে মাতম। আরিফের মৃত্যুতে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

Prothomalo

View more
বিদেশে উচ্চশিক্ষার খোঁজে ‘স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ারে’ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়
বিদেশে উচ্চশিক্ষার খোঁজে ‘স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ারে’ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়

<p>শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিপুল সাড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রথম আলো ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬’-এর প্রথম দিনের আয়োজন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) দিনভর চলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার নানা তথ্য ও পরামর্শের এই আসর। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষ দিন আগামীকাল শনিবার।</p><p> আজ সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বিকেলের দিকে সম্মেলন কেন্দ্রটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে। ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ-তরুণীরা পছন্দের দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ভিসা ও স্কলারশিপের বিষয়ে জানতে মেলায় ভিড় করেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/842vo8lv/Study-Abroad-Fair-2.jpeg"><figcaption>মেলার ফাঁকে আনন্দঘন মুহূর্ত ধরে রাখতে একটি স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে সেলফি তুলছেন অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। আগারগাঁও, ঢাকা। ১৬ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>রাজধানীর মিরপুর থেকে বিকেলে মেলায় এসেছিলেন শ্রাবণী আক্তার। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা। ঢাকার বাইরের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করছেন শ্রাবণী। তিনি সামাজিক বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যেতে আগ্রহী।</p><p>শ্রাবণী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেলা শুক্রবার হওয়ায় ভালো হয়েছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার বাইরে। অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে পেয়েছি। সবাই ভালো ভালো অফার দেখিয়েছে। আমার জন্য খুব কাজে দেবে।’</p><p>একইভাবে উচ্চশিক্ষার আগাম তথ্য নিতে ধানমন্ডি থেকে বাবা মহসিন হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন রাজীব হোসেন। তিনি স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। রাজীব বলেন, ‘আমি আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই মেলার খোঁজ পেয়েছি প্রথম আলোর পেজে। এখানে এসে ভালোই লাগছে। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য বেশ কিছু বিষয়ে জানার ছিল। সেগুলো জানতে পেরেছি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/isigoxhe/Study-Abroad-Fair-3.jpeg"><figcaption>সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ‘স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ারে’ এসেছেন এক নারী। স্টলে বসে তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভর্তির খোঁজখবর নিচ্ছেন। আগারগাঁও, ঢাকা। ১৬ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>‘উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখো, বিশ্বজুড়ে…’ স্লোগানে আয়োজিত এই মেলার ব্যাংকিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি। মেলার শেষ দিন আগামীকাল শনিবারও সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কিত তথ্য, স্কলারশিপ ও আবেদনবিষয়ক পরামর্শের পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা।</p><p>শিক্ষার্থীদের সরাসরি সেবা দিতে মেলায় অংশ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা-পরামর্শক ও সহযোগী ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে এএইচজেড (এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপ), বিডি এক্সপার্ট এডুকেশন কনসালটেন্সি, বাংলায় আইইএলটিএস, বিএসসি, সিএইচএস এডুকেশন, ড্রিম স্টাডি ইন্টারন্যাশনাল, ড্রিমবাজ, এডুকেশন হাব, এক্সিকিউটিভ স্টাডি, এডুকেশন কানেক্ট গ্লোবাল, এডুকেশন অ্যাট, ফিউচার এডি, ফেইথ ওভারসিস লিমিটেড, গো জায়ান, গ্রোথ একাডেমি গ্লোবাল, ফ্যান্টাসি গ্লোবাল এডুকেশন, এইচ অ্যান্ড এইচ গ্লোবাল এডুকেশন, ক্যাম্পাস গ্রুপ, এইচ অ্যান্ড আই কাউন্সিল, ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কাউন্সেলিং সেন্টার (আইইসিসি) লিমিটেড, লুমোস গ্লোবাল, এলভিএস গ্লোবাল এডুকেশন কনসালটেন্সি, ম্যাক্সিমাস এডুকেশন অ্যান্ড মাইগ্রেশন, মেন্টরস, ম্যাপস এডু, ব্রিট একাডেমি, পিনাকল কনসালটেন্সি গ্রুপ, পিএফইসি গ্লোবাল, শেবা কনসালটেন্সি, শেনজেন এডু লিমিটেড, স্টাডি সলিউশনস, টেন মিনিট স্কুল, ইউনিগ্লোবাল, ভিসা এক্সপ্রেস, উইজডম এবং ওয়েমস এডুকেশন অ্যান্ড মাইগ্রেশন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/1j2ttk3f/Study-Abroad-Fair-4.jpeg"><figcaption>বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে পরামর্শকের কাছ থেকে শুনছেন শিক্ষার্থীরা। আগারগাঁও, ঢাকা। ১৬ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>এ ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে রয়েছে প্রথমা বুকস, ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেড ও কেএফসির স্টল। পুরো আয়োজনে ডিজিটাল কানেকটিভিটি সহায়তায় রয়েছে আম্বার আইটি লিমিটেড।</p><p>সরাসরি মেলার পাশাপাশি আজ বেলা সাড়ে ৩টা, বিকেল সাড়ে ৪টা ও সাড়ে ৫টায় প্রথম আলোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তিনটি বিশেষ ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থাপিকা তমা রশিদের সঞ্চালনায় এসব লাইভে আলোচকেরা স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), রেকমেন্ডেশন লেটার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি, বিষয় নির্বাচন এবং পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন। আগামীকালও অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এমন বিশেষ ফেসবুক লাইভ টকশো অনুষ্ঠিত হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/efd9v3ba/Study-Abroad-Fair-5.jpeg"><figcaption>মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সরাসরি প্রচারিত বিশেষ ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার নানা দিক নিয়ে কথা বলেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। ডান প্রান্তে সঞ্চালনায় উপস্থাপিকা তমা রশিদ। আগারগাঁও, ঢাকা। ১৬ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>এদিকে সশরীর উপস্থিত হতে না পারা শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে <a href="https://www.studyabroadfair.pro/" target="_blank" rel="nofollow">ওয়েবসাইটে</a> ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই ফেয়ারের অনলাইন আয়োজন। সেখানে ঘরে বসেই কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা সেবা ও অফার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
জুয়ার বিজ্ঞাপনে পিটারসেন, বিতর্কের মুখে ইসিবি
জুয়ার বিজ্ঞাপনে পিটারসেন, বিতর্কের মুখে ইসিবি

<p>ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করছেন। আবার অনলাইন জুয়া প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূতও হয়েছেন। কেভিন পিটারসেনের এই দুই ভূমিকা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ইংল্যান্ডের সাবেক এই ব্যাটসম্যান অবশ্য ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) আশ্বস্ত করেছেন, জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কোনো জুয়া প্রতিষ্ঠানের প্রচারে অংশ নেবেন না।</p> <p>ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেট দলের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন পিটারসেন। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দলের সঙ্গে আগামী ১৩ মাসে প্রায় ১৫০ দিন কাজ করার চুক্তি তাঁর। তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় যৌথভাবে আয়োজিত আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত।</p> <figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-16/f6qb9z3a/473014_01_02.jpg"><figcaption>প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে মেন্টর পিটারসেন</figcaption></figure><p>এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহে অনলাইন জুয়া প্রতিষ্ঠান ডাফাবেটের সঙ্গে মোটা অঙ্কের চুক্তি করেছেন ৪৬ বছর বয়সী পিটারসেন। ফিলিপাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির শুভেচ্ছাদূত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গত সোমবার। আর তাতেই কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে ইসিবি।</p><p>কারণ, জুয়া নিয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান বেশ কঠোর। ইসিবির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনো ম্যাচ বা প্রতিযোগিতার ফল, অগ্রগতি, পরিচালনা কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে কাউকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাজি ধরতে প্ররোচিত, উৎসাহিত বা সহায়তা করা যাবে না। এমনকি অন্য কাউকে বাজি ধরার অনুমতি দেওয়াও নিষিদ্ধ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/l1e2izhgyj">অভিমানের বরফ গলল, ইংল্যান্ডের সাদা বলের মেন্টর পিটারসেন</a></aside><p>শুধু নীতিমালাতেই নয়, নিজেদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখে ইসিবি। বোর্ড কোনো জুয়া প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন থেকে আয় করে না। আগামী বছর থেকে দ্য হানড্রেডের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকেও জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি করতে নিষেধ করা হয়েছে।</p><p>ইংল্যান্ডের কাউন্টি দলগুলোর ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ শর্ত। কোনো কাউন্টি দল জুয়া প্রতিষ্ঠান থেকে বাণিজ্যিক আয় করলে সেই অর্থ অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা সামাজিক কর্মসূচিতে পুনর্বিনিয়োগ করা হচ্ছে, সেটি প্রমাণ করতে হবে।</p><p>ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত সবার জন্যই বাজি ধরা নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভাঙার পরিণতি কতটা কঠিন হতে পারে, সেটি ভালোই জানেন ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্স। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৩০৩টি বাজি ধরার অপরাধে দুই বছর আগে তাঁকে ১৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। যদিও এর মধ্যে ১৩ মাসের শাস্তি স্থগিত রাখা হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-07/1b48au3t/Good_morning_everyone__I_hope_you_all_have_the_very_best_day___.jpg"><figcaption>নতুন দায়িত্ব নিয়েই বিতর্কে পিটারসেন</figcaption></figure><p><br>পিটারসেন অবশ্য ইসিবিকে জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড দলের দায়িত্ব পালনের সময় ডাফাবেটের কোনো প্রচারে অংশ নেবেন না। তবে আগামী এক বছরে জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর ব্যস্ততা এতটাই বেশি যে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গেলে জুয়া প্রতিষ্ঠানটির হয়ে প্রচারের সুযোগও অনেক কমে যাবে।</p><p>আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে যাচ্ছেন না পিটারসেন। সিরিজের অন্য দল শ্রীলঙ্কা। তবে শীত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত থাকবেন তিনি। আগামী গ্রীষ্মে বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠেয় সব সাদা বলের ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করবেন।</p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/qnknve7u07">বেধড়ক পিটুনিতে ইংল্যান্ড দলে পিটারসেনকে বরণ করলেন ব্রুক</a></aside><p>জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ইসিবির অস্বস্তিতে পড়ার ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে নিয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।</p><p>তিন বছর আগে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ থাকার সময় সাইপ্রাসভিত্তিক জুয়া প্রতিষ্ঠান ‘টুয়েন্টি টু-বেটে’র (২২ বেট) শুভেচ্ছাদূত হয়েছিলেন ম্যাককালাম। এরপর ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রতিষ্ঠানটির হয়ে আইপিএলের ম্যাচে বাজি ধরার প্রচারও চালিয়েছিলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-07-26/p4k3xi9z/Just-cruising-and-creating-more-memorable-times-together.-This-place-NEVER-disappoints-Every-dr.jpg"><figcaption>কেভিন পিটারসেন</figcaption></figure><p>বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর ইসিবি অবশ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, ম্যাককালাম দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা ভঙ্গ করেননি। তবে বিতর্ক এড়াতে শেষ পর্যন্ত নিজে টুয়েন্টি টু-বেটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক।</p><p>ম্যাককালামের সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিটারসেনের ডাফাবেটের অবশ্য একটি পার্থক্য আছে। টুয়েন্টি টু-বেটের লাইসেন্স ছিল ক্যারিবীয় অঞ্চলের কুরাসাওয়ে। অন্যদিকে ডাফাবেটের যুক্তরাজ্যে কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে।</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ভয়াবহ বন্যায় ডুবে গেছে ইস্তাম্বুলের সড়ক, ভেসে যাচ্ছে গাড়ি
ভয়াবহ বন্যায় ডুবে গেছে ইস্তাম্বুলের সড়ক, ভেসে যাচ্ছে গাড়ি

ভয়াবহ বন্যায় ডুবে গেছে ইস্তাম্বুলের সড়ক, ভেসে যাচ্ছে গাড়ি

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
খাঁটি মধু কিনছি, নাকি চিনির সিরাপ?
খাঁটি মধু কিনছি, নাকি চিনির সিরাপ?

গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ফেনীর এক আবাসিক হোটেলের টয়লেটে তৈরি করা হচ্ছিল ভেজাল মধু। সেখানে গ্যাসের চুলায় চিনি জ্বাল দিয়ে তার সঙ্গে আসল মধু মিশিয়ে বানানো হতো এ ভেজাল মধু।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
অপুর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ফটোশুট, কে এই আদনান
অপুর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ফটোশুট, কে এই আদনান

চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের নতুন একটি ফটোশুট ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে। গত বৃহস্পতিবার রোমান্টিক আবহের এসব স্থিরচিত্র প্রকাশ করেন অপু।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দিল্লিতে অভিজিৎ দিপকে বাসা থেকে আটক, মিছিল থেকে নেহা বোরাও
দিল্লিতে অভিজিৎ দিপকে বাসা থেকে আটক, মিছিল থেকে নেহা বোরাও

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: আগে জানত না বাংলাদেশ, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: আগে জানত না বাংলাদেশ, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

<p>সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি আগে জানত না বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ বিষয়টি জানতে পেরেছে। এরপর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।</p><p>ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কলস্যুলেটের সূত্র প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছে।</p><p>আজ শুক্রবার বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র এ প্রতিবেদককে জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর গতকাল জেদ্দার কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।</p><p>সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। জানা গেছে, মৃত্যদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।</p><p>মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল।</p><p>প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ অর্থাৎ বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধানে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং যে পরিস্থিতিতে অপরাধ ঘটেছে, তা বিবেচনায় নিয়েই বিচারক এ শাস্তি দেন বলে জানানো হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত রূপ পায় এবং রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ জারি হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/kbuz62wx6g">পবিত্র মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ দায়ে বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর</a></aside><p>সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।</p><p>সৌদি আরব থেকে বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। আর বিচারপ্রক্রিয়া চলার সময় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন।</p><p>প্রসঙ্গত কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদে পক্ষভুক্ত বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দুই দেশই। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেপ্তার হলে বন্দীর অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে বন্দীরা কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।</p><p>নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে খুব দ্রুত মৃত্যদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। এখন আটক দুজনের পক্ষে কেউ মিশনে যোগাযোগ করল না কেন, সেটাও রহস্যজনক।</p><p>নিহত দুজনের সৌদি আরবে অবস্থানের ধরন ও মেয়াদ, বিচারে কোনো আইনি সহায়তা বা আপিলের সুযোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০৭ ফ্লাইট বিঘ্নিত, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৬ হাজার যাত্রী
ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০৭ ফ্লাইট বিঘ্নিত, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৬ হাজার যাত্রী

<p>সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামায় বিধিনিষেধ থাকার কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত রয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে এ পর্যন্ত ১০৭টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী।</p><p>আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।</p><p>বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৪।</p><p>অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এসব ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৬৩।</p><p>এর আগে বৃহস্পতিবার বেবিচকের দেওয়া তথ্যে, সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ১০৩টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তখন ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৭৭৯। শুক্রবার বিকেলের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিঘ্নিত ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়েছে ৪টি এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে ৮৪১।</p><p>এদিকে সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।</p><p>বিমান জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করায় প্রতি ফ্লাইটে আসন বেড়েছে ১৪৮টি। পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিমানের নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।</p><p>এ ছাড়া ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটও স্থগিত রয়েছে। যাত্রীরা মদিনা ও জেদ্দা হয়ে সৌদি আরব যাচ্ছেন।</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন অধ্যাপক ইউনূস
‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন অধ্যাপক ইউনূস

<p>শান্তিতে নোবেলজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মর্যাদাপূর্ণ ‘হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।</p><p>আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, গবেষকসহ প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে করতালি দিয়ে তাঁকে সম্মান জানান।</p><p>এ বছর অধ্যাপক ইউনূসসহ মোট চারজনকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অপর তিন বিজয়ী হলেন ভারতের ‘সেলফ-এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন’ (সেবা)-এর পরিচালক রিমা নানাবতী, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ‘টোরি বার্চ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ এবং জর্ডানের ‘মাইক্রোফান্ড ফর উইমেন’-এর বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ানকে বিশেষ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।</p><p>অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘আমি নিজে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দেখেছি। নারীরা কীভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে। এটা অভূতপূর্ব। শুধু বাংলাদেশের নারীরা নন, অধ্যাপক ইউনূস তাঁর কাজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’</p><p>পুরস্কার গ্রহণের পর বক্তৃতায় অধ্যাপক ইউনূস তাঁর কাজের ৫০ বছর পূর্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের কাজের ৫০ বছরের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এখানে আপনারা যে আয়োজন করেছেন, তা বাংলাদেশে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে।’</p><p>দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছি। আমরা নারীদের দিকে মনোযোগ দিয়েছি। তাঁরা যেন নিজেদের শক্তি কাজে লাগাতে, নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেন।’</p><p>অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আজ সেই পরিবারগুলো অনেক বদলে গেছে। এখন আর লাজুক, চুপ করে বসে থাকা দরিদ্র নারী দেখা যায় না; বরং দেখা যায় আত্মবিশ্বাসী নারী, যাঁরা নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। এসব নারী নিজেদের ব্যাংক নিজেরাই পরিচালনা করেন, আর তাঁরাই গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক।</p><p>ঋণগ্রহীতাদের সন্তানেরাও এখন চাকরি খুঁজছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি, এ কথাটি বারবার বলো, “আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।” কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হবে।’</p><p>এ সময় সামাজিক ব্যবসার ধারণার কথা উল্লেখ করে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ইউনূস জানান, এর উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত মুনাফা নয়; বরং সমস্যার সমাধান করা। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামাজিক ব্যবসার তহবিল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তুলতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ আবার স্বাস্থ্যসেবাতেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।</p><p>বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভুলভাবে সাজানো হয়েছে। কারণ, এটি তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি করে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে সৃজনশীল ও উদ্যোগী করে গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থার কাজ হওয়া উচিত উদ্যোক্তা তৈরি করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ চালুর আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস।</p><p>অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ গড়ার পথে নেতৃত্ব দিতে পারে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করবে, শুধু সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটে একজন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠো। ব্যবসা শুরুর জন্য অর্থায়নসহ যা যা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় তা নিশ্চিত করবে। শিক্ষাক্ষেত্রে এটি তাদের প্রচেষ্টার একটি নতুন সূচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন