জেলা

বিরামপুরে নারী তিরন্দাজদের তির-ধনুকের দক্ষতায় মুগ্ধ দর্শকেরা

অক্টোবর ৪, ২০২৬
বিরামপুরে নারী তিরন্দাজদের তির-ধনুকের দক্ষতায় মুগ্ধ দর্শকেরা
বিরামপুরে নারী তিরন্দাজদের তির-ধনুকের দক্ষতায় মুগ্ধ দর্শকেরা
<p>সবুজে ঘেরা গ্রামে বিশাল খেলার মাঠ। সেই মাঠে কিশোরী থেকে মাঝবয়সী নারীরা। এক হাতে বাঁকা ধনুক আর আরেক হাতে সুচালো তির। দৃষ্টিসীমার ৫০ ফুট দূরে পুঁতে রাখা কলাগাছে। বাঁকানো ধনুক থেকে তির ছুড়তেই বিদ্যুৎ–গতিতে গিয়ে বিঁধছে কলাগাছে। আর এই দৃশ্য দেখে শত শত নারী–পুরুষ ও শিশু–কিশোরের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে মুখর গোটা মাঠ।</p><p> ব্রিটিশবিরোধী সাঁওতাল বিদ্রোহ, আত্মরক্ষার সামাজিক কৌশল আর বন্য প্রাণী শিকারে হাতের তৈরি দেশীয় অস্ত্র হিসেবে তির-ধনুক ব্যবহারের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ধানজুড়ি কবরস্থান মাঠে আজ রোববার দিনব্যাপী হয়ে গেল তির-ধনুক প্রতিযোগিতা। ধানজুড়ি আদিবাসী স্পোর্টিং ক্লাব এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।</p><p>সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ধানজুড়ি মিশন এলাকার মানজি পরিষদের আওতায় ১২টি দল অংশ নেয়। প্রতিটি দলে ৫ জন করে মোট ৬০ জন তিরন্দাজ অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন নারী তিরন্দাজের তির নিক্ষেপ ছিল প্রতিযোগিতার বিশেষ আকর্ষণ।</p><p>প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নারী তিরন্দাজদের অধিকাংশই গৃহিণী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। প্রতিযোগীদের কেউ সেজেছেন রঙিন শাড়িতে। আবার কেউ কেউ খোঁপায় গুঁজেছেন রঙিন ফুল। মঞ্চের মাইকের ঘোষণায় মাঠের মাঝখানে চলছে প্রতিযোগীদের হাতে তির-ধনুকের ক্যারিশমা। নারী তিরন্দাজের হাতে থাকা ধনুক থেকে তিন লক্ষ্যভেদ করা মাত্রই মাঠের চারপাশ মুখর হয় দর্শকদের হর্ষধ্বনি আর করতালিতে। আর সে সময় নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে তির-ধনুক হাতে অপেক্ষমাণ প্রতিযোগী তিরন্দাজদের চোখেমুখে প্রতিপক্ষ দলকে পরাস্ত করার দৃঢ় সংকল্প।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/sdc0tfg5/dinajpur2.jpg"><figcaption> তির নিক্ষেপ করছেন এক তিরন্দাজ</figcaption></figure><p>ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পল্লির ওই মাঠে তির-ধনুকের এ খেলা দেখতে আসা দর্শকের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিযোগিতায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ থাকায় প্রতিযোগী ও দর্শকদের মধ্যে ছিল বাড়তি কৌতূহল।</p><p>তিরন্দাজ শান্তনি মুরমু প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি একজন মা হিসেবে তির-ধনুক খেলতে এসেছি। এটি আমাদের সামাজিক ঐতিহ্য। আমাদের এ খেলা দেখে যাতে আমাদের মেয়েরা, বাবুরা (ছেলে) খেলা শিখতে পারে, সে জন্য আমরা খেলছি।’ তিনি বলেন, ‘এ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়াটা বড় বিষয় নয়, বরং এ খেলা দেখে আমাদের সন্তানেরা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য তির-ধনুকের ব্যবহার শিখতে অনুপ্রাণিত হবে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/09njn1xq/dinajpur3.jpg"><figcaption>তির–ধনুক প্রতিযোগিতা উপভোগ করছেন নারী দর্শকেরা</figcaption></figure><p>প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক রঞ্জিত হেম্ব্রম প্রথম আলোকে বলেন, তির-ধনুক হচ্ছে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্য। সাঁওতাল পরিবারের যুবকেরা প্রতিবছর একবার করে হলেও তির-ধনুক নিয়ে শিকারে বের হন। এই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে যেন সব সময় তুলে ধরতে পারি।</p><p>প্রতিযোগিতায় জবই দল চ্যাম্পিয়ন ও ডিএলসি দল রানারআপ হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধানজুড়ি মিশনের পালপুরোহিত ফাদার মানুয়েল হেম্ব্রম।</p>

Prothomalo

View more
বৈশ্বিক গড় আয়ু ৭৩.৩ বছর, ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
বৈশ্বিক গড় আয়ু ৭৩.৩ বছর, ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

<p>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৭ বছরে। পুরুষের (৭১ দশমিক ১ বছর) চেয়ে নারীদের (৭৪ দশমিক ৪ বছর) গড় আয়ু বেশি।</p><p>বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৭ বছরে। সেখানে ভারতীয়দের গড় আয়ু ৭১ বছর এবং পাকিস্তানিদের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ২ বছর।</p><p>গত শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু, সুস্থ জীবনের মেয়াদ, মৃত্যুর কারণ এবং রোগব্যাধির সার্বিক প্রভাবের বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।</p><p>একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, কানাডার মানুষের গড় আয়ু ৮১ দশমিক ৪ বছর। আর যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের গড় আয়ু সাড়ে ৭৮ বছর। বৈশ্বিকভাবে ২০২৩ সালে মানুষের গড় আয়ু ৭৩ দশমিক ৩ বছরে পৌঁছেছে। সেই হিসাবে বৈশ্বিক গড় আয়ুর চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু প্রায় ৭ মাস ৫ দিন কম (শূন্য দশমিক ৬ বছর)। বাংলাদেশে পুরুষের (৭১ দশমিক ১ বছর) চেয়ে নারীদের (৭৪ দশমিক ৪ বছর) গড় আয়ু বেশি।</p><p>বিশ্ব সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের চেয়ে ২০১৯ সালে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু (৭৩ দশমিক ৪ বছর) বেশি ছিল। পুরুষের গড় আয়ু ছিল ৭১ দশমিক ৮ বছর আর নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭৫ দশমিক ১ বছর। করোনা মহামারির পর গড় আয়ু কমে যায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ছিল ৭৩ দশমিক ১ বছর। ২০২১ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ৭২ দশমিক ২ বছরে। পরের বছর ২০২২ সালে অবশ্য গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়ায় ৭২ দশমিক ৫ বছরে।</p><p>বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে মানুষের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৩ বছরে । আগের বছর যা ছিল ৭২ দশমিক ৪। বিবিএসের বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস প্রতিবেদনে (২০২৩) এই হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/wn8s2xxzhj">শিশুমৃত্যু বেড়েছে, কমেছে গড় আয়ু </a></aside><p>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, করোনা মহামারি চলাকালে ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে গড় আয়ু কমে ৭১ দশমিক ৫ বছরে নেমে এসেছিল। তবে মহামারির প্রভাব কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়ু বাড়তে থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশি দিন বেঁচে থাকা মানেই যে পুরোটা সময় সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে, তা নয়। বিশ্বজুড়ে সার্বিক গড় আয়ু করোনা মহামারি-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে এলেও সুস্থ জীবনযাপনের গড় মেয়াদ পুনরুদ্ধারের গতি এখনো কিছুটা ধীরগতির। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক প্রত্যাশিত সুস্থ জীবনযাপনের গড় সময় ৬২ দশমিক ৮ বছরে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় এখনো শূন্য দশমিক ৪ বছর কম।</p><aside><cite>অ্যালেইন ল্যাবরিক, পরিচালক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা</cite>মানুষের দীর্ঘায়ু জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় এক অর্জন। তবে বর্তমান সময়ের মূল চ্যালেঞ্জ হলো এই বাড়তি বছরগুলো যেন মানুষ সুস্থতার সঙ্গে কাটাতে পারে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা যেন প্রবীণ ও পরিবর্তনশীল জনসংখ্যার চিকিৎসাচাহিদা মেটাতে পারে।</aside><p>বৈশ্বিক গড় আয়ু ও প্রত্যাশিত সুস্থ জীবনযাপনের গড় সময়ে মধ্যে প্রায় সাড়ে ১০ বছরের ব্যবধান রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি মানুষ জীবনের শেষ সাড়ে ১০ বছর টানা অসুস্থ থাকবেন। বরং সামগ্রিক জনসংখ্যাগত হিসাবে রোগবালাই বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে সুস্বাস্থ্যে না কাটানো সময়কে সমন্বয় করে প্রত্যাশিত সুস্থ জীবনযাপনের গড় সময় নির্ধারণ করা হয়।</p><p>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেটা, ডিজিটাল হেলথ, অ্যানালিটিকস অ্যান্ড এআই বিভাগের পরিচালক অ্যালেইন ল্যাবরিকের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের দীর্ঘায়ু জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় এক অর্জন। তবে বর্তমান সময়ের মূল চ্যালেঞ্জ হলো এই বাড়তি বছরগুলো যেন মানুষ সুস্থতার সঙ্গে কাটাতে পারে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা যেন প্রবীণ ও পরিবর্তনশীল জনসংখ্যার চিকিৎসাচাহিদা মেটাতে পারে।</p><h3>বিশ্বজুড়ে ৭৪ শতাংশ মৃত্যু অসংক্রামক রোগে </h3><p>প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর ধরনে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটেছে। ২০০০ সালে বিশ্বে মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল অসংক্রামক রোগ। ২০২৩ সালে সেই হার বেড়ে হয়েছে ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ২০২৩ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি মৃত্যুর কারণের আটটিই ছিল অসংক্রামক রোগ।</p><p>ওই বছর বিশ্বে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১০টি কারণেই প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, যা মোট মৃত্যুর ৫৪ শতাংশ। আর এই শীর্ষ ১০ কারণে হওয়া মৃত্যুর ৮৮ শতাংশই ঘটেছে অসংক্রামক রোগের কারণে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/cx9zdjpdm5">বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ ১০টি, শীর্ষে হৃদ্‌রোগ</a></aside><h3>বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি </h3><p>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ডব্লিউএইচও। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বে রোগবালাই বা শারীরিক অক্ষমতার হার বিষণ্নতার ক্ষেত্রে প্রায় ২০ শতাংশ এবং উদ্বেগজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। </p><p>২০২৩ সালে বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত সমস্যা মিলিয়ে অকালমৃত্যু ও অক্ষমতার কারণে বিশ্বে আনুমানিক ১১ কোটি বছরের সুস্থ আয়ু হারিয়েছে মানুষ।</p><p>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, করোনা মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে মানুষের প্রত্যাশিত আয়ু প্রায় আগের পর্যায়ে ফিরলেও রোগের বিস্তার দ্রুত বদলাচ্ছে। সংক্রামক ব্যাধির চেয়ে অসংক্রামক রোগ, ডায়াবেটিস, ডিমেনশিয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুস্থতার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এখন বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা ও অন্যান্য খবর
এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা ও অন্যান্য খবর

ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি খাতের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত ও দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলাবে: অর্থমন্ত্রী
এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলাবে: অর্থমন্ত্রী

<p>দেশের পুঁজিবাজারের চেহারা এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে। এরই মধ্যে বাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে দেশে–বিদেশে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। যদি কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে এবং পরিস্থিতি একরকম থাকে, তবে এক বছরের মধ্যে বাজারে পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।</p><p> বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আজ রোববার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান।</p><p>প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পুঁজিবাজারের আকার এখনো ছোট। এই বাজারের পরিসর বড় করতে হবে এবং সে জন্য ভালো কোম্পানি, সুশাসন ও স্বনিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। ভালো কোম্পানি ও সুশাসনে বিশ্বাসী প্রতিষ্ঠানগুলো এমন বাজারে আসবে না, যেখানে স্বচ্ছতা ও আস্থার ঘাটতি রয়েছে। যারা ভালো কোম্পানি, যারা সুশাসনে বিশ্বাস করে, তারা ক্যাসিনো (জুয়ার) বাজারের অংশ হবে না। তাই বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরিতে সবাইকে মিলে তৈরি করতে হবে।’</p><p>বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, সম্প্রতি নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে গিয়ে তিনি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিটের এক অনুষ্ঠানে ১৬টি কোম্পানি ছিল এবং সেগুলোর সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বিষয়ে অনেক তথ্য রাখেন। দেশের নেতৃত্ব, সরকারের ঘোষিত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বাজারে স্বচ্ছতা এবং পেশাদারত্ব নিয়ে তাঁদের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁদের অনেকেই বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করছেন।</p><p>বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামো পরিবর্তন হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থের ওপর নির্ভর করে দেশ পরিচালনার দিন শেষ করতে হবে। নিউইয়র্কে ডলার বন্ড, হংকংয়ে বাংলাদেশভিত্তিক বিনিয়োগ তহবিল, পান্ডা বন্ড, সামুরাই বন্ড এবং স্থানীয় মুদ্রার বন্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিপির টাকা দেবে আর আমরা দেশ চালাব, সেই দিন শেষ। আমরা দেশের আর্থিক কাঠামো পরিবর্তন করছি।’</p><p>২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে যেতে হলে আন্তর্জাতিক ঋণ ও সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় অর্থের বড় অংশ নিজস্ব ও আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করতে হবে। পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের দায়িত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পালন করতে হবে।</p><p>সভাপতির বক্তব্যে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পেনশন ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ফান্ড ও বিমা কোম্পানিগুলোর অর্থের একটি অংশ যাতে পুঁজিবাজারের করপোরেট বন্ড ও শেয়ারে বিনিয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে ভবিষ্যতে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিমা খাতকে দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকা এ খাতকে পুঁজিবাজারে আরও সক্রিয় করতে হবে।</p><p>ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা। পুঁজিবাজার অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অদক্ষতার মধ্য দিয়ে গেছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে যত ধরনের সংস্কারই করা হোক না কেন, সেগুলো সফল করার মূল শর্ত হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দিতে হবে।’</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
‘ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়ে বাবার কষ্ট কমাতে চাই’
‘ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়ে বাবার কষ্ট কমাতে চাই’

বৃষ্টিভেজা সকালে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে শিল্পকলা একাডেমি চত্বর। শিক্ষার্থীরা প্রথম আলো এক্সপেরিয়েন্স জোনের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেয়। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল আয়োজন শুরু হয়।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
১১–দলীয় ঐক্যের খুলনার লংমার্চ শুরু হবে বায়তুল মোকাররম থেকে
১১–দলীয় ঐক্যের খুলনার লংমার্চ শুরু হবে বায়তুল মোকাররম থেকে

বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ
কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে

অক্টোবর ৪, ২০২৬
রাজনীতিকদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
রাজনীতিকদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?

দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ আয়োজনে কথা বলেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকেরা

অক্টোবর ৪, ২০২৬
স্বৈরাচারের পতন হলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি: মতিউর রহমান
স্বৈরাচারের পতন হলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি: মতিউর রহমান

<p>গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন হলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র ধর্মঘটে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৬৪ বছর পরও তাঁকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য দাবি জানাতে হচ্ছে। বিএনপি সরকারের প্রতি গণমাধ্যম সংস্কারের জরুরি কাজ এখনই শুরুর আহ্বান জানান তিনি।</p><p> আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের দ্বিতীয় দিনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিষয়ক নির্ধারিত বক্তৃতায় মতিউর রহমান এ আহ্বান জানান।</p><p> গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। আগামীকাল সোমবার সম্মেলনটি শেষ হচ্ছে।</p><p> বক্তৃতার শুরুতেই মতিউর রহমান ১৯৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি তুলে ধরেন। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম ছাত্র ধর্মঘট ও বিক্ষোভ হয়েছিল। বিভিন্ন দাবির মধ্যে ছিল কথা বলার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘সেই বিক্ষোভে আমি নিজেও অংশ নিয়েছিলাম। এরপর বহু আন্দোলনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও মূল বিষয়গুলো একই জায়গায় থেমে আছে। দুঃখ হলো সে দাবিতে এখনো আমাদের কথা বলতে হয়।’</p><h3>অন্তর্বর্তী সরকারের পর্ব </h3><p>২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসকের পতনকে অবিশ্বাস্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন মতিউর রহমান। তবে প্রায় ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকার দেশবাসীকে অনেকটা হতাশ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের কিছু উদ্যোগ বেশি দূর এগোয়নি, কোনো কোনো কমিশনের প্রস্তাব আলোর মুখই দেখেনি।</p><p>তখন গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন ছিল উল্লেখ করে প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ওই সময় নানা চাপ ও ভয়ের মুখে অনেক সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মালিকানা বদলেছে, অনেক সম্পাদকের জায়গায় নতুন কেউ এসেছেন, আর অনেক সাংবাদিককে কাজ ছাড়তে হয়েছে।</p><p>প্রথম আলোর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মতিউর রহমান বলেন, পুরো সময় ভয়ের পরিবেশে কাজ করতে হয়েছে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপ ও হুমকি ছিল। দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশ থেকে বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার চালানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আলোর অফিসের সামনে প্রায় সাত দিন বিক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রায় সারা রাত প্রথম আলো কার্যালয়ে আগুন জ্বলেছে, লুটপাট হয়েছে।</p><p>তাঁর অভিযোগ, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সময়মতো ও যথেষ্ট শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেনি। দায়িত্বশীলরা তাদের সরাসরি কঠোর নির্দেশ দেননি। এরপর ডেইলি স্টারের কার্যালয়ও অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়।</p><p>অন্তর্বর্তী সরকার একটি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। ওই কমিশনের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবে সাংবাদিক, সম্পাদক ও পরিচালকদের মধ্যে ইতিবাচক ঐকমত্য হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়নে ‘সামান্যতম’ উদ্যোগও নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।</p><h3>শেখ হাসিনার আমলের স্মৃতি </h3><p>শেখ হাসিনার শাসনকালে স্বাধীন সাংবাদিকতার সুযোগ ভীষণ সংকুচিত ছিল উল্লেখ করে মতিউর রহমান বলেন, সাংবাদিক ও সম্পাদকদের জেলে যেতে হয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রথম আলোর প্রচারসংখ্যা কমানোর চেষ্টা হয়েছে, সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৫০টি দেশি-বিদেশি বড় কোম্পানির বিজ্ঞাপনও বন্ধ করা হয়েছিল। প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৮০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/lx8oj04c/Motiur-Rahman-02.jpeg"><figcaption>বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের দ্বিতীয় দিনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিষয়ক নির্ধারিত বক্তৃতা দেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে </figcaption></figure><p>প্রথম আলো সম্পাদক জানান, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রথম আলোর মালিকানা ছেড়ে দিতে কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছিল। এর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল সম্পাদককে সরানো এবং মালিকানা একটি অর্থ পাচারকারী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া। এসব শেখ হাসিনার নির্দেশেই হয়েছিল।</p><h3>বিএনপির আগের দুই আমল ও বর্তমান প্রত্যাশা </h3><p>২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি ভালো নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রায় ১৯ বছর পর বিএনপি আবার ক্ষমতায় এসেছে। সেটা উল্লেখ করে মতিউর রহমান বলেন, ১৯৯১–’৯৬ ও ২০০১–’০৬ সালে বিএনপির দুই আমলে তিনি প্রথমে ভোরের কাগজ ও পরে প্রথম আলোর সম্পাদক ছিলেন। তখন সরকারের অনেক নীতির কঠোর সমালোচনা করেও কোনো হয়রানি বা আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হয়নি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে তর্কও হয়েছে, কিন্তু সে জন্য শাস্তি পেতে হয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তখন তর্ক হয়েছে।</p><p>অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বিএনপি সরকারের কাছে প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফার ১১ নম্বর দফায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে মিডিয়া কমিশন গঠনের কথা আছে। নির্বাচনী ইশতেহারেও নির্ভীক সাংবাদিকতার সুরক্ষা এবং সাংবাদিক নির্যাতনবিরোধী বিশেষ সেল গঠনের মতো প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনাও হয়েছে বলে জানান তিনি।</p><h3>নইলে আমরা পিছিয়ে পড়ব </h3><p>মতিউর রহমান বলেন, প্রতিশ্রুতির পর এখনো সংস্কারে তেমন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। মিডিয়া কমিশন গঠন নিয়ে একটি মতবিনিময় বৈঠকের পর আর কিছু শোনা যায়নি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ও পুরোনো বিল পরিশোধেও অগ্রগতি নেই।</p><p>মতিউর রহমান বলেন, কিছু পত্রিকা ও টেলিভিশনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ও পরিবর্তনের কথা শোনা গেছে। কোনো কোনো সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অনিশ্চয়তা ও চাপের কথা বলছেন, সংবাদ ও মতামত প্রকাশে অনেক ক্ষেত্রে স্বনিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কিছু প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বক্তব্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।</p><p>সরকার মাত্র সাত মাস পার করেছে এবং হাতে অনেক সময় আছে, এ কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘দল ও সরকারকে এখনই সংবাদপত্র ও সম্প্রচারমাধ্যম বিষয়ের জরুরি কাজগুলো শুরু করতে হবে। নইলে আমরা পিছিয়ে পড়ব।’</p><p>মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার সেই ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬২ সালের কথা বারবার মনে পড়ে যায়। সেদিন আমরা দাবি তুলেছিলাম, কথা বলার অধিকার দিতে হবে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিতে হবে। নানা আন্দোলন ও সংগ্রামের মুখে বারবার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টে যাচ্ছে, কিন্তু মূল বিষয়গুলো আগের জায়গাতেই স্থবির হয়ে আছে। দুঃখ হলো সে দাবিতে এখনো আমাদের কথা বলতে হয়। দাবি জানাতে হয়।’</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
যারা মুক্তিযোদ্ধাকে কাঠগড়ায় ওঠায়, তাদের কাছে কোনো ইনসাফ নাই: জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার
যারা মুক্তিযোদ্ধাকে কাঠগড়ায় ওঠায়, তাদের কাছে কোনো ইনসাফ নাই: জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার

<p>যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আদালতের কাঠগড়ায় ওঠায়, তাদের কাছে কোনো ইনসাফ নাই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।</p><p> জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘দুর্নীতি, চুরির সঙ্গে যারা জড়িত, মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যারা আদালতের কাঠগড়া ওঠায়, এদের কাছে কোনো ইনসাফ নাই, এদের কাছে জুলুম আছে।’</p><p> আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথাগুলো বলেন। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও তাঁকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। </p><p>সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী জায়গায় যাঁরা আছেন, তাঁদের নির্দেশনা ছাড়া মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ওপর এত বড় জুলুম হতে পারে না। বিএনপি ত্যাগ করায় আখতারুজ্জামানের প্রতি যে আক্রোশ ছিল, তাঁকে লাঞ্ছিত করার একটা সুযোগ পেয়েই তারা মামলা দিয়ে দিল। কিন্তু বিমানবন্দরের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।</p><p>সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক ইঙ্গিতে এই মামলা করানো হয়েছে দাবি করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে বরখাস্ত করে কোনো রকম পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় না। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া, শোকজ করা, তাঁদের ব্যাপারে আইনগত বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া এগুলো মন্ত্রীর কর্তব্য ছিল। কিন্তু তিনি কোনো কর্তব্য পালন করেননি।</p><p>যারা দুর্ধর্ষ আসামি, খুনি–ডাকাত, শুধু তাদের ডান্ডাবেড়ি, হ্যান্ডকাফ, হেলমেট এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো হয় উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান খুনি, ডাকাত নন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতির শ্রেষ্ঠ সম্মান পাওয়ার যোগ্য। তাঁর হাতে হ্যান্ডকাফ, মাথায় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে। আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া, ডিভিশন আদেশ না দেওয়া—সবকিছুর পেছনে রাজনৈতিক অশুভ হস্তক্ষেপ আছে।’</p><p>রোববার আদালতে আখতারুজ্জামানের শুনানি ঘিরে বিএনপির আইনজীবীরা ‘মব’ করেছেন বলে অভিযোগ করেন জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘বিএনপির আইনজীবীরা মব সৃষ্টি করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। আইনজীবীরা হাতাহাতি করেছে। আদালতে উপস্থিত জামায়াতের আইনজীবীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আওয়ামী যুগে আদালতে যে ঘটনা ঘটানো হতো এখন তারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।’</p><blockquote>সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা এটার তীব্র নিন্দা করি। নিন্দা করতে করতে নিন্দা শব্দের ওজন কমে যাচ্ছে।…যে সরকার ছয় মাসে তিনবার তেলের দাম বাড়ায়, বিদ্যুতের দাম বাড়ায়, এখন নিন্দা না, এটার জন্য ঘৃণা প্রকাশ করি আমরা। অবিলম্বে এই গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন। আপনারা কিন্তু জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন, সরকারকে আমরা জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিতে বলব।’</blockquote><p>আখতারুজ্জামানকে মুক্তি না দিলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ প্রভাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারের এগুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত। সবকিছুর মধ্যে রাজনীতি খোঁজা উচিত নয়। কার ব্যর্থতায় ভুলে ট্রলি পাওয়া গেল না, জমজমের পানি খুঁজে পাওয়া গেল না, তিন–চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হলো—সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হোক এবং তাদের ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।</p><p>সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা এটার তীব্র নিন্দা করি। নিন্দা করতে করতে নিন্দা শব্দের ওজন কমে যাচ্ছে।…যে সরকার ছয় মাসে তিনবার তেলের দাম বাড়ায়, বিদ্যুতের দাম বাড়ায়, এখন নিন্দা না, এটার জন্য ঘৃণা প্রকাশ করি আমরা। অবিলম্বে এই গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন। আপনারা কিন্তু জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন, সরকারকে আমরা জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিতে বলব।’</p><p>গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘সিন্ডিকেট ব্যবসা করে টাকাপয়সার অভাব তো, নেতা, মন্ত্রীর ছেলেমেয়ে, আত্মীয়স্বজন, দোস্ত, বন্ধু সবার পকেটে টাকা যাবে। কোথায় দাম বাড়াবে, কোথায় মেগা প্রজেক্ট দেবে, নানা কায়দায় ইনকামের একটা ব্যবস্থা। এটা আয় উপার্জনের একটা হাট বানানো হয়েছে, পলিটিক্যাল হাট। সেই হাটের ভাগ–বাঁটোয়ারা হইতেছে।’</p><p>সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন