bangladesh

এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা ও অন্যান্য খবর

অক্টোবর ৪, ২০২৬
এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা ও অন্যান্য খবর
এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা ও অন্যান্য খবর
ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি খাতের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত ও দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে।

Prothomalo

View more
মজুরি বোর্ড না হওয়ায় পোশাকশ্রমিকেরা উদ্বিগ্ন, শ্রমমন্ত্রীকে আইবিসির স্মারকলিপি
মজুরি বোর্ড না হওয়ায় পোশাকশ্রমিকেরা উদ্বিগ্ন, শ্রমমন্ত্রীকে আইবিসির স্মারকলিপি

<p>তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক–কর্মচারীদের মজুরি বাড়াতে ১০ অক্টোবরের মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। আজ রোববার শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে আইবিসি এ দাবি জানায়।</p><p> আইবিসি বলেছে, বর্তমান সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করেছে। পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যা পরের মাসে কার্যকর হয়। এর তিন বছর পূর্ণ হবে আগামী নভেম্বরে। নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর করার সময় ঘনিয়ে এলেও সরকার মজুরি বোর্ড গঠনে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ পর্যন্ত মজুরি বোর্ড গঠিত না হওয়ায় পোশাকশ্রমিকেরা উদ্বিগ্ন।</p><p>আজ রোববার শ্রমমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়ার আগে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আইবিসি সমাবেশ করে। জোটটির সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিরুল হক আমিন, সহসভাপতি চায়না রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা কুতুব উদ্দিন আহমেদ, রুহুল আমিন, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।</p><p>স্মারকলিপিতে আইবিসি বলেছে, সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা করেছে। এতে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বেড়েছে। সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ২০ হাজার ১০০ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বেতন স্কেল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দাম বাড়তে শুরু করেছে। যে কারণে নিম্ন আয়ের তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা অনেকটাই দিশেহারা।</p><p>আইবিসি আরও বলেছে, একই বাজারে উচ্চ, মধ্য বা নিম্ন আয়ের মানুষেরা কেনাকাটা করেন। একদিকে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে, অপর দিকে নিম্ন আয়ের মানুষের বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় প্রচণ্ড বেতনবৈষম্য তৈরি হয়েছে। সে কারণে সরকারি কর্মচারীদের পে স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পের শ্রমিকের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।</p><p>আইবিসি মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে গত ৪ আগস্ট শ্রম মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় মজুরি বোর্ড গঠনে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে আইবিসি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানায়। সেটিও না হওয়ায় আইবিসি তাদের স্মারকলিপিতে হতাশা প্রকাশ করে।</p><p>২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা হয়। এ ক্ষেত্রে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই মজুরিকাঠামোতে সাতটি গ্রেডের বদলে পাঁচটি গ্রেড করা হয়।</p><p>প্রসঙ্গত, বিশ্বের ১৩০টি দেশে শ্রম অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়ন। এই জোটে অন্তর্ভুক্ত ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ৫৫০। বাংলাদেশে ১৯টি শ্রমিক ফেডারেশন আইবিসির অন্তর্ভুক্ত। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, ফেডারেশন অব ওয়ার্কার্স সলিডারিটি, গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ইত্যাদি।</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
আয়নাবাজি: দক্ষিণ কোরিয়ায় থেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ, পরে ধরা পড়ল জালিয়াতি
আয়নাবাজি: দক্ষিণ কোরিয়ায় থেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ, পরে ধরা পড়ল জালিয়াতি

<p>দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছিলেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বরুইতলা সেনহাটির বাসিন্দা ফিরোজ আলম শাওন। অথচ আদালতের নথিতে দেখা গেল, তিনি মারামারির মামলায় আত্মসমর্পণ করে দেশে জামিন নিয়েছেন। পরে জানা গেল, শাওন আদালতে যাননি; তাঁর বদলে হাজির করা হয়েছিলেন অন্য একজনকে। কয়েক মাস পর বিষয়টি আদালতের নজরে এলে বেরিয়ে আসে জামিন জালিয়াতির ঘটনা।</p><p> ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রের মূল চরিত্র শরাফত করিম আয়না (চঞ্চল চৌধুরী) টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে জেল খাটেন। তবে এ ঘটনা হুবহু সে রকম না হলেও অন্য একজনকে শাওন সাজিয়ে জামিন নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটিকে অনেকটা জামিন নিতে আদালতে আয়নাবাজি বলা চলে।</p><p>এ ঘটনায় গত ৬ আগস্ট খুলনা সদর থানায় মামলা হয়। মামলায় অন্যের পরিচয়ে প্রতারণা এবং জাল কাগজপত্র আসল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। এতে শাওনকে প্রধান আসামি, তাঁর আইনজীবী সরদার শাহজাহান আলীকে দ্বিতীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। এর মধ্যে গতকাল শনিবার রাতে শাওনের ভাই ফেরদৌস আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি এজাহারভুক্ত আসামি নন। আজ রোববার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।</p><p>পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ রাতে দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি বরুইতলা ঘাট এলাকায় প্রতিবেশী মুন্সি তরিকুল আমিনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ফিরোজ আলম শাওন ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তরিকুল বাদী হয়ে শাওনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে দিঘলিয়া থানা।</p><p>মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দিঘলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিল হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে শুধু ফিরোজ আলম শাওনকে অভিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে খুলনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।</p><p>মামলার বাদী তরিকুল আমিনের আইনজীবী আজমল হোসেন বলেন, আদালত মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করলে তাঁরা জানতে পারেন, গত ১৬ মার্চ শাওন জামিন নিয়েছেন। তখন বাদী তরিকুল আদালতকে জানান, শাওন দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় রয়েছেন এবং এর মধ্যে দেশে আসেননি।</p><p>গত ২৩ এপ্রিল তরিকুল আদালতে আবেদন করে জানান, শাওন দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করেও অন্য একজনকে শাওন সাজিয়ে আদালতে হাজির করে জামিন নিয়েছেন। এরপর ২৭ এপ্রিল আসামিপক্ষের আইনজীবী সরদার শাহজাহান আলীও আদালতে আবেদন করেন। সেখানে তিনি জানান, বাদী আদালতে বলেছেন, শাওনের বদলে অন্য একজনকে আদালতে হাজির করে জামিন নেওয়া হয়েছে। তিনি আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাই তাঁর ওকালতনামা ও জামিননামার ক্ষমতা প্রত্যাহারের আবেদন করছেন। এরপর শাওনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়না ইস্যু হয়।</p><p>গত ৭ জুলাই শাওনের পক্ষে অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে নতুন ওকালতনামা দিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের সঙ্গে তাঁর পাসপোর্টের ফটোকপিও দাখিল করা হয়। পাসপোর্টের তথ্য থেকে আদালতের কাছে স্পষ্ট হয়, ১৬ মার্চ জামিন নেওয়ার সময় শাওন দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছিলেন।</p><p>এদিকে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চতুর্থ আদালতের বিচারক ফাতেমা জান্নাত বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। অনুসন্ধানে জামিন জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে গত ২২ জুলাই খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিবেদন দেন তিনি।</p><p>প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়, এ ঘটনার সঙ্গে আইনজীবী, আদালতের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। ভুল ব্যক্তিকে উপস্থাপন করে প্রতারণা, নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং জাল কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপনের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।</p><p>এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ আগস্ট আদালত প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। ৬ আগস্ট সদর থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়।</p><p>মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই মেহেদী হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলার মূল আসামি শাওন দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করেন। জানতে পেরেছি, গত বছর তিনি দেশে এসে ঝামেলায় জড়ান। মামলা হওয়ার পর আবার দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে যান। হয়তো মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ভুয়া ব্যক্তিকে শাওন হিসেবে আদালতে হাজির করে জামিন নেওয়া হয়েছিল। এটা অবশ্য মারামারির মামলার অংশ, তাই আর মন্তব্য করব না।’</p><p>এসআই মেহেদী হাসান আরও বলেন, এ ঘটনায় সদর থানায় হওয়া মামলার তদন্তে শাওনের ভাই ফেরদৌস আলমের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামি আইনজীবী সরদার শাহজাহান আলী আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
মহেশখালী চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু তুলতে বাধা নেই
মহেশখালী চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু তুলতে বাধা নেই

মহেশখালী চ্যানেলের ভারুয়াখালী ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন থেকে বিরত রাখতে চার মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের হামলায় চার সাংবাদিকসহ আহত ১০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের হামলায় চার সাংবাদিকসহ আহত ১০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে চার সাংবাদিক অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
বছরের সেরা অ্যামিউজমেন্ট পার্কের স্বীকৃতি পেল ফ্যান্টাসি কিংডম
বছরের সেরা অ্যামিউজমেন্ট পার্কের স্বীকৃতি পেল ফ্যান্টাসি কিংডম

‘বছরের সেরা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক’ বিভাগে বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেয়েছে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম কমপ্লেক্স। পর্যটনমন্ত্রী কনকর্ড প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
তৃণমূল ছেড়ে এবার বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার প্রার্থী কোয়েল মল্লিক
তৃণমূল ছেড়ে এবার বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার প্রার্থী কোয়েল মল্লিক

<p>পশ্চিমবঙ্গের শূন্য আসনে আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে প্রার্থী করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তিনি কলকাতার প্রখ্যাত অভিনেতা রঞ্জিৎ মল্লিকের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে রঞ্জিৎ মল্লিকের পরিবার নিজেদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।</p><p> এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গের চারটি শূন্য আসনে তৃণমূল কংগ্রেস চারজনকে প্রার্থী করে। তাঁরা হলেন পুলিশের সাবেক আইজি রাজীব কুমার, সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। মার্চ মাসের নির্বাচনে এই চার প্রার্থীই জয়ী হন।</p><p>গত ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন কোয়েল মল্লিক। তবে কোনো অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলে ভাঙন শুরু হয় এবং তৈরি হয় নানা উপদল।</p><p>সেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার তিন সদস্য সুখেন্দু শেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব দল থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তাঁরা তিনজনই বিজেপির টিকিটে আবার রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।</p><p>ওই সময় কোয়েল মল্লিক কিছুটা দোটানায় ছিলেন। অবশেষে গত ১৬ জুলাই তিনি দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। তখন থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয় যে কোয়েল মল্লিকও বিজেপির পথেই হাঁটবেন। তখন সরাসরি যোগ না দিলেও সবার ধারণা ছিল, তিনি দ্রুতই বিজেপিতে যোগ দেবেন।</p><p>আজ সেই জল্পনার অবসান হলো। বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের শূন্য আসনে কোয়েল মল্লিককে প্রার্থী করা হয়েছে। ১৬ অক্টোবর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে ৬ অক্টোবর।</p><p>এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল ছেড়ে শেষ পর্যন্ত বিজেপিতেই ঠাঁই নিলেন কোয়েল মল্লিক। এদিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা, বিধায়ক ও দলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কোয়েল মল্লিককে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেন, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালোবেসে কোয়েলকে ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য করেছিলেন।</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
জুলাইয়ের এক মামলায় সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো
জুলাইয়ের এক মামলায় সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো

<p>জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় পোশাককর্মী রুবেলকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।</p><p> মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান গত ২৯ সেপ্টেম্বর আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ রোববার দিন রাখেন।</p><p>ওই আবেদনে বলা হয়, তদন্তে প্রাপ্ত সন্দিগ্ধ আসামি কাজী হাবিবুল আউয়াল বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে ২০২২ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সাল ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজী হাবিবুলসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বে মামলার এজাহারনামীয় গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের সঙ্গে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে সহায়তাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনসহ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনকে কলুষিত করেন। মামলার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের নিমিত্তে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।</p><p>এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে শুনানিতে বলেন, আসামি চাকরি জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এটি একটি হত্যা মামলা। এই ঘটনার সময় তিনি চাকরিরত অবস্থায় ছিলেন। কোথাও বের হতে হলে তাঁকে সর্বদাই পুলিশ ঘিরে রাখত। এই প্রটোকলের মধ্যে থেকে তাঁর এই ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করা মোটেই সম্ভব নয়। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখানোর জন্য প্রার্থনা করছেন।</p><p>এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লুটপাট করেছেন এই আসামি। শেখ হাসিনা তাঁকে দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। শেখ হাসিনার অবৈধ ভোটকে বৈধতা দিয়েছেন এই আসামি। শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালানোর আগে তাঁর নেতা–কর্মীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে মিটিংয়ে বসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে এই আসামিও একজন। কীভাবে এই আন্দোলনকে দমানো যায়, তার নির্দেশনাও দিয়েছেন এই আসামি। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।</p><p>মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েক শ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানার রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ, মৎসজীবী লীগের নেতা–কর্মীরা গুলি চালান। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় একই বছরের ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।</p><p>২০২৫ সালের ২৫ জুন রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল
৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল

<p>অবৈধ অভিবাসন ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন বহাল রয়েছে। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ রোববার এ আদেশ দেন।</p><p> নিউ এজ ইন্টারন্যাশনালসহ কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত করেন। এ আদেশ স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদনটি চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ওঠে।</p><p> আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।</p><p>পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল হচ্ছে মালয়েশিয়া।…দেশের মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে নির্ধারিত ফিসের বাইরেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এক কাজের কথা বলে অন্য কাজ, ভুয়া ভিসা দেওয়া—এ ধরনের নানা রকম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার একেবারে ধসে পড়েছিল।…যারা এই অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে সেই মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।’</p><p>বর্তমান সরকার আসার পর ১৯ জুলাই এক আদেশে (প্রজ্ঞাপন) যেসব রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ আছে এবং যেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে—এটা বিবেচনায় রেখে আইন অনুযায়ী ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করে বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে একটি এজেন্সি রিট করলে ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে রুল এবং ওই আদেশের (প্রজ্ঞাপন) কার্যকারিতা স্থগিত হয়। অর্থাৎ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহারে সরকারের সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যায়। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হলে চেম্বার আদালত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।</p><p>পরবর্তীকালে আরও ১১টি এজেন্সি আরেকটি রিট করে অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে আদেশ (স্থগিতাদেশ) নিয়েছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, এর বিরুদ্ধে দ্রুততার সঙ্গে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। অর্থাৎ ১৯ জুলাই সরকারের পক্ষ থেকে যে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সরকারের সেই আদেশ বহাল থাকল।</p><p>এর আগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে গত ১৯ জুলাই জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্সের শর্ত অনুসারে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন-২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন-২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আছে। তবে লাইসেন্স বাতিল করা এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা গৃহীত হয়েছে। এ কারণে অভিবাসী আইন অনুসারে লাইসেন্সগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।</p><p>লাইসেন্স প্রত্যাহার হওয়া এজেন্সির মধ্যে আছে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী ও মেয়ের মালিকানাধীন দুটি এজেন্সি অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল। ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল।</p><p>আরও আছে জনশক্তি খাতের আলোচিত ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড এবং মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য রুহুল আমিন ওরফে স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল।</p><p>আরও যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মেসার্স শাহীন ট্রাভেলস, আরভিং এন্টারপ্রাইজ, হৃদয় ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত ইন্টারন্যাশনাল, ৪ সাইট ইন্টারন্যাশনাল, বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশভ্রমণ লিমিটেড, কিউ কে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড, জিএমজি ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, দামাশি করপোরেশন লিমিটেড, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, মানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএম ট্রাভেলস, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জেজি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইমপিরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পি আর ওভারসিজ লিমিটেড, এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড ও অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি।</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
এনবিআরের কর–সংশ্লিষ্টদের পরিবারেরও সম্পদের হিসাব বিবরণী ঘোষণার সুপারিশ
এনবিআরের কর–সংশ্লিষ্টদের পরিবারেরও সম্পদের হিসাব বিবরণী ঘোষণার সুপারিশ

<p>জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর–সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হিসাব ও সম্পদের বিবরণী ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে বলেছে।</p><p>গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ওই সুপারিশ করা হয়। সেদিনের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এ সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আজ রোববার অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে কার্যবিবরণীটি অনুমোদন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।</p><p>২৩ আগস্টের বৈঠকে সরকারের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম, কর-জিডিপি অনুপাত, এনবিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায়, ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. সাইফুল আলম এনবিআরের চেয়ারম্যান, কর–সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব ও সম্পদ বিবরণী ঘোষণার বিষয়টি আলোচনায় আনেন। কর ফাঁকি রোধ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলেন তিনি। আলোচনা শেষে এ বিষয়ে সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন