<p>গান, ছড়াপাঠ, অশ্রুভেজা স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে শিশুসাহিত্যিক, গীতিকার, সাংবাদিক ও শিশু সংগঠক আখতার হুসেনকে স্মরণ করলেন খেলাঘর আসরের প্রবীণ–নবীনেরা। শুক্রবার ছুটির দিনের বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের খেলাঘর কার্যালয়ে আয়োজিত শোকসভায় তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কেউ কেউ।</p><p> খেলাঘর আয়োজিত শোকসভায় আলোচকদের কথায় উঠে এল—খেলাঘরের দলীয় সংগীতের গীতিকার, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালের অন্যতম সদস্য আখতার হুসেন প্রয়াত হয়েছেন, তবে তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর গানে, ছড়ায়। বেঁচে থাকবেন নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য তাঁর নিবেদিতপ্রাণ প্রচেষ্টায়। আখতার হুসেন গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৮১ বছর বয়সে প্রয়াত হন। </p><p> আখতার হুসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শোকসভার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর খেলাঘরের সাথিরা মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে পরিবেশন করে দুটি গান। প্রথমটি ছিল রবীন্দ্রসংগীত ‘তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম’। পরের গানটি আখতার হুসেনের লেখা, ‘আমরা তো সৈনিক শান্তির সৈনিক, অক্ষয় উজ্জ্বল সূর্য’। এই গান খেলাঘরের দলীয় সংগীত।</p><p>খেলাঘরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে শোকসভা শুরু হয়েছিল কেন্দ্রীয় সম্পাদক ফারুক মহসীনের সঞ্চালনায়। আলোচকেরা সবাই দীর্ঘ দিন আখতার হুসেনের সঙ্গে খেলাঘরে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। তাঁদের অনেক স্মৃতি রয়েছে তাঁকে নিয়ে। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে শোকাভিভূত ছিলেন সবাই। স্মৃতিচারণা করতে এসে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি তাঁদের কেউ কেউ। বাষ্পরুদ্ধ হয়েছে কারও কারও কণ্ঠ।</p><p>আখতার হুসেনের সাহিত্য, তাঁর আদর্শ, সাংগঠনিক দক্ষতা থেকে ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছিল আলোচকদের কথামালায়। মাঝেমধে৵ ছিল তাঁর ছড়া পাঠ ও গানের পরিবেশনা। খেলাঘরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখতার হুসেনের একটি অজানা দিকের কথা তুলে ধরেন। সেটি হলো গোপনে তিনি অনেক দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার জন্য আর্থিক সহায়তা দিতেন। বাংলা একাডেমির পুরস্কারের অর্থ তিনি নারায়ণগঞ্জের এক দরিদ্র পরিবারের কন্যাশিশুর পড়াশোনার জন্য ব্যয় করেছিলেন। নিজের সামর্থ্য না কুলালে কাছের মানুষদের কাছে হাত পাততেন দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পড়ালেখার খরচে সহায়তা করার জন্য।</p><p>খেলাঘরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা সুলতান স্মৃতিচারণা করেন আখতার হুসেনের লেখা গানের। সংগঠনের সম্মেলনে, বিভিন্ন বিশেষ দিন উপলক্ষে তিনি নতুন নতুন গান বা ছাড়া লিখতেন। এসব গান ও ছড়ার মধ্য দিয়েই খেলাঘরের লক্ষ্য আদর্শ খুব সুন্দরভাবে প্রকাশিত হতো। তিনি আখতার হুসেনের এসব গান সংগ্রহ করে স্বরলিপিসহ সংরক্ষণ ও ব্যাপক প্রসারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।</p><p>বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খেলাঘর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আলী ইদ্রিস বলেন, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে খেলাঘর সংগঠনটি দেশের অন্যতম প্রধান একটি শিশু-কিশোর সংগঠনে পরিণত হয়েছিল, আখতার হুসেন ছিলেন তাঁদের অন্যতম। গীতিকার, ছড়াকার বা শিশুসাহিত্যিক হিসেবে তিনি যে অবদান রেখেছেন, তা আলোচনায় আসে। তবে শিশু সংগঠক হিসেবে যে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন, সেটি তেমনভাবে আলোচিত হয় না।</p><p>খেলাঘরের বর্তমান দ্বিধাবিভক্ত অবস্থায় আখতার হুসেন খুব কষ্ট পেয়েছেন জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজ বলেন, আখতার হুসেন ঐক্যের চেষ্টা করেছেন। শিশুদের জন্য নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আবার তাঁর প্রিয় খেলাঘরকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার কথা ভাবতেন।</p><p>সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়াত আলী বলেন, খেলাঘরের কর্মীদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল আখতার হুসেনের। এমনকি অনেক সময় অনেক কর্মীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবরও নিয়েছেন।</p><p>আখতার হুসেনের অনেক গানের সুরকার সেলিম রেজা বলেন, আখতার হুসেনকে ভুলে থাকা যায় না। খেলাঘরের কর্মীরাই শুধু নয়, তাদের মা–বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও তিনি খুব সহজে মিশে গিয়ে একটি আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারতেন। এভাবেই তিনি বহু পরিবারের আপনজন হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ‘সেতু গড়ি চলো, সেতু গড়ি’ এবং ‘মেলা লেগেছে মেলা’ গান দুটির সুরারোপের স্মৃতিচারণা করে কিছু অংশ পরিবেশন করেন।</p><p>আলোচনায় আরও অংশ নেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির, রথীন চক্রবর্তী, সদস্য প্রকৌশলী শ্যামল বিশ্বাস প্রমুখ। জীবনী পাঠ করেন তৌহিদ রিপন। ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে’ গানটি পরিবেশন করেন মারুফ হোসেন। ‘ভূগোলে যা নেই’ ছড়া পাঠ করেন শাহিন আক্তার।</p>
শিয়ান গেমসের সেইলিংয়ে কখনো নৌযান ছুটেছে দিগন্তের দিকে, কখনো বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলেছে গতিপথ। সেই লড়াইয়ের কিছু মুহূর্ত দেখুন রয়টার্সের ক্যামেরায়।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে (অব.) মেজর আখতারুজ্জামানকে
<p>সরকারি কাজে কোনো ভুল হলে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনা শুনতে প্রস্তুত। ভুল ধরিয়ে দিলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সমালোচনার নামে মিথ্যা তথ্য বা প্রচারণা না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।</p><p>আজ শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অডিটোরিয়ামে অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে জবাবদিহি নিশ্চিত করে কাজ করার অঙ্গীকারের কথা জানান।</p><p>আবদুল মঈন খান বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের কাজে কোথাও ভুল হলে সেটি তুলে ধরতে হবে। সরকার সেই ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নেবে।</p><p>সরকারের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নত ও সম্মানজনক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত। সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যেতে হবে।</p><p><strong>ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর তাগিদ</strong></p><p>সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ের মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে গড়ে তোলা অবকাঠামো ঠিক রাখতে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য মাঠপর্যায়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক তহবিল ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা দরকার।</p><p>দেশে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধন করে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়াতে হবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।</p><p><strong>বর্জ্য থেকে জ্বালানি</strong></p><p>বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এলাকাভেদে পৃথক পরিকল্পনার কথাও বলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। বড় শহরগুলোতে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ এবং ছোট পৌরসভা ও উপজেলায় কম খরচে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বর্জ্যকে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।</p><p>আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p>নিজস্ব ভিটেবাড়ি না থাকা মিশন আচার্য অবশেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পেতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন আজ শুক্রবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।</p><p>রাশেদ খাঁন বলেন, মিশন আচার্যকে নিয়ে প্রথম আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত সংবাদটি তাঁর ও মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। রাশেদ খাঁনের নিজ এলাকার ছেলে মিশন আচার্য। সংবাদটি দেখামাত্র তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।</p><p>রাশেদ খাঁন বলেন, অনেকে ঠিকানা গোপন করে চাকরি নেন। পরে বিষয়টি নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। এ কারণে চাকরি প্রার্থীদের যাচাই–বাছাই করা হয়ে থাকে। মিশন আচার্যের ক্ষেত্রেও সেটি করতে গিয়ে স্থায়ী ঠিকানার বিষয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।</p><p>ইতিমধ্যে মিশন আচার্যের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি বলেন, মিশন আচার্যকে ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। রোববার তাঁকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ে যাবেন। সেখানে কিছু প্রক্রিয়া শেষে তাঁর নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।</p><p>প্রসঙ্গত, মিশন আচার্য ঝিনাইদহ শহরের ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। মা ময়না আচার্য অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাঁকে পড়ালেখা করিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শেষ করে মিশন আচার্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন।</p><p>পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরির সুপারিশপ্রাপ্ত হন মিশন আচার্য; কিন্তু নিজেদের কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি। তাঁর সঙ্গে যে ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৮০ জন ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁরা যোগদান করেছেন। নিয়োগপত্র না পাওয়ায় মিশন আচার্য যোগদান করতে পারেননি। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে প্রথম আলো।</p><p>মিশন আচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁকে ঢাকায় যেতে বলেছেন। তাঁর চাকরি হবে জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন। চাকরি পাচ্ছেন জেনে খুশি জানিয়ে সংবাদপত্রকে ধন্যবাদ দেন মিশন আচার্য। তিনি বলেন, জীবনের সবচেয়ে বিপদের সময় সংবাদপত্র তাঁর পাশে ছিল।</p><p>মিশন আচার্যের বড় ভাই শৈলেন আচার্য প্রথম আলো পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি অসহায় পরিবারের পাশে থাকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/50zw6o4ta3">মা গৃহপরিচারিকা, থাকেন ভাড়া বাসায়, স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় আটকে গেল শিক্ষক পদে নিয়োগ</a></aside>
সেন্ট গ্রেগরির ঐতিহ্যের গল্প করলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় ও গ্রেগরিয়ান সোসাইটির সহসভাপতি শাকিল কাসেম। ৭৫ বছর বয়সেও যাঁর ‘গ্রেগরিয়ান সত্তা’ এখনো তরতাজা।
ইরান ঘিরে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দিকে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার।
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-02/zsr3x9ey/CHURCH.jpg"><figcaption>মোহাম্মদপুরের সেন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চ থেকে চুরি হওয়ার ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় প্রায় ৭০ কেজি ওজনের পিতলের এই ঘণ্টা। ২ অক্টোবর, ২০২৬</figcaption></figure><p>রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউর সেন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চ থেকে চুরি হওয়ার ২৬ ঘণ্টা পর প্রায় ৭০ কেজি ওজনের একটি পিতলের ঘণ্টা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের একটি ডাস্টবিনের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হয়।</p><p>মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম জানান, আসাদ অ্যাভিনিউয়ে ওয়াসা ভবনের বিপরীতে অবস্থিত সেন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চের দ্বিতীয় তলার খোলা জায়গায় ঘণ্টাটি রাখা ছিল। গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর কোনো এক সময় অজ্ঞাতপরিচয় চোরেরা সেটি নিয়ে যায়। পরদিন ভোর সাড়ে চারটার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে চুরি যাওয়া ঘণ্টা উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নামে।</p><p>ওসি বলেন, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে চোরেরা ঘণ্টাটি রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে গভীর রাতে জাকির হোসেন রোডের ডাস্টবিনের পাশে একটি সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি পাওয়া যায়।</p><p>চুরির আগে রাত ১২টা ৩ মিনিট থেকে গির্জার সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং বন্ধ ছিল জানিয়ে আবদুল হালিম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার করা ঘণ্টাটি বর্তমানে মোহাম্মদপুর থানা হেফাজতে আছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন