ক্যাম্পাস

বাংলাদেশে পার্টনার স্কুলগুলোর সাফল্য ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতি দিল ব্রিটিশ কাউন্সিল

অক্টোবর ৪, ২০২৬
বাংলাদেশে পার্টনার স্কুলগুলোর সাফল্য ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতি দিল ব্রিটিশ কাউন্সিল
বাংলাদেশে পার্টনার স্কুলগুলোর সাফল্য ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতি দিল ব্রিটিশ কাউন্সিল
<p>বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুলের প্রধানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ব্রিটিশ কাউন্সিলের বার্ষিক পার্টনার স্কুলস প্রিন্সিপালস মিট ২০২৬। এতে স্কুল ও শিক্ষকদের অবদানের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ব্রিটিশ কাউন্সিলের পার্টনার স্কুল নেটওয়ার্কের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।</p><p> ঢাকার শেরাটন হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ২১০টির বেশি পার্টনার স্কুলের অধ্যক্ষ ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট, পিয়ারসন এডেক্সেল ও অক্সফোর্ডএকিউএর প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরীক্ষা ও বিভিন্ন মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনায় এ নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।</p><p>বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী স্কট ম্যাকডোনাল্ড। অনুষ্ঠানে ‘ব্রিটিশ কাউন্সিল পার্টনার স্কুলস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ দেওয়া হয়, যেখানে ছয়টি ক্যাটাগরিতে স্কুলগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ক্যাটাগরিগুলো হলো—ক্লাইমেট অ্যাকশন, ডিজিটাল লার্নিং এক্সিলেন্স, ইকুয়ালিটি, ডাইভারসিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন (ইডিআই), লিডারশিপ ইন টিচিং, সেফগার্ডিং এবং ওয়েলবিইং। একটি স্বাধীন বিচারক প্যানেল অংশ নেওয়া স্কুলগুলোর জমা দেওয়া কাজ নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন করেছে।</p><p>স্কট ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আপনারা শিক্ষার্থীদের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, এ জন্য আপনাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ। আজকের এ আয়োজন শেষ হওয়ার পরও আপনাদের কাজের ইতিবাচক প্রভাব বজায় থাকবে।’</p><p>ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হেড অব মার্কেট জুনায়েদ আহমেদ বলেন, পার্টনার স্কুলগুলো শুধু আন্তর্জাতিক যোগ্যতা অর্জনের জায়গা নয়। এগুলো শিক্ষকদের এমন এক কমিউনিটি, যেখানে সবাই প্রতিনিয়ত শিখছেন, নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন এবং নিজেদের ভালো কাজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। প্রিন্সিপালস মিট আয়োজন এ কমিউনিটির কথা শোনা এবং তাদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার এক বিশেষ উপলক্ষ।</p><p>প্রিন্সিপালস মিটে স্কুলের প্রধানেরা শিক্ষা খাতের ভবিষ্যতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং পাঠদান ও শিক্ষার্থী মূল্যায়নে এর প্রভাব; বিদেশে উচ্চশিক্ষা লাভের নানা উপায়; স্কুল নেতৃত্ব ও উদ্ভাবন; একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/9gesjtk9/4.jpeg"></figure><p>অনুষ্ঠানে স্কট ম্যাকডোনাল্ড, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস এবং জুনায়েদ আহমেদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া কনটিনিউয়িং প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি) কর্মসূচির হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরা হয়। সামাজিক ও আবেগীয় শিক্ষার ওপরও একটি সেশন ছিল আয়োজনে।</p><p>প্রতিবছর বাংলাদেশের পার্টনার স্কুলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, তাদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানানো এবং তাদের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য প্রিন্সিপালস মিট-এর আয়োজন করে থাকে ব্রিটিশ কাউন্সিল। একই সঙ্গে এ আয়োজনে স্কুলগুলোর অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়া এবং স্কুলপ্রধানদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।</p>

Prothomalo

View more
জামিন না পেয়ে কারাগারে আখতারুজ্জামান, আদালতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি
জামিন না পেয়ে কারাগারে আখতারুজ্জামান, আদালতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত

অক্টোবর ৪, ২০২৬
বিয়ের আগে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক অস্বাভাবিক নয়: কিরণ
বিয়ের আগে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক অস্বাভাবিক নয়: কিরণ

‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ অ্যান্থলজি ছবির প্রচারে তরুণ প্রজন্মের প্রেম, সম্পর্ক ও যৌনতা নিয়ে কথা বলেছেন কিরণ।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
কে পাবেন ২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল
কে পাবেন ২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল

<p>অক্টোবর মাস এলেই বিজ্ঞানীদের বুকে যেন একটা ধুকপুকানি শুরু হয়। কারণ, এটা নোবেল মাস। সুইডেনের স্টকহোম থেকে একটা ফোন কলের অপেক্ষায় হয়তো রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায় বিশ্বের অনেক বড় বিজ্ঞানীর। নোবেল কমিটি আবার দুনিয়ার সবচেয়ে বড় লুকোচুরি খেলোয়াড়। কে কে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন, তা তারা আগামী ৫০ বছর টুঁ শব্দ করে কাউকে জানতে দেবে না! কিন্তু মানুষের কৌতূহল কি আর সিন্দুকের ভেতর আটকে রাখা যায়? ক্ল্যারিভেট সাইটেশন, ল্যাস্কার অ্যাওয়ার্ড বা ব্রেকথ্রু প্রাইজের মতো বড় পুরস্কারগুলোর দিকে নজর রাখলেই মোটামুটি একটা আঁচ পাওয়া যায়, এবার হাওয়া কোন দিকে বইছে। চলুন, অনুমান করার চেষ্টা করি, ২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল কে বা কারা পেতে যাচ্ছেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/14ntnfaz8t">৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা</a></aside><blockquote>বিশ্বজুড়ে এখন ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত ওজনের মহামারি চলছে। বিজ্ঞানীরা ওজেম্পিক বা ওয়েগোভির মতো এমন ওষুধ তৈরি করেছেন, যা শরীরের GLP-1 নামে হরমোনের মতো কাজ করে।</blockquote><h2><strong>জিএলপি-১ ড্রাগস</strong></h2><p>চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালে নোবেল পেতে পারে, এমন গবেষণার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম শোনা যাচ্ছে জিএলপি-১ ড্রাগসের। কী এই জিনিস? আমরা খেতে বসলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর আমাদের পেট ভরে যায়। তখন মস্তিষ্কে একটা সংকেত যায়, ‘পেট ভরে গেছে। আর খাওয়ার দরকার নেই।’ এই সংকেতটাই পাঠাই জিএলপি-১ হরমোন।</p><p>বিশ্বজুড়ে এখন ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত ওজনের মহামারি চলছে। বিজ্ঞানীরা ওজেম্পিক বা ওয়েগোভির মতো এমন ওষুধ তৈরি করেছেন, যা শরীরের GLP-1 নামে হরমোনের মতো কাজ করে। এগুলো ক্ষুধা কমাতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। এই যুগান্তকারী চিকিৎসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে জোয়েল হ্যাবেনার, সভেতলানা মোজসভ ও জেনস জুল হোলস্টের। তাঁদের গবেষণার সঙ্গে ড্যানিয়েল ড্রাকারসহ আরও কয়েকজন বিজ্ঞানীর কাজও যুক্ত।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A1-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং নোবেল পুরষ্কার</a></aside><blockquote>আমরা খেতে বসলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর আমাদের পেট ভরে যায়। তখন মস্তিষ্কে একটা সংকেত যায়, পেট ভরে গেছে। আর খাওয়ার দরকার নেই। এই সংকেতটাই পাঠাই জিএলপি-১ হরমোন।</blockquote><p>GLP-1 নিয়ে তাঁদের গবেষণার স্বীকৃতি অবশ্য আগেই মিলেছে। ২০২৪ সালে জোয়েল হ্যাবেনার, সভেতলানা মোজসভ ও জেনস জুল হোলস্টের সঙ্গে ড্যানিয়েল ড্রাকার ও জেফ্রি ফ্রিডম্যান পান প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর টেকনিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রিসার্চ। একই বছর হ্যাবেনার, মোজসভ ও হোলস্ট যৌথভাবে পান ট্যাং প্রাইজ ইন বায়োফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স। GLP-1 আবিষ্কার, এর কার্যকারিতা বোঝা এবং ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় এর প্রয়োগের পথ তৈরি করার জন্য তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।</p><p>এর পর ২০২৫ সালে আসে আরও বড় স্বীকৃতি। হ্যাবেনার, মোজসভ ও হোলস্টের সঙ্গে ড্যানিয়েল ড্রাকার ও লোটে বিরে নুডসেন যৌথভাবে পান ৩০ লাখ ডলারের ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন লাইফ সায়েন্সেস। পুরস্কারটি দেওয়া হয় GLP-1 আবিষ্কার ও এর শারীরবৃত্তীয় ভূমিকা উন্মোচন এবং ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় এর সম্ভাবনা দেখানোর জন্য।</p><p>অর্থাৎ, হ্যাবেনার, মোজসভ ও হোলস্টের গবেষণার গুরুত্ব নিয়ে এর আগেই আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বড় ধরনের ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এবার সেই তালিকায় নোবেল পুরস্কার যোগ হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/ijx1ghsddo">নোবেল জেতার সহজ উপায়</a></aside><blockquote>২০২৪ সালে জোয়েল হ্যাবেনার, সভেতলানা মোজসভ ও জেনস জুল হোলস্টের সঙ্গে ড্যানিয়েল ড্রাকার ও জেফ্রি ফ্রিডম্যান পান প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর টেকনিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রিসার্চ।</blockquote><h2><strong>নারকোলেপসি</strong></h2><p>রাস্তায় হাঁটছেন, কিংবা হয়তো কারও সঙ্গে খুব সিরিয়াস আড্ডা দিচ্ছেন। হঠাৎ করেই আপনি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেন! নারকোলেপসি রোগে আক্রান্ত রোগীরা ঠিক এভাবেই ভোগেন। তাঁদের মস্তিষ্ক বুঝতে পারে না কখন জাগতে হবে আর কখন ঘুমাতে হবে।</p><p>বিজ্ঞানী ইমানুয়েল মাইনট এবং মাসাশি ইয়ানাগিসাওয়া এই রোগের কারণ খুঁজে বের করেছেন। তাঁরা দেখেছেন, আমাদের মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নামে একটা রাসায়নিক পদার্থ আছে। এই পদার্থটা ঠিক অ্যালার্ম ঘড়ির মতো কাজ করে। এটি আমাদের জাগিয়ে রাখে। নারকোলেপসি রোগীদের মস্তিষ্কে এই অ্যালার্ম ঘড়িটা নষ্ট হয়ে যায়। এই অভাবনীয় আবিষ্কারের জন্য ইমানুয়েল মাইনট সম্প্রতি বিখ্যাত ল্যাস্কার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এই পুরস্কারকে অনেকেই আমেরিকান নোবেল বলেন। তাই স্টকহোম থেকে তাঁর কাছে ফোন গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/a634a8o95q">রসায়ন নোবেলের অজানা ৫</a></aside><blockquote>বিজ্ঞানী ইমানুয়েল মাইনট এবং মাসাশি ইয়ানাগিসাওয়া নারকোলেপসি রোগের কারণ খুঁজে বের করেছেন। তাঁরা দেখেছেন, আমাদের মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নামে একটা রাসায়নিক পদার্থ আছে।</blockquote><h2><strong>কার-টি সেল থেরাপি</strong></h2><p>ক্যানসার চিকিৎসার সবচেয়ে বড় মুশকিল হলো, কেমোথেরাপি দেওয়ার সময় ভালো কোষ ও খারাপ কোষের কোনো পার্থক্য থাকে না। কিন্তু বিজ্ঞানী কার্ল জুন এবং মিশেল স্যাডেলাইন একটা দারুণ বুদ্ধি বের করেছেন। তাঁরা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধক টি-সেল বাইরে বের করে আনেন। এরপর ল্যাবরেটরিতে সেগুলোকে ক্যানসার কোষ চেনার প্রশিক্ষণ দেন। ব্যাপারটা অনেকটা কুকুরকে চোরের গন্ধ শুঁকিয়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো। এই প্রশিক্ষিত কোষগুলোকে যখন আবার রোগীর শরীরে ঢোকানো হয়, তখন তারা শুধু ক্যানসার কোষগুলোকেই খুঁজে খুঁজে ধ্বংস করে। ক্যানসার চিকিৎসায় এই কার-টি সেল থেরাপি এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।</p><p>কার্ল জুন ও মিশেল স্যাডেলাইনও তাঁদের কাজের জন্য বেশ কিছু বড় স্বীকৃতি প্যেছেন। ২০২৪ সালে এই দুই বিজ্ঞানী যৌথভাবে পান ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন লাইফ সায়েন্সেস। একই বছর কার-টি সেল থেরাপির উন্নয়নে অবদানের জন্য তাঁরা পান ওয়ারেন আলপার্ট ফাউন্ডেশন প্রাইজ এবং ভিনফিউচার প্রাইজও। এরপর ২০২৫ সালে কার্ল জুন, মিশেল স্যাডেলাইন, ব্রুস লেভিন ও ইসাবেল রিভিয়ের যৌথভাবে পান রিচার্ড এন. মারকিন প্রাইজ ইন বায়োমেডিক্যাল টেকনোলজি। আর ২০২৬ সালে স্যাডেলাইন একাই পান রস প্রাইজ ইন মলিকিউলার মেডিসিন। অর্থাৎ, CAR-T সেল থেরাপির পেছনে থাকা এই গবেষণার গুরুত্ব নিয়ে নোবেলের আগেই একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার এসেছে। ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাতেও তাই কার্ল জুনের নাম উঠে এসেছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/8itfeuyiqn">নোবেল পুরস্কারের সোনার মেডেলে অন্যপাশে কী থাকে</a></aside><blockquote>কার্ল জুন ও মিশেল স্যাডেলাইনও তাঁদের কাজের জন্য বেশ কিছু বড় স্বীকৃতি প্যেছেন। ২০২৪ সালে এই দুই বিজ্ঞানী যৌথভাবে পান ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন লাইফ সায়েন্সেস।</blockquote><h2><strong>গাট মাইক্রোবায়োম</strong></h2><p>আমাদের পেটের ভেতর আস্ত একটা শহর আছে। সেখানে বাস করে কোটি কোটি ক্ষুদ্র বাসিন্দা। এদের আমরা বলি ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীব। আগে একটা সাধারণ ধারণা ছিল, ব্যাকটেরিয়া মানেই রোগবালাই।</p><p>বিজ্ঞানী জেফরি গর্ডন প্রমাণ করলেন অন্য কথা। আমাদের পেটের ভেতরের এই অণুজীবগুলো শুধু খাবার হজমেই সাহায্য করে না। বরং আমাদের ওজন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, এমনকি মনমেজাজ কেমন থাকবে তাও নিয়ন্ত্রণ করে। বলা যায়, এরা আমাদের শরীরের অদৃশ্য পাহারাদার। এই অণুজীবদের জীবনযাপন আর আমাদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে এদের গভীর সম্পর্ক আবিষ্কার করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন এক দিগন্ত খুলে দিয়েছেন জেফরি গর্ডন।</p><p>তিনি অবশ্য ইতিমধ্যে অনেকগুলো বড় পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি পান রয়্যাল সোসাইটির মর্যাদাপূর্ণ কপলি মেডেল। ২০১৯ সালে পান ফ্রন্টিয়ার্স অব নলেজ অ্যাওয়ার্ড। এরপর ২০২১ সালে পান বালজান প্রাইজ ফর মাইক্রোবায়োম ইন হেলথ অ্যান্ড ডিজিজ। ২০২৩ সালে জেফরি গর্ডন, ই. পিটার গ্রিনবার্গ ও বনি এল. ব্যাসলার যৌথভাবে পান প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর টেকনিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রিসার্চ। ২০২৬ সালে তিনি পেয়েছেন গ্যাবেই অ্যাওয়ার্ড ইন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড মেডিসিন। অর্থাৎ, মানুষের শরীরের অণুজীবসমাজ নিয়ে তাঁর গবেষণা গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কাজ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে আসছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/fx59cnv34y">পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলের অজানা ৫</a></aside><blockquote>বিজ্ঞানী জেফরি গর্ডন অবশ্য ইতিমধ্যে অনেকগুলো বড় পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি পান রয়্যাল সোসাইটির মর্যাদাপূর্ণ কপলি মেডেল। ২০১৯ সালে পান ফ্রন্টিয়ার্স অব নলেজ অ্যাওয়ার্ড।</blockquote><h2><strong>ডিএনএ সিকোয়েন্সিং</strong></h2><p>মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে থাকা ডিএনএর মধ্যে লেখা আছে আমাদের জিনগত তথ্য। সেই তথ্য পড়তে পারা মানে শরীরের কোন বৈশিষ্ট্য কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কোনো রোগের পেছনে কোন জিনের পরিবর্তন আছে তা সরাসরি জানা। কিন্তু একসময় ডিএনএর এই বিশাল জিনগত তথ্য পড়া ছিল অত্যন্ত ধীর ও ব্যয়বহুল কাজ। ২০০০ সালের দিকে মানুষের পুরো জিনোম পড়তে সময় লাগত প্রায় এক দশক, খরচ হতো ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি।</p><p>সেই চিত্র বদলে দেন ডেভিড ক্লেনারম্যান ও শংকর বালাসুভ্রমণিয়ান। তাঁরা এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করেন, যাকে বলা হয় নেক্সট-জেনারেশন ডিএনএ সিকোয়েন্সিং বা NGS। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ডিএনএ অংশের জিনগত ক্রম পড়া যায়। ফলে একই সময়ে কোটি কোটি ডিএনএ অংশ বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। মানুষের পুরো জিনোম পড়তে আগে যে বছরের পর বছর লাগত, এখন তা কয়েক ঘণ্টা বা এক দিনের মধ্যেই করা সম্ভব। খরচও নেমে এসেছে অবিশ্বাস্যভাবে। এই প্রযুক্তির কারণেই ক্যানসার ও বিরল জেনেটিক রোগ শনাক্ত করা, ভাইরাসের জিনোম পড়া এবং নতুন ভাইরাসের ধরন দ্রুত শনাক্ত করা অনেক সহজ হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/tzxkf227at">হাবল কেন নোবেল বঞ্চিত ছিলেন</a></aside><blockquote>একসময় ডিএনএর বিশাল জিনগত তথ্য পড়া ছিল অত্যন্ত ধীর ও ব্যয়বহুল কাজ। ২০০০ সালের দিকে মানুষের পুরো জিনোম পড়তে সময় লাগত প্রায় এক দশক, খরচ হতো ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি।</blockquote><p>এই আবিষ্কারের স্বীকৃতিও এসেছে একের পর এক। ২০২০ সালের মিলেনিয়াম টেকনোলজি প্রাইজ, ২০২২ সালের ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন লাইফ সায়েন্সেস, ২০২৪ সালের কানাডা গার্ডনার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ও নোভো নরডিস্ক প্রাইজ পেয়েছেন ক্লেনারম্যান ও বালাসুভ্রমণিয়ান।</p><p>২০২৬ সালটি তাঁদের জন্য আরও বিশেষ। এ বছর ক্লেনারম্যান, বালাসুভ্রমণিয়ান ও পাসকাল মায়ের যৌথভাবে পেয়েছেন প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর টেকনিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রিসার্চ। একই বছর ক্লেনারম্যান ও বালাসুভ্রমণিয়ান পেয়েছেন উইলিয়াম বেট হার্ডি প্রাইজও। এমনকি ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রকাশিত পূর্বাভাসেও তাঁদের নাম উঠে এসেছে।</p><h4>সূত্র: দ্য সায়েন্টিস্ট, ক্ল্যারিভেট সাইটেশন ও ইকোনমিক টাইমস</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/4lt6y95vxx">নোবেল নিয়ে পাঁচ তথ্য</a></aside>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
জালিয়াতি করে বাড়ি লিখে নিয়ে বৃদ্ধা মাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ
জালিয়াতি করে বাড়ি লিখে নিয়ে বৃদ্ধা মাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ

<p>ময়মনসিংহ নগরের ভাটিকাশর এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচতলা বাড়ি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধা মাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মেয়ের বিরুদ্ধে। বাড়িভাড়া থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ৮০ বছর বয়সী রহিমা খাতুন।</p><p> আজ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে রহিমা খাতুন এ অভিযোগ করেন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। স্বামী মারা গেছেন। তাঁর দুই মেয়ে।</p><p> সংবাদ সম্মেলনে রহিমা খাতুন বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁর মেয়ে ফারজানা সুলতানা ও তাঁর স্বামী মিলে প্রতারণার মাধ্যমে বাড়িটি নিজেদের নামে লিখে নেন। এরপর মেয়ের আচরণে পরিবর্তন আসে। বর্তমানে বাড়ির একটি অংশে তিনি থাকেন। অন্য ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভাড়ার টাকার বেশির ভাগই মেয়ে নিয়ে যান। বয়সজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থাভাবে তিনি নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারছেন না।</p><p>মেয়ের কাছে ভরণপোষণ চাইলে খারাপ আচরণ করা হয় এবং তাঁর (রহিমা) পক্ষে কথা বললে অন্যদের হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন রহিমা খাতুন। ফারজানার স্বামী সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব, তাঁর প্রভাব খাটিয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাড়িটি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ভরণপোষণ আইনে মেয়ে ও মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।</p><p>তবে মায়ের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারজানা সুলতানা। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মায়ের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। বাড়িটি আমার বোনকে ২০০৫ সালে এবং আমাকে ২০০৯ সালে দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমি কীভাবে প্রতারণা করে বাড়িটি নিয়েছি?’ তিনি বলেন, তাঁর মা যে বাড়িতে থাকেন, সেটি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে তাঁর মায়ের বোনসহ কয়েকজন আত্মীয়ের কারণে। তাঁরা বাড়িটি ডেভেলপারের কাছে দেওয়ার জন্য মাকে প্রভাবিত করছেন।</p><p>ভরণপোষণ না দেওয়ার বিষয়ে ফারজানা বলেন, বাড়ির দুটি ফ্ল্যাট থেকে ভাড়া বাবদ পাওয়া অর্থের ২৭ হাজার টাকা প্রতি মাসে মাকে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, তিনি নিয়মিত মাকে দেখতে যান। তবে মায়ের করা মামলার কারণে সেখানে যেতে ভয় পান। তিনি বলেন, ‘আমার মা অত্যন্ত ভদ্র মানুষ। তিনি একা দুই মেয়েকে মানুষ করেছেন। তাঁর প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই।’</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
গাজীপুরের বাইমাইল নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে ‘পালিয়েছিলেন’ পিচ্চি রাজা, দুই পুলিশ গ্রেপ্তার
গাজীপুরের বাইমাইল নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে ‘পালিয়েছিলেন’ পিচ্চি রাজা, দুই পুলিশ গ্রেপ্তার

পর্যবেক্ষণ কমিটি বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে এখনো ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
ডেঙ্গুতে মেয়ের অবস্থা খারাপ হচ্ছে—এমন কোনো লক্ষণই বুঝতে পারেননি চিকিৎসক মা–বাবা
ডেঙ্গুতে মেয়ের অবস্থা খারাপ হচ্ছে—এমন কোনো লক্ষণই বুঝতে পারেননি চিকিৎসক মা–বাবা

<p> চিকিৎসক মুহাম্মদ ওমর ফারুক রায়হানের কাছে ডেঙ্গু নিয়ে কেউ পরামর্শ চাইলে বলতেন, পেটে ব্যথা আছে কি না, রক্ত বমি হচ্ছে কি না, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাচ্ছে কি না—এসব খেয়াল রাখতে হবে। এই চিকিৎসকের মেয়ে ফামইয়া মাশনুর রুমাইসার ডেঙ্গু হওয়ার পর এসব কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি। অবস্থা খারাপ হচ্ছে, তা বুঝতে পারার আগেই মেয়েটা মারা গেল।</p><p> ফামইয়া মাশনুরের বয়স হয়েছিল ৮ বছর ১০ মাস ১৪ দিন। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের বনশ্রী শাখায় তৃতীয় (ইংলিশ ভার্সন) শ্রেণিতে পড়ত। ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে জ্বর বাড়ে। তিন দিনের মাথায় ১ অক্টোবর বিকেলে সে মারা যায়।</p><p> মুহাম্মদ ওমর ফারুক রায়হান জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ–বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন। রাজধানীর ভিশন আই হাসপাতালে চক্ষুবিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন তাঁর স্ত্রী ফারজানা সুলতানা। এই দম্পতির বড় মেয়ে ছিল ফামইয়া মাশনুর। আগামী ১৭ নভেম্বর জন্মদিন পালনের জন্য মেয়ে কক্সবাজারে ঘুরতে যাবে, কেক কাটবে, মা–বাবা আর ছোট বোনের সঙ্গে সময় কাটাবে—এমন অনেক পরিকল্পনা করে রেখেছিল। মায়ের সঙ্গে গিয়ে জন্মদিনে পরবে বলে নিজের ও বোনের জন্য জামাও কিনে রেখেছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/g3uoup2a/Famyea-Dengue-02.jpeg"><figcaption>ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ফামইয়া মাশনুর রুমাইসা রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের বনশ্রী শাখায় তৃতীয় (ইংলিশ ভার্সন) শ্রেণিতে পড়ত ছবি: পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া</figcaption></figure><p>মুহাম্মদ ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়ের ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ার পর ওর অবস্থা খারাপ হচ্ছে—এমন কোনো সাইনই (লক্ষণ) তো ছিল না। বুঝতেই তো পারলাম না। স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর পিআইসিইউতে আধা ঘণ্টাও ছিল না, তার আগেই মারা গেল।’</p><p>এই চিকিৎসক দম্পতির ছোট মেয়ে ফারজিন মাহনুর ওয়ারিসার বয়স ৫ বছর ৮ মাস। সারাক্ষণ বোনের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে থাকত। বড় বোন গোসল করিয়ে দিত। বোন কোথায় চলে গেছে, তা বুঝতেই পারছে না ফারজিন। বোনকে সে ‘ইয়া’ বলে ডাকত। তাকে বলা হয়েছে, ইয়া আল্লাহর কাছে চলে গেছে। সে তার মতো করে কিছু একটা বুঝে নিয়েছে।</p><blockquote>মা ফারজানা সুলতানা সারা ঘরে মেয়ের স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন। মেয়েটা গুছিয়ে স্মৃতি ধরে রাখতে পছন্দ করত। কোনো জিনিস সহজে ফেলতে চাইত না। এখন ঘরময় শুধু স্মৃতি না, মেয়েটাও স্মৃতি হয়ে গেছে।</blockquote><p>ওমর ফারুক ও ফারজানা সুলতানা দম্পতি জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে ফামইয়া মাশনুর জ্বর জ্বর লাগছে বলে জানায়। পরদিন সোমবার সকালে জ্বর বাড়ে। স্কুলে যেতে পারে না। মঙ্গলবার পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। বাসায় ক্যানুলা করে স্যালাইন দেওয়া হয়। ওমর ফারুক জরুরি কাজে ঢাকার বাইরে থাকায় বুধবার কোনো পরীক্ষা করা হয়নি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/l9ezranw/Famyea-Dengue-03.jpeg"><figcaption>জন্মদিনে পরার জন্য এই পোশাক পছন্দ করে কিনে রেখেছিল মাশনুর রুমাইসা। ওই পোশাক আলমারিতেই রয়ে গেছে। তার আর পরা হয়নি </figcaption></figure><p>ওমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার মেয়ে খারাপ লাগছে বলে। খিঁচুনি শুরু হওয়ার পরপর তাকে বনশ্রীতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা পিআইসিইউ না থাকায় আরেক হাসপাতাল ঘুরে পরে স্কয়ার হাসপাতালে পিআইসিইউ পাওয়া যায়। যানজট ঠেলে এ হাসপাতালে আসতে আসতে মেয়ের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। তারপর তো সব শেষ। এর আগ পর্যন্ত এসব কোনো লক্ষণই ছিল না। সবার সঙ্গে কথা বলেছে, দাদির পাঠানো ডাব খেয়েছে।</p><p>মা ফারজানা সুলতানা সারা ঘরে মেয়ের স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন। মেয়েটা গুছিয়ে স্মৃতি ধরে রাখতে পছন্দ করত। কোনো জিনিস সহজে ফেলতে চাইত না। এখন ঘরময় শুধু স্মৃতি না, মেয়েটাও স্মৃতি হয়ে গেছে।</p><p>এই মা–বাবা মেয়ের এভাবে চলে যাওয়াকে নিজেদের কপাল আর এতটুকুই আয়ু ছিল বলে নিজেদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মারা যাওয়ার আগের দিন আমের জুস খেতে চেয়েছিল, খেতে পারেনি, জন্মদিনের জামা কিনলেও তা আলমারিতেই পড়ে রইল, এমন আক্ষেপগুলো শুধু একটু পরপর মাথাচাড়া দিয়ে মনে করিয়ে দিচ্ছে তাঁদের। গত বছরের এই সময় পরিবারের সবাই মিলে হজ করতে গিয়েছিলেন, জুলাই মাসে সাজেকে বেড়াতে গিয়ে মা–বাবা ও বোনের সঙ্গে মেয়ে সর্বশেষ সেলফিটা তুলেছিল—এমন স্মৃতিগুলো ভুলতে পারছেন না তাঁরা।</p><blockquote>ফামইয়া মাশনুরের বয়স হয়েছিল ৮ বছর ১০ মাস ১৪ দিন। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের বনশ্রী শাখায় তৃতীয় (ইংলিশ ভার্সন) শ্রেণিতে পড়ত। ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে জ্বর বাড়ে। তিন দিনের মাথায় ১ অক্টোবর বিকেলে সে মারা যায়।</blockquote><p>ওমর ফারুক বলেন, ‘মেয়েটা খুব সংবেদনশীল ছিল। অসুস্থতার মধ্যে বমি করার পর বাসায় কাজের সহায়তাকারীর সামনে জামা পাল্টে দিলে সে মাকে বলেছিল, ওই আপুর সামনে জামা পাল্টানোতে তার লজ্জা লাগছে।’ এই বাবা বলেন, মেয়ের ডেঙ্গু হওয়ার আগে তার মায়ের ডেঙ্গু হয়। বাসায় ক্যানুলা করে স্যালাইনসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নিলে ভালো হন। কিন্তু মেয়ের বেলায় কোনো ব্যবস্থাই কাজে লাগেনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/u98y3bmf/Famyea-Dengue-04.jpeg"><figcaption>বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ করত মাশনুর রুমাইসা। এগুলো এখন মা–বাবার কাছে কেবলই স্মৃতি</figcaption></figure><p>হাসপাতালগুলোতে পিআইসিইউ থাকলে, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সেবা পাওয়া গেলে এবং ডেঙ্গুর মৌসুম শুরুর আগে থেকেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সরকার পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিলে হয়তো পরিস্থিতি পাল্টে যেত বলে মনে করছেন মুহাম্মদ ওমর ফারুক রায়হান। বনশ্রীতে নিজের বাসার পাশেই ময়লার ভাগাড় এবং সেখানে পানি জমে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো তো দেখার কেউ নেই।</p><p>মুহাম্মদ ওমর ফারুক রায়হান বলেন, কষ্ট হবে বলে মেয়েকে পড়া নিয়ে কখনো চাপ দেওয়া হতো না। বার্ন ইনস্টিটিউটে কাজের অভিজ্ঞতায় পুড়ে যাওয়া ছোট ছোট শিশুদের দেখে মেয়ে রান্নাঘরে ঢুকলে যদি মেয়েরও কিছু হয়ে যায়, সেই ভয়ে থাকতেন। মেয়ে যাতে রান্নাঘরে না যায়, তা নিয়ে বারবার বলতেন। এই বাবার আক্ষেপ, মেয়েটা ছোট্ট এক মশার কামড়ে সেই কষ্ট পেয়েই মারা গেল।</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ইন্দোনেশিয়ায় লড়ছে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের দল
আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ইন্দোনেশিয়ায় লড়ছে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের দল

<p>শুরু হয়েছে ২৩তম আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার দিপক শহরে ২ অক্টোবর এই আসর শুরু হয়েছে। চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ১৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল পৌঁছে গেছে ইন্দোনেশিয়ায়।</p><p>এবারের বাংলাদেশ গণিত দলে রয়েছে সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থী। তারা হলো অরিজিৎ সাহা, মো. নবীহ হোসাইন, ইহান আবরাদ রহমান, মো. সামিন সাইফ, ইরতিশ জায়েদ লিয়াম, শারাফ বিন আনোয়ার, আলী ওমর ও মো. শাহিদ মোরসালিন।</p><p>বিজ্ঞান দলে আছে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাহমিদ হাসান, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অভিজ্ঞান রায় গল্প, সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের রাইয়ান আফরাদ, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাহাবী ইবনে কাব্য, সিরাজগঞ্জের বনওয়ারী লাল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের রাফসান শফিক তালুকদার, বাসিরাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আরহাম আবিদ, ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মো. মিফতাহুল ইসলাম এবং এ.জি. চার্চ স্কুলের মোহাম্মদ মুশরিফ আলম। এদের মধ্যে অরিজিৎ সাহা ও তাহমিদ হাসান গতবার মালয়েশিয়ায় রৌপ্যপদকজয়ী দলের সদস্য ছিল। নিজেদের সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এবারও তারা অংশ নিচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/yg4id74of8">রোবট প্রদর্শনীতে উদ্ভাবনের চমক, দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছে টিম বাংলাদেশ</a></aside><p>এই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্য দল বাছাই করা হয় বাংলাদেশ গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর মাধ্যমে। গত ৮ আগস্ট ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরে একযোগে জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরপর অনলাইন ক্যাম্প শেষে ২১ ও ২২ আগস্ট ঢাকায় দল নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে গণিত ও বিজ্ঞান বিভাগে ৮ জন করে মোট ১৬ জনকে নিয়ে চূড়ান্ত বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়।</p><p>নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে গত ১৫ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তিন দিনের আবাসিক প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাতেকলমে পরীক্ষাগার অনুশীলন ও সমস্যা সমাধানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রস্তুতি শেষে দলটি গত ১ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে। প্রতিযোগিতা শেষে আগামী ৯ অক্টোবর তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।</p><p>প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আয়োজনটি ২০০৩ সালে ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড নামে যাত্রা শুরু করে। ২০১১ সাল থেকে এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্প্রসারিত হয়। ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশে অনুষ্ঠিত ২২তম আসরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই শতভাগ সাফল্য পায়। সেবার দলের ১২ জন শিক্ষার্থীর সবাই পদক জেতে, যার মধ্যে ছিল ২টি রৌপ্য ও ১০টি ব্রোঞ্জপদক।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/14ntnfaz8t">৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা</a></aside><p>আইএমএসও ২০২৬-এ বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দলনেতা হিসেবে আছেন বিডিওএসএনের সভাপতি ও আইএমএসও বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুনির হাসান। সহকারী দলনেতা হিসেবে রয়েছেন মো. তানভীরুল ইসলাম, বিজ্ঞান মেন্টর মিম নাজ রহমান ও গণিত মেন্টর সামিরা সুমাইয়া।</p><p>বিডিএমএসওর লক্ষ্য নিয়ে মুনির হাসান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল মুখস্থবিদ্যা নয়, বরং খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে গণিত ও বিজ্ঞানের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া, তাদের অনুসন্ধিৎসু মন তৈরি করা এবং যৌক্তিক চিন্তা করার সক্ষমতা বাড়ানো।’</p><p>বিডিএমএসও ২০২৬ যৌথভাবে আয়োজন করছে এসপিএসবি, বিডিওএসএন ও ম্যাসল্যাব। আয়োজনের পাওয়ার্ড বাই পার্টনার পুষ্টি। সহযোগিতায় রয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস, বিজ্ঞানচিন্তা, কিশোর আলো, টেমস একাডেমি, রিফ্লেকটিভ টিনস, শৈশব ও নিত্য উপহার। ইন্দোনেশিয়ায় ২৩তম আইএমএসওর আয়োজক হিসেবে রয়েছে ম্যাথমেটিকস এডুকেশন ক্লিনিক এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/anijegvggm">মাইলস্টোন কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত</a></aside>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা জেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা জেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

<p>আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা জেলায় কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে প্রথম আলোর উদ্যোগে শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ উৎসবের আয়োজন করা হবে। আজকের আয়োজন নিয়ে ছবির গল্প...</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/gbfpky8u/1.-Chapainawabganj%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। সাটু মিলনায়তন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/y0vn0qvf/2.-Chapainawabganj%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption> শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছবির ফ্রেমে ছবি তুলছেন শিক্ষার্থীরা। সাটু মিলনায়তন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/yzhqkees/3.-Chapainawabganj%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট হাতে শিক্ষার্থীরা। সাটু মিলনায়তন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/qmuc4xpd/4.-Chapainawabganj%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করে তিথি মালী। সাটু মিলনায়তন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/ixb592gn/5.-Barishal-%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>একক নৃত্য পরিবেশন করছেন এক শিল্পী। সরকারি কলেজ মিলনায়তন, ঝালকাঠি, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/fqsj518q/6.-Barishal%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। সরকারি কলেজ মিলনায়তন, ঝালকাঠি, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/4vh9x5uy/7.-Barishal-%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেলফি তুলছে দুই শিক্ষার্থী। সরকারি কলেজ মিলনায়তন, ঝালকাঠি, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/7le3npgj/8.-Barishal-%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption> জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সরকারি কলেজ মিলনায়তন, ঝালকাঠি, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/q88inw2t/9.-Barishal-%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছিল চরকিসহ নানা খেলার আয়োজন। সরকারি কলেজ মিলনায়তন, ঝালকাঠি, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/pcyzdmh0/10.-Satkhira%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption> শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্যান্ডসংগীত পরিবেশন করা হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি , সাতক্ষীরা, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/d1es5vt7/11-Satkhira-gpa-five-3.jpg.jpeg"><figcaption>জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় আসা অতিথিরা। জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সাতক্ষীরা, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
খুলনার প্রথম দল হিসেবে চূড়ান্ত পর্বে নড়াইলের ‘দুরন্ত’ মেয়েরা
খুলনার প্রথম দল হিসেবে চূড়ান্ত পর্বে নড়াইলের ‘দুরন্ত’ মেয়েরা

দুরন্তের হয়ে আঞ্চলিক ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছেন ফরোয়ার্ড পূর্ণিমা রানী মন্ডল। এটি এবারের আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন