biology

কে পাবেন ২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল

অক্টোবর ৪, ২০২৬
কে পাবেন ২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল
কে পাবেন ২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল
<p>অক্টোবর মাস এলেই বিজ্ঞানীদের বুকে যেন একটা ধুকপুকানি শুরু হয়। কারণ, এটা নোবেল মাস। সুইডেনের স্টকহোম থেকে একটা ফোন কলের অপেক্ষায় হয়তো রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায় বিশ্বের অনেক বড় বিজ্ঞানীর। নোবেল কমিটি আবার দুনিয়ার সবচেয়ে বড় লুকোচুরি খেলোয়াড়। কে কে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন, তা তারা আগামী ৫০ বছর টুঁ শব্দ করে কাউকে জানতে দেবে না! কিন্তু মানুষের কৌতূহল কি আর সিন্দুকের ভেতর আটকে রাখা যায়? ক্ল্যারিভেট সাইটেশন, ল্যাস্কার অ্যাওয়ার্ড বা ব্রেকথ্রু প্রাইজের মতো বড় পুরস্কারগুলোর দিকে নজর রাখলেই মোটামুটি একটা আঁচ পাওয়া যায়, এবার হাওয়া কোন দিকে বইছে। চলুন, অনুমান করার চেষ্টা করি, ২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল কে বা কারা পেতে যাচ্ছেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/14ntnfaz8t">৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা</a></aside><blockquote>বিশ্বজুড়ে এখন ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত ওজনের মহামারি চলছে। বিজ্ঞানীরা ওজেম্পিক বা ওয়েগোভির মতো এমন ওষুধ তৈরি করেছেন, যা শরীরের GLP-1 নামে হরমোনের মতো কাজ করে।</blockquote><h2><strong>জিএলপি-১ ড্রাগস</strong></h2><p>চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালে নোবেল পেতে পারে, এমন গবেষণার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম শোনা যাচ্ছে জিএলপি-১ ড্রাগসের। কী এই জিনিস? আমরা খেতে বসলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর আমাদের পেট ভরে যায়। তখন মস্তিষ্কে একটা সংকেত যায়, ‘পেট ভরে গেছে। আর খাওয়ার দরকার নেই।’ এই সংকেতটাই পাঠাই জিএলপি-১ হরমোন।</p><p>বিশ্বজুড়ে এখন ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত ওজনের মহামারি চলছে। বিজ্ঞানীরা ওজেম্পিক বা ওয়েগোভির মতো এমন ওষুধ তৈরি করেছেন, যা শরীরের GLP-1 নামে হরমোনের মতো কাজ করে। এগুলো ক্ষুধা কমাতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। এই যুগান্তকারী চিকিৎসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে জোয়েল হ্যাবেনার, সভেতলানা মোজসভ ও জেনস জুল হোলস্টের। তাঁদের গবেষণার সঙ্গে ড্যানিয়েল ড্রাকারসহ আরও কয়েকজন বিজ্ঞানীর কাজও যুক্ত।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A1-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং নোবেল পুরষ্কার</a></aside><blockquote>আমরা খেতে বসলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর আমাদের পেট ভরে যায়। তখন মস্তিষ্কে একটা সংকেত যায়, পেট ভরে গেছে। আর খাওয়ার দরকার নেই। এই সংকেতটাই পাঠাই জিএলপি-১ হরমোন।</blockquote><p>GLP-1 নিয়ে তাঁদের গবেষণার স্বীকৃতি অবশ্য আগেই মিলেছে। ২০২৪ সালে জোয়েল হ্যাবেনার, সভেতলানা মোজসভ ও জেনস জুল হোলস্টের সঙ্গে ড্যানিয়েল ড্রাকার ও জেফ্রি ফ্রিডম্যান পান প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর টেকনিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রিসার্চ। একই বছর হ্যাবেনার, মোজসভ ও হোলস্ট যৌথভাবে পান ট্যাং প্রাইজ ইন বায়োফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স। GLP-1 আবিষ্কার, এর কার্যকারিতা বোঝা এবং ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় এর প্রয়োগের পথ তৈরি করার জন্য তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।</p><p>এর পর ২০২৫ সালে আসে আরও বড় স্বীকৃতি। হ্যাবেনার, মোজসভ ও হোলস্টের সঙ্গে ড্যানিয়েল ড্রাকার ও লোটে বিরে নুডসেন যৌথভাবে পান ৩০ লাখ ডলারের ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন লাইফ সায়েন্সেস। পুরস্কারটি দেওয়া হয় GLP-1 আবিষ্কার ও এর শারীরবৃত্তীয় ভূমিকা উন্মোচন এবং ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় এর সম্ভাবনা দেখানোর জন্য।</p><p>অর্থাৎ, হ্যাবেনার, মোজসভ ও হোলস্টের গবেষণার গুরুত্ব নিয়ে এর আগেই আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বড় ধরনের ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এবার সেই তালিকায় নোবেল পুরস্কার যোগ হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/ijx1ghsddo">নোবেল জেতার সহজ উপায়</a></aside><blockquote>২০২৪ সালে জোয়েল হ্যাবেনার, সভেতলানা মোজসভ ও জেনস জুল হোলস্টের সঙ্গে ড্যানিয়েল ড্রাকার ও জেফ্রি ফ্রিডম্যান পান প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর টেকনিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রিসার্চ।</blockquote><h2><strong>নারকোলেপসি</strong></h2><p>রাস্তায় হাঁটছেন, কিংবা হয়তো কারও সঙ্গে খুব সিরিয়াস আড্ডা দিচ্ছেন। হঠাৎ করেই আপনি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেন! নারকোলেপসি রোগে আক্রান্ত রোগীরা ঠিক এভাবেই ভোগেন। তাঁদের মস্তিষ্ক বুঝতে পারে না কখন জাগতে হবে আর কখন ঘুমাতে হবে।</p><p>বিজ্ঞানী ইমানুয়েল মাইনট এবং মাসাশি ইয়ানাগিসাওয়া এই রোগের কারণ খুঁজে বের করেছেন। তাঁরা দেখেছেন, আমাদের মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নামে একটা রাসায়নিক পদার্থ আছে। এই পদার্থটা ঠিক অ্যালার্ম ঘড়ির মতো কাজ করে। এটি আমাদের জাগিয়ে রাখে। নারকোলেপসি রোগীদের মস্তিষ্কে এই অ্যালার্ম ঘড়িটা নষ্ট হয়ে যায়। এই অভাবনীয় আবিষ্কারের জন্য ইমানুয়েল মাইনট সম্প্রতি বিখ্যাত ল্যাস্কার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এই পুরস্কারকে অনেকেই আমেরিকান নোবেল বলেন। তাই স্টকহোম থেকে তাঁর কাছে ফোন গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/a634a8o95q">রসায়ন নোবেলের অজানা ৫</a></aside><blockquote>বিজ্ঞানী ইমানুয়েল মাইনট এবং মাসাশি ইয়ানাগিসাওয়া নারকোলেপসি রোগের কারণ খুঁজে বের করেছেন। তাঁরা দেখেছেন, আমাদের মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নামে একটা রাসায়নিক পদার্থ আছে।</blockquote><h2><strong>কার-টি সেল থেরাপি</strong></h2><p>ক্যানসার চিকিৎসার সবচেয়ে বড় মুশকিল হলো, কেমোথেরাপি দেওয়ার সময় ভালো কোষ ও খারাপ কোষের কোনো পার্থক্য থাকে না। কিন্তু বিজ্ঞানী কার্ল জুন এবং মিশেল স্যাডেলাইন একটা দারুণ বুদ্ধি বের করেছেন। তাঁরা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধক টি-সেল বাইরে বের করে আনেন। এরপর ল্যাবরেটরিতে সেগুলোকে ক্যানসার কোষ চেনার প্রশিক্ষণ দেন। ব্যাপারটা অনেকটা কুকুরকে চোরের গন্ধ শুঁকিয়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো। এই প্রশিক্ষিত কোষগুলোকে যখন আবার রোগীর শরীরে ঢোকানো হয়, তখন তারা শুধু ক্যানসার কোষগুলোকেই খুঁজে খুঁজে ধ্বংস করে। ক্যানসার চিকিৎসায় এই কার-টি সেল থেরাপি এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।</p><p>কার্ল জুন ও মিশেল স্যাডেলাইনও তাঁদের কাজের জন্য বেশ কিছু বড় স্বীকৃতি প্যেছেন। ২০২৪ সালে এই দুই বিজ্ঞানী যৌথভাবে পান ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন লাইফ সায়েন্সেস। একই বছর কার-টি সেল থেরাপির উন্নয়নে অবদানের জন্য তাঁরা পান ওয়ারেন আলপার্ট ফাউন্ডেশন প্রাইজ এবং ভিনফিউচার প্রাইজও। এরপর ২০২৫ সালে কার্ল জুন, মিশেল স্যাডেলাইন, ব্রুস লেভিন ও ইসাবেল রিভিয়ের যৌথভাবে পান রিচার্ড এন. মারকিন প্রাইজ ইন বায়োমেডিক্যাল টেকনোলজি। আর ২০২৬ সালে স্যাডেলাইন একাই পান রস প্রাইজ ইন মলিকিউলার মেডিসিন। অর্থাৎ, CAR-T সেল থেরাপির পেছনে থাকা এই গবেষণার গুরুত্ব নিয়ে নোবেলের আগেই একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার এসেছে। ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাতেও তাই কার্ল জুনের নাম উঠে এসেছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/8itfeuyiqn">নোবেল পুরস্কারের সোনার মেডেলে অন্যপাশে কী থাকে</a></aside><blockquote>কার্ল জুন ও মিশেল স্যাডেলাইনও তাঁদের কাজের জন্য বেশ কিছু বড় স্বীকৃতি প্যেছেন। ২০২৪ সালে এই দুই বিজ্ঞানী যৌথভাবে পান ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন লাইফ সায়েন্সেস।</blockquote><h2><strong>গাট মাইক্রোবায়োম</strong></h2><p>আমাদের পেটের ভেতর আস্ত একটা শহর আছে। সেখানে বাস করে কোটি কোটি ক্ষুদ্র বাসিন্দা। এদের আমরা বলি ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীব। আগে একটা সাধারণ ধারণা ছিল, ব্যাকটেরিয়া মানেই রোগবালাই।</p><p>বিজ্ঞানী জেফরি গর্ডন প্রমাণ করলেন অন্য কথা। আমাদের পেটের ভেতরের এই অণুজীবগুলো শুধু খাবার হজমেই সাহায্য করে না। বরং আমাদের ওজন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, এমনকি মনমেজাজ কেমন থাকবে তাও নিয়ন্ত্রণ করে। বলা যায়, এরা আমাদের শরীরের অদৃশ্য পাহারাদার। এই অণুজীবদের জীবনযাপন আর আমাদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে এদের গভীর সম্পর্ক আবিষ্কার করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন এক দিগন্ত খুলে দিয়েছেন জেফরি গর্ডন।</p><p>তিনি অবশ্য ইতিমধ্যে অনেকগুলো বড় পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি পান রয়্যাল সোসাইটির মর্যাদাপূর্ণ কপলি মেডেল। ২০১৯ সালে পান ফ্রন্টিয়ার্স অব নলেজ অ্যাওয়ার্ড। এরপর ২০২১ সালে পান বালজান প্রাইজ ফর মাইক্রোবায়োম ইন হেলথ অ্যান্ড ডিজিজ। ২০২৩ সালে জেফরি গর্ডন, ই. পিটার গ্রিনবার্গ ও বনি এল. ব্যাসলার যৌথভাবে পান প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর টেকনিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রিসার্চ। ২০২৬ সালে তিনি পেয়েছেন গ্যাবেই অ্যাওয়ার্ড ইন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড মেডিসিন। অর্থাৎ, মানুষের শরীরের অণুজীবসমাজ নিয়ে তাঁর গবেষণা গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কাজ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে আসছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/fx59cnv34y">পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলের অজানা ৫</a></aside><blockquote>বিজ্ঞানী জেফরি গর্ডন অবশ্য ইতিমধ্যে অনেকগুলো বড় পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি পান রয়্যাল সোসাইটির মর্যাদাপূর্ণ কপলি মেডেল। ২০১৯ সালে পান ফ্রন্টিয়ার্স অব নলেজ অ্যাওয়ার্ড।</blockquote><h2><strong>ডিএনএ সিকোয়েন্সিং</strong></h2><p>মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে থাকা ডিএনএর মধ্যে লেখা আছে আমাদের জিনগত তথ্য। সেই তথ্য পড়তে পারা মানে শরীরের কোন বৈশিষ্ট্য কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কোনো রোগের পেছনে কোন জিনের পরিবর্তন আছে তা সরাসরি জানা। কিন্তু একসময় ডিএনএর এই বিশাল জিনগত তথ্য পড়া ছিল অত্যন্ত ধীর ও ব্যয়বহুল কাজ। ২০০০ সালের দিকে মানুষের পুরো জিনোম পড়তে সময় লাগত প্রায় এক দশক, খরচ হতো ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি।</p><p>সেই চিত্র বদলে দেন ডেভিড ক্লেনারম্যান ও শংকর বালাসুভ্রমণিয়ান। তাঁরা এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করেন, যাকে বলা হয় নেক্সট-জেনারেশন ডিএনএ সিকোয়েন্সিং বা NGS। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ডিএনএ অংশের জিনগত ক্রম পড়া যায়। ফলে একই সময়ে কোটি কোটি ডিএনএ অংশ বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। মানুষের পুরো জিনোম পড়তে আগে যে বছরের পর বছর লাগত, এখন তা কয়েক ঘণ্টা বা এক দিনের মধ্যেই করা সম্ভব। খরচও নেমে এসেছে অবিশ্বাস্যভাবে। এই প্রযুক্তির কারণেই ক্যানসার ও বিরল জেনেটিক রোগ শনাক্ত করা, ভাইরাসের জিনোম পড়া এবং নতুন ভাইরাসের ধরন দ্রুত শনাক্ত করা অনেক সহজ হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/tzxkf227at">হাবল কেন নোবেল বঞ্চিত ছিলেন</a></aside><blockquote>একসময় ডিএনএর বিশাল জিনগত তথ্য পড়া ছিল অত্যন্ত ধীর ও ব্যয়বহুল কাজ। ২০০০ সালের দিকে মানুষের পুরো জিনোম পড়তে সময় লাগত প্রায় এক দশক, খরচ হতো ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি।</blockquote><p>এই আবিষ্কারের স্বীকৃতিও এসেছে একের পর এক। ২০২০ সালের মিলেনিয়াম টেকনোলজি প্রাইজ, ২০২২ সালের ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন লাইফ সায়েন্সেস, ২০২৪ সালের কানাডা গার্ডনার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ও নোভো নরডিস্ক প্রাইজ পেয়েছেন ক্লেনারম্যান ও বালাসুভ্রমণিয়ান।</p><p>২০২৬ সালটি তাঁদের জন্য আরও বিশেষ। এ বছর ক্লেনারম্যান, বালাসুভ্রমণিয়ান ও পাসকাল মায়ের যৌথভাবে পেয়েছেন প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর টেকনিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রিসার্চ। একই বছর ক্লেনারম্যান ও বালাসুভ্রমণিয়ান পেয়েছেন উইলিয়াম বেট হার্ডি প্রাইজও। এমনকি ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রকাশিত পূর্বাভাসেও তাঁদের নাম উঠে এসেছে।</p><h4>সূত্র: দ্য সায়েন্টিস্ট, ক্ল্যারিভেট সাইটেশন ও ইকোনমিক টাইমস</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/4lt6y95vxx">নোবেল নিয়ে পাঁচ তথ্য</a></aside>

Prothomalo

View more
পিস্তল ঠেকিয়ে নারী শিক্ষককে অপহরণের চেষ্টা, আসামি ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার দাবি
পিস্তল ঠেকিয়ে নারী শিক্ষককে অপহরণের চেষ্টা, আসামি ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষককে পিস্তল ঠেকিয়ে অপহরণচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
বারিধারায় গাড়িচাপায় মৃত্যু: বিচারক বললেন, প্রশ্রয় দিলে বিত্তবানেরা বিচারকে সহজ ভাববে
বারিধারায় গাড়িচাপায় মৃত্যু: বিচারক বললেন, প্রশ্রয় দিলে বিত্তবানেরা বিচারকে সহজ ভাববে

রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় সেই কিশোরের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত

অক্টোবর ৪, ২০২৬
কারা, কেন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারল দুটি মহিষকে
কারা, কেন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারল দুটি মহিষকে

মহিষের মালিক শফিউল আজম বলেন, মহিষ দুটির বাজারমূল্য তিন লাখ টাকা। আর্থিক ক্ষতি বড় কথা নয়, মহিষগুলো অনেক যত্নের ও আদরের ছিল।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
পাহাড়, ঝরনা আর সমুদ্রের সান্নিধ্যে
পাহাড়, ঝরনা আর সমুদ্রের সান্নিধ্যে

গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন বন্ধুরা। রাতের যাত্রা শেষে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পৌঁছান তাঁরা। গাড়ি থেকে নেমেই শুরু হয় প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়, গন্তব্য মীরসরাইয়ের মহামায়া লেক।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
স্বৈরাচার উৎখাতে আমরা যতটা ভালো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় ততটাই খারাপ: মাহফুজ আনাম 
স্বৈরাচার উৎখাতে আমরা যতটা ভালো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় ততটাই খারাপ: মাহফুজ আনাম 

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, স্বৈরাচার উৎখাত করার ক্ষেত্রে আমরা যতটা ভালো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ততটাই খারাপ

অক্টোবর ৪, ২০২৬
তালা ভেঙে ঢুকল চোর, শিশুদের ‘সততা স্টোরের’ টাকাসহ ১১টি ফ্যান চুরি
তালা ভেঙে ঢুকল চোর, শিশুদের ‘সততা স্টোরের’ টাকাসহ ১১টি ফ্যান চুরি

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে শিক্ষকেরা ধারণা করছেন।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের ভিডিও ভাইরাল, চালককে অব্যাহতি
পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের ভিডিও ভাইরাল, চালককে অব্যাহতি

ঘটনা জানাজানির পর অ্যাম্বুলেন্সের চালক মো. শরীফুলকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
মাদক সেবনে নিষেধ করায় রিকশাচালককে মাদকসেবী বানিয়ে মব করে হত্যা
মাদক সেবনে নিষেধ করায় রিকশাচালককে মাদকসেবী বানিয়ে মব করে হত্যা

আদালতে দুই কিশোর জানায়, ঘটনার দিন মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ফয়েজের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি হয়। এরপর সেই রাতে সড়কে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
ঘোস্টিংয়ের পর অরবিটিং মানেই কি ফিরে আসা? সোশ্যাল মিডিয়া যেভাবে প্রাক্তন সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে
ঘোস্টিংয়ের পর অরবিটিং মানেই কি ফিরে আসা? সোশ্যাল মিডিয়া যেভাবে প্রাক্তন সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে

ঘোস্টিংয়ের পর হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাক্তনের উপস্থিতি। ফিরে আসার ইঙ্গিত, নাকি নিছক কৌতূহল? ‘অরবিটিং’ নামে পরিচিত এই আচরণে সম্পর্ক শেষ হলেও ডিজিটাল যোগাযোগ পুরোপুরি থামে না। ফলে সোশ্যাল মিডিয়াই অনেক সময় প্রাক্তন সম্পর্ককে আরও জটিল, বিভ্রান্তিকর ও মানসিকভাবে ক্লান্তিকর করে তোলে।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন