গান

বাইরে শিলাবৃষ্টি, ভেতরে সনু নিগমের সুরের ঝড়

অক্টোবর ৫, ২০২৬
বাইরে শিলাবৃষ্টি, ভেতরে সনু নিগমের সুরের ঝড়
বাইরে শিলাবৃষ্টি, ভেতরে সনু নিগমের সুরের ঝড়
<p>শনিবার বিকেল চারটার পর থেকেই সিডনিতে তুমুল শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত। ঝড় এতটাই প্রবল ছিল যে গাড়ির সামনে কয়েক হাত দূরের কিছু দেখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই দুর্যোগ মাথায় নিয়েই আমরা গাড়ি চালিয়ে রওনা হলাম ডার্লিং হারবারের টিকটক এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টারের দিকে। গন্তব্য—সনু নিগমের গান।</p><p>কেন্দ্রে পৌঁছে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত এক দৃশ্য। বাইরে প্রকৃতির তাণ্ডব, ভেতরে মানুষের ঢল। প্রায় ৯ হাজার দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ বিশাল মিলনায়তন। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলোতেও দর্শক। আক্ষরিক অর্থেই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।<br>এত মানুষের ভিড়েও ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। দর্শকেরা যেমন সুশৃঙ্খলভাবে ভেতরে ঢুকেছেন, অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়েছেন একইভাবে। কেন্দ্রটির ধারণক্ষমতাও প্রায় ৯ হাজার। সনু নিগমের ‘রেভোল্যুশন ট্যুর’-এর সিডনি পর্বটি আয়োজন করে সিনেস্টার ইভেন্টস।</p><p><strong>ঘড়ি ধরে শুরু, তারপর শুধুই গান</strong><br>কনসার্ট শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। ঘড়ির কাঁটা সাড়ে সাতটা ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চে আসেন সনু নিগম। দীর্ঘ ভূমিকা নেই, বিজ্ঞাপনের বিরক্তি নেই, পৃষ্ঠপোষকদের একের পর এক বক্তৃতাও নেই। শুরু থেকেই কেবল গান। সেই সংগীতযাত্রা চলে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত।</p><p>এক দিন আগেই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে কনসার্ট শেষ করে সিডনিতে এসেছিলেন সনু। সফরের কোনো ক্লান্তি তাঁর পরিবেশনায় ধরা পড়েনি। তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গান, নাচ ও দর্শকদের সঙ্গে কথোপকথনে প্রাণবন্ত ছিলেন তিনি। সিডনির পর তাঁর অস্ট্রেলিয়া সফরের তালিকায় আছে মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড ও পার্থ।<br>আমি কনসার্টে গিয়েছিলাম চিকিৎসক স্ত্রী বিলকিস আক্তার, মেয়ে জারা ও ছেলে জোহানকে নিয়ে। আয়োজকদের আমন্ত্রণ থাকলেও পরিবারের সবার জন্য টিকিট কেটেই অনুষ্ঠানটি দেখেছি। শিশুদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে। উচ্চ শব্দে কানের সমস্যা এড়াতে শিশুদের জন্য বিশেষ শব্দনিরোধক যন্ত্রের ব্যবস্থাও ছিল।<br>মঞ্চের শব্দ ও আলোর পরিকল্পনা গানের আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছিল। কখনো উজ্জ্বল আলোয় ছড়িয়ে পড়েছে উচ্ছ্বাস, কখনো মৃদু আলো ও অন্ধকার তৈরি করেছে বিষণ্ন আবহ। ফলে গানগুলো শুধু শোনার নয়, দৃশ্যতও অনুভব করার অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/f5ssosuy/WhatsApp_Image_2026_10_04_at_5_44_10_PM.jpeg"><figcaption>দীর্ঘ সফরের কোনো ক্লান্তি তাঁর পরিবেশনায় ধরা পড়েনি</figcaption></figure><p><strong>কখনো নীরবতা, কখনো উন্মাদনা</strong><br>‘সন্দেসে আতে হ্যায়’ শুরু হতেই বদলে যায় মিলনায়তনের পরিবেশ। কিছুক্ষণ আগেও যাঁরা উচ্ছ্বাসে মেতে ছিলেন, মুহূর্তে নীরব হয়ে যান তাঁরা। পেছনের সারিতে বসা এক মধ্যবয়সী দর্শককে চোখ মুছতে দেখলাম। গানটি যেন প্রবাসজীবনের দূরত্ব, অপেক্ষা ও ফেলে আসা স্বজনদের স্মৃতি একসঙ্গে ফিরিয়ে আনছিল।<br>পরের মুহূর্তেই আবার ভিন্ন দৃশ্য। ‘ইয়ে দিল দিওয়ানা’ শুরু হতেই আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান দর্শকেরা। শুরু হয় নাচ ও সম্মিলিত কণ্ঠে গান। একে একে আসে ‘সুরজ হুয়া মদ্ধম’, ‘তানহাই’ ও ‘পঞ্ছি নদিয়া পবন কে’।<br>‘অভি মুঝ মে কহিঁ’ গাইতে গিয়ে সনুর কণ্ঠ যখন উঁচু পর্দায় পৌঁছায়, পুরো মিলনায়তন যেন দম আটকে শুনছিল। শেষের দিকে তিনি ধরেন ‘কাল হো না হো’। ‘হার ঘড়ি বদল রহি হ্যায় রূপ জিন্দেগি’—পরিচিত এই পঙ্ক্তিতে তাঁর সঙ্গে গেয়ে ওঠেন ৯ হাজার দর্শক। মুঠোফোনের আলোয় পুরো মিলনায়তন তখন আলোর সমুদ্র।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/glkdenf9/836118675_1672224617607158_7080264627109377461_n.jpg"><figcaption>এক দিন আগেই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে কনসার্ট শেষ করে সিডনিতে এসেছিলেন সনু</figcaption></figure><p><strong>কোটি টাকার বিশাল আয়োজন</strong><br>কনসার্টটির অর্থনৈতিক পরিসরও ছিল চোখে পড়ার মতো। টিকিটের মূল্য ছিল ১০৯, ২০৯, ৩০৯ ও ৪৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার। প্রায় ৯ হাজার আসন পূর্ণ হওয়ায় শুধু টিকিট বিক্রির অঙ্কই যে বিপুল, তা সহজেই অনুমেয়। তবে কোন শ্রেণির কতটি টিকিট বিক্রি হয়েছে, সেই বিস্তারিত হিসাব ছাড়া মোট আয় নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।<br>তারপরও উপমহাদেশের একজন শিল্পীকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার একটি বড় মিলনায়তন পূর্ণ হওয়া, উচ্চ মূল্যের টিকিটেও এমন দর্শকসাড়া এবং পুরো আয়োজনের প্রযুক্তিগত ব্যাপ্তি—সব মিলিয়ে এটি ছিল বড় মাপের একটি সংগীতানুষ্ঠান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/0yitddu8/833889747_1672225474273739_1098236273083731056_n.jpg"><figcaption>মঞ্চের শব্দ ও আলোর পরিকল্পনা গানের আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছিল</figcaption></figure><p><strong>ভাষা বুঝিনি, আবেগ বুঝেছি</strong><br>দর্শকসারিই ছিল এই কনসার্টের সবচেয়ে বর্ণিল অংশ। সেখানে শুধু ভারতীয়রা ছিলেন না; এসেছিলেন বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, নেপালি, ভুটানি, শ্রীলঙ্কান, মালদ্বীপীয় ও অস্ট্রেলীয় শ্রোতারাও।<br>কনসার্ট শেষে এক ভারতীয় দর্শক বললেন, ‘তাঁর গানে আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো ফিরে পাই। সনু নিগম আসলেই এক জাদুকর।’<br>এক অস্ট্রেলীয় দর্শকের অভিজ্ঞতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বললেন, ‘আমি এই গানের ভাষা বুঝি না। কিন্তু শিল্পীর কণ্ঠের শক্তি ও আবেগ আমাকে প্রায় কাঁদিয়েছে। এটি দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’<br>এক বাংলাদেশি দর্শক বললেন, ‘শ্রেয়া ঘোষাল হোক বা এ আর রহমান—বড় শিল্পীরা এলে বাংলাদেশিরা আসবেই। আজও দেখুন, কত চেনা মুখ। গানের তো কোনো সীমান্ত নেই।’<br>দেশে বসে রাজনীতি, কাঁটাতার ও পরিচয়ের নানা বিভাজন নিয়ে আমরা ব্যস্ত থাকি। অথচ প্রবাসে কোনো প্রিয় শিল্পীর গান সেই দেয়াল অনায়াসে সরিয়ে দেয়। বহু সংস্কৃতির দেশ অস্ট্রেলিয়ায় এ আর রহমান, শ্রেয়া ঘোষাল কিংবা সনু নিগমের মতো শিল্পীদের কনসার্ট হয়ে ওঠে নানা দেশের মানুষের মিলনস্থল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/8ifnoonl/WhatsApp_Image_2026_10_04_at_7_37_46_PM.jpeg"><figcaption>শনিবার বিকেল চারটার পর থেকেই সিডনিতে তুমুল শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত</figcaption></figure><p>সনু নিগম তাই সিডনিতে শুধু একটি কনসার্ট করেননি; কয়েক ঘণ্টার জন্য বহু দেশ ও প্রজন্মের মানুষকে একই আবেগে বেঁধেছিলেন। রাতের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটিও ছিল দর্শকসারিতে—ভারতীয়, বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, নেপালি, ভুটানি, শ্রীলঙ্কান, মালদ্বীপীয় ও অস্ট্রেলীয় শ্রোতারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একই গান গাইছেন। বহু দেশ, বহু পরিচয়—সুরের ভেতর সবাই তখন এক।</p>

Prothomalo

View more
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে রোনালদোকে ‘মিস’ করল না পর্তুগাল
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে রোনালদোকে ‘মিস’ করল না পর্তুগাল

উয়েফা নেশনস লিগে ঘরের মাঠে নরওয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল পর্তুগাল।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
আইনের শাসন ও মানসম্মত জনসেবা
নিশ্চিত না হলে মানুষের আস্থা কমে
আইনের শাসন ও মানসম্মত জনসেবা নিশ্চিত না হলে মানুষের আস্থা কমে

নতুন বিশ্বব্যবস্থায় জাতিসংঘ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতো প্রতিষ্ঠানের ওপরও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
বাইরে শিলাবৃষ্টি, ভেতরে সনু নিগমের সুরের ঝড়
বাইরে শিলাবৃষ্টি, ভেতরে সনু নিগমের সুরের ঝড়

<p>শনিবার বিকেল চারটার পর থেকেই সিডনিতে তুমুল শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত। ঝড় এতটাই প্রবল ছিল যে গাড়ির সামনে কয়েক হাত দূরের কিছু দেখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই দুর্যোগ মাথায় নিয়েই আমরা গাড়ি চালিয়ে রওনা হলাম ডার্লিং হারবারের টিকটক এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টারের দিকে। গন্তব্য—সনু নিগমের গান।</p><p>কেন্দ্রে পৌঁছে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত এক দৃশ্য। বাইরে প্রকৃতির তাণ্ডব, ভেতরে মানুষের ঢল। প্রায় ৯ হাজার দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ বিশাল মিলনায়তন। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলোতেও দর্শক। আক্ষরিক অর্থেই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।<br>এত মানুষের ভিড়েও ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। দর্শকেরা যেমন সুশৃঙ্খলভাবে ভেতরে ঢুকেছেন, অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়েছেন একইভাবে। কেন্দ্রটির ধারণক্ষমতাও প্রায় ৯ হাজার। সনু নিগমের ‘রেভোল্যুশন ট্যুর’-এর সিডনি পর্বটি আয়োজন করে সিনেস্টার ইভেন্টস।</p><p><strong>ঘড়ি ধরে শুরু, তারপর শুধুই গান</strong><br>কনসার্ট শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। ঘড়ির কাঁটা সাড়ে সাতটা ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চে আসেন সনু নিগম। দীর্ঘ ভূমিকা নেই, বিজ্ঞাপনের বিরক্তি নেই, পৃষ্ঠপোষকদের একের পর এক বক্তৃতাও নেই। শুরু থেকেই কেবল গান। সেই সংগীতযাত্রা চলে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত।</p><p>এক দিন আগেই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে কনসার্ট শেষ করে সিডনিতে এসেছিলেন সনু। সফরের কোনো ক্লান্তি তাঁর পরিবেশনায় ধরা পড়েনি। তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গান, নাচ ও দর্শকদের সঙ্গে কথোপকথনে প্রাণবন্ত ছিলেন তিনি। সিডনির পর তাঁর অস্ট্রেলিয়া সফরের তালিকায় আছে মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড ও পার্থ।<br>আমি কনসার্টে গিয়েছিলাম চিকিৎসক স্ত্রী বিলকিস আক্তার, মেয়ে জারা ও ছেলে জোহানকে নিয়ে। আয়োজকদের আমন্ত্রণ থাকলেও পরিবারের সবার জন্য টিকিট কেটেই অনুষ্ঠানটি দেখেছি। শিশুদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে। উচ্চ শব্দে কানের সমস্যা এড়াতে শিশুদের জন্য বিশেষ শব্দনিরোধক যন্ত্রের ব্যবস্থাও ছিল।<br>মঞ্চের শব্দ ও আলোর পরিকল্পনা গানের আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছিল। কখনো উজ্জ্বল আলোয় ছড়িয়ে পড়েছে উচ্ছ্বাস, কখনো মৃদু আলো ও অন্ধকার তৈরি করেছে বিষণ্ন আবহ। ফলে গানগুলো শুধু শোনার নয়, দৃশ্যতও অনুভব করার অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/f5ssosuy/WhatsApp_Image_2026_10_04_at_5_44_10_PM.jpeg"><figcaption>দীর্ঘ সফরের কোনো ক্লান্তি তাঁর পরিবেশনায় ধরা পড়েনি</figcaption></figure><p><strong>কখনো নীরবতা, কখনো উন্মাদনা</strong><br>‘সন্দেসে আতে হ্যায়’ শুরু হতেই বদলে যায় মিলনায়তনের পরিবেশ। কিছুক্ষণ আগেও যাঁরা উচ্ছ্বাসে মেতে ছিলেন, মুহূর্তে নীরব হয়ে যান তাঁরা। পেছনের সারিতে বসা এক মধ্যবয়সী দর্শককে চোখ মুছতে দেখলাম। গানটি যেন প্রবাসজীবনের দূরত্ব, অপেক্ষা ও ফেলে আসা স্বজনদের স্মৃতি একসঙ্গে ফিরিয়ে আনছিল।<br>পরের মুহূর্তেই আবার ভিন্ন দৃশ্য। ‘ইয়ে দিল দিওয়ানা’ শুরু হতেই আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান দর্শকেরা। শুরু হয় নাচ ও সম্মিলিত কণ্ঠে গান। একে একে আসে ‘সুরজ হুয়া মদ্ধম’, ‘তানহাই’ ও ‘পঞ্ছি নদিয়া পবন কে’।<br>‘অভি মুঝ মে কহিঁ’ গাইতে গিয়ে সনুর কণ্ঠ যখন উঁচু পর্দায় পৌঁছায়, পুরো মিলনায়তন যেন দম আটকে শুনছিল। শেষের দিকে তিনি ধরেন ‘কাল হো না হো’। ‘হার ঘড়ি বদল রহি হ্যায় রূপ জিন্দেগি’—পরিচিত এই পঙ্ক্তিতে তাঁর সঙ্গে গেয়ে ওঠেন ৯ হাজার দর্শক। মুঠোফোনের আলোয় পুরো মিলনায়তন তখন আলোর সমুদ্র।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/glkdenf9/836118675_1672224617607158_7080264627109377461_n.jpg"><figcaption>এক দিন আগেই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে কনসার্ট শেষ করে সিডনিতে এসেছিলেন সনু</figcaption></figure><p><strong>কোটি টাকার বিশাল আয়োজন</strong><br>কনসার্টটির অর্থনৈতিক পরিসরও ছিল চোখে পড়ার মতো। টিকিটের মূল্য ছিল ১০৯, ২০৯, ৩০৯ ও ৪৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার। প্রায় ৯ হাজার আসন পূর্ণ হওয়ায় শুধু টিকিট বিক্রির অঙ্কই যে বিপুল, তা সহজেই অনুমেয়। তবে কোন শ্রেণির কতটি টিকিট বিক্রি হয়েছে, সেই বিস্তারিত হিসাব ছাড়া মোট আয় নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।<br>তারপরও উপমহাদেশের একজন শিল্পীকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার একটি বড় মিলনায়তন পূর্ণ হওয়া, উচ্চ মূল্যের টিকিটেও এমন দর্শকসাড়া এবং পুরো আয়োজনের প্রযুক্তিগত ব্যাপ্তি—সব মিলিয়ে এটি ছিল বড় মাপের একটি সংগীতানুষ্ঠান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/0yitddu8/833889747_1672225474273739_1098236273083731056_n.jpg"><figcaption>মঞ্চের শব্দ ও আলোর পরিকল্পনা গানের আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছিল</figcaption></figure><p><strong>ভাষা বুঝিনি, আবেগ বুঝেছি</strong><br>দর্শকসারিই ছিল এই কনসার্টের সবচেয়ে বর্ণিল অংশ। সেখানে শুধু ভারতীয়রা ছিলেন না; এসেছিলেন বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, নেপালি, ভুটানি, শ্রীলঙ্কান, মালদ্বীপীয় ও অস্ট্রেলীয় শ্রোতারাও।<br>কনসার্ট শেষে এক ভারতীয় দর্শক বললেন, ‘তাঁর গানে আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো ফিরে পাই। সনু নিগম আসলেই এক জাদুকর।’<br>এক অস্ট্রেলীয় দর্শকের অভিজ্ঞতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বললেন, ‘আমি এই গানের ভাষা বুঝি না। কিন্তু শিল্পীর কণ্ঠের শক্তি ও আবেগ আমাকে প্রায় কাঁদিয়েছে। এটি দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’<br>এক বাংলাদেশি দর্শক বললেন, ‘শ্রেয়া ঘোষাল হোক বা এ আর রহমান—বড় শিল্পীরা এলে বাংলাদেশিরা আসবেই। আজও দেখুন, কত চেনা মুখ। গানের তো কোনো সীমান্ত নেই।’<br>দেশে বসে রাজনীতি, কাঁটাতার ও পরিচয়ের নানা বিভাজন নিয়ে আমরা ব্যস্ত থাকি। অথচ প্রবাসে কোনো প্রিয় শিল্পীর গান সেই দেয়াল অনায়াসে সরিয়ে দেয়। বহু সংস্কৃতির দেশ অস্ট্রেলিয়ায় এ আর রহমান, শ্রেয়া ঘোষাল কিংবা সনু নিগমের মতো শিল্পীদের কনসার্ট হয়ে ওঠে নানা দেশের মানুষের মিলনস্থল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/8ifnoonl/WhatsApp_Image_2026_10_04_at_7_37_46_PM.jpeg"><figcaption>শনিবার বিকেল চারটার পর থেকেই সিডনিতে তুমুল শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত</figcaption></figure><p>সনু নিগম তাই সিডনিতে শুধু একটি কনসার্ট করেননি; কয়েক ঘণ্টার জন্য বহু দেশ ও প্রজন্মের মানুষকে একই আবেগে বেঁধেছিলেন। রাতের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটিও ছিল দর্শকসারিতে—ভারতীয়, বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, নেপালি, ভুটানি, শ্রীলঙ্কান, মালদ্বীপীয় ও অস্ট্রেলীয় শ্রোতারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একই গান গাইছেন। বহু দেশ, বহু পরিচয়—সুরের ভেতর সবাই তখন এক।</p>

অক্টোবর ৫, ২০২৬
ব্রাজিলের নির্বাচন: জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও কি লুলাকে হারাতে পারবেন
ব্রাজিলের নির্বাচন: জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও কি লুলাকে হারাতে পারবেন

এবারের নির্বাচনে ১২ জন প্রার্থী থাকলেও জনমত জরিপে এখন পর্যন্ত লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারো ছাড়া কেউ ১০ শতাংশের বেশি সমর্থন পাননি।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের হামলায় চার সাংবাদিকসহ আহত ১০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের হামলায় চার সাংবাদিকসহ আহত ১০

<p>রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ৪ অক্টোবর রাতে এ ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ৫, ২০২৬
কিশোরের হাতে ৬৫০ টাকার শখের চাকু, জন্মদিনের রাতেই রিকশাচালককে হত্যা
কিশোরের হাতে ৬৫০ টাকার শখের চাকু, জন্মদিনের রাতেই রিকশাচালককে হত্যা

আগে কোনো অপরাধে জড়ানোর তথ্য ছিল না তিন কিশোরের। মদ, গভীর রাতের আড্ডা, বন্ধুদের উসকানি ও সামান্য বাগ্‌বিতণ্ডা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়ায় তারা।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
আরে জাহিদ হাসানের ছোট ভাই ও...
আরে জাহিদ হাসানের ছোট ভাই ও...

কীভাবে ভারতের ত্রিপুরার কমলপুরে তিন দিন ‘জাহিদ হাসানের ছোট ভাই’ হিসেবে বাড়তি খাতির পেয়েছিলেন আরেক অভিনেতা?

অক্টোবর ৫, ২০২৬
রামপুরায় অস্ত্রসহ ‘পিচ্চি আল-আমিন’সহ গ্রেপ্তার ৬
রামপুরায় অস্ত্রসহ ‘পিচ্চি আল-আমিন’সহ গ্রেপ্তার ৬

শফিকের টিনশেড ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৯টি গুলি উদ্ধার করে বাহিনীটি।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন আগামী ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন