মার্কিন কংগ্রেসে ৮ মুসলিম, ইলহান ওমরের উচ্ছ্বাস
মার্কিন কংগ্রেসে আটজন মুসলিম আইনপ্রণেতার প্রবেশের মধ্য দিয়ে মুসলিম আমেরিকান রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক রচিত হয়েছে।
গাজীপুরের পোশাকশিল্পে চলমান শ্রম অসন্তোষ ও অস্থিরতা নিরসনে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানিয়েছে শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাব ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪৫ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ নারী...
দীর্ঘ দশ মাস পর সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় জাতীয় কনডেনসেটবাহী পাইপলাইনে ছিদ্র করে ৪ হাজার ২৯২ লিটার তেল চুরি করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
মিরপুরে টস জিতলেও সিলেটে এসে কয়েনভাগ্য পাশে পেলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
খুলনার আদালত পাড়ায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ১৩ জন আাসমির নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।
সকাল ৫টায় শুরু হওয়া এই পরিশ্রম শেষ হয় রাত ১১টায়। দিন শেষে মজুরি পান ৪০০ টাকা।
চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকাল রাতে লাইপজিগের বিপক্ষে গোল পেয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হলান্ড।
এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে নতুনত্ব যেমন দেখা যাচ্ছে, আছে অব্যবস্থাপনাও। সাফের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবার।
<p><em>প্রথম আলো</em> কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি শুধু বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসের কালো অধ্যায়ই নয়, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করে দেওয়ার চেষ্টারও অংশ। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে হামলার পর ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, সাইবার সুরক্ষা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়। সেই মামলার তদন্ত না এগোনোর খবর যারপরনাই দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। </p><p><em>প্রথম আলো</em>র খবর জানাচ্ছে, <em>প্রথম আলো</em> ভবনে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের সাড়ে ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। হামলার পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারীদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি, অভিযোগপত্রও জমা পড়েনি। এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ৩৯ জন, যাঁদের সবাই এখন জামিনে মুক্ত। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, মামলার তদন্ত তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তা বলছেন, নতুন আসামি শনাক্ত করার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।</p><p>গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ <em>প্রথম আলো </em>কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় দুই মাসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তাঁর সেই নির্দেশের আট মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তদন্তের অগ্রগতি কোথায়? প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন তদন্ত শেষ করা গেল না?</p><p>গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে একদল উগ্রপন্থী <em>প্রথম আলো</em>, <em>ডেইলি স্টার </em>ও ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরদিন উদীচী কার্যালয়েও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব হামলা মোটেই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। দেশের সংবাদমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও মুক্তচিন্তার পরিবেশের ওপর সংঘবদ্ধ আক্রমণ ছিল। এ হামলা ঠেকাতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা বহুমাত্রিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল।</p><p><em>প্রথম আলো</em> কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার সবাই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অথচ হামলার পেছনে কারা পরিকল্পনা করেছিল, কীভাবে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল এবং এতে অর্থ বা রাজনৈতিক সহায়তা ছিল কি না—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ভয়াবহ এ হামলার ভিডিও ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা, স্থিরচিত্রসহ অনেক তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ রয়েছে। এত কিছুর পরও হামলায় অংশ নেওয়া সবাইকে শনাক্ত করতে না পারা তদন্তের সক্ষমতা ও আন্তরিকতা—দুই বিষয়েই প্রশ্ন তৈরি করে।</p><p><em>প্রথম আলো</em> কার্যালয়ে হামলা শুধু একটি সংবাদপত্রের ভবনে হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকলে তার প্রতিবাদের পথ খোলা আছে। কিন্তু সেই দ্বিমতের জবাব ভবন পুড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট কিংবা সাংবাদিকদের জীবন বিপন্ন করার মাধ্যমে হতে পারে না। এ ধরনের অপরাধের বিচার না হলে ভবিষ্যতে স্বাধীন সাংবাদিকতা আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে।</p><p>আমরা মনে করি, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক যথার্থই বলেছেন, <em>প্রথম আলো</em> কার্যালয়ে হামলা আমাদের দেশে বাক্স্বাধীনতার ওপর জঘন্যতম আক্রমণের একটি। পুলিশকে অবশ্যই যথাযথভাবে তদন্ত করে এ হামলার পরিকল্পনাকারী ও জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হলে যারা বাক্স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র খর্ব করতে চায়, তাদেরই প্রশ্রয় দেওয়া হবে।</p>
<p>হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও পাশের মধ্যনগর উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু অবকাঠামো ও কোটি টাকা মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও শুধু চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেখানকার মানুষ। বন্ধ রয়েছে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম সেবা, আর দক্ষ সার্জন ও অ্যানেসথেটিস্ট না থাকায় অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার। প্রান্তিক এলাকায় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে এমন অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার চিত্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।</p><p><em>প্রথম আলো</em>র প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে হাসপাতালটির দীর্ঘদিনের সংকটের চিত্র। ২০১৫ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়িয়ে সেবার পরিধি বাড়ানো হয়নি। চিকিৎসকের ৩৬টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ২৫টিই বছরের পর বছর ধরে শূন্য পড়ে আছে। গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন ও অ্যানেসথেসিয়ার মতো জরুরি বিষয়ের কোনো জুনিয়র কনসালট্যান্ট নেই। প্রতিদিন যেখানে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে ৪০০ থেকে ৪৫০ প্রসূতি, শিশু ও সাধারণ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন, সেখানে মাত্র ১১ জন চিকিৎসক নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্ট না থাকায় ও এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে চড়া দামে এসব পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।</p><p>সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো প্রসূতিসেবার পরিস্থিতি। প্রতি মাসে গড়ে ৬০ জন প্রসূতি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনে হাসপাতালে এলেও সার্জনের অভাবে তাঁদের ফেরত পাঠাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ওই রোগীদের নেত্রকোনা কিংবা মোহনগঞ্জের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে, যেখানে যাতায়াত ও অস্ত্রোপচার বাবদ পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত ২৫-৩৫ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। হাওরাঞ্চলের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও আর্থিক পেষণ। অন্যদিকে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় তাঁদের ঠাঁই হচ্ছে বারান্দায় কিংবা মেঝের ওপর।</p><p>আমাদের নীতিনির্ধারকেরা কেন বুঝতে চান না, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা কোটি কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনে ফেলে রাখলেই স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ে না; সেই যন্ত্রপাতি চালানোর উপযোগী দক্ষ জনবলও সুনিশ্চিত করতে হয়। দুঃখজনক হচ্ছে যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বারবার লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।</p><p>উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে কার্যকর না করতে পারলে দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার কোনো দিন সম্ভব নয়। আমরা জোরালো দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্য পদগুলোয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হোক। অকেজো যন্ত্রপাতি দ্রুত মেরামত ও সচল করে হাওরাঞ্চলের তিন লাখ মানুষের মৌলিক চিকিৎসা অধিকার সুনিশ্চিত করা হোক।</p>
সিলেটে বাংলাদেশ–ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় টেস্টের লাইভ বিবরণী ও বিশ্লেষণ জানতে চোখ রাখুন এখানে।
নিঝুম রাতে তিনি কোরআন পড়ছিলেন আর সেই তা শুনতে আকাশ থেকে নেমে এসেছিলেন এক দল ফেরেশতা।
<p>জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আজ আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় গতকাল তাঁর বিরুদ্ধে এ আদেশ দেন আদালত। এরপর <em>প্রথম আলো</em>র সঙ্গে আলাপে পরীমনি বলেন, ‘কালকে যাব কোর্টে, যেহেতু পরোয়ানা জারি করে ফেলেছে।’</p> <p>দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া তাঁর কাজ ও পারিবারিক জীবনে চাপ তৈরি করছে বলে জানান এ অভিনেত্রী। পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন মামলায় আদালতে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথার একপর্যায়ে প্রশ্ন রাখেন, ‘এটা কি সারা জীবন চলবে?’</p> <p>গতকাল নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত হননি। তাঁর পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে জানানো হয়, অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় অসুস্থ থাকায় আদালতে আসতে পারেননি পরীমনি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/dhallywood/13yvr201wo">গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি: পরীমনি এখন কী করবেন</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/isj2ua1m/porimoni2.jpg"><figcaption>চিত্রনায়িকা পরীমনি</figcaption></figure><p>আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁর জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। পরীমনির আইনজীবী <em>প্রথম আলো</em>কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।</p><p>আদেশের পর আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান পরীমনি। মামলা ও আদালতে নিয়মিত যাতায়াতের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজের জায়গায় হচ্ছে, সংসারের জীবনে—সবকিছুর ওপরেই তো একটা চাপ।’ প্রচণ্ড হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে জানালেন তিনি। </p><p>তদন্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন পরীমনি। তাঁর অভিযোগ, ঠিকঠাকভাবে তদন্ত হচ্ছে না। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-02-10/3uod1b8b/Porimoni.avif"><figcaption>চিত্রনায়িকা পরীমনি</figcaption></figure><p>এ মামলায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের দিন আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়। পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিনি। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। প্রায় পৌনে দুই বছর পর একই মামলায় আবারও পরোয়ানার মুখোমুখি হলেন এ অভিনেত্রী।</p><p>মামলাটির সূত্রপাত ২০২১ সালের জুনে ঢাকা বোট ক্লাবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনায় পরীমনি প্রথমে নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। পরের বছর পরীমনির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নাসির।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-06/04315581-799a-43ea-8b3d-cdeb864892fd/KBRH3489.JPG"><figcaption>পরীমনি </figcaption></figure><p>নাসিরের অভিযোগ, বিনা মূল্যে মদের বোতল দিতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন এবং গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মারেন। মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। অন্যদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীমনির করা মামলাটিরও বিচার চলছে। ফলে একটি মামলায় তিনি বিচারপ্রার্থী, অন্যটিতে আসামি।</p> <p>নাসিরের মামলায় ২০২৪ সালের মার্চে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। পরে আদালতের সমন পেয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন পরীমনি।</p><p>এর বাইরে ২০২১ সালের আগস্টে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এ অভিনেত্রী। তিন দফায় রিমান্ডের পর জামিন পান তিনি। প্রায় এক মাস পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। নিজের করা বোট ক্লাব মামলায় সাক্ষ্য ও জেরা এবং অন্য মামলাগুলোর শুনানি মিলিয়ে আদালতে যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে তাঁর।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/dhallywood/f156s1zwyv">কোটি ছাড়িয়ে পূর্ণিমা–পরীমনি, অপু–ফারিয়া ও মিমদের কার কত</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/dhallywood/ai3uc91b0b">‘আমাকে বিয়ে দিতে চান, না চান না’, মজা করে জানতে চাইলেন পরীমনি</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-09/oj2ka6pf/Pori-Moni.jpeg"><figcaption>ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমনি</figcaption></figure><p>২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ মুক্তির মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পরীমনির। এরপর ‘মহুয়া সুন্দরী’, ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে রয়েছে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’; এতে তাঁর সহশিল্পী ইমতিয়াজ বর্ষণ। গত অক্টোবরে জন্মদিন উপলক্ষে নতুন ছবি ‘ফারজানা’র ঘোষণাও দিয়েছেন পরীমনি। অভিনয়জীবনের নতুন কাজের খবরের পাশাপাশি আবারও আদালতে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে তাঁকে।</p>
<p>‘পলিটিক্যাল ব্রেকআপ’ শব্দবন্ধটিকে বাংলায় ‘রাজনৈতিক বিচ্ছেদ’ বলা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত একটি জরিপে যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল ব্রেকআপের বিস্তৃতি, কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক পিটার ডিট্টো এবং তাঁর এক পিএইচডি গবেষক। সহজ ভাষায়, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনো বন্ধু, পরিবারের সদস্য, রোমান্টিক সঙ্গী বা সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া বোঝাতে তাঁরা এই ‘পলিটিক্যাল ব্রেকআপ’ শব্দবন্ধটি প্রবর্তন করেছেন। প্রায় ৩ হাজার ৮০০ অংশগ্রহণকারীর তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা দেখেছেন, রাজনৈতিক মতের অমিলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক হারিয়েছেন।</p><p>একইভাবে বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাবলির প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া আমাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত ও পরিবর্তিত করছে, তা আলোচনার দাবি রাখে। আমরা আমাদের যাপিত জীবন থেকেই দেখতে পাচ্ছি, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে গঠনমূলক রাজনৈতিক আলোচনার পরিসরও ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। সামগ্রিকভাবেই এটা দেশের সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার জন্য হুমকিস্বরূপ।</p><p>বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভাজনের ইতিহাসের দিকে তাকালে একদম শুরুতে চলে যেতে হয়। দেখা যায়, স্বাধীনতা ও নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অখণ্ড পাকিস্তান রক্ষার নামে একটি গোষ্ঠী কেবল এর বিরোধিতায় সক্রিয় হয়ে ওঠেনি, বরং রীতিমতো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধেও লিপ্ত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্থান-পতনের প্রক্রিয়া মুক্তিযুদ্ধের সেই পক্ষ-বিপক্ষকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের উৎসে পরিণত করে। ফলে এই বিরোধী গোষ্ঠীর প্রতি একাত্তর সালে জনসমর্থন যত সামান্যই হোক না কেন, স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছর পর সেই বিভাজন ও বিভক্তি একটু একটু করে বড় আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি সে সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দল ও শক্তি এবং প্রবাসী সরকারের ভেতরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যেও রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক বিরোধ ও বিভক্তি ছিল, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে পড়েছিল।</p><p>স্বাধীনতা-উত্তর সরকারের নানামুখী সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্ভিক্ষ, বাকশাল গঠন, শেখ মুজিব হত্যা, চার নেতা হত্যা, জিয়াউর রহমান হত্যা, জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসন—এসব ঘটনা যেমন রাজনীতিতে বাঁক এনেছে, তেমনি জন্ম দিয়েছে নানামুখী বিভাজনের।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/q64nytvi/Untitled-1.jpg"></figure><p>আবার বিভিন্ন সময় আন্দোলনের প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলো যেমন জোটভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সময়ের পরিক্রমায় নিজেদের পথ আবার আলাদাও করে ফেলেছে। যেমন নব্বইয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জোট এবং বাম দলগুলো যুগপৎ আন্দোলন করে এরশাদের স্বৈরশাসনের সমাপ্তি ঘটিয়েছিল। একানব্বইতে জামায়াতের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করলেও পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী যুগপৎ সরকার পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন শুরু করে। ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সরকার গঠনে সাহায্য করে, অংশ নেয়।</p><p>এরপর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে ক্ষমতায় যায়। আওয়ামী লীগ আবার জোট সরকার পতনের আন্দোলন জোরদার করে। প্রবল রাজনৈতিক সহিংসতার মুখে ২০০৭-২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ২০০৮ সালের শেষে নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ একনাগাড়ে প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকে। এই দীর্ঘ সময়ের উত্থান-পতনের রাজনীতির প্রভাবে ছাত্র, শ্রমিকসহ সব গণসংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক বিভক্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু সংগঠন নয়, ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে এবং পরিবারের মধ্যেও রাজনৈতিক বিচ্ছেদ ঘটতে থাকে।</p><p>২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি-জামায়াতের প্রায় ৩৫ বছরের জোট ভেঙে যায়। বর্তমানে তারা সরকার ও বিরোধী দল হিসেবে মুখোমুখি অবস্থানে আছে। জনমনে প্রশ্ন থেকেই যায়, রাজনৈতিক প্রয়োজনে আবার কখনো বিএনপি-জামায়াতকে একসঙ্গে দেখা যাবে কি না। তবে সে সম্ভাবনা এখন দেখা না গেলেও উভয় দলের নেতৃত্বই উভয় দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যুক্ত হয়ে পড়ার অভিযোগ তুলছে এখন।</p><p>আমাদের আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, দেশ পরিচালনা কিংবা সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে দলগুলো যেখানে নিজেদের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টাতে দ্বিধা করে না, সেখানে দলের নেতা-কর্মী না হয়েও নিছক সমর্থনকারী হয়ে আমরা সাধারণ মানুষেরা অনেক সময় নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বারবার নষ্ট করে ফেলি। কিন্তু কেন এ রকম হয়?</p><p>এটা কি শুধুই দলের প্রতি স্বার্থহীন ভালোবাসা, নাকি রাজনৈতিক সমর্থনের আড়ালে নানা সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ট্রাম্পকার্ড? কেননা সরকারি দলের সমর্থক ও পেশাজীবীরা প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং বিগত সরকারের সমর্থকেরা জেলে বন্দী হয়ে থাকবে—এ যেন এক অলিখিত বিধানে পরিণত হয়েছে। ‘আমরা’ বনাম ‘তারা’ সমীকরণ সূত্রে শুধু নিজেদের দলই ভারী করা হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/kkgis2ju/20260804-SH0067.jpg"><figcaption>জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে একসঙ্গে আন্দোলনে ছিল ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির। তবে সাম্প্রতিককালে তাদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত ৪ আগস্ট পুরান ঢাকার বকশীবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সামনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ</figcaption></figure><p>অর্থাৎ শর্তহীন আনুগত্য ও অপর পক্ষকে তীব্র ঘৃণা করতে পারার যোগ্যতা থাকলেই ক্ষমতাসীনদের বিশ্বস্ত হওয়ার সার্টিফিকেট যেমন পাওয়া যায়, তেমনি নানা আর্থিক ও সামাজিক আনুকূল্যও নিশ্চিত করা যায়। এমনকি অনেক বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করেন নির্দিষ্ট দলকে মাথায় রেখে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক নিজেদের অস্তিত্ব গুলিয়ে ফেলেন সাদা, নীল আর গোলাপি রঙের আতিশয্যে। দলপ্রীতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে বন্ধু, সহকর্মী কিংবা আত্মীয়ের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে।</p><p>উল্লেখ্য, যেকোনো একটি রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী বা সমর্থক হওয়া স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। কিন্তু নির্মোহ বিচার-বিশ্লেষণ যদি দলীয় পছন্দ-অপছন্দের চাদরে ঢাকা পড়ে যায় বা রাজনৈতিক মতাদর্শ যদি বস্তুনিষ্ঠভাবে চিন্তা করতে বাধা দেয়, তাহলে আত্মজিজ্ঞাসা জরুরি হয়ে পড়ে। প্রখ্যাত মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলৎস তাঁর বাংলাদেশ: অ্যান আনফিনিশড রেভোল্যুশন বইয়ে (১৯৭৯) লিখেছেন, ‘আমি বস্তুনিষ্ঠতা এবং নিরপেক্ষতার মধ্যে একটি পার্থক্য করে থাকি, যে পার্থক্যটি অনেকের কাছে স্পষ্ট না–ও হতে পারে। বস্তুনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে কোনো আপস বা শর্ত থাকতে পারে না, ঠিক যেমন নির্ভুল অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও কোনো আপস চলে না; তবে আমি এটাও স্বীকার করি যে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকার কোনো অবকাশ নেই...কারণ, যখন গোপন বিচার এবং গোপন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো বিষয় সামনে আসে, তখন আমার পক্ষে “নিরপেক্ষ” থাকা সম্ভব হয় না, যে কেউ এসব অপরাধ করে থাকুন না কেন, আমি তার নিন্দা জানাই।’</p><p>লিফশুলৎসের কথাটিকে যদি বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা হয়, তাহলে সমাজের বুদ্ধিজীবী বা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, যেমন সাংবাদিক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও অন্যদের কি নিজের সমর্থিত দলের অপকর্মের সমালোচনা করতে দেখি?</p><p>জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ১৯৭১ সালের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দলের সম্পৃক্ততা নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা যায় না; উল্টো ২০২৬ সালে এসেও তাদের বলতে শোনা যায়, ‘উই আর গোলাম আযম’! একইভাবে বিএনপি–সংশ্লিষ্ট বুদ্ধিজীবী বা সমর্থকদের ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সরব হতে দেখা যায় না। আওয়ামী লীগের সমর্থক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ২০২৪ সালের সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের দায় নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় না।</p><p>আবার কোনো নির্দিষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য যখন বিচার চাওয়া হয়, তখন সেটা নিয়েও ‘রাজনীতি’ করা হয়। যিনি ২০১০ কিংবা ২০১২ সালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চেয়েছেন, তিনি যেন কোনোভাবেই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত হওয়া শিশু-কিশোর-যুবকদের জন্য বিচার চাইতে পারবেন না! বিষয়টি এতটাই বিপরীতমুখী হিসেবে দেখা হয় যেন একটি অপরাধের জন্য বিচার চাইলে আরেকটির জন্য বিচার চাওয়া যায় না! আর যদি ‘ভুল করে’ সব আমলে সংঘটিত অপরাধের বিচার আপনি চেয়েই ফেলেন, তবে নিশ্চিতভাবেই সবার শত্রুতে পরিণত হবেন।</p><blockquote>রাজনৈতিক মতভেদের কারণে সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে গঠনমূলক রাজনৈতিক আলোচনার পরিসরও ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে</blockquote><p>কোনো নির্দিষ্ট দলের শাসনামলের সমালোচনা করার কারণেই যদি সেই দলের কাছে চিরদিনের জন্য টার্গেট হতে হয়, তবে সুস্থ আলোচনা-সমালোচনার পরিবেশ গড়ে ওঠার কোনো সুযোগ থাকে না। বাংলাদেশ এখন ঠিক এমনই এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পলিটিক্যাল ব্রেকআপ বা রাজনৈতিক বিচ্ছেদের এমন উপযুক্ত উদাহরণ বোধ হয় আর কোথাও পাওয়া যাবে না।</p><p>ওপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছি, কিন্তু কেবল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নয়, জনপ্রশাসন, আদালত বা গণমাধ্যম—যেকোনো পেশার দিকে তাকালে একই চিত্র দেখা যাবে। সেখানে নিজ কর্মগুণের চেয়ে দলীয় রঙের ভিত্তিতে ব্যক্তিকে শ্রেণিভুক্ত করা হয়, এবং সে অনুযায়ী তাঁকে অগ্রাধিকার কিংবা উপেক্ষা করা হয়। সুবিধা পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ হয় প্রকাশ্যে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে, নয়তো বৈষম্যের আশঙ্কায় মিথ্যা রাজনৈতিক পরিচয় ধারণ করে বা চুপ থাকাটাকেই শ্রেয় মনে করে।</p><p>লেখার শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল ব্রেকআপ নিয়ে যে জরিপটির কথা উল্লেখ করেছি, বাংলাদেশেও তেমন একটি জরিপের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়। বিশেষত এটা জানা দরকার, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ঠিক কত শতাংশ মানুষ রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বন্ধু, আত্মীয় বা সহকর্মীর সঙ্গে রাজনৈতিক বিচ্ছেদের দুঃখজনক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন এবং সমাজেই-বা এর কী <br>প্রভাব পড়েছে।</p><p>বর্তমান বাংলাদেশের একটি প্রকৃত প্রতিচ্ছবি বোঝার জন্য এটা জরুরি এবং এর ভিত্তিতে আমাদের সামাজিক জীবনের বিদ্যমান বিভাজনের মাত্রা কমানোর পথ সন্ধান করতে পারি। খুঁজতে পারি, কীভাবে দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা চালিয়ে যাওয়ার সাহস করা যায়। রাজনৈতিক ময়দানের আলাপ চায়ের কাপে ঝড় তুলুক, গণতান্ত্রিক চর্চাকে উজ্জীবিত করুক, কিন্তু পরস্পরের মনের দরজায় আঘাত না করুক—এটুকু প্রত্যাশা থাকল!</p> <p>* <strong>উম্মে ওয়ারা</strong>, সহযোগী অধ্যাপক, ক্রিমিনোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</p>
যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের দুটি আসনের ফল আসতে দেরি হবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রসঙ্গ আবার সামনে আনলেন ট্রাম্প। এদিকে সেনেটের দুটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কারণে ফল আসতে দেরি হতে পারে। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
সেনেট ও হাউস দু্ই জায়গাতেই ডেমোক্র্যাট দল বিজয়ী হয়েছে, তাই ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের জন্য কংগ্রেসের উচ্চ ও নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধই ছিল তাদের দলের পরাজয়ের প্রধান কারণ, রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ কথা লিখেছেন।
পহেলা ডিসেম্বর থেকে শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মজুরি বোর্ডের সদস্যরা, যদিও মজুরি কাঠামো এখনো নির্ধারিত হয়নি। অন্যদিকে আগামী পহেলা ডিসেম্বর থেকে এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের আবার ওই দুই বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার পাতাজুড়ে পোশাকখাতের শ্রমিকদের আন্দোলন, ডিসেম্বর থেকে তাদের নতুন মজুরি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের হোঁচট খাওয়ার খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
পুলিশ বলছে, 'অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি' এড়াতে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে গাড়ীতে ওঠানোর সময় উপস্থিত ছিলেন টেলিভিশন চ্যানেলটির এমন কয়েকজন সংবাদকর্মী বলেছেন, অফিসের ভেতরে কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তাদের চোখে পড়েনি।
ন্যুনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। অন্যদিকে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মাঝে নবগঠিত মজুরি বোর্ড বুধবার জানিয়েছে, পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
ডোনাল্প ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন যে, ব্যালটে তার নাম থাকলে রিপাবলিকানরা "বিপুল ভোটে" জয়ী হতো।
পারমাণবিক হামলার ক্ষেত্রে কী জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সে বিষয়ে নির্দেশ জারি করেছে ইরান। সোমবার রাতে ইরানের কেশম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই আবহেই তড়িঘড়ি জারি করা হয়েছে এই নির্দেশাবলী।
অন্ধ্রপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের পাঁচ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি।
খুলনার আদালত পাড়ায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ১৩ জন আাসমির নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।
মিরপুরে টস জিতলেও সিলেটে এসে কয়েনভাগ্য পাশে পেলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় জাতীয় কনডেনসেটবাহী পাইপলাইনে ছিদ্র করে ৪ হাজার ২৯২ লিটার তেল চুরি করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
দীর্ঘ দশ মাস পর সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাব ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪৫ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ নারী ও দুই সাংবাদিক রয়েছেন।
গাজীপুরের পোশাকশিল্পে চলমান শ্রম অসন্তোষ ও অস্থিরতা নিরসনে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানিয়েছে শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ।