বিচারব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা অপরিহার্য: জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন
খুলনা মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় খুলনা নগরীর রায়েরমহল বড় মসজিদ এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তার ওপর হামলা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
একটি দক্ষ বিচারব্যবস্থার জন্য বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসন ও বিচারকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করে বাংলাদেশের নিম্ন আদালতে কর্মরত বিচারকদের সংগ...
চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের কাজে গতি আনতে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের একটি যৌথ ওয়ার্কিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক রেজিস্ট্রার আবু হাসানকে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার নিন্দা...
ইরান সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং এই যুদ্ধের সময়কাল নির্ধারণের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে থ...
নাটোরের লালপুর উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা মো. আব্দুল মোত্তালেব রায়হান জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৬ অর্জন করেছেন।
সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে দেখলে গ্রেপ্তার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, এ অপরাধ দমনে পুলিশের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
<p>যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, নতুন কোনো যুদ্ধ কত দিন চলবে, তা নির্ধারণের সুযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থাকবে না।</p><p>আজ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে। যুদ্ধ কখন শেষ হবে বা কী শর্তে এর সমাপ্তি ঘটবে, তা ঠিক করার অবস্থানে থাকবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। </p><p>তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র লড়াইয়ের পর্যায়ের কথা উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও লেবানন ও ইয়েমেনে লড়াইয়ে যোগ দেয়।</p><p>ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘিও যেকোনো হামলার জবাবে সমানুপাতিক, চূড়ান্ত ও জোরালো জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা হুমকি সৃষ্টি করছে, তারা ইরানের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের পরিধি, সময় বা পরিণতি নির্ধারণ করতে পারবে না। একই দিনে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির আগের দিনের লিখিত বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না। শত্রুর ক্ষতিসাধনের জন্য বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/2e5cw5g5/Untitled-3.jpg"><figcaption>মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প</figcaption></figure><h3>ইরানে ‘এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু’ বাকি, দাবি ট্রাম্পের</h3><p>এর আগে গতকাল শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে। দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। </p><p>তবে ট্রাম্প বলেন, ইরানে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে, যেগুলো মাত্র ১০ মিনিটে ধ্বংস করা সম্ভব। এ সময় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি সন্দেহজনক ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে সেখানে কোনো পারমাণবিক কর্মকাণ্ড চালানোর কথা অস্বীকার করেছে ইরান সরকার।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/4e6h7eeuye">ইরানের কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিরও অভিশংসন চায় তারা </a></aside><p>ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে তিনি বলেন, তেহরানকে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন নতুন কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নিতে তাড়াহুড়া করছে না।</p><p>মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার বলেন, ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রেখেছে ওয়াশিংটন।</p><p>এদিকে সম্প্রতি আবার সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে ইরান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এ অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা রয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/e2o98o9slb">ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে, বললেন ট্রাম্প</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/ril9kyq0pv">দেশের জন্য জীবন বাজি রাখতে ‘জানফেদা’, যুক্ত তিন কোটি ইরানি, আছেন তরুণীরাও</a></aside>
কাব্যোপন্যাসটির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে সোজন ও দুলীকে ঘিরে। ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের হয়েও তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে ভালোবাসার সম্পর্ক। কিন্তু ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে সমাজের প্রচলিত বিভেদ, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা যখন অধিক প্রভাব বিস্তার করে, তখন তাদের ভালোবাসাও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়।
<p>বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি ও একের পর এক আলটিমেটামের সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপি ১৭ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম, নির্যাতন ও অসংখ্য নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘রাজপথ বা আন্দোলনের মাঠ কাউকে মৌরসি পাট্টা (পুরুষানুক্রমে ভোগ দখলের বন্দোবস্ত) দেওয়া হয়নি যে আপনারা একের পর এক উসকানি দেবেন আর আমরা চুপ করে বসে থাকব।’</p><p> আজ রোববার পুরান ঢাকার আইনজীবী সমিতি ভবনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এই হুঁশিয়ারি দেন।</p><p> যাঁরা অতীতে স্বৈরাচারের কাছে নতজানু হয়েছিলেন এবং নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের মুখে এখন বিপ্লবের কথা মানায় না বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের কাছে সবার অতীত ইতিহাস পরিষ্কার।</p><p>বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, দেশে যখন বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর উদ্যোগ চলছে, তখন আন্দোলনের নামে সংঘাত সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বিভিন্ন দেশ সফর করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করছেন, তখন গার্মেন্ট খাতসহ রাজপথে হঠাৎ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।</p><p>সম্প্রতি যানবাহনে আগুন দেওয়া ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ‘পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তির দোসর’ বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দল এসবের মূল ভাবনার বিরোধিতা করছে না। তবে জাতীয় পর্যায়ের যেকোনো সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের সমাধান গণতান্ত্রিক পথেই হতে হবে। সংবিধানকে একটি জাতির ‘আত্মজীবনী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে এতে বিভিন্ন সংশোধনী আসে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি বা অন্য দলগুলোর ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) থাকতেই পারে। তবে এসবের সমাধান লংমার্চ কিংবা সড়ক অবরোধ করে সম্ভব নয়; সমাধান হতে হবে আলোচনার টেবিলে এবং জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে।</p><p>বক্তব্যের শুরুতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাড়ে তিন দশকের ঐতিহ্য স্মরণ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আদালত প্রাঙ্গণই ছিল তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের শেষ আশ্রয়স্থল। এ সময় নিজের টানা ৩৫ দিনের রিমান্ডের স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও আইনি লড়াই না থাকলে তাঁদের ওপর জুলুমের মাত্রা আরও বাড়ত। বিচার বিভাগের দলীয়করণের অভিযোগ তুলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড এবং তাঁর সঙ্গে তৎকালীন বিচারব্যবস্থার দুরভিসন্ধিমূলক আচরণেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।</p><p>জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আহ্বায়ক খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বোরহানউদ্দিন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহসিন মিয়া ও গোলাম মোস্তফা, জেলা পিপি ইকবাল হোসেন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন ইউনিটের সদস্যসচিব নিহার হোসেন।</p>
<p>খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে।</p><p>এ নিয়ে ১৯ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনায় দুজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটল। এর আগে গতকাল শনিবার রাতে নগরের লবণচরা এলাকার সড়কের ওপর থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যার পর সড়কে লাশ ফেলে যায়।</p><p>নিহত হুমায়ুন নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। খুলনা মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান তাঁর (হুমায়ুন) দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/otlk3qzje0">খুলনায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা, লাশ পড়ে ছিল সড়কের ওপর</a></aside><p>স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজের রেস্তোরাঁয় বসে ছিলেন হুমায়ুন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।</p><p>খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, নগরের মোস্তফার মোড়ে আরাফাত নামের এক দোকানদারের কাছ থেকে কয়েক দিন আগে রেফ্রিজারেটর কিনেছিলেন হুমায়ুন। এর কিছু টাকা বকেয়া ছিল। আজ সন্ধ্যায় আরাফাত ও তাঁর ভাই বকেয়া টাকা চাইতে গেলে হুমায়ুনের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে তাঁরা ফিরে গিয়ে সহযোগীদের নিয়ে এসে হুমায়ুনকে কুপিয়ে জখম করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে নিহত ব্যক্তির অন্য কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/e9a44k6763">খুলনায় ১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে যুবদলের দুই নেতাসহ তিনজনকে গুলি</a></aside><p>এর আগে গতকাল রাত ১১টার দিকে নগরের লবণচরা এলাকায় দরগা কাশেমিয়া মসজিদ–সংলগ্ন সড়ক থেকে শহীদুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা।</p><p>পুলিশ জানায়, দু–তিন দিন পরপর বাড়িতে আসতেন শহীদুল। গতকাল বিকেলে বাড়িতে এসে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বের হন। পরে রাত ১১টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে সড়কের ওপর তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/b1xxirl465">খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ১০ মাসে ৭১ খুন, পেছনের কারণ কী</a></aside><p>খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিহত শহীদুল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও ছিল। পূর্বশত্রুতা অথবা মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তারও করা যায়নি।</p><p>খুলনায় সম্প্রতি একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২২ অক্টোবর ভোরে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় খুশি (২৫) নামের এক গৃহবধূকে। এ ছাড়া ২৯ মে নগরের সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসায় বেবি বেগম (৬০), তাঁর নাতি শামীম ব্যাপারী (১৪) ও মুস্তাকিন (৪) খুন হন।</p><p>চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে খুলনায় গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্নভাবে ৭৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ আছে।</p>
<p>মোগল বাহিনীর হয়ে বাংলাদেশে ১৬ বছর যুদ্ধ করেন মির্জা নাথান। সে ইতিহাস তিনি লিখেছেন ‘বাহারীস্তান-ই-গায়বী’ বইটিতে। প্রতিপক্ষ হলেও বারভূঁইয়াদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের কথা লিখেছেন তিনি। ভোলেননি সেসব হাতির কথা, যেগুলোর কাছে মোগল বাহিনী নাকাল হয়েছে। ‘মির্জা নাথানের চোখে: বাংলার বারভূঁইয়াদের হাতি’ শিরোনামে প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে ইতিহাসের সেই কিংবদন্তিগাথা প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালের ৫ ডিসেম্বর। আজ লেখাটি অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।</p><p>মহাভারত থেকে আইন-ই-আকবরী সর্বত্র একটি উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে আছে হাতি। মগধ রাজ্যের হাতির খুব নামডাক শুনে গ্রিক সেনারা আর এগোতে না চাওয়ায় আলেকজান্ডারকে ফিরে যেতে হয়েছিল। এটা স্কুলের ছাত্ররাও জানে। পাল ও সেন রাজাদের হাতিবহরের কথা তাঁদের সভাকবিরা ‘বিশেষণে সবিশেষ লিখে’ গেছেন প্রশস্তি ও তাম্রলিপিতে। মোগল যুগের আঁকা ছবিতে মোগল হাতির দাপট, দেহসৌষ্ঠব, সদম্ভ পদচারণ আজও রীতিমতো সম্ভ্রম আদায় করে। বাংলার নবাবদেরও ছিল যুদ্ধে সুশিক্ষিত হাতির বিশাল বাহিনী। পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার হস্তী বাহিনী নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের কূটচালে।</p><p> উপমহাদেশের ঐতিহাসিক প্রায় সব যুদ্ধের জয়-পরাজয়ে হাতির ছিল বিশাল ভূমিকা। ভারতে মুসলমান অভিযানের সাফল্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মো. হাবিবুল্লাহ মুসলমান বাহিনীর সুশিক্ষিত ঘোড়ার ত্বরিতগতির আক্রমণকে বিজয়ের একটি বড় কারণ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। পক্ষান্তরে হাতিবহরের ওপর ভারতীয় বাহিনীর নির্ভরশীলতা স্থানীয় রাজাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছেন তিনি। সহজেই দিক পরিবর্তনে সমর্থ দ্রুতগতিসম্পন্ন ঘোড়ার তুলনায় বিশাল এবং ধীরগতির হাতি আগন্তুক মুসলমান বাহিনীর সঙ্গে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি। উত্তর ভারতের শুষ্ক আবহাওয়ায় এবং বৃষ্টিবিহীন মাঠঘাটে ঘোড়ার এই তুলনামূলক সুবিধাগুলো নদীমাতৃক, বৃষ্টিবহুল জলাজঙ্গুলে বাংলাদেশের ভেজা স্যাঁতসেঁতে যুদ্ধের মাঠে অনেকটাই অকেজো হয়ে দাঁড়ায়। উত্তর ভারতের যুদ্ধের প্রান্তরে ঘোড়ার দাপট বাংলামুলুকে এসে অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। এর প্রমাণ রয়েছে ইংরেজ বণিক র্যালফ ফিচের (১৫৮৩-১৫৯০) বর্ণনায়, যিনি আকবরের জন্য রানি এলিজাবেথের চিঠি নিয়ে হিন্দুস্থানে এসেছিলেন।</p><p>ফিচ দুবার বাংলায় আসেন—১৫৮৩ ও ১৫৮৪ সালে। তখন দখলদার মোগল শাসন সবেমাত্র বাংলায় ভিত গেড়ে বসার চেষ্টা করছে; আর দক্ষিণ বাংলায় স্বাধীনতাকামী বারভূঁইয়াদের সঙ্গে মোগলদের যুদ্ধ লেগেই রয়েছে। সম্মুখযুদ্ধ ছাড়াও বারভূঁইয়ারা কিছুটা আধুনিক গেরিলা যুদ্ধের ধরনে আকবরের বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়েছিল। স্থানীয় অধিবাসীদের আকবরের প্রতি বিরোধিতা বেশ ভালোভাবেই ধরা পড়েছিল ফিচের চোখে। আকবরের ঘোড়াগুলোর নাকাল হওয়ার ঘটনাও তাঁর রচনায় ধরা পড়েছে, ‘...বাংলাদেশের চাটিগাঁও থেকে আমি বাকোলোতে আসি। ...বাকোলো থেকে আমি সিরিপুরে যাই। এটি গঙ্গা নদীর ওপর অবস্থিত। রাজার নাম চাঁদ রায়। কাছাকাছি সব দেশের লোকেরা জালালউদ্দিন আকবরের বিরোধী। এ দেশে এত নদী আর দ্বীপ যে লোকে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে পালিয়ে যায়। আকবরের ঘোড়সওয়ারেরা তাদের কিছুই করতে পারে না...।’</p><p>বারভূঁইয়ারা নিজেদের কোনো ইতিহাস লিখে রেখে যাননি। বাংলাদেশের সে সময়কার অবস্থা জানার উপায় পর্যটক ইবনে বতুতার বিবরণ ও চীন দেশের সরকারি প্রতিবেদন। মোগল সেনানী মির্জা নাথান যদি বাংলার মোগল বনাম বারভূঁইয়ার যুদ্ধবিগ্রহ এবং তাঁদের আত্মসমর্পণের একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস না লিখতেন, তাহলে বারভূঁইয়াদের ইতিহাস বা তাঁদের হাতির বহর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত। বারভূঁইয়ার বশ্যতা আদায়ের জন্য মোগল বাহিনীর হয়ে বাংলাদেশে ১৬ বছর যুদ্ধ করেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ হিসেবে তাঁর লেখার মূল্য অপরিসীম। এই প্রামাণ্য দলিলটি না থাকলে বারভূঁইয়াদের বীরত্বগাথা, তাঁদের আত্মত্যাগ এবং স্বাধিকার রক্ষার্থে জীবনপণ যুদ্ধ—সবই বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেত।</p><p>মির্জা নাথানের বইটির নাম বাহারীস্তান-ই-গায়বী। বীর বারভূঁইয়াদের সর্বশক্তি দিয়ে মোগল শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, ক্রমান্বয়ে তাঁদের পরাজয় এবং আত্মসমর্পণের লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে খাজা ওসমানের আমরণ প্রতিরোধ চালিয়ে দেশের স্বাধিকারের জন্য জীবনদানের অসামান্য কাহিনি লিখেছেন তিনি। লিখেছেন পূর্ববাংলার নদ-নদী, জলাজঙ্গল, পাখপাখালির কথা। এই বই থেকেই আমরা প্রথম জানতে পারি যে জাহাঙ্গীরের আমলে মোগলদের অধিকার থেকে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে প্রকৃত নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুসা খাঁ মসনদে আলা ও তাঁর মিত্ররা এবং ভাটির অবিসংবাদিত নেতা খাজা ওসমান। অনেকের মতে, মুসা খাঁ ও খাজা ওসমান ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোগলদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশ নিলে বাংলার ইতিহাস হয়তো ভিন্ন পথে মোড় নিত।</p><p>এই যুদ্ধে বাংলার হস্তী বাহিনীর ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নাথান সেই সব হাতির কথাও লিখেছেন। তিনি ছিলেন পশুপ্রেমী। তাঁর ছিল অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। হাতির জীবনপ্রণালি জানতেন তিনি, হাতির মর্জি-মেজাজ আর যুদ্ধক্ষেত্রে তার আবশ্যিকতা বুঝতেন; যুদ্ধক্ষেত্রে হাতিকে উজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া ছিল তাঁর নখদর্পণে।</p><blockquote>ফিচ দুবার বাংলায় আসেন—১৫৮৩ ও ১৫৮৪ সালে। তখন দখলদার মোগলশাসন সবে বাংলায় ভিত গেড়ে বসার চেষ্টা করছে; আর দক্ষিণ বাংলায় স্বাধীনতাকামী বারভূঁইয়াদের সঙ্গে মোগলদের যুদ্ধ লেগেই রয়েছে। সম্মুখযুদ্ধ ছাড়াও বারভূঁইয়ারা কিছুটা আধুনিক গেরিলা যুদ্ধের ধরনে আকবরের বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়েছিল।</blockquote><p>মোগলদের সঙ্গে বাংলার বারভূঁইয়াদের যুদ্ধে হাতির গুরুত্ব বুঝতে একটিমাত্র মাপকাঠিই যথেষ্ট। সেটি হলো মোগল বাহিনীর বারভূঁইয়াদের দেওয়া আত্মসমর্পণের শর্তাবলি, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হাতি–সম্পর্কিত শর্তটি। শর্তটি এই—পরাজিত ভূঁইয়াদের হাতিশালার সব ‘ফিলান-ই-দান্দানদার’ অর্থাৎ সব দাঁতাল হাতি মোগল ফৌজের হাতে সমর্পণ করতে হবে। সঙ্গে থাকবে এক পুত্র বা ভাই। আত্মসমর্পণকারী ব্যবহারের জন্য কয়েকটি মাদি হাতি রাখতে পারবে। বেশির ভাগ নৌকাই বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছিল এবং বড় বড় নৌকা ভেঙে ফেলা হচ্ছিল। হাতি আর নৌকা থাকলে বাংলার জলাজঙ্গলে ঘোড়া নয়, হাতিই যুদ্ধের প্রধান সহায়। বন–জঙ্গল আর অগভীর জলা ভেঙে ঘোড়ার পক্ষে চলাচল প্রায় অসম্ভব। শুধু যুদ্ধের মাঠে তো বটেই, ভারী কামান, কামানের গোলাবারুদ এবং যুদ্ধের অন্যান্য রসদ এই জলাজঙ্গলের পথে নিরাপদে বয়ে নেওয়ার জন্যও হাতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। হাতি নিজেই একটি মারাত্মক যুদ্ধাস্ত্র—অনেকটা আধুনিক যুগের ট্যাংকের মতো পদাতিক ও ঘোড়সওয়ার বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করতে বেজায় পারঙ্গম।</p><p>মির্জা নাথান চর মারফত যুদ্ধে তাদের হাতিগুলোর হিংস্রতা এবং রণক্ষেত্রে দক্ষতা সম্পর্কে আগাম খবর রাখতেন। প্রতিপক্ষের হাতিগুলোর যুদ্ধে অভিজ্ঞতা ও যুদ্ধের ধরন মাথায় রেখেই তিনি সেনা দল সাজাতেন। যাতে সুযোগমতো ধারালো তরবারি দিয়ে পা কেটে ফেলে হাতিগুলোকে অকেজো করে দেওয়া যায়; ভূঁইয়াদের হাতির আক্রমণে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি যেন কম হয়। মির্জা নাথান তাঁর গ্রন্থে ওসমানের হাতিগুলোর যুদ্ধনৈপুণ্য নিয়ে ‘ওসমানের হাতির অদ্ভুত কৌশল’ নামে একটি উপপরিচ্ছেদ লিখেছেন।</p><p>ইতিহাসবিদ আর সি মজুমদার খাজা ওসমানের দুটি প্রধান হাতির নাম উল্লেখ করেছেন—বাজ ও বাখতা। মির্জা নাথান খাজা ওসমানের আরও কয়েকটি তারকা হাতির নাম উল্লেখ করেছেন—অনুপা, সিঙ্গালি বা সিংহলি, দাস্তা, শতরঞ্জি ইত্যাদি। মোগল হাতিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাঘদলন, বালসুন্দর, চঞ্চল, ফাতহা, গোপাল ও রণসিঙ্গার। সিলেটের প্রখ্যাত ভূঁইয়া বায়েজিদের প্রধান হাতির নাম আবর। এ ছাড়া তাঁর আরও নয়টি প্রধান হাতি ছিল। নাথান লিখেছেন, বাঙালিদের হাতিগুলো মোগল সেনাদের অনেকবার ছত্রভঙ্গ করেছে।</p><p>খাজা ওসমান জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মোগলদের কাছে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব ঘৃণাভরে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন দিয়ে অনন্য বীরত্বগাথা রেখে গেছেন। খাজা ওসমানের প্রতি মোগলদের আত্মসমর্পণের শেষ এবং চরমপত্রের কিছু অংশ মির্জা নাথানের লেখা থেকে তুলে দেওয়া যাক। আত্মসমর্পণের প্রস্তাবের বলা হয় ‘...যদি তিনি [খাজা ওসমান] বাদশাহ সালামতের [সম্রাট জাহাঙ্গীর] কাছে আত্মসমর্পণ করেন, তবে তাঁকে ক্ষমা করা হবে এবং তিনিও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পাবেন...বাদশাহর আদেশে পাঁচ হাজারি মনসবদারের মর্যাদা গ্রহণ করা হবে। তাঁর জন্য বাদশাহর পক্ষ থেকে চিরস্থায়ী অনুগ্রহ।’ বারবার তাগাদা সত্ত্বেও খাজা ওসমান বশ্যতা স্বীকার করেননি।</p><p>মির্জা নাথান ওসমানের কথা লিখেছেন বস্তুনিষ্ঠভাবে; পরাজিত শত্রুকে তিনি বিদ্বেষবাণে বিদ্ধ করেননি, তাঁর চরিত্রহরণও করেননি। সব পূর্ব তথ্য বাতিল করে নাথানই আমাদের জানান যে দৌলাম্বাপুরের যুদ্ধে ওসমান বন্দুকের গুলিতে নয়, তিরের আঘাতে অন্ধ হয়ে যান। তবু তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সম্ভবত এই যুদ্ধক্ষেত্রেই তাঁর মৃত্যু হয়; তাঁর লাশ নিয়ে ওসমানের পুত্র ও ভাইয়েরা অকস্মাৎ যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করেন। চাপের মুখে থাকা মোগল বাহিনী প্রথমটা বিশ্বাস করতে পারেনি যে তাদের প্রতিপক্ষ যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর অবশ্য খাজা ওসমানের পুত্ররা আবার যুদ্ধের ময়দানে ফিরে এসে প্রবলবেগে মোগলদের আক্রমণ করেন। এই দৌলাম্বাপুরের যুদ্ধে ওসমানের হাতির যে যুদ্ধনৈপুণ্য দেখিয়েছে, তাঁর বিশ্বস্ত বিবরণ দিয়েছেন নাথান। যুদ্ধের এক পর্যায়ে ওসমানের হাতি বাখতা নাথানের জীবন সংশয় করে তুলেছিল। শত্রুপক্ষের হাতি বলে নাথান কিন্তু কোনো অসত্যচারণের আশ্রয় নেননি।</p><p>মাতঙ্গের জমিদার পাহলোয়ান ছিলেন সবচেয়ে সাহসী এবং বীরযোদ্ধা। তিনি তাঁর প্রতিপক্ষ মোগল শামসুদ্দিনকে পরাজিত ও নিহত করে নিজেও যুদ্ধে নিহত হন। নাথানের লেখায়ই আমরা জানতে পারি, পাহলোয়ানের বিখ্যাত হাতি বাজের বীরত্বপূর্ণ কাহিনি। বাজ ফটক ভেঙে শত্রুর দুর্গের ভেতরে সহজেই ঢুকে যেত। বাজের পায়ে ঝুলে ঝুলে পাহলোয়ানের সেনারা দুর্গে ঢুকে হাতাহাতি যুদ্ধে নিহত হয়েছিল। মোগল সেনারা বাজের চারটি পা-ই কেটে টুকরা টুকরা করে ফেলে। বাজ কিন্তু আসন্ন বিপদ টের পেয়েও যুদ্ধের মাঠ থেকে পালায়নি। আমরা ঘোড়ার প্রভুভক্তির কথা শুনে অভ্যস্ত; কিন্তু বাংলার এসব প্রভুভক্ত হাতির আত্মত্যাগের কথা ইতিহাসে খুব কমই লেখা হয়েছে। নাথান ওসমানের প্রধান হাতি বাখতারেরও বর্ণনা দিয়েছেন। বাখতা আকারে পাহাড়ের মতো। দুর্গের পাথর ভেঙে ফেলার মতো প্রচণ্ড শক্তি ছিল তার। মাহুতের হুকুম ছাড়া বাখতাকে এক পা–ও নড়ানো যেত না। এই বিশেষ গুণটি যুদ্ধের মাঠে আক্রমণ প্রতিহত করার ব্যাপারে বাখতাকে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলে। বাদশাহ জাহাঙ্গীর তাঁর জীবনস্মৃতিতে বাখতাকে গজপতি নামে উল্লেখ করেছেন। এসব যুদ্ধ-হাতির অধিকাংশই ইস্পাত নির্মিত বর্মের মতো আচ্ছাদন ব্যবহার করত, যাকে বলা হতো পাখার। ‘ইকবালনামা’য় উল্লেখ আছে, খাজা ওসমান তাঁর বাখতাকে সামনে রেখে মোগলদের অগ্রবর্তী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাতেন। ওসমান তাঁর সব হাতি একসঙ্গে যুদ্ধের মাঠে নামাতেন না। রিজার্ভ হিসেবে দু-চারটি জঙ্গলে লুকিয়ে রাখতেন। বাখতাকে তিনি এভাবে লুকিয়ে রেখে যুদ্ধের চরম পর্যায়ে মাঠে নামাতেন।</p><blockquote>মির্জা নাথান ওসমানের কথা লিখেছেন বস্তুনিষ্ঠভাবে; পরাজিত শত্রুকে তিনি বিদ্বেষবাণে বিদ্ধ করেননি, তাঁর চরিত্র হরণও করেননি। সব পূর্ব তথ্য বাতিল করে নাথানই আমাদের জানান যে দৌলাম্বাপুরের যুদ্ধে ওসমান বন্দুকের গুলিতে নয়, তিরের আঘাতে অন্ধ হয়ে যান। তবু তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সম্ভবত এই যুদ্ধক্ষেত্রেই তাঁর মৃত্যু হয়; তাঁর লাশ নিয়ে ওসমানের পুত্র ও ভাইয়েরা অকস্মাৎ যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করেন।</blockquote><p>মির্জা নাথান লিখেছেন, দৌলাম্বাপুরের সেই ভাগ্যনির্ধারক যুদ্ধে মোগল হাতি গোপাল বাংলার হাতির পরাক্রমের সামনে টিকতে না পেরে মাহুতসহ রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিল। মির্জা নাথানের হাতি বাঘদলনকে ওসমানের একটি শক্তিশালী হাতি অনুপা নাজেহাল করে ছেড়েছিল। যার ফলে বাঘদলন পিছু হটতে বাধ্য হয়। নাথান আরও জানিয়েছেন, তাঁর হাতি চঞ্চল দুরন্ত সাহসে ওসমানের হাতি বাখতাকে তেড়ে আসে; কিন্তু ওসমানের সওয়ারের গুলিতে আহত হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ওসমানের আরেক হাতি সিংহলি মোগল বাহিনীর বালসুন্দরকে আক্রমণ করে চাপের মুখে ফেলে। সিংহলি অবশ্য পরে মোগলদের দুটি হাতির যৌথ আক্রমণে টিকতে না পেরে পিছু হটে। ওসমানের মৃতদেহ পাঠিয়ে দিয়ে তাঁর পুত্র ও ভাইয়েরা বাখতাকে নিয়ে আবার মোগলবাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মির্জা নাথানকে কোণঠাসা করে ফেলেন। ওসমানের বাখতা মির্জা নাথানের সেনাদের ছত্রভঙ্গ করে ফেলে এবং বাখতা মির্জা নাথানকে দাঁত দিয়ে শূন্যে তুলে ঘোড়াসহ দূরে ছুড়ে ফেলে দেয়। নাথান মারাত্মকভাবে আহত হয়ে কোনো রকমে প্রাণ রক্ষা করেন। ভাগ্য ভালো যে নাথান সে যাত্রা বেঁচে যান। তা না হলে খাজা ওসমান ও তাঁর হাতির বীরত্বকাহিনি আমাদের অজানাই থেকে যেত। মোগল সেনারা বাখতাকে ঘিরে ধরে তার পা, শুঁড় ও দাঁত টুকরা টুকরা করে কেটে তাকে হত্যা করে। বীর বাখতা তার প্রভুর মতোই ভাগ্যবান, যুদ্ধক্ষেত্রে দুজনই বীরের মতো মরণকে আলিঙ্গন করেছে। প্রভুর মতো বাখতাকেও আর বন্দী হয়ে মোগল রাজধানীতে গোলামির জীবন কাটাতে হয়নি।</p><p>খাজা ওসমানের পুত্র ও ভাইদের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের সব হাতি ‘জাহাঙ্গীরনগর প্রকাশ ঢাকায়’ সুবেদার ইসলাম খানের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ইসলাম খান ঢাকার পোলো খেলার মাঠে এসব যুদ্ধবন্দী হাতির প্রদর্শনীর আয়োজন করেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর শোভা বৃদ্ধি করেন। কারণ, এর অব্যবহিত পরেই এসব হাতি মোগল রাজধানীতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে সম্রাটের নিজের হাতিশালায়। প্রসঙ্গক্রমে বলা যেতে পারে, এই দীর্ঘ পথ চলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে বেশ কিছু হাতি পথেই মারা যেত।</p><blockquote>মির্জা নাথান লিখেছেন, দৌলাম্বাপুরের সেই ভাগ্যনির্ধারক যুদ্ধে মোগল হাতি গোপাল বাংলার হাতির পরাক্রমের সামনে টিকতে না পেরে মাহুতসহ রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিল। মির্জা নাথানের হাতি বাঘদলনকে ওসমানের একটি শক্তিশালী হাতি অনুপা নাজেহাল করে ছেড়েছিল। যার ফলে বাঘদলন পিছু হটতে বাধ্য হয়। নাথান আরও জানিয়েছেন, তাঁর হাতি চঞ্চল দুরন্ত সাহসে ওসমানের হাতি বাখতাকে তেড়ে আসে; কিন্তু ওসমানের সওয়ারের গুলিতে আহত হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ওসমানের আরেক হাতি সিংহলি মোগল বাহিনীর বালসুন্দরকে আক্রমণ করে চাপের মুখে ফেলে।</blockquote><p>পোলো মাঠে প্রদর্শনীর সময় ওসমানের হাতি দাস্তা হঠাৎ ছুটে এসে একজন মোগল সেনাকে আক্রমণ করে বসে। এসব হাতি অত্যন্ত সুশিক্ষিত, কুচকাওয়াজে অভ্যস্ত। কাজেই ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা হয়তো নয়। হাতির স্মৃতিশক্তি প্রখর এবং প্রতিশোধস্পৃহা দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে কি দাস্তা সেই দৌলাম্বাপুরের যুদ্ধের দুঃসহ স্মৃতিতে তাড়িত হয়ে এই মোগল সৈনিককে আক্রমণ করে বসেছিল? কয়েক দিন পর হাতিসহ বায়েজিদ এবং সিলেটের অন্য প্রধানেরা ঢাকায় এসে পরিবারসহ আত্মসমর্পণ করলে ইসলাম খাঁ আবার ঝড়োকায় বসে প্রদর্শনী দেখলেন, অনুগত সেনাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করলেন এবং হাতিগুলোকে অচিরেই মোগল রাজধানীতে পাঠানোর আয়োজন করতে লাগলেন। খাজা ওসমানের হাতি শতরঞ্জিসহ যেসব হাতি যুদ্ধে আহত বা অসুস্থ হওয়ায় আগে পাঠানো সম্ভব হয়নি, হাতিগুলো সুস্থ করে রাজধানীতে পাঠানোর জন্য মির্জা নাথানের ওপর হুকুম হলো।</p><p>নাথানের বর্ণনা থেকে একটি তথ্য পরিষ্কার যে স্বশিক্ষিত হস্তীবিশারদ নাথান হাতিকে যুদ্ধের উপকরণ এবং যুদ্ধজয়ের সামগ্রী হিসেবেই দেখেননি, দেখেছেন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে, পশুপ্রেমীর আগ্রহে এবং প্রকৃতিদরদির যত্নে। লেখায় তিনি দক্ষ ও কৃতী সেনাদের যেমন প্রশংসা করেছেন, তেমনি রণক্ষেত্রে হাতিগুলোর কষ্টসহিষ্ণুতা ও আত্মত্যাগের জন্য একটি একটি করে নাম ধরে এগুলোর বীরত্ব বর্ণনা করেছেন। তাঁর চোখে হাতিগুলো যেন একেকটি বিশ্বস্ত, অনুগত ও জীবন বাজি রাখা সৈনিক; এরা প্রাণপণ যুদ্ধ করেছে, আহত হয়ে রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যায়নি, যুদ্ধের মাঠেই মারা গেছে। প্রতিপক্ষের হাতিগুলোর নামধাম তিনি জানতেন, এমনকি সেগুলোর সাহসিকতা ও ডাকাবুকো স্বভাবের প্রশংসাও করেছেন। প্রতিপক্ষের যোদ্ধার চেয়ে নাথান যেন তাদের হাতিগুলোর প্রতি বেশি দরদি। এই নাথান বাংলা দখল আর বাঙালি দমনকারী নাথান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।</p><p>খাজা ওসমান ও বায়েজিদের রণক্লান্ত বন্দী হাতিগুলো সুদূর মোগল রাজধানীর দিকে পদযাত্রা শুরু করল। এই দীর্ঘ পথপরিক্রমা শেষে কয়টি হাতি গন্তব্যস্থলে পৌঁছেছিল জানা যায় না। হাতিগুলোর জন্য শাহি মেহমানের মর্যাদা অপেক্ষায় ছিল না, ছিল পায়ে বেড়ি পরার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। বাংলার শ্যামল বন্যতার নিবিড় মাতৃক্রোড় ছেড়ে মাহুত বন্ধুর বাঁশিয়াল আদরের বিপরীতে হাতিগুলোর কপালে জুটল মোগল রক্ষীর আকশি–বল্লম। আরও জুটেছিল বন-পাহাড়, মুক্ত আকাশ, অবারিত আলো-হাওয়ার পরিবর্তে হঠাৎ যবনিকা টানা নিরেট পাথরের জঙ্গল আর আগ্রার গরমের তপ্ত প্রদাহ। মোগল শিল্পীদের তুলিতে বাংলার শস্য-শ্যামল প্রান্তর আর বর্ষার মিষ্টি পানির ঝংকারের চমত্কার সব হাতির ছবি আঁকা আছে। এই হাতিগুলোর মধ্যে বিষণ্ন নয়ন কয়েকটি হাতির ছবিও চোখে পড়ে। এই হাতিগুলোর মধ্যে যে বাংলা থেকে কেড়ে নেওয়া দু-চারটি হাতি নেই, এমন কথা কে বলবে!</p><p>কথায় আছে, বাংলা মুলুকের একটি স্বভাব লাবণ্য রয়েছে, যা মোহ বিস্তার করে। মির্জা নাথান বাংলায় ১৬ বছর কাটিয়েছিলেন। তাঁর রচনায় বাংলার গরম, ঝড়ের তাণ্ডব, নদীর প্রমত্ততা, রোগ-ব্যাধি—কোনো কিছু নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই, নেই ভিনদেশির অহেতুক শঙ্কা অথবা দর্পিত সেনানীর অসহিষ্ণু সমালোচনা। তবে কি নাথানও বাংলার কুহকে মজেছিলেন? কে জানে!</p>
<p>ব্যাংক হিসাব ও মোবাইলে আর্থিক সেবার (এমএফএস) হিসাবধারীদের বিপরীতে একটি নিজস্ব ‘বাংলা কিউআর’ কোড চালু হয়েছে। এই কোড ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি সরাসরি আরেক ব্যক্তির ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবে টাকা পাঠাতে পারছেন। আজ রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে ভুল হিসাবে টাকা যাওয়া ও জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে। ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থা আরও সহজ ও সর্বজনীন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় এমন সেবা চালু করা হয়েছে।</p><p><strong>কোথায় মিলছে নিজস্ব কোড</strong></p><p>নিজস্ব ‘বাংলা কিউআর’ কোড মিলবে ব্যক্তির ব্যবহার করা ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপে। এ জন্য ব্যবহারকারীকে অ্যাপগুলোর হালনাগাদ ভার্সন ডাউনলোড করতে হবে। এরপর নিজস্ব কিউআর কোড অন্যদের পাঠিয়ে টাকা পাঠানোর জন্য ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া যাবে।</p><p>জানা যায়, এত দিন ‘বাংলা কিউআর’ দিয়ে দোকানে কেনাকাটা বা সেবার বিল পরিশোধের (মার্চেন্ট পেমেন্ট) সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবের বিপরীতে তৈরি ব্যক্তিগত বাংলা কিউআর দিয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) পর্যায়ে লেনদেন করা যাচ্ছে। এতে ব্যাংক বা এমএফএস হিসাব নম্বর ও নাম আলাদাভাবে লেখার প্রয়োজন হবে না। কিউআর স্ক্যান করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাবের বিবরণ চলে আসবে। এরপর পিন নম্বর দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, এমএফএস প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠিয়েছিল। এতে গ্রাহকের সুবিধার জন্য ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নিজ নিজ মোবাইল অ্যাপে কিউআর প্রস্তুত, স্ক্যান ও গ্যালারি থেকে ছবি আপলোডের প্রয়োজনীয় ফিচার বা সুবিধা যুক্ত করতে বলা হয়। এরপরই তা যুক্ত করেছে ব্যাংক ও এমএফএসগুলো।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গ্রাহকেরা তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপে একটি ‘পারসোনাল বাংলা কিউআর’ পাচ্ছেন। টাকা পাঠানোর সময় প্রেরককে দীর্ঘ ব্যাংক হিসাব নম্বর, রাউটিং নম্বর কিংবা ১১ সংখ্যার মোবাইল নম্বর লিখতে হবে না। প্রাপক মোবাইলের স্ক্রিনে কিউআর দেখাবেন। প্রেরক নিজের অ্যাপ দিয়ে সেটি স্ক্যান করে অর্থ পাঠাতে পারবেন। দূরে থাকা প্রাপক কিউআরের ছবি তুলে বা স্ক্রিনশট পাঠালেও হবে। প্রেরক অ্যাপের গ্যালারি থেকে সেই ছবি আপলোড করে সরাসরি লেনদেন করতে পারবেন।</p><p>কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কিউআর স্ক্যান বা ছবি আপলোড করার সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে প্রাপকের নাম ও সংক্ষিপ্ত অ্যাকাউন্ট নম্বর দেখা যাবে। ফলে ভুল নম্বরে টাকা যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পন্ন হবে।</p><p><strong>বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবৃতি</strong></p><p>এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন সংযোজন চালু হয়েছে বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন সেবা। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজে, দ্রুত ও নিরাপদে অর্থ পাঠাতে পারবেন। এই সেবায় অর্থ পাঠানোর সময় প্রাপকের মোবাইল নম্বর বা হিসাব নম্বর আলাদাভাবে টাইপ করার প্রয়োজন হবে না। প্রাপকের কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। ফলে ব্যক্তিপর্যায়ে ডিজিটাল অর্থ স্থানান্তর আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে। বাংলা কিউআরের পিটুপি সেবা দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়াতে সহায়ক হবে। এ উদ্যোগ দেশের পেমেন্ট–ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পাশাপাশি ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।</p>
<p>জুমার নামাজের পর বিদায় জানাতে হবে বসনিয়াকে। রাজধানী সারায়েভোতে হোটেলের পাশেই ছিল ঐতিহাসিক সম্রাট মসজিদ। শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪ জুমার নামাজ আদায় করলাম অটোমান আমলের এই মসজিদে। নামাজ শেষে ট্যাক্সি ডেকে বিমানবন্দরে যাত্রা। সামনে অপেক্ষা করছিল নতুন গন্তব্য, ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেব।</p><p> ক্রোয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৩৪৭ ধরতে হবে। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ট্যাক্সি এগিয়ে চলেছে আঁকাবাঁকা পথ ধরে। কখনো সরু অলিগলি, কখনো পাহাড়ের গায়ে ছড়িয়ে থাকা ঘরবাড়ি, আবার কখনো চোখের সামনে খুলে যাচ্ছে সবুজ পাহাড়ের বিস্তৃত দৃশ্য। ইউরোপের অনেক শহরই দেখেছি, কিন্তু সারায়েভোর সৌন্দর্যে রয়েছে এক স্বতন্ত্র মাধুর্য। পাহাড় আর নগরজীবন এখানে পরস্পরের পরিপূরক। শহরের গায়ে লেগে আছে অটোমান ঐতিহ্য, মসজিদের মিনার আর ইউরোপীয় স্থাপত্যের ছাপ। আবার এই সৌন্দর্যের আড়ালেই রয়েছে যুদ্ধ, অবরোধ ও মানুষের অসীম দুর্ভোগের ইতিহাস।</p><p> শহর ছেড়ে বিমানবন্দরের দিকে এগোতে এগোতে নগরের কোলাহল ক্রমে পেছনে পড়ে রইল। অল্প সময়ের মধ্যেই সারায়েভোর সঙ্গে একধরনের মায়া তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বিদায়ের মুহূর্তে সেই মায়াই যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।</p><p>বিমানবন্দরে পৌঁছে বোর্ডিং পাস নিয়ে সিকিউরিটি আর ইমিগ্রেশন পেরিয়ে চলে গেলাম ক্রোয়েশিয়া এয়ারলাইনসের এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জে। ইউরোপের এই ছোট এয়ারলাইনস আবার বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জোট স্টার অ্যালায়েন্সের (Star Alliance) সদস্য। বিশ্বব্যাপী স্টার অ্যালায়েন্সের যেকোনো এক্সিকিউটিভ ভিআইপি লাউঞ্জে আমার প্রবেশাধিকারের সুযোগ থাকার সুবাদে সারায়েভো বিমানবন্দরের এই লাউঞ্জে কিছুক্ষণ বিশ্রাম, খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি বোর্ডিংয়ের জন্য অপেক্ষা।</p><p>এক ঘণ্টার কম সময়ের এই আকাশযাত্রায় সময়মতো ছোট বিমানটি উড়াল দিল। বসনিয়া ছেড়ে অবশেষে নিচে ভেসে উঠল ক্রোয়েশিয়ার ভূখণ্ড। পাহাড়ি দৃশ্য পেছনে ফেলে পৌঁছে গেলাম জাগরেবের ফ্রাঞ্জো তুদমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ক্রোয়েশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতাপরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের অন্যতম রাষ্ট্রনায়ক ফ্রাঞ্জো তুদমানের নামানুসারে বিমানবন্দরটির নামকরণ। অবশ্য ক্রোয়েশিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দর রাজধানী জাগরেবে অবস্থিত হওয়ার কারণে এটি জাগরেব বিমানবন্দর নামেও পরিচিত।</p><p><strong>জাগরেব: নতুন শহরে প্রথম সন্ধ্যা—</strong></p><p>বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সিতে শহরের দিকে যেতে যেতে প্রথমেই চোখে পড়ল নগরটির ভিন্ন চরিত্র। সারায়েভো যেন পাহাড়ের কোলে আশ্রয় নেওয়া এক ঐতিহাসিক নগরী; আর জাগরেবের পরিচয় প্রশস্ত রাস্তা, সবুজ পার্ক, পুরোনো ইউরোপীয় স্থাপত্য এবং আধুনিক নগরজীবনের শান্ত সহাবস্থানে।</p><p>ক্রোয়েশিয়া হচ্ছে স্লোভেনিয়া, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং মন্টিনেগ্রোবেষ্টিত দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। দেশটির আয়তন প্রায় ৫৬ হাজার ৫৪২ বর্গকিলোমিটার এবং সরকারি মুদ্রা ইউরো। ইউরোপের বলকান অঞ্চলে ও অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি চমৎকার পর্যটনপ্রধান দেশ। সংসদীয় প্রজাতন্ত্রের দেশটি ১৯৯১ সালের ২৫ জুন যুগোস্লাভিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়।</p><p>ভূগোলের মানচিত্রে ক্রোয়েশিয়া বলকানের অংশ হলেও, ইতিহাস, ধর্ম, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নে অনেক ক্রোয়েশীয় নিজেদের মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপের অংশ হিসেবে দেখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তবে সব ক্রোয়েশীয়র দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়; অনেকে নিজেদের বলকান পরিচয়ও স্বীকার করেন।এই দ্বিধার পেছনে রয়েছে কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস, অটোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে সংঘাত, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় শাসনের উত্তরাধিকার, যুগোস্লাভিয়ার অভিজ্ঞতা এবং স্বাধীন ক্রোয়েশিয়ার ইউরোপমুখী যাত্রা।</p><blockquote>পিৎজা ডেলিভারির কাজে প্রচুর ভারতীয় আছেন, কিছু বাংলাদেশিও আছেন। ক্রোয়েশিয়ায় আসতে সরকারি খরচের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয় যাঁদের মাধ্যমে আসেন, সেই এজেন্সিগুলোর চাহিদা মেটাতে। সরকারিভাবে কর্মসংস্থানের এই বিষয়গুলো দেখভাল করতে পারলে খরচ অনেক কম হতো।</blockquote><p>স্বাধীন ক্রোয়েশিয়ার ইউরোপমুখী যাত্রার এই প্রবণতা বিমানবন্দর থেকে শহরকেন্দ্রে আসার পথেই যেন চোখে পড়ে। রাস্তার দুই পাশের স্থাপত্য, ভবনগুলোর নির্মাণশৈলী এবং নগরজীবনের বিন্যাসে মধ্য ইউরোপীয় ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্টভাবে অনুভব করা যায়। মনে হয়, স্থাপত্যের ভাষায় ক্রোয়েশিয়া তার ইউরোপীয় পরিচয়কে তুলে ধরতে চায়।</p><p>শহরে পৌঁছে উঠলাম আগে থেকে বুক করা এয়ারবিএনবির অ্যাপার্টমেন্টে। এয়ারবিএনবি (Airbnb) হলো অনলাইনে বাসা, অ্যাপার্টমেন্ট, কক্ষ বা অন্যান্য আবাসন স্বল্প মেয়াদে ভাড়া নেওয়ার একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম। হোটেলের আনুষ্ঠানিক পরিবেশের বদলে এখানে স্থানীয় মানুষের আবাসিক জীবনের কাছাকাছি থাকার সুযোগ পাওয়া যায়।</p><p>কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত বিঅ্যান্ডবি কনসেপ্ট নামের ছোট পরিসরের আবাসনটি ছিল পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও আরামদায়ক। কক্ষে প্রয়োজনীয় সব সুবিধাই ছিল। তবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল শহরকে হেঁটে দেখার জন্য এর সুবিধাজনক অবস্থান।</p><p>হোটেলে ব্যাগ রেখে বেরিয়ে পড়লাম আশপাশটা দেখতে। প্রথম দিনের সন্ধ্যা, তাই খুব বেশি দূরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল না। পরদিন পুরো দিন হেঁটে হেঁটে জাগরেবকে আবিষ্কার করব—এই প্রত্যাশা নিয়েই শুরু হলো নতুন শহরের সঙ্গে পরিচয়।</p><p>জাগরেবের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন, শহরের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি স্থাপনা। এখানকার রেলযোগাযোগ উনিশ শতকে গড়ে ওঠে। ইউরোপের অনেক শহরের মতো জাগরেবেও রেলপথ কেবল যাতায়াতের মাধ্যম ছিল না; বরং নগরায়ণ, বাণিজ্য ও মানুষের চলাচলের নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছিল।</p><p>স্টেশন থেকে বেরিয়ে সামনে তাকাতেই চোখে পড়ল বিস্তৃত সবুজ চত্বর, কিং টমিস্লাভ স্কয়ার। চত্বরের মাঝখানে ঘোড়ার পিঠে রাজা টমিস্লাভের মূর্তি। তার ওপারে হলুদাভ রঙের দৃষ্টিনন্দন আর্ট প্যাভিলিয়ন। এই চত্বরের সৌন্দর্যের বিশেষত্ব হলো এর উন্মুক্ত বিন্যাস।</p><p>স্টেশনের কাছেই বিখ্যাত হোটেল এসপ্লানেড। ১৯২৫ সালে উদ্বোধিত এই হোটেল নির্মিত হয়েছিল মূলত ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের যাত্রীদের বিলাসবহুল আবাসনের কথা মাথায় রেখে। ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস ছিল ইউরোপের অন্যতম বিখ্যাত বিলাসবহুল দূরপাল্লার ট্রেন, যা পশ্চিম ইউরোপের সঙ্গে মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের সংযোগ স্থাপনে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল। ট্রেনটি ছিল বিলাসিতা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, অভিজাত জীবনযাপন এবং ইউরোপের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক প্রতীক। প্যারিস–ভেনিস–ইস্তাম্বুল রুটের একটি পর্যায়ে জাগরেব গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজ ছিল। হোটেলটির ইতিহাস সেই সময়েরই স্মারক। আগাথা ক্রিস্টির বিখ্যাত গোয়েন্দা উপন্যাস ‘মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’ এই ট্রেনকে আরও পরিচিত করে তুলেছে।</p><p>জাগরেবে প্রথম সন্ধ্যায় আর বেশি দূর এগোলাম না। পরদিন সকাল থেকে শুরু হবে জাগরেবকে পায়ে হেঁটে চেনার দিনমান অভিযান।</p><p><strong>হেঁটে হেঁটে জাগরেব—</strong></p><p>পরদিন সকালেই বেরিয়ে পড়লাম। ভ্রমণে আমার সবচেয়ে প্রিয় পদ্ধতি হলো হেঁটে শহর দেখা। গাড়ির জানালা দিয়ে কোনো শহরের রাস্তা, ভবন কিংবা চত্বর দেখা যায়; কিন্তু হাঁটলে শহরকে অনুভব করা যায়। মানুষের কথাবার্তা, ক্যাফের কোলাহল, দোকানের সাজসজ্জা, ট্রামের শব্দ, রাস্তার গন্ধ—সবকিছু মিলিয়ে শহরের সঙ্গে গড়ে ওঠে এক ব্যক্তিগত সম্পর্ক।</p><p>জাগরেবকে মোটামুটি দুটি ঐতিহাসিক অংশে ভাগ করে দেখা যায় আপার টাউন আর লোয়ার টাউন।</p><p>লোয়ার টাউন অপেক্ষাকৃত সমতল। প্রশস্ত রাস্তা, বড় বড় চত্বর, সবুজ পার্ক, জাদুঘর এবং উনিশ ও বিশ শতকের ইউরোপীয় স্থাপত্যে সাজানো অংশ। অন্যদিকে আপার টাউন হলো পুরোনো জাগরেবের প্রাণ—সরু পাথরের রাস্তা, মধ্যযুগীয় প্রবেশপথ, পুরোনো গির্জা, সংসদ ভবন এবং উঁচু ঢালের ওপর গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক জনপদ।</p><p>হাঁটতে হাঁটতে লোয়ার টাউন থেকে এগিয়ে গেলাম আপার টাউনের দিকে। টিলা বেয়ে কিংবা সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠতে উঠতে মনে হলো, একই শহরের মধ্যে যেন দুটি আলাদা সময়ের বসবাস। নিচের শহরে আধুনিক নগরজীবনের গতি আর ওপরের শহরে ইতিহাসের ধীর পদচারণ।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>ওপরের শহরে সেন্ট মার্ক্স স্কয়ারের নান্দনিকতায় চোখ আটকে গেল, বিশেষ করে সেন্ট মার্ক্স চার্চের রঙিন ছাদে। বিভিন্ন রঙের টালি দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার ঐতিহাসিক প্রতীক ও জাগরেবের পরিচিত চিহ্ন। চারপাশের ভবনগুলোর তুলনায় গির্জাটির ছাদ এতটাই স্বতন্ত্র যে সহজেই বোঝা যায়, কেন এটি শহরের অন্যতম পরিচিত দৃশ্য। আশপাশেই ক্রোয়েশিয়া সংসদ ভবনসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো।</p><p>এরপর এগিয়ে গেলাম স্টোন গেটের দিকে। পুরোনো শহরের এই প্রবেশপথ জাগরেবের অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক নিদর্শন। পাথরের পথ, পুরোনো দেয়াল আর চারপাশের স্থাপত্যের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল, প্রতিটি বাঁক যেন শহরের অতীত ঐতিহ্যের স্মৃতি স্মারক।</p><p>কিন্তু আপার টাউনে আমার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছিল একটি জাদুঘরে।</p><p><strong>ভাঙা সম্পর্কের স্মৃতি জাদুঘর—</strong></p><p>Museum of Broken Relationships—জাদুঘরটির নাম শুনেই কৌতূহল জাগে।</p><p>ইউরোপ হচ্ছে জাদুঘরে মহাদেশ। সাধারণত জাদুঘরে আমরা দেখি রাজা-বাদশাহদের স্মৃতিচিহ্ন, যুদ্ধের অস্ত্র, প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন কিংবা বিখ্যাত মানুষের ব্যবহৃত সামগ্রী; কিন্তু ভাঙা সম্পর্কের স্মৃতি নিয়ে একটি জাদুঘর! অভিনব আর চমকজাগানো বটে।</p><p>ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানুষ কতভাবেই–না সেই অতীতকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে। কেউ পুরোনো ছবি সরিয়ে রাখে, কেউ চিঠি ছিঁড়ে ফেলে, কেউ উপহার তুলে রাখে বহুদিন অগোচরে। আবার কোনো কোনো স্মৃতি এতটাই গভীরে গেঁথে থাকে যে সম্পর্ক শেষ হলেও তার রেশ থেকে যায় দীর্ঘকাল।</p><p>এই জাদুঘরে মানুষের সেই ব্যক্তিগত স্মৃতিগুলোই জায়গা পেয়েছে।</p><p>কোথাও পুরোনো খেলনা, কোথাও কাপড়, কোথাও চিঠি, কোথাও এমন ছোট্ট কোনো বস্তু, যার বাইরের জগতে হয়তো তেমন কোনো মূল্যই নেই। অথচ তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কারও ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, অভিমান, অপেক্ষা কিংবা একসময় একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন।</p><p>বস্তুগুলো নিজেরা কথা বলে না। কিন্তু তাদের পাশে লেখা মানুষের গল্পগুলো যেন নীরবে অনেক কিছু বলে যায়।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/durporobash/ahmfwx9jbg">সারায়েভো: ইউরোপের জেরুজালেম</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/pvj2d4qt/11.JPG"><figcaption>জাগরেব শহর কেন্দ্র</figcaption></figure><p>একটি সাধারণ জিনিস কীভাবে মানুষের জীবনের অসাধারণ স্মৃতির বাহক হয়ে উঠতে পারে, এই জাদুঘরে এসে তা নতুন করে উপলব্ধি করলাম। যে বস্তু একসময় দুজন মানুষের ভালোবাসার প্রতীক ছিল, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সেটিই হয়তো হয়ে উঠেছে বিচ্ছেদের সাক্ষী।</p><p>আমার কাছে জাদুঘরটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ প্রদর্শিত বস্তুগুলো নয়, বরং সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের গল্প। এখানে ইতিহাস কোনো রাজা বা রাষ্ট্রের নয়; একান্ত ব্যক্তিগত জীবনের। অথচ সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্যেই ধরা পড়ে মানুষের অনুভূতি।</p><p>ভালোবাসা, প্রত্যাশা, হতাশা, বিচ্ছেদ—ভাষা ও দেশের সীমা ছাড়িয়ে এসব অনুভূতি আমাদের সবারই চেনা। মানুষের সম্পর্কের ধরন আলাদা হতে পারে, সামাজিক বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা হারানোর বেদনা কিংবা অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা খুব একটা আলাদা নয়।</p><p>ইতিহাসের জাদুঘরে সাধারণত সময়ের বড় বড় ঘটনাকে সামনে রাখা হয়। কিন্তু এই জাদুঘর দেখাল, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনও একেকটি ইতিহাস। রাষ্ট্রের ইতিহাসে যাদের নাম থাকে না, তাদের জীবনেও থাকে আনন্দ-বেদনা, অর্জন-হারানোর অসংখ্য অধ্যায়।</p><p>জাগরেবের ঐতিহাসিক স্থাপত্য দেখতে এসে এমন এক মানবিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হব, ভাবিনি। শহরটির স্মৃতিতে তাই ভাঙা সম্পর্কের স্মৃতি জাদুঘরটি আমার কাছে একেবারেই আলাদা হয়ে রইল।</p><p><strong>পাহাড় থেকে নিচে—ফানিকুলার, ট্রাম আর নগরজীবন—</strong></p><p>আপার টাউনে উঠতে গিয়ে বেশ কায়িক পরিশ্রম হলো। নামার সময় পরিশ্রম কম। ভাবলাম এবার একটু বিনোদন নেওয়া যাক।</p><p>জাগরেবের ঐতিহাসিক ফানিকুলার আপার আর লোয়ার টাউনকে যুক্ত করেছে মাত্র ৬৬ মিটার দীর্ঘ একটি খাড়া পথে। ১৮৯০ সালে চালু হওয়া এই ছোট্ট যন্ত্রচালিত রেলপথ শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, শহরের ঐতিহ্যেরও অংশ।</p><p>ফানিকুলারে মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে লোয়ার টাউনে নেমে এলাম।</p><p>জাগরেবের ট্রামব্যবস্থার মধ্যেও একধরনের পুরোনো ইউরোপীয় সৌন্দর্য রয়েছে। রাস্তার মধ্য দিয়ে ট্রাম এগিয়ে যাচ্ছে, দুই পাশে ঐতিহাসিক ভবন, কোথাও ক্যাফের টেবিলে বসে মানুষ গল্প করছে, কোথাও দোকানের সামনে পথচারীদের আনাগোনা। দৃশ্যগুলোতে নেই কোনো কৃত্রিম জাঁকজমক; বরং রয়েছে একটি শহরের স্বাভাবিক ছন্দ।</p><p>কোনো শহরের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু তার বিখ্যাত স্থাপনাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। শহরটি কীভাবে প্রতিদিন বেঁচে থাকে, তার মানুষ কীভাবে চলাফেরা করে, কোথায় বসে গল্প করে, কীভাবে পুরোনো আর নতুনকে একসঙ্গে ধারণ করে—এসবও শহরকে বোঝার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/durporobash/sfn67pkteq">এক শ্রমিক নেতা আরেক পিয়ানোবাদকের দেশে</a></aside><p><strong>টেসলার খোঁজে—</strong></p><p>নিকোলা টেসলা—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাসে এক বিস্ময়কর নাম। বিদ্যুৎ–প্রযুক্তির বিকাশে, বিশেষ করে অলটারনেটিং কারেন্ট বা এসি (AC) ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর অবদান বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।</p><p>নিকোলা টেসলাকে নিয়ে সার্বিয়া আর ক্রোয়েশিয়ার টানাটানি। সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি নিকোলা টেসলার নামে। সার্ব বংশোদ্ভূত টেসলার জন্ম কিন্তু বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার স্মিলজানে (ক্রোয়েশীয় উচ্চারণের স্মিলিয়ান)। ক্রোয়েশিয়ায় জন্ম নেওয়া সার্ব বংশোদ্ভূত এই বিজ্ঞানী জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। তাঁর জীবন ছিল আবিষ্কার, কল্পনা ও বৈজ্ঞানিক সাধনায় পরিপূর্ণ। অথচ জীবনের শেষ অধ্যায়ে নিউইয়র্কের একটি হোটেলে অনেকটা নিঃসঙ্গ অবস্থায় কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। আজকের বিশ্বে জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার নামকরণ নিকোলা টেসলার স্মরণে।</p><p>জাগরেবে এসে টেসলাকে স্মরণ না করার অর্থ বিজ্ঞান আর ইতিহাসকে অবজ্ঞা করা। জাগরেবের বিখ্যাত স্থাপনা নিকোলা টেসলা টেকনিক্যাল মিউজিয়াম দেখার ইচ্ছা ছিল প্রবল। হেঁটে হেঁটে পৌঁছে গেলাম সেই জাদুঘরের ঠিকানায়; কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি, মিউজিয়াম বন্ধ। ভেতরে যাওয়া হলো না, ঘুরে ঘুরে চারপাশটা দেখলাম। কিছুটা হতাশ হলাম। ভ্রমণের আনন্দ তো শুধু পরিকল্পনা সফল হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো কোনো অপূর্ণতাও ভ্রমণের স্মৃতির অংশ হয়ে যায়।</p><p>ক্রোয়েশিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিশ্বব্যাপী সুনাম। সাগর আর পাহাড়ের নৈসর্গিকতায় ক্রোয়েশিয়ার অবকাশযাপনকেন্দ্রগুলো বেশ বিখ্যাত। সেই সঙ্গে জাগরেবকে মনে হলো একটি ভাইব্রেন্ট রাজধানী। শহর কেন্দ্রে ফেরার পথে চোখে পড়ল নান্দনিক সব স্থাপত্যের স্থাপনা।</p><p>হাঁটতে হাঁটতে এবার পৌঁছালাম জাগরেবের অন্যতম বিখ্যাত স্থাপনা ক্রোয়েশিয়া ন্যাশনাল থিয়েটারের সামনে।</p><p>হলুদাভ রঙের দৃষ্টিনন্দন ভবন, বিশাল গম্বুজ, অলংকৃত প্রবেশপথ—দূর থেকেই স্থাপনাটি নজর কাড়ে। দেখলেই মনে হয়, এটি একটি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়। নাটক, অপেরা ও ব্যালে—তিনটি শিল্পধারাকে ধারণ করে ন্যাশনাল থিয়েটারটি ক্রোয়েশিয়ার প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।</p><p>রাজনৈতিক ইতিহাস আমাদের বলে দেয়, একটি জাতি কীভাবে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছে, কীভাবে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। আর তার শিল্পসংস্কৃতি আমাদের জানায়, সেই জাতির মানুষ কীভাবে নিজেদের অনুভূতি, স্বপ্ন, সংকট ও আত্মপরিচয় প্রকাশ করেছে।</p><p>টেসলার জাদুঘর দেখা হলো না ঠিকই, কিন্তু জাগরেবে তাঁর স্মৃতি খুঁজে পাওয়ার আরেকটি সুযোগ তখনো বাকি ছিল।</p><p><strong>টেসলার স্মৃতির সামনে—</strong></p><p>শহরের কেন্দ্রের দিকে ফিরে এসে পৌঁছালাম রেস্তোরাঁ পাড়ার কাছাকাছি। মাসারিকোভা, প্রেরাদোভিচেভা ও টেসলিনা সড়কের সংযোগস্থলের কাছে এসে চোখে পড়ল ব্রোঞ্জের তৈরি নিকোলা টেসলার মূর্তি। চারপাশে শহরের ব্যস্ততা, মানুষের আসা-যাওয়া—আর তারই মধ্যে বসে আছেন আধুনিক বিদ্যুৎ–প্রযুক্তির ইতিহাসে অসামান্য অবদান রাখা এই বিজ্ঞানী চিন্তামগ্ন ভঙ্গিতে। ভাস্কর্যটি বিখ্যাত ক্রোয়েশীয় শিল্পী ইভান মেস্ত্রোভিচের অমর কীর্তি।</p><p>জাগরেবের রাজপথে তাঁর এই উপস্থিতি মনে করিয়ে দিল, একজন মানুষের আবিষ্কার কীভাবে দেশ-কাল ছাড়িয়ে গোটা পৃথিবীর জীবন বদলে দিতে পারে। যে মানুষটি বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তির জগতে এমন গভীর প্রভাব রেখে গেছেন, তাঁর স্মৃতি আজও একটি শহরের পথচারীদের সামনে জীবন্ত হয়ে আছে। ভূখণ্ড, জাতিগত পরিচয়, কর্মক্ষেত্র—সবকিছু ছাপিয়ে একজন বিজ্ঞানীর আবিষ্কারের সুফল ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে। বিজ্ঞান ও জ্ঞান শেষ পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির সম্পদ, টেসলা তারই এক অসাধারণ উদাহরণ।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/durporobash/azf2vqfyiq">মালদোভায় মাটির নিচে লুকিয়ে আছে এক বিশাল রাজ্য</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/wgfd5biu/12.JPG"><figcaption> ফানিকুলার</figcaption></figure><p><strong>জাগরেব ডাউনটাউন—পুরোনো ইউরোপের জীবন্ত ছন্দ—</strong></p><p>দিনভর হাঁটাহাঁটি করে ক্ষুধা বেশ চেপে বসেছে। টেসলার ভাস্কর্যের পাশেই রেস্তোরাঁ পাড়া। সেখানে পেয়ে গেলাম একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁ, বেশ অভিজাত। অর্ডার দিলাম খাসির কাবাব।</p><p>কিছুক্ষণের মধ্যেই সামনে এল খাবার। সারা দিনের ক্লান্তির পর পরিচিত মসলার গন্ধে ভরা গরম কাবাবের সামনে বসে মনে হলো, দূর ইউরোপে থেকেও উপমহাদেশের স্বাদ।</p><p>খাবার শেষে আবার বেরিয়ে পড়লাম শহরের প্রাণকেন্দ্রের দিকে। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছালাম জাগরেবের প্রাণকেন্দ্র বান ইয়োসিপ ইয়েলাচিচ চত্বরে। চত্বরের মাঝখানে ঘোড়ার পিঠে বসা তাঁর ব্রোঞ্জের মূর্তি শহরের ইতিহাস ও ক্রোয়েশীয় জাতীয় পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর ক্রোয়েশীয় সেনানায়ক ও রাজনীতিবিদ।</p><p>চত্বরটি জাগরেবের কেন্দ্রস্থল। চারপাশে উনিশ শতকের দৃষ্টিনন্দন ভবন, দোকানপাট, ক্যাফে, ট্রাম আর মানুষের অবিরাম চলাচল। কোথাও মানুষ কেনাকাটা করছে, কোথাও বন্ধুরা বসে গল্প করছে, কোথাও পথচারীরা ট্রামের জন্য অপেক্ষা করছে। শহরটির প্রতিটি দৃশ্যেই যেন একটি স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য।</p><p>জাগরেবের ডাউনটাউন আমার কাছে বিশেষভাবে ভালো লাগল এর জীবন্ত অথচ পরিমিত পরিবেশের জন্য। এখানে ইতিহাস আছে, কিন্তু ইতিহাস যেন বর্তমানকে আড়াল করে রাখেনি। পুরোনো ভবনের পাশেই আধুনিক দোকান, ঐতিহাসিক চত্বরের মধ্য দিয়ে ট্রামের চলাচল আর শত বছরের স্থাপত্যের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আজকের নগরবাসী—সব মিলিয়ে শহরটি নিজের অতীতকে সঙ্গে নিয়েই বর্তমানের পথে এগিয়ে চলেছে।</p><p>জাগরেবকে খুব বিশাল শহর বলে মনে হয় না। কিন্তু পায়ে হেঁটে যতই এগিয়েছি, ততই সামনে এসেছে নতুন কোনো ইতিহাস, কোনো স্থাপত্য, কোনো শিল্পকর্ম কিংবা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্য।</p><p><strong>হঠাৎ বাংলাদেশ—</strong></p><p>দিনের শেষ দিকে শহরের কেন্দ্রের বান ইয়োসিপ ইয়েলাচিচ চত্বরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ চোখে পড়ল কয়েকজন বাংলাদেশিকে। বিদেশের মাটিতে নিজের দেশের মানুষ দেখার অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে খুব বেশি শব্দের প্রয়োজন হয় না। অচেনা শহরের রাস্তায় হঠাৎ পরিচিত ভাষার শব্দ কানে এলে মনে হয়, দূরদেশের মধ্যেও যেন নিজের একটি ছোট্ট ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেল।</p><p>তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে গেলাম। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই শুরু হলো আলাপ। জানতে চাইলাম, কত দিন ধরে জাগরেবে আছেন, কী কাজ করেন, কেমন আছেন।</p><p>কথা প্রসঙ্গে এল অভিবাসনের বিষয়। কে কীভাবে ক্রোয়েশিয়ায় এসেছেন, কাজের সুযোগ কেমন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া কী রকম—এসব বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে জানলাম।</p><p>পিৎজা ডেলিভারির কাজে প্রচুর ভারতীয় আছেন, কিছু বাংলাদেশিও আছেন। ক্রোয়েশিয়ায় আসতে সরকারি খরচের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয় যাঁদের মাধ্যমে আসেন, সেই এজেন্সিগুলোর চাহিদা মেটাতে। সরকারিভাবে কর্মসংস্থানের এই বিষয়গুলো দেখভাল করতে পারলে খরচ অনেক কম হতো।</p><p>পর্যটক হিসেবে আমরা একটি দেশে প্রবেশ করি। হোটেলে উঠি, শহরের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখি। ছবি তুলি, স্থানীয় খাবার খাই। তারপর কয়েক দিনের মধ্যেই আবার অন্য গন্তব্যে চলে যাই। আমাদের কাছে শহরটি একটি ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা।</p><p>কিন্তু প্রবাসী বা অভিবাসী মানুষের কাছে একই শহরের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন।</p><p>তাঁদের কাছে জাগরেব কেবল ঐতিহাসিক স্থাপত্য আর সুন্দর চত্বরের শহর নয়। এটি জীবিকার শহর, কাজের শহর, সংগ্রামের শহর। এখানে প্রতিদিনের দায়িত্ব আছে, ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা আছে, আছে নিজের অবস্থান তৈরি করার লড়াই। পরিবার হয়তো হাজার হাজার মাইল দূরে, কিন্তু জীবনের প্রতিদিনের হিসাব মেলাতে হয় এই শহরের রাস্তায়, কর্মস্থলে, ছোট্ট বাসায়।</p><p>একজন পর্যটক যে রাস্তায় ছবি তুলে মুগ্ধ হন, একজন অভিবাসী হয়তো সেই রাস্তায় প্রতিদিন কাজে যাওয়ার জন্য হাঁটেন। পর্যটকের কাছে যে শহর কয়েক দিনের স্মৃতি, অভিবাসীর কাছে সেই শহরই হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘ জীবনের বাস্তবতা।</p><p><strong>রাতের জাগরেব—</strong></p><p>সারা দিন হেঁটে হোটেলে ফেরার আগে দেখতে চাইলাম রাতের জাগরেব। আপার আর লোয়ার টাউনের সংযোগে প্রচুর রেস্তোরাঁ। রেস্তোরাঁয় বাইরে রাস্তায় অনেক জায়গা নিয়ে টেবিল–চেয়ার বসানো, বেশ জমজমাট রাতের জাগরেব। নৈশভোজ সেরে নিলাম এক ব্যস্ত রেস্তোরাঁয়, লম্বা লাইন দেখে জনপ্রিয়তা সম্পর্কে ধারণা নিলাম। লাইনে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। জাগরেবে ভারতীয়দের উপস্থিতি বেশ।</p><p>নৈশভোজ শেষে যখন হোটেলে ফিরছিলাম, তখন শরীরে ক্লান্তি থাকলেও মনে ছিল পরিতৃপ্তি। একটি শহরকে দেখেছি তার ঐতিহাসিক স্থাপত্যে, শিল্পসংস্কৃতিতে, বিজ্ঞানীর স্মৃতিতে, ট্রাম আর ব্যস্ত চত্বরে। আবার অচেনা শহরে নিজের দেশের কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি জীবনের অন্য এক বাস্তবতা।</p><p>নৈশভোজের পর রেস্তোরাঁ পাড়া ও শহরকেন্দ্রের ব্যস্ত, জমকালো পরিবেশ পেছনে ফেলে অলিগলির নীরবতা ভেঙে রাত ১০টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম হোটেলে। রাতের নির্জন সড়কে একাকী হেঁটে চলার মধ্যেও যে নিরাপত্তাবোধ কাজ করে, তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে একটি নিরাপদ রাষ্ট্রের নীরব শহর।</p><p>সারায়েভো থেকে জাগরেব—দুটি শহর, দুটি ইতিহাস। কিন্তু মানুষের গল্প প্রায় একই—কেউ স্মৃতি নিয়ে বাঁচে, কেউ নতুন ভবিষ্যতের খোঁজে শহর বদলায়। আর একজন পথিকের কাজ শুধু জায়গা দেখা নয়; সেই গল্পগুলোকে নিজের ভেতরে ধারণ করে ফিরে আসা।</p><p>পর দিন ট্রেনযাত্রায় ক্রোয়েশিয়া ছেড়ে যেতে হবে স্লোভেনিয়ায়, নতুন কিছু দেখার হাতছানিতে।</p><p><strong>*লেখক: শোয়েব সাঈদ</strong>, কানাডার মন্ট্রিয়লে একটি বহুজাতিক করপোরেটে ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত।</p>
<p>ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটিতে (আইএসইউ) নবীন শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, বর্ণিল আয়োজন এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফল-২০২৬’ সেমিস্টারের নবীনবরণ। গত ২৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাখালী ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল আউয়াল খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মেম্বার সেক্রেটারি হাসনাত মোশাররফ।</p><p>আইএসইউর উপাচার্য নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দক্ষ ও মানবিক মানুষ গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষিত ও পেশাগতভাবে সফল নয়; বরং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সততা, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সাফল্য অর্জন সম্ভব।</p><p>নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে হাসনাত মোশাররফ বলেন, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি (আইএসইউ) শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে চায়, যেন তাঁরা পেশাগত সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।</p><p>নবীনদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, একাডেমিক কার্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংগীত, নৃত্য ও দলীয় পরিবেশনার মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীল প্রতিভা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় পুরো অডিটোরিয়াম উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।</p><p>অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইএসইউর ট্রেজারার অধ্যাপক এইচ টি এম কাদের নেওয়াজ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মনজুর মোর্শেদ মাহমুদ, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম, আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ একরামুল হক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, রেজিস্ট্রার মো. ফাইজুল্লাহ কৌশিকসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা।</p>
নিম্নতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত ঢাকার মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া এবং গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। এর মধ্যেই সরকার একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির ইন্ধন যোগাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সংকট সমাধানে সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে রোববার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রীসহ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনসহ বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে দরকষাকষির জেরে দূরত্ব বাড়ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে জোটের শরীক দলগুলোর ভেতর থেকে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ভেতরে আসলে কী হচ্ছে?
উদ্ভিদজাত খাবার, চর্বি এবং গাঁজানো খাবার বলিরেখা কমাতে, কোলাজেন বাড়াতে এবং আমাদের ত্বকের গঠন উন্নত করতে পারে।
এ যাবতকালে ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে এটিকে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের শতভাগ অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে বাইন্যান্স। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছে।
আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার খবরে গুরুত্ব পেয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ও এর কার্যকারণ, এছাড়া পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় স্থান করে নিয়েছে সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যু নিয়ে নানা ধরনের খবর ও রাজনীতির খবর।
১৬১৩ সালে লোহিত সাগরে পর্তুগিজ বণিকরা সব থেকে বড় ভারতীয় জাহাজ 'রহিমি'র পথ অবরোধ করে এবং আটক করে নিয়ে যায়। এই জাহাজের মালিক ছিলেন মরিয়ম-উজ-জামানি নামে এক নারী।
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, এবারের পরীক্ষায় পাস করেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থীই এবার ফেল করেছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দুই সদস্য বিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
খুলনার শিপইয়ার্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ওয়ান শুটারগান, একটি দুনলা বন্দুক ও ১০ রাউন্ড শটগানের গুলিসহ সন্ত্রাসী আশিক বাহিনীর শ্যুটার জনিকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে।
চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের কাজে গতি আনতে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের একটি যৌথ ওয়ার্কিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
একটি দক্ষ বিচারব্যবস্থার জন্য বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসন ও বিচারকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করে বাংলাদেশের নিম্ন আদালতে কর্মরত বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
খুলনা মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় খুলনা নগরীর রায়েরমহল বড় মসজিদ এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তার ওপর হামলা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড রতন কুমার দত্তের বিরুদ্ধে ভূমিসেবা প্রদানে হয়রানি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।