space

১০০ বছরে একবার ঘটবে, তবু পরের বছরই মহাকাশে কেন একই রকম ঘটনা দেখা যায়

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
১০০ বছরে একবার ঘটবে, তবু পরের বছরই মহাকাশে কেন একই রকম ঘটনা দেখা যায়
১০০ বছরে একবার ঘটবে, তবু পরের বছরই মহাকাশে কেন একই রকম ঘটনা দেখা যায়
<p>খবরের কাগজে বা অনলাইনে মাঝেমধ্যেই এমন চমকপ্রদ শিরোনাম চোখে পড়ে—‘এবারের সূর্যগ্রহণ জীবনে একবারই দেখার সুযোগ’, ‘এই ধূমকেতু আবার ফিরবে ৮০ বছর পর’ কিংবা ‘এমন গ্রহের সারি দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ১০০ বছর’। এসব শিরোনাম পড়ে মনে হতেই পারে, ইশ! এবার দেখতে না পেলে বুঝি জীবনে আর কোনো দিন এমন দৃশ্য দেখার সুযোগই পাব না। অথচ দেখা যায়, ঠিক তার পরের বছরই আবার সূর্যগ্রহণ হচ্ছে, আকাশে উঁকি দিচ্ছে নতুন কোনো ধূমকেতু, কিংবা গ্রহগুলো সেজে বসেছে বিশেষ কোনো বিন্যাসে। তখন মনে প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক—আগের বছর যে ঘটনাকে ‘১০০ বছরে একবার’ বলা হয়েছিল, ঠিক পরের বছরই মহাকাশে আবার তেমন ঘটনা ঘটছে কীভাবে?</p><p>এই গোলকধাঁধার আসল উত্তর লুকিয়ে আছে মহাজাগতিক ঘটনাটি আসলে কী এবং পৃথিবী থেকে সেটি দেখার সুযোগ কেমন, এই দুটি বিষয়ের মধ্যে। মহাকাশে কোনো একটি ঘটনা ঠিক কতবার ঘটছে আর পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সেটি কতবার দেখা যাচ্ছে—দুটি বিষয় কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা।</p><p>এর সবচেয়ে দারুণ উদাহরণ হতে পারে সূর্যগ্রহণ। যেমন ধরুন, ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল উত্তর আমেরিকার কিছু অঞ্চল থেকে চমৎকার একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। আবার ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু অঞ্চল থেকে আরও একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে। তার মানে, একটি গ্রহণের পর আরেকটি গ্রহণ দেখার জন্য কিন্তু আমাদের শত শত বছর অপেক্ষা করতে হয়নি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%A3-%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%AC">কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ কি সম্ভব</a></aside><blockquote>পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট শহর বা অঞ্চল থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ আসতে কয়েক দশক বা এক শ বছরও লেগে যেতে পারে।</blockquote><p>তবে একটা বিষয় খেয়াল করেছেন কী? দুটি গ্রহণের দৃশ্য দেখার জায়গা কিন্তু এক নয়। সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর বুকে যে সরু পথ তৈরি করে, কেবল সেই পথের ওপর থাকা মানুষেরাই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে পারেন। এর আশপাশের জায়গাগুলো থেকে হয়তো বড়জোর আংশিক গ্রহণ দেখা যায়, আর পৃথিবীর অন্য অনেক জায়গা থেকে গ্রহণ দেখাই যায় না।</p><p>এ জন্যই পৃথিবীতে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটলেই যে সেটা আমাদের বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে, এমন কোনো কথা নেই। পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট শহর বা অঞ্চল থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ আসতে কয়েক দশক বা এক শ বছরও লেগে যেতে পারে। অথচ এই দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তে হয়তো বেশ কয়েকবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে গেছে!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/lb17ufb96h">পরবর্তী সূর্যগ্রহণ কবে হবে</a></aside><blockquote>সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর বুকে যে সরু পথ তৈরি করে, কেবল সেই পথের ওপর থাকা মানুষেরাই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে পারেন।</blockquote><p>সূর্যগ্রহণের এই পুনরাবৃত্তির চমৎকার একটি ছন্দ আছে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় সারোস চক্র। প্রতি ১৮ বছর ১১ দিন ৮ ঘণ্টা পর সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ ঠিক আগের মতো একই অবস্থানে ফিরে আসে। এর ফলে একই ধরনের সূর্যগ্রহণ আবার ঘটার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে পৃথিবীর একই জায়গা থেকে সেই গ্রহণটি আবার দেখা যাবে। কারণ, এই দীর্ঘ সময়ে পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর অনেকবার ঘুরে আসে। বিশেষ করে সারোস চক্রের ওই অতিরিক্ত ৮ ঘণ্টার কারণে পৃথিবী তার নিজ অক্ষে আরও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি ঘুরে যায়। ফলে পরের গ্রহণের ছায়াপথ পৃথিবীর বুকে আগেরবারের তুলনায় প্রায় ১২০ ডিগ্রি পশ্চিমে সরে যায়। সোজা কথায়, গ্রহণের ধরন এক হলেও পৃথিবীর যে অঞ্চলের ওপর চাঁদের ছায়া পড়ে, তা একেবারেই বদলে যায়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/4t54z85n9x">আমার দেখা সূর্যগ্রহণ</a></aside><blockquote>সূর্যগ্রহণের পুনরাবৃত্তির চমৎকার একটি ছন্দ আছে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় সারোস চক্র। প্রতি ১৮ বছর ১১ দিন ৮ ঘণ্টা পর সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ ঠিক আগের মতো একই অবস্থানে ফিরে আসে।</blockquote><h2><strong>কিছু ঘটনা সত্যিই বহু বছর পরপর ঘটে</strong></h2><p>অবশ্য সব মহাজাগতিক ঘটনাই যে প্রতিবছর ঘটে, তা কিন্তু নয়। বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুর কথাই ধরা যাক। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে এর গড়ে সময় লাগে প্রায় ৭৬ বছর। ১৯১০ সালে আকাশে এই ধূমকেতুটি দেখা গিয়েছিল, এরপর তা আবার ফিরে আসে ১৯৮৬ সালে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, পরেরবার এটি আমাদের আকাশে উঁকি দেবে ২০৬১ সালে। অর্থাৎ, ১৯৮৬ সালে জন্ম নেওয়া কোনো শিশু ২০৬১ সালে তার ৭৫ বছর বয়সে এই ধূমকেতুটিকে আবার দেখার এক বিরল সুযোগ পেতে পারে!</p><p>এ ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের ‘বহু বছর পর দেখা যাওয়ার’ দাবিটি কিন্তু মোটেই ভুল নয়। হ্যালির ধূমকেতু চাইলেই দু-এক বছর পর পর ফিরে আসতে পারে না। তবে এই ধূমকেতুর মতো এত দীর্ঘ বিরতিতে ফিরে আসা বস্তু আর প্রতিবছর আকাশে দেখা দেওয়া সাধারণ ধূমকেতু মোটেও এক জিনিস নয়। আকাশে নতুন কোনো উজ্জ্বল ধূমকেতু দেখেই হ্যালির ধূমকেতু ফিরে এসেছে, এমনটা ভেবে বসার কোনো কারণ নেই।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/klapjefktr">চাঁদে হ্যালির ধূমকেতু আছড়ে পড়লে কী হতো</a></aside><blockquote>১৯১০ সালে আকাশে এই ধূমকেতুটি দেখা গিয়েছিল, এরপর তা আবার ফিরে আসে ১৯৮৬ সালে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, পরেরবার এটি আমাদের আকাশে উঁকি দেবে ২০৬১ সালে।</blockquote><p>আবার কোনো কোনো মহাজাগতিক ঘটনা নিয়মিত ঘটলেও সেগুলোর বিশেষ কোনো দৃশ্য খুবই বিরল হতে পারে। ধরা যাক, আকাশে কয়েকটি গ্রহকে পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে। এর মানে এই নয় যে গ্রহগুলো সত্যি সত্যি মহাকাশে এক সরলরেখায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে! পৃথিবী থেকে দেখার দৃষ্টিকোণ বা অ্যাঙ্গেল এমন হয় যে আমাদের চোখে গ্রহগুলোকে খুব কাছাকাছি মনে হয়। প্রতিটি গ্রহের আলাদা কক্ষপথ, ঘোরার গতি ও অবস্থানের কারণে বিশেষ কোনো গ্রহাণু-সারি বা বিন্যাস আবার ফিরে আসতে আসলেই দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। তাই ‘এমন গ্রহের সারি ১০০ বছর পর আবার দেখা যাবে’—এই দাবি শুনলে আগে জানতে হবে, ঠিক কোন বিন্যাসের কথা বলা হচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/pzm0j2t6eg">ধূমকেতুরও মৃত্যু হয়, হয় নাকি?</a></aside><blockquote>প্রতিটি গ্রহের আলাদা কক্ষপথ, ঘোরার গতি ও অবস্থানের কারণে বিশেষ কোনো গ্রহাণু-সারি বা বিন্যাস আবার ফিরে আসতে আসলেই দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।</blockquote><h2><strong>শিরোনামের ফাঁদে পড়বেন না</strong></h2><p>তাই মহাজাগতিক কোনো ঘটনা নিয়ে ‘১০০ বছরে একবার’ এমন চটকদার দাবি শুনলেই ভড়কে যাওয়া যাবে না। বরং কয়েকটি বিষয় ঠান্ডা মাথায় খেয়াল করতে হবে এবং বুঝতে হবে আসলে আকাশে কী ঘটতে যাচ্ছে।</p><p>প্রথমত, ঘটনাটি কি পুরো পৃথিবীর সব জায়গা থেকেই দেখা যাবে, নাকি নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা অঞ্চল থেকে? দ্বিতীয়ত, ‘একবার’ বলতে আসলে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে? এটি কি একই ধরনের কোনো ঘটনা, নাকি একই মহাজাগতিক বস্তু, নাকি হুবহু একই রকম দৃশ্য? তৃতীয়ত, বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী এই নির্দিষ্ট ঘটনাটি আবার কবে ঘটবে?</p><p>উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২৬ সালের ঠিক পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ২ আগস্ট আবার একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটার কথা রয়েছে। সেটি দেখা যাবে দক্ষিণ স্পেন, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি অঞ্চল থেকে। এর মানে এই নয় যে ২০২৬ সালের গ্রহণের বিরলতার দাবিটি ভুল ছিল। মূল বিষয়টা হলো, দুটি গ্রহণের ছায়াপথ ও দেখা যাওয়ার অঞ্চল সম্পূর্ণ আলাদা। তাই ‘এখন না দেখলে ১০০ বছরেও দেখা যাবে না’—এমন কথা শুনেই দুশ্চিন্তায় ভোগার কিছু নেই।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/xza3q2fooh">ছায়াপথ কাকে বলে</a></aside><blockquote>মূল বিষয়টা হলো, দুটি গ্রহণের ছায়াপথ ও দেখা যাওয়ার অঞ্চল সম্পূর্ণ আলাদা। তাই এখন না দেখলে ১০০ বছরেও দেখা যাবে না—এমন কথা শুনেই দুশ্চিন্তায় ভোগার কিছু নেই।</blockquote><p>তবে সব দাবিকেই আবার চোখকান বুজে মিথ্যা ভেবে নেওয়া ঠিক নয়। কখনো কখনো সত্যিই কোনো বিরল মহাজাগতিক ঘটনা দেখার সুযোগ এক জীবনে মাত্র একবারই আসে। বিজ্ঞানপ্রেমী হিসেবে আমাদের শুধু জানতে হবে, সেই বিরল ঘটনার হিসাবটা ঠিক কিসের ভিত্তিতে করা হয়েছে।</p><p>অবশ্য সংবাদপত্র বা নিউজ পোর্টালগুলো অনেক সময়ই পাঠকদের মনোযোগ কাড়তে শিরোনামে কৌশলের আশ্রয় নেয়, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে বিজ্ঞান নিয়ে একটু পড়াশোনা থাকলে আর সামান্য মাথা খাটালেই মহাকাশে আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে, সেটা খুব সহজেই বুঝে ফেলা সম্ভব।</p><h4>সূত্র: নাসা ডটকম ও ইনডিপেনডেন্ট টিভি</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/yudawodbbe">নানা রূপে বর্ণিল আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি</a></aside>

Prothomalo

View more
শিক্ষার্থীদের যুক্তি ও গবেষণাধর্মী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে
শিক্ষার্থীদের যুক্তি ও গবেষণাধর্মী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে

প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটির আয়োজন করা হয়। শেষে অলিম্পিয়াডে বিজয়ী ১৫ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র ও নগদ অর্থ পুরস্কার। এর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারকারী পেয়েছে পাঁচ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারকারী তিন হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারকারী পেয়েছে দুই হাজার টাকা।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
এখনো নিখোঁজ একজন, মরদেহের খোঁজে আবার টুপটুপ রিসোর্টে তল্লাশি
এখনো নিখোঁজ একজন, মরদেহের খোঁজে আবার টুপটুপ রিসোর্টে তল্লাশি

আগুনে মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে চেহারা দেখে কাউকে চেনার উপায় নেই। হাত, গলা কিংবা পায়ে থাকা অলংকার দেখে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছেন স্বজনেরা।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ভারতে ইসি নিয়োগ বিলে বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন জগনমোহন, এখন অনুতপ্ত বলে কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি
ভারতে ইসি নিয়োগ বিলে বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন জগনমোহন, এখন অনুতপ্ত বলে কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রেড্ডি বলেন, সিইসি ও ইসি নিয়োগ আইন নতুনভাবে বিবেচনার সময় এসেছে। আগের প্রথা অনুযায়ী দেশের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ কমিটিতে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ইসলামি আইনে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ কী কী, কেন এই শাস্তি
ইসলামি আইনে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ কী কী, কেন এই শাস্তি

একই সঙ্গে চারজন নির্ভরযোগ্য প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে সরাসরি ও স্পষ্টভাবে অপরাধের চূড়ান্ত মুহূর্তটি দেখতে হবে। কারণ, ইসলাম মূলত মানুষের ব্যক্তিগত পাপ লুকিয়ে রাখার পক্ষপাতী।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
পানাম নগরী দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত, নকশিকাঁথা ও জামদানি শাড়ি দেখে মুগ্ধ
পানাম নগরী দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত, নকশিকাঁথা ও জামদানি শাড়ি দেখে মুগ্ধ

সোনারগাঁয়ের পানাম নগরী ও বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ঘুরে দেখেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
চিত্রিত অবক্ষয়
চিত্রিত অবক্ষয়

আমেনা তাওসিরাতের কবিতা

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বারবার দুর্ঘটনা, ট্রেনে কাটা পড়ে তিন বছরে ১০১ মৃত্যু
বারবার দুর্ঘটনা, ট্রেনে কাটা পড়ে তিন বছরে ১০১ মৃত্যু

৭২ লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৫৬টি অরক্ষিত। লেভেল ক্রসিংয়ে সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু। পাথর নিক্ষেপ থামছে না।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
এআই চিকিৎসকের বিকল্প নয়
এআই চিকিৎসকের বিকল্প নয়

চলতি বছরের এপ্রিলে চিকিৎসা জার্নাল বিএমজে ওপেন–এ গবেষণাবিষয়ক একটি লেখা প্রকাশিত হলো, যেখানে পাঁচটি জনপ্রিয় চ্যাটবটকে স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্ন করা হয়েছিল।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
শিল্পীদের নিয়ে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা নেই, অথচ রাষ্ট্রের প্রয়োজনে পেটেভাতে আমাদের ডাকাডাকির চেষ্টা করে: আসিফ
শিল্পীদের নিয়ে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা নেই, অথচ রাষ্ট্রের প্রয়োজনে পেটেভাতে আমাদের ডাকাডাকির চেষ্টা করে: আসিফ

শিল্পীদের নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই, অথচ রাষ্ট্রের যখন প্রয়োজন হয়, তখন আবার পেটেভাতে তারা আমাদের খুব ডাকাডাকির চেষ্টা করে—এমন মন্তব্য আসিফ আকবরের।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন