চীনে গত মাসে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’–এ মানুষের মতো দেখতে রোবট (হিউম্যানয়েড রোবট) লাফিয়েছে, বক্সিং করেছে, নেচেছে। দ্রুতগতির কয়েকটি রোবট ১০০ মিটার দৌড়ে কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের চেয়েও বেশি গতি তুলেছে।
রোবটগুলোর সক্ষমতা বাড়তে দেখে দর্শকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। আবার রোবটের হোঁচট খাওয়ার দৃশ্যও তাঁদের আনন্দ দিয়েছে। সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মিমে জায়গা করে নেওয়ার মতো ছিল এসব দৃশ্য।
দুই দিন পর এ আয়োজন থেকে ভিন্ন এক বার্তা দেয় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সরকারি সংবাদপত্র। ‘পিএলএ ডেইলি’ গবেষকদের আহ্বান জানায় গবেষণাগারে তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে দ্রুত সামরিক প্রশিক্ষণক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার কাজ ত্বরান্বিত করতে। লক্ষ্য, রোবটকে ‘যোদ্ধা’ হিসেবে তৈরি করা।
চীনের প্রতিরক্ষা খাত মানবসদৃশ রোবটের সামরিক ব্যবহার নিয়ে গবেষণা বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যতে যুদ্ধে এসব রোবট মোতায়েনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। চীনের সামরিক বাহিনীর শতাধিক ক্রয় বিজ্ঞপ্তি, গবেষণাপত্র, পেটেন্ট, সরকারি নথি ও প্রকাশনা এবং প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পেয়েছে রয়টার্স।
ব্যাংক অব আমেরিকা (বিওএ) গ্লোবাল রিসার্চের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বে যত হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে, তার প্রায় ৯৫ শতাংশই তৈরি করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সামরিক রোবট তৈরির সময় চীনের দ্রুত বেড়ে ওঠা রোবটশিল্পের সহায়তা পাচ্ছে পিএলএ।
আগে প্রকাশ্যে না আসা এসব নথিতে দেখা যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবটকে কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তা বুঝতে সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। রোবট ও সেগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রযুক্তি কেনার চেষ্টাও চলছে। সেনাসদস্যদের সঙ্গে রোবট কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়েও গবেষণা হচ্ছে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসব কর্মকাণ্ডে গতি আসে। গবেষণায় গুরুত্ব পাচ্ছে রোবটের আশপাশের পরিবেশ বোঝার ক্ষমতা, বিভিন্ন বস্তু ধরা ও নাড়াচাড়া করার দক্ষতা এবং রোবটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য।
ব্যাংক অব আমেরিকা (বিওএ) গ্লোবাল রিসার্চের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বে যত হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে, তার প্রায় ৯৫ শতাংশই তৈরি করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সামরিক রোবট তৈরির সময় চীনের দ্রুত বেড়ে ওঠা রোবটশিল্পের সহায়তা পাচ্ছে পিএলএ।
চীনের রোবট নিয়ে এ সামরিক গবেষণা দেখাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তি কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আধা স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ড্রোন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে পথ নির্ধারণ ও লক্ষ্য শনাক্ত করে। এতে নজরদারি ও হামলার ধরন বদলে গেছে। রোবট ব্যবহার করে রসদ বহন এবং হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজও হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ সংঘাত থেকে চীনের সামরিক বাহিনী কীভাবে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছে, তা আগেও নথিবদ্ধ করেছে রয়টার্স।

সামরিক প্রযুক্তির এ পরিবর্তনের ফলে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর আগ্রহ বাড়ছে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের যন্ত্র ও মহাকাশ প্রকৌশলের অধ্যাপক ডেনিস হং বলেন, ‘যেখানে মানুষকে পাঠাতে চাই না, সেখানে রোবট পাঠানো যায়—রোবট তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ এটি। একটি রোবট হারানোর অর্থ যদি একজন মানুষের জীবন বাঁচানো হয়, তবে প্রয়োজনে সেই রোবটকে বিসর্জন দেওয়া যেতে পারে।’
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি (এনইউডিটি) সামরিক খাতে হিউম্যানয়েড রোবটের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। এনইউডিটি পিএলএর প্রধান গবেষণাপ্রতিষ্ঠান।
তবে চীন পিএলএর কোনো সক্রিয় ইউনিটে অস্ত্রধারী হিউম্যানয়েড রোবট নামিয়েছে—এমন প্রমাণ পায়নি রয়টার্স। এসব রোবট চালাতে এখনো অনেক শক্তি লাগে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রদর্শনের বাইরে এগুলো খুব একটা নির্ভরযোগ্যও নয়।
কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির যন্ত্র প্রকৌশলের অধ্যাপক অ্যারন জনসন বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব পরিস্থিতি রোবটের সক্ষমতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
চীনের সামরিক বাহিনী শহুরে যুদ্ধে রোবট ব্যবহারের একটি ভবিষ্যৎ চিত্রও সামনে আনছে।
এ ক্ষেত্রে এনইউডিটির গবেষকেরা ছয়টি যুদ্ধরোবটকে দুটি আক্রমণকারী দলে ভাগ করার এক পরিকল্পনা করেছেন। দলে হিউম্যানয়েড রোবটের পাশাপাশি রোবট-কুকুর বা চালকবিহীন যান থাকবে। এসব রোবট স্থলসেনাদের সঙ্গে কাজ করে শত্রুর দখলে থাকা ভবন তল্লাশি ও শত্রুমুক্ত করবে—এক তলা থেকে অন্য তলা, এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে গিয়ে।
শহরে এ ধরনের অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনীর ধারণা ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এনইউডিটির শিয়ান পরীক্ষাকেন্দ্রের গবেষকদের প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে তুলে ধরা হয়। গবেষণায় এমন সরঞ্জাম ব্যবহার করে একটি শহুরে আক্রমণকারী বাহিনীর মডেল তৈরি করা হয়, যা গবেষকদের ধারণা অনুযায়ী আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তবে রোবটগুলো যুদ্ধে কখন ও কীভাবে শক্তি প্রয়োগ করবে, কোন ধরনের অস্ত্র বহন কিংবা বেসামরিক মানুষের মুখোমুখি হলে কেমন আচরণ করবে—এসব বিষয়ে গবেষণাপত্রে কিছু বলা হয়নি।
হিউম্যানয়েড রোবটের ভারসাম্য, পরিবেশ বোঝার ক্ষমতা ও দীর্ঘ সময় কাজ করার সক্ষমতার উন্নতি হলে ভবন, সুড়ঙ্গ কিংবা জাহাজের ভেতরের মতো জায়গায় এসব রোবট কাজে লাগতে পারে বলে মনে করেন তাইওয়ানের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চের গবেষক জুও-মিন চৌ।
জুও-মিন বলেন, দুটি হাত ও দুটি পা থাকায় তাত্ত্বিকভাবে হিউম্যানয়েড রোবট একই সঙ্গে চলাফেরা, ওপরে ওঠা এবং বিভিন্ন বস্তু ধরা বা নাড়াচাড়া করার কাজ করতে পারে।

তবে শুধু নজরদারি বা রসদ বহনের মতো তুলনামূলক সহজ কাজে চার পা, ট্র্যাক বা চাকার ওপর চলা রোবট ব্যবহার করা সস্তা ও সহজ। ফলে এসব রোবটকে বড় পরিসরে মোতায়েন করাও সহজ।
চীনের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ভাষ্যেও হিউম্যানয়েড রোবটের সম্ভাব্য ভূমিকা আরও বিস্তৃত করে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ‘পিএলএ ডেইলি’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হিউম্যানয়েড রোবটের কাজ যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তা করা থেকে ভবিষ্যতে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর্যায়ে যেতে পারে। সেখানে এমন একটি সম্ভাবনার কথাও আলোচনা করা হয়, যেখানে একজন মানুষ কোনো জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য হিসেবে নিশ্চিত করার পর রোবটকে তাঁর ওপর গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
গত ডিসেম্বরে পিএলএর ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতে রোবটকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
চীনই অবশ্য একমাত্র দেশ নয়, যে সামরিক কাজে হিউম্যানয়েড রোবটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীও সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য হিউম্যানয়েড রোবটের সক্ষমতা তৈরির জন্য একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। উদ্দেশ্য, ভবিষ্যতে এসব রোবট যেন সেনাসদস্যদের সঙ্গে কাজ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বলেছে, এ রোবটের সম্ভাব্য ব্যবহারের তালিকায় রয়েছে নজরদারি, নিরাপত্তা, বাধা অপসারণ, বিপজ্জনক পদার্থ মোকাবিলা এবং শহুরে এলাকায় আক্রমণ ও প্রতিরক্ষামূলক অভিযান।
এ বছর সর্বোচ্চ ১০টি চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের সামনে তাদের প্রযুক্তি পরীক্ষা করবে। এরপর নির্বাচিত প্রযুক্তির উন্নয়নে সর্বোচ্চ ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেওয়া হতে পারে।
তবে দুই ও চার পায়ের রোবট তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প চীনের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। রয়টার্স গত মাসে এক প্রতিবেদনে জানায়, হিউম্যানয়েড ও চার পায়ের রোবট তৈরিতে বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি চীনের ইউনিট্রি। প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া রোবট-কুকুরের নকশায় এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অর্থ দিয়েছিল।
পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

২০২৪ সাল থেকে সামরিক কাজে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারে চীনের আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। ওই বছর এনইউডিটি ও চীনের একাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্সেস একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিবিষয়ক ফোরাম আয়োজন করে। সেখানে হিউম্যানয়েড রোবটের সামরিক ব্যবহার নিয়ে একটি অধিবেশন ছিল। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে এনইউডিটি জবাব দেয়নি।
এক বছর পর ২০২৫ সালে এনইউডিটি হিউম্যানয়েড রোবটকে স্পষ্টভাবে যুদ্ধক্ষেত্রের সরঞ্জাম হিসেবে উপস্থাপন করে। ওই বছরের জুনে একটি প্রতিযোগিতায় শত্রুপক্ষের এলাকায় অনুপ্রবেশের মহড়া চালানো হয়। সেখানে রোবটকে শত্রুপক্ষের এলাকায় ঢুকে পড়া, ওই এলাকার মানচিত্র তৈরি এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য খুঁজে বের করার কাজ দেওয়া হয়।
আরেকটি মহড়ায় রোবট দিয়ে সামরিক ঘাঁটিতে পরিচয় যাচাই, শৃঙ্খলাব্যবস্থা পরিদর্শন ও নিরাপত্তা টহলের কাজও করা হয়।
সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় ওই প্রতিযোগিতাকে হিউম্যানয়েড রোবটকে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার পথে কার্যকারিতা যাচাইয়ের পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করে।
চীনের সামরিক বাহিনীর ক্রয়সংক্রান্ত নথিতেও শেষ পর্যন্ত এ লক্ষ্যই প্রতিফলিত হয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে পিএলএ হিউম্যানয়েড রোবট কেনা, সেগুলো স্থাপন এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করে।
চার মাস পর আরেকটি ক্রয় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সেখানে যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে এনইউডিটির একটি ই-মেইল ছিল। বিজ্ঞপ্তিতে এমন একটি ব্যবস্থা চাওয়া হয়, যার সাহায্যে হিউম্যানয়েড রোবট বুদ্ধিমানের মতো আশপাশ বুঝতে ও নিখুঁতভাবে বিভিন্ন কাজ করতে পারবে।
নথিতে খুব বেশি তথ্য ছিল না। দরপত্রের মাধ্যমে কেনাকাটা শেষ হয়েছিল কি না, তা জানতে পারেনি রয়টার্স। কেনা হয়ে থাকলে কোন প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছিল বা কোন মডেলের রোবট সরবরাহ করেছিল, তা-ও জানা যায়নি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ‘পিএলএ ডেইলি’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হিউম্যানয়েড রোবটের কাজ যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তা করা থেকে ভবিষ্যতে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর্যায়ে যেতে পারে। সেখানে এমন একটি সম্ভাবনার কথাও আলোচনা করা হয়, যেখানে একজন মানুষ কোনো জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য হিসেবে নিশ্চিত করার পর রোবটকে তাঁর ওপর গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
আরেকটি সামরিক ক্রয় নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে পিএলএ হিউম্যানয়েড রোবটের ক্যামেরা, রাডার ও চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করার একটি ব্যবস্থা তৈরিতে প্রায় ৩ লাখ ডলার বরাদ্দ করে। রোবট কোন ধরনের ভূমিতে চলতে পারবে, সে তথ্যও সংগ্রহের কথা বলা হয়।
এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, চীনের সামরিক বাহিনীর আগ্রহ এখন আর শুধু রোবটকে শারীরিক অবয়বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা নয়; মঞ্চ বা নিয়ন্ত্রিত প্রদর্শনীর বাইরে রোবটকে কাজে লাগানোর প্রযুক্তিও তারা তৈরি করতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে রোবটের আশপাশ বোঝা, বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করা ও রোবটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা। প্রতিরক্ষাবিষয়ক গবেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবটকে কাজে লাগানোর জন্য এগুলো অপরিহার্য।
২০২৬ সালের মধ্যে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির কাজ সামরিক গবেষণার গণ্ডি পেরিয়ে চীনের প্রতিরক্ষাশিল্পেও ছড়িয়ে পড়েছে।
চীনের নরিনকোর তৈরি ফুসি রোবটটি পূর্ণ আকারের হিউম্যানয়েড রোবট। এটিকে প্রহরার দায়িত্ব, সব ধরনের আবহাওয়ায় নজরদারি, বুদ্ধিমানভাবে টহল দেওয়া ও বিপজ্জনক কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

ফুসিকে একটি দূরনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা যায়। এর মাধ্যমে মানুষ দূর থেকে রোবটটি পরিচালনা করতে পারে। এতে রোবটকে নিজে থেকে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হিউম্যানয়েড রোবটের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নরিনকো এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যালকম ডেভিস বলেন, হিউম্যানয়েড রোবট এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী হয়নি। তিনি বলেন, ‘তবে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এগুলো ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।’
আজকের দিনে দূর থেকে পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করা রোবট তৈরি হলে নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে আসবে।
যুদ্ধের আইন অনুযায়ী, যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষকে আলাদা করে শনাক্ত করতে হয়। আহত বা আত্মসমর্পণকারী যোদ্ধাদের ওপরও হামলা করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) সতর্ক করেছে, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থার পক্ষে এ ধরনের আত্মসমর্পণের মতো পরিস্থিতি বোঝা কঠিন হতে পারে। কারণ, এমন সিদ্ধান্ত নিতে পরিস্থিতি, আচরণ ও উদ্দেশ্য বুঝতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের আগে আইনি পর্যালোচনা ও বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা করতে হবে। অস্ত্র ব্যবহারের সময় কমান্ডার ও পরিচালনাকারীদের যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত মার্চে বলেছিল, এআইচালিত অস্ত্র মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকা উচিত।
এসব উদ্বেগ থাকলেও সামরিক কাজে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চীন। চায়না একাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্সেসের গবেষক ওয়াং ইয়ংহুয়া নভেম্বরে প্রকাশিত এক মন্তব্যে লিখেছেন, হিউম্যানয়েড রোবট এখনো ঠিকভাবে চলাফেরা করতে, আশপাশ বুঝতে ও বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে পারে না। এসব সমস্যার সমাধান হয়নি।
হিউম্যানয়েড রোবটকে সামরিক বাহিনীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে হলে প্রযুক্তিতে বড় উন্নতি করতে হবে। উৎপাদন খরচ কমাতে হবে ও শিল্পকারখানায় অনেক রোবট তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে।
এসব শর্ত পূরণ হলে, ওয়াং লিখেছেন, ‘হিউম্যানয়েড রোবট যুদ্ধক্ষেত্রে দলে দলে নামবে।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
নেতিবাচক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সজল নামে স্থানীয় এক যুবককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের মানইর গ্রামে পলিথিনের নিচে বসবাস করা বৃদ্ধ কফিল প্রামাণিক (৭০) ও তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে আসমত প্রামাণিক (৫২) অবশেষে পেলেন মাথা গোঁজার ঠাঁই।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। এর ঠিক আগ মূহূর্তে দেশটিতে অবস্থিত নিজের কূটনৈতিক কার্যক্রম আকস্মিকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াও দেশটিতে নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।