২২ জুন ১৯৮৬। মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড।
সেই ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় ২টি গোলের কারণে। একটা ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’। সেটার মিনিট চারেক পর তাঁর ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’।
একই ম্যাচ, একই মানুষ এবং তাঁর বিতর্কিত সেই গোলের পর অমরত্ব পাওয়া গোলটি! সেদিনের সেই ম্যাচটা তাই স্রেফ ম্যারাডোনার।
কিন্তু সেই গল্পে আরও একজন লুকিয়ে ছিলেন, পর্দার আড়ালে।
ম্যারাডোনার গায়ে সেদিন ছিল না আর্জেন্টিনার চেনা আকাশি-সাদা ডোরার জার্সি। ছিল নীল জার্সি, যা পরের চার দশকে পরিণত হয়েছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত পোশাকে। কিন্তু সেই জার্সি মাঠ পর্যন্ত পৌঁছানোর নেপথ্যের মানুষটাকে কেউ মনে রাখেনি। অথচ তাঁর গল্পটাই হতে পারত সেই বিশ্বকাপের আশ্চর্য এক অধ্যায়।
নাম তাঁর হেক্টর জেলাদা। ওই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক। না ১ নম্বর নয়, ৩ নম্বর গোলরক্ষক। অথচ সেই বিশ্বকাপে, তার আগে বা পরে কোনো দিনও আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে একটি মিনিটের জন্যও মাঠে নামেননি জেলাদা। বিশ্বকাপ জিতেছেন, পদক উঠেছে গলায়, অথচ জাতীয় দলের হয়ে কোনো দিন অভিষেকই হয়নি তাঁর! ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসেও এমন উদাহরণ বিরল।

গল্পটা শুরু থেকে বলা যাক।
জেলাদার ফুটবলে হাতেখড়ি রোজারিও সেন্ট্রালে। কিন্তু ১৯৭৯ সালে আর্জেন্টিনা ছেড়ে তিনি পাড়ি জমান মেক্সিকোয়, খেলা শুরু করেন ক্লাব আমেরিকার হয়ে। সেখানেই তিনি বনে যান তারকা, হয়ে যান মেক্সিকান ফুটবলের বড় এক নাম। ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫—পরপর তিন বছর মেক্সিকোর সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন। অথচ নিজের দেশের জাতীয় দলে তখনো তিনি ব্রাত্য।
কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচ কার্লোস বিলার্দো সেই জেলাদাকে একটা প্রীতি ম্যাচেও পরখ না করে বিশ্বকাপ দলে ঠিকই রেখে দিলেন।
তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে। আর্জেন্টাইন ফুটবলমহলে তখন এ সিদ্ধান্ত রীতিমতো বিস্ময় তৈরি করেছিল।
সেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ১ নম্বর গোলকিপার হওয়ার কথা ১৯৭৮-এর নায়ক উবালদো ফিলোলের। কিন্তু ১৯৮৩ কোপা আমেরিকার পর বিলার্দো আর রাখলেন না তাঁকে। প্রথম পছন্দ হয়ে উঠলেন তরুণ নেরি পুম্পিদো, বিকল্প হলেন লুইস ইসলাস। আর তৃতীয়, সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গাটায় নাম লেখালেন মেক্সিকোপ্রবাসী জেলাদা।

এই নির্বাচনের পেছনে জড়িয়ে ছিল আরও একটা সুতো। আর্জেন্টিনা দল ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সময় ঘাঁটি গেড়েছিল ক্লাব আমেরিকারই অনুশীলনকেন্দ্রে, যেখানে জেলাদা রীতিমতো পূজনীয় এক নাম। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সময় ক্লাব আমেরিকার হয়ে প্রীতি ম্যাচেও খেলেছেন তিনি, প্রতিপক্ষ ছিল তাঁর নিজের দেশ আর্জেন্টিনাই।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ফিলোলকে নিয়ে জেলাদার মুগ্ধতা ছিল প্রকাশ্য। তিনি বলতেন, ফিলোলই তাঁর আইডল। কোচের অবশ্য এটা মোটেও পছন্দ ছিল না। বিলার্দো তাঁকে একবার সরাসরিই বলে দিয়েছিলেন, ‘আর কখনো বোলো না যে ফিলোল তোমার আদর্শ, এতে আমাকে বোকার মতো দেখায়।’ আরেকবার আরও রাগ করে নাকি বলেছিলেন, ‘সব সাংবাদিক আমার কাছে ফিলোলের কথা জানতে চায়, আমি তোমাকে দলে রাখলাম, আর তুমি কিনা ফিলোলের প্রশংসা করে বেড়াও...এভাবে চললে লোকজন তো আমার বিরুদ্ধে চলে যাবে।’
এবার ফেরা যাক সেই নীল জার্সির গল্পে। মাঠের বাইরে জেলাদার নিজের একটা স্পোর্টসওয়্যার দোকান ছিল। আর সেই সুবাদে আর্জেন্টিনাকে তখন জার্সি জোগান দিত যে ফরাসি প্রতিষ্ঠান, সেই ‘লে কক স্পোর্তিফ’-এর সঙ্গেও তাঁর ভালো যোগাযোগ ছিল । ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে যখন হঠাৎই বিকল্প নীল জার্সির দরকার পড়ল, তখন কাজে লাগল জেলাদার এই যোগাযোগ। তিনিই তড়িঘড়ি করে এই জার্সিটা বানিয়ে আনার কাজ করেছিলেন। ফলে যে জার্সি গায়ে ম্যারাডোনা লিখলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ২ গোলের গল্প, তার নেপথ্যে ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর নিজের কখনো সুযোগই হয়নি সেই জার্সি গায়ে মাঠে নামার।

অথচ ইতিহাস অন্যভাবেও লেখা হতে পারত। বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকোও চেয়েছিল জেলাদাকে নিজেদের করে নিতে। ক্লাব আমেরিকার হয়ে টানা কয়েকটা দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর পর তাঁকে নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। জেলাদা নিজেই পরে বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে গিয়ের্মো কানিয়েদোর (মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তা) আমন্ত্রণে দুপুরের খাবার খাওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার, সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট রাফায়েল দেল কাস্তিয়োও। তাঁরা আমাকে নাগরিকত্ব নিয়ে মেক্সিকো জাতীয় দলের হয়ে খেলার কথা বলেছিলেন।’
শেষ পর্যন্ত সেটা আর হয়নি; কারণ, তত দিনে আর্জেন্টিনার হয়ে একটা আন্তর্জাতিক যুব টুর্নামেন্টে খেলে ফেলেছিলেন জেলাদা। পরে ইএসপিএনকে তিনি বলেছিলেন, ‘মেক্সিকো জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেলে নিজের সবটুকুই উজাড় করে দিতাম, কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল বলেই ডাক পেয়েছিলাম আর্জেন্টিনা থেকে, আর নিজেও অবাক হয়ে গিয়েছিলাম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়ে।’

অদ্ভুতই বটে! বিশ্বকাপ জিতলেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে জেলাদার ম্যাচসংখ্যা রয়ে গেছে শূন্যই। কখনো জাতীয় দলের জার্সিতে খেলাই হয়নি তাঁর। বিশ্বকাপের আগেও না, পরেও না। ১৯৭৮ বিশ্বকাপের তৃতীয় গোলরক্ষক রিকার্দো লা ভোল্পের কথাই ধরা যাক, তিনি অন্তত পরে ছয়টা ম্যাচ খেলেছিলেন জাতীয় দলের জার্সিতে। জেলাদার ভাগ্যে তা-ও জোটেনি।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল বেশ কিছু কীর্তি আছে। ড্যানিয়েল প্যাসারেল্লা দুবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, সেটাও যেমন বিরল। কিন্তু মাঠে না নেমে বিশ্বজয়? এটা একেবারেই অন্য রকম।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। এর ঠিক আগ মূহূর্তে দেশটিতে অবস্থিত নিজের কূটনৈতিক কার্যক্রম আকস্মিকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াও দেশটিতে নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আজ শনিবার দুপুরের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।