একটি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করা, যার প্রধান পূর্বশর্ত হলো জনগণের সম্মতির শাসন প্রতিষ্ঠা। জনগণের সম্মতির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় নির্বাচনের মাধ্যমে—শুধু জাতীয় সংসদ নয়, সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের নির্বাচনের ফলে।
এ লক্ষ্যে আমাদের সংবিধানে একদিকে যেমন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তেমনি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা নির্বাচনের বিধান। ইতিমধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস আমরা পেয়ে আসছি। নির্বাচন কমিশনও এ লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতির কথা বারবার জানান দিচ্ছে। শোনা যায়, এ বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সর্বস্তরের স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। তবে সরকার ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে তারা ইউনিয়ন পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, এসব নিয়োগ বিএনপির ৩১ দফার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ, ৩১ দফায় শুধু মৃত্যুর কারণে কিংবা আদালতের নির্দেশে কোনো ব্যক্তি অপসারিত হলেই প্রশাসক নিয়োগ করার অঙ্গীকার রয়েছে।
এ ছাড়া প্রশাসক নিয়োগ আমাদের উচ্চ আদালতের রায়েরও পরিপন্থী। উপজেলা পরিষদ বিলুপ্তির মামলায় বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯২ সালে বিখ্যাত কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ে স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছয় মাসের মধ্যে সব স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেন।
তবে প্রশাসক নিয়োগের ফলে সরকারের দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগ্রহে ভাটা পড়াই স্বাভাবিক এবং এ লক্ষ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের, এমনকি স্থানীয় উন্নয়নে সংবিধানবহির্ভূতভাবে ক্রমাগতভাবে অধিকতর ক্ষমতাপ্রাপ্ত (যেমন উপজেলা পরিষদে পরিদর্শনকক্ষ, স্থানীয় উন্নয়নে তদারকির এখতিয়ার, স্থানীয় উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ইত্যাদি) সংসদ সদস্যদের কাছ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অপ্রকাশ্য বিরোধিতা আসতে পারে।
জেলা পরিষদের পরোক্ষ নির্বাচনে, যেখানে নির্বাচকমণ্ডলীর সংখ্যা সীমিত, সেখানে ভোট কেনাবেচা ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যা আমাদের স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে কলুষিত করার আরেকটি বড় কারণ। তার ওপরে যেখানে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল, সেখানে আন্তদলীয় সহিংসতাও বেসামাল পর্যায়ে পৌঁছায়।
সম্প্রতি ড. আবদুল মঈন খান নতুন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবিধানসম্মতভাবে তিনি প্রতিটি স্থানীয় সরকার স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করেন, যাতে সত্যিকারের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে আসতে পারেন। আশা করি, তিনি দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করবেন। তবে লক্ষ রাখবেন যেন নির্বাচনে সব আইনকানুন মেনে চলা হয়। বিশেষত, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত এবং ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস করা স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করার বিধানসংবলিত আইনটি যেন পরিপূর্ণভাবে পালন করা হয়।
স্মরণ করা যেতে পারে, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু ২০১৫ সালে আমাদের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতমন্ত্রী আনিসুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর আমাদের স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। তখন বর্তমান লেখক এ সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী হিসেবে আখ্যায়িত করলেও ক্ষমতাসীনেরা সম্পূর্ণরূপে তা উপেক্ষা করেন।
দলীয় প্রতীকের ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচনের ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে আমরা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছি। এসব নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অতীতে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় অনেক নির্দলীয় ব্যক্তি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জিতে আসতেন। কিন্তু দলীয় প্রতীক ব্যবহারের ফলে দলীয় মনোনীত ব্যক্তি ছাড়া সমাজের অন্য নির্দলীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত থাকেন। ফলে আমরা সুজনের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে দেখিয়েছি যে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের কারণে নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের মানে ব্যাপক ধস নামে।
নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মানে ধস নামার আরেকটি কারণ ছিল তথাকথিত মনোনয়ন–বাণিজ্য এবং পেশিশক্তির প্রভাব, যার ফলে কদাচ সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তিরা মনোনয়ন পেতেন। এ ছাড়া গত সরকারের আমলে নির্বাচনব্যবস্থা নির্বাসনে চলে যাওয়ার কারণে যাঁরা ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতেন, তাঁরাই নির্বাচিত হতেন। তাই যেকোনো মূল্যে মনোনয়ন পাওয়াই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, যা আমাদের নির্বাচনব্যবস্থাকে চরমভাবে কলুষিত করে।
জেলা পরিষদের পরোক্ষ নির্বাচনে, যেখানে নির্বাচকমণ্ডলীর সংখ্যা সীমিত, সেখানে ভোট কেনাবেচা ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যা আমাদের স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে কলুষিত করার আরেকটি বড় কারণ। তার ওপরে যেখানে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল, সেখানে আন্তদলীয় সহিংসতাও বেসামাল পর্যায়ে পৌঁছায়।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে নির্বাচনের নামে সেখানে একপ্রকার ‘যুদ্ধ’ হয় এবং দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচনের ফলে সমাজে বিভাজন ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যার ফলে তাদের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, সংসদে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইন পাস করলেও আমাদের রাজনীতিবিদেরা যেন এর মর্মার্থ অনুধাবনে অনাগ্রহী। দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করার উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণরূপে দলনিরপেক্ষ করা, এতে কোনোরূপ দলীয় সংশ্লেষ না থাকা। তা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি—সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইতিমধ্যে তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছে। বিএনপিও স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর।
এটি সুস্পষ্ট যে রাজনীতিবিদেরা নির্বাচনে প্রতীক ব্যবহার না করার তাৎপর্য অনুধাবন করতে শুধু অনাগ্রহীই নন, তাঁরা এর নেতিবাচক প্রভাবও উপেক্ষা করছেন। প্রতীক ব্যবহার না করার উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনকে দলনিরপেক্ষ করা, যাতে অপেক্ষাকৃত বেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্য থেকে সবচেয়ে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হয়ে আসতে পারেন। আর যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হলেই ক্ষমতাসীন সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হবে। দল মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-হানাহানি রোধ করা যাবে, গত সরকারের সময় যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। এ ছাড়া নির্দলীয় নির্বাচন সমাজে বিভাজন রোধ করা সম্ভব হবে, যা ইতিমধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকারব্যবস্থা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের স্থানীয় সরকারের আইনগুলো মান্ধাতার আমলের এবং এগুলো পশ্চাৎ–মুখী। এগুলো পারস্পরিকভাবে সাংঘর্ষিকও। উদাহরণস্বরূপ, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে সরাসরি নির্বাচনের বিধান থাকলেও জেলা পরিষদের নির্বাচন স্বল্প নির্বাচকমণ্ডলী নিয়ে ‘বেসিক ডেমোক্রেসির’ আদলে পরোক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সরকার আইনের এসব দুর্বলতা দূর করে ২০০৭ সালে একটি আধুনিক, সমন্বিত আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করে ড. শওকত আলীর নেতৃত্বে গঠিত ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী ও গতিশীলকরণ কমিটি’, বর্তমান লেখক যার একজন সদস্য ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার সরকার কমিটির সুপারিশ প্রায় পুরোটাই উপেক্ষা করে। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রয়াত ড. তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে আরেকটি কমিশন গঠন করা হয়, যা আমাদের আগের সুপারিশকৃত আইনি কাঠামোকে আরও পরিশীলিত করে।
উপর্যুক্ত দুটি কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে আমাদের স্থানীয় সরকারের আইনি কাঠামোকে যুগোপযোগী করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যার মাধ্যমে একটি কার্যকর স্থানীয় সরকারব্যবস্থা সৃষ্টির পথ সুগম হবে। আশা করি, আমাদের নতুন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী নির্বাচনের আগে এ সুযোগ কাজে লাগাবেন।
● ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রধান নির্বাহী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)
* মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জিয়াউল হক বলেন, মারা যাওয়া সবার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জামালপুরের একই গ্রামের চারজনের মৃত্যুতে এলাকার সবাই স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার জানান, অনাবাদি জলাবদ্ধ জমিগুলোকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গত বছর জেলায় পানিফল চাষ হয়েছিল ১৬৪ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৫ হেক্টরে।
নেতিবাচক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সজল নামে স্থানীয় এক যুবককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।