আমরা অনেক কিছুই অজান্তে করে থাকি। এই যেমন প্লাস্টিকের স্যান্ডেল ব্যবহার। অথচ আমরা কি জানি, কী মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এ অনুষঙ্গটি। প্রজননক্ষমতা হ্রাস থেকে ক্যানসারসহ হতে পারে নানা শারীরিক সমস্যা।
আপনি সাধারণ চলাফেরার জন্য প্লাস্টিকের স্যান্ডেল ব্যবহার করছেন? অথচ এর ক্ষতি নিয়ে কি ভেবেছেন কখনো? আপনি কি জানেন, প্লাস্টিকের স্যান্ডেল আপনার প্রজননক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। প্লাস্টিকের স্যান্ডেল (চটি/স্লিপার) দৈনন্দিন ব্যবহারে অনেকের কাছে সস্তা ও সুবিধাজনক মনে হলেও, দীর্ঘদিন পরলে পায়ের স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক শরীরে কিছু ক্ষতি হতে পারে। এগুলো মূলত দুই ধরনের—পায়ের সরাসরি সমস্যা এবং রাসায়নিকের কারণে সম্ভাব্য স্থায়ী ঝুঁকির কথা জানলে হয়তো আপনি প্লাস্টিকের স্যান্ডেল পরা ছেড়ে দেবেন।

• আর্চ সাপোর্ট ও কুশন না থাকা, পায়ের তলায় চাপ পড়ে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস (গোড়ালির নিচে তীব্র ব্যথা), হিল পেইন, পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া, এমনকি ঘাড়-কোমর-হাঁটুর সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে।
• বাতাস চলাচল না হওয়া, পা ঘামে, গরম-আর্দ্র পরিবেশ তৈরি হয়, ফাঙ্গাস ইনফেকশন (অ্যাথলিটসফুট), দুর্গন্ধ, ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে।
• ঘর্ষণ ও শক অ্যাবজর্ব না করা, ফোসকা (blisters), চামড়া ফাটা, পায়ের আঙুলে ব্যথা, এমনকি হাঁটতে গিয়ে পিছলে পড়ার ঝুঁকি।
• অ্যালার্জি/ত্বকের সমস্যা, কিছু মানুষের প্লাস্টিকে অ্যালার্জি হয়, লালভাব, চুলকানি, ‘হট ফুট’ হিসেবে পরিচিত তীব্র জ্বালাপোড়া।
রাসায়নিকের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি
• অনেক প্লাস্টিকের স্যান্ডেলে phthalates (যেমন DBP, DEHP), BPA বা অন্যান্য প্লাস্টিকাইজার থাকে।
• পায়ের তলা খুব শোষণক্ষম, ঘামে এসব রাসায়নিক ত্বক দিয়ে শরীরে ঢুকতে পারে।
• হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট, প্রজনন স্বাস্থ্যের সমস্যা, লিভার-কিডনির ক্ষতি, দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে (বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে বেশি সতর্কতা দরকার)।
• গরমে/রোদে প্লাস্টিক গলে বা ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়ায়, যা পরিবেশ ও শরীর উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
প্লাস্টিকের স্যান্ডেল/চটি (বিশেষ করে সস্তা পিভিসি বা ভিনাইল দিয়ে তৈরি) মূলত যে রাসায়নিকগুলো থাকে এবং যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলো বিস্তারিত নিচে বলছি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলো phthalates (ফ্যালেটস) গ্রুপের রাসায়নিক।
প্রধান রাসায়নিকগুলো (প্লাস্টিকের স্যান্ডেলে সাধারণত পাওয়া যায়)
• Phthalates (প্লাস্টিকাইজার): প্লাস্টিককে নরম, নমনীয় করার জন্য যোগ করা হয়। PVC-তে ১০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত থাকতে পারে (কিছু টেস্টে ৫-১৫ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে স্যান্ডেলে)।
• DEHP (Di[2-ethylhexyl] phthalate)—সবচেয়ে সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ।
• DBP (Di-n-butyl phthalate)।
• DiNP (Di-isononyl phthalate)।
• DiDP (Di-isodecyl phthalate)।
• BBP (Butyl benzyl phthalate)—কম দেখা যায়।
• অন্যান্য: কিছু ক্ষেত্রে lead (সিসা), cadmium (ক্যাডমিয়াম), BPA (bisphenol A) বা অন্যান্য ভারী ধাতু মিশে থাকতে পারে (বিশেষ করে নিম্নমানের চায়নিজ/লোকাল প্রোডাক্টে)।

Phthalates হলো endocrine disruptors অর্থাৎ হরমোনের সিস্টেমকে ব্যাহত করে। পায়ের ত্বক (বিশেষ করে তলা) ঘাম-গরমে শোষণ করে নেয়, তাই সরাসরি শরীরে ঢোকে।
Phthalate প্রধান ঝুঁকি (সায়েন্টিফিক স্টাডি থেকে)
• DEHP হরমোন ব্যাহত, প্রজনন সমস্যা (পুরুষে টেস্টোস্টেরন কমা, শুক্রাশয়ের সমস্যা), গর্ভে শিশুর বিকাশে ত্রুটি, লিভার-কিডনির ক্ষতি, সম্ভাব্য ক্যানসার (IARC probable carcinogen)।
• DBP প্রজনন বিঘ্ন, শিশুর ব্রেন ডেভেলপমেন্টে সমস্যা (ADHD, লার্নিং ডিজঅর্ডার), অ্যাজমা-অ্যালার্জি বাড়ায়।
• DiNP/DiDP কম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়; কিন্তু এখনো লিভার টিউমার, হরমোন বিঘ্ন দেখা গেছে।
• সাধারণ phthalates হার্ট ডিজিজ, ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, থাইরয়েড সমস্যা, ইমিউন সিস্টেম দুর্বল, প্রারম্ভিক মৃত্যুর ঝুঁকি (বিশ্বব্যাপী বছরে লক্ষাধিক মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত)।
বিশেষ করে কাদের বেশি ক্ষতি
• শিশু, গর্ভবতী, কিশোর-কিশোরী
• শিশু ও গর্ভবতী

• সস্তা PVC স্যান্ডেল/চটি তৈরিতে phthalates ছাড়া নরম করা যায় না।
• গরম-ঘামে phthalates ‘leach’ হয়ে ত্বক দিয়ে শোষিত হয় (স্টাডিতে দেখা গেছে, স্যান্ডেল থেকে artificial sweat-এ phthalates ছড়ায়)।
• বাংলাদেশ, ভারত, দক্ষিণ এশিয়ায় অনেক লোকাল/চায়নিজ প্রোডাক্টে রেগুলেশন কম, তাই উচ্চ মাত্রায় থাকে (কিছু টেস্টে ৬-৯ শতাংশ পর্যন্ত DEHP/DBP পাওয়া গেছে)।
প্লাস্টিকের স্যান্ডেলের সবচেয়ে বড় রাসায়নিক ঝুঁকি হলো phthalates (বিশেষ করে DEHP, DBP), যা হরমোন নষ্ট করে দীর্ঘ মেয়াদে প্রজনন, শিশু বিকাশ, হার্ট, ক্যানসার ইত্যাদি সমস্যা ডেকে আনে। মাঝেমধ্যে পরলে ঠিক আছে; কিন্তু প্রতিদিনের জুতা হিসেবে ব্যবহার না করাই ভালো। স্বাস্থ্যকর অপশন বেছে নিন!
• প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা বা তার বেশি পরলে।
• গরমকালে/ঘাম বেশি হলে।
• নিম্নমানের, সস্তা PVC বা EVA ফোমের স্যান্ডেল হলে।
• খালি পায়ে (মোজা না পরে) পরলে।
• এড়িয়ে চলুন PVC লেবেলযুক্ত (#3 প্লাস্টিক) স্যান্ডেল, বিশেষ করে সস্তা/অজানা ব্র্যান্ডের।
• বেছে নিন: EVA ফোম (phthalate-free), রাবার, চামড়া বা ‘phthalate-free’ লেবেলযুক্ত পণ্য।
• শিশু/গর্ভবতী/কিশোরদের জন্য একদম না পরানো ভালো।
• পা ঘামলে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন, মোজা পরুন যদি সম্ভব।
• যদি পায়ে লাল ভাব/চুলকানি/অস্বস্তি হয়, ডাক্তার দেখান (অ্যালার্জি বা ডার্মাটাইটিস হতে পারে)।
• দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য চামড়া, ক্যানভাস বা ভালো কুশনযুক্ত EVA/রাবারের স্যান্ডেল বেছে নিন।
• প্লাস্টিকেরটা শুধু বাথরুম, সমুদ্রসৈকত বা খুব অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন।
• পায়ের যত্ন নিন: প্রতিদিন পা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন, মোজা পরুন যদি সম্ভব হয়।
• পায়ে ব্যথা/ফোসকা/চুলকানি হলে দেরি না করে চর্মরোগ বা অর্থোপেডিক ডাক্তার দেখান।
প্লাস্টিক সস্তা, তাই ব্যবহারে আগ্রহ বেশি; কিন্তু এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে যে ক্ষতিতে পড়বেন, তাতে চামড়ার স্যান্ডেল সস্তা মনে হবে না। তাই সতর্ক হোন, নিজের ও পরিবারের সবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালোটা বেছে নিন।
লেখক: খাদ্য ও পথ্য বিশেষজ্ঞ; প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র
ছবি: পেকজেলসডটকম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন অভিনেতা কামাল বায়েজীদ।
‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার-২০২৬’ ঘোষণা করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সাংবাদিকদের স্বার্থে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।