ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার সময় কিংবা ক্যাফেতে একা বসে থাকা, সিঙ্গাপুর তাদের নাগরিকদের পুরোনো এক অভ্যাসে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তা হলো বই পড়া।
পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে তারা পাঁচ বছর মেয়াদি এক নতুন প্রকল্প শুরু করেছে। এই প্রকল্পে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। কোনো নাগরিক কতক্ষণ বই পড়ছেন, তা সরকারি ওয়েবসাইটে জমা দিলে মিলবে ছোট উপহার বা টাকা।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পয়েন্ট পাওয়ার এই মজার ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের বই পড়ার ঝোঁক আবার বাড়বে। কারণ, বর্তমানে ডুমস্ক্রলিং বা মোবাইলে একটানা স্ক্রল করার বাজে অভ্যাসের কারণে বই পড়ার দিন দিন কমে যাচ্ছে।
ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা ট্যাম। তিনি জানান, ‘সংক্ষিপ্ত লেখা হয়তো দ্রুত তথ্য দেয়, কিন্তু বড় লেখা বা বই পড়া আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতা ও নতুন কিছু ভাবার শক্তি বাড়ায়। আমরা এমন এক জাতি চাই, যেখানে মানুষ হবে কৌতূহলী ও সচেতন।’
তবে এই প্রকল্প দিয়ে রাতারাতি কেউ অনেক টাকা বানিয়ে ফেলতে পারবেন না। পুরস্কারের ১ সিঙ্গাপুর ডলার পাওয়ার জন্য একটানা ৫০ দিন বই পড়তে হবে। অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়লে পাওয়া যাবে ২০টি পয়েন্ট। এভাবে ১ হাজার পয়েন্ট জমা হলেই কেবল মিলবে ১ ডলার। আর দিনে একবারই নিজের বই পড়ার হিসাব জমা দেওয়া যাবে।
মস্তিষ্কের ক্ষতি ঠেকাবে বই?
এমন এক সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যখন বিশ্বজুড়ে মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে আসছে। এতে বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ব্রেইন রট বা ইন্টারনেট একটানা দেখে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষতি হওয়া এবং ডুমস্ক্রলিংয়ের মতো ক্ষতিকর অভ্যাসের বিরুদ্ধে কাজ করছেন শিক্ষাবিদেরা।

একটি বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। কিন্তু উল্টোদিকে সিঙ্গাপুর ও চীনের মতো দেশগুলো এ ক্ষেত্রে বেশ ভালো করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লাসরুমে ডিজিটাল ডিভাইসের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে মনোযোগ নষ্ট হওয়াই হলো শিক্ষার প্রধান বাধা।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের গবেষক লো চিন ই জানান, ‘পড়ার বিষয়টিকে গেমের মতো আকর্ষণীয় করে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। যাঁরা নিয়মিত বই পড়েন, তাঁদের কাছে ১৫ মিনিট সময়টি খুব কম মনে হতে পারে। তবে নতুনদের জন্য এই সময়সীমা চমৎকার। মানুষ যে এখন একদম পড়ে না, তা কিন্তু নয়। স্ক্রিনে এখনো অনেক লেখা পড়া হয়। কিন্তু মনোযোগ দিয়ে ও গভীরভাবে কিছু পড়ার অভ্যাসটি আগের চেয়ে অনেকটাই কমে গেছে।’

স্কুলের পরীক্ষার চাপে বই পড়া
পঠন-দক্ষতায় সিঙ্গাপুর বিশ্বে শীর্ষে থাকলেও একটি চিন্তার বিষয় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যখন বড় ক্লাসে ওঠে ও কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে, তখন তাদের বই পড়ার আনন্দ আর আগ্রহ কমে যায়।
৩২ বছর বয়সী আইজ্যাক নিও পেশায় একজন ঝুঁকি বিশ্লেষক। তাঁর মতে, মাধ্যমিক স্কুলে ওঠার পর মানসিক চাপ অনেক বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীরা তখন কেবল পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করতেই ব্যস্ত থাকে। ফলে আনন্দের জন্য বা অবসরে বই পড়ার অভ্যাসটি হারিয়ে যায়।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নিও ২০২৫ সালে ‘মডার্ন মেনস বুক ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন। তিনি দেখেন, তাঁর ক্লাবের অনেকেই বহু দিন কোনো বই পড়েননি। কিন্তু এখন তাঁরা নতুন করে পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনছেন এবং ভিন্ন ধারার বইও পড়ছেন।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ড জানিয়েছে, পড়ে আয় করার এই উদ্যোগটি বছরের শেষ পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চলবে। পাঠকদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে পরে এতে নতুন সুবিধা যোগ করা হবে। এ ছাড়া পাঠকেরা বই পড়ে একটি দাতব্য তহবিলেও অবদান রাখতে পারবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৭৫ লাখ মিনিট বই পড়ার ও বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

টাকার বিনিময়ে বই পড়া নিয়ে বিতর্ক
টাকা দিয়ে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা কি সম্ভব? এই নিয়ে সিঙ্গাপুরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, মানুষের উচিত ভালোবেসে বই পড়া, টাকার লোভে নয়।
তবে অনেকেই এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ২৮ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর চারমেইন লিম বলেন, বাস বা ট্রেনে টিকটক দেখার চেয়ে বই পড়া অনেক ভালো।
বুক ক্লাব পরিচালক অ্যাশলি চিয়ার মতে, পড়ার অভ্যাস শুরু করার জন্য এই ধাক্কাটা দরকার ছিল। তবে সাফল্য শুধু দিনে ১৫ মিনিট বই পড়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে কৌতূহলী পাঠক হতে হবে ও নানা বিষয়ের বই পড়তে হবে।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, টাকা বা পুরস্কার বন্ধ হয়ে গেলে কাজের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক আগ্রহ কমে যেতে পারে।
মনোবিজ্ঞানী চ্যারিসা এনজি জানান, যাঁরা কিছুটা হলেও বই পড়েন, তাঁদের জন্য উপহার বা টাকা বেশ ভালো। তবে যাঁদের পড়ার অভ্যাস একদমই নেই, টাকার লোভে তাঁদের মধ্যে চিরস্থায়ী আগ্রহ তৈরি করা কঠিন।
মোবাইলের টিকটক বা ভিডিওর মতো তাৎক্ষণিক আনন্দের বিপরীতে এই ছোট্ট আর্থিক পুরস্কার কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তবে সিঙ্গাপুরে আগের অনেক নিয়ম ও সামাজিক কর্মসূচি সাফল্য পেয়েছে। তাই ছোট এই উদ্যোগও মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে পারে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম ভূঞা বলেন, এই সম্পদ কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদ নয়। এটি পলিসিহোল্ডার, গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের ঘাম ঝরানো সঞ্চয়ের আমানত। এই আমানত সুরক্ষার দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বর্তমানে এই সম্পদ বেআইনি হস্তক্ষেপ ও পেশিশক্তির হুমকির মুখে।
ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬-এ ‘বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ’ পুরস্কার অর্জন করেছেন।
ঢাকাই সিনেমার দর্শকদের কাছে ‘নসীব’ নামটি বেশ পরিচিত। ১৯৮৪ সালে মোমতাজ আলী পরিচালিত এবং উজ্জ্বল-শাবানা অভিনীত ‘নসীব’ সিনেমা দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল।